বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13]     এই পাতায় আছে181--210


           বিষয় : ১৯৭১ :: মুক্তিযুদ্ধের কথা
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :বিপ্লব রহমান
          IP Address : 212.164.212.14 (*)          Date:09 Dec 2012 -- 07:16 PM




Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:11 Dec 2013 -- 06:59 PM

বীরঙ্গনার বিপর্যয়গাথা
মুক্তিযোদ্ধারা বাড়িতে আনার পর শুরু হয় আমার আরেক যুদ্ধ
নুরজাহান বেগম

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী
____________________________________
১৯৭১ সালে ১৩ বছরের কিশোরী নুরজাহানও রেহাই পাননি পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকারদের নখর থেকে। প্রথমে মা ও ছোট ভাইকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ওরা। তারপর রাজাকাররা নুরজাহানকে তুলে দেয় বিহারিদের হাতে।
একটি বন্ধ ঘরে আটকে রেখে দিনে এক কী দুই বেলা খাবার দিয়ে রাতে নরপশুরা হামলে পড়ত অতটুকু মেয়ের ওপর। চিৎকার করে কাঁদলেও বাঁচাতে আসত না কেউ। এভাবে প্রায় দুই মাস অমানুষিক নির্যাতন সইতে হয়েছে মেয়েটিকে।
একাত্তরের এই বীরাঙ্গনা নুরজাহান বেগমের বয়স এখন ৫৫ বছর। দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার মতো আরো ১২-১৩ জন মেয়েকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। দুজন মারাও যায়। যাঁরা বেঁচে ছিলাম, তাঁরা প্রতিনিয়ত ডাকতাম বিধাতাকে। বলতাম, এই হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা করো তুমি। বিধাতা হয়তো আমার কথা শুনেছেন। দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযোদ্ধারা হায়েনাদের পরাজিত করে এবং আমাকে উদ্ধার করে।’
বীরাঙ্গনা নুরজাহানের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম মোকাররম হোসেন। নুরজাহান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পর শুরু হয় আমার আরেক যুদ্ধ। টানা এক মাস চিকিৎসা নিতে হয় আমাকে। সুস্থ হওয়ার পর বুঝতে পারি, আমি যেন চিড়িয়াখানার কোনো জন্তু। প্রতিবেশীরা সামনে কিছু না বললেও লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখত। মাঝে মধ্যে কটুকথা বলত। মনের দুঃখে এ জীবন শেষ করে দেওয়ার চিন্তা করেছি বহুবার। কিন্তু বৃদ্ধ মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ভুলে যেতাম সে সব ভাবনা। আমার মায়ের নাম মানু বিবি। আমাকে নিয়ে চিন্তার শেষ ছিল না মা ও ছোট ভাইয়ের। আমাকে কে বিয়ে করবে?’
তারপর ১৯৭৩ সালের প্রথম দিকে বিস্ময়করভাবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামের মনির উদ্দিন মোল্লার ছেলে মোকাররম হোসেন মোল্লা। সেই মহৎ ঘটনার কথা শোনা যাক মহান ব্যক্তিটির মুখেই।
মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আমিও তখন বয়সে কিশোর। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মাগুরার চৌগাছিতে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের নানা রকম সহযোগিতা করতাম। তাই মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি আমার এক ধরনের দুর্বলতা ছিল। নুরজাহানের বাড়ির পাশে ছিল আমার এক চাচাতো বোনের বাড়ি। ১৯৭৩ সালে ওই চাচাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দেখা হয় মাগুরায় যুদ্ধ করা বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে কয়েক দিন সময় কাটানোর পর নুরজাহান সম্পর্কে আমি বিষদ জানতে পারি। তাঁর প্রতি আমার মমতা সৃষ্টি হয়। আমি তাঁকে বিয়ে করি। তবে বিয়ের পর নানাজনের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে কটুকথা। এমনকি বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান হলেও তাঁরা আমাদের এই বিয়ে মেনে নেননি। কোনো উপায় না দেখে শ্বশুরালয়েই বসবাস শুরু করি। সে সময় থেকেই আমি দর্জির কাজ করি। টাকার অভাবে বাজারে কোনো দোকান নিতে পারিনি। বাড়িতেই কোনো রকমে চালিয়ে আসছি এ পেশা। সংসার চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।’
মোকররম হোসেন আরো বলেন, ‘নরপশুরা নুরজাহানকে ধরে নিয়ে গেছে, অত্যাচার করেছে। এটা তো তাঁর দোষ নয়। যারা এমন করেছে, তাদের দোষ। আমি মানুষ। তাই আমি নুরজাহানের পাশে দাঁড়িয়েছি। একটি অসহায় মেয়ের বেঁচে থাকার জন্য একটু অবলম্বন হয়েছি। তা ছাড়া সে তো খুব ভালো মেয়ে। একজন ভালো মানুষকে ভালোবাসাই তো মানুষের প্রধান ধর্ম।’
নুরজাহান বলেন, ‘মা মারা গেছে। বর্তমানে আমি ভাইয়ের দেওয়া ১২ শতাংশ জমিতে কোনো রকমে ঘর করে বসবাস করছি। আমার এক ছেলে, চার মেয়ে। অসুস্থতা পেয়ে বসেছে আমাকে। চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, আর ছেলেকে ভাইদের সহযোগিতায় বিদেশে পাঠিয়েছি। আমাকে সহযোগিতা করতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অনেক দৌড়ঝাঁপ করলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই। স্বাধীনতার ৪২ বছর পার হলেও পাইনি কোনো সরকারি সহযোগিতা। এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। তবে সরকারিভাবে কোনো স্বীকৃতি পেলে মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম। আমার স্বামী, সন্তান, ভাইয়েরাও পেত সামাজিকভাবে সম্মান। শেষ জীবনে এটুকু সম্মান আশা করা তো দোষের নয়।’
নুরজাহানের ছোট ভাই কোবেদ সেখ বলেন, “তিন বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছি। মা আর বোনই ছিল আমার সব। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছনের ঘরের মাটির ডোয়ায় আমি ‘জয় বাংলা’ লিখেছিলাম। আর এটিই ছিল আমার অপরাধ। যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে রাজকাররা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। লুটপাট করে। আমার মাকে রাইফেল দিয়ে আঘাত করে। আমার হাত বেঁধে ফেলে। তারপর আমাদের চোখের সামনেই ওরা নুরজাহানকে তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার ১২ দিন পর এলাকায় একটি গুলির শব্দ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজাকাররা আমাদের কয়েকজনকে আটক করে পাশের সোনাপুর বাজারের আজিজ মিয়ার রুটির দোকানে নিয়ে যায়। আমাকে এবং পাশের গ্রামের জমির উদ্দিন মুন্সি ও বাবলু মাস্টারকে জ্বলন্ত লাকড়ির মধ্যে ফেলে দেয়। আগুনে আমাদের তিনজনেরই শরীর ঝলসে যায়। সেই পোড়া দাগ এখনো আছে।’
তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, খলিলুর রহমান, আবদুল লতিফ, শহর আলীসহ তাঁদের সঙ্গীরা একাত্তরের ১৭ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যৌথভাবে জেলা শহরের বিহারি কলোনিতে (বর্তমান নিউ কলোনি) অপারেশন চালান। এ সময় তাঁরা নুরজাহানকে উদ্ধার করেন এবং আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। আমি ওই সব মুক্তিযোদ্ধার কাছে চিরঋণী।’
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হোসেন বলেন, ‘এলাকার বীরাঙ্গনাদের খোঁজার উদ্যোগ আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু অনেকে মুখ খুলতে চান না। আবার অনেকে দেশ বা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে বীরাঙ্গনা নুরজাহানকে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। তাঁর জন্য কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘নুরজাহান বেগম একজন বীরাঙ্গনা। তাঁকে সহযোগিতা করার চেষ্টা আমরা করছি। উপজেলা পরিষদের মাসিক মিটিংয়ে আলোচনার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

http://www.kalerkantho.com/online/biranganar-biporjoygatha/2013/12/09/
28835



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:11 Dec 2013 -- 07:01 PM

বীরঙ্গনার বিপর্যয়গাথা
আত্মহননের চেষ্টা করেন তিনবার
দীপ্তি রানী দে

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ
___________________________________

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার এক বছর আগেই অভাবী বাবা তাঁর ১৪ বছর বয়সী মেয়ে দীপ্তি রানী দের বিয়ে দেন। বিয়ের পর গ্রামসুদ্ধ মানুষ ভেঙে পড়েছিল দীপ্তিময় চেহারার বালিকাবধূটিকে দেখার জন্য। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি এসে সবাইকে আপন করে নিয়েছিলেন দীপ্তি। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পাল্টে দেয় তাঁর জীবনচিত্র।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের ধরণী কান্ত দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় দীপ্তি রানীর। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দীপ্তি ছিলেন সবার বড়। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জননী তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ধরণী কান্ত দাসের বাড়ির ১১টি পরিবারের মধ্যে ৯টিই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দালালদের ভয়ে। বাড়িতে থেকে যায় ধরণী কান্ত দাস ও তাঁর ভাইয়ের পরিবার। অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিকে এক সকালের ঘটনা। স্থানীয় রাজাকাররা দুজন খান সেনাকে নিয়ে আসে ধরণী কান্ত দাসের বাড়ি। বাড়ি দেখিয়েই তারা চলে যায় আড়ালে। ঘরে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে ধরণী কান্ত ও তাঁর ছোট ভাই দয়াল দাসকে পিঠমোড়া করে বেঁধে ফেলে।
দয়াল দাস (৬৭) ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে পাকিস্তানি সেনারা আমার ভাবির ওপর অত্যাচার চালায়। যাওয়ার সময় আমাকে ওরা গুলি করতে চেয়েছিল। আমার এক মুসলমান বন্ধু সামনে পড়ে আমাকে দানবদের কাছ থেকে রক্ষা করে।’
অত্যাচারের আগে হানাদাররা বন্দুকের বাঁট দিয়ে দীপ্তির কোমরে আঘাত করে। পরে নির্যাতনের কারণে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ায় তাঁকে আর ক্যাম্পে নিতে পারেনি ওরা। সন্ধ্যায় জ্ঞান ফেরে দীপ্তির।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বীরাঙ্গনা দীপ্তি রানীর মুখের বলিরেখা ক্ষোভ, অভিমান আর কষ্টে ফুলে ওঠে। গাল বেয়ে অঝোরে ঝরতে থাকে দীর্ঘদিনের চেপে রাখা কষ্টগুলো। তিনি জানান, জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পান পল্লী চিকিৎসক চান্দ আলী তাঁকে ওষুধ দিচ্ছেন। পরদিনই তাঁকে গ্রামের একটি মুসলিম পরিবারে আশ্রয় দেওয়া হয়। এর পরও পাকিস্তানি সেনারা কয়েক দিন দীপ্তিদের বাড়ি আসে। আরেক দিন আসার আগে খবর পেয়ে সবাই পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে পড়ে। সারা দিন ছিল জঙ্গলে।
মাসখানেক পরেই দেশ স্বাধীন হয়। খবর পেয়ে এলাকার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান ছুটে যান দীপ্তিদের বাড়ি। সব ঘটনা শোনেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বীরাঙ্গনার তালিকায় দীপ্তির নাম অন্তর্ভুক্তির কথা তুললে তিনি লোকলজ্জা ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিষেধ করেন।
একাত্তরের ওই ঘটনার পর দীপ্তি রানী তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। কিন্তু তাঁর মাতৃতুল্য জা লবঙ্গ রানী দাসের কারণে তিনি রক্ষা পান। একবার গলায় ফাঁস দিয়ে মরতেই বসেছিলেন। হঠাৎ জা উপস্থিত হলে সেদিনও মরা হয়নি তাঁর। জা ঘটনার দু-তিন বছর চোখে চোখে রাখেন দীপ্তিকে। এ সময় তাঁর স্বামীও অনেকটা মনমরা হয়ে থাকেন। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়।
মেয়ে দুটিকে বিয়ে দিয়েছেন দীপ্তি রানী। বড় ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন গত বছর। সবাই দিনমজুরি করে সংসার চালায়। অভাবের কারণে দীপ্তি রানীর শরীর ভেঙে গেছে। অসুখ-বিসুখ বাসা বেঁধেছে শরীরে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না। কোনো রকম স্বীকৃতি তো দূরের কথা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ বয়স্ক ভাতা- এসবের কিছুই পান না তিনি।
এক দশক আগে বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ গবেষক দীপঙ্কর মোহান্ত তাঁর সম্পাদিত একটি গ্রন্থে দীপ্তি রানীর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন। যে কারণে তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একাত্তরের নির্যাতনের কথা বলতে চাননি, সেটাই ঘটে গেছে। তাঁর বীরাঙ্গনা হওয়ার ঘটনা প্রকাশ পেলে সম্মানের পরিবর্তে চারদিক থেকে গ্লানি ঘিরে ধরে তাঁকে। জামাই তাড়িয়ে দেয় বড় মেয়েটিকে। তাই তিনি এখন বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চান।
সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘হোসেনপুরের রাজাকার এলকাছ মাস্টার, পুরান লক্ষণশ্রী গ্রামের সিরাজ মিয়াসহ স্থানীয় রাজাকাররা এ গ্রামে পাকিস্তানিদের ডেকে এনেছিল। তারাই মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ায়। নারীদের সম্ভ্রমহানি ঘটায়। বীরাঙ্গনা দীপ্তি রানী এখন স্বীকৃতি চান। আমরা সে চেষ্টা করছি।’
সুনামগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, ‘যুদ্ধের পরপরই এই নারীর কথা আমি সুফিয়ানসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে শুনেছিলাম। কিন্তু তার অনাগ্রহের কারণে তখন তাকে নিয়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি।’
যে রাজাকাররা খান সেনাদের তাঁদের বাড়ি নিয়ে এসেছিল, তাদের পরিচয় জানতে চাইলে আঁতকে ওঠেন দীপ্তি রানী। পরে প্রকাশ না করার স্বার্থে নাম বলেন। চার রাজাকারের মধ্যে একজন এখনো বেঁচে আছে। হঠাৎ তিনি চেঁচিয়ে বলে ওঠেন, ‘বিচার চাই। যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই।’ যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আকুল হয়ে কাঁদতে থাকেন এই বীরাঙ্গনা।

http://www.kalerkantho.com/online/biranganar-biporjoygatha/2013/12/10/
29157#sthash.sNR8DLa2.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:11 Dec 2013 -- 07:02 PM

বীরঙ্গনার বিপর্যয়গাথা
অন্তঃসত্ত্বা বোনের সেবা করতে গিয়ে সর্বনাশ
মালেকা বেগম

শিমুল চৌধুরী, ভোলা
_______________________________________
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশীগঞ্জ চাঁদপুর গ্রামের মজিদ পাটওয়ারী (মানিক হুজুর) বাড়ির রেজাউল হকের স্ত্রী বিবি মালেকা বেগম (৭৫)। একাত্তরে তাঁর ভগ্নিপতি আবদুল মন্নান হালদার ছিলেন ফোর বেঙ্গলের হাবিলদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। মালেকার বোন বিবি ফাতেমাকে নিয়ে মন্নান বসবাস করতেন কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের ৩ নম্বর কোয়ার্টারে। বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে মালেকা ছুটে যান সেখানে। তখন তাঁর বয়স ১৬ বছর। অন্তঃসত্ত্বা বোনের দেখাশোনা করতে থাকেন তিনি। এরই মধ্যে শুরু হয় স্বাধীনতাযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে ভগ্নিপতি মন্নান হন শহীদ আর বোনের সঙ্গে মালেকা বেগম হন বীরাঙ্গনা।
ভোলার একই উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কাজীকান্দি গ্রামে বাবার বাড়িতেই শৈশব কেটেছে মালেকা বেগমের। দাদির কাছ থেকে মালেকা জানতে পারেন, তাঁর বয়স যখন দুই বছর তখনই বাবা আবদুর রশিদ ক্যান্সারে মারা যান। আর পাঁচ বছর বয়সে হারান মা বিবি মরিয়মকে। এরপর ভাই আবদুল মালেকের কাছেই বড় হয়েছেন তিনি।
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বীরাঙ্গনা মালেকা বেগম বলেন, ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে আমি বড় বোনের সেবা-শুশ্রুষা করছি। ইংরেজি তারিখ ঠিক মনে নেই। বৈশাখ মাসের ২৫ তারিখে সকাল ১০টার দিকে ছয়জন পাকিস্তানি হানাদার আচমকা আমাদের বাসায় হানা দেয়। তখন আমরা দুই বোন সামনে এলেও ভগ্নিপতি আবদুল মন্নান চৌকির নিচে লুকিয়ে থাকেন। তাঁকে সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে দেয়ালের সামনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মেরে ফেলে। ভয়ে আমরা পালানোর চেষ্টা করি। একপর্যায়ে আমি, আমার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বোন ফাতেমা ও তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে রিজিয়া গোসলখানার ভেতরে পালালাম। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গোসলখানায় আমাদের পেয়ে সেখানেই অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করল নরপশুরা। এরপর ইস্কাটনি কলেজের দোতলায় নিয়ে ক্যাম্পে বন্দি করল।
মালেকা বেগম জানান, টানা ৯ মাস পাকিস্তানিদের ওই ক্যাম্পে চলে মালেকা বেগম ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা বোনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন। ক্যাম্পে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরো সাত-আটজন নারী। ওরা ঠিকমতো খাবারও দিত না। বুটের ডাল আর আতব চালের ভাত রেধে পোকামাকড়সহ দিত। খাওয়ার পানিও দিত না। অত্যাচারের পর সবাইকে ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা মেরে দিত। মাঝে মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে একটা করে রুটি দিত।
ওই ক্যাম্পেই বোন ফাতেমা জন্ম দিল একটি পুত্রসন্তান। হানাদারদের সঙ্গে ছিল এক সিস্টার ও সুইপার। তারাই সন্তান জন্মের ব্যবস্থা করে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের বন্দিজীবন থেকে মুক্ত করে আনেন। মালেকা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা পথখরচা বাবদ ৫০০ টাকা করে দিয়ে যার যার ঠিকানা অনুযায়ী বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সেই টাকা দিয়ে আমরা দুই বোন কুমিল্লা থেকে তজুমদ্দিনে চলে আসি। কিন্তু কোনো দিন কারো কাছে একাত্তরের সেই দুর্বিষহ বন্দিজীবনের কথা বলতে পারিনি।
বন্দিজীবন থেকে মালেকা মুক্ত হয়ে বাড়ি আসার পর তাঁর ভাই আবদুল মালেক শশীগঞ্জ চাঁদপুর গ্রামের রেজাউল হকের সঙ্গে বোনের বিয়ে দেন। কিন্তু এই বীরাঙ্গনার সংসার জীবনও চলছে অনেক কষ্টে। দিনমজুর স্বামীর আয় দিয়ে পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। এর মধ্যে এক মেয়ে ও দুই ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। মালেকার ভাই আবদুল মালেকের মতে, সমাজ বোনের বন্দিজীবনের ইতিহাস সহজে মেনে নেবে না। তাই লোকলজ্জার ভয়ে বোনের বীরাঙ্গনা হওয়ার কাহিনী কাউকে বলেননি। মালেকাকেও বলতে নিষেধ করেছেন তিনি।
মালেকা বেগমের দুই ছেলে তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রিয়াজ ও স্থানীয় মোবাইল দোকানের কর্মচারী মো. পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, মা যে দেশের জন্য অনেক নির্যাতিত হয়েছেন, কষ্ট পেয়েছেন; সেই দেশের সরকার আমাদের কিছুই দেয়নি। স্বাধীনতার ৪২ বছরেও আমরা কিছু পাইনি। আপনারাই প্রথম আমাদের বাড়িতে এসেছেন। আমাদের সংসার কিভাবে চলে তা কেউ দেখে না।
বীরাঙ্গনা মালেকা বেগমও অনেকটা আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, দেশের জন্য এত নির্যাতন সহ্য করে বেঁচে থাকলেও সরকার থেকে কিছু পাইনি। আমার বাড়ি নদী থেকে মাত্র এক কিলোমিটার। জোয়ার হলে আমার ঘর পানিতে ডুবে যায়। তাই মাথা গোঁজার জন্য উপজেলার চর মোজাম্মেল থেকে একখণ্ড জমির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ছেলে রিয়াজকে একটি চাকরি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান এই বীরাঙ্গনা।
তজুমদ্দিন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০১০ সালে আমি যখন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছি, তখন বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এ উপজেলায় একজন বীরাঙ্গনা রয়েছেন। এরপর বিষয়টি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলকে জানিয়েছি। কিন্তু জেলা মুক্তিযোদ্ধা বা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে কিংবা সরকার থেকে কিছুই পাননি বীরাঙ্গনা মালেকা বেগম। বীরাঙ্গনাদের জন্য সরকারের কাছে স্বীকৃতি ও সহযোগিতার দাবি জানান বেলায়েত হোসেন।

http://www.kalerkantho.com/online/biranganar-biporjoygatha/2013/12/11/
29488#sthash.xaYQD6o9.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:13 Dec 2013 -- 05:26 PM

Afsan Chowdhury

Quader Molla and the autistic state
December 11, 2013

What on earth is going on with the Quader Molla issue? We know that the government was trying to make an example out of him but the way the events developed, it seems the government is making an example of high class fumbling all by itself. It was announced that he was to be hanged at Tuesday midnight, even the final visit by Molla’s family members were completed but then suddenly it was postponed, delayed, whatever.

Although the law minister and every other legal bigwigs of the government had declared that all recourses to relief was gone, a supreme court judge suddenly gave a stay order on the execution for an appeal hearing. Why?

Another unique statement was left for the Attorney General to make that he had no idea of what was going on and was actually very hurt because he felt left out. It was for making such ridiculous statement that he may or may not be remembered of, but under the present circumstances, he is certainly looking like a little boy without his shoes. What are you doing here if you don’t know what is going on?

It doesn’t matter whether Molla hangs when the court system seems hell bent on suicide. It was a stunning display of chaos that has claimed the legal system where the boundary between law and politics has been removed.

* * *

Bangladesh is a product of Pakistan which after birth till date has failed to produce a functional constitutional state. Bangladesh’s birth’s immediate trigger was Pakistan’s own constitutional failure which was the refusal to hand over power to the elected representative by its martial law rulers in 1971. Pakistan was a perpetually constitution violating state. Each of its crises was produced by lack of constitutional rule and each of its solutions was burdened by the same lack of rule of law.

This has been Bangladesh’s greatest political inheritance and this is what we have been practicing. The Molla incident is the latest symptom of that malady which infected us at birth which is to ignore rule of law.

* * *

Photo: Reuters
Photo: Reuters
The reason why we are like Pakistan is because we don’t want to live legally; because we never did learn how to. Though there is such a lot of songs and dance about the 1973 constitution, it lasted only two ramshackle years and by then underwent three major changes including PO 9 which is sacking officials without showing any cause. By 1974 emergency had been declared and by 1975 one-party rule was established through the 4th amendment ending all pretensions of pluralistic democracy violating one of the four major state principles. In August 1975, President Sheikh Muib and most of his family members were killed by a section of the military and martial law was imposed followed by a series of coups.

Of course all this was a result of the first August 15 coup which again was triggered partly by the one-party rule which was probably triggered by the lack of ability and experience of its rulers to rule a post-war state constitutionally. By 1981 General Zia who imposed the first martial law and ran an authoritarian state and facilitated the return of the banned Jamaat-e-Islami to politics was himself killed by his fellow freedom fighter comrades and soon General Ershad came to power in 1982. After several miserable rigged elections which began from 1973 onwards, he was ousted by a mass upsurge and we have the 1990 scenario.

So where did we have a phase when the country was ruled by law supported by the constitution? We built the unconstitutional phase from 1972 to 1990 as the foundational phase and the 1990 was not a victory of the constitution but the inauguration of the next unconstitutional phase that begin with the caretaker government system during elections.

Bangladesh has never lived under a constitutional phase and it has been legitimised and endorsed by the ruling parties. This is the basic crisis and till it’s resolved things can’t improve. The 15th amendment is an extension of this syndrome.

* * *

The present crisis is the legitimate child of this illegitimate system. The 1990 arrangement was itself a contingency one because the two political animals would rather kill each other than work together.

In the immediate stage two things happened.

In 2006 the BNP tried to manipulate the caretaker system and kept putting in power various people allowed under the list of possible chief advisors in a pathetic but dangerous attempt at manipulation ending with their own president. It provided the opportunity for the AL to give a ‘logi-boitha’ call and take to the streets. On no side was there any commitment to constitutional rule.

