বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]     এই পাতায় আছে188--218


           বিষয় : ধর্ষণ ও বিবর্তন নিয়ে কিছু কথা
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :sosen
          IP Address : 125.241.110.158 (*)          Date:17 Oct 2012 -- 11:09 PM




Name:  3Q          

IP Address : 161.141.84.239 (*)          Date:02 Nov 2012 -- 11:07 PM

মানে বলতে চাইছিলাম, কারুর হয়তো কোনো ডিজর্ডার আছে, কিন্তু সেটাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে হয়তো সে খুনখারাপি করছে।


Name:  sosen          

IP Address : 125.242.172.4 (*)          Date:02 Nov 2012 -- 11:16 PM

সেটা তো ইনভেস্টিগেটররা দেখবেন। লাই ডিটেক্টর আছে। এই সব কেসে পরীক্ষা আরো Stringent হয় বলেই জানি। স্ট্রাকচারাল বা কেমিক্যাল ডিসর্ডার ডিটেক্ট করা যায়। আর "কারুর হয়তো কোনো ডিজর্ডার আছে, কিন্তু সেটাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে হয়তো সে খুনখারাপি করছে" তা হলে প্রশ্নটা সায়েন্টিফিক ইনভেস্টিগেশন এর এসে দাঁড়ায়। ক্রিমিনাল সাইকোলজি বিহেভিয়ারের বিশেষজ্ঞ লোকজন সেটা নিয়ে কাজ করবেন তখন।
ক্রিমিনাল বিহেভিয়ার আর ইনভেস্টিগেশন নিয়ে খোঁচালে আমায় আবার একটা টই লিখতে হয়। পেট সাবজেক্ট আমার।


Name:  3Q          

IP Address : 161.141.84.239 (*)          Date:02 Nov 2012 -- 11:18 PM

হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই লিখুন/লেখো। বিষয়টা আমার কাছেও অত্যন্ত কৌতূহল-উদ্দীপক। হয়তো আরো অনেকের কাছেই।


Name:  sosen          

IP Address : 125.242.172.4 (*)          Date:02 Nov 2012 -- 11:32 PM

না: এই একখান লিখেই পিঠব্যথা হয়ে গ্যাসে।


Name:  3Q          

IP Address : 161.141.84.239 (*)          Date:02 Nov 2012 -- 11:41 PM

পিঠে বালিশ তাকিয়া কুশন গদি দিয়ে নাও, মাসাজও নিতে পারো।

এক সিনিমায় দেখলাম, এক মাসাজের পার্লারের দুই মেমসাহেব উপুড় হয়ে শুয়ে আছেন, মুখোমুখি, উভয়ে নানা আলাপ করছেন গম্ভীর বিষয়ে। তাদের দুইজনের পিঠের উপরে ছোটোখাটো নরম চেহারার দুইজন দুইজন করে তরুণী, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পিঠের উপরে লাফাচ্ছেন। এইভাবে মাসাজ হচ্ছে।
উফ্ফ।
ঃ-)


Name:  sosen          

IP Address : 125.242.172.4 (*)          Date:02 Nov 2012 -- 11:48 PM

শুনেই আরাম লাগলো। তরুণী না হয়ে শুধু পেডিকিওর করা ছোট ছোট বাঁদর লাফালে ভালো। তরুণীরা একটু বেশিই ভারী হবেন।


Name:  ranjan roy          

IP Address : 24.97.234.180 (*)          Date:03 Nov 2012 -- 05:47 PM

3Q,
এই পাগলামি বা মেন্টাল ডিস-অর্ডার দিয়ে নরহত্যার ডিফেন্স নিয়ে ক্রিমিনাল ল' তে অনেক কেসস্টাডি ও লীডিং কেস আছে।
এ 'ব্যাপারে গোদা ডিসিশন হল যে কারো শুধু মেন্টাল ডিস-অর্ডারের ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট থাকলেই হল না,-- দেখা হবে যে কথিত অপরাধটি ঘটিত হবার সময় সে সত্যিই কি অর্ডারে ছিল। এবং সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব ডিফেন্সের।

সোসেন,
অনেক আগেই টুপি খুলে দাঁড়িয়ে আছি। অসাধারণ। কিন্তু কিছু প্রশ্ন সব সময় থেকে যাবে। তাতে আপনার লেখার গুরুত্ব বাড়ে বই কমে না। অপেক্ষায় আছি অন্যদের সঙ্গে সওয়াল-জবাবের। তাতেই হয়ত আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবো।


Name:  sosen          

IP Address : 125.241.16.141 (*)          Date:18 Nov 2012 -- 07:07 PM

ধর্ষণ-কৌতুহলী চোখে যেমন

২০০০ সালে প্রকাশিত একটি বই -"এ ন্যাচারাল হিস্ট্রি অফ রেপ : biological bases of sexual coercion " কিঞ্চিত হইচই ফেলেছিল। দু:খের বিষয়, সোশিও-বায়োলজির জগতে পা বাড়ানোর জন্য বেশি লোকজন উত্সাহিত হন না। দ্রুতই এই বই এ প্রকাশিত থিওরি সমূহ বিশ বাঁও জলে নিপতিত হয়। কিন্তু কিছু গবেষণা চলছিল সমান্তরাল ভাবে। ২০০৯ এ বেরোনো ক্রেগ স্ট্যানফোর্ডের আর একটি বই আলোচ্য থিওরিগুলিকে আবার উপরে তুলে আনে। একই সাথে, চিম্প ও ওরাং ওটাং এর উপর চলা গবেষণার কিছু গুরুত্বপূর্ন ফল প্রকাশিত হয়। সেই আলোচনাগুলোর উপর ভিত্তি করে কিছু প্রশ্ন করা আজকের দিনে জরুরি মনে হল।
ধর্ষণ একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা, একটি নিন্দার্হ ব্যবহার। অবশ্যই। কিন্তু একই সঙ্গে, ধর্ষণ হয়েই চলে, এবং কুটিল জীববিজ্ঞানীর মনে প্রশ্ন আসে, ধর্ষণের অভিযোজনগত (adaptational ) সার্থকতা কি? তবে কি ধর্ষণ, মনুষ্যজগতে একটি বিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচিত ট্রেইট(ধর্ম)?

ধর্ষণ কি বিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যবহার?

রেপ, মনুষ্যজগতে অভিযোজনীয় ব্যবহার কি না , সেটার উপর বায়োলজিক্যাল গবেষণার কিছু লিমিটেশন আছে। প্রথমে মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীদের দিকে তাকাই। পুরুষদের মধ্যে বহুগামিতা একটি উপকারী অভিযোজন, বিশেষত সেই সব প্রাণীদের মধ্যে , যারা পেনিট্রেটিভ সেক্সে অংশগ্রহণ করে। যত বেশি সংখ্যক নারীর সঙ্গে সঙ্গম করবে, তত সন্ততি বাড়ার সুযোগ, অর্থাৎ নিজের জিন বা লিনিয়েজ কে ছড়িয়ে দেবার সুযোগ। সুতরাং জোর জবরদস্তি করে হলেও অন্য পুরুষকে সরিয়ে একটি সুস্থ নারীকে নিজের সঙ্গে সঙ্গমে প্রবৃত্ত করা পুরুষের স্বাভাবিক রীতি। যে সমস্ত স্পিসিসে এই রেপের প্রবৃত্তি দেখা যায়, সেগুলি প্রায়শই স্তন্যপায়ী। সাপ এবং কুমির যদিও পেনিট্রেতিভ সেক্স শো করে, জানা নেই তাদের মধ্যেও গায়ের জোর খাটিয়ে সঙ্গম বা ফোর্সফুল কপুলেশন রয়েছে কিনা।
অন্যদিকে, নারীর দিক থেকে দেখা হলে, স্তন্যপায়ীর ক্ষেত্রে বিশেষত: , নারীর প্রয়োজন বন্ডিং। সন্তানধারণে নারী প্রাণী বহুলাংশে শক্তিক্ষয় করে। দীর্ঘ সন্তান বহনের সময়কালে তার প্রয়োজন সুরক্ষা। নিজের এবং সন্তানের জন্য। এই জন্য সেক্সুয়াল সিলেকশনে , সঙ্গী বাছার ক্ষেত্রে নারীর পছন্দ ক্রিটিকাল,বহুবিধ স্ট্র্যাটেজি রয়েছে তার। নারীর পক্ষে পলিগ্যামি ক্ষতিকর, কারণ অধিকাংশ পুরুষই পরের তো বটেই, নিজের সন্তানকেও বিশেষ ভালবাসার চোখে দেখেনা। ফিমেল চয়েস এবং মেল aggresion , বহুগামিতা , ধর্ষণ-দুটি পরস্পরবিরোধী গ্রুপ অফ ট্রেটস।

অর্থাৎ, একই স্পেসিস এর মধ্যে একটা কনফ্লিক্ট ফর সারভাইভ্যাল রয়েছে, পুরুষ এবং নারীর মধ্যে, । এই ট্রেট দুটি কি একে অন্যের পরিপূরক? আর , যেহেতু বিভিন্ন প্রানীসমাজে উন্নত থেকে উন্নততর ফোর্সড কপুলেশনের নজির রয়েছে, এই ট্রেট এর মধ্যে কোনটি বেশি বিবর্তিত?

