বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6]     এই পাতায় আছে126--156


           বিষয় : নিমো গ্রামের গল্প
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :সুকান্ত ঘোষ
          IP Address : 90045.205.012323.46 (*)          Date:14 Feb 2019 -- 08:24 PM




Name:  b          

IP Address : 237812.68.454512.210 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 09:20 AM

ওহ সুকি অনেকদিন পর।


Name:   ন্যাড়া           

IP Address : 237812.68.344512.53 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 11:15 AM

একবার নিমোয় গিয়ে সুকির বাড়িতে থাকবই থাকব, ওই সবুজ কংক্রিট হয়ে যাবার আগেই।


Name:  aranya          

IP Address : 237812.68.233412.52 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 12:27 PM

ফাটাফাটি। সুকি রকস :-)


Name:  lcm          

IP Address : 236712.158.90056.117 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 12:38 PM

সময় পেলে "লুচি ফুলকো হবার রহস্য"-টা একটু লিখো


Name:  দa          

IP Address : 236712.158.786712.21 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 02:42 PM

শাড়ি, ওড়না এমনকি ধুতি কেটেও জানলা দরজার পর্দা বানাতে দেখেছি। কিন্তু পর্দা কেটে জামা! এমন উল্টোযাত্রার কথা এই প্রথম পড়লাম।
আর পটাশের ব্যাগ -- ঋদিউস, রিইউজ, রিসাইকল এর একেবারে জলজ্যান্ত উদাহরণ।


Name:   দ          

IP Address : 236712.158.676712.40 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 02:43 PM

শাড়ি, ওড়না এমনকি ধুতি কেটেও জানলা দরজার পর্দা বানাতে দেখেছি। কিন্তু পর্দা কেটে জামা! এমন উল্টোযাত্রার কথা এই প্রথম পড়লাম।
আর পটাশের ব্যাগ -- রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকল এর একেবারে জলজ্যান্ত উদাহরণ।


Name:  Ruchira          

IP Address : 237812.68.344512.71 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 09:03 PM

পর্দা কেটে জামা - Scarlett O'Hara - Gone with the Wind


Name:  সুকি           

IP Address : 237812.69.453412.44 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 09:16 PM

b, ন্যাড়াদা, অরণ্যদা, লসাগুদা, দ-দি, রুচিরা - সবাইকে ধন্যবাদ

ন্যাড়াদা,
সব সময় ওয়েল-কাম, সময় করে চলেই এস না একবার।

লসাগু-দা,
শেখার পর দেখলাম লুচি ফোলাবার টেকনিক এতই সোজা যে এখানে লিখতে লজ্জা করছে। ভালো করে ময়দা থেসে থেসে মাখতে হবে - ঠিক মত ময়াম/ময়ান দিতে হবে। খানিকক্ষণ জিরোতে দিতে হবে সেই নেচীকে। তারপর বেলে গরম তেলে ছাড়া, তেলের টেম্পারেচার খুবই ইমপরটেন্ট। তারপর ছাঁকনির উলটো পিঠটা করে ভাসমান লুচি-টিকে আলতো করে তেলে চাপ দিতে হবে দুই একবার। ব্যাস!

দ-দি, এই সব ঘটনা সেই ১৯৯১-৯২ সালের - তখন আমাদের দিকে রিসাইকেল কনসেপ্ট আসে নি। মামা এসব ফ্যাশন বলেই চালু করেছিল :)

রুচিরা - আমার মামার সাথে গন উইথ দ্যা উইন্ডের কোনই সম্পর্ক ছিল না, বলাই বাহুল্য :)


Name:  b          

IP Address : 236712.158.676712.40 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 10:56 PM

হ্যাঁ, বরঞ্চ বাবুলালের সাথে সম্পর্ক ছিলো, এরকম বলা যায়।


Name:  সুকি          

IP Address : 237812.68.454512.132 (*)          Date:18 Nov 2019 -- 11:12 PM

এত জটিল রসিকতা করলে খেলা যাবে না, আর একটু হলে বুঝতেই পারছিলাম না!


Name:  Titir          

IP Address : 237812.69.01900.15 (*)          Date:19 Nov 2019 -- 02:45 AM

দারুন লেখা। আর বাড়ি তৈরির ব্যাপারে আমার বাবার সঙ্গে প্রচন্ড মিল পেলাম। বাবা আমার কাছে (USA ) এসে কিছুদিন ছিলেন। তাই দেশে যখন বাড়ি তৈরির প্ল্যান হাল ভাবলাম বাবা তাহলে এখানে মত কিছুটা করবে। কিন্তু কোথায় কি? ভাই, দাদা আর আমি বলে বলে বাড়ির ব্যাপারে হয়রান হয়ে গেলাম।এমনকি যে মিস্ত্রি বানিয়েছিল সেও বলল কিছু রুম আর একটু বড় করে দাও। কিন্তু বাবার মতের পরিবর্তন হয় নি। আর গ্রাম বলে জায়গার অভাব ছিল না।


Name:  Sound of Music          

IP Address : 236712.158.566712.63 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 01:13 PM

পর্দা কেটে জামার কথা হচ্ছে অথচ "ডো এ ডিয়ার" ভুলে গেলেন!!


