বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2


           বিষয় : উচ্চশিক্ষারত ছাত্রছাত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর নজরদারির পথে কেন্দ্র ?
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :সব্যসাচী মুখার্জি
          IP Address : 237812.69.453412.8 (*)          Date:09 Jul 2019 -- 09:15 PM




Name:  সব্যসাচী মুখার্জি          

IP Address : 237812.69.453412.8 (*)          Date:09 Jul 2019 -- 09:15 PM

গত তেসরা জুলাই ; কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক একটি নোটিফিকেশন জারি করে । খুবই নিরামিষ নোটিফিকেশন মনে হতে পারে কারণ অনেক খবরের কাগজেই সেভাবে খবরটা আসেনি । নোটিফিকেশনটিতে বলা হয়েছে যে সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সঙ্গে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জুড়তে হবে । প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মচারী "সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাম্পিয়ন"(এসএমসি) হিসাবে নিযুক্ত হবেন । নিজেদের গঠনমূলক কাজ ভাগ করে নেওয়ার জন্যই এই কাজ বলে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে । "সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাম্পিয়ন"কে কী কী করতে হবে তার একটা বিবরণ দেওয়া রয়েছে সেই নোটিফিকেশনে ।

১) প্রতিষ্ঠনের নিজস্ব টুইটার/ফেসবুক/ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলতে (যদি আগে থেকে না থেকে থাকে) হবে ।
২) অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে সেই অ্যাকাউন্ট জুড়তে হবে ।
৩) সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের টুইটার/ইনস্টাগ্রাম/ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে জুড়তে হবে ।
৪)সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে প্রত্যেক সপ্তাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অন্তত একটি করে গঠনমূলক কাজের কথা জানাতে হবে ।
৫) অন্যান্য প্রতিষ্ঠনের গঠনমূলক কাজগুলোকে রিটুইট করতে হবে যাতে ছাত্রছাত্রীরা তার বিষয়ে জানতে পারে ।

জরুরি ভিত্তিতে 'এআইএসএইচই' নোডাল অফিসারদের মাধ্যমে সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠনের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে হয়েছে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসএমসি কারা হবে তাঁদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং যাঁরা এসএমসি হবেন তাঁদের নাম , ডেজিগনেশন , মোবাইল এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর , ইমেল আইডি এবং টুইটার অ্যাকাউন্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে ।

এসএমসির কাজের তিন নম্বর পয়েন্টটা পড়ুন । সমস্ত পড়ুয়ার সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সরাসরি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে নিয়ে আসতে হবে ! কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারা প্রাপ্তবয়স্ক । অনেকেই নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিক পোস্ট করে থাকেন । সেই পোস্ট অনেক সময়েই সরকারের নানা কাজকর্মের বিরোধিতা করে লেখা হয় । সেই সমস্ত কিছুর ওপরে চূড়ান্ত নজরদারি চালাতেই কি তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ ? সরকারি নোটিফিকেশনে তিন নম্বর পয়েন্টে কী লেখা আছে কোট করছি ।

“Connect all the students’ Twitter/ Facebook/Instagram accounts with the HEI’s Twitter/Facebook/Instagram accounts as well as the MHRD’s Twitter/Facebook/Instagram accounts."

লক্ষ্য করুন এখানে সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে জুড়তে বলা হয়েছে । প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রছাত্রীদের তাতে সম্মতি আছে না অসম্মতি ; নূন্যতম সেটুকু জানার প্রয়োজন মনে করে না এই সরকার ! একটা 'ইচ্ছুক' শব্দ পর্যন্ত লেখা নেই । কোনো সরকার প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নাগরিককে বাধ্য করতে পারে না তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলকে সরাসরি সরকারের নজরদারিতে নিয়ে আসতে । একটা সরকার কতটা স্বেচ্ছাচারী হলে এটা করতে বলতে পারে ? দেশের মোট ৯০০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪০০০০ কলেজকে এর আওতায় আনা হয়েছে ।

দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক অপূর্বনন্দ "দ্য টেলিগ্রাফ"কে জানিয়েছেন ,"অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরাই এই ফাঁদে পা দেবে । শিক্ষকরা মেনে চলতে জোর করবে । যখন ছাত্রছাত্রীরা নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকবে ; তখন তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যাবে ।"

দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের (ডিইউটিএ) সভাপতি রাজীব রায় জানিয়েছেন ,"এই সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড দেখে আমরা ভীত যে ফর্মাল জায়গার মতো ফেসবুক , টুইটার , ইনস্টাগ্রামের মতো ইনফর্মাল জায়গাগুলোকেও কড়া নজরদারির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে ।"

অনেকে এও মনে করছেন যে ভবিষ্যতে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল চেক করে তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে । একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক "দ্য টেলিগ্রাফ"কে জানান যে তাঁর একজন ছাত্রকে শিক্ষকতার একটি চাকরিতে ইন্টারভিউয়ের পর বাদ দেওয়া হয় কারণ ওই ছাত্রের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি সরকার বিরোধী বলে মনে হয়েছিলো ।