ওরাং ওটাং এর উপর চেরিল নট এর কাজটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। মনুষ্যসমাজে নিচু আর্থ-সামাজিক পুরুষের উচ্চ আর্থ-সামাজিক অবস্থানে রয়েছে এমন নারীকে ধর্ষণের ঘটনা , এবং উল্টোটাও প্রায়শই ঘটে থাকে। সমাজবিজ্ঞানীরা ধর্ষণের কারণ হিসাবে বারবার এই আর্থসামাজিক ব্যবধানকে একটি কারণ হিসাবে ধরে থাকেন। পুরুষ ওরাং ওটাং এর গালে দাড়ির মত বস্তুগুলি লক্ষ্য করেছেন কি? ওগুলো হলো সেক্সুয়ালি ম্যাচিওর ওরাং এর চিহ্ন। যে সব ওরাংরা এখনো সেক্সুয়ালি ম্যাচিওর নয়, তারাও হামেহাল মেয়ে ওরাং দের ধর্ষণ করে , আর ম্যাচিওররাও করে, কিন্তু সেই ধর্ষণ বেশি ফোর্সফুল এবং প্রজননগত ভাবে বেশি এফেক্টিভ । ধর্ষণ, ওরাং মিলনে একটি দরকারী কম্পোনেন্ট। নট দেখিয়েছেন, অতিরিক্ত শারীরিক আঘাত ও জোর করে করা সঙ্গম,যেটা পরিণত ওরাং করে থাকে, নারী ওরাং কে স্বভাবতই রেজিস্ট করতে প্রভাবিত করে, কিন্তু প্রজননগত ভাবে এই রকম সঙ্গম বেশি সফল । অন্যদিকে ছোট ওরাং রা যদিও বেশি সময় ধরে এক একটি ফিমেল গ্রুপে সঙ্গম করে, তারা প্রজননগত ভাবে খুব সফল নয়। সেটা হয়ত তাদের কম টেস্টস্টেরণ এর কারণে। কিন্তু এরা শারীরিক আঘাতও খুবই কম করে, পরিণত পুরুষের তুলনায়, নারী ওরাং কম বাধা দেয়। কিন্তু যথেষ্ট উত্তেজিত হয়না। এই কারণে নট বলেছেন , ওরাং ফোর্সফুল কপুলেশন করে না বলে বলা ভালো যে তারা "resisted mating " করে। এবং এই মিলনে রেজিস্ট্যান্স ও কো-অপারেশন নারী ওরাং এর দিক থেকে প্রায় সমান সমান। ধর্ষণ ও সম্মতি সমানুপাতিক, এবং তার পরিমাণ একটা ন্যুনতম স্কেল এ পৌঁছনোর আগে প্রজননগত ভাবে মিলন সফল নয়। ওরাং স্পিসিস হিসেবে মানুষের খুব কাছাকাছি।

এরই পাশাপাশি এম থম্পসন জানাচ্ছেন, মানুষের মধ্যে একা, সাইকোলজিক্যালি চ্যালেঞ্জড পুরুষেরা রেপ বেশি করে, এটি মিথ। নারীরা ধর্ষিত হয় কোনো না কোনো ভাবে সফল পুরুষের হাতে, এবং কোনো একটা কানেকশন থাকলে , সম্পর্ক থাকলে সেটি ইন্ধনের কাজ করে। ঠিক ওরাং সমাজের মতই তো?

তাহলে কি এরকম ই দাড়ালো, যে ধর্ষণ প্রানীসমাজে একটা অবশ্যম্ভাবী অস্তিত্বরক্ষার লড়াই , নারী ও পুরুষের মধ্যে অন্তর-স্পিসিস একটা সিলেকশন প্রেসার? ওদিকে শিম্পাঞ্জি পুরুষ যে শুধু ধর্ষণ করে তাই নয়, রুগ্ন ও বলহীন পুরুষ শিম্পাঞ্জিকে যে নারী পছন্দ করে তাকে বেদম পিটিয়ে তবেই ধর্ষণ করে। কিন্তু, কিন্তু তা সত্ত্বেও নারী মাঝে মধ্যেই খানিকটা নিম্নগোত্রীয় শিম্পাঞ্জিকে বেছে নেয়, হয়ত সে কম বহুগামী, সুতরাং তার শিশুর প্রতি বিশ্বস্ততা বেশি থাকবে এই লজিকে? খুব মানুষীয় শোনাচ্ছে না?

এর পরে দেখব কতটা জেনেটিক এই ট্রেট, তা নিয়ে কি কি কাজ আছে। কিন্তু, আফটার দ্য ব্রেক।


ধর্ষণকে বায়োলজিক্যালি ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমেই আমাদের এথিক্স সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি পড়তে হয়। ধর্ষণ, অপরাধ, হিংসা ইত্যাদি গুণকে জীববিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে গেলে মানবসমাজের উপর তার প্রভাব মাথায় রাখা জরুরি। সংস্কৃতি, জাতি বা উপজাতি হিসেবে অপরাধীর পরিচয়, সে কি ভাবে বড় হয়েছে, পরিবেশের প্রভাব তার উপরে কি রকম এগুলো প্রাথমিক ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। অনেকেই এই তর্ক আনেন যে সমস্ত গুণই যদি জেনেটিক্যালি নিয়ন্ত্রিত হয়, তা হলে অপরাধীরা নিজেদের ডিফেন্ড করার জন্য একটি অকাট্য যুক্তি সাজাতে পারে যে সে জেনেটিক্যালি নিয়ন্ত্রিত, এবং তদনুসারে কাজ করতে প্রায় বাধ্য, তার অপরাধের জন্য সে আদৌ দায়ী নয়।
দেখা যাক ধর্ষণকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা যৌক্তিক, জেনেটিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

এর আগে আমরা দুটি সাবসেট অফ ট্রেট(গুণাবলী) কে নারী ও পুরুষের সেক্সুয়াল ইন্টারেস্টের পরিধিতে কনফ্লিক্টিং বলে চিহ্নিত করেছি। অর্থাৎ, অতিরিক্ত যৌন এগ্রেশন, আঘাত ও শারীরিক শক্তির সাহায্যে নারী -পুরুষ সম্পর্কে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা ও সঙ্গম, কিংবা অনিচ্ছুক নারীর সঙ্গে তার পছন্দের বিরুদ্ধে গিয়ে সঙ্গম যদি একটি সাবসেট হয়, তার বিপরীত গুণাবলী নারীকুলে হলো নিজেকে অপছন্দের পুরুষের কাছে কঠিনপ্রাপ্য করে তোলা, বহুগামিতাকে নিজের স্বার্থে , অর্থাৎ সুরক্ষা পেতে ব্যবহার করা(ফিমেল হারেম ), এবং শিশুর পিতার সঙ্গে একটি বন্ডিং তৈরী করা। এই সেক্সুয়ালি কনফ্লিক্টিং সাবসেট দুটি একই সময় প্রাণী কুলে উদ্ভূত হয়েছে, না-কি একটি আগে , কারণ স্বরূপ ও একটি পরে, ফল হিসাবে উদ্ভূত হয়েছে, সেটা জানা জিনতাত্ত্বিকের কাছে জরুরি।
আবার চোখ ফেরানো যাক নিম্নতর প্রাণীকুলের দিকে। সেছাড়া উপায় নেই।
গতকাল তাতিন একটি রেলিভ্যান্ট লিং দিয়েছিলেন। সেটি দিয়েই শুরু করছি।