Name:  lcm          

IP Address : 236712.158.565623.225 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 01:25 PM

থ্যাংকু সুকি।
এটা ঠিক লুচি টই নয়, তবু বলেই ফেলি, কিন্তু আমার লুচি সংক্রান্ত প্রশ্নটা আরও একটু ডিটেইলে - - মানে ফুলকো তো বটেই, কিন্তু দুটো পাশ সমান পাতলা হয় কি করে, জেনারেলি যেটা হয়, লুচি ফোলে মোটামুটি, একটা পাশ হয় খুব মুচমুচে শৌখিন, আর অন্য পাশটা মোটা ক্যাতক্যাতে হয়ে যায়।



Name:  b          

IP Address : 236712.158.786712.9 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 02:29 PM

এল সি এম যে কি বলেন। একটা দিক তো ফুলকো হবেই। কলকেতার আগেকার বাবুরা বেলা বারোটায় ঘুম থেকে উঠে লুচির ঐ ফুলকো, পাতলা দিকটা দিয়েই ব্রেকফাস্ট করতেন। বাকিটা বেড়াল খেতো।


Name:  খ          

IP Address : 236712.158.786712.69 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 02:43 PM

সুকি, থ্যাংক ইউ বস। সব সময়েই নিমো ও তুমি হলে গিয়ে গুরুদেব কম্বো।

"মধ্যবিত্তের স্বপ্নের পরিসমাপ্তি এই ভাবেই হয় আর সমস্ত বাঙালী ফ্যাশন শেষ হয় লুঙ্গিতে।" এটা তে আমি যেহেতু লুঙ্গি পছন্দ করি ও পরে থাকি, তাই একটু ব্যথা পেয়েছি, তবে বেশি না। লুঙ্গি জিনিসটা জেনে রেখো ফ্যাশনের শেষ নয়, শুরু।



Name:  সুকি          

IP Address : 237812.69.563412.135 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 05:34 PM

না, না আমি লুঙ্গিকে কোন ভাবেই অবমাননা করতে চাই নি! আমি মামার স্বপ্নের পরিসমাপ্তির কথা বলতে চেয়েছিলাম, তবে সেটা লুঙ্গি পরার জন্য বোঝাতে চাই নি।


Name:  র২হ          

IP Address : 236712.158.786712.13 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 06:38 PM

লুঙ্গী যে সাম্যবাদ ও বিশ্বশান্তির ভবিষ্যত এ আমি সবসময়ই জানি।

শীর্ষেন্দু ও আনন্দমেলাজনিত কনফ্লিক্টের পরেও লুঙ্গীই এমন এক সূত্র যা খনুদা ও অরণ্যদাকে এক পাতায় ধরে রাখে।


Name:  খ          

IP Address : 236712.158.676712.20 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 07:46 PM

হুতো, মার খাবি;-)
সুকি, তুমি যা লিখেছো বেশ করেছো। কেউ কিসু মনে করে নি, আমি ইয়ার্কি করছিলাম।
আমার প্রবল তথা বিপুল আমি এবং আমার লুঙ্গি প্রেম, যাঁদের কাছে প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান তাঁরা বিব্রত এবং আক্রান্ত বোধ করেন। যেহেতু দৃশ্যে কল্পনার অবকাশ প্রায়শ অনুপস্থিত থাকে।

যাঁরা শুধু কল্পনায় আমাকে লুঙ্গি সহ ভেবেই লজ্জা পেয়েছেন, তাঁরা অভিবাসী হয়েছেন বা সন্যাস নিয়েছেন শোনা যায়। বা শিশু সাহিত্যের বাইরে পা রাখতে সাহস করেন নি।

যাঁরা এমনকি কল্পনা করতেও নজ্জা পান, তাঁদের জন্য বিংশশতকীয় অনুকম্পা ও ঊনবিংশতকীয় আদি ব্রাহ্ম সমাজ ছাড়া কিছু তেমন কিছু পাচ্ছি না।

লুঙ্গি প্রেমে, হে দোহারবৃন্দ, আমার ঈশ্বর হতেও লজ্জা করে না;-)


(এ প্রসঙ্গেও, বলতে নেই, আমার একটি নিবন্ধ আছে, কারণ ভবদুলাল ও শোনা যায় ধুতি কে স্বগৃহে লুঙ্গি রূপেই আপন করতেন)

;-)


Name:  সুকি           

IP Address : 236712.158.566712.63 (*)          Date:21 Nov 2019 -- 09:06 PM

আজ কা তুঘলক
--------------------

মহম্মদ বিন তুঘলকের সাথে দেখা করে হয়ে ওঠে নি আমার, যদিও মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের ক্লাসমেট হালিম জগবন্ধু স্যারের কাছে জানতে চেয়েছিল দেখা করা যাবে কিনা। আমরা তখন ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি, জগবন্ধু বাবু আমাদের ইতিহাস পড়াতেন – সেদিন পড়াচ্ছেন তুঘলকের খামখেয়ালীপনার কথা। কিছুটা শুনে হালিম পিছনের দিক থেকে জিজ্ঞেস করল,

“স্যার, একটা কথা বলছিলাম, এই বিন তুঘলকের সাথে দেখা করা যায় না ইস্কুল থেকে মিছিল করে গিয়ে?”

আসলে ভেবে দেখলে হালিমের দোষ ছিল না, তখন প্রবল পরাক্রান্ত সি পি এমের আর এ বি টি এ-এর আমল। আজ মিছিল করে উৎপল দত্তের ‘ঝড়’ সিনেমা দেখতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তো কাল গ্যাট চুক্তির প্রতিবাদে মেমারী শহর পরিক্রমা। এছাড়া ডি ওয়াই এফ আই, নাট্য মেলা, বইমেলা ইত্যাদি ইত্যাদি তো আছেই – কিছু হলেই আমরা মিছিল করে ঘুরতাম মেমারী বাজার আর বদলে পেতাম একটা করে বাপুজীর কেক ইস্কুলে ফিরে আসার পর। তবে সেদিন জগবন্ধু বাবুর রেগে গেলেন হালিমের প্রস্তাব শুনে, বললেন, “এটাকে ক্লাস থেকে বের করে দে তো”। তারপরে অনেকের কাছে একদম ক্লিয়ার হল যে বিন তুঘলক বহুদিন টেঁসে গ্যাছে।