"দ্য কুইন্ট" অবশ্য জানাচ্ছে যে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে তাদের জানানো হয়েছে যে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা ইচ্ছুক নয় ; তারা চাইলে তাদের অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক না করতেই পারে (এটা শুধুই "দ্য কুইন্ট" এর খবর ; অন্য কোনো মিডিয়া হাউস খবর করেছে বলে জানা নেই) । এখানে কয়েকটা প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবে উঠে আসে ।

১) সেক্ষেত্রে নোটিফিকেশনে 'ইচ্ছুক শব্দটা এলো না কেন ? তাহলে কি চাপে পড়ে সাময়িক পিছু হটছে সরকার ?
২) বিজেপি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় শাসকদল শাসিত রাজ্যগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করতে জোর করা হবে না বা কোনো রাজ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনোভাবে ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে না ; তার গ্যারান্টি কোথায় ?
৩) যদি কোথাও চাপ সৃষ্টি করা হয় ; তার বিরুদ্ধে কোথায় অভিযোগ করা হবে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটা কেন্দ্রীয় সরকার কি জানিয়েছে ?
৪) যারা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করবে না বলে জানিয়ে দেবে ; তাদেরকে কোনোরকম ভাবে চিহ্নিত করা হবে না তো ? শুধুমাত্র তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোকে বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হবে না তো ?

প্রশ্নের উত্তরগুলো কেউ জানে না । এই সরকার গলা টিপে ধরতে চায় । কথা বলতে দিতে চায় না । বিরোধী মতকে সম্পূর্ণরূপে দমন করতে চায় । "দ্য কুইন্ট" দ্বারা প্রকাশিত তথ্য যদি ঠিক বলেও ধরে নেওয়া হয় ; তাহলেও সরকার যা করতে চাইছে ; তা যে মারাত্মক সেই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । এই সরকার আপনার ব্যক্তিগত জীবনে অনেক আগে ঢুকে পড়েছে । কে কী খাবে , কে কী বলবে , কে কার সঙ্গে প্রেম করবে ; সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে এরা । আর এখন যুব সমাজ যাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেই তাকে চিহ্নিত করা যায় ; তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । যদি এই ভয়টা তৈরি করে দেওয়া যায় যে সরকার বিরোধী কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলে সরকারের রোষানলে পড়তে হতে পারে ; তাহলেই কাজ শেষ । আর আশ্চর্যজনক ভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই নিয়ে চুপ । এইভাবে মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা হচ্ছে ; তাও তাদের কোনো স্বর শোনা যাচ্ছে না । এই বিরোধী দলগুলো ২০১৪ সালের আগে সোশ্যাল মিডিয়াকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি । সম্পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া দখল করেছিলো বিজেপি । তার ফল আমরা দেখেছি । তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটু একটু করে বিরোধী স্বর শুনতে পাওয়া শুরু হয় । সেই স্বরকে সম্পূর্ণ দমিয়ে দিতেই কি সরকারের এই অপচেষ্টা ?

দলের কথা বাদ দিই । কলেজ , বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্রছাত্রীরা এই নিয়ে রাস্তায় নামুক । এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতেই হবে । দাবী উঠুক ; সত্যিই যদি সরকার চায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গঠনমূলক কাজকর্ম অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নিক ; তবে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করা হোক যেখানে ছাত্রছাত্রীরা গিয়ে তাদের মতামত জানিয়ে আসবে । কিন্তু কোনো অজুহাতেই ছাত্রছাত্রী সহ দেশের কোনো নাগরিককে এইভাবে নজরবন্দী করা যাবে না । কারও ব্যক্তিগত পরিসরে ঢোকার অধিকার রাষ্ট্রের নেই । সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসারে গোপনীয়তার অধিকার মৌলিক অধিকার । সরকার কখনই একান্ত ব্যক্তিগত জিনিস সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি করতে পারে না । বাস্তবিক যদি সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নতি চায় তবে শিক্ষাখাতে বাজেটের বরাদ্দ বাড়ুক , বেসরকারিকরণ , ফিজ বৃদ্ধি বন্ধ হোক । কিন্তু কোনোভাবেই এই চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যেতে পারে না । মনে রাখবেন এখনও যদি প্রতিবাদ না করেন ; এই সরকার আপনার শোওয়ার ঘরে পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে । ছাত্রছাত্রীরা লড়াই করুক ; নিজেদের সংবিধানস্বীকৃত অধিকারের জন্য লড়াই করুক । যে কোনো মূল্যে দেশে আসন্ন ফ্যাসিবাদকে আটকাতে হবে । আটকাতেই হবে । ফ্যাসিবাদের অন্যতম লক্ষণটা আরেকবার মনে করিয়ে দিই ।

"There is a suppression of all dissent"


Name:  Musolman-birodhi          

IP Address : 236712.158.8956.74 (*)          Date:11 Jul 2019 -- 03:33 PM

মোল্লার বাচ্চাগুলো যেভাবে বেড়ে উঠছে, সেগুলোকে ট্র্যাক করার জন্য এরকম কিছু করা ছাড়া অন্য উপায় থাকলে জানান। ঝামেলা একটু সহ্য করতে হবে কারণ অনেকদিন আমরা বালিতে মুখ গুঁজে থেকেছি।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2