After the Fakhruddin-Moeen caretaker phase was over, a result of the AL-BNP fighting, there was an election effectively under a military “caretaker”’ supervision, the AL came to power and within three years had brought the 15th amendment which ended the caretaker system that was designed to ensure elections without violence and was acceptable to both. So the AL is at least half responsible for the present crisis and has given the BNP a chance to do a ‘logi-boitha’ display at an epic scale. If anyone wishes for a showcase of failed politics this is it.

* * *

It was also a display by the AL of either complete lack of foresight that does not know what the consequences would be by imposing the 15th amendment or a level of cynicism that is unprecedented in national politics. They simply didn’t care what happened. The Government and its supporters seem to gain great pleasure in pointing out the horrors of the present violence conveniently forgetting that this was largely triggered by the decision to unnecessarily impose the 15th amendment. The AL knew what was going to happen but it still did it knowing full well the consequences of its decision.

* * *

As for the BNP, no words are ever going to be strong enough to condemn their condoning, encouraging and fanning violence. Street rumour has it that it’s not the BNP cadres who are doing all the violence but Shibir cadres whose survival is at stake. The BNP as the guardian party of Jamaat-e-Islami has truly benefited from the easing of Jamat back into Bangladeshi politics and apart from the 2001 alliance which brought them electoral victory , they are also benefiting of running a “war” without getting hurt. And the statement of Shamsher Mobin Chowdhury to this effect (For Mobin, this is ‘war’) also shows the mentality of this party. The last time a government went into war with its own people was 1971.

* * *

The Quader Molla show is a signal of how bad things have become and if rumours are right, it’s foreign powers again who are trying to manage the situation. Bangladeshi politicians don’t have the will or the skill to look after its people. One may not like the interference but then wouldn’t you try to rescue a child with mental problems, the equivalent of an autistic state?

And the drama rolls on.

——————————–
Afsan Chowdhury is a journalist, activist and writer

http://opinion.bdnews24.com/2013/12/11/quader-molla-and-the-autistic-s
tate/#sthash.e3eFp37A.J5QMyvDA.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:13 Dec 2013 -- 05:32 PM

'71
When Words Became Weapons

The broadcasts from Shwadhin Bangla Betarkendra of '71, gave the people a sense of what was happening in the battle fields. While the news bulletin helped people to follow the progress of the war on a day-by-day basis, lively patriotic songs and plays instilled a nationalistic spirit in people craving for freedom. Formed on the 26th March, 1971 the Kalurghat radio centre was discarded when it was wiped out by the Pakistan Air Force on March 30. The centre, however, recommenced its second phase of activities from 3 April 1971 at Bagafa (Tripura State) with a short wave transmitter. The centre was later shifted to Shalbagan and Bagafa-Belonia Forest Hills Road, Agartala. The third phase of the centre commenced on the 25th May in a house in Baliganj, Calcutta. At the very critical juncture of our nation, different programmes broadcasting from this legendary radio centre helped to keep the nation's spirit high.

Fayeka Zabeen Siddiqua

It was 1971. Fifteen-year-old Shajeda Ali, sitting with her parents and some of her distant relatives were trying to catch the frequency of a radio station called Shwadhin Bangla BetarKendra on the radio. “During those months, I remember my father used to remain glued to his radio sets, and so did we,” Shajeda Ali recalls her early teen days of wartime.
“I remember him struggling with the knobs on the radio attempting to hear the broadcasts from Shwadhin Bangla Betarkendra, especially the latest war news bulletins and Charampatra, a very popular programme. Azrail a dhaoaise, Kufa lagse, khel shuru hoise- those were some of the catchphrases we used to pick up from Charampatra.”
Like Shajeda Ali and her family, millions of Bangladeshis from all over the country used to be mesmerized with that 8-10 minute monologue of Charampatra, presented by a charismatic and gifted public speaker called M. R. Akhter Mukul.
In a satirical tone he used to mock the Pakistani army while praising the bravery of our freedom fighters. An added attraction was the Mukul’s use of local dialects which made this programme popular among the villagers. Through storytelling, he would narrate the latest war related news or the heroic raid of the troops of liberator bombers over an enemy-held territory. He used to simplify the critical political situation and military tactics for the general people all over the country. Airing almost every day during the war days, those ten minutes of dramatic commentary came to an end on December 16 like this- “aaij sholoi December. Charampatrar shasher din apnago Bandar namta koiya jai. Bandar nam M. R. Akhter Mukul.”
The Kalurghat radio centre was discarded when it was bombed by the Pakistan Air Force on March 30. Photo: Archives
The Kalurghat radio centre was discarded when it was bombed by the Pakistan Air Force on March 30. Photo: Archives
Charampatra was not only an attempt to escalate the combat efficiency of our freedom fighters by boosting up their morale and enthusiasm, but also this programme worked as a tonic for the 65 million Bangladeshi living in a volatile condition. Charampatra also won over 15 million Bangladeshis who had to take refuge in India and also among the Bangla-speaking native Indians.
Similar to Charampatra, other programs like Agnishikha, Pindir Prolap, Darpan, Bajrakantha, Pratidhdhani, Kathgorar Ashami used to be the source of inspiration for the fearless freedom fighters from the battle fields as well as for the nation.
“Jallader Darbar by Kalyan Mitra was another very popular satirical short drama of that time,” says Kamal Lohani, a veteran journalist who played a significant role in organising Shwadhin Bangla Betar Kendra.
Different characters of the play like Badshah Kella Foteh, Durmukh Khan or Nabab used to reflect the war time scenario. For instance, Durmukh Kella Foteh’s character was a parody of PresidentYahya Khan, whose army ruthlessly killed the civilians of the East Bengal.
Sometimes the nation used to tune in to listen to Bajrakantha and Slogans. That segment used to depict portions of Bangabandhu’s speech which bolstered the morale of the nation.
shwadhin banglaAnother popular package was Agnishikha, an assorted programme with a set of sub programmes like Darpan (talk in Bengali), Oikatan (patriotic songs), Recitation, Ranaveri (reports from sectors), Kabikantha(self recited poems) etc.
Wherever our freedom fighters serve during the war, a radio used to accompany them. That was the only means of getting news and entertainment from back home. Therefore inspirational songs were as important as the news bulletin. “The cooperation we got from the Bengali speaking people living in Calcutta was overwhelming,” Lohani reminiscences. “There was a time, when we wanted to give our listeners a break from the old recorded songs, thus we were in need of some new inspirational set of songs. While we were looking for a lyricist, Gobinda Haldar, a low-income fellow living in Calcutta appeared like a saviour with two exercise books loaded with 24 to 30 songs. That is how we got the three revolutionary songs like Mora ekti phool ke bachabo bole judhdho kori shur, Purbo digonte shurjo uthechhe, and Ek shagor rakter binimoye.”
Radios have always served as a great source of power to transmit propaganda among the war-torn countries. Bangladesh could also recognize that radio broadcasting could motivate the freedom loving nations. News circulation was a crucial role of this radio centre.
Kamal Lohani played a significant role in organising Shwadhin Bangla Betar Kendra.
Kamal Lohani played a significant role in organising Shwadhin Bangla Betar Kendra.
Kamal Lohani defines the duty of the shobdo shoinik (the people who fought with words) as multi-faceted. “I was in charge of the news desk, but my work was not confined in news collecting and reading,” he says. “We had to perform work whatever was required to do at that moment. Our workstation in Baliganj circular road, was nothing fancy, rather it was a small stuffy room. The recording studio was not soundproof, so outside noises and disruption were always there. We used to collect news by monitoring Voice of America, BBC, Pakistan radio, Akashbani and thus we used to broadcast 3 news bulletines in Bengali, English and Urdu thrice a day.”
“Each and every day working with Shwadhin Bangla Betar Kendra was historically significant. From the early morning of 16 December as we started to sense victory, we had got the order of playing martial songs and circulating triumphant slogans. I am fortunate enough that I was entitled with the responsibility of writing and reading the news bulletin on our victory. The 1 minute news bulletin had only two sentences in it. The first sentence began with cursing the Pakistani arm forces stating that we won the battle. The following statement was about their surrendering to us. The news bulletin was followed by the victorious song Bijoy nishan urchhe oi, (song written by
Swadhin Bangla Betar Kendra was named Bangladesh Betar on December 6, 1971.
Swadhin Bangla Betar Kendra was named Bangladesh Betar on December 6, 1971.
Shohidul islam and music composed by Shujeyo Shyam),” says the man who gave this historic piece of news to the nation.
Swadhin Bangla Betar Kendra was adorned with a new name Bangladesh Betar as soon as Indian Government gave formal recognition to independent Bangladesh and its provisional government on December 6, 1971. On December 22, 1971 Bangladesh Betar started its new journey in newly born independent Bangladesh and helped to strengthen the spirit of the nation.

http://www.thedailystar.net/beta2/news/when-words-became-weapons/


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:13 Dec 2013 -- 06:31 PM

Published: Friday, December 13, 2013
'71
Newspapers in the Time of War
During the turbulent months of 1971, people from all sections came out with whatever they had to protest against the occupiers. While the Freedom Fighters fought the enemy, the print media tried its best to protest against the atrocities, defying the risk of arrests, bans or worse. At the time journalists and the common people took the responsibility of bringing out these newspapers. Their words became the voice for emancipation, the voice of the people.

Ananta Yusuf
newspaper
‘Shaptahik Bangladesh’ (Weekly Bangladesh).
The Pakistani military regime had taken all means of suppression and made a botched attempt to abort the birth of Bangladesh from the black spring of March 25, 1971. There was constant surveillance and censorship on the press and all publications in general. The Pakistani regime, moreover, started publishing newspapers from March 29 to spread its propaganda.
Despite all the obvious risks, to lift public morale against continuous crackdowns and mass killings, people from all over the country, be it the common people, freedom fighters and intellectuals began publishing daily newspapers and different periodicals.
At the beginning of the war, most of these newspapers were published by those close to the freedom fighters. But because of the non-political stance of these pioneers, they were isolated. In the course of time, these papers disappeared or were absorbed into bigger papers.
During the war from March 25 to 31 the three leading newspapers– Dainik Ittefaq, The people and Sangbad published from Dhaka, were burnt down by the Pakistani army in course of their operation. Hasina Ahmed a veteran researcher and the Associate Editor of “The Journal of Social Studies” believes that there was an urgent need for newspaper publications, and so the common people and freedom fighters took the initiative to set up secret newspaper houses in the country. “1971 Muktijuddher Potropotrika” a research book written by Hasina Ahmed, recounts that with the help of freedom fighters, journalists brought out the latest information about the war and made public unity against Pakistani militants. At the time almost 65 newspapers were published – Most of them were weeklies and a few of them were dailies. Three newspapers had English editions.
In the early sixties, the military government of Ayub Khan enforced a law called the “Press and Publications Ordinance” to keep the newspapers under government’s control. The black law became the biggest weapon for the occupiers during the liberation war. The salient features had been used drastically to control information. Journalists were bound to revise news content by the District magistrate. According to Hasina Ahmed, a military press advice authorized in July reads that the newspapers could not use words like– Bangladesh, ganabahini, muktijoddha/muktifouz and joy Bangla. Instead of muktijoddha/muktifouz the dictator advised to use the word ‘rebel’ or ‘Indian agents’.


The occupiers took over the daily national newspapers but a few were running independently denying the dictator’s censorship. And a few were running from Mujibnagar and different places in India, including Calcutta. Among them the most popular newspapers were – The Daily Ajadi published from Chittagong and considered as one of the first newspapers that appeared just after independence on December 17, Banglar Bani a well written newspaper published from Calcutta, Joy Bangla from Naogaon, Joybangla a mouthpiece of Awami League published from Mujibnagar, Muktijuddho a mouthpiece of the Communist Party Bangladesh, Jagroto Bangla, Shangrami Bangla, Shadhin Bangla, Shonar Bangla, Desh Bangla, Notun Bangla, Shaptahik Bangla, Durjoy Bangla, Mukta Bangla, Biplobi Bangla, Ronagon, Dabanol, Agradut and Janmabhumi.
Most of these newspapers were printed in cyclostyle, a duplicating process of stencil copying with the help of small-toothed wheels on a special paper, which serves as a printing form. Most of the newspapers and periodicals were two to eight pages, printed in a single colour. The content was mostly sketches of war scenarios in Bangladesh depicting the struggle of people and news of victory of the freedom fighters. The newspapers, periodicals and journals, articles, comments and editorials were a huge source of inspiration for the common people.
Ironically, during the war The Daily Sangram, the lone newspaper known as the mouthpiece of Jamaat-e-Islami, carried evidence enough to expose Jamaat’s anti-liberation roles. For that reason Sangram has been used as one of the major sources of evidence against the war criminals. During the war, the paper was used as a tool of black propaganda to break the spirit of the common people who were supporting the freedom fighters. For instance, an issue of the Sangram published on September 15, 1971 quoted Motiur Rahman Nizami, also the then commander-in-chief of Al Badr, as saying: “Every one of us should assume the role of a soldier of an Islamic country. With assistance of the poor and the oppressed, we must kill those who are engaged in the war against Pakistan and Islam.”


The same newspaper on the third page of its September 16, 1971 issue ran another report headlined “No force on earth will be able to destroy Pakistan”. In the news report, Motiur Rahman Nizami called on people to face a conspiracy of the so-called Banga Daradi (Lover of Bengal). Although Sangram got huge financial backup from the military dictator it failed to manufacture a hegemonic consent in the country. Even though the number of readers was very low, from the headline to the editorial, the news format was designed in a way that people regarded it as their hope and source of news of the war. Forty three years has passed away but the heroic efforts of those newspapers continue to inspire the journalists of today’s Bangladesh

http://www.thedailystar.net/beta2/news/newspapers-in-the-time-of-war/


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:13 Dec 2013 -- 06:35 PM

Published: Friday, December 13, 2013
'71
Our Cruel Birth
Md Shahnawaz Khan Chandan

Surrendering the arms: Pakistani troops made their final march on Bangladeshi soil. Photo: Archives
Surrendering the arms: Pakistani troops made their final march on Bangladeshi soil. Photo: Archives
In the cold winter morning of December 16, Dhaka cantonment was hot with rumours. The depressed and desperate Pakistani army officers were confused about their fate. Will the yellows from the north (Chinese army) and the whites (American 7th fleet) from the south arrive to rescue them?
However, a note from Indian Major General Nagra, to Pakistan Army General Amir Abullah Khan Niazi made the situation clear at 10 am. It said, “Dear Abdullah, I am at Mirpur Bridge. Send your representative.” The call had made the confused Pakistan Army top brass, huddled in Dhaka cantonment, to know that their game in Bangladesh was over. It was neither Chinese nor the American Army, but the Indian troops, aided by Mukti Bahini, who were awaiting them just on the outskirts of the city. After several hours of discussion, General Niazi signed the instrument of surrender at the then Dhaka Race Course–now Suhrawardi Uddyan–through a formal military ceremony.
But the war was far from over. Pakistani soldiers in different parts of the country were desperately fighting against the allied forces. As their communication with the HQ in Dhaka was shattered by the guerrilla attack of Mukti Bahini, they did not know about the fateful surrender. Even in some districts, Pakistani soldiers were defending with some formidable confidence. During this period, some atrocities were committed by the retreating Pakistan Army. With the help of the Biharis and local militias, the Pakistan Army started to adopt a ‘scorched earth’ policy destroying food, medical and supply storages in most of the districts. In some areas like Syedpur and Ishwardi, the fighting was so grisly that Pakistani soldiers gave up fighting as late as December 19, three days after the formal surrender. But by this time, a massive destruction of food and logistic supply along with the supply route, meant Bangladesh with her seven crore population was pushed to another disaster– a fatal famine.
Pakistani soldiers captured by Mukti Bahini.
Pakistani soldiers captured by Mukti Bahini.
Pakistani soldiers surrendered and got the protection of the Indian Army according to the Geneva Convention. But their local accomplices did not. Retaliation began just after the war. Mukti Bahini started to hunt down members of the Bengali Razakar forces for their participation in the atrocities committed by Pakistani army. Many Razakars, along with their top leaders, fled to Pakistan and other countries. But Biharis did not lose their ground so easily. Biharis are the Muslims of North Eastern India evicted by the Indians during the Indo-Pakistan war of 1965. They were pushed into the then East Pakistan and the then government allowed them to settle in this land. Culturally and linguistically different from Bengalis and more related to the West Pakistanis, these people collaborated with the Pakistan Army and many of them fought alongside the Pak forces.
After December 16, many of these Bihari settlements were still holding out against the Mukti Bahini. Most of these settlements such as Jalladkhana of Mirpur and Mohammadpur were the centres of torture and mass killing. After the liberation, the newly formed Bangladesh armed forces launched their first operation to liberate these settlements on January 25, 1972. During these operations Bangladeshis witnessed the sign of brutality committed by these Bihari settlers. Thousands of people including many intellectuals were killed in Jalladkhana settlement which was the last to be discovered. Currently these Bihari people, now regarded as stranded Pakistanis, were dumped into makeshift refugee camps where they are leading a miserable life till date.
But the ring leaders of the war criminals were safely deported to West Pakistan. A list of 200 Pakistani officers were made who were directly involved with the crimes committed during the liberation war. But paying no heed to the plea of Bangladeshi victims, they were transferred to their country in exchange of the freedom of Indian prisoners and the stranded Bangladeshi Army officers in West Pakistan. Even most of the local criminals, who were responsible for the killing of intellectuals and are the perpetrators of many such atrocities, could not be held and properly tried. Still the dilemma of trying the war criminals is affecting the stability of our nation.
Bangladesh’s sovereignty seemed meaningless without freeing Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman. Being captured by Pakistan Army he had to spend the entire nine months of the Liberation War in a Pakistani prison. He was given the death sentence by a military tribunal for sedition. In his absence, severe infighting among the political leadership broke out. The leaders who led the nation during the war could do little to save Bangladesh from an impending disaster thanks to the war torn economy and the pressure of a huge mass of refugees and victims. War heroes like Kader Siddiqui declared that he and his 50,000 men would not surrender their arms till Bangabndhu’s return. People with unauthorised guns and ammunition were lurking all over the country. Abuse of law and orders were common. In some places, personality clash between the sector commanders and Indian forces created a distance between them. It went extreme when the Indian Army arrested one of the sector commanders, Major Jalil (Sector 9), for his “misconduct” with the Indian Army. In his memoirs Major Jalil claimed that he had wanted to stop the Indians from plundering and therefore they had captured him and he became the first political prisoner in independent Bangladesh. It clearly shows the level of instability going on in this new nation in the absence of its father.
The historic instrument of surrender preserved in the national museum.
The historic instrument of surrender preserved in the national museum.
When Bangabandhu landed in Bangladesh on January 10, 1972 he was received by ordinary Bangladeshis with the warmest and the most cordial of ceremonies. But such emotional moments soon became memory when the curses of war became evident. Bangabandhu’s tactful diplomatic move resulted in the prompt withdrawal of the Indian troops. Sovereignty was restored but not the destroyed economy and industry. The outcome was severe famine. Mismanagement and greed of the political leaders fuelled the famine to reach its extreme stage. More than a million people died of starvation, malnutrition and disease. Corruption and gluttony of political big shots made people resentful of the ruling party. Bangabandhu’s popularity nosedived. After a glorious victory, a blanket of darkness again covered our nation.
But it was not the end of the story. Overcoming such turmoil and disasters people of this land always have shown their resilience. In the heap of ruins, the future of Bangladesh again got its foothold. Industries reinstalled, economy refurbished and Bangladesh started its journey towards progress. Bangladesh became one of the biggest exporters of RMG and its Army became the icon of peace across the world. Since its cruel birth, Bangladesh has never succumbed to any crisis. Very few nation of the world survived so many disasters just after its beginning as an independent country. From the history of our previous glories we can certainly hope that we shall overcome the ongoing turmoil. But surely the responsibility to find a way is ours.
The writer can be contacted at [email protected]

http://www.thedailystar.net/beta2/news/our-cruel-birth/


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:13 Dec 2013 -- 06:38 PM

Published: Friday, December 13, 2013
'71
What We’ve Lost
Each year we commemorate the Martyred Intellectuals Day on December 14. On the 42nd anniversary of this day, the Star Magazine looks at contributions of some of these remarkable individuals in an attempt to understand how the country would be if they had lived.

Upashana Salam

December 14, 1971. Mere days before our independence, Pakistani troops systematically rounded up, tortured and killed most of the brightest minds in the yet to be free East Pakistan. This final act of atrocity was carried out in the hopes of destroying the future of the country, to maim the nation permanently. Contrary to the Pakistani regime’s expectations, Bangladesh survived this blow, and it continues to survive several other attacks on its existence. But the scars remain and so does the question: Would things be different had we not lost the very people who seeded the idea of nationalism in every Bengali heart?
How aware are we about their respective contributions that made them special targets of the Pakistani regime? Each of the martyred intellectuals was instrumental in the fight for liberation. However, not many of us are aware that each one of them was remarkably talented in their own fields. It wasn’t chance that brought them to the attention of the Pakistani dictators; they were chosen because they were the cream of the crop, representing the educated, cultured, erudite section of a subjugated population.
Munier Chowdhury, for instance, is mostly remembered as one of the most outspoken critics of the Pakistani regime, but not many people know that Chowdhury redesigned and modernised the keyboard of the Bangla typewriter in collaboration with Remington typewriters of the then East Germany in 1965. Over the years, his creation, the ‘Munier Optima’ keyboard, paved the way for further steps in improving the Bangla keyboard.
Always a revolutionary, Chowdhury was jailed for two years for his involvement in the Language Movement in 1952. Interestingly, even though he was allowed to continue his education at Dhaka University, Chowdhury was expelled from Salimullah Hall, his residential dorm, because of his involvement in leftist politics. This led to a new era in Chowdhury’s life, as he explored his literary talents, initially by writing plays for the Dhaka Radio to pay for his education, and later by penning some of the most influential plays in the country’s history. Munier Chowdhury is deservedly called the father of modern drama in Bangladesh. His play Kobor was performed by prisoners during his spell in jail to commemorate the first anniversary of the Language Movement on February 21. He continued to write even after being freed from prison, some of his most notable works being Roktakto Prantor, Chithi and Polashi Barrack O Onyanno.
stamp
“I became a novelist because Ayub Khan sent me to jail.” Another martyred intellectual Shahidullah Kaiser famously said this when asked about his career as a writer. Kaiser started his career as a journalist, joining the daily Ittefaq in the 1949, before playing an important role in the Language Movement. Like many others, Kaiser too was imprisoned by the Pakistani regime for his role in the language movement and in the next 10 years, he spent a total of eight years in prison. As Kaiser himself stated, his writing career truly began behind the bars, as it is there that he penned a number of remarkable plays, short stories and novels. His novel Sangsaptak is considered to be one of the most significant fictions of Bangladesh’s literary canon. Almost all his works including Sareng Bou, Rajbondi’r Rojnamcha, Timir Belay, Naam Nei and Jadu-i Halwa were written in confinement. The only book that he wrote after being freed from prison was the unfinished novel Kobey Pohabe Bibhabori, which was an account of the horrors inflicted by Pakistani forces. He would write it during the night and bury the copies in the courtyard of his residence before dawn broke, digging it out again when night fell. Unfortunately, he was killed before finishing the four-part novel.


On February 23, 1948, Dhirendranath Datta, another martyr of ’71, made a compelling speech calling for Bengali to be made into one of the official languages of Pakistan at the Pakistan Constituent Assembly in Karachi. It was the first formal call for Bengali to be made into a state language and this demand led to the Language Movement of 1952. Datta’s demand was met with derision from the Pakistan government, and he was targeted as a threat to the regime. Datta, a lawyer by profession, was a lone ranger, whose plea was not supported by the majority of Bengali leaders at that time but he could foresee that the future of the Bengali people would remain uncertain and under the regime’s control until there was a demand for their language to be officially acknowledged was met.
The country has all but forgotten the contributions of Dr Mohammad Fazle Rabbee. A renowned cardiologist and medical researcher, Rabbee could have spent his life in comfort and luxury but he decided to forgo more fruitful opportunities by working for his people, trying to secure free medical benefits for all and always walking on the path of humanity. As a student of Dhaka Medical College, Rabbee completed his MBBS in 1955, receiving a gold medal for achieving the highest grades in all of Pakistan. He became the Registrar of Medicine at the ‘ripe old’ age of 27 and earned a couple of MRCP degrees in cardiology and internal medicine within two years. After completing his graduation, Rabbee worked at the Hammersmith Hospital and the Middlesex Hospital in London but left his flourishing career in favour of his country to which he returned in 1963. After returning home, Rabbee was more involved in promoting the idea of good medical care for free but instead of being lauded, he was imprisoned by the Pakistani army for his ‘provocative speeches.’ Rabbee didn’t just limit his ideals to words, he acted on them. During the liberation war, Rabbee provided medical care, monetary support and shelter to freedom fighters and survivors of the war. His confidence in his cause can be best exemplified by his refusal to accept the Best Professor Award from the Pakistani government in protest of their treatment to East Pakistan and its people.
Apart from being a doctor, Rabbee was well known and respected for his research works, namely The Tropical Pulmonary Eosinophilia and A Case of Congenital Hyperbilirubinaemia. His works were published in the British Medical Journal and The Lancet, one of the world’s oldest general medical journals.