আজকাল অবশ্য অনেকে মমতা দিদি-কে বিন তুঘলকের মহিলা ভার্সন বলেন। তবে দিদি তুঘলকিয় হয়ে ওঠার বহু আগে আমরা ইস্কুল ছেড়েছি, তা না হলে কে জানে বিন তুঘলকের সাথে মিট করার হালিমের প্রবল ইচ্ছাটা পূর্ণ হয়ে যেত, তা যতই হোক না সে এক আধুনিক ভার্সন।

আমার দিক থেকে বলতে পারি মহম্মদ বিন তুঘলক-কে দেখা একদম মিস করি নি, কারণ আমার হাতের কাছে ছিল মহেন্দ্রনাথ ঘোষ, মায়ের মামা – মানে আমার দাদু। মহেন্দ্র ঘোষ বহু অংশে স্বয়ং তুখলক-কেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত। আমার মা ছোট বেলায় মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছিল, তাই মায়ের মামা নিজের দাদুর মতই ছিল ঘেঁষাঘেঁষি তে।

মায়ের মামারা বেশ ভালো বড়লোক ছিল সেই আমলে। প্রায় ৬০-৭০ বিঘে মত জমি, তার পর যা হয় আর কি বর্গা ইত্যাদি হয়ে গিয়ে সেটা বিঘে চল্লিশে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া ছিল ধানকল, সারের দোকান, ট্রাকটর, পুকুর, বাগান ইত্যাদি ইত্যাদি। গ্রাম্য লাইফ নিয়ে যাদের ধারণা আছে তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, ব্যাপার খুব একটা মন্দ ছিল না। বেশী জমি জায়গা থাকলে ঘটিরা যা করে দাদুও সেটা করল – বাপ-ঠাকুরদা তো কষ্ট করে খেটে খুটে সম্পত্তি বানিয়ে গ্যাছে, তাহলে আমি আর খামোখা খাটবো কেন! খামখেয়ালীপনার চূড়ান্ত এবং বসে বসে সম্পত্তি উড়িয়ে যেতে লাগল, একে একে সারের দোকান, ধানকল সব বিক্রী হয়ে গেল। তার পর শুরু হল জমি বিক্রী করা। এখন মামারা বড় হয়ে মনে হয় আর জমি বিক্রী করা একটু রুখেছে।

দাদুর বাড়ির সামনে ছিল বেশ বড় ফাঁকা জায়গা, বড় জামরুল গাছটার সামনে। বাড়ির একপাশে গোয়াল বাড়ি, মাল রাখার গুদাম – অন্যদিকে বাগান। বৈঠক খানার ঘরে বসে ফুরফুরে হাওয়ায় বিকেলে চা খেতে অবশ্য ভালোই লাগত। অবশ্য তখনো আমাদের চা খাবার বয়স হয় নি – আমরা দেখতাম বাইরের ঘরে বাজী তৈরী হওয়া। বৈশাখ মাসে শেষ মঙ্গলবারে সেই গ্রামের বিখ্যাত কালিপুজো উপলক্ষ্যে। সেখানে দেখেই আমার বাজি তৈরীর প্রথম প্রাথমিক জ্ঞান।

একবার দাদুর শখ হল গোলাপ বাগান করবে – যা মনে করা তো সেই কাজ। বাড়ির সামনে জায়গাটা ঘিরে মাটি তৈরী করে গোলাপের বাগান শুরু হল – জল তোলার পাম্প ইত্যাদি বসিয়ে। কোথা থেকে প্রায় পঞ্চাশ-ষাট রকমের গোলাপ লাগানো হল। বলতে নেই সময় মেনে, পরম যত্ন পেয়ে – নির্ভেজাল গোবর সার পেয়ে সেই বাগান গোলাপ ফুলে ভরে উঠল। বহু দূর-দূর থেকে লোকজন গোলাপ বাগান দেখতে আসতে শুরু করল – লোকে বাগান দেখে বাঃ বাঃ করছে, আর দাদু পরম তৃপ্তি ভরে বৈঠকখানায় বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছে! আমার দুই মামাকে ভার দেওয়া হয়েছিল গোলাপ বাগানের ওভারঅল দেখভাল করার জন্য। সেই করতে গিয়ে মামাদের উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর কমে গেল।

এর পর দাদুর ঝোঁক হল ব্যবসার দিকে – নিজে প্রচুর পেটুক মানুষ হবার জন্য, সারের ব্যবসা থেকে সিফট করে খুলল মিষ্টির দোকান খানপুর মার্কেটে প্রাইম জায়গায়। সে মিষ্টির দোকান বিশাল হিট – বিশেষ করে বিকেলে সিঙ্গারা কিনতে আসার জন্য পাবলিকের লম্বা লাইন পরে যেত। ব্যবসা দুরদার চলছে, আর এদিকে মামারা বলছে, বাবা তুমি সিঙ্গারা নয়ত মিষ্টির দোকান কোন একটা বন্ধ কর। এই ভাবে বেশী দিন টানা যাবে না! এক একটা সিঙ্গারা বেচে প্রায় ৭০ পয়সা লস! কাজু, কিসমিস ইত্যাদি পুরে মিশিয়ে দাদু সিঙ্গারা বানিয়ে বিক্রী শুরু করে প্রতি পিস এক টাকা করে! এদিকে বানাতে খরচা প্রায় এক টাকা সত্তর পয়সা! মামারা কিছু বলতে গেলেই উত্তর আসত, এই তমুকের ব্যাটা আমি, লোককে বাজে জিনিস খাওয়াবো! মিষ্টি বেচেও অনুরূপ ক্ষতি, পাঁচ টাকা সাইজের রসগোল্লা বানিয়ে বিক্রী হচ্ছে দুই-টাকা পিস করে! অনেক ঝামেলা ইত্যাদি করে সেই মিষ্টির দোকান বন্ধ করা গেল।