নিম্নতর প্রাণীকূলে, একটি বিশেষ টার্ম রয়েছে "ট্রমাটিক ইনসেমিনেশন" অর্থাৎ শুক্রাণুকে নারীদেহে প্রবৃষ্ট করানোর সময় এমন কোনো পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া, যাতে নারীর শরীর অন্তত এমন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যেন আর কোনো পুরুষের শুক্রাণুর জন্য সে রিসেপ্টিভ না থাকে। এই ঘটনা অমেরুদন্ডী প্রানীদেহেই কেবল দেখা যায়, যেখানে কিনা মুক্ত-সংবহন তন্ত্র রয়েছে, এবং সমস্ত অর্গ্যানই হিমোলিম্ফ দিয়ে পরিবহণ পায়। তাই কোনভাবে ওভারিতে নয়, বডি ক্যাভিটিতে শুক্রাণু জমা করতে পারলে ওভারিতে তা পৌঁছেও যায়, এবং নারী ও আঘাত পায়, দ্বিতীয় পুরুষ তার কাছে আর চট করে যেতে চায় না। এই পদ্ধতি বিবর্তনের লড়াই-এ জিতেছে, সেটি প্রমাণিত, কারণ নারীর ও বেশ কিছু অভিযোজন দেখা যায়, নিজেকে ট্রমাটিক ইনসেমিনেশন থেকে বাঁচানোর জন্য।
কয়েকটি উদাহরণ দিই
বেড বাগ, পুরুষ নারীদেহের পেট ফুটো করে শুক্রাণু ত্যাগ করে।
একধরনের বিটল, তার রয়েছে পুরুষাঙ্গে প্রচুর কাঁটা।
কেউ কেউ কায়টিন ভাঙ্গতে পারে এমন এনজাইম দিয়ে নারী সঙ্গীর দেহে ফুটো করে।
একধরনের মাকড়সা পেটে ফুটো করার পর ওভারিও ফুটো করে তার মধ্যে স্পার্ম ডিপোজিট করে।
ওয়াটার স্ট্রাইডার বিটলরা যদি কোনো নারী সঙ্গমে রাজি না হয়, তবে তার দিকে শিকারী প্রাণীদের টেনে আনে।

ওদিকে, নারীরা অভিযোজনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মিমিক্রী, যাতে অনেক সময়ে তাদের পুরুষদের মত দেখায়। কেউ আবার পেটে প্যাডিং তৈরী করে যাতে ফুটো দ্রুত সারে। এছাড়াও বেশ কিছু রেজিস্ট্যান্স মেক্যানীজম আছে। কিন্তু যে কোনরকমেই, নারীর প্রজননগত স্বাস্থ্য এতে ব্যাহত হয়। অর্থাৎ মেটিং এর মূল উদ্দেশ্য যাকে এতক্ষণ ধরে বলছি - অতিরিক্ত প্রজননগত সাফল্য কিন্তু আসে না। প্রজননের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে সফল না হওয়া সত্ত্বেও এই বলপ্রয়োগ কেন বিবর্তনগতভাবে নির্বাচিত হয়েছে?
এবং তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, রেজিস্ট্যান্স আগে এসেছে, না ট্রমাটিক ইনসেমিনেশন আগে?



সেক্সুয়াল কনফ্লিক্ট বা যৌন সুবিধাগত বিরোধিতা পোকামাকড় থেকে শুরু করে মানুষ পর্যন্ত সকল সমাজেই বিদ্যমান। বিবর্তনবিদ্যা বলে, এক ই স্পেসিস এর নারী এবং পুরুষ প্রাণীর আলাদাভাবে বিবর্তিত হওয়ার মূল কারণ সেক্সুয়াল কনফ্লিক্ট। অর্থাৎ, কোনো একটি স্ট্র্যাটেজি , যা পুরুষকে এনে দিচ্ছে তার অপটিমাল ফিটনেস, বিবর্তনের আঘাত ও ঝড় ঝাপটা সহ্য করে নিজেকে পরবর্তী প্রজন্মে নিয়ে যাওয়ার কাঙ্খিত উপকরণ, সেই স্ট্র্যাটেজি কাজ করছে নারীর সারভাইভ্যাল রেশিও এবং তার জীবনবিস্তার কমিয়ে আনতে। উল্টোদিকে , নারীর অভিযোজন যথাসম্ভব বাধা দিচ্ছে এই স্ট্র্যাটেজিগুলোকে, এবং নারী লড়ে যাচ্ছে মনোগ্যামাস মিলন এবং ফ্রিডম অফ চয়েস ব্যবহার করার জন্য। একটা স্পেসিস বিবর্তিত হচ্ছে একটা ইউনিট হিসাবে নয়, দুটো কাউন্টার একটিং ইউনিট হিসাবে।এবং দুটো কাউন্টার-একটিং জিনের সেট , যেগুলো আমাদের এনে দেয় বাহ্যিক গুণাবলীগুলো, তারা স্পেসিসের বিবর্তনে কো-ইভলভ করছে, প্রত্যেক মেটিং এ এবং তা থেকে উদ্ভূত সন্তানে একটা সেট অন্যটাকে ডমিনেট করার চেষ্টা করছে জেনেটিক্যালি।
তবে কি সম্মতিগত মিলন ও তাতে সন্তুষ্ট থাকা প্রকৃতি পুরুষকে দেয়নি? অথবা নারীর বাধা দেওয়া কি স্পেসিসের পক্ষে ক্ষতিকর? বিবর্তনের পরিপন্থী?

সম্মতিগত মিলন ঘটলেও, পুরুষ প্রায় সর্বদাই ১-সম্মতিগত মিলনের বাইরেও আরো কিছু সঙ্গী খুঁজতে প্রবৃত্ত থাকে,২-প্রথম সঙ্গীর যৌন ক্ষমতা কমিয়ে আনে।

উদাহরণ -১, ম্যালার্ড হাঁস। হাঁসেদের এক তৃতীয়াংশ মিলন ফোর্সড। সবচাইতে লম্বা পুরুষাঙ্গ দেখা যায় এদের মধ্যে,পুরোপুরি ইরেক্টেদ অবস্থায় পাখির নিজের দৈর্ঘ্যের সমান, যা কিনা আবার কর্ক স্ক্রু এর মত প্যাঁচানো-ব্যালিস্টিক পেনিস। প্রথমে একটি বাসা বেঁধে পুরুষ ও নারী একটি দম্পতি তৈরী করে। নারী হাঁস গর্ভবতী হওয়ার পর পুরুষেরা দল বেঁধে অন্যান্য সঙ্গীহীন, বা দুর্বল সঙ্গী যুক্ত নারী হাঁসেদেরও আক্রমণ করে-গণধর্ষণ । এরা সেক্সুয়াল প্রিডেটর। এই শিকারীদের হাত থেকে বাঁচতে , আশ্চর্যজনক ভাবে নারী হাঁসেদের যোনিও হয় কর্ক স্ক্রু এর মত, ঠিকঠাক প্যাঁচে ঘুরে বসলে তবেই সঙ্গম হওয়া সম্ভব। এদিকে এই দীর্ঘ যোনিপথে প্রিডেটরদের বোকা বানাতে রয়েছে অন্ধগলি, যেসব পথ আদৌ ওভারিতে লিড করেনা, উল্টো দিকে প্যাঁচ ।এইভাবে নারী হাঁস নিজেকে রক্ষা করে, এক ই সঙ্গে নিজের সেক্সুয়াল চয়েস কেও ঠিক রাখে। ভেবে দেখুন এই জটিল মেকানিজম তৈরী হতে কত সময় লেগেছে।
নিচে একটা ছবি দিলাম ।

http://www.yalealumnimagazine.com/blog/?p=2353

উদাহরণ ২ ।
বিভিন্ন প্রাণীতে দেখা যায় ভ্যাজিনাল প্লাগ বা মেটিং প্লাগ, যেগুলো সেক্সুয়াল একাধিপত্যের নজির। মৌমাছি থেকে কাঠবেড়ালি, মেটিং প্লাগ তৈরী হয় সেমিনাল ফ্লুইড থেকে, যেটা কিনা নারীর যৌনদ্বার বন্ধ করে দেয়, ১২ থেকে ৪৮ ঘন্টার মত। নিষ্ক্রিয় পুরুষ প্রহরা বলা যেতে পারে, এতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের বা নিজে উপস্থিত থেকে প্রহরা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরুষ প্রাণীটি অন্য নারীর খোঁজে যেতে পারে। ছবি নিচে রইলো।

http://en.wikipedia.org/wiki/Mating_plug

উদাহরণ ৩।

ড্রসোফিলা। ড্রসোফিলার সেমিনাল ফ্লুইডে থাকে প্রায় ৮০ টি এক্সেসরি গ্ল্যান্ড প্রোটিন। যৌন মিলনের পর এই প্রোটিনের কাজ হলো স্ত্রী ড্রসোফিলাকে যৌন উত্তেজনা রহিত করা। দেখা গেছে যে এর মধ্যে দু একটি প্রোটিন বেশি তৈরী হলে, পুরুষ ড্রসোফিলার লাইফ স্প্যান কমে যায় , অর্থাৎ সেক্সুয়াল আধিপত্য কিছুটা দাম দাবি করেই। উল্টো দিকে কয়েকটিকে নক আউট করলে কমে যৌন পারফরম্যান্স। এই Acp গ্রুপের প্রোটিনের বিবর্তন এই মুহূর্তে সোশিও-বায়োলজির একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কিউ।

বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে সেক্সুয়াল কনফ্লিক্ট এর ইতিহাস এই ধারণাকেই বিধৃত করে যে ধর্ষণ (সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ) এবং ধর্ষিতের রেজিস্ট্যান্স দুটিই আদতে এডাপটিভ ব্যবহার। দুটি ব্যবহারই একটা স্পেসিসের মধ্যে নির্বাচিত অভিযোজন, এবং যদিও এই মুহূর্তে কোনটি আগে উদ্ভূত এ নিয়ে কোনো মলিকিউলার বা জেনেটিক তথ্য হাতে নেই, এ নিয়ে রিসার্চ চলছে, এবং আরো তথ্য হাতে আসতেও দেরী নেই।

পরের পর্বে এই তথ্যগুলির ও থিওরিগুলির প্রাসঙ্গিকতা মানুষের সমাজে কি রকম, এবং আদৌ কি ধর্ষণ আটকানো যায়, যদি প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবে তাকে নির্বাচন করে , এই নিয়ে কথা বলব। একই সঙ্গে, মানুষের মধ্যে নারীদের রেজিস্টেন্সগত কোনো দৈহিক অভিযোজন আছে কিনা, সে নিয়ে কি ধরনের তথ্য উপলব্ধ , তা খুঁজবো।

যে কথা লিখছিলাম। এক বার মনে করিয়ে দিই আপাতত আমাদের অবস্থান :
১) আমরা দেখলাম, ধর্ষণ এবং গণ ধর্ষণ শুধুমাত্র মানুষ করে, এটা ঠিক নয়। প্রকৃতির বিভিন্ন সন্ততিতেই এই ধর্ম দেখা যায়।কখনো কখনো এই ধর্ম বিশেষ আকৃতিগত অঙ্গের সাহায্য নেয়। মনে রাখা দরকার, বলপ্রয়োগ না করে স্বাভাবিক মিলনের ক্ষেত্রে এই সব বিশেষ আকৃতির অঙ্গের প্রয়োজন পড়ত না। বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকা এই সব অঙ্গ , অতএব, পুরুষ প্রাণীর পক্ষে সুবিধাজনক, এবং নির্বাচিত।
২) যে সব পশুকুলে এই বিশেষ ব্যবহার রয়েছে, তাদের নারীদের মধ্যে কিছু কিছু রেজিস্ট্যান্স মেকানিজম তৈরী হয়েছে। তাদের দেহ বিভিন্ন ভাবে ধর্ষণ থেকে নিজেদের বাঁচাবার পথ খুঁজে নিয়েছে। সেই পন্থাগুলি নারীদের পক্ষে সুবিধাজনক, অতএব নির্বাচিত।
৩) এই সমস্ত এনাটমিগত বৈশিষ্ট্য তৈরী করার জন্য নতুন জিন ও মেটাবলিক পাথ ওয়ে তৈরির প্রয়োজন পড়েছে। এনার্জি ক্ষয় হয়েছে, যাকে আমরা বলব কস্ট অফ অ্যাডাপ্টেশন। মনে রাখতে হবে, নিতান্ত অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কোন অঙ্গের গঠনে শক্তিক্ষয় করেনা। সুতরাং, নারী ও পুরুষের মধ্যে বিবর্তনের ধারায় এই যুদ্ধ যে কোনো স্পেসিস কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জরুরি ছিল। নতুবা একটি জেন্ডার বাঁচত, অন্যটি ক্রমশ লোপ পেত, প্রজন্ম গুণগত ভাবে দুই স্পেসিসের মধ্যে যুদ্ধে হেরে যেত।
বলতে পারি, সেক্সুয়াল কনফ্লিক্ট, অর্থাৎ যৌনতাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী ও পুরুষের মধ্যে হিংসার ইতিহাস মানুষে শুরু নয়, এবং স্পেসিসের ক্ষেত্রে detrimental নয়। কিন্তু, আলাদা করে স্ত্রী ও পুরুষ একটি দাম দিচ্ছে, স্পেসিসের স্বার্থে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বার্থকে বিপন্ন করছে। স্বার্থপর জিন, কোনো নতুন কথা নয়।


এবার মানুষের কথা ভাবতে হয়। ধর্ষণ নিয়ে কে-ই বা মাথা ঘামাত, যদি মানুষ না থাকত।
সব প্রাইমেটের মধ্যে যৌনতার ইতিহাসে মানুষের একটি বিশেষ স্থান আছে, কয়েকটি ধর্মের কারণে।

১) মানুষ মনোগ্যামাস পেয়ার বন্ডিং এ উত্সাহী।শুধু এটুকু হলেই অবশ্য স্পেশাল হত না, কারণ মনোগ্যামাস ওয়ান টু ওয়ান বন্ডিং পাখিদের মধ্যেও বেশ মেলে। মনোগ্যামাস পেয়ার বন্ডিং আমরা তাকেই বলব, যেখানে দুটি প্রাণী একত্রে বসবাস করার চেষ্টা করে, নিজের সংগ্রহ করা খাবার সঙ্গীকে দেয়, এবং সঙ্গীকে প্রটেক্ট করে, যৌন মিলনের সময় ছাড়াও। তা ছাড়াও পুরুষ/নারী প্রাণীর সন্তানের প্রতি বন্ডিং ও এর মধ্যে ইনক্লুড করা হবে, কিন্তু সে প্রসঙ্গে আমরা পরে বিশদে আসবো।
মনোগ্যামাস পেয়ার বন্ডিং এর মধ্যে সমকামী সম্পর্ক আসবে। ব্ল্যাক সোয়ান, হাতি, জিরাফ, বোতলনাসা ডলফিন ইত্যাদি বেশ কিছু প্রাণীকে সমকামী এসোসিয়েশন-এ (শুধুমাত্র ব্যবহার/প্র্যাকটিস নয়) আসতে দেখা যায়। অনেক সময়েই পশু সমকামী দম্পতিরা অন্য দম্পতির ডিম বা শিশু চুরি করে বা ছিনিয়ে এনে পালন করে। অনেকেই স্বল্প সময়ব্যাপী উভকামী সম্পর্কে ব্যাপৃত হয়।
[সমকামী সম্পর্কের বিশদে না গিয়েও এখানে দুটি পয়েন্ট হাই লাইট করি -ক) লক্ষ্য করুন, সমকামী সম্পর্কের নিজস্ব বিবর্তনগত সুবিধা। দুই মেট এর মধ্যে কনফ্লিক্ট নেই।একে অন্যকে আঘাত করার চেষ্টা করেনা।
খ) অসুবিধা- একে অন্যের সন্তান ধারণে অক্ষমতা, ফলত: অন্য উভকামী সম্পর্কের সাহায্য না নিলে জিনের গতি হবে রুদ্ধ। ]

২) মানুষের বন্ডিং সিজনাল নয়। অর্থাৎ, এক মিলন-ঋতুতে আমার পার্টনার এক , অন্য মিলন-ঋতুতে আর একজন, এরকম হয়না। পশুপাখিদের বন্ডিং এক মিলন-ঋতু থেকে দ্বিতীয়টিতে প্রায়শই যায়না, নারীদের মনোগ্যামি ও ওই এক ঋতুর জন্য।