Even musicians were not spared in the Pakistani regime’s targeted hunting of the country’s intellectuals. Altaf Mahmud always attempted to reveal the atrocities of a violent administration through his tunes. Apart from being an active freedom fighter, Mahmud was also a gifted music composer. He was even invited to participate at the Vienna Peace Conference in 1956 but was unable to attend as his passport was confiscated by the Pakistani government. It was not just Mahmud’s outspoken nature but also his inarguable talent that frightened an entire regime. How could they dare to underestimate a man who had the ability to move an entire nation to action just with a single song? Even today Mahmud’s eternal composition Amar Bhaiyer Rokte Ragano has the ability to take us back to a struggle that brought us our much loved freedom. Apart from the revolutionary Jibon Theke Neya, Mahmud, a protégée of the music legend Ustad Abdul Kader Khan, composed music for 19 films, including Kaar Bou, Satyer Joy and Ami Manusher Bhai Spartacus.
Professor Govinda Chandra Dev was the living embodiment of philosopher Paul Kurtz’s statement that philosopher should just make obscure references to the works of other philosophers but “descend into the concrete world of human practice and belief, sweat and toil like the rest of humanity.” He believed that philosophy should have a connection with reality instead of dwelling in abstractions. Despite an impoverished childhood spent in loving care of Christian missionaries, Dev proved his mettle when he earned the top position in his masters degree in philosophy from Calcutta University. He introduced the idea of synthetic philosophy, which stated that it was possible to believe in the ultimate perfection of humanity on the basis of advanced scientific conceptions, in the subcontinent, focusing on its practical application. Dev’s popularity transcended borders; he taught at the Wilkes-Barre College in Pennsylvania in USA as a visiting professor and his popularity became such that some of his students founded the Govinda Dev Foundation for World Brotherhood for promoting his philosophy of humanism. Some of his notable books include, Amar Jibandarshan, The Philosophy of Vivekananda and the Future of Man and Buddha: The Humanist.’ “Peace is indivisible,” he had once said and these words could not have more value than in today’s world of illogical wars and individual national interests.
We Can’t Forget You
According to the Bangladeshi encyclopedia, Banglapedia, around 991 academics, 13 journalists, 49 physicians, 42 lawyers and 16 other people from various cultural and intellectual sections of the country were savagely killed in the 1971 carnage of the intellectuals. We can’t ignore the contributions of other martyred intellectuals, be it Jyotirmoy Guhathakurta, Ghiasuddin Ahmed, Anwar Pasha and Dr Serajul Haque Khan, Humayun Kabir, Jogesh Chandra Ghose or numerous others who impacted the birth of a nation and could have contributed to the development of Bangladesh had they lived.Unfortunately, due to a lack of space we could not list out the significant contributions each of them made in their respective fields. These people were not mere intellectuals, they were the backbone of our country. They were the brilliant minds who conceived of an independent nation, fought for it but could not live to see their country freed from the clutches of an oppressive regime. Here’s to the visionaries who dreamt and struggled for a free country. We owe you our respect, our reverence and our freedom.

http://www.thedailystar.net/beta2/news/what-weve-lost/


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:13 Dec 2013 -- 06:48 PM

বীরঙ্গনার বিপর্যয়গাথা
দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ভিজিডি কার্ড মেলেনি
খুকি বেগম

আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম
_______________________________
একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে আটক ছিলেন ছয় দিন। বর্বর হানাদাররা দিন-রাত নির্যাতন করেছে তাঁকে। সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। নিজেকে আর সামলাতে পারেন না বীরাঙ্গনা খুকি বেগম। বলেন, ‘বাহে, সেই নির্যাতনের কথা মনে হইলে দরিয়া ভাঙি যায়। মনে হয় এমন অপমানের চাইতে মরণ ভাল ছিল।’ মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় ৪৩ বছর। কিন্তু খুকি বেগমের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেও আজ পেটে ভাত নেই তাঁর। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে ঝুপড়ি ঘর তুলে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে যাপন করছেন অতি দুঃখের এক জীবন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কালে গ্রামের বাসিন্দা খুকি বেগম। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ের একদিন সকালে খবর ছড়িয়ে পড়ে, গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনী ঢুকে পড়েছে। গ্রামের সবাই যে যেদিকে পারে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছিল। খুকি বেগমও সাত মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে তাদের সঙ্গে ছুটতে থাকেন। কিন্তু সন্তান কোলে থাকায় বেশি দূর যেতে পারেননি। রাস্তায় ধরা পড়ে যান নরপশুদের হাতে। এরপর কোলের শিশুটিকে আছড়ে ফেলে দিয়ে খুকি বেগমকে চার-পাঁচজন পাকিস্তানি সেনা হাত ও চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যায় তিন কিলোমিটার দূরে ছোটপুলের পাড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে। সেখানে চোখের বাঁধন খুলে দিলে দেখতে পান, আরো ১২-১৩ জন অপরিচিত নারীকে ধরে আনা হয়েছে। খুকি বেগম বলেন, ‘বাঘের হাতোত পড়ি টুকি শুকি গেইছে। পানি খাবার চাইলেও পানি দেয় নাই। দিনে রাইতে ওমরা কতজন যে নির্যাতন করছে, কবার পাবার নং।’ এ কথা বলে নিজেকে আর সংযত রাখতে পারেন না ষাটোর্ধ্ব এই বীরাঙ্গনা। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এইগা কথা শুনি কী করবেন? কত আর কমো! তোমরা আর হামাক কষ্ট দেন না।’
খুকি জানান, ছয় দিন ধরে ক্যাম্পে আটক রেখে তাঁর ওপর বর্বরতা চালানো হয়। সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী আছদ্দি মিয়া গ্রামের কয়েকজন রাজাকারের হাতে-পায়ে ধরে তাঁকে ক্যাম্প থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। অসুস্থ অবস্থায় খুকি বেগম ছাড়া পেয়ে ফিরে আসেন সংসারে। কিন্তু নানা জনের নানা কথায় স্বামী তাঁকে নিয়ে আর সংসার করতে রাজি হন না। খুকি বেগম তখন স্বামীর পা ধরে বলেন, ‘জীবন বাঁচপার জন্যি পালবার ধরছি। তাতে ওমরা ধরি নিয়া গেইছে। মুই কোনো অপরাধ করং নাই। তোমরা মোক মাফ করি দেও।’ তাঁর কান্নাকাটিতে স্বামীর মন গলে।
এরপর শুরু হয় তাঁদের দ্বিতীয় জীবন। খুকি বেগমের তিন সন্তান। পাকিস্তানি বাহিনী তাঁর যে কন্যাসন্তানটিকে ছুড়ে ফেলে তাঁকে ক্যাম্পে নিয়ে যায়, সেই মেয়ে এখন গার্মেন্টে কাজ করেন। আর ছেলে বিয়ে করে চলে গেছেন শ্বশুরবাড়ি টাপুরচরে। আরেক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই না থাকায় কুড়িগ্রাম শহরের ত্রিমোহনীতে আরকে রোডের পাশে সরকারি জমিতে ভাঙা ছাপরায় চলছে খুকি বেগমের কষ্টের দিন। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবন চলে। স্বামী কাজ করতে পারেন না, তাই কষ্টের বোঝাটা আরো ভারী। আজকাল কোমর আর তলপেটের ব্যথাসহ নানা অসুখ-বিসুখে নাকাল হলেও অর্থকষ্টে চিকিৎসা নিতে পারেন না এই বীরাঙ্গনা। আর কাজ করতে না পারলে স্বামীকে নিয়ে অনাহারেই থাকেন। ঘরের ভাঙা বেড়া দিয়ে শীতের রাতে হু হু করে ঠাণ্ডা বাতাস আসে। ছেলেমেয়েরা পাশে না থাকায় সাহায্য করারও কেউ নেই।
খুকি বেগম জানান, একটি ভিজিডি কার্ডের জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কোনো লাভ হয়নি। স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সলিডারিটির পক্ষ থেকে গত বছর একটি কম্বল পেয়েছিলেন। বলার মতো সহায়তা অতটুকুই।
খুকি বেগমের গ্রামের বাসিন্দা কুড়িগ্রামে বিজয়ের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীরপ্রতীক আব্দুল হাইয়ের সহযোগিতায় খুকি বেগমসহ ১৬ জন বীরাঙ্গনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন দুই বছর আগে। কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন। অন্যরা এখনো চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছেন। তাঁদের অনেকেরই কোনো নিজস্ব জমি নেই। সন্তানরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জীবনের ভার বহন করার মতো শক্তি নেই তাঁদের।
বীরপ্রতীক আব্দুল হাই বলেন, কাছাকাছি স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর দীর্ঘকালীন ক্যাম্প থাকায় তাঁদের গ্রামে বেশ কিছু রাজাকার ও দালাল হানাদারদের সহায়তা করে। তারা গ্রামের মেয়ে ও গৃহবধূদের ধরে ধরে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দেয়। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, সেই সব রাজাকারের অনেকেই আজও বেঁচে থাকলেও তাদের বিচার হয়নি। বীরাঙ্গনাদের ত্যাগে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেও তাঁদের কোনো মূল্যায়ন করেনি রাষ্ট্র। এই কষ্ট নিয়েই বীরাঙ্গনারা বেঁচে আছেন।
বেসরকারি সংস্থা সলিডারিটির প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবীর সূর্য্য বলেন, ‘বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া না হলে অভাব-অনটনে তাঁরা সমাজে অপাঙ্‌ক্তেয় হয়ে যে জীবন যাপন করছেন, এর অবসান হবে না। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি সহায়তা থাকলেও আমার জানা মতে বীরাঙ্গনাদের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। তবে স্থানীয়ভাবে কোনো সহায়তার সুযোগ থাকলে আমরা তা করব।’



http://www.kalerkantho.com/online/biranganar-biporjoygatha/2013/12/12/
29822#sthash.5NnGdfmT.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:13 Dec 2013 -- 06:49 PM

বীরঙ্গনার বিপর্যয়গাথা
মা, আমি কিছু পামু তো?
লক্ষ্মী রানী রায়

শিরিনা আফরোজ, পিরোজপুর
_________________________________
‘বাবা, মা, ছোট বোনের সঙ্গে জঙ্গলের মধ্যে পালাইয়া ছিলাম। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালাইয়া দিয়াও জানোয়ারগুলা ক্ষান্ত হয় নাই। জঙ্গলের মধ্যেও হানা দিছিলো। রাজাকারগো লগে লইয়া প্রথমে ওরা বাবা-মায়েরে দড়ি দিয়া বাইন্দা ফেলে।
তাগো চোখের সামনেই আমার ওপর নির্যাতন চালায়। তারপর অস্ত্র দেখাইয়া তুইল্লা নিয়া যায় মিলিটারি ক্যাম্পে। সারা রাত রাজাকার আর পাকিস্তানি মিলিটারিরা আমার ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। আমি অজ্ঞান হইয়া যাই। আমি মরছি ভাইব্বা চেনাহুনা দুই রাজাকার আমারে ধান ক্ষ্যাতে ফালাইয়া যায়। আশপাশের লোকেরা ক্ষতবিক্ষত দেহডারে বাবার কাছে পৌঁছাইয়া দিয়া যায়। কিন্তু আমি মরি নাই। কিন্তু দ্যাশ স্বাধীন হওনের পর স্বামী আমারে ঘরে না তুইল্লা নতুন কইরা বিয়া করে। আশপাশের লোকজন আমারে ঘেন্না করে। কিছুদিন পর বাবাও মারা যায়। এরপর থাইকা ছোট ভাইয়ের আশ্রয়ে আছি। ঘৃণা ছাড়া কেউ কিছু দেয় নাই। এর চাইতে মরণও ভালো ছিলো’- এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার শাখারীকাঠি গ্রামের বীরাঙ্গনা লক্ষ্মী রানী রায়।
১৯৬৯ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে লক্ষ্মীর বিয়ে হয় পাশের গাবতলা গ্রামের লালু মণ্ডলের সঙ্গে। স্বামীর ঘরে সুখ, সচ্ছলতা দুই-ই ছিল। কিন্তু একাত্তরের যুদ্ধ তাঁর জীবন থেকে সবটাই কেড়ে নেয়। লক্ষ্মী রানী কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁকে বাঁচানোর জন্যই স্বামী বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘তুমি দেখতে সুন্দর। হায়নারা তোমার ক্ষতি করবে।’ কিন্তু সে ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেলেন না লক্ষ্মী।
জানা যায়, একাত্তরের ৩ নভেম্বর নাজিরপুরের শাখারীকাঠি গ্রামে রাজাকারদের সহায়তায় প্রবেশ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। গ্রামজুড়ে চালায় ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যা, নির্যাতন। হানাদারদের হিংস্র থাবায় ক্ষতবিক্ষত হন লক্ষ্মী রানী।
সম্ভ্রম হারানোর পর স্বামীর ঘরে ঠাঁই না পেয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন লক্ষ্মী। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর ছোট ভাইয়ের কাছে একটি ছোট্ট খুপরি ঘরে দিন কাটছে তাঁর।
লক্ষ্মীর ছোট ভাই কুমোদ রায় বলেন, ‘আমি সামান্য দিনমজুর। নিজের সংসার আছে। বোনটাকে সবাই ঘৃণার চোখে দেখে। রক্তের বোন, আমি তো আর ফেলতে পারি না। নিজের ইচ্ছায় সে তো কোনো পাপ করেনি। তাই যা জোটে, একসঙ্গে খাই।’
স্থানীয় পরশমণি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলু মিত্র বলেন, এলাকার সবাই জানে লক্ষ্মী রানী বীরাঙ্গনা। স্বাধীনতার ৪২ বছর পার হলো কিন্তু লক্ষ্মী রানীকে সমাজের ঘৃণা ছাড়া আর কিছু পেতে দেখলাম না।
স্থানীয় সংবাদকর্মী আকরাম আলী ডাকুয়া বলেন, প্রতিবছর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে পুরস্কার-সম্মাননাটুকু থাকে, তা-ও কোনোদিন পাননি লক্ষ্মী রানী। এই বীরাঙ্গনা এখন মারাÍক অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসা দরকার। কিন্তু দুবেলা যার খাবারই জোটে না, তিনি চিকিৎসা পাবেন কোথায়?
লক্ষ্মীর চোখের জল তখনো মাটিতে গড়িয়ে পড়ছিল। দুর্বল শরীর। সোজা হয়ে থাকতে পারেন না। মাথাটা দুলতে থাকে। চোখে হতাশার চিহ্ন। পড়ন্ত বিকেলে সাংবাদিকের উপস্থিতি হয়তো একটু আশার আলো জাগিয়েছিল। বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে। একটু পরেই সূর্যটা ডুবে যাবে, আর লক্ষ্মীর জীবনে নেমে আসবে সেই চিরচেনা অন্ধকার।
বিদায় নিয়ে আসার সময় লক্ষ্মী রানীর প্রতিক্রিয়া দেখে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। প্রায় অচল এই বীরাঙ্গনা উঠে দাঁড়ান। টলমল পায়ে হাঁটা ধরেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। অসুস্থ শরীর নিয়ে মাইলখানেক পথ হাঁটেন আর বলে চলেন তাঁর যত কষ্টের কথা। ঘুরেফিরে একটা কথাতেই জোর দিচ্ছিলেন তিনি। বলছিলেন, ‘মা, আমি কিছু পামু তো?’
বীরাঙ্গনার এই ব্যাকুল প্রশ্নের কী জবাব থাকে সামান্য সাংবাদিকের কাছে? তাই চোখের জলে ভেসে জবাব খুঁজতে যাই পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌতম নারায়ণ রায় চৌধুরীর কাছে। তিনিও বলেন, ‘লক্ষ্মীর দুরবস্থার কথা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। একজন নারী জীবনের সঙ্গে কতটা লড়তে পারে, লক্ষ্মী তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আমি জানি, সরকারি কোনো সহযোগিতা তিনি পাননি। সহযোগিতা করার মতো কোনো আত্মীয়স্বজনও তাঁর নেই। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বামীর ঘরছাড়া হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে কাজ করে পেট চালিয়েছেন। এখন যে কী অবস্থা, তা তো আপনারাই দেখে এসেছেন। সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করব, আমাদের এই বীরাঙ্গনা মায়েদের জন্য যেন কিছু করা হয়।’
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমি আপনার মাধ্যমেই জানলাম লক্ষ্মী রানী নামে একজন বীরাঙ্গনা আছেন এখানে। আমি জেলা পরিষদের মাধ্যমে তাঁকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।’



http://www.kalerkantho.com/online/biranganar-biporjoygatha/2013/12/13/
30210#sthash.1nwNtHg5.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.56 (*)          Date:14 Dec 2013 -- 11:05 AM

গণজাগরণ মঞ্চে বক্তারা
দায় শোধের প্রক্রিয়া শুরু, জামায়াতকেও নিষিদ্ধ করতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক

'কোনো আপস নয়, এভাবে আসে জয়, শুধু রুখে দাঁড়াতে হবে' স্লোগানের মধ্য দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চ গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে সমাবেশ করল। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরদিন আয়োজিত এ সমাবেশ থেকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার জোর দাবি তোলা হয়। সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হলো। বাংলাদেশের গর্বের আরেকটি নতুন বিষয় জন্ম নিল। এর মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি দায় শোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কার্যকরী সভাপতি শাহরিয়ার কবির, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এস এম শুভ, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি প্রবীর সাহা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (জাসদ) সভাপতি শামসুল ইসলাম, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামিক জোটের সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম কমান্ডের সভাপতি ইসহাক খান প্রমুখ। সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি তুলে ডা. ইমরান বলেন, জামায়াত শুধু যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠনই নয়, এটি একটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী সংগঠন। বাংলাদেশে তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে প্রমাণ হয়েছে তারা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকারের দোদুল্যমানতা গ্রহণযোগ্য নয়। কাদের মোল্লার ফাঁসির পর দেশের সাধারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ স্বস্তি ধরে রাখার জন্য অবিলম্বে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

এ বছর ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করা হবে উল্লেখ করে ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, 'আমরা ১৬ ডিসেম্বর দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছি; যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে দেশে-বিদেশে অবস্থিত সকল বাংলাদেশির একযোগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার কর্মসূচি। আমরা এ কর্মসূচিতে দেশ ও বিদেশের সকল বাংলাদেশিকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।' জামায়াত-শিবিরকে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, তারা দেশজুড়ে নাশকতা চালিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার ছক বুনেছে। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মানুষ খুন করছে। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি তুলে লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, জামায়াত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যুদ্ধের জবাব যুদ্ধেই দিতে হবে। প্রয়োজনে দেশের শান্তি রক্ষায় সেনাবাহিনীকে জামায়াতি সন্ত্রাস দমনে মাঠে নামাতে হবে। জামায়াতকে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কেউ দেয়নি। অবিলম্বে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় ডা. ইমরান বলেন, 'এ রায় কার্যকর করতে গিয়ে সরকারকে প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করেছিল। সরকার সকল চাপ উপেক্ষা করে কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার ফাঁসি দিয়েছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জাতিগতভাবে এ অর্জন বিরাট, কিন্তু আমাদেরকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ এবং চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে বিজয় আমাদের হবেই।' গণহত্যাকারীদের সাজা সম্পর্কে শাহরিয়ার কবির বলেন, মৃত্যুদণ্ড গণহত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা নয়, বরং সর্বনিম্ন সাজা হওয়া উচিত। পৃথিবী থেকে গণহত্যার মতো নৃশংস অপরাধ নির্মূল করতে চাইলে এটি জরুরি।

শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, জামায়াত-শিবির দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। তরুণ সমাজকে এ অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, 'কাদের মোল্লার ফাঁসির মধ্য দিয়ে যে বিজয় অর্জিত হলো, তার কৃতিত্ব দেশের তরুণসমাজের। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।'

খুশী কবির বলেন, 'কাদের মোল্লার ফাঁসির মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রথম অধ্যায় শুরু হলো। যতক্ষণ না সব যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।'

বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, 'রাজাকারকুল শিরোমণি গোলাম আযমকে বয়স বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। গোলাম অযম যখন একাত্তরে নিরীহ বাঙালিদের ওপর নৃশংস তাণ্ডব চালিয়েছে, তখন কারো বয়স বিবেচনায় নেয়নি। তার বিচারের ক্ষেত্রে বয়স বিবেচনার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না।'

: http://www.kalerkantho.com/print-edition/last-page/2013/12/14/30571#st
hash.nnW7OroR.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.56 (*)          Date:14 Dec 2013 -- 11:08 AM

কাদের মোল্লার ‘শেষ’ কথা
কামাল হোসেন তালুকদার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2013-12-13 18:51:24.0 BdST Updated: 2013-12-13 22:41:47.0 BdST

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে গিয়ে নিজ দেশের মানুষকে হত্যা, নির্যাতনের পর স্বাধীন দেশে পাঁচ বছরের মতো রাজনীতির মাঠে দেখা না গেলেও সেনাশাসকদের ছত্রচ্ছায়ায় আবারো রাজনীতিতে আসেন এই কাদের। এক সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেই কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে কৌতুহলও একটু বেশিই দেখা যায়।

একাত্তরে নৃশংসতার জন্য মিরপুরের কসাই নামে কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর এই সদস্যকে বৃহস্পতিবার রাতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইজি (প্রিজন) মাইন উদ্দিন খন্দকার।

শুক্রবার এক আলাপচারিতায় এই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের শেষ মুহূর্তের কিছু বর্ণনা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে তুলে ধরেন তিনি।

এই কর্মকর্তা বলেন, কাদের মোল্লার কনডেম সেল থেকে ফাঁসি মঞ্চের দূরত্ব পাঁচশ’ মিটারের মতো। তার দুই হাত পিছনে নিয়ে হাতকড়া পরানোর পর দুই জন জল্লাদ দুদিকে ধরে এবং প্রধান জল্লাদ শাহজাহান পিছন পিছন হেঁটে তাকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে আসেন।

“মঞ্চে আনতে পাঁচ থেকে ছয় মিনিট সময় লাগে। ঠিক ঘড়ির কাঁটায় যখন ১০টা বাজে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির মঞ্চে উঠানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে যম টুপি পরানো হয়।

“ফাঁসির মঞ্চে উঠার পর তিনি বলেন, জেল সুপার আমার একটা বক্তব্য আছে। কিন্তু ততোক্ষণেই সময় হয়ে যায়, ‘২২০১’ অর্থাৎ নির্ধারিত সময় রাত ১০টা ১ মিনিট।”

মাইন উদ্দিন জানান, কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চে আসা পর্যন্ত পুরো পথ হেঁটে আসতে কোন ধরনের পিছু টান দেননি কাদের মোল্লা।

তাকে রাত ১০টা ১৬ মিনিটে ফাঁসির দড়ি থেকে নামানো হয়। পরে সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা তার ময়নাতদন্ত করেন।

আধা-ঘণ্টা পর অর্থাৎ রাত পৌনে ১১টার দিকে কাদের মোল্লার মৃতদেহ কালো রঙের একটি অ্যাম্বুলেন্সে বের করা হয়।

এভাবেই দীর্ঘ ৪২ বছর অপেক্ষা শেষে বিচারের পর সাজা কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার জন্য প্রথম কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

দুই দিন আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়েও আদালতের এক আদেশে তা আটকে যাওয়ার পর জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন কাদের মোল্লাকে না ঝোলানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদন খারিজের পর আগাম কোনো ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে না এলেও কারাগারের বাইরে প্রস্তুতি দেখে ইঙ্গিত মেলে, ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ৬৫ বছর বয়সী এই জামায়াত নেতার সঙ্গে দেখা করে আসার পর কারাগারে মৌলভী, সিভিল সার্জন, ঢাকার জেলারের প্রবেশ এবং বাইরে নিরাপত্তা বেষ্টনী গত মঙ্গলবারের আবহ তৈরি করে, যেদিন সব সব প্রস্তুতি নিয়েও দণ্ড কার্যকর শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।

http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article714207.bdnews



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.56 (*)          Date:14 Dec 2013 -- 11:31 AM

আনন্দ-বেদনায় স্মরণ শ্রেষ্ঠ সন্তানদের
শহীদুল ইসলাম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

“আজ কি বাতাসে অক্সিজেন একটু বেশি? বুকের ভেতরে এত হালকা লাগছে কেন?”