দাদু আমাকে মাঝে মাঝে বলত, ওসব ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিছু নয় বুঝলি, আসল চাকরী হল স্কুল মাষ্টারি। চাকরি করতে হলে মাষ্টারী করাই বেষ্ট, দুই মামার তাই ছোট বেলা থেকেই ট্রেনিং হত ইস্কুল মাষ্টার হবার জন্য। খাদ্যরসিক এবং পেটুক মানুষ, গাওয়া ঘিয়ের লুচি, মিষ্টি, পাঁঠার মাংস ইত্যাদি ছাড়া দাদুর মুখে রুচত না অন্য কিছু। এদিকে বয়স হচ্ছে – একসময় মামিমারা বলল, “বাবা, বয়স হচ্ছে তো, তাই আপনাকে আর ওই সব রীচ খাবার দেওয়া যাবে না”। এসব শুনে দাদু ফায়ার, “নিজের সর্বনাশ আমি নিজেই করেছি তোমাদের ঘরে এনে, তখন কি আর জানতাম আমার সাজানো সংসার ছাড়খাড় করে দেবে তোমরা!” ছোট মামি আবার একটু মর্ডান টাইপের, ফুট কেটে ফেলল, “কোথায় সাজানো নষ্ট হচ্ছে বাবা? শুধু একটু খাওয়া কনট্রোল করার কথা হচ্ছে”। দাদু নাকি উত্তর দিয়েছিল, “সাজিয়ে যদি খাবারই সামনে না এল তাহলে আর সাজানো সংসারের মানে কি?”

তবুও দাদুকে গাওয়া ঘিয়ের লুচি খেতে দেওয়া হল না আগের মত বেশী বেশী – এত অত্যাচার মহেন্দ্র ঘোষের সইল না। বলল, “আমি আলাদা হয়ে যাব। তোরা দুই ভাই একসাথে থাক। আমি আর তোদের মা এবার থেকে আলাদা খাব, নিজের লুচি নিজে রেঁধে নেব”। এইভাবে একই বাড়িতে দুই হেঁসেল চালু হত – যে মানুষ জীবনে এক গ্লাস গড়িয়ে খায় নি, সে লুচি ভাজবে সেটা ভাবাই মূর্খামি। দিদার ভাঙা শরীরে চাপ পড়ে গেল – বেগতিক দেখে মামিমারা পিছিয়ে গেল। আবার একসাথে রাঁধা শুরু হয়ে গেল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দাদু গাওয়া ঘিয়ের লুচি এখনো চালিয়ে যাচ্ছে, সাথে পাঠাঁর মাংস।

আর আমার মামারা দাদুর মত পুরো তুখলকিয় না হলেও, হালকা ছাপ পেয়েছে। দুপুরে ভাত খাবার পর তেনারা নাকি বাইকে দশ কিলোমিটার গিয়ে পান খেয়ে আসেন, কোন একটা দোকানে স্পেশাল পান সাজে!


Name:  aranya          

IP Address : 236712.158.2367.60 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 05:04 AM

সত্যি, লুঙ্গি একটা ব্যাপার, শীর্ষেন্দুর গদ্যের মতই মোলায়েম, ফুরফুরে, মজাদার


Name:  aranya          

IP Address : 236712.158.2367.60 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 05:06 AM

আর লুঙ্গি -তেই ফ্যাশন সেশ, এটা সুকি ঠিকই লিখেচে। বাহারী, রঙিন লুঙ্গি -র চেয়ে বড় ফ্যাশন আর কি ই বা হতে পারে


Name:  Ekak          

IP Address : 236712.158.895612.198 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 06:10 AM

হা, এটা ঠিক। র‌্যাপ অন -এর দুনিয়ায় এতো বেশি ভ্যরিএশন আছে , এতো টেক্স্চার , যে কোন না কোনোটা ভালো লেগেই যায়।

আগেও লিখেছি, ব্যাঙ্গলোর বেশ লুঙ্গি ফ্রেন্ডলি। মুন্ডু পরে আপনি শপিঙ্গ মল থেকে কাজের জায়গা যেখানেই জান, সমোস্যা নেই।

কোল্কতায় মনে হয়, এতো টা এক্সেপ্টেড না।


Name:  রঞ্জন          

IP Address : 236712.158.895612.102 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 09:44 AM

"একডজন সুকি" এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম।
আগে সুকির লেখা পড়ে ফিকফিক, খিকখিক, খ্যা-খ্যা করে হাসতাম। এবার প্রথম চারটে লেখার পর নষ্টালজিয়ায় ডুবে উদাস মন। তারপর ভাগ্যিস "রাজেশদা " এলেন।
সাতসকালে মনটা ভাল হয়ে গেল। মহারাষ্ট্রে যাই ঘটুক, আমার কি !
বেঁচে থাকো সুকি। রবি ঠাকুরের দাড়ির মত পরমায়ু হোক তোমার।

আমি এখন লুঙ্গি পড়েই টাইপাচ্ছি। ছোটকার--গুরুর চিন্টুবাবুর পিতৃদেব-- দেওয়া উপহার।


Name:  সুকি           

IP Address : 237812.69.453412.116 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 09:54 AM

আমি লুঙ্গি বিষয়ে সবার সাথে একমত।

ব্যাঙ্গালোরে শুধু লুঙ্গি নয়, ফেত্তা মারা ধুতি পরেও লোকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে - ওতে আরো হাওয়া খেলে মনে হয়। বাংলাদেশে লুঙ্গি কিন্তু আমাদের কলকাতার থেকে বেশি গ্রহনীয়, হুমায়ুণ আহমেদকে আমি দিব্য লুঙ্গি পরে দাপটে ইন্টারভিউ দিতে দেখেছিলাম।


Name:   শিবাংশু           

IP Address : 237812.68.674512.115 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 10:46 AM

কুমুদিদি কি এপাড়া থেকে স্বেচ্ছানির্বাসিত? এ বিষয়ে তাঁর বাইটই শেষ কথা...