৩) প্যাটার্নাল বন্ডিং। আরে মা শিশুকে আগলাবে তো বটেই। কিন্তু বাবা ও শিশুর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন, শিশুর যত্নে বাবার দীর্ঘ অংশগ্রহণ অন্যান্য স্পেসিস এ বিরল।এটাকে যদি একটা বিহেভিয়ারাল অ্যাডাপ্টেশন ধরি, এক্ষেত্রে কস্ট এন্ড বেনিফিট অফ অ্যাডাপ্টেশন কি সেটা জানতে হবে। তবে এজন্য কিছু মডেল আছে , যেমন পেংগুইন, যেমন হামিং বার্ড, যেমন সেলার মাকড়সা।

৪) কনসেপ্ট অফ অর্গ্যাজম এবং নন- রিপ্রোডাক্টিভ সেক্স : অর্গ্যাজম যৌনতার সেই অংশকে চিহ্নিত করে, যা কিনা প্রজননের সাথে আদৌ সম্পর্কিত নয়। এখন পশুদের অর্গ্যাজম সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। অল্পবিস্তর আছে, যা আমি পরে বলব। শুধু এইটুকু খেয়াল রাখা যাক, পশুরা যৌন মিলনের সময় সন্তানার্থে মিলিত হচ্ছে এমন কোনো কথা ভেবে মিলিত হয়না বলেই মনে হয়। অর্থাৎ, রিপ্রোডাক্টিভ সেক্স বা সেক্স ফর প্লেজারের ফারাক করার এবং তাকে কন্ট্রোল করার পদ্ধতি তাদের অজ্ঞাত। সুতরাং সেক্স ও ফোরপ্লে করার সময় instinct ফর প্লেজার এন্ড হরমোনাল রিলিজ ছাড়া কোনো কিছুই তাকে ড্রাইভ করে না। তাদের অর্গ্যাজম কিভাবে হয় সেটা আমাদের অজ্ঞাত কিন্তু যদি অর্গ্যাজম ফুলফিলমেন্ট অফ সেক্সুয়াল ড্রাইভ হয়, তা পশুরা এচিভ করে, এবং সেকেন্ডারী সেক্সুয়াল উদ্দীপক-যথা ক্লিটরাল উদ্দীপনেও তা সম্ভব। শিম্পাঞ্জি ও রীস্যাস বানরে ক্লিটরাল উদ্দীপনেও দেখা গেছে তাদের হার্টবিট, রক্তচাপ ও নার্ভ সংবেদন যৌন মিলনের মত এক ই ভাবে বাড়ে, কিন্তু অর্গ্যাজম জানা কিঞ্চিত জটিল।

এখানে এতক্ষণ ধরে বলে আসা একটি তত্ত্বকে আমরা আর একটু পরিষ্কার করে দেখতে পাচ্ছি-স্পেসিসের উদ্দেশ্য যদিও প্রজনন এবং রিপ্রোডাক্টিভ সেক্স ,ইন্ডিভিজুয়াল মানুষ /পশুর উদ্দেশ্য তা নাও হতে পারে। অর্থাৎ , স্পেসিসের বিবর্তনের ধারার সাথে ইন্ডিভিজুয়াল এর ব্যবহারের কনফ্লিক্ট থাকতে পারে। মানুষের মধ্যে এই তৃতীয় কনফ্লিক্ট অত্যন্ত প্রকট, স্ট্রাগল বিটুইন ইন্ডিভিজুয়াল এন্ড সোসাইটি।


দুজনার পরিবার, কখন, কেন তৈরী হলো
____________________________

মানুষের বিবর্তনের প্রথমদিকের মুশকিল ছিল পুরুষের। এখন, এতদিন (প্রাইমেটের আগে তো বটেই, পরেও ) নারী আদৌ প্রজননের জন্য সঠিক সময়ে পৌঁছেছে কিনা, বোঝা মুশকিল ছিলনা পুরুষ প্রাণীর পক্ষে। কেউ ফেরোমোন নি:সরণ করত(যেমন বাঘ)। কারো যৌনাঙ্গ ফুলে উঠত এবং রক্তাভ হয়ে উঠত (যেমন বেবুন)। কিন্তু লুকোনো ওভিউলেশন শুরু হওয়ায় পুরুষ পড়ল ভারী মুশকিলে। এতদিন সে সন্তানধারণের জন্য প্রস্তুত এমন রমণীকে ধর্ষণ ও করতে পারত, কিংবা সাময়িক পছন্দসই ব্যবহার করে রমণের সুযোগ পেতে পারত। মোদ্দা কথা , সঙ্গমে পার্শ্ববর্তী পুরুষটিকে হারাবার জন্য তার হিসেব ছিল সোজা সাপটা। যত পারো ripe নারীর সঙ্গে যৌন মিলন করতে হবে। ঐটুকু গুনলেই যথেষ্ট! কিন্তু এখন, সে তো আর বুঝতেই পারেনা কখন তার পছন্দের রমণী রিসেপটিভ। তাকে ধীরে ধীরে হয়ে পড়তে হচ্ছে নারীর সিগন্যালের উপর নির্ভরশীল। এদিকে, নারী মানুষ খুবই চালাক হয়ে উঠছে আজকাল। কনসিলড ওভিউলেশন তাকে নতুন adaptive সুবিধা দিল। সে পলিগ্যামাস হতেই পারে ইচ্ছামত, কার সন্তান ধারণ করবে সে তার নিজের ব্যাপার, কারণ নিজের ওভিউলেশন এর সময়টুকু এদিক ওদিক হিসেব করে সে বুঝে ফেলে। এই লস অফ এক্সটার্নাল সিগন্যাল ফর ফার্টিলিটি পুরুষকে মহা বিপদে ফেলল। আগের মত মাল্টিপল পার্টনার খুঁজে বেড়ানো, এবং তার পর আশা করা যে মিলনের সময় সে ফার্টাইল এ পদ্ধতি কাজ করছিল না। একেই নারী মানুষ ছোট্ট সময়ের জন্য ফার্টাইল, একটি দুটির বেশি সন্তান হয়না। সেই সন্তানেরাও বেজায় দুর্বল, যত্ন না করলে বাঁচেনা। রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস বজায় রাখতে এবার প্রকৃতি পুরুষ মানুষকে তার এক অপছন্দের খেলায় ঠেলে দিল। শুরু হলো আদম ও ইভের গল্প। পুরুষ মাল্টিপল নারীর সঙ্গে সঙ্গমের ঝুঁকি না নিয়ে একটি নারীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বারংবার সঙ্গম শুরু করলো, এবং সন্তান জন্মের পরেও তাকে বাঁচানোর জন্য হাত লাগালো নারীর সাথে। গর্ভাবস্থায় নারীর সঙ্গে মিলন, সন্তান জন্মের পর সঙ্গম, এই সব কিছুতেই পেয়ার-বন্ডিং বাড়ে। এই সময় থেকে সেক্সুয়াল প্র্যাকটিসের মধ্যে স্তনবৃন্ত উদ্দীপন এলো। (এটা স্তনের উদ্ভবের গল্প নয়, সেইটা পরে বলব। ) স্তন শিশুকেই যে শুধু পুষ্টি দিল তা নয়, nipple fondling and sucking প্র্যাকটিসের মধ্যে দিয়ে পুরুষের শরীরে ঠেলে দিল এগ্রেসিভনেস কমানোর জন্য কয়েকটি হর্মোন, অক্সিটোসিন, প্রজেসটেরণ। প্রকৃতি পুরুষকে বদলানোর এই খেলায় কিছু কন্ট্রোল যোগ করলো। ইনিশিয়াল শিশু-পিতা বন্ডিং তৈরী করার জন্য, যখনই শিশুকে কোলে নিল পুরুষ, তার এই হর্মোন গুলি বাড়তে শুরু করলো।
সোজা কথায়, মানুষের বিবর্তনের প্রথম ধাপে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল রমনীকুল।

কাজেই, সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে, এ শুনে নারীবাদীদের রেগে যাওয়ার কোনো কারণ দেখিনে।

মানুষের যৌনতা, মানুষের সামাজিকতা
________________________________________________________________________________

hominid বা মানুষের যৌনতার বিবর্তনের সাথে পাকে পাকে জড়িয়ে তার সমাজ, সংস্কৃতি(কালচার ), নৈতিকতা, আবেগ এবং বুদ্ধিমত্তা(ইন্টেলিজেন্স)। এককে বাদ দিয়ে অন্যকে ব্যাখ্যা করা মানেই জীববিদ্যার কাছে অপব্যাখ্যা।