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রাক্কালে নিজেকে এই প্রশ্ন একাত্তরে শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত চৌধুরীর।

একাত্তরে নির্মমতার জন্য প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দিনের মধ্যে শনিবার দিনটি পালনের আগে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্যদের অনুভূতি এই রকমই।

শ্রদ্ধার ফুলের সঙ্গে বিচারের দাবি নিয়ে তাদের মতোই গত চার দশক ধরে যে দিনটি পালন করছিল জাতি, এবার দিনটি ভিন্ন এক মাত্রা নিয়ে এসেছে।

যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর নিজের প্রশ্নের উত্তরে নিজেই লিখেছেন নুজহাত- “মা, এবার শান্তিতে ঘুমাও, আমি কাঁদি। কাঁদি তোমার জন্য, কাঁদি আমার জন্য, এ অভাগা দেশের জন্য, এ বীর জাতির জন্য, এই দায়মুক্তির সুযোগের জন্য।

“তারুণ্য আজ উল্লাস করছে, এটা তাদের বিজয়। এ বিজয়ের উল্লাসে আমিও উল্লসিত। আমিও হাসছি, অথচ দুচোখ দিয়ে দরদর করে অশ্রু ঝরে পড়ছে। অনন্য এক অনুভূতি।”

“৭১-এর বিজয়ের অনুভূতি এমনই ছিল, যখন ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয় লাভ করল ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে, ৪ লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে। আনন্দ-বেদনার এ কী অপূর্ব মিলন!”

স্বাধীনতার উষালগ্নে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের যে দোসরদের সহায়তায় দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছিল, তার মধ্যেই একজন ছিল জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা; একাত্তরে যার কুখ্যাতি ছিল ‘কসাই কাদের’ নামে।

এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনের পাশাপাশি সব মানুষের স্মরণের মধ্য দিয়ে ভোর থেকেই চলছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা; যা ছাপিয়ে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সমবেত মানুষের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে জয়ের তৃপ্তি, যা চার দশক ধরে মলিন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের আস্ফালন আর তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকার উড্ডয়ন দেখে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রায় চার দশক পর নেয়া উদ্যোগে এই বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে শেষ করার অঙ্গীকার করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “জাতির কলঙ্ক মোচনের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে।

“শেখ হাসিনা যে কথা দেন, তা শেষ করেন। এটা জাস্ট প্রথম। হোপফুলি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাকি বিচারও হবে এবং বিচারের রায় কার্কর হবে। যারা দেশের বাইরে রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।”

এর আগে সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭টা ৫ মিনিটে তারা যখন ফুল দেন শহীদ বেদীতে, তখন শহীদ স্মরণে বিউগলে বাজছিল করুণ সুর।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ফুল দেন শহীদ বেদীতে।

এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আবার ফুল দেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর স্মৃতিসৌধ সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেয়া হয়, নামে জনতার ঢল। এর মধ্যেই সোয়া ৯টার দিকে শ্রদ্ধা জানান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বেদীতে দিয়ে যাচ্ছে শ্রদ্ধা আর ভালবাসার ফুল।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে হত্যা করে। এই হত্যাকণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সদস্যরা।

পরে শরীরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্নসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায়। পরে তা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি তাদের রক্ষাকর্তা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের কথাও বলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বাণীতে তিনি বলেন, “এই কুখ্যাত মানবতাবিরোধীদের যারা রক্ষার চেষ্টা করছে, তাদেরও একদিন বিচার হবে। এসব রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মা শান্তি পাবে। দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে।”

বলা হয়, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী দেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে, যার উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত করা।
“ওরা ভেবেছিল, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করলেই এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে এবং উন্নয়ন অগ্রগতি রুদ্ধ করে দেয়া যাবে। কিন্তু তাদের সে লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে,” শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের বাণীতে বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article714418.bdnews


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.56 (*)          Date:14 Dec 2013 -- 11:34 AM

বিশ্ব গণমাধ্যমে কাদের মোল্লার ফাঁসির খবর
ফয়সাল আতিক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2013-12-13 22:16:02.0 BdST Updated: 2013-12-13 23:29:04.0 BdST


যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়া, বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে কোনো কোনো প্রতিবেদনে।

বিবিসি ও রয়টার্সসহ অনেক গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মূল প্রতিবেদন করে রাখে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার ফাঁসির খবরটি।

মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সব প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ মুহূর্তে আসামিপক্ষের এক আবেদনে চেম্বার বিচারপতির আদেশে তা পিছিয়ে যাওয়া এবং সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্থান পায় এসব প্রতিবেদনে।

কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরা, ভারতের এনডিটিভি ও পাকিস্তানের দৈনিক ডনের অনলাইন সংস্করণে সর্বাধিকপঠিত খবরের শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়মুক্তির এই খবরটি।

প্রায় সবকটি প্রতিবেদনে কাদের মোল্লার রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মিরপুরে গণহত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতাকামীদের গণহত্যায় তার ইন্ধন দেয়ার বিষয়টিও উঠে আসে।

বিবিসি

বিবিসি তাদের শিরোনাম করে ‘যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি (বাংলাদেশ ইসলামিস্ট আব্দুল কাদের মোল্লা হ্যাংগড ফর ওয়ার ক্রাইমস)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুরে কাদের মোল্লার নৃশংসতার দায়ে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন তাকে ‘মিরপুরের কসাই’ নামে পরিচয় দেয়।

তবে আদালতের কাছে তার বিরুদ্ধে আনা সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক সময় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ১মিনিট ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ আগে মোল্লার সঙ্গে দেখা করে এসে তার স্বজনরা জানান, তাকে দেখে বেশ শান্তই মনে হয়েছে।

কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিলের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ইসলামী আন্দোলন করার জন্যই তার বাবাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে। আর সেজন্য তিনি (মোল্লা) গর্বিত বলে তাদেরকে জানিয়েছেন।

কাদের মোল্লার দল জামায়াতে ইসলামী ফাঁসির প্রতিশোধ নেয়ার হুঁমকি দিয়েছে এবং এর প্রতিবাদে রোববার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে।

ফাঁসির খবরে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে বলে বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে জামায়াত নেতাদের সমালোচনাও উঠে আসে।

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রশ্ন তোলার বিষয়টিও সংবাদের শেষাংশে উল্লেখ করে বিবিসি।

রয়টার্স

কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে নিজস্ব প্রতিবেদকদের পাঠানো পর পর দুটি খবর ছাপে রয়টার্স।

‘বাংলাদেশে ইসলামী নেতার ফাঁসি, রাজপথে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে

বলা হয়, নির্বাচন নিয়ে এক মাসের বেশি সময় রাজপথে সহিংসতার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় করা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

বিচার ও রায় নিয়ে নাটকীয় এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর তাকে ফাঁসি দেয়া হয়।

রায়ের পর বিভিন্ন স্থানে কাদের মোল্লার সমর্থকদের সহিংসতা এবং রাজধানীতে তার ফাঁসি প্রত্যাশীদের উল্লাসের কথা তুলে ধরে রয়টার্সের খবরে বলা হয়-মোল্লার বিচারের মধ্য দিয়ে ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়নশীল দেশটিতে কিছুটা বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে কাদের মোল্লার ফাঁসির পক্ষে বিপুল জনসমর্থন থাকার কথাটি উল্লেখ করা করা হয়।

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দল, জামায়াতে ইসলামী এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রশ্ন তোলার বিষয়টিও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে।

সিএনএন

সিএনএন তাদের শিরোনাম করেছে ‘জাতিসংঘের বারণ সত্ত্বেও বাংলাদেশে ইসলামপন্থী নেতার ফাঁসি’।

প্রতিবেদক তানিয়া রশীদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, ফাঁসি না দিতে জাতিসংঘের অনুরোধ সত্ত্বেও বাংলাদেশে এক ইসলামী নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

প্রতিবেদনে রায় কার্যকরের পর বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে জামায়াত সহিংস বিক্ষোভ দেখাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।

আল জাজিরা

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিরোধী দলের নেতাকে ফাঁসি দেয়ার পর বাংলাদেশে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বেড়েছে। দেশটিতে গত এক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েই চলেছে।

সৌদি গেজেট

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সৌদি গেজেট বাংলাদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের খবর প্রকাশ করে।

সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে সৌদি গেজেট ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে এদেশের কিছু ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়ার কথাও তুলে ধরে।

মুক্তিযুদ্ধে শত্রুবাহিনীর হাতে বাংলাদেশের তিন লাখ মানুষ নিহত হন এবং নয় মাসের যুদ্ধে দুই লাখের বেশি নারী ধর্ষিত হন বলে সৌদি গেজেট তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

এনডিটিভি

কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অন্যতম সম্প্রচার মাধ্যম এনডিটিভির অনলাইনে শিরোনাম ছিলো ‘বাংলাদেশে ইসালামিক নেতার মৃত্যুদণ্ড, রাজপথে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ’।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যের সহযোগিতা নেয়া হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতারও কথা তুলে ধরে এনডিটিভি।
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article714343.bdnews


Name:  a          

IP Address : 132.166.143.92 (*)          Date:14 Dec 2013 -- 11:35 AM

আপনারা সো কল্ড মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বড্ড বেশি অবসেসড। একটু সামনে তাকান ঃ)


Name:  aranya          

IP Address : 78.38.243.161 (*)          Date:14 Dec 2013 -- 11:44 AM

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালীন গণহত্যার পর ইহুদিরা কিন্তু নাজী যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে খুঁজে শাস্তি দিয়েছে, হলোকাস্ট মিউজিয়ম তৈরী করেছে
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বহু আগেই হওয়া উচিত ছিল। হয়নি - সেটা খুবই দুঃখের ব্যাপার। এখ্ন হচ্ছে, এটা ভাল কথা।
অতীতের হিসাব-নিকাশ না মিটিয়ে সামনে তাকান কঠিন।


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.56 (*)          Date:16 Dec 2013 -- 09:17 PM

#এ এবং #অরণ্য,

মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ। ১৯৭১ এ মুক্তির যুদ্ধ শুরু হয়েছিল মাত্র, স্বাধীনতা অর্জনেই এটি শেষ হয়ে যায়নি। প্রজন্ম ৭১ এর দ্বিতীয় পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ চলছে। এটি চলবেই, সামনে থেকে আরো সামনে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, এটি অব্যহত প্রক্রিয়া। ...

বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধাপরাধী, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা হটানোই এখনকার মুক্তির যুদ্ধ। চলমান এই যুদ্ধে আপনাদেরও সাথে চাই। আর ১৯৭১ এর ইতিহাসের অমিমাংসিত অধ্যায়ের মিমাংসা -- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার -- এটি এখন অনিবার্য। তা যে কেউ যে ভাবেই দেখুন না কেন। শাহবাগ গণবিস্ফোরণের প্রথম বিজয় -- যুদ্ধাপরাধী, “কসাই কাদের” খ্যাত কাদের মোল্লার ফাঁসি।

এখন নতুন করে লেখা হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস।

পড়ুন: লাখো কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা’
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article715552.bdnews


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.56 (*)          Date:16 Dec 2013 -- 09:22 PM

লাখো কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2013-12-16 17:01:10.0 BdST Updated: 2013-12-16 17:56:50.0 BdST

বেয়াল্লিশ বছর আগে যে মুহূর্তে যে স্থানটিতে বাঙালির মুক্তির সনদ লেখা হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সেই ক্ষণে সেই স্বাধীনতা উদ্যানেই লাখো কণ্ঠ গাইল ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানটিই একাত্তরের রণাঙ্গনে বাঙালি জাতিকে প্রেরণা যুগিয়েছিল, যা পরে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত ‘বিজয় ২০১৩’র মঞ্চে সোমবার বিকাল ৪টা ৩১মিনিটে এই গানে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত জনতা।

এবার সম্মিলিতভাবে এই উত্সব পালন করছে বিজয় ২০১৩ উদযাপন জাতীয় কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি এবং বিজয় ৪:৩১ মঞ্চ।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের আগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা পরিবেশন করেন একাত্তরে মুক্তিকামী মানুষকে শক্তি যোগানো বিভিন্ন গান। পরে তারাও সমবেত কণ্ঠের জাতীয় সংগীতে অংশ নেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে পাকিস্তানি বাহিনী এই উদ্যানেই আত্মসমর্পণের দলিলে সই করেছিল, তখন এর নাম ছিল রেসকোর্স ময়দান।
মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার বীর উত্তম বলেন, “সেই ক্ষণে জাতীয়ভাবে আমাদের প্রাণের জাতীয় সংগীতকে কোটি কণ্ঠে পরিবেশনাই আজকের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য।”
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article715552.bdnews


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.56 (*)          Date:16 Dec 2013 -- 10:05 PM

‘বিশ্বজয়ের’ মানব-পতাকায় ২৭ হাজার মুখ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2013-12-16 13:49:18.0 BdST Updated: 2013-12-16 16:21:10.0 BdST

বিজয় দিবসের মধ্যাহ্নে লাল আর সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরল ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর তরুণ, শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সূর্যের দিকে মুখ তুলে হাসল বাংলাদেশের পতাকা।

৪২ বছর আগে যে দিনটিতে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় পেয়েছিল, সেই দিনটিতে আরো এক বিজয়ের জন্য এই আয়োজন।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ মানব পতাকা তৈরির এ আয়োজনের উদ্যোক্তা মোবাইল ফোন অপারেটর রবি। আর ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়’ শিরোনামে এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

রবির কমিউনিকেশনস কর্মকর্তা তালাত কামাল জানান, গিনেসের সব নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে মানব-পতাকা তৈরি হলো কি না, তার প্রমাণ হিসাবে তথ্য ও ছবি পাঠাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট প্রতিষ্ঠান। নতুন রেকর্ড হলে গিনেস কর্তৃপক্ষই সে ঘোষণা দেবে।

সশস্ত্রবাহিনীর আট হাজার সদস্যের সহযোগিতায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এই মানব পতাকা তৈরি শুরু হয় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী।

কয়েক দফা মহড়ার পর বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে শুরু হয় চূড়ান্ত চেষ্টা। লাল-সবুজের টুকরোগুলো ছয় মিনিট ১৬ সেকেন্ড মাথার ওপর তুলে রাখে স্বেচ্ছাসেবীরা।

এ সময় মঞ্চ থেকে বেজে ওঠে গান- ‘বিজয়-নিশান উড়ছে ওই…’। আর এর মধ্যে দিয়েই তৈরি হয় ‘লাল সবুজের বিশ্বজয়ের’ মঞ্চ।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে গিনেস বুকে এর আগের রেকর্ডটি পাকিস্তানের। গত বছর ২১ অক্টোবর লাহোর হকি স্টেডিয়ামে ওই মানব-পতাকার অংশ হয়েছিলেন ২৪ হাজার ২০০ পাকিস্তানি।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, ঢাকার মানব-পতাকা লাহোরের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। এখন গিনেস কর্তৃপক্ষের রায় পেলেই একাত্তরের বিজয়ের দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি বিজয় পাবে বাংলাদেশ।

সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমাদের জাতীয় ঐক্য তুলে ধরতেই এ চেষ্টা।
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article715443.bdnews


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 113.244.13.43 (*)          Date:20 Dec 2013 -- 01:01 PM

The Liberation War and indigenous freedom fighters
--Muktasree Chakma Sathi

Once again, we celebrate our Independence Day, remembering the martyrs and war women who lost their lives and sacrificed so much for their dream of having a just and equal non-communal country.

How far have we travelled along the path to a just, equal and non-communal state? Let’s see. Do you know that there were freedom fighters who were not from the Bangali community? Can you name some of them? Can you name just one? Did you even know that many indigenous people fought side by side with other freedom fighters for this beloved country?

Whatever your answer may be, I am pretty sure that these answers will help you to understand how far we have come towards being just, equal and non-communal as we – as individuals and as a state – celebrate 42 years of independence.

Being born into an indigenous family with a Bangali mother, even I did not hear much about indigenous freedom fighters! Why?

Because there is not a single book in the school curriculum that mentions that there were indigenous freedom fighters. Lucky for me, as I started to grow older, my parents began mentioning, here and there, the names of a few of these golden sons and daughters of the indigenous community.

When I first heard Kakon Bibi’s name I was both astonished and overjoyed. With Kakon Bibi’s name, I came to know that there ARE non-Bangali freedom fighters.

I was puzzled. “So, we fought too! But, why weren’t they mentioned in one single book in school?”

Freedom fighter Kakat Heinchita, widely known as Kakon Bibi, and locally known as Khasi Mukti Bekti (the freedom girl of Khasi), is a member of the Khasi community and lives in Sunamganj, Sylhet. She lost her husband and many other family members during the Liberation War. In an interview with photographer Elizabeth Herman, she said: “I have lived with wounds in both of my legs for my whole life. I got them while I was fighting with Sector 9 in 1971. But the government does not pay me the Freedom Fighter Stipend that they pay the men.”

Since I heard Kakon Bibi’s name, I have been trying to make a list of non-Bangali freedom fighters such as her. But, I must say, this has been a somewhat difficult task.

First of all, there is no government list of these freedom fighters.

Secondly, very few books have actually mentioned these freedom fighters’ role in 1971. Thirdly, most of them live in such remote areas that finding them is really tough.

Lastly, and in my mind, most importantly, freedom fighters from the non-Bangali community do not tend to share their stories of the liberation war as most of the Bangali freedom fighters and their families tend to do.

I came to know about Euke Ching Marma after a report was published in the media a few years ago. The report quoted Euke Ching, who was awarded the Bir Bikram gallantry award, as saying: “I don’t want to talk about this.” The immediate question that popped into my mind was: Why are these freedom fighters reluctant to talk about their involvement?

I am not sure to what extent this has impacted them, but I believe the government and the majority community’s behavior towards such people has played a role in their reluctance.

Did the government do anything to prevent citizens from becoming more ignorant day by day regarding these freedom fighters? Has the government taken necessary steps to recognise these non-Bangali freedom fighters? Didn’t they fight and suffer just as their Bangali peers did in 1971?

A book titled “Mukhtijuddhe Adivasi” (The Adivasis in the Liberation War) talks about indigenous freedom fighters who actively participated in the armed struggle for liberation. These people were from 45 different indigenous groups. The book says that hundreds of people from these groups embraced martyrdom.

Very few of these freedom fighters were honoured with awards or were listed by the state.

In 2006 however, two platforms, the Bangladesh Adivasi Adhikar Andolan and the Research and Development Collective, honoured seven indigenous freedom fighters, as well as Kakon Bibi, at the National Press Club in Dhaka. The freedom fighters named were: Karuna Mohan Chakma of the Chittagong Hill Tracts; Suresh Chandra Barman and Jatin Chandra Barman of Gazipur; John Tudu of Dinajpur; Buda Munda of Jaipurhat; Mistri Hansda of Chapai Nawabganj; and Michael Sujay Rema of Netrokona.

Speaking on the occasion, Buda Munda said: “Previously, I never bothered with the fact that the state is not recognising my freedom fighter status. But now I do.” Buda went on to explain that now such recognition seems to be needed nowadays.

“I was too illiterate to understand ‘company’ or ‘regiment’– all I knew was that I had to fight for the land and free it from the Punjabis,” said Buda, who has faced many bitter experiences after Bangladesh’s independence.

Buda hails from the northern part of the country, where the indigenous people are still not even allowed to have a cup of tea like other citizens in the makeshift eateries. There are always separate arrangements (benches and cups) for them.

“We participated in the war of independence to free the land from the Pakistanis, but after independence we are repeatedly reminded that it was not our soil,” added another freedom fighter, Michael Sujay, according to another media report.

Anyone who travels to the Rangamati Hill District cannot miss the wonderful monument in Manikchari, just before you enter beautiful Rangamati town, which displays the images of three martyrs. Khagendra Nath Chakma is one of those three martyrs. Ironically, his family had to bribe a senior official of Rangamati Muktijodhdha Sangsad (Rangamati Freedom Fighters’ Association) to list Khagendra’s name in the government’s freedom fighter list, despite the presence of a three-storey high monument which already included Khagendra’s name.

On May 5, 1971, Khagendra was killed by the Pakistani occupational army. Four decades later, in 2011, his family received a document recognising him as a martyr, but only after paying off an official.

One may argue that such corruption is happening everywhere. And indeed, there are other nations which are more corrupt than ours. However, when the majority oppresses the minority, that cannot simply fall under the banner of simple corruption. When someone exercises power over a minority just because they are a member of the majority is part of the broader culture of not respecting minority peoples.

We know one “circle chief” from the indigenous community who supported the Pakistani government. But do we know the tale of another “circle chief” from the indigenous community who did his level best to help freedom fighters in 1971?

Mong Circle Chief Mong Prue Sein believed in the liberation war. He helped freedom fighters with money, manpower, food and medicine.

Mong Prue was also the one who sent a telegram to the father of the nation Sheikh Mujibur Rahman in 1972 when indigenous people were being tortured and confined indiscriminately by a few freedom fighters in Rangamati. In February, 1972, a few freedom fighters confined non-Bangali people based on the assumption that all “indigenous” people were in favour of Pakistan.

The Rangabel blog, run by Biplob Rahman, has an image of the telegram which read: VISITED RANGAMATI ON SIXTH INSTANT STOP EXTREMELY AGGRIEVED TO FIND INNOCENT TRIBAL PEOPLE ARRESTED INDISCRIMINATELY AS ALLEGED COLLABORATORS STOP EARNESTLY REQUESTED INSTRUCT CIVIL ADMINISTRATION IMMEDIATE RELEASE OF ALL TRIBALS SO FAR ARRESTED WITHOUT PREJUDICE AND FURTHER ARREST BE CEASED STOP. MONG RAJA AND THE TRIBAL ADVISOR TO BANGLADESH.

As locals from CHT said: “Just after the liberation, hundreds of indigenous people were also killed because many of the freedom fighters held the general assumption that ‘all tribals were razakars’.” Were you aware of this before?

Last but not least, indigenous leader Manabendra Narayan Larma (MN Larma) is also an indigenous freedom fighter who participated in the war directly. MN Larma is still close to the indigenous people’s heart, particularly in Chittagong Hill Tracts area, for his bold steps in 1972. MN Larma was the first who addressed the fact that the first constitution totally denied other nation’s existence in the newly liberated country of Bangladesh.

Forty years following his demand, Dr. Kamal Hossain, one of the principal authors of the Constitution, admitted on several occasions that denying other nation’s existence along with the Bangali nation in the newly liberated country’s constitution was a mistake.

Now, it is in our hands, the youth of Bangladesh, whether we will keep repeating the same mistake or if we will demand, as one voice, that all nations’ participation in the history of liberation war be recognised. I think that such an acknowledgement is possible. The Shahbgah movement is a shining example of such inclusion.