Name:  b          

IP Address : 236712.158.676712.140 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 02:50 PM

longyi বার্মার জাতীয় পোষাক বোধয়।
https://en.wikipedia.org/wiki/Longyi


Name:  সুকি          

IP Address : 237812.69.563412.135 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 03:07 PM

আজ কা তুঘলক
--------------------

মহম্মদ বিন তুঘলকের সাথে দেখা করে হয়ে ওঠে নি আমার, যদিও মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের ক্লাসমেট হালিম জগবন্ধু স্যারের কাছে জানতে চেয়েছিল দেখা করা যাবে কিনা। আমরা তখন ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি, জগবন্ধু বাবু আমাদের ইতিহাস পড়াতেন – সেদিন পড়াচ্ছেন তুঘলকের খামখেয়ালীপনার কথা। কিছুটা শুনে হালিম পিছনের দিক থেকে জিজ্ঞেস করল,

“স্যার, একটা কথা বলছিলাম, এই বিন তুঘলকের সাথে দেখা করা যায় না ইস্কুল থেকে মিছিল করে গিয়ে?”

আসলে ভেবে দেখলে হালিমের দোষ ছিল না, তখন প্রবল পরাক্রান্ত সি পি এমের আর এ বি টি এ-এর আমল। আজ মিছিল করে উৎপল দত্তের ‘ঝড়’ সিনেমা দেখতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তো কাল গ্যাট চুক্তির প্রতিবাদে মেমারী শহর পরিক্রমা। এছাড়া ডি ওয়াই এফ আই, নাট্য মেলা, বইমেলা ইত্যাদি ইত্যাদি তো আছেই – কিছু হলেই আমরা মিছিল করে ঘুরতাম মেমারী বাজার আর বদলে পেতাম একটা করে বাপুজীর কেক ইস্কুলে ফিরে আসার পর। তবে সেদিন জগবন্ধু বাবুর রেগে গেলেন হালিমের প্রস্তাব শুনে, বললেন, “এটাকে ক্লাস থেকে বের করে দে তো”। তারপরে অনেকের কাছে একদম ক্লিয়ার হল যে বিন তুঘলক বহুদিন টেঁসে গ্যাছে।

আজকাল অবশ্য অনেকে মমতা দিদি-কে বিন তুঘলকের মহিলা ভার্সন বলেন। তবে দিদি তুঘলকিয় হয়ে ওঠার বহু আগে আমরা ইস্কুল ছেড়েছি, তা না হলে কে জানে বিন তুঘলকের সাথে মিট করার হালিমের প্রবল ইচ্ছাটা পূর্ণ হয়ে যেত, তা যতই হোক না সে এক আধুনিক ভার্সন।

আমার দিক থেকে বলতে পারি মহম্মদ বিন তুঘলক-কে দেখা একদম মিস করি নি, কারণ আমার হাতের কাছে ছিল মহেন্দ্রনাথ ঘোষ, মায়ের মামা – মানে আমার দাদু। মহেন্দ্র ঘোষ বহু অংশে স্বয়ং তুখলক-কেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত। আমার মা ছোট বেলায় মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছিল, তাই মায়ের মামা নিজের দাদুর মতই ছিল ঘেঁষাঘেঁষি তে।

মায়ের মামারা বেশ ভালো বড়লোক ছিল সেই আমলে। প্রায় ৬০-৭০ বিঘে মত জমি, তার পর যা হয় আর কি বর্গা ইত্যাদি হয়ে গিয়ে সেটা বিঘে চল্লিশে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া ছিল ধানকল, সারের দোকান, ট্রাকটর, পুকুর, বাগান ইত্যাদি ইত্যাদি। গ্রাম্য লাইফ নিয়ে যাদের ধারণা আছে তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, ব্যাপার খুব একটা মন্দ ছিল না। বেশী জমি জায়গা থাকলে ঘটিরা যা করে দাদুও সেটা করল – বাপ-ঠাকুরদা তো কষ্ট করে খেটে খুটে সম্পত্তি বানিয়ে গ্যাছে, তাহলে আমি আর খামোখা খাটবো কেন! খামখেয়ালীপনার চূড়ান্ত এবং বসে বসে সম্পত্তি উড়িয়ে যেতে লাগল, একে একে সারের দোকান, ধানকল সব বিক্রী হয়ে গেল। তার পর শুরু হল জমি বিক্রী করা। এখন মামারা বড় হয়ে মনে হয় আর জমি বিক্রী করা একটু রুখেছে।

দাদুর বাড়ির সামনে ছিল বেশ বড় ফাঁকা জায়গা, বড় জামরুল গাছটার সামনে। বাড়ির একপাশে গোয়াল বাড়ি, মাল রাখার গুদাম – অন্যদিকে বাগান। বৈঠক খানার ঘরে বসে ফুরফুরে হাওয়ায় বিকেলে চা খেতে অবশ্য ভালোই লাগত। অবশ্য তখনো আমাদের চা খাবার বয়স হয় নি – আমরা দেখতাম বাইরের ঘরে বাজী তৈরী হওয়া। বৈশাখ মাসে শেষ মঙ্গলবারে সেই গ্রামের বিখ্যাত কালিপুজো উপলক্ষ্যে। সেখানে দেখেই আমার বাজি তৈরীর প্রথম প্রাথমিক জ্ঞান।

একবার দাদুর শখ হল গোলাপ বাগান করবে – যা মনে করা তো সেই কাজ। বাড়ির সামনে জায়গাটা ঘিরে মাটি তৈরী করে গোলাপের বাগান শুরু হল – জল তোলার পাম্প ইত্যাদি বসিয়ে। কোথা থেকে প্রায় পঞ্চাশ-ষাট রকমের গোলাপ লাগানো হল। বলতে নেই সময় মেনে, পরম যত্ন পেয়ে – নির্ভেজাল গোবর সার পেয়ে সেই বাগান গোলাপ ফুলে ভরে উঠল। বহু দূর-দূর থেকে লোকজন গোলাপ বাগান দেখতে আসতে শুরু করল – লোকে বাগান দেখে বাঃ বাঃ করছে, আর দাদু পরম তৃপ্তি ভরে বৈঠকখানায় বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছে! আমার দুই মামাকে ভার দেওয়া হয়েছিল গোলাপ বাগানের ওভারঅল দেখভাল করার জন্য। সেই করতে গিয়ে মামাদের উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর কমে গেল।