এই ডিসক্লেমার পড়ার পর কেউ যদি বেজায় খেপে গিয়ে আমায় বলেন "শরীর, শরীর, আপনার মন নাই মশাই ?" তা হলে সবিনয়ে আমাকে বলতে হবে জীববিজ্ঞানের উদ্দেশ্যই বোধ করি সেই নির্মোহতা, যেখানে যৌনাকাঙ্ক্ষা আজ অবধি প্রাণের বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে, এবং ভবিষ্যতেও করবে, তা বলতে আটকায় না। সেক্সুয়াল সিলেকশন ডারউইনের এমন একটি তথ্যধর্মী থিওরি যা আজ অবধি বিবর্তন-সন্ধানীর স্বর্ণখনি। সে কেন্নোতে হোক, ছারপোকে হোক কি মানুষ কিংবা পাখিতে। উত্তম ইন্ডিভিজুয়ালের পুল তৈরী করাই প্রকৃতির উদ্দেশ্য।

অপব্যাখ্যাকারীরা টুক করে বলে নেন, তারমানেই দেখো প্রক্রিয়েশন অভিমুখী নয় এমন সকল সেক্সুয়াল অভ্যাস গলদ। তাদেরও সবিনয়ে বলি, না: প্রত্যেক ব্যবহার, প্রত্যেক ধর্মের পিছনে জীববিদ্যার নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। আর নৈতিকতারও আছে বৈকি। কাজেই মনুষ্যসৃষ্ট নীতির কোন ধার ধারেনা এই শরীর, এই প্রাণ। জীববিজ্ঞানী বিচারক নয়। সে অনুসন্ধিত্সু দর্শক মাত্র। এক কঠোর, অক্লান্ত পরীক্ষা বিবর্তন, যেখানে প্রতিটি স্টেপ পার করার হার্ডলস জিতে তবেই আজকে এক একটি স্পেসিস, এবং তাদের ধর্মগুলি এক্সিস্ট করছে। প্রত্যেকটিই জরুরি, কোনটিকেই ফেলে দেওয়ার অনুমতি প্রকৃতি দেয়না।

মনে রাখতে হবে, যখন আমরা বলি বানর থেকে বিবর্তনের প্রথায় মানুষ এলো , তখন আমরা ব্যাক ক্যালকুলেট করি। আমরা জানি না সেই মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের সাধ্য সাধনায় কি ভাবে একটি একটি করে ধর্ম একত্র হয়ে এক স্পেসিসকে অন্য স্পেসিস থেকে আলাদা করে। আমরা শুধু দেখতে পাই শেষপর্যন্ত তার ফলাফল কি দাড়ালো। নিচে দেখুন মানুষের খাড়া হয়ে উঠবার কাহিনী।



http://s7.postimage.org/n139w5vkb/Ape_tree.jpg


















আজকের হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স একটি অনন্য স্পেসিস। অর্থাৎ, তার নিকটবর্তী যে সকল আত্মীয়রাও মানুষ হবার চেষ্টায় ছিল, তাদের সকলেই প্রকৃতির , বা হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্সের সাথে যুদ্ধে বেমালুম হেরে গেছে, আর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মানুষের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় এখন শিম্পাঞ্জি , যাদের থেকে মানুষ আলাদা হয়ে গেছে ৪-৬ মিলিয়ন বছর আগে। অর্থাৎ তার আগে একটি প্রজাতি ছিল, যা এখন বিলুপ্ত, যাদের থেকে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির জন্ম। এভাবেই, গরিলা ও মানুষ আলাদা হয়েছে ৬-৮ মিলিয়ন বছর আগে আর ওরাং থেকে, ১২-১৬ মিলিয়ন বছর আগে। এই মুহূর্তে, হোমো সেপিয়েন্স এর সবচেয়ে নিকট আত্মীয় নিয়ানদারথ্যাল মানব(Homo neanderthalensis ), যে কিনা লুপ্ত। নিচে দেখুন আত্মীয়তার ছবি। গঠনগত ভাবে খুবই কাছাকাছি, এবং সবচেয়ে নবীন নিয়ানদারথ্যাল মানবের ফসিল ৩০,০০০ বছর পুরনো। সবচেয়ে পুরনো, প্রোটো নিয়ানদারথ্যাল মানবের সন্ধান মিলেছে ৩থেকে ৬ মিলিয়ন বছর আগে, অর্থাৎ , এই দীর্ঘ সময় ধরে এনাটমিকালি মানুষ তৈরী হয়েছে। নবীন নিয়ানদারথ্যাল প্রস্তরযুগে ছিল, এবং আগুনের ব্যবহার জানত।



http://s16.postimage.org/i7k7e4k4l/neander_and_human.jpg

জিন সিকোয়েন্স করে বন্য এপদের সাথে মানুষের বিভিন্ন ব্যবহার ও তত্সংক্রান্ত জিনের তুলনার গুরুত্ব বিহেভিয়ারাল জেনেটিক্সে এখন প্রথম সারিতে। দু:খের বিষয়, নন-ইভেসিভ টেকনিকে জিন সিকোয়েন্স সংগ্রহ করা গেলেও, কোন সময় কোন জিনের ধর্ম প্রকাশিত হবে , ডেভেলপমেন্ট, বিহেভিয়ার ইত্যাদির সাথে তাল মিলিয়ে, সে নিয়ে গবেষণা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এই সমস্ত এপ রা দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে, খাঁচায় এরা মিলিত হতে চায় না, এবং সন্তানের জন্ম দিতে চায়না । আর বন্যতায় বন্যকে অবজার্ভ করা, এবং স্যাম্পল (সংখ্যা নয়, আর এন এ এবং প্রোটিন; ) সংগ্রহ করা মানে প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়ে দাড়ানো। নবীন ফসিল নিয়ানদারথ্যাল এর জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন ম্যাক্স প্ল্যান্কের , আর গ্রিন, যা এই মুহূর্তে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশের অপেক্ষায়।

তা হলে মানুষের প্রাথমিক বিহেভিয়ারের মডেল আমরা কোথায় খুঁজবো? মানুষের অন্য কোনো কাছাকাছি প্রাণী তো আমাদের জানা নেই , যারা এই বিবর্তনের পথ দেখাবে?

কোনো না কোনো ভাবে, এক একটি ভৌগোলিকভাবে আইসোলেটেড উপজাতির মধ্যে প্রাথমিক ব্যবহারের লেফট ওভার রিচুয়াল হিসাবে লুকিয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে যে সমস্ত ধর্ম সারা পৃথিবীতে মেজরিটি হিসাবে সিলেক্ট হয়েছে, এবং অন্তর্মিলনের ফলে এনরিচড হয়েছে, যেমন মনোগ্যামি ও পলিগাইনি( এক পুরুষ, বহু নারী), ডান হাতের ব্যবহার, লিখিত ও মৌখিক ভাষার ব্যবহার, বুদ্ধিমত্তা, মেয়েদের শিশুসুলভ চেহারা (নিওটেনি)তার ঠিক উল্টো দিকে বেশ কিছু উপজাতি রয়েছে যারা মাইনরিটি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করে কিছু পুরনো বিহেভিয়ারকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এবার আমরা, ধর্ষণের ব্যবহারিক উপযোগিতার ক্ষেত্রে রেলিভ্যান্ট এমন কিছু মাইনরিটি কমিউনিটির বেহেভিয়ারাল প্র্যাকটিসের কথা আলোচনা করব।

মসুও উপজাতি: চীন
একটি প্রকৃত মাতৃতান্ত্রিক সমাজ
____________________________________________________________________________________
বিবর্তনের ইতিহাসে মানুষের উদ্ভবের সময় থেকে সহসা বলাত্কার অর্থহীন হয়ে এলো, এগ্রেসিভ আলফা -পুরুষেরা চাপে পড়ল, আর নারীর হাতে এলো মিলনের নিয়ন্ত্রণ। এটা ভাবলে ভুল হবে যে প্রথম থেকেই নারী মনোগ্যামিকে একমাত্র কাম্য পন্থা বলে বেছে নিয়েছিল। বেশ কিছু এক্সপেরিমেন্ট নারীও করে দেখেছিল, যার মধ্যে বহুগামিতা অন্যতম। polyandrous সমাজের প্রাচীনতম উদাহরণ চীনের মসুও উপজাতি। এই বহু প্রাচীন উপজাতির সমাজের গঠন অত্যন্ত কৌতুহলোদ্দীপক।