Last updated on December 16, 2013 at 12:41
________________________
- See more at:
http://www.dhakatribune.com/op-ed/2013/dec/16/liberation-war-and-indig
enous-freedom-fighters#sthash.SyOUPQLC.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 113.244.13.43 (*)          Date:20 Dec 2013 -- 01:16 PM

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
গ্লানিমুক্তির বাংলাদেশ
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৩


গত সপ্তাহটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সপ্তাহ। একাত্তরের এই সপ্তাহে বাংলাদেশকে মুক্ত করার যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল। আকাশে যুদ্ধবিমান, বোমা পড়ছে, শেলিং হচ্ছে, গুলির শব্দ। আকাশ থেকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উদ্দেশে হ্যান্ডবিল বিলি করা হচ্ছে, ভারতীয় বাহিনী সেখানে লিখেছে, ‘‘মুক্তিবাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ কর।’’

আমরা বুঝতে পারছি আমাদের বিজয়ের মূহুর্তটি চলে আসছে; তারপরেও বুকের ভেতর শঙ্কা, আমেরিকার সপ্তম নৌবহর পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে এগিয়ে আসছে। গত নয় মাসে এই দেশে কত মায়ের বুক খালি হয়েছে তার হিসাব নেই। মানুষের প্রাণের কোনো মূল্য নেই, যখন খুশি যাকে ইচ্ছা তাকে নির্যাতন করা যায়, হত্যা করা যায়। চারিদিকে শুধু মৃতদেহ আর মৃতদেহ, আগুনে পোড়া ঘরবাড়ি, বিধ্বস্ত জনপদ, মানুষের হাহাকার।

তার মাঝে জামায়াতে ইসলামীর তৈরি করা বদর বাহিনী খুঁজে খুঁজে এই দেশের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের বাড়ি থেকে তুলে নিচ্ছে। তাদের অত্যাচার করছে, চোখের ডাক্তারের চোখ তুলে নিচ্ছে, হৃদরোগের ডাক্তারদের হৃৎপিন্ড বের করে আনছে, তারপর হত্যা করে মৃতদেহ ছুঁড়ে ফেলছে। দেশটি যেন কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে তারা সেটি নিশ্চিত করতে চায়।

সেই হত্যাকারীদের বিচার করে বিচারের রায় হয়েছে। প্রথম রায় কার্যকর হয়েছে সেই একই সপ্তাহে, ডিসেম্বরের ১২ তারিখে। আমি বিয়াল্লিশ বছর ধরে এই দিনটির জন্যে অপেক্ষা করেছিলাম। শুধু আমি নই, আমার মতো স্বজনহারানো অসংখ্য মানুষ অপেক্ষা করেছিল। মুক্তিযোদ্ধারা আপেক্ষা করেছিল, নির্যাতিতেরা অপেক্ষা করেছিল, আর অপেক্ষা করছিল এই দেশের নূতন প্রজন্ম।

আমাদের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম, আমরা মুক্তিযুদ্ধকে তীব্র আবেগ দিয়ে অনুভব করি। আমি কখনও কল্পনা করিনি এই দেশের নূতন প্রজন্মও মুক্তিযুদ্ধকে ঠিক আমাদের মতোই তীব্রভাবে অনুভব করবে। তাদের জন্মের আগে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের সেই অবর্ণনীয় কষ্ট আর অকল্পনীয় আনন্দ তারা এত তীব্রভাবে অনুভব করতে পারে সেটি আমাদের জন্যে এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নপূরণ।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কথা দিয়েছিল তাদেরকে নির্বাচিত করলে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। এই দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাদের কথা বিশ্বাস করে বিপুল ভোটে তাদের নির্বাচিত করে এনেছিল। সরকার তাদের কথা রেখেছে, ট্রাইব্যুনাল তৈরি করে বিচার করে বিচারের রায় দিয়ে রায় কার্যকর করতে শুরু করেছে। এই সরকারের কাছে আমার আর কিছু চাওয়ার নেই, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এই দেশকে গ্লানিমুক্ত করার জন্য।

এতদিন যখন এই দেশের শিশুরা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করত, ‘‘যারা এই দেশ চায়নি, যারা এই দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, তারা কেমন করে এই দেশে এখনও স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়? কেমন করে রাজনীতি করে, মন্ত্রী হয়? যে পতাকাটি ধ্বংস করার জন্যে হত্যাকাণ্ড করেছে সেই পতাকা গাড়িতে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়?’’

আমি কখনও তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। মাথা নিচু করে থেকেছি।

আর আমার মাথা নিচু করে থাকতে হবে না, কেউ আর আমাকে এই প্রশ্ন করবে না। সেই প্রশ্নের উত্তর তারা পেয়ে গেছে। সত্যি কথা বলতে কী, সেই প্রশ্নের উত্তরটি তারাই আমাদের উপহার দিয়েছে।

২.

আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে এই বিচারের কাজটি যতটুকু সহজ ছিল, এতদিন পর সেটি আর সহজ থাকেনি। যুদ্ধাপরাধীর দল ক্যান্সারের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, মিলিটারি শাসনের আড়ালে শক্তি সঞ্চয় করেছে, অর্থ উপার্জন করেছে, সেই অর্থ দিয়ে অপপ্রচার করেছে, দেশে-বিদেশে বন্ধু খুঁজে বের করেছে। হুবহু তাদের মুখের কথাগুলো আমরা বিদেশি গণমাধ্যমে শুনতে পেয়েছি। জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিধর দেশগুলো আমাদের সরকারকে শুধু মুখের কথা বলে বাধা দেয়নি, চোখরাঙানি দিয়েছে। ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল এত বছর পরও তারা আবার সেই পাকিস্তানের পদলেহীদের পক্ষে।

আমাদের অনেক সৌভাগ্য এই প্রচণ্ড চাপেও আমাদের সরকার দিশেহারা হয়নি, এক যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর করেছে। নির্বাচন নিয়ে আমাদের দেশের সব পেশাদার বুদ্ধিজীবীর এখন প্রথম কাজ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক হাত নিয়ে নেওয়া। সেটা আমি বুঝতে পারি। কিন্তু যখন হরতাল-অবরোধ কার্যকর করার জন্য পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়, ট্রেনের লাইন উপড়ে ট্রেন লাইনচ্যুত করা হয়, যাত্রীসহ বাস-ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়া হয়, রাস্তা কেটে এলাকা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়– তখনও এই বুদ্ধিজীবী, পত্রিকার সম্পাদকেরা তার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর ‘অদূরদর্শিতা’কে দায়ী করেন– তখন আমি একটা ধন্দের মাঝে পড়ে যাই।

এই কাজটি করে এই দেশের বড় বড় পত্রিকার বড় বড় সম্পাদকেরা যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোকে এক ধরনের নৈতিক সমর্থন দিয়ে ফেলছেন সেটি কি তারা একবারও বুঝতে পারছেন না? যে ভয়ংকর তাণ্ডব দেখে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কথা সেটা দেখে তারা এই সরকারের ব্যর্থতার ‘অকাট্য প্রমাণ’ পেয়ে উল্লসিত হচ্ছেন এটি কেমন করে সম্ভব?

আমি পেশাদার বুদ্ধিজীবী নই, বড় পত্রিকার সম্পাদক নই, বাজারে সত্য এবং মিথ্যার মাঝখানে কিংবা ন্যায় এবং অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ থাকার আমার কোনো চাপ নেই। তাই আমার যে কথাটি বলার ইচ্ছা করে সোজাসুজি বলতে পারি। নির্বাচন নিয়ে কী হবে সেটা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নিষ্পত্তি করুক। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর না করার জন্যে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির হুমকিকে তোয়াক্কা না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রায় কার্যকর করার জন্যে দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সেই প্রতিজ্ঞটি বাস্তবায়ন করেছেন, সে জন্যে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা, তাঁর প্রতি অভিনন্দন। তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন নিশ্চয়ই তার মেয়ের বুকের পাটা দেখে খুশি হতেন।

৩.

১৯৭১ সালের পর আমি কখনও পাকিস্তানের কোনো জিনিস হাত দিয়ে স্পর্শ করিনি। অনেক টাকা বেঁচে যাবে জানার পরও যে প্লেন পাকিস্তানের ভূমি স্পর্শ করে যায় আমি কোনোদিন সেই প্লেনে উঠিনি। পাকিস্তানের উপর দিয়ে যখন কোনো প্লেনে উড়ে যাই, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই দেশটির ভূমি সীমার বাইরে না যাই ততক্ষণ নিজেকে অশুচি মনে হয়। পাকিস্তান দল যত ভালো ক্রিকেট খেলুক না কেন আমি তাদের কোনো খেলা দেখি না (ষাটের দশকে টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণবিজয়ী পাকিস্তান হকি টিমের একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় পাকিস্তান মিলিটারির অফিসার হিসেবে আমার বাবাকে একাত্তরে হত্যা করেছিল বলে আমি জানি)।

কেউ কেউ আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে ইতিহাসের একটা বিশেষ সময়ে একটা বিশেষ গোষ্ঠীর একটা সামরিক কাজকর্মের জন্যে সারাজীবন একটা দেশের সকল প্রজন্মকে দায়ী করা যায় না। কথাটি নিশ্চয়ই সত্যি, কিন্তু আমার কিছু করার নেই। একাত্তরে আমি আমার নিজের চোখে পাকিস্তান নামের এই দেশটির মিলিটারির যে নৃশংস বর্বরতা দেখেছি সেটি থেকে আমার কোনো মুক্তি নেই।

দেশটি যদি নিজের এই নৃশংসতার দোষ স্বীকার করে নতজানু হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইত তাহলে হয়তো আমার বুকের মাঝে ধিকি ধিকি করে জ্বলতে থাকা আগুনের উত্তাপ একটু কমানো যেত। তারা সেটি করেনি, আমার বুকের ভেতর জ্বলতে থাকা আগুনের উত্তাপও কমেনি।

আমি যে রূপ দেখে অভ্যস্ত, দীর্ঘদিন পর এই দেশটির রূপ আমাদের নূতন প্রজন্ম নূতন করে দেখার সুযোগ পেয়েছে। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিচারের রায় কার্যকর করার পর প্রথমে তাদের একজন মন্ত্রী প্রতিবাদ করেছে; তারপর তাদের পার্লামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব নিয়েছে। নিন্দা প্রস্তাবের সময় আলোচনার বিষয়বস্তু অত্যন্ত চমকপ্রদ। তারা জোর গলায় বলেছে, কাদের মোল্লা হচ্ছে একজন “সাচ্চা পাকিস্তানি, একাত্তরে সাচ্চা পাকিস্তানি থাকার জন্যেই তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’’

শাহবাগের তরুণ ছেলেমেয়েরা দিনের পর দিন এই কথাটি বলে শ্লোগান দিয়েছে– ‘‘জামায়াতে ইসলাম মেড ইন পাকিস্তান।’’ যাদের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে এই দেশে কী করেছিল, এখন তাদের কারও ভেতরে কি আর কোনো সন্দেহ আছে?

পাকিস্তান থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছে একাত্তরে ‘ঢাকা পতন’ হওয়ার এতদিন পর সেই পুরানো ‘ক্ষত’ নূতন করে উম্মোচন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার ‘ঢাকা পতন’ কথাটি নিয়ে আপত্তি আছে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মোটেও ঢাকার পতন হয়নি, পাকিস্তানের পতন হয়েছিল। ঢাকা কিংবা বাংলাদেশের সেদিন উত্থান হয়েছিল। ‘ক্ষত’ কথাটি নিয়েও আমার গুরুতর আপত্তি আছে; এটি আমাদের জন্যে ক্ষত নয়, এটি পাকিস্তানের জন্যে ‘ক্ষত’। শুধু ক্ষত নয়, এটি হচ্ছে দগদগে ঘা। চল্লিশ বছরেও সেই ঘা শুকায়নি, শত বছরেও সেই ঘা শুকাবে না।

পৃথিবীর ইতিহাসে পাকিস্তানকে পরাজয়ের এই দগদগে ঘা নিয়ে আজীবন বেঁচে থাকতে হবে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং সবশেষে পরাজয়ের এই দগদগে ঘা তাদের অবশ্যই লুকিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের কেন সেটি লুকিয়ে রাখতে হবে? ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সেই বিজয় দিবস আমাদের ক্ষত নয়, সেটি আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার, আমরা শত সহস্রবার সেটি দেখতে চাই। তাই প্রত্যেক বছর এই বিজয় দিবস আমাদের কাছে আগের চাইতেও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে আসে।

পাকিস্তানের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। যদি থাকত তাহলে অবশ্যই আমি তাদের কিছু উপদেশ দিতাম। আমি তাদের বলতাম– ‘‘তোমরা তোমাদের দগদগে ক্ষত দেখতে চাও না, খুব ভালো কথা, তোমরা চোখ বন্ধ করে থেকো। কিন্তু আমরা কী করব সেটি নিয়ে ধৃষ্টতা দেখাতে এসো না। ১৯৭১ সালে এই দেশ থেকে তোমাদের বিতাড়ন করে আমরা অনেকদূর এগিয়ে এসেছি, অনেক বিষয়ে আমরা সারা পৃথিবীর মডেল। একটু ধৈর্য ধর, যখন দেখবে আমরা ঠিক ঠিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে রায় কার্যকর করে সারা পৃথিবীকে দেখাব কীভাবে সেটি করা যায়, তখন সেটিও সারা পৃথিবীর একটা মডেল হয়ে যাবে। আপাতত তোমরা নিজেদের নিয়ে মাথা ঘামাও। মিলিটারির দাস হয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যা করছে সেখান থেকে বের হতে পার কিনা দেখো। লেখাপড়া করতে চাইলে মেয়েদের মাথায় গুলি যেন করতে না পারে সেটা খেয়াল করো। সারা পৃথিবীতে সন্ত্রাস রপ্তানি করার যে সুনামটুকু কুড়িয়েছ সেই সুনাম থেকে মুক্ত হতে পার কিনা দেখো।’’

পাকিস্তানের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই; যদি থাকত তাহলে এই তালিকাটি আমি আরও দীর্ঘ করে দিতাম!
কাদের মোল্লার পক্ষে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে যে নিন্দা প্রস্তাবটি নিয়েছে সেটি আমার কাছে এই রাষ্ট্রটির সঙ্গে মানানসই একটি কাজ বলে মনে হয়েছে। এই দেশে তাদের যে অনুচরেরা আছে তাদের চেহারাটি মনে হয় বেশ ভালোভাবে উম্মোচন করা হয়েছে।

আমাদের নূতন প্রজন্ম এর মাঝে ভয়ানকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। আমি ঠিক এ ধরনের প্রতিক্রিয়াই আশা করেছিলাম। তারা আমাকে নিরাশ করেনি।

৪.

১৬ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে আমি বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তা আমার গলায় কোনো সুর দেননি, আমার মাঝে মাঝে সেজন্যে খুব দুঃখ হয়। আমার মনে হয়, যদি আমার গলায় একটু সুর থাকত তাহলে “আমার সোনার বাংলা” গানটি আমি না জানি কত সুন্দর করে গাইতে পারতাম।

যত বেসুরো গলাতেই গাই না কেন এই গানের চরণগুলো উচ্চারণ করার সময় প্রতিবার আমার চোখ ভিজে আসে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেসুরো গলায় আমি যখন গানটি গাইছিলাম, যখন একটি একটি করে চরণ গাওয়া হচ্ছিল আর আমার মনে হচ্ছিল, আহা, আরও একটি লাইন শেষ হয়ে গেল! আমার মনে হচ্ছিল, আহা, যদি অনন্তকাল এই গানটি গাওয়া যেত! যদি কোনোদিন এই গানটি শেষ না হত!

জাতীয় সঙ্গীত শেষ হবার পর সাবধানে আমি আমার চোখ মুছেছি। আমাদের প্রজন্মের কাছে এটি তো শুধু কষ্ট, বেদনা। আমাদের আনন্দ, আমাদের উল্লাস।

আমার পাশে কমবয়সী একটি মেয়ে দাঁড়িয়েছিল, জাতীয় সঙ্গীত শেষ হবার পর আমাকে বলল, “স্যার, জানেন, যতবার আমি আমার সোনার বাংলা গান গাই আমার চোখে পানি চলে আসে!”

আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম, আমাদের নূতন প্রজন্ম কেমন করে আমাদের সকল স্বপ্ন, আমাদের সকল ভালোবাসা, সকল মমতাকে এমনভাবে গ্রহণ করতে পারল?

ডিসেম্বর ২০১৩

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/13958


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 113.244.13.43 (*)          Date:20 Dec 2013 -- 01:20 PM


অমি রহমান পিয়াল
জামায়াত শিবিরের হেডকোয়ার্টার কিন্তু লাহোর!
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৩
------------------------------------------------------
অনেকের নিশ্চয়ই মনে আছে গোলাম আযমের সেই সাফাই সাক্ষাতকারটির কথা। ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের ডেকে একাত্তরে নিজের এবং তার দল জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধ অস্বীকার করেছিলেন সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান আমির। সেই সাক্ষাতকারেই তিনি বলছিলেন জামায়াতের হেডকোয়ার্টার তখনও লাহোরে ছিল, এখনও লাহোরে। না, এটা মোটেও ব্লুপার কিংবা মুখ ফস্কে বেরিয়ে যাওয়া কোনো ভ্রান্তি ছিল না। এটাই বাস্তব। জামায়াতে ইসলামীর সদর দফতর লাহোরেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনও তাদের আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবেই নথিবদ্ধ।

ইউটিউবে এই সাক্ষাৎকারটির ভিডিও এই লিংকে দেখুন–


http://www.youtube.com/watch?v=EKXYH_GDNSQ

কথাগুলো নতুন করে বলতে হচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে। ক’দিন আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেছে বাংলাদেশ সরকার। এরপর নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। অনলাইনে এতদিন সবচেয়ে আলোচিত ছিল অভিযুক্ত কাদের মোল্লা আর একাত্তরের কসাই কাদের নাকি এক ব্যক্তি নয়। এই বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছিলেন সরকারদলীয় সাংসদ গোলাম মওলা রনি।

তিনি একটি চিরকুট প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে, দাবি করেছেন সেটা কাদের মোল্লার লেখা এবং চিরকুটে তাকে অনুরোধ করা হয়েছে জনগণকে এটা জানাতে যে কাদের মোল্লা আরেকজন কাদেরের দায় নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলছেন। রনির চিরকুট এবং সম্পূরক স্ট্যাটাস বার্তাটি যে ডাহা মিথ্যা তা প্রকাশ হয়ে যায় যখন কাদের মোল্লার স্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি অনলাইনে আসে। দুটো চিঠির লেখনী এবং নাম স্বাক্ষরে পার্থক্যেই ধরা পড়ে রনি বানোয়াট গল্প ফেঁদেছিলেন।
রনির তথাকথিত চিরকুট এবং স্ত্রীকে লেখা মোল্লার চিঠি

রনির তথাকথিত চিরকুট এবং স্ত্রীকে লেখা মোল্লার চিঠি

তবে পুরো ব্যাপারটিকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে গেছে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া। কাদের মোল্লাকে একজন প্রকৃত ‘পাকিস্তানপ্রেমিক’ হিসেবে প্রশংসা করে তার ফাঁসির নিন্দা জানানো হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে। এই বিবৃতিতে আমাদের মনে আর কোনো দ্বিধা থাকার কথা নয় জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ ও পাকিস্তান-প্রেম নিয়ে। তাদের পক্ষে পাকিস্তানের স্বীকৃতির এই রূপ দেখে আমাদের অবাক হওয়ারও কিছু নেই।

2

জামায়াতে ইসলামীকে আমরা যে একটা যুদ্ধাপরাধী দল বলি এবং এর শীর্ষনেতারা সব যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত, সেটা কোন ভিত্তিতে? এর একটা বড় কারণ আমাদের বুদ্ধিজীবী হত্যা। এই দায়টা প্রমাণিতভাবেই আল-বদর বাহিনীর কাঁধে পড়ে। আর কে না জানে এই আল-বদর বাহিনী গঠিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্যদের নিয়ে। ১৯৭১ সালে ছাত্র সংঘের পাকিস্তান সভাপতি মতিউর রহমান নিযামী, পূর্ব পাকিস্তান সভাপতি আলী আহসান মুজাহিদ, হাই কমান্ডের মীর কাশেম আলী, কামারুজ্জামান– এরাই তো যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতারের আগে জামায়াতের নেতৃত্বে ছিলেন।

এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আসাটা কোন অর্থে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক? নাকি বলতে চান আল-বদর বাহিনী যে ইসলামী ছাত্র সংঘই গঠন করছিল তার প্রমাণ দিতে হবে আগে! সেটা তো আছেই ভুরিভুরি। নাকি বাঙালি প্রমাণে চলবে না, খাঁটি পাকিস্তানি প্রমাণ লাগবে?

3

চাইলে সেটাও দেওয়া যাবে। তার আগে একটা প্রাসঙ্গিক তথ্য। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠনের নাম ‘ইসলামী জমিয়াত তালাবা’ (আইজেটি)। পূর্ব পাকিস্তানে এটারই বাংলা নাম ছিল ‘ইসলামী ছাত্র সংঘ’। স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার ফেরত পাওয়ার পর এরা নাম নেয় ইসলামী ছাত্র শিবির (দুই সংগঠনের লোগোতেও ব্যাপক মিল)। ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্যদের আল-বদর নামের ‘খুনে’ বাহিনীতে রিক্রুট করার দায়িত্ব ছিল আইএসআই-এর মেজর রিয়াজ হুসেইন মালিকের ওপর। বলা হয়, আল-বদর নামটাও তারই দেওয়া। সংশোধন করে বাদ দেওয়ার আগে উইকিপিডিয়াতে লেখা ছিল–

The name Al-Badar was given by major Riaz Hussain during the passing out ceremony of first Al-badar group.

4

১৯৯৭ সালে জমিয়াতের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটা প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হয় ‘জমিয়াত কি পঞ্চাশ সাল’ নামে। সেই বিশাল প্রামাণ্যচিত্রে পূর্ব পাকিস্তানের ইসলামী জমিয়াতে তালাবা সম্পর্কে রিয়াজ হুসেইনের প্রশংসাধন্য বয়ান মিলে। প্রামাণ্যচিত্রটির একটা সংক্ষিপ্ত ভার্সন আছে ইউটিউবে। ‘আল-বদর ১৯৭১’ নামের ওই ফুটেজটি পাকিস্তানিদেরই আপলোড করা। ফুটেজটির ভূমিকায় দেখা যায়, সমাজতান্ত্রিক ও সেকুলার ছাত্রদের (ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন) মোকাবেলায় যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আইজেটিকেই মানা হয়েছে; সেকুলাররা যখন বন্দুক ধরেছে (মুক্তিবাহিনী হিসেবে) তখন তাদের ঠেকাতে ছাত্র সংঘের বন্দুক ধরাও ফরজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।


http://www.youtube.com/watch?v=UKM6YZ2AooM

রিয়াজ হুসেইন কয়েকটি ঘটনার বর্ণণা দিয়ে এদের মাহাত্ম্য প্রচার করেছেন (একদম ইসলামী ছাত্র সংঘ নামটা উল্লেখ করেই)। যেমন একজন ছাত্র সংঘ সদস্য নাকি তার আপন ভাইকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল, কারণ তার ভাইটি ছিল মুক্তিবাহিনীর সদস্য এবং সে সুবাদে ‘ভারতের দালাল’। তার যুক্তি– ‘এমন ভাইয়ের মরে যাওয়াই উচিত যে আমার কোটি মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে বেঈমানি করছে’!

আরেকজন সদস্য তার ভাইয়ের জানাজা পড়েই আবার ডিউটিতে এসে হাজির। একজন সদস্য দেখতে ছোটখাটো বলে রিয়াজ তাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ‘তোমার বয়স কম’ বলে। জবাবে সে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে বলেছে– ‘এখন তো বড় হয়ে গেছি’! তার জেহাদী তাগদে মুগ্ধ রিয়াজ তাকে রিক্রুট করছিলেন। আর সেই আল-বদরের নামে নাকি মুক্তিবাহিনী ভয়ে কাঁপত!

5

মূল জামায়াতের বক্তব্যে বেশ আফসোস এই কারণে যে এই আল-বদরদের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি পাকিস্তান। সেই ফুটেজে আমাদের স্বাধীনতার পর এদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। কোন ফুটেজটা ব্যবহার করা হয়েছে জানেন? আমাদের বুদ্ধিজীবীদের লাশের। তারা যে গণহত্যাকাণ্ডের দায়ে অপরাধী, সেই হত্যাকাণ্ডকেই নিজেদের সঙ্গী-সাথীদের হত্যাকাণ্ড বলে প্রচার করছে বিশ্বজুড়ে!

6

আফসোস হয় যখন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভক্ত বাঙালিদের দেখি। মুসলমান ক্রিকেটার হওয়ায় তাদের সমর্থন করাটাকে ঈমানের অংশ মনে করে তারা। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ ইসলামী জমিয়াতে তালাবা একটা ফুটবল-ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে যার নাম ছিল ‘আল-বদর স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল ২০০৯’। সেই ক্রীড়ানুষ্ঠান উৎসর্গ করা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে শহীদ (!) আল-বদরদের উদ্দেশ্যে। সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

নিচে রয়েছে একটি ভিডিও ফুটেজের স্ক্রিনশট, যেখানে ইনফোতে লেখা আছে–

Nazim e Ala Islami Jamiat Talaba Pakistan,Br. Ateeq ur Rehman Khan Speaks in IJT Punjab Medical College’s Albadar Floodlight Sports Festival 2009. Dedicated to the martyrs of Albadr East Pakistan

7

পাকিস্তানের জমিয়তে তালাবার সঙ্গে ইসলামী ছাত্র শিবিরের যোগসূত্রটা মিথ্যা মনে হচ্ছে? তাহলে সরাসরি তাদের ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারতে পারেন। দুটো স্ক্রিনশট দেওয়া হল প্রমাণ হিসেবে (যার ওপরের দিকে ইউআরএল আছে এবং সেখানেই সত্যমিথ্যা যাচাই হয়ে যাবে)। মতিউর রহমান নিযামী ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো জমিয়তে তালাবার সভাপতি নির্বাচিত হন (যদিও জামায়াতি প্রচারণা হচ্ছে তিনি তখন হাফপ্যান্ট পরে স্কুলে যেতেন)। ১৯৭১ সালে নিযামী পুনঃনির্বাচিত হন। এই নিযামী এবং তার গোলামী সম্পর্কে বিশেষ প্রশংসাসূচক বাক্য লেখা আছে জমিয়াতে তালাবার ব্লগস্পটে।

নিযামী সম্পর্কে সেখানে বলা হয়েছে–

Motiur Rahman Nizami (Born 31 March 1943) : Motiur Rahman Nizam is the current chief (Ameer) of the Jamaat-e-Islami Bangladesh, which is the largest Islamic political party in Bangladesh. Nizami rose in the ranks of the Jamaat-e-Islami in East Pakistan in the 1960s, after being a leader of a student organization, Islamic Chhatro Shango (now Islami Chhatro Shibir). During the liberation war of 1971, Nizami actively supported the cause of West Pakistan and formed the Al-Badr Force in which he acted as the supreme commander of the Al-Badr Militia).