এর পর দাদুর ঝোঁক হল ব্যবসার দিকে – নিজে প্রচুর পেটুক মানুষ হবার জন্য, সারের ব্যবসা থেকে সিফট করে খুলল মিষ্টির দোকান খানপুর মার্কেটে প্রাইম জায়গায়। সে মিষ্টির দোকান বিশাল হিট – বিশেষ করে বিকেলে সিঙ্গারা কিনতে আসার জন্য পাবলিকের লম্বা লাইন পরে যেত। ব্যবসা দুরদার চলছে, আর এদিকে মামারা বলছে, বাবা তুমি সিঙ্গারা নয়ত মিষ্টির দোকান কোন একটা বন্ধ কর। এই ভাবে বেশী দিন টানা যাবে না! এক একটা সিঙ্গারা বেচে প্রায় ৭০ পয়সা লস! কাজু, কিসমিস ইত্যাদি পুরে মিশিয়ে দাদু সিঙ্গারা বানিয়ে বিক্রী শুরু করে প্রতি পিস এক টাকা করে! এদিকে বানাতে খরচা প্রায় এক টাকা সত্তর পয়সা! মামারা কিছু বলতে গেলেই উত্তর আসত, এই তমুকের ব্যাটা আমি, লোককে বাজে জিনিস খাওয়াবো! মিষ্টি বেচেও অনুরূপ ক্ষতি, পাঁচ টাকা সাইজের রসগোল্লা বানিয়ে বিক্রী হচ্ছে দুই-টাকা পিস করে! অনেক ঝামেলা ইত্যাদি করে সেই মিষ্টির দোকান বন্ধ করা গেল।

দাদু আমাকে মাঝে মাঝে বলত, ওসব ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিছু নয় বুঝলি, আসল চাকরী হল স্কুল মাষ্টারি। চাকরি করতে হলে মাষ্টারী করাই বেষ্ট, দুই মামার তাই ছোট বেলা থেকেই ট্রেনিং হত ইস্কুল মাষ্টার হবার জন্য। খাদ্যরসিক এবং পেটুক মানুষ, গাওয়া ঘিয়ের লুচি, মিষ্টি, পাঁঠার মাংস ইত্যাদি ছাড়া দাদুর মুখে রুচত না অন্য কিছু। এদিকে বয়স হচ্ছে – একসময় মামিমারা বলল, “বাবা, বয়স হচ্ছে তো, তাই আপনাকে আর ওই সব রীচ খাবার দেওয়া যাবে না”। এসব শুনে দাদু ফায়ার, “নিজের সর্বনাশ আমি নিজেই করেছি তোমাদের ঘরে এনে, তখন কি আর জানতাম আমার সাজানো সংসার ছাড়খাড় করে দেবে তোমরা!” ছোট মামি আবার একটু মর্ডান টাইপের, ফুট কেটে ফেলল, “কোথায় সাজানো নষ্ট হচ্ছে বাবা? শুধু একটু খাওয়া কনট্রোল করার কথা হচ্ছে”। দাদু নাকি উত্তর দিয়েছিল, “সাজিয়ে যদি খাবারই সামনে না এল তাহলে আর সাজানো সংসারের মানে কি?”

তবুও দাদুকে গাওয়া ঘিয়ের লুচি খেতে দেওয়া হল না আগের মত বেশী বেশী – এত অত্যাচার মহেন্দ্র ঘোষের সইল না। বলল, “আমি আলাদা হয়ে যাব। তোরা দুই ভাই একসাথে থাক। আমি আর তোদের মা এবার থেকে আলাদা খাব, নিজের লুচি নিজে রেঁধে নেব”। এইভাবে একই বাড়িতে দুই হেঁসেল চালু হত – যে মানুষ জীবনে এক গ্লাস গড়িয়ে খায় নি, সে লুচি ভাজবে সেটা ভাবাই মূর্খামি। দিদার ভাঙা শরীরে চাপ পড়ে গেল – বেগতিক দেখে মামিমারা পিছিয়ে গেল। আবার একসাথে রাঁধা শুরু হয়ে গেল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দাদু গাওয়া ঘিয়ের লুচি এখনো চালিয়ে যাচ্ছে, সাথে পাঠাঁর মাংস।

আর আমার মামারা দাদুর মত পুরো তুখলকিয় না হলেও, হালকা ছাপ পেয়েছে। দুপুরে ভাত খাবার পর তেনারা নাকি বাইকে দশ কিলোমিটার গিয়ে পান খেয়ে আসেন, কোন একটা দোকানে স্পেশাল পান সাজে!