মসুও উপজাতি চীনের ইউনান এবং সিচুয়ান প্রদেশে বাস করে, লুগু হ্রদের চারপাশে, হিমালয়ের কিছুটা উচ্চতায়। প্রায় ৪৫০০০ মানুষ এই মুহূর্তে উপজাতির অন্তর্ভুক্ত। এদের জীবিকা চাষ ও পশুপালন, তাছাড়া আগে এরা নিজেদের সমস্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিজেরাই তৈরী করত। ইদানিং তা হয়না।
মসুও উপজাতির ছেলে :মেয়ের রেশিও ১ থেকে ১_৪ এর মধ্যে, যা খুবই সুস্থ অনুপাত। এদের মধ্যে হৃদয় এবং রক্তচাপজনিত সমস্যা বিরল, একমাত্র রোগ হচ্ছে দাঁতের ইনফেকশন। ইদানিং সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড অসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তার কারণ বলছি।

মসুওদের কোনো লিখিত ভাষা বা স্ক্রিপ্ট নেই। এদের ইতিহাস কেবল মৌখিক ভাষায় ধরা আছে। আশ্চর্যের বিষয়, এদের মৌখিক ভাষায় ধর্ষণ, খুন ও যৌন হিংসা অর্থের কোন শব্দ নেই। তার মানে অবশ্য এই নয় যে এদের সমাজে এই জিনিসগুলি নেই; কিন্তু পরিসংখ্যান নগণ্য।
মসুওদের সমাজ শুধু মাতৃতান্ত্রিক নয়, মাতৃসূত্রী(matrilineal )। পরিবার এদের সমাজে নিতান্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মেয়েদের কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। মেয়েদের সম্পত্তি তাদের মেয়েদের হাতে যায়। পরিবারের পুরুষেরা পরিবারেই থাকে, এবং পরিবারের মাথা না হলেও এবং মাতৃ সম্পত্তির উত্তরাধিকার না পেলেও মেয়েদের থেকে আলাদাভাবে তাদের দেখা হয়না। মেয়েরা এবং ছেলেরা জীবিকার সকল কাজ ই করে থাকে।
এদের সমাজে বিবাহের অস্তিত্ব নেই। মসুও মেয়েরা কারুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চাইলে তাকে রাত্রে নিজের ঘরে ডাকে। মেয়েদের প্রাইভেট রুম বাড়িতে থাকতেই হবে। এখানে কোনো গোপনতা নেই, এবং এই সম্পর্ক এক রাতের হতে পারে, আবার ভালো সমঝোতা গড়ে উঠলে দীর্ঘদিন ও চলতে পারে। কিন্তু মসুও পুরুষ তার শয়ন সঙ্গিনীর বাড়ির অন্যান্য কোনো ব্যাপারে অংশগ্রহণ করেনা। যদিও তার মা, বোন, বা পরিবারের মেয়েদের ব্যাপারে সে রেস্পন্সিবল। দুটি পরিবারের মিলন এক্ষেত্রে ঘটেনা।
সন্তান তার মায়ের পদবি পায়, এবং মায়ের কাছে মায়ের পরিবারে বড় হয়। তার পিতা চাইলে সন্তানের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারে, সেক্ষেত্রে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠান করে , শয়নসঙ্গিনীর বাড়িতে উপহার ইত্যাদি পৌঁছে দিয়ে সেই প্রিভিলেজ তাকে দেওয়া হয়। ইনসেস্ট ছাড়া যে কোনো পুরুষের সাথে মসুও নারী সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে। একে ওয়াকিং ম্যারেজ বলা হয়। মসুওরা যে কোনো পুরুষকে, এমনকি কৌমের বাইরের পুরুষকেও নির্বিরোধে বাড়িতে আসতে দেয় বাড়ির মেয়ে চাইলে, এই ওয়াকিং ম্যারেজের জন্য।একে বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলব সিরিয়াল মনোগ্যামি। যাকে কাজে লাগিয়ে একসময় সেক্সুয়াল ট্যুরিজম গড়ে উঠেছিল এই অঞ্চলে। ওয়াকিং ম্যারেজের বিক্রি এবং অসাধু দালালদের জন্য একসময় এই উপজাতি STD র কবলে পড়েছিলো। এখন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যু, যদিও এই অপরাধ মসুওদের নিকটতম ইতিহাসে দেখা যায়না।

পাঠক এখানে আদিম polyandrous সমাজের ছায়া দেখুন। মসুওদের সমাজ ও পরিবার অত্যন্ত স্টেবল, মানসিক স্ট্রেস নেই, নারী ও পুরুষ উভয়েই সুস্থ এবং হিংস্র/এগ্রেসিভ কেউই নয়। যে হাতে গোনা ছেলেমেয়েরা এখন আধুনিক পড়াশোনার জগতে গেছে তাদের ও অন্যদের ও আই কিউ খুবই উচ্চ। ১৪ বছর বয়সের আগে ছেলে মেয়ে দের পোশাক এক থাকে। তাদের কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবার দরকার পড়েনা। ১৪ বছর বয়সের পর অনুষ্ঠান করে বয়: প্রাপ্তি অনুষ্ঠান হয় , ছেলে মেয়ে উভয়কে আলাদা পোশাক দেওয়া হয় এবং তার পর তারা ওয়াকিং ম্যারেজের অনুমতি পায়।

কিন্তু, এক ই সঙ্গে মসুও দের মধ্যে একটি সমান্তরাল ক্ষুদ্র পিতৃতান্ত্রিক সমাজধারা রয়েছে। আমার ধারণা এই ধারা অপেক্ষাকৃত নতুন, এবং , যদি ইতিহাসে এই পিতৃতান্ত্রিকতার সময় চিহ্নিত করা সম্ভব হয়, তাহলে বিবর্তনের ইতিহাসে আবার পুরুষের আধিপত্য ফিরে আসার সময়কেও চিহ্নিত করা সম্ভব। মসুওদের কৃষকেরা সাধারণ জনগণ, এবং রাজনৈতিক ভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি ছোট্ট পুং গোষ্ঠী রয়েছে , যাদের বলা হয় "নোবিলিটি"। এরা কৃষিজাত দ্রব্যের বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এই গোষ্ঠির নির্বাচিত প্রধানরা বিবাহ করেন, এবং স্ত্রী রা তাদের বাড়িতে থাকেন। অনেক নারীবাদী সমাজবিজ্ঞানী বলে থাকেন যে মসুওদের মাতৃতান্ত্রিকতা আসলে ফোর্সড মাতৃতান্ত্রিকতা , যা পুরুষেরা তৈরী করেছেন এবং মেজরিটি সমাজের উপর ফোর্স করেছেন। ব্যক্তিগত ভাবে আমার তা মনে হয় না, কারণ এমনকি নোবিলিটির অন্তর্গত পুরুষেরাও একাধিক বিবাহ করেন না, তাদের স্ত্রীয়েরাও নির্বাচিত, এবং ধর্ষণ বা হিংসায় অংশ নেননা। নোবিলিটি বংশানুক্রমিক নয়, নির্বাচিত। আমার ধারণা, এগ্রেসিভ এবং অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন পুরুষদের আলাদা করে একগামী প্রজননে রেখে একটি উচ্চ ব্রিডিং স্টক তৈরির একটি এক্সপেরিমেন্ট নোবিলিটি। তাদের সন্তানেরা আবার সাধারণ দলেই নিক্ষিপ্ত হয়, এবং সাধারণ প্রজননে ভালো জিন ছড়িয়ে দেয়।

মসুও-আমার ধারণায় আদিম মানব সমাজের একটি স্ন্যাপশট, যখন কনফিউজড পুরুষ এবং হঠাত পাওয়া নিয়ন্ত্রণে কনফিডেন্ট নারী যৌনতার বিভিন্ন মডেলকে বাজিয়ে দেখছে, কোনটা খাটে।
যৌনতার অন্যপ্রান্ত

যৌন হিংসা, চূড়ান্ত বহুগামিতা(পুরুষ), ধর্ষণ, শিশুর সঙ্গে সঙ্গম, এবং পুরুষতান্ত্রিকতার অন্য প্রান্ত দেখতে পাই আফ্রিক্যান ও দক্ষিণ আমেরিকান আদিম উপজাতিগুলির মধ্যে। এবার সেইরকম একটি উদাহরণ দেখা যাক।