8

অন্য আরেকটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ১৯৮১ সাল থেকে জমিয়তে তালাবা পাকিস্তান তাদের ‘বেংলাদেশি’ (Bengladesh– বানান লক্ষ্যণীয়) সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীগুলোয় অংশ নেয়; তাদের পূর্ব পাকিস্তানি ভাইয়েরাও ‘বেংলাদেশ’ থেকে তাদের অনুষ্ঠানে যায়। আল-বদর ফ্যান ক্লাবও ফেসবুকে আছে। সেখানে জমিয়তে তালাবার ‘পাকি’ আর ‘বেঙ্গা’ দুই অংশেরই ব্যাপক অংশগ্রহণ।

9

এর বাইরে আরও কিছু ওপেন আর ক্লোজ গ্রুপ আছে বদরদের সম্মানে।

এবার একটা গানের কথা বলি। তার আগে জমিয়াতে তালেবার পতাকাটা দেখুন, লাল-সবুজটা কাকতালীয় হলেও ওটায় কিন্তু পাকিস্তান লেখা নেই, লেখা আছে ‘বাগেস্তান’। গানটা ওদের দলীয় সঙ্গীত। ঠিক ২ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুনবেন ‘বাঙাল’ আর ‘আল-বদর’।



http://www.youtube.com/watch?v=sMWA65r6DS8

10

সবশেষে একটি ছবি দেখাই। ২০১১ সালের বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ইসলামী ছাত্র শিবির। দেখতেই পাচ্ছেন সেই টুর্নামেন্টের বিজয়ী কারা! পাকিস্তানের জার্সি পরিয়ে জেতানো এই অবুঝ কিশোরদের বিপরীতে কারা খেলেছিল? কোন দল?

একটু মাথা খাটালেই উত্তরটা পেয়ে যাবেন। জ্বি, বাংলাদেশ।

অমি রহমান পিয়াল:ব্লগার, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট।
----

http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/13911


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:20 Dec 2013 -- 05:45 PM

Published: Monday, December 16, 2013
Operation Hotel Intercontinental: “HIT & RUN”
Habibul Alam, Bir Pratik


The very first guerrilla operation carried out in the heart of Dhaka city by the Mukti Bahini was on the 9th of June, 1971. The place of action was Hotel Inter-Continental (now Hotel Sheraton), and the time was around 7.45 p.m. to 8.00 p.m.

The purpose of our mission was to stop the World Bank Aid Mission and Prince Sadruddin Aga Khan, head of the UNHCR, from providing financial assistance to the Pakistani junta. The team from the World Bank and the UNHCR had been informed and assured by the Pakistan propaganda machine that everything in the then East Pakistan, especially in Dhaka city, was absolutely normal. Moreover, they said that the eastern part of Pakistan was totally under the control of the Pakistani rulers and the army.

“I want you to select 17 freedom-fighters including yourself from the student platoons and give the names to Badal. Capt Hyder will brief you in this regard,” said our sector commander Major Khaled Musharrof. “I want you to understand that the mission has to be successful at any cost.” Maj Khaled told us categorically that there could be no failure. Then, pointing his finger at me, he said, “I may call you later if required. You may go now”.

I was afraid and at the same time proud to be appointed by Maj Khaled to lead the first batch of freedom-fighters for specific action inside Dhaka city. I went back to my tent with a beating heart and my head held high.

By the end of May, 1971 quite a number of Dhaka city students and young men had joined the sector. The majority of them were in the 2nd and 3rd platoons. Apart from seven freedom-fighters from the 2nd platoon, the rest were taken from 3rd platoon. The names were provided to Badal as per instruction. After I had handed over the names, he asked me who I wanted as my 2-IC (second-in-command).

It was in the Western movies that we had seen what a guerrilla operation leader does. It had never occurred to me that some day I would do the same in selecting a group’s second-in-command. I gave the question very serious thought — it seemed to me that I might hurt the feelings of my newly acquainted freedom-fighter friends if I chose anyone from the 3rd platoon. I couldn’t give FF Zia’s name, as it was he who had brought me to that place. Taking a little more time, I said, “Is it possible to have FF Shoheed as our 2-IC?” Badal, betraying no reaction to the proposed name, merely said, “Why not?”

I knew that FF Mahbub Ahmed, known to everyone of us by his nickname Shoheed, had joined independently from Dhaka. His father was a close friend of my father’s. FF Shoheed and his elder brother were especially close to our family. Moreover, FF Zia also knew him as both their families stayed in the older part of Dhaka. Zia used to stay in 3, Joynag Road and the next road was Umesh Datta Road where Shoheed used to stay. FF Shoheed was very regular with his prayers and kept a small beard, somewhat like a French cut. Later during the rest of the nine months, FF Shoheed used to be called “2-IC Moulana Shoheed”.

Hyder Bhai and Badal gave us the briefing. They said, “You should in no way confront the Pakistani army in any manner.” This was because, firstly, we were not armed appropriately; secondly, the planning did not include confrontation with the well-trained regular troops of the Pakistan army. Both of them said that they would provide us with only hand grenades and bayonets. Our job would be to lob those grenades inside the targeted area of Hotel Intercontinental and create panic amongst the foreigners who had come to Dhaka to see and assess the situation. They also told us, “You are aware that we want the World Bank team as well as the UNHCR to realise that the city is not normal and not totally under the control of the Pakistani army.”

Understanding the weight of our responsibility, I asked, “Once the operation is over, what should we do?” They said that those who would be directly involved with the operation were to come back. The rest could stay back and provide the headquarters with the reports of the movement of the Pakistani army within the city area and their locations around the city. At the same time they should also conduct similar operations within the city, and also try to acquire as much medicine and bandages as possible. Since torches and compasses were essential for night movement, we were to try to get hold of as many of them as possible and send them to the headquarters.

Maj Khaled Musharrof called me again and said, “You will not wait after the operation. Those three, four or five of you who will be directly involved must ensure that you are back safe at our sector headquarters as soon as possible.”
“We do not want anyone to get caught by the Pakistani army, because if that happens we will be behind the planned schedule by three to four months,” insisted the sector commander.

Wishing us the best of luck, Maj Khaled said, “I want you all to move by tomorrow morning or before, so you can prepare beforehand after having observed the movement of the World Bank team, and conduct the mission accordingly”.

FF Ali Ahmed Ziauddin, Mahbub Ahmed (Shoheed), Shyamol, Bhashon, (son of Prof Munir Chowdhury of Dhaka University), Anwar Rahman (Anu), Mofazzal Hossain Chowdhury (Maya), Fateh Ali Chowdhury, Abu Sayeed Khan, Engineer Seraj, Gazi Golam Dastagir, Tareq M. R. Chowdhury, Nazibul Haque, Reza (from Dhanmondi), Abdus Samad from Araihazar, Jabbar from Rupganj, Iftekhar and myself were the first seventeen who were fortunate enough to be the first group to enter Dhaka with the first mission ordered by our sector commander, titled “Operation Hotel Intercontinental — Hit & Run”.

Our journey began at early dawn. There was a cool breeze and almost everyone else was asleep. Both Capt Hyder and Badal wished us luck and Naik Munir led the way up to the border outpost of Comilla district and left us there. The air there seemed fresher to us than that of the training grounds. The countryside looked greener than on the other side of the border. Even the rain that drizzled down for some time seemed sweeter than that which often drenched us in the training camps.

We were carrying the Indian ‘pineapple type’ hand grenades, which were a dirty dark brown in colour, and one- fourth the size of local pineapples. Three to five grenades were provided for each person. Two types of bayonets were supplied and one bayonet was given to each person. We had to return the bayonets when we returned to our sector HQ, i.e. if we did. The Indian sub-machine gun (Sten gun) bayonet was shorter in length and a little wider than the three-nought-three bayonets, which was the other type supplied for this operation. I was given one hundred and sixty Pakistani rupees only as incidental expenses for the group, and this was to be used only in extreme situations.
Often while walking on the C&B road, which for the most part runs parallel to the Dhaka-Comilla highway, we checked the grenades to see whether the pin with the ring was in its position. We crossed over to the other side of the highway near Eliotganj. This was due to the fact that the bridge was partially damaged and the old culvert was not safe for freedom fighters since the Pakistani army used it at times. We walked across the paddy fields and made our way through the jute plants, which were mostly in ankle- to knee-deep muddy water. Small fish wiggled their tails at ease, friskily moving around these plants, playing their own games in their own world.

While moving further north-west we crossed one of the paddy field ‘walkways’. And there was a four to five feet wide stream we all had to cross. We had to jump across the stream and it was easy for all of us but one. I was completely relaxed and stretched my legs to jump to the other side. I did not realise that my right leg had slipped while taking the jump. The Indian Sten gun bayonet, which was in my right hand, fell on the forefinger of my left hand and pricked it. Blood started oozing out of my forefinger in no time.

I had learned from my grandfather that if one had been cut and did not have any anti-septic lotion nearby, nature often came in handy. I immediately looked for clean and fresh blades of green grass and pulled out a bunch and washed it in the stream. I chewed the grass like chewing gum for about one to two minutes and placed the damp wad over the cut area of my forefinger. I saw the bleeding stop soon. My friends solicitously asked me how I was feeling. I felt quite comfortable once the grass was placed over the cut area. Half an hour later there was no pain. We were still walking and getting closer to Daudkandi and were now on the unfinished ‘Food for Work Programme’ road that ran parallel to the Dhaka-Comilla highway. By then the wad of grass that was placed over my finger had fallen off somewhere on the way.

We took a country boat and sailed off for Dhaka from Daudkandi. Most of us went straight to sleep once we were inside the boat. Only two to three of us kept ourselves awake to ensure that the boatman did not take us in a wrong direction. It was also necessary in case the Pakistan army, who were already moving along the major rivers in local passenger launches, stopped us. We arrived at around 8:30 to 9:00 a.m. in the morning of the 3rd of June, 1971 at Swarighat, Dhaka.

We left for our own destinations as decided earlier, and I requested Zia and Maya to cross-check with me later in the evening. Maya told us that he could be contacted at the Music College, which was in Segunbagicha. And Zia would see me in the evening.

Once I arrived home at Dilu Road, New Eskaton, my parents and sisters were really surprised. They wanted to know what was happening on the front. They listened to Akash-Bani Kolkata regularly in the afternoon, and at night they tuned in to the Shadhin Bangla Betar Kendro.

I was also told by Badal before our departure that if any help was required I should contact Shawpon and Bodi. He assured me that both were very much with us. Shawpon resided in Malibagh, very close to the Gulbagh Power Sub-Station. He also had a pistol and could provide any kind of support required. Bodi, for some reason, was in Kishoreganj.

However, things became a little slow. Bhashon got in touch with us and said that his uncle, whose name was Badal and who was a cameraman working in the Film Development Corporation in Dhaka, was very keen to join us. Moreover, he was a very good driver and could drive any kind of vehicle.

I got in touch with Shawpon and told him that we would require a vehicle to do the job and he had to give us the covering fire if required. We knew very little and were unaware that with a pistol one couldn’t give covering fire as such. Nevertheless at that time we felt that the covering fire with a pistol was good enough.

FFs Zia, Maya, Shawpon, Bhashon, cameraman Badal Bhai and myself started looking for a car to hijack from Gulshan on the 7th of June. We chose Gulshan first circle because there was no entry from Kemal Ataturk Road to the second circle; in fact this road had not been completed then. The only two entry points to Gulshan were from the Tejgaon industrial area and from Mohakhali.

I drove my father’s Triumph Herald and Badal Bhai drove a grey Mazda 2000. Badal Bhai, Shawpon, Bhashon, Zia, Maya and I were waiting near the first circle of Gulshan to hijack a vehicle.

On the very first day about eight to nine vehicles passed us. Bhashon either knew almost all the owners of the vehicles that passed or they knew him. They were either his relatives or his father’s friends! On the second day we went a little early, at around 5:30 p.m. As usual Bhashon started his routine of protecting the vehicles. The vehicles could not even pass us, and Bhashon would say that the man in the vehicle was his Chacha, a friend’s father. That person in the other vehicle was a relative of his relative or that vehicle we saw coming would have to be left alone since it belonged to his cousins. It seemed to us that he knew the whole of Gulshan. We got fed up and decided to abandon the mission and went back.

Once we were back we discussed the matter among ourselves and decided that the next morning we would not include Bhashon in our group. We replaced Bhashon with another freedom-fighter who could also drive and went to hijack a vehicle for the third time from Gulshan on the 9th of June, 1971 in the evening.

The sun was on the verge of setting, its brightness dying in the western sky. We waited with sharp eyes and looked for our prey. We finally saw a blue Datsun 1000, a brand new car, being driven by the driver alone. Badal Bhai with his Mazda car did not wait as the car passed us and accelerated. He went right behind the Datsun and tailed it. Seeing Badal Bhai’s move I started my car. My task was to ensure that when Badal Bhai overtook our prey I should have my car at the back of the Datsun, so that it could not escape us.

We crossed the second circle and moved towards the office of the Consul General of the USSR. Badal Bhai overtook the Datsun with his Mazda. I immediately accelerated and went behind the blue Datsun, boxing it in. Badal Bhai was right in front of the turn of the Road No 79 leading towards the Soviet Consulate, and he blocked the road in the way that we had seen in the movies. The driver by then had understood what was going on and wanted to back and turn his car. I followed immediately and blocked his way and thus pinned the vehicle.

Badal Bhai’s car was taken over by the sixth freedom-fighter, and he took control of the Datsun. He asked the driver where he was going and the driver replied that he was on his way to one of the flats of Adamjee, which was at the corner end of the road that he had tried to take. Shawpon sat in front. Maya and Zia sat at the back and the driver, whose eyes were blindfolded with a piece of black cloth, was made to sit between them.

I drove behind them. Cameraman Badal Bhai now drove the Datsun and we moved south of the first circle. The Datsun crossed the first circle and went and stopped in front of the culvert on the road that goes from Gulshan through Tejgaon industrial area (presently the culvert is just before the Aarong Shop between Gulshan and the Tejgaon industrial area). My car followed and stopped behind it. I stepped down and inquired what had happened.

Shawpon stepped out of the car and told me that the driver had recognised one of them at the back. Zia told us that the driver knew us and had to be disposed of. We were left with no choice. I got the driver out of the vehicle and brought him down below the culvert and he was expended.

We drove the Datsun to a house in Siddeshwari and I left my car at Dilu Road and joined the others there. It was around 7:30 p.m. and darkness had fallen and the streetlights of the city had been lit. The blue Datsun rolled out of Siddeshwari and moved towards Hotel Intercontinental.

Cameraman Badal Bhai was driving, and Shawpon sat in front with his pistol. At the back Maya and I sat beside the left and right doors respectively and Zia was between the two of us. We three took nine pineapple hand grenades with us for the operation.

The car crossed the President’s house (now Shugandha) and took a right turn, passing the old tree that formed a round island in between the three roads. It took a left turn from where the boundary wall of the Hotel Intercontinental starts. The well-known Sakura Restaurant, with its big and brightly lit signboard, could be seen at the end of the road. While passing at a slow speed we found that the boundary wall of the then Hotel Intercontinental was occupied by people wearing various types of caps and making themselves comfortable by sitting on the wall, facing the portico. It seemed to us that they were waiting eagerly to see or receive some very important visitors.

While we were at the mid-section of Hotel Intercontinental and moving towards Sakura, we heard a siren and saw a police escort vehicle move in from Mymensingh Road with two or three more vehicles behind it. The last car was a white Chevrolet, a mid-sixties model. The car had a chocolate coloured strip going all the way from the middle to the back end. We immediately understood that the occupants were the guests of the Pakistan army for whom we had been dispatched from Motinagar to Dhaka. The escorted entourage passed us and went into Hotel Intercontinental. Badal Bhai had by then taken a sharp U-turn from the end of the Minto Road and again turned his car and stopped at the small gate of the hotel, which stood on the footpath of the road.

Pedestrians could walk in through that small gate, which stood parallel with the portico and the revolving entrance of Hotel Intercontinental. The people who were lazily waiting and sitting on the boundary wall became active all of a sudden and began clapping their hands very happily. They did not bother to look at the Datsun and the four young freedom-fighters coming out quietly and standing near that small gate behind them.

Zia, Maya and I stood about 3 to 4 feet apart, and Shawpon was standing with his right hand inside his shirt, holding his pistol.

By the time I had pulled out the pin from my grenade I saw that Zia had already thrown his grenade. The white Chevrolet rolled into the porch and two people were trying to get out. I threw the second grenade, which landed near the revolving door. Maya lobbed the third grenade that also landed near it.

Zia got his second grenade out and lobbed it at the vehicle. The grenade went in through the side window. All the grenades blasted one after another and all of a sudden we could see that the rear of the heavy Chevrolet car had jumped about 3 to 4 feet above the ground and then fallen flat. Another grenade was thrown, most probably by Maya, which landed on the walkway of the hotel entrance.

It was for the first time that the people who were hanging around Hotel Intercontinental saw with their own eyes that an attack on the government was being made by the freedom-fighters. We did not wait any further and rushed back to our car. We did not even bother to observe the panic that we had created. Once we were all inside, Badal Bhai turned the car again towards its destination.

Our vehicle took the same road and, once on the move, we realised that the people who were on the boundary wall had disappeared in no time. We found lots of sandals, lungis and even caps lying all over Minto Road and Hare Road all the way till we crossed the President’s house and took Bailey Road. We turned the vehicle to right towards Motijheel to reach one of the army junta daily paper office Morning News. We lobbed two Grenades over the high raised boundary wall and moved out fast from that place. It was from there that we went towards the Ramna Thana passed it and moved forward to the Moghbazar Kazi office opposite of which was the residence of Jamaat-e-Islam leader Golam Azam, there we also lobbed quickly two grenades over the boundry wall towards the building. We very quickly turned the car from the dead end lane and came back to our destination. We realised that this kind of situation could only take place when an illegal government exploits its own people in the name of religion.

Once we were in Siddeshwari in Badal Bhai’s place, we told Shawpon that we would meet again sometime soon. He should keep in touch with Chullu Bhai. I requested Maya and Zia to be in my house tonight so that by 7:30-8:00 a.m. in the morning we three could start together for our destination. And that would enable us to start our journey back to Motinagar early. Once we were back home, my three sisters and my mother got hold of us, and we had to narrate what we had done. Their faces reflected joy and happiness. I also requested Asma, my elder sister, to hand over a chit to Shoheed who would be coming tomorrow to our house after our departure. 2-IC Shoheed was supposed to look after the rest of the freedom-fighters whom we were leaving behind.

On the 10th of June my father, Mr Hafizul Alam, gave us three a lift in his Triumph Herald all the way to Narayanganj. We had a heavy breakfast in our house so that we wouldn’t get hungry on our way back. In the car we narrated to my father in full detail what had happened the evening before. He seemed to be very proud of all of us. He dropped us near one of the “gudara ghats”, very close to the Narayanganj IWTA ferry terminal.

We begged leave from him and stepped into a country boat, which took us to the other side of the bank of the river Sitalakhya, close to the IWTA Narayanganj Dockyard. It was around 10 a.m. in the morning when we reached the other side of the river and started to walk. We did not stop for a single moment apart from resting for a few minutes inside a mosque, and that too was at around 8 p.m. the same night. We were somewhere close to the border and couldn’t rest long inside the mosque due to mosquito bites. Hence, we again started our journey by foot.

It was around 11 p.m. or 12 midnight that we reached Motinagar and reported to Capt ATM Hyder and Shahidullah Khan Badal. They were absolutely delighted to see the three of us safely back in the camp, and informed Maj Khaled Musharrof of our arrival. They had already received the news of our successful mission through BBC and All India Radio. We three felt very proud after the very first and successful operation inside Dhaka city.

We went back to our normal life in the camp. The only change that took place among us and the other freedom-fighters was an explosion of confidence, now that we were back from a mission safe and successful, which mattered most. If we could do it, so could the others.

There were new faces in the camp. We narrated our action to some of our old friends and they were absolutely thrilled to hear about it from the horse’s mouth. The sun looked fresh and new to us and seemed to smile on our camp the next morning. Capt Hyder became busy with the training schedule for the old and newly enrolled freedom-fighters. We began receiving further training for the next assignment.

The writer is a Freedom Fighter, Sector-2 and K-Forces.
This article is taken from his book titled “Brave of Heart”.

http://www.thedailystar.net/beta2/news/operation-hotel-intercontinenta
l-hit-run/



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 212.164.212.20 (*)          Date:20 Dec 2013 -- 06:01 PM

Published: Thursday, December 12, 2013
News Analysis
War crimes, Kerry & history
Syed Badrul Ahsan

US Secretary of State John Kerry called Prime Minister Sheikh Hasina yesterday to warn her that if convicted war criminal Abdul Quader Mollah goes to the gallows, Bangladesh’s parliamentary elections might be derailed.
Decades ago, in 1977, one of Kerry’s predecessors, Henry Kissinger, warned Pakistan’s prime minister ZA Bhutto that if the latter went ahead with his nuclear plans, Washington would make a horrible example of him.

In 1974, as a fledgling Bangladesh sought to broaden its trade and diplomatic relations with nations around the world and from that perspective attempted to export jute to Cuba, the US administration made sure that Dhaka did not get the kind of food aid it sought to tide over a famine-like situation in the country.

In 1971, even as the whole world took note of the genocide being committed by the Pakistan army in occupied Bangladesh and condemned the Yahya Khan junta, president Nixon and Henry Kissinger looked the other way because they needed Pakistan’s dictator to help Washington open up a route to Beijing.

All of the above is part of history. And now this telephone call by Kerry, a former senator and presidential candidate, to the leader of a free nation raises a number of questions. Those questions have to do with what the Obama administration, through both Kerry and his predecessor Hillary Clinton, has not said about the role the Jamaat-e-Islami played in the nine months of the Liberation War seventy-five million Bangalees waged back in 1971 against a vicious occupation force.

At the time of the struggle, men like Edward Kennedy and Edmund Muskie and the US media observed it all and drew Americans’ attention to the pogrom. The American consul general in Dhaka at the time, Archer Blood, systematically despatched graphic details of the gruesome killings of Bangalees the army and its quislings were committing to the State Department. His concerns were brushed aside.

The point is simple: Americans in responsible positions, back in 1971 and forty-two years later, knew and know what the local collaborators of the Pakistan army did in the war, how many Bangalees were murdered, how many Bangalee women were raped and how many towns and villages were destroyed. They know history. They know of the role the Jamaat and its leaders played in that period of darkness.

And yet today, when the state of Bangladesh tries to bring the perpetrators of the old repression to justice, tries to handle its domestic criminals under laws that take care to uphold international standards of crime investigation and trial, Secretary Kerry speaks of the need for a maintenance of global norms in the matter of dealing with such war criminals as Abdul Quader Mollah. Note that the secretary says nothing about the incontrovertible evidence that went into the judgment against the Jamaat leader.

Interestingly, this emphasis on international standards raises the very grave issue of what has been happening in Afghanistan and Pakistan through an indiscriminate use of American firepower. Thousands of innocent men, women and children have perished in these two countries through drone attacks, protests against which have gone unheeded. The impunity with which US aircraft have been pounding away at the Taliban in Pakistani territory has clearly not been in consonance with the rules of international behaviour. People celebrating weddings in Afghan villages have been blown to pieces by drones.

Go back a decade. The lie, which Colin Powell presented in detail before the UN Security Council, on which the Anglo-US attack on Iraq was made contemptuously cast aside any and all thoughts of an upholding of international standards of behaviour.

And the lie? That Iraq was in possession of weapons of mass destruction, that Saddam could employ them against his enemies in a mere 45 minutes. The weapons were never discovered, for they never existed. But in patent violation of international law, a beautiful country named Iraq was reduced to rubble.

Now, observe the confusion into which John Kerry has placed himself. He believes that hanging Mollah will put Bangladesh’s election in jeopardy. Is he informing us that the future of our democracy depends on the way our justice system deals with a war criminal? Are we expected to persuade ourselves that what we saw the war criminals doing in 1971 was not real, was an illusion and that what the powerful men in Washington now tell us is the reality?