Name:  রঞ্জন          

IP Address : 236712.158.9005612.43 (*)          Date:24 Nov 2019 -- 11:15 PM

নিমো গ্রামের সুকি,
"আজ কা তুঘলক" বোধহয় দু'বার পোস্ট হল--২১শে এবং আজকে।


Name:  সুকি          

IP Address : 237812.69.563412.81 (*)          Date:25 Nov 2019 -- 06:52 AM

সরি রঞ্জনদা, কি পোষ্ট করতে কি করেছি


Name:  সুকি          

IP Address : 237812.69.563412.21 (*)          Date:25 Nov 2019 -- 06:53 AM

ইলেকট্রিক অফিস ও মেজোজ্যাঠা
--------------------------------------------

- হ্যালো বোস, আমি নিমো থেকে সুশীলদা বলছি

মেমারী ইলেকট্রিক অফিসের বোস এই ভাবে আমার মেজো জ্যাঠার কাছ থেকে কত কল পেয়েছিল সেই সময় তার হিসাব করা মুশকিল। মোবাইলের যুগ হলে বোস কবেই জ্যাঠাকে কল-ব্লক লিষ্টে রেখে দিত আর ফেসবুক থাকলে আনফ্রেন্ড। ভারতের সরকারি বা অধিকৃত সংস্থাগুলি, যেমন স্টেট ব্যাঙ্ক, টেলিফোন, ইলেকট্রিক অফিস ইত্যাদির ব্যবহার বা কাষ্টমার সার্ভিস বা কলের উত্তর দেওয়া ইত্যাদি নিয়ে আমরা হামেশাই ক্ষোভ প্রকাশ করি। বেশীর ভাগ সময়েই সঙ্গত কারণে, তবে জ্যাঠার মত কাষ্টমার থাকলে হাসিমুখে উত্তেজিত না হয়ে উত্তর দেওয়াও চাপ হয়ে যায়। সত্যই যায় কিনা নিচের ঘটনা পড়ে আপনারাই বিচার করবেন।

সে তখন মোবাইল আসার অনেক আগের কথা, নিমোতে খুব বেশী কারো বাড়িতে ল্যান্ড লাইনের টেলিফোন ছিল না। আর থাকেলেও সবার ইলেকট্রিক অফিসের প্রতি মোহ ছিল না। তখনকার দিনে হত কি ঝড় জল উঠলে পাওয়ার লাইন অফ করে দিত ইলেকট্রিক অফিস। আবার নিমোতে ইলেকট্রিক ঢুকেছে বেশ কয়েক কিলোমিটার মাঠের উপর দিয়ে ওভারহেড তারের মাধ্যমে। তাই বিপদের ভয়ে ঝড় জল উঠলে ইলেকট্রিক অফিস কারেন্ট অফ করে দিত। আবার অনেক সময় গাছ পালা উলটে লাইনে ফল্ট হয়ে যেত। তখন অফিসে ফোন করে জানাত হত ব্যাপারটা এবং সময় সুযোগ মত তারা এসে লাইন ঠিক করত।

তো এইভাবেই মেজো জ্যাঠা মেমারী ইলেকট্রিক অফিসের ফোন নাম্বারটা পেয়ে যায় কোন ভাবে, চেনা শোনা তো ছিলই, মঙলা-কাকা। ফোন করার উপযুক্ত কারণ হলে সবাই জ্যাঠাকে রিকোয়েষ্ট করত যে এবার তাহলে মেমারী ইলেক্ট্রিক অফিসে ডায়াল করা হোক। প্রথম প্রথম তাই হত – কিন্তু পরে নিমোর লোক বুঝতে পারল যে জ্যাঠাকে রিমাইন্ডার দেবার কোনই দরকার নেই। কারণে অকারণে জ্যাঠা ইলেক্ট্রিক অফিসে ফোন করে ব্যতিব্যস্ত করে রাখল –

- হ্যালো, সুশীলদা বলছি নিমো থেকে
- হ্যাঁ দাদা বলুন
- বলছি পশ্চিম দিকে মেঘ করেছে মনে হচ্ছে তো। ঝড় জল আসবে – কি করবেন কিছু ঠিক করেছেন?
- কিসের কি করব?
- না মানে ওই কয়টা নাগাদ লাইন অফ করবেন?
- সে ঝড় জল এলে দেখা যাবে, এত আগে থেকে কিছু বলা যায় নাকি?
- আসলে জানা থাকলে ব্যাটারীতে চার্জ দিয়ে রাখতাম আর কি
- তা সে আপনি এখন থেকেই দিয়ে রাখুন না!
- ও, তাও তো বটে – ঠিক আছে তাহলে

আবার দু চার দিন পরে

- হ্যালো, সুশীলদা বলছি। বলছিলাম কি, আজ তো মনে হচ্ছে আপনাদের অনেক কাজ বেঁচে গেল
- কেন কাজ বাঁচার কি হল?
- আরে খেয়ে দেয়ে দুপুরে একটু শুতে যাবার আগে দেখলাম কেমন গুমট মেরে গ্যাছে ওয়েদারটা। ঝড় আসবেই একদম শিওর ছিলাম
- ঝড় হয় নি আপনাদের দিকে?
- হলে কি আর বলতাম আপনাদের কাজ বেঁচে গ্যাছে? ঝড় এল না বলেই ভাবলাম জানিয়ে দিই, খুব বেঁচে গেলেন আজকে যাই হোক। না হলে আজ রাত বিরেতে আবার ছোটাছুটি করতে হত।

এবার সত্যি সত্যি একদিন ঝড় এল – তারটার ছিঁড়ে একসা। কারেন্ট নেই গ্রামে – কিন্তু নিমোর লোকের টেনশন নেই, তারা জানে মেজো জ্যাঠা গ্রামে ওই দিন আছে মানে মেমারী ইলেকট্রিক অফিসকে ব্যতিব্যস্ত করে দেবে

- এ্যাই বোস, সুশীলদা বলছি নিমো থেকে। সর্বনাশ হয়ে গ্যাছে তো! তার ছিঁড়ে গ্যাছে মনে হচ্ছে কাল রাতের ঝড়ে – সকাল থেকে কারেন্ট নেই।
- দাদা, কাল রাতে অনেক জায়গাতেই এক অবস্থা। আমরা আস্তে আস্তে লোক পাঠিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করছি।
- আচ্ছা, দেখুন তা হলে তাড়াতাড়ি।

সে তখন সকালের দিকের সময় – মেজমা ডাকছে জ্যাঠাকে মুড়ি খাবার জন্য বাইরের দুয়ারে। জ্যাঠা গ্যাছে খচে বিশাল, সেই মুহুর্তে ফোনের কাছ ছেড়ে ওঠার কোন প্ল্যান নেই জ্যাঠার। মেজমাকে দিয়েছে ধ্যাতানি