ইয়ানোমোমো
______________________________________________________________________________
ইয়ানোমোমো উপজাতির বাস ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলার বর্ডারে, রেইনফরেস্টের ভিতর। আমাজনের অববাহিকায় বসবাসকারী ইন্ডিজেনাস উপজাতিদের মধ্যে এরাই প্রাচীনতম যারা এখনো বেঁচে আছে। অস্বাভাবিক হিংস্র, পুরুষতান্ত্রিক, যুদ্ধপ্রিয় ও আইসোলেটেড এই উপজাতি । ২০,০০০ নারী ও পুরুষ ২০০-২৫০ টি গ্রামে বিভক্ত হয়ে বসবাস করে। সান্টা বারবারার ইমেরিটাস অধ্যাপক N Chagnon এর সারাজীবনের কাজ এই উপজাতির উপর। যেহেতু এদের বিশ্বাস অর্জন করা ও এদের নিয়ে গবেষণা করা খুবই ঝুঁকির কাজ, সেজন্য খুব কম লোকই এই উপজাতির ওপর ফিল্ডওয়ার্ক করেছেন, এবং চাগ্ননের কাজ নিয়েও প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। তা সত্ত্বেও, যুদ্ধ, হিংসা ও পুরুষতান্ত্রিকতার বিবর্তনে চাগ্ননের কাজ পায়োনিয়ার।
ইয়ানোমোমোদের সামাজিক গঠনকে মানুষের সমাজে যুদ্ধ, হিংসা এবং আধিপত্য বিস্তারের সূত্রপাতের মডেল হিসাবে ধরা হয়। এদের সমাজে ও পরিবারে পুরুষদের কথাই প্রথম ও শেষ। কোনো বয়সী, কোনো রকম নারীরই ধর্মাচরণ থেকে শুরু করে কোনো রকম সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের রীতি নেই। ১০-১২ বছর বয়সের মধ্যে ইয়ানোমোমো নারীরা প্রথম রজদর্শন করে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিবাহ হয়। প্রতি পুরুষের ৫-১০ জন স্ত্রীও থাকে, এই সংখ্যা পুরুষের শক্তি ও র্যাঙ্কের উপর নির্ভর করে। এদের বিবাহ আগে থেকেই পরিবারের পুরুষেরা স্থির করে রাখে। কোনো রকম বিষয়েই নারীদের কোনো মতামত নেই। প্রথম রজদর্শনের পর মেয়েরা প্রায় সমস্তটা ফার্টিলিটি পিরিয়ড ধরেই গর্ভবতী থাকে, এবং এদের মেন্সট্রুয়াল সাইকল সেই কারণে নিতান্ত অনিয়মিত। অল্প বয়েস থেকে সন্তানধারণ শুরু হওয়ায় এদের সব সন্তান বাঁচেনা, এবং জরায়ুর অসুখ প্রায়শই দেখা যায় ।
এদের সামাজিক ব্যবহারে পরকীয়া, প্রেম ইত্যাদির কোনো স্থান নেই। কোনো মহিলা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে ইয়ানোমোমো স্বামীরা ১। তার কান কেটে নিতে পারে ২। ধারালো কুকরী দিয়ে তার নিতম্বের কিছু অংশ কেটে নিতে পারে। এছাড়া শক্তি ও ক্ষমতার প্রদর্শন হিসাবে স্ত্রীদের উপর শারীরিক অত্যাচার খুবই নিয়মিত, এবং ধর্ষণ বা খুনের কোনো শাস্তি নেই। আসলে, ইয়ানোমোমোদের সমাজ যুদ্ধ ও লুটের উপর দাড়িয়ে। প্রত্যেক ইমোশনের বহি:প্রকাশ খুনে গিয়ে দাড়াতে পারে, এবং খুন সেলিব্রেট করার জন্য কিছু রিচুয়াল রয়েছে। চাগ্নন বলেছেন" It is dangerous to provoke a grieving person no matter what the cause of death of the lost kin. It is common to hear statements such as, "If my sick mother dies, I will kill some people." এরা নর মাংসাশীও , তবে সচরাচর মৃত মানুষের দেহের অংশ রিচুয়াল হিসাবে খেয়ে থাকে। প্রতি বছরে অন্তত চারবার একটি ইয়ানোমোমো গ্রাম অন্য গ্রামকে আক্রমন করে। জয়ীরা বিজিত পুরুষদের হত্যা করে এবং নারীদের ধর্ষণ করে। নারীদের সচরাচর কৌমের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়, কারণ abuse এর ফলে মেয়েদের সংখ্যা বেশ কম। সন্তানের প্রতি পুরুষদের কোনো এটাচমেন্ট দেখা যায়নি।
[বলে নেওয়া ভালো, যে কোনো কোনো সমাজ্তাত্ত্বিকের মতে, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কোনো সময়ে অনুপ্রবেশের ফলেই এই উপজাতি হিংস্র হয়ে উঠেছে, এটি এদের ইনহেরেন্ট ধর্ম নয়। কিন্তু এই মতবাদের কোনো প্রমাণ বিরল। ১৯৪০ থেকে শুরু করে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে এদের কিছু কিছু সংযোগ হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্রিডিং হয়নি বলেই মনে হয়। ]

http://www.survivalinternational.org/tribes/yanomami/future#main

এই রকম সমাজের বেনিফিট কি রকম?

১। এই জাতীয় সমাজে শক্তিশালী ও এগ্রেসিভ পুরুষের বেশি সংখ্যক স্ত্রী থাকে, ফলে তাদের প্রজননে সাফল্য বেশি হয়।
২। Warrior পুরুষেরা ক্রমাগত যুদ্ধে অংশগ্রহন করে, ফলে, তাদের লুট করে পাওয়া স্ত্রীয়েরা কিছুটা দূরবর্তী সম্পর্কের হয়। এর ফলে বিভিন্ন জিন এসে বংশে মেশে এবং সন্তানের মধ্যে রিসেসিভ অসুখ বা দুর্বলতা কমে।
৩। মেয়েদের হাতে কোনো রকম সিলেকশন না থাকায়, এখানে সেক্সুয়াল সিলেকশনের একটি কম্পোনেন্ট কম। পুরুষের সঙ্গে কেবল পুরুষের লড়াই , এবং তাতে যে জিতবে সে বেশি সফল। এখানে নারী ও পুরুষের স্বার্থের মধ্যে চূড়ান্ত কনফ্লিক্ট, নারীর সম্পূর্ণ অবদমন এবং তার ফলে কমে যাওয়া প্রজননগত সাফল্যকে কমপেনসেট করতে বহুনারী গমন, নারীর সম্পূর্ণ একগামিতা এবং warefare কে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রজননের রেট খুব কম নয়, যদিও মৃত্যুর হার খুব ই বেশি, ৫০% পুরুষের যুদ্ধে মৃত্যু ঘটে। এই মডেলকে সমাজ হিসাবে অসফল বলা যায়না।

এই দুরকম প্রান্তিক যৌন ব্যবহারের মধ্যে কোথাও না কোথাও, বিবর্তনের সময় একটা ব্যালেন্স আনার দরকার পড়েছে।
কিভাবে, সেটা দেখতে গিয়ে কিছু মিশ্র ব্যবহারের উপজাতির ব্যবহার দেখা দরকার, তারপর আমরা বর্তমান সমাজের গঠনে আসবো।
___________________________________________________________________________
তবে তার আগে দেখা যাচ্ছে, মাতৃতান্ত্রিক ও পিতৃতান্ত্রিক সমাজ , দুই ই কিন্তু বেসিক পরিবারের গঠনকে মেনে নিচ্ছে। অর্থাৎ, প্রকৃত অর্থে সোশ্যাল না হয়েও(যেমন মৌমাছি) এরা দলবদ্ধ হয়ে থাকছে, এবং একটা ফলস সামাজিক মডেল তৈরী করছে যেটা নারী ও পুরুষের পারস্পরিক ডমিন্যান্ট-সাবমিসিভ-রেজিস্ট্যান্ট সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। সেই মডেল বিভিন্ন অরিজিনের মানুষদের মধ্যে বিভিন্ন রকম। কোন মডেল সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে, সেই বাছাই প্রক্রিয়া তখনও চলছে, যখন এই প্রাচীন উপজাতিগুলির পূর্বপুরুষেরা বিচ্ছিন্নভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে শুরু করেছে। মনে রাখতে হবে , এই উপজাতিগুলি ১। অন্যান্য উপজাতির প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন ২। এদের লিখিত ভাষা নেই, অর্থাৎ লৌহ-যুগের পর এদের বিবর্তন সামান্যই হয়েছে। সুতরাং, বিজ্ঞানীদের মতে, এদের ব্যবহারের রহস্য