Think back on the alacrity with which Nazi war criminals were dispatched in Nuremberg and imperial Japanese war criminals were dealt with in Tokyo. International standards? Think too of the manifest injustice employed in the name of justice at Guantanamo and on those so-called rendition flights. What forms of international standards went into the eavesdropping of global leaders’ telephone conversations by the National Security Agency?

For the people of Bangladesh, despite the divisive nature of their democratic politics, the truth holds that the war criminals committed unprecedented outrage within the geographical contours of Bangladesh in 1971, that it is the right of this republic to deal with such a domestic issue on its own and on a necessary underpinning of properly civilised, moral and legal behaviour.

http://www.thedailystar.net/beta2/news/war-crimes-kerry-history/


Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.41 (*)          Date:21 Dec 2013 -- 10:19 AM

খেতাবপ্রাপ্তদের খোঁজে বিমল কান্তি
নিয়ামুল কবীর সজল

অধ্যাপক বিমল কান্তি দের শুরুর গল্পটা ছিল এ রকম, 'সময়টা হবে ১৯৭২-৭৩ সাল। তখন আমি সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন সাহসী বীর সেনা কর্মকর্তার আহ্বানে আমি ১০-১৫ জন গণবাহিনীভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারভিত্তিক কিছু তথ্য সংগ্রহ করি। ওই সময়ে ওইটুকুই ছিল আমার প্রথম কাজ। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে টুকটাক লেখালেখি ও পড়ালেখা চললেও এরপর ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত আমি বলতে গেলে এ ব্যাপারে অনেকটা নীরবই ছিলাম।'

তারপর ১৯৮৬ সালে অদ্ভুতভাবেই তিনি জড়িয়ে পড়লেন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বেড়ানোর কাজে। ১৯৮৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার দ্বি-শতবার্ষিকী উৎসবের প্রাক্কালে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী 'ময়মনসিংহের জীবন ও জীবিকা' নামের একটি গ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। বিষয় নির্বাচন কমিটির সভায় বিমল কান্তি দে নিজেই প্রস্তাব করেন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচিত হওয়া দরকার। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব পাস হলে বিমল কান্তি দেকেই দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবন্ধটি লেখার। এরপর প্রবন্ধ লেখার জন্য কয়েক মাস বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বিভিন্ন লোকের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে এবং চিঠির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য নিয়ে রচনা করেন ১০৮ পৃষ্ঠার আয়তনের লিখিত প্রবন্ধ। প্রবন্ধটির নাম ছিল 'বৃহত্তর ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধ-৭১'। ওই প্রবন্ধের শেষ দিকে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে উপাধি পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা দেন- যা ছিল লোকমুখে শ্রুত। কিছুদিন পর আবিষ্কৃত হলো সেই তালিকায় ভুল আছে কিছু। সেই ভুল শুদ্ধ করতেই সব ছেড়েছুড়ে তিনি হয়ে গেলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধানে ছুটে চলা এক অক্লান্ত পথিক।

তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি গেজেট খুঁজে বের করবেন। সেখানে কত বিচিত্র অভিজ্ঞতা। প্রায় দুই বছর চেষ্টার পর বিমল কান্তি দে ঢাকার স্বাধীনতা ভবন থেকে উদ্দিষ্ট গেজেটের একটি কপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। কিন্তু কপি পেয়ে তিনি আরো বিভ্রান্তিতে পড়েন। কারণ ওই কপিতেও অনেক কিছু ছিল অসম্পূর্ণ ও ভুল। এ ব্যাপারে বিমল কান্তি দে বলেন, সরকারি তালিকায় তিনি দেখেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রবের সার্ভিস নম্বর গেজেটে মুদ্রিত নেই। ৬৮ জন বীর-উত্তমের মধ্যে চারজনের সার্ভিস নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ নেভির মতিউর রহমান বীর-উত্তমের সার্ভিস নম্বর মুদ্রিত হয়েছে ০২৩০। অথচ প্রকৃত নম্বর ৬২৩০। গণবাহিনীর আটজন বীর-উত্তম উপাধি পেয়েছেন। অথচ তাঁদের মধ্যে সাতজনের পূর্ণ পরিচয় নেই। গণবাহিনীভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যাঁরা বীরবিক্রম উপাধি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৮ জনের পিতার নাম মুদ্রিত হয়নি, ২২ জনের কোনো ঠিকানা লেখা হয়নি। গণবাহিনীতে যাঁরা বীরপ্রতীক পেয়েছেন, তাঁদের ৭৯ জনের পিতার নাম এবং ৮০ জনের ঠিকানা লেখা হয়নি। এসব জটিলতা ও অস্পষ্টতা নিয়ে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর 'বীর পদক প্রসঙ্গে' শিরোনামে একটি প্রবন্ধও লেখেন। সরকারি ওই তালিকা সূত্রেই তিনি বীরপ্রতীক তারামনের নাম পান। বহু শ্রমের বিনিময়ে তারামনকে তিনি জাতির সামনে উপস্থিত করেন। এরপর খুঁজে পান পদকবঞ্চিত আরেক বীরপ্রতীক বশির আহম্মেদকে। খুঁজে পান তারামনের ধর্ম পিতা মহিব হাবিলদারকে। সন্ধান পান অতুলনীয় বীর দ্বি-মুকুটপ্রাপ্ত অনারারি ক্যাপ্টেন আফতাব আলী বীরপ্রতীককে। আর তাঁদের সন্ধানে একটানা প্রায় ১০ বছর ঘুরে বেড়িয়েছেন পথে-প্রান্তরে। ১১ নম্বর সেক্টরের প্রায় পুরো যুদ্ধাঞ্চলটিই তিনি ঘুরেছেন। বিভিন্ন এলাকার মানচিত্র সংগ্রহ করে সেখানকার গ্রামের নাম ও অবস্থান জেনেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রের ম্যাপ সংগ্রহ করেছেন। চিঠি লিখেছেন কয়েক হাজার। নাম না জানলেও তিনি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। চিঠি লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি চেয়ারম্যান অমুক ইউপি, সাধারণ সম্পাদক অমুক জেলা প্রেসক্লাব, প্রধান শিক্ষক অমুক স্কুল, এমনিভাবে চিঠি দিয়েছি।' যেখানেই তিনি কাঙ্ক্ষিত মানুষটির নাম শুনেছেন, সেখানেই ছুটে গেছেন। গিয়ে হয়তো আবার দেখেছেন আরে এ মানুষটি তো সেই মানুষ নয়। আবার যার কাছে গিয়েছেন সে হয়তো বলেছে অমুক জানে। তখন তিনি আবার সেই নতুন মানুষটির সন্ধানে পথে বেরিয়েছেন। রাত কাটিয়েছেন অজানা-অচেনা মানুষের ঘরে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তের আঁকাবাঁকা পথে কিংবা ব্রহ্মপুত্রের চর ধরে হেঁটেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ট্রেনে, বাসে, মোটরসাইকেলে পথ চলেছেন। তাতে যেমন তারামন বিবিকে আবিষ্কারের আনন্দ আছে, আবার আছে না পাওয়ার কিছু হতাশাও। যেমন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি খুঁজছেন আব্দুল মজিদ আর ভূঁইয়া নামের দুই বীরপ্রতীককে। কিন্তু তাঁদের দেখা তিনি এখনো পাননি। আব্দুল মজিদের একটি ঠিকানা পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি কথা বলেছেন। কিন্তু যথার্থ সাক্ষী পাননি। আর তাই মাঝেমধ্যে মনে হয়, হয়তো এ মানুষটি গেজেটের কাগজেই থেকে যাবেন। তেমনি খুঁজে পাওয়া যাবে না বীরপ্রতীক ভূঁইয়াকে। সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের অর্থানুকূল্যে ও সৌজন্যে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সেই গ্রন্থের তথ্যানুযায়ী এখনো ৫৫ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে শনাক্ত করা যায়নি। 'তাঁদের পূর্ণ পরিচয় সংগ্রহের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের কি কিছুই করার নেই?' মাঝেমধ্যে এমন আফসোস আর হতাশা ভর করে। কিন্তু মুহূর্তেই হতাশা ভুলে, আর কে কী করল, না করল- না ভেবে নেমে পড়েন আবার কাজে। জীবনের শেষ বেলা এখন, বয়স হয়েছে, তবু থামেন না। আগের মতো আর চিঠি লেখা লাগে না, এখন মোবাইল ফোনেই চালিয়ে যান সন্ধানের কাজ। আর এর ফাঁকে সুযোগ পেলেই নতুন প্রজন্মকে শোনান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। যেন তাদের মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সেই ভালোবাসা প্রবাহিত হয়। যখন তিনি থাকবেন না তখনও যেন কেউ একজন থাকে, যে দিনের পর দিন পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াবে বীর শহীদদের সন্ধানে। তারপর জাতির সামনে তাঁদের তুলে ধরে বকেয়া সম্মান পাইয়ে দেবে ঠিকঠাক।





- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/bijoy-dibos-sonkha-2013/2013/
12/16/31038#sthash.IgjtKwMC.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.41 (*)          Date:21 Dec 2013 -- 10:25 AM

৫০ শহীদের 'পাহারাদার' আব্দুল করিম
বিশ্বজিৎ পাল বাবু

আব্দুল করিমকে চেনেন? মফস্বল সম্পাদক শামীম ভাইয়ের এমন প্রশ্নে কোনো চিন্তা না করে দ্রুতই বললাম, 'হ্যাঁ, চিনি'। এভাবে ঝটপট বলার কারণও আছে। চেনার মতো আব্দুল করিম যে একজনই! মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম, ৫০ শহীদের 'পাহারাদার' আব্দুল করিম।

'অফিস আদেশে' পরদিন সাতসকালেই ছুটে চলা। প্রায় ৩৫ কিলোমিটারের পথ বাড়ি থেকে। পথে পথে অবরোধের বাগড়া। একবার তো মোটরসাইকেলের চাবিই কেড়ে নেওয়া হলো। আমি সাংবাদিক, করিম ভাইয়ের কাছে যাচ্ছি, বলে-কয়ে নিস্তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোল্লা পাথর গ্রাম। গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে সড়কের পাশ ধরে উঁচু ঢিবিতে ৫০ শহীদের কবর। সামনের খোলা মাঠে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে চেয়ার পেতে বসে আছেন এক ব্যক্তি। তিনিই আব্দুল করিম। শহীদদের 'পাহারায়' এভাবে বসে থাকাটা ৪২ বছর ধরেই রুটিনকাজ আব্দুল করিমের। কেউ তাঁকে করিম চাচা, কেউ করিম ভাই বলে ডাকেন।

শুরুতেই যথারীতি স্বভাবসুলভ আপ্যায়ন। এরপর চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বলতে শুরু করলেন, 'জুন মাসের ৬ তারিখ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আর্টিলারি শেলে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় শহীদ হন হাবিলদার তৈয়ব আলী। চতুর্থ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ২ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সাব সেক্টরের ক্যাপ্টেন গাফফার আমাকে ডেকে নিয়ে লাশ দাফনের জন্য জায়গা খুঁজে বের করতে বলেন। আমি বলি, আমাদের পারিবারিক একটি কবরস্থান আছে, সেটি খুব নিরাপদ। ক্যাম্পের কয়েকজন এসে জায়গা পছন্দ করেন। আমি আমার বাবা-মায়ের হাতে লাশ বুঝিয়ে দিই। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে তৈয়ব আলীকে দাফন করা হয়।'

সেই থেকে শুরু। এক, দুই, তিন করতে করতে পঞ্চাশ। তবে এটি আর এখন পারিবারিক কবরস্থান নেই। একে একে এখানে এনে দাফন করা হয় ৫০ বীর সেনানীকে। আর এই বীর সেনানীদের দেখে রাখার কাজটি একাই করে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম। প্রতিদিন সমাধিস্থল পরিষ্কার করা, আগন্তুকদের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরা, আপ্যায়ন ইত্যাদিতে দিনভর ব্যস্ত সময় কাটান তিনি। এ ছাড়া সমাধিস্থলের উন্নয়নে দেশের বিশিষ্টজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাও নিয়মিত কাজ আব্দুল করিমের।

সমাধিস্থলের তদারকি করতে গিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে বেকার জীবন কাটানো আব্দুল করিম জানালেন, শহীদদের দেখভালে বাকি সম্পত্তিটুকু বিক্রিতেও আপত্তি নেই। তবে বেঁচে থাকতে শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় আরো কিছু সরকারি উদ্যোগ দেখে যেতে চান তিনি। দাবি জানান সমাধিস্থলের কাছে বঙ্গবন্ধু, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ ও জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য নির্মাণের। আর চান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখে যাওয়ার স্বপ্নের কথা, 'তা না হলে তো বাংলাদেশের মাটি অপবিত্র হয়ে থাকবে।'

কোল্লা পাথরের শহীদ সমাধিস্থলটুকু প্রায় ৬৫ শতাংশ জমির ওপর। ১৯৭২ সালে এর পুরোটাই সরকারকে লিখে দিয়েছেন আব্দুল করিমের বাবা। যুদ্ধের পরপরই কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (বর্তমান নির্বাচন কমিশনার) কাজী রাকিব উদ্দিন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহকুমা প্রশাসক স ম রেজা কোল্লা পাথর আসেন। এ সময় তাঁরা জায়গাটি সরকারকে দিয়ে দেওয়ার জন্য আব্দুল করিমের বাবা আব্দুল মান্নানের কাছে অনুরোধ করেন। বাবার একমাত্র সন্তান আব্দুল করিমও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। এরপর ধীরে ধীরে সমাধিস্থলের সৌন্দর্য বাড়ানো হয়। এখন চারপাশে বাউন্ডারি ঘেরা এ সমাধিস্থল। ২০০৮ সালের ১৯ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় একটি রেস্ট হাউস। একই বছরের ৫ মার্চ উদ্বোধন হয় মসজিদ। যে ৫০ জন শহীদ শুয়ে আছেন এখানে তাঁদের অনেকেই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খেতাবপ্রাপ্ত। অবশ্য কবরের সংখ্যা এখানে ৫১টি। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ার প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ভারতের আগরতলার একটি হাসপাতালে মারা যাওয়ার সময় বলে যান তাঁকে যেখানেই কবর দেওয়া হোক না কেন, তাঁর পাশে যেন স্ত্রীর জন্য জায়গা রাখা হয়। সে কারণে এখানে নজরুল ইসলামের পাশে আরেকটি কবরের জায়গা রাখা হয়েছে। আব্দুল করিম স্মৃতি হাতড়ে জানালেন, 'লাশের সংখ্যা যখন ২৬-২৭টি হয়ে গেল তখন আমি নিজ খরচায় ভারত থেকে টিনের প্লেটে তাঁদের নাম লিখিয়ে আনি। সেগুলো কবরের পাশে লাগিয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পরও এখানে শায়িত অনেকের নাম-ঠিকানা শনাক্ত হয়। তবে আজও দুজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। যাঁদের কবরের সামনে অজ্ঞাত লেখা আছে।'

কোল্লা পাথরে শায়িত ৫০ বীর সেনানী হলেন (কবরের ক্রমানুসারে) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর দর্শন আলী, ঢাকা আর কে মিশন রোডের জাকির হোসেন (বীরপ্রতীক), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার জয়দেবপুরের আব্দুল জব্বার, সিলেটের গহরপুরের তৈয়ব আলী, বগুড়ার সারিয়াকান্দির আব্দুস সাত্তার (বীরবিক্রম), কুমিল্লার লাকসামের বিজরার মো. আক্কাস আলী, কসবার কোল্লা পাথরের ফখরুল আলম, কসবার কামালপুরের ফারুক আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর কুড়িঘরের নুরু মিয়া, ময়মনসিংহের মহাদানের মোজাম্মেল হক, নোয়াখালীর মধ্যম কাচার আব্দুস সালাম (বীরবিক্রম), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার কুড়িপাইকার নোয়াব আলী, ফরিদপুরের পাঁচগাঁওয়ের মুসলিম মৃধা, শরীয়তপুরের নড়িয়ার নজরুল ইসলাম, কসবার মন্দভাগের আব্দুল অদুদ, কুমিল্লার মুরাদনগরের তমিজ উদ্দিন, হোমনার আবুল কাসেম, ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলার মোশারফ হোসেন, রামপুরের মাইনুল ইসলাম (বীর-উত্তম), কসবার বায়েকের আব্দুল কাইয়ুম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের হুমায়ুন কবির, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আব্দুল খালেক, বগুড়ার আজিজুর রহমান, ব্রাহ্মণপাড়ার তারু মিয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বেলায়েত হোসেন (বীর-উত্তম), কসবার বাউরখন্দের রফিকুল ইসলাম, আখাউড়ার নিলাখাদের মোরশেদ মিয়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারের আশুরঞ্জন দে, আখাউড়ার তুলাই শিমুলের তাজুল ইসলাম, ধাতুর পহেলার মো. শওকত, কসবার নিয়ামতপুরের আব্দুস সালাম, আখাউড়ার আমির হোসেন, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের জাহাঙ্গীর আলম, কসবার সৈয়দাবাদের পরেশ চন্দ্র মলি্লক, কুমিল্লার হোমনার জামাল উদ্দিন, কসবার শিকারপুরের আব্দুল আওয়াল, মাইজখারের আবেদ আহম্মেদ, কুমিল্লার দেবীদ্বারের ফাতেয়াবাদের সিরাজুল ইসলাম, হোমনার ফরিদ মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মতিউর রহমান, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের রাজাপুরের সাকিল মিয়া, চাঁদপুর হাইমচরের ইলাহী বক্স পাটোয়ারি (বীরপ্রতীক), বাঞ্ছারামপুর জগরারচরের আব্দুর রশিদ, কসবার মজলিশপুরের শহিদুল হক, মান্দাইলের আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লার দেবীদ্বারের উজানীচরের আব্দুল বারী, নোয়াখালীর মাইজদীর সাজেদুল হক ও অজ্ঞাতপরিচয় দুজন। প্রত্যেকের কবরের সামনেই তাঁদের নাম-ঠিকানা লেখা আছে। এ ছাড়া সমাধিস্থলে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে শহীদদের নাম-ঠিকানাসংবলিত ফলক।

কোল্লা পাথরে শায়িত ওই বীর সেনানীরা এখন যেন আব্দুল করিমের পরমাত্মীয়। শহীদদের পরিবারের লোকজনের খোঁজখবরও রাখেন তিনি। এ ছাড়া প্রতিবছরই কোনো না কোনো সময়ে বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে শহীদদের পরিবারের লোকজন এখানে এসে শ্রদ্ধা জানিয়ে যান। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসেন এখানে। তাঁদের পরম মমতায় আপ্যায়নের কাজটা নির্দ্বিধায় করে যান মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল করিম। নিজে থাকেন সমাধিস্থলের পাশেই পৈতৃক ভিটায়। আট মেয়ে ও তিন ছেলের বাবা আব্দুল করিম নিজের অবর্তমানে সমাধিস্থলের এই সমাদরটা থাকবে কি না এই নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন মাঝেমধ্যে। 'আমি জানি না আমার ছেলেরা এই পাড়াগাঁয়ে থাকবে কি না। আমার মৃত্যুর পর কে এটাকে দেখাশোনা করবে বুঝতে পারছি না। শুনেছিলাম আশপাশে থাকা আরো ১১৫০ শহীদের কবর এখানে আনা হবে। এ প্রকল্পেরও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।'

১৯৯২ সালের ২৪ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সমাধিস্থল পরিদর্শন করে এর উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আশ্বাস আশ্বাসই থেকে গেছে। মানুষের ভালোবাসা আর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া সামান্য কিছু ভাতা নিয়েই দিন কাটে আব্দুল করিমের। হতাশ হয়ে পড়েন কখনো কখনো। কোনো রকম স্বীকৃতি না পাওয়ার দুঃখ ভর করে; কিন্তু তখন আবার চোখ বুলান সমাধিস্থলের পাশে রাখা পরিদর্শন বইতে। বিখ্যাত মানুষরা এখানে এসে কত প্রশংসার কথা লিখে গেছেন তাঁর নামে। অদূরে শুয়ে থাকা শহীদরা তাঁরাও তো প্রতি মুহূর্তে ভালোবাসায় ভেজাচ্ছে তাঁকে। তাঁর বুকটা ভরে ওঠে। তখন জীবনটাকে পূর্ণ আর ধন্য মনে হয়।







- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/bijoy-dibos-sonkha-2013/2013/
12/16/31037#sthash.3nKlfyVL.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.41 (*)          Date:21 Dec 2013 -- 10:30 AM

গোপীকান্তের অক্লান্ত সাইকেল
ফখরে আলম

মুক্তিযুদ্ধের সময় গোপীকান্ত সরকারের বয়স ৯ বছর। খাজুরা টিপিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। যশোরের বাঘারপাড়া থানার পেছনে পড়া সেকেন্দ্রারপুর গ্রামে তাঁদের বাড়ি। ডানপিঠে গোপীকান্ত স্কুলে গেলেও সারা দিন নিজের তৈরি ঘুড়ি উড়িয়েছেন এ মাঠ ও মাঠজুড়ে। হলুদ শর্ষে ক্ষেতের ভেতর দিয়ে দৌড়ে খেজুর গাছে উঠেছেন। পাটকাঠির নল দিয়ে রস চুরি করে খেয়েছেন। এ সময়ই যুদ্ধের দামামা। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। শিশু গোপীকান্ত সেই মুক্তিযুদ্ধ খুব কাছ থেকে দেখেছেন। দেখেছেন রাজাকাররা নিরীহ মানুষের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেশীকে ধরে নিয়ে গুলি করে মেরেছে। গ্রামের তরুণরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লেখাচ্ছে। গোপীকান্ত রাজাকারের নৃশংসতা দেখে ফুঁসে উঠেছেন। মনে হয়েছে, গুলতি দিয়ে ওদের মাথা ফাটিয়ে দেন। কিন্তু শিশু বয়স তাঁকে করতে দেয়নি কিছুই। মনে কষ্ট নিয়ে নীরবে কেঁদেছেন।

দেশ স্বাধীন হয় একসময়। সময়ের নিয়মে বড় হয়ে গোপীকান্ত খাজুরা শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে শুরু করেন কর্মজীবন। ১৯৯৬ সালে কলেজ থেকে শহীদ সিরাজুদ্দীনের একটি জীবনীগ্রন্থ বের হয়। গোপীকান্ত মন দিয়ে গ্রন্থটি পড়েন। সিরাজুদ্দীনের সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধের সাহসিকতা তাঁকে মুগ্ধ করে। তিনি সিরাজুদ্দীনের ঘোরে বুঁদ হয়ে থাকেন। আর সেটাই তাঁর ভেতরের অনেক বছরের ঘুমন্ত সত্তাকে জাগিয়ে বের করে আনে আরেক গোপীকান্তকে। সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গবেষণা করবেন। খাজুরা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখবেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্য শহীদদের তালিকা তৈরি করবেন। রাজাকারের তালিকা করবেন। মুক্তিযুদ্ধের আলো জ্বালাবেন। তাঁদের স্মরণ করার জন্য এলাকাবাসীকে নিয়ে গড়ে তুলবেন স্মৃতিস্তম্ভ।

পরিকল্পনার মালা গেঁথে নিজের বাইসাইকেল নিয়ে বের হন গোপীকান্ত। এর পর থেকে তাঁর সাইকেলের চাকা আর থামেনি। বাঘারপাড়া উপজেলার ১৮৮টি গ্রাম। সব গ্রামই তিনি সাইকেলে ঘুরেছেন। কলেজের ক্লাস শেষে খাতা-কলম ব্যাগে ভরে সাইকেলে করে তিনি গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হাতড়ে বেড়িয়েছেন। গ্রামভিত্তিক শহীদদের তালিকা তৈরি করেছেন। যেমন- প্রেমচারা গ্রামের শহীদ সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, সাখাওয়াত হোসেন, আবুল হোসেন, আফসার বিশ্বাস ও রহম আলী; গাইদঘাট গ্রামের শহীদ সুরত আলী ও মুক্তার আলী; পিয়ারপুর গ্রামের শহীদ রজব আলী, চাঁদ আলী ও চাঁদ আলীর স্ত্রী; আড়োকান্দি গ্রামের শহীদ মো. মান্নান, ভবানীপুর গ্রামের শহীদ নিয়ামত আলী ও শামসুর। অন্যান্য গ্রামের শহীদের তালিকাও তিনি করেছেন। রাজাকারদেরও তালিকা তৈরি করেছেন। নারী নির্যাতন, ধর্ষণের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এখন তাঁর কাছে দুই শতাধিক শহীদ আর শতাধিক রাজাকারের নামের তালিকা রয়েছে। রাজাকারের নৃশংসতার তথ্যও রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তারাও এ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। গোপীকান্ত মিত্রবাহিনী নিয়েও কাজ করেছেন। একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর খাজুরা মনিন্দ্রনাথ মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রাজাকারদের সঙ্গে যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ছয়জন সৈনিক শহীদ হন। ২০০৯ সালে গোপীকান্ত মিত্রবাহিনীর স্মরণে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেন। এলাকার প্রগতিশীল কৃষক আইয়ুব হোসেনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তাঁর উদ্যোগে ২০১০ সালে নির্মিত হয় দেশের একমাত্র মিত্রবাহিনীর স্মৃতিস্তম্ভ। এই স্মৃতিস্তম্ভসহ একটি মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ৭ ডিসেম্বর খাজুরা মুক্ত দিবস উপলক্ষে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান করে আসছেন। গোপীকান্তের বয়স এখন ৫১ বছর। এখনো তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সন্ধানে সাইকেলে চেপে বাঘারপাড়ার দৌলতপুর, আগড়া, মালঞ্চী, খানপুর, শ্রীরামপুর, দয়ারামপুর, গরিবপুর, রায়পুর, আযমপুর, শতখালী, প্রেমচারা, বড়ক্ষুদ্রা, সাতনাদুরিয়া, গাইদঘাট, পিয়ারপুর, আড়কান্দী, উত্তর চাঁদপুর, নিমটা, কাঠুরাকান্দী, হলদা, ভবানীপুরসহ গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ জন্য কেউ তাঁকে এক টাকা সাহায্য করেনি। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে তিনি তাঁর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তাঁর জীবনের ওপর হুমকি আসে। শারীরিকভাবে তাঁকে লাঞ্ছিতও করা হয়। গোপীকান্তের ঝুলিতে ওই রাজাকারদের নৃশংসতার এমন কাহিনী রয়েছে, যা শুনলে মানুষের গা শিউরে ওঠে। রাজাকার কমান্ডার ডা. ইব্রাহিম তাঁর বাহিনী নিয়ে গিয়ে চণ্ডিপুর গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা আজিজকে ধরে এনে খাজুরা ক্যাম্পে আটকে রাখে। এই ক্যাম্পে আজিজের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। তারপর রাজাকাররা আজিজের লিঙ্গ কেটে সেই লিঙ্গ তাঁর মুখের মধ্যে ভরে লাশ ভেলায় করে চিত্রা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এমন নৃশংসতার কাহিনী রয়েছে আরো। রায়পুর ক্যাম্পের রাজাকাররা রামকৃষ্ণপুরের জগদ্বন্ধু তরফদার ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এসে কাতলামারী মহাশ্মশানে গুলি করে হত্যা করে। এরপর দুজনকে উলঙ্গ করে একজনের লাশ আরেকজনের ওপরে রেখে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' বলে রাজাকাররা চলে যায়।

এই অক্লান্ত পথচলার পাথেয় কি শুধুই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসা, শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা? শুনুন গোপীকান্তের মুখেই, 'নিজের দায় থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করছি। তালিকা তৈরি করতে গিয়ে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। রাজনৈতিক কারণে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। প্রতিষ্ঠিত রাজাকারসহ তাদের সন্তান-আত্মীয়স্বজনের রোষানলে পড়তে হয়। অনেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অনীহা দেখায়। খারাপ ব্যবহারও করে। কিন্তু আমি এসব বিষয়কে তুচ্ছ মনে করে মুক্তিযুদ্ধের গবেষণাকাজ চালিয়ে যাচ্ছি।' চালিয়ে যান গোপীকান্ত। অক্লান্তে চলে তাঁর সাইকেল। এর দুই চাকায় ভর করে চলে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব-আবেগ-হাহাকার সব!



- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/bijoy-dibos-sonkha-2013/2013/
12/16/31039#sthash.7HJKDci6.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.41 (*)          Date:21 Dec 2013 -- 10:38 AM

অবসর না নেওয়া শেখ ফজলে এলাহী
রাশেদ আহমদ

মুক্তিযুদ্ধে কাজ করেছেন সংগঠক হিসেবে। তারপর পেশাগত জীবনে শুরুতে আইনজীবী। সেখান থেকে প্রশাসন ক্যাডারে গিয়ে উপসচিব হিসেবে অবসর নিলেন শেখ ফজলে এলাহী; কিন্তু অবসর নিলেন না মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করা থেকে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং বিরল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও গবেষণার কাজ করে যাচ্ছেন দিন-রাত।

শেখ ফজলে এলাহী কলেজ জীবন থেকেই সাহিত্য ও গবেষণার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। তাঁর লেখার হাতেখড়ি অধুনালুপ্ত দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার চাঁদের হাটে ১৯৬৪ সালে। হবিগঞ্জ থেকে ১৯৬৫ সাল থেকে মাসিক অভিমত পত্রিকা বের হয় সরকারি উদ্যোগে। ওই পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন শেখ ফজলে এলাহী। লিটল ম্যাগাজিন, কলেজ ম্যাগাজিনে লেখা ছেপেছে। ওই সময় তিনি ছোট গল্প ও কবিতা লিখতেন। বৃন্দাবন কলেজের অধ্যাপক আবদ-আল-করীমের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে এসে তিনি আত্মনিয়োগ করেন নাটক এবং একই সঙ্গে গবেষণাধর্মী রচনায়। তাঁর প্রথম গবেষণাধর্মী রচনা প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে নিজ গ্রামের ইতিহাস নিয়ে। লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনীতিতেও জড়িয়ে পড়েন। তিনি অন্যদের সঙ্গে হবিগঞ্জে ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) গ্রুপ গড়ে তোলেন এবং নিজে মনোনীত হন জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে। ছাত্র হিসেবে তিনি বরাবরই মেধাবী ছিলেন। তিনি অর্থনীতি ও আইন উভয় বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং পরিণত বয়সে আইন বিষয়ে অর্জন করেন পিএইচডি। কর্মজীবন শুরু করেন আইনজীবী হিসেবে। ১৯৮৩ সালে যোগদান করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হবিগঞ্জের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ এবং বিমানবন্দর থেকে তাদের উৎখাত করে সিলেট মুক্ত করার লক্ষ্যে হবিগঞ্জে সর্বপ্রথম সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, মুজাহিদ, আনসার ও ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি আধা সামরিক বাহিনী। কর্নেল এম এ রবের সহযোগিতায় এই বাহিনী গড়ে তোলেন হবিগঞ্জের তদানীন্তন এমসিএ এ কে এম লতিফুর রহমান ওরফে মানিক চৌধুরী। রণাঙ্গনে এই বাহিনী পরিচালনা করেন তদানীন্তন মেজর (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) সি আর দত্ত। পরবর্তী সময় এই বাহিনীর সঙ্গে ক্যাপ্টেন আজিজুর রহমানের অধিনায়কত্বে যোগ দেয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দল। তাদের সম্মিলিত আক্রমণে সিলেট শহর শত্রুমুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল। তবে বিমান বাহিনীর সহায়তা নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে, বিমান আক্রমণ ঠেকানোর কোনো অস্ত্র না থাকায় তাদের পিছু হটতে হয়। এই বাহিনী গঠনের কারণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হবিগঞ্জে অত্যাচারের স্টিমরোলার চালায় গণহত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ, ধর্ষণ, জেল-জুলুম ইত্যাদির মাধ্যমে। হবিগঞ্জের এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস লিখিত না হওয়ায় শেখ ফজলে এলাহী নিজ জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে উদ্যোগী হন। হবিগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে তিনি হবিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধকে নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন বিধায়, মুক্তিসংগ্রামে হবিগঞ্জের প্রকৃত ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে এবং এ বইটি বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের একটি মামলার সাক্ষ্য হিসেবে স্থান লাভ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলা বইটি রচনায় বিভিন্ন তথ্য ও ছবি সংগ্রহে তাঁকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে টানা দুই বছর। অত্যন্ত পরিশ্রম ও যত্নের সঙ্গে রচিত এই বইটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলা গ্রন্থে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ ও সিলেট মুক্ত করার জন্যে গঠিত বাহিনীর যুদ্ধাভিযানের দৈনন্দিন অগ্রাভিযান ও পশ্চাদপসরণের বিবরণ, ৯ মাসব্যাপী পাকিস্তানি দখলদারির সময় হবিগঞ্জ জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান ও প্রতিরোধ যুদ্ধের বিবরণ, আজমিরীগঞ্জের বদলপুরে কমান্ডার জগৎজ্যোতি পরিচালিত কিংবদন্তির যুদ্ধ, কালেঙ্গা গভীর জঙ্গলের বীরত্বপূর্ণ অ্যামবুশ, নলুয়ায় পাকিস্তানি সেনা নিধনের ঘটনা, রেমা চা-বাগানের বীরত্বপূর্ণ লড়াইসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে হবিগঞ্জের যেসব মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের জীবনীসহ শাহাদতের প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিবরণ, পদবিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী ও পদকপ্রাপ্তির নেপথ্যে তাঁদের অসীম সাহসিকতার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। সেই সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বর্তমান করুণ অবস্থা এবং তাঁদের প্রতি অমনোযোগ ও উদাসীনতার কথা। এসব বিবরণের মধ্যে রয়েছে জগৎজ্যোতি দাশ বীর-উত্তম, আব্দুল খালেক বীরবিক্রম, রমিজ উদ্দিন বীরবিক্রমের জীবনী ছাড়াও তাঁদের আত্মত্যাগের ঘটনাবলি।

যাঁরা এমন কাজ করেন, তাঁরা সাধারণত মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আবেগ আর ভালোবাসা থেকেই করেন। ফজলে এলাহীর ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এ রকম; কিন্তু এর সঙ্গেও সংযুক্তি আছে একটা। ইতিহাস বিকৃতিই তাঁকে টেনে এনেছে গবেষণার দিকে, 'চোখের সামনে দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে। রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে এই স্বাধীন দেশে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অনাহার-অর্ধাহারে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। তখন বিবেকের তাগিদেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ ও রচনার কাজে মনোনিবেশ করেছি।'

নিজের জায়গা থেকে সেই কাজটা করে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন ফজলে এলাহী, সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ের শক্তি আর সাহস নিয়ে।



- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/bijoy-dibos-sonkha-2013/2013/
12/16/31040#sthash.sFfWocOA.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.62 (*)          Date:21 Dec 2013 -- 10:56 AM

একালের মুক্তিযোদ্ধা ডা. ফারুক
মোস্তফা হোসেইন

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক তিনি। সন্ধ্যাকালীন কর্মক্ষেত্র মালিবাগের মেডিনোভা। আর সেখানে গেলেই ডা. মো. তৌফিকুর রহমান ফারুকের নেমপ্লেটের নিচের নোটিশের দিকে চোখ যাবে আপনার। লেখা, 'মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।'

ফারুকের জন্ম মুক্তিযুদ্ধকালে। আগস্ট মাসে। স্বাভাবিক কারণেই যুদ্ধ দেখেননি তিনি। জন্মদাত্রী মা যুদ্ধের ধকল সয়েছেন পুরোপুরি। অন্তঃসত্ত্বা মাকে জীবনের মায়ায় এখান থেকে ওখানে ছুটতে হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার খাদিমপুর গ্রামের সন্তান ফারুকের বাবা আনোয়ার হোসেন মোল্লা সংসারের চেয়েও দেশকে বড় মনে করে যোগ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। ডিসেম্বর মাসে যুদ্ধ শেষে একটা দেশ ও একজন সন্তান পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন।

যুদ্ধের দগদগে ঘা দেখতে দেখতে ফারুকের বেড়ে ওঠা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ফারুকের আরো কৌতূহল জাগে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে। বাবার কাছে শুনেছেন যুদ্ধের কথা। দাদা কোলে নিয়ে বলতেন মুক্তিযুদ্ধকালে মানুষের দুর্ভোগের কথা, পাকিস্তানি বাহিনী ও এ দেশের কিছু দালাল জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, পিডিপি ও নেজামে ইসলামের সদস্য ও সমর্থকের কুকর্ম আর অত্যাচারের কথা। জানতে পারেন মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা। আর তাই শৈশব থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান করেন। চিন্তা করতে থাকেন, যদি সুযোগ আসে, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে তাঁদের জন্য কিছু একটা করবেন তিনি। ডাক্তার হয়ে নিজের জায়গা থেকে সেই কিছু একটাই করার চেষ্টা করছেন তিনি।

কাজ করতে চাইলে সব জায়গা থেকেই করা যায়। তবু ডাক্তারের সুবিধাটা বেশি, সেই সুবিধাটা কাজে লাগাচ্ছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ফারুক। তার পরই নিজের কৈশোরের স্বপ্নপূরণের দিকে পা বাড়ান তিনি। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ক্যাম্প এবং বিচ্ছিন্ন সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ ছিল সেটা। কিন্তু বিচ্ছিন্ন এসব চেষ্টা করতে গিয়ে দেখেন এতে স্থায়ী কোনো উপকার হয় না। তা থেকেই সিদ্ধান্ত, স্থায়ীভাবেই তাঁদের সেবায় নামার। কিন্তু তখনই আবার চলে যেতে হয় উচ্চতর শিক্ষা নিতে বিদেশে। বিদেশে অনেক দিন কাটিয়েছেন; কিন্তু নিজের সংকল্পের কথাটা ভোলেননি। তাই ২০০৩ সাল থেকে যখন পুরোদস্তুর শুরু করলেন ডাক্তারি প্র্যাকটিস, তখন থেকেই খুঁজে বেড়ান মুক্তিযোদ্ধাদের। তাঁদের চিকিৎসা করে এই মুক্তিযোদ্ধা সন্তান যেন হয়ে ওঠেন এ কালের মুক্তিযোদ্ধা। মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসে নিজের চেম্বারটি তাই অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এক ভরসার স্থল। তাঁর কথা, 'এটা আসলে খুবই সামান্য বিষয়। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি একজন রোগীর কাছ থেকে ৬০০ টাকা নিই। একজন রোগীর কাছ থেকে এটা না নিলে এমন কিছু আয়ে ঘাটতি হয় না। বরং পাওয়া যায় একটা পরম প্রশান্তি। কিছুটা দায়শোধও হয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি।' তাঁর হিসাবে এটা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কোনো দয়া নয়, এটা তাঁদের অধিকার। আর এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ঋণ শোধ করতে গিয়ে একটা ব্যক্তিগত লাভও হচ্ছে তাঁর। তাঁর নিজের মতে, 'এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। তাঁদের সামনাসামনি দেখতে পাচ্ছি। তাঁদের কীর্তি শুনতে পাচ্ছি। বয়স যাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সুযোগ দেয়নি তাঁরা কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করে, তাঁদের সাহচর্যে গিয়ে এভাবে মুক্তিযুদ্ধে শরিক হতে পারি।'

ডা. ফারুক তাঁর এই সেবা কার্যক্রম শুরু করার সময় ভেবেছিলেন, ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে। গরিব মুক্তিযোদ্ধারা আসবেন অনেক। কিন্তু বাস্তবে সে রকম ঘটনা ঘটেনি। তাঁর প্রত্যাশার তুলনায় সাড়া অনেক কম। কেন? নিজের বিশ্লেষণে কারণটা হলো, আসলে গরিব মুক্তিযোদ্ধারা দেশের বিভিন্ন স্থানে। তাঁদের পক্ষে ঢাকা আসাই অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তা ছাড়া তাঁর এই কার্যক্রমের খবরও অনেকে জানেন না। বিষয়টার সুরাহা কিভাবে করা যায় তিনি সেটা ভাবছেন।

আবার অন্য রকম অভিজ্ঞতাও হয়। স্বাভাবিকভাবেই হয়তো কোনো রোগী এসেছেন, চেম্বারের সামনে নামফলকের নিচে লাগানো নোটিশ দেখে মুক্তিযোদ্ধা রোগী খুব খুশি হন। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ ফি দিতে চান। বলেন, তাঁর ব্যয়ভার বহন করার ক্ষমতা আছে। কিন্তু তাহলেও ফারুক তাঁর কাছ থেকে ফি নেন না। তাঁর যুক্তি, 'এটা দান কিংবা করুণা নয়। তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতেই আমি টাকা নিই না।' সেই সম্মান জানাতে চান সব সময়। আর তাই আশা করেন, কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এই লেখা পড়েও হয়তো মুক্তিযোদ্ধারা পরামর্শ সেবার জন্য তাঁর কাছে আসতে পারেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত যাঁরা, তাঁদের যোগাযোগের জন্য তিনি এমনকি তাঁর মোবাইল নম্বরও দিয়েছেন। যেকোনো মুক্তিযোদ্ধা চাইলে যেকোনো সময় তাঁর (০১৭১১০৪৭১৮৯) এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। কিংবা সরাসরি চলে আসতে পারেন মেডিনোভার মালিবাগ শাখায়।

গত এক বছরের একটি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ১০০ জনের মতো মুক্তিযোদ্ধাকে সেবা দিয়েছেন তিনি। শুধু এখানেই কাজ শেষ না করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগও রক্ষা করেন নিজের মতো। এখন ভাবছেন মুক্তিযোদ্ধা রোগীদের জন্য একটা আলাদা তথ্য ব্যাংক করার। যেহেতু বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধাই বয়স্ক এবং তাঁদের অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তারের লেখা পড়ে বোঝা কঠিন, তাই তাঁদের জন্য ব্যবস্থাপত্র তিনি তৈরি করেন কম্পিউটারে। নিজেই ফোন করে খোঁজখবর নেন।

ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না! নতুন কিছু দরকার আছে কি না! আর এভাবেই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে হৃদ্যতা তৈরি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা রোগীদের। একজন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের এমন ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে যান রণাঙ্গনে জীবন বাজি রাখা মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁরা বেশির ভাগই এসে দাঁড়িয়েছেন এখন জীবনের শেষপ্রান্তে। আর হয়তো ২০-৩০ বছর। তারপর আর পাওয়াই যাবে না। আর সে জন্যই সমাজের সচেতন মানুষকে এই সময়টা কাজে লাগিয়ে এ সময়ের 'মুক্তিযোদ্ধা' হওয়ার অনুরোধ ডা. ফারুকের, 'মুক্তিযোদ্ধারা তো বয়সে ভারাক্রান্ত। হয়তো কুড়ি বছর পরে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজেও পাওয়া যাবে না। তাই নাগরিক হিসেবে চিকিৎসক, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ওষুধ উৎপাদনকারী কিংবা মুক্তিযুদ্ধপ্রেমী যেকোনো নাগরিক মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সুবিধায় এগিয়ে আসতে পারেন। এ মুহূর্তে এটা হবে মুক্তিযুদ্ধের মতোই একটা কাজ।' নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আরেকটা পরামর্শ আছে তাঁর, 'সাধারণত জেনারেল হাসপাতালগুলোতে গরিব রোগীরা বেশি আসেন। তাই জেনারেল হাসপাতালগুলো যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা গরিব রোগীরা সুবিধা পাবেন আরো বেশি।'

এভাবেই ডাক্তারির কঠিন জগতে ডুবে থেকেও একজন ডা. ফারুক হয়ে উঠেছেন এ যুগের 'মুক্তিযোদ্ধা'। তিনি সেখানে একা থাকতে চান না। চান আরো অনেক অংশীদার। আরো অনেক সঙ্গী।

মুক্তিযুদ্ধও তো এমনই সবার অংশগ্রহণেই হয়েছিল!





- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/bijoy-dibos-sonkha-2013/2013/
12/16/31041#sthash.Hx3BGB5i.dpuf



Name:   Biplob Rahman           

IP Address : 127.18.231.62 (*)          Date:21 Dec 2013 -- 10:59 AM

মূল্যহীন মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান নথিপত্র!
তালিকার ৬০ শতাংশই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা
আপেল মাহমুদ

ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য নথিপত্র কোনোই কাজে আসছে না। অথচ এসব নথিপত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা করা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। মূল্যবান দুই শতাধিক নথি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট রেকর্ড সেন্টারে (ইবিআরসি)।

মুক্তিযুদ্ধকালীন হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা ভারতের বিভিন্ন শিবিরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ভর্তি হন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ওই সব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ীই দলিলপত্র তৈরি করা হয়েছিল। কোন শিবিরে কোন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ নেন, প্রশিক্ষক কে ছিলেন এবং প্রশিক্ষণকারীর সম্পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত দলিলে সবিস্তারে বর্ণনা করা আছে। মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন সময় পাঁচবার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হয়েছে। বিভিন্ন সরকার নিজেদের মতো করে তালিকা করলেও ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ওই তালিকা কাজে লাগায়নি কেউ। ফলে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূঁইয়া বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। কোনো কোনো সময় তা বাণিজ্যিকভাবেও করা হয়েছে। প্রতিটি সরকার তালিকা করার আগে নিজেদের ভোটের কথা চিন্তা করেছে। ফলে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের দিকে তৎকালীন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে অবহেলায় পড়ে থাকা নথিপত্রগুলো দেশে আনা হয়। মূল কপি রাখা হয় চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেকর্ড সেন্টারে। ফটোকপির একটি সেট মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে আনা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের জন্য। তালিকার কাজও শুরু হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এক পর্যায়ে তা থেমে যায়।

ট্রাস্টের তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আমিন আহমেদ চৌধুরী তালিকা প্রস্তুত কমিটির সদস্য ছিলেন। ভারত থেকে আনা দলিল-দস্তাবেজ অনুসরণ করে তালিকা করা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি তিনি কালের কণ্ঠের কাছে স্বীকার করেন। অবশ্য এর দুই বছর পর ১৯৮৮ সালের দিকে কল্যাণ ট্রাস্ট একটি তালিকা প্রকাশ করে।

কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আনা ২০৮টি ভলিউমে সর্বমোট ৬৯ হাজার ৮৩৩ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে গণবাহিনীর ৫১ হাজার ৫২২, সেনাবাহিনীর আট হাজার ৭৫৯, নৌবাহিনীর ২৭১, বিমানবাহিনীর ৮৭৭ ও ইপিআরের (বর্তমানে বিজিবি) আট হাজার ৪০৪ জন। তবে ওই সব ভলিউমে মুজিব বাহিনীর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাস্টের পরিচালক (কল্যাণ) আজিজার রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরিতে এসবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল।

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও মামা বাহিনীর প্রধান শহিদুল হক মামা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'লিখিত তথ্য এবং প্রামাণ্য নথিপত্র ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে মূলত সনদ বাণিজ্য করার জন্য। বিভিন্ন সময়ে অর্থের বিনিময়ে রাজাকারদেরও মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সনদ দেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় শতকরা ৬০ ভাগ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে।' তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তিনি আদালতে মামলা করেছিলেন বলেও জানান।

১৯৮৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ৭০ হাজার ৮৯২ জন চিহ্নিত করা হয়। এর আট বছর পর ১৯৯৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিবার্তা পত্রিকায় এক লাখ ৫৮ হাজার ৪৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জোট সরকার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়িয়ে এক লাখ ৯৮ হাজার ৫২৬ জন ঘোষণা দেয়। ২০১৩ সালের গেজেট হিসাবে বর্তমান তালিকায় রয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৪৮২ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম বলেন, 'গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মুক্তিবার্তা লাল বইয়ের মাধ্যমে এক লাখ ৫৮ হাজার ৪৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সম্পূর্ণ করলেও তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে জোট সরকার ওই তালিকার সঙ্গে আরো অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম সংযুক্ত করে প্রায় দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্ত করে। এতে তালিকাটি পুরোপুরি বিতর্কিত হয়ে পড়ে।'

সর্বশেষ মহাজোট সরকার যে কম্পিউটার ডাটাবেজ করেছে, তাতে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা রয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছে, অতীতে মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা করা হয়েছে তাতে প্রায় ৪২ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। ওই সব নাম বাদ দেওয়া হবে। কিসের ভিত্তিতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা হয়েছে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

সেনাবাহিনী দিয়ে সঠিক তালিকা করা সম্ভব : সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তাঁরা সেনাবাহিনী দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির দাবি জানান। মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক মামা বলেন, 'সেনানীবাহিনীর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে তাতে দোষের কিছু নেই।' বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও পরিচয়পত্র তৈরি কেবল সেনাবাহিনীর পক্ষেই সম্ভব বলে অভিমত প্রকাশ করেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হেলাল মুর্শেদ খান বীরবিক্রম।

মুক্তিযুদ্ধে ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও বাংলাদেশের প্রথম সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ বীর-উত্তম বলেন, 'অবশ্যই সেনাবাহিনী দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল তালিকা করা যায়। আর তা করা হলে এ-সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান হবে।'



- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/last-page/2013/12/17/31567#st
hash.CQfNcYJ1.dpuf


এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13]     এই পাতায় আছে181--210