- তোমার এত বয়স হল, কিন্তু আক্কেল হল না এখনো। কি ভেবে তুমি আমাকে এখন মুড়ি খেতে যাবার কথা বল?
- তুমি মুড়ি খাবে কি খাবে না? না খেলে বল, আমার অন্য কাজ আছে
- ঘরে পাঠিয়ে দাও মুড়ি, এখন ফোনের কাছ থেকে ওঠা যাবে না।

পাঁচ মিনিট বাদে আবার অফিসে ফোন

- হ্যালো সুশীলদা বলছি
- কে বলছেন?
- আরে নিমো থেকে সুশীল, এই তো একটু আগেই ফোন করলাম। তুমি কে, গলা তো চেনা ঠেকছে না।
- স্যার এখন চা খেতে গ্যাছেন। আপনি পরে ফোন করুন।
- আচ্ছা সে না হয় করছি, তবে একটা প্রশ্ন ছিল তোমাদের কাছে
- কি প্রশ্ন তাড়াতাড়ি বলুন
- মানে বলছিলাম কি লাইনের ভোলটেজ কি কোনদিন-ই বাড়বে না! এতো হ্যারিক্যানের আলোর থেকেও কম জোরে জ্বলছে দুশো পাওয়ারের বাল্ব গুলো।
- হয়ে যাবে ঠিক তাড়াতাড়ি
- আর কবে হবে? আজকাল ভিজে হাতে খোলা তারে হাত দিলেও কারেন্ট মারছে না!
- দাদা বলি কি বেশী ভিজে হাত দেবেন না। আপনি পরে স্যারকে কল করবেন।

জ্যাঠা এবার ঘর থেকে বেরিয়ে এল – হুকুম হল –

- এই তোরা কেউ একজন গিয়ে মঙলা-কে ডেকে নিয়ে আয়। ইলেক্ট্রিক অফিস বলছে পরে ফোন করতে।

কেউ একজন গেল মঙলা-কা কে ডাকতে। মেজো জ্যাঠা ততক্ষণে মুড়ি খেতে শুরু করল দুয়ারে বসেই। খানিক পরে সেই বার্তাবাহক ফিরে এসে জানালো যে মঙলা-কাকা বাড়িতে নেই। রেল ফটকের কাছে নারাণের দোকানে চা খেতে গ্যাছে। খবর শুনে জ্যাঠা মনক্ষুন্ন

- চা খেতে গ্যাছে না হাতি! চা খেতে কতক্ষণ লাগে? বসে বসে এখন গুলতানি চলবে বেলা পর্যন্ত। কোন একটা রেসপনসেবেলিটি নেই। ঝড়ে তার ছিঁড়ে গ্যাছে আর উনি নারাণের দোকানে বসে বসে চা খাচ্ছেন।

মুড়ি খাওয়া হলে আবার ডায়াল ইলেকট্রিক অফিসে

- কিছু কাজ এগুলো? মঙলা তো বসে বসে চা খাচ্ছে নারাণের দোকানে নিমোতে। তা আপনারা কি সবাই এখনো চা-খেতেই ব্যস্ত
- দাদা, স্যার এখনো চা খেয়ে ফেরেন-নি। আপনি পরে ফোন করে যা বলার স্যারকেই বলুন।

মেজোমা আবার হাঁক দিল –

- বলছি উত্তমের দোকান থেকে পাঁচশো চিনি এনে দাও না। ফুরিয়ে গ্যাছে
- এটা চিনি আনতে যাবার সময় হল? কোন সময়ে কি কথা বলতে হয় আর কবে শিখবে?
- তোমার ফোন আর ওরা ধরবে না, এটা বোঝারও ক্ষমতা নেই? মানুষকে তিতিবিরক্ত করে দিলে কে আর শুনবে তোমার কথা। সেদিন বিশু পর্যন্ত মাঠ থেকে ফিরে বলল, কাকিমা জ্যাঠাকে দিয়ে মাঠে জলখাবার পাঠাবে না। এমনিতেই প্রচুর গরম, জ্যাঠার কথা শুনলে আরো গরম হয়ে যায় মাথা।
- চিনি আনার সময় নেই এখন। অন্য কাউকে পাঠাও। দেখি, এখনি ফলো আপ করতে হবে বোসের সাথে।

আবার ডায়াল

- হ্যালো বোস রয়েছ?
- কে বলছেন?
- আমি নিমো থেকে সুশীল …।

কট্ করে ফোন লাইন কেটে গেল – মেজমা যেটা আগেই প্রডিক্ট করেছিল বলাই বাহুল্য। জ্যাঠা গজগজ করতে করতে বাইরে বেরিয়ে এল,

“সি পি এম আমলে সাপের পাঁচ পা দেখেছে এরা – কংগ্রেস পিরিওড হলে বোসের বাপ এসে হাজির হত এখন এই ঘোষ বাড়ির দরজায়”। – ইত্যাদি ইত্যাদি

রান্নাঘর থেকে আওয়াজ এল, “মাথাটা একদম গ্যাছে”।


Name:  Amit          

IP Address : 236712.158.23.211 (*)          Date:25 Nov 2019 -- 11:17 AM

লাস্টের টা পড়ে মনে পড়লো আমাদের কলকাতার পাড়ায় এক খান সিএসসি র মেইনটেনেন্স অফিস ছিল ৯০ র দশকে। লোড শেড্ডিং হলেই সেখানে গিয়ে লোকজন উত্যক্ত করে করে মারতো, দু একবার ঢিল ফিল ও ছুড়েছে। আরো বিপদ বাড়তো ক্রিকেট ম্যাচ থাকলে। শেষে ওরা বিরিক্ত হয়ে অফিস টাই তুলে দিলো, যে এখন সব মেইনটেনেন্স মেন্ অফিস থেকে সামলানো হবে।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6]     এই পাতায় আছে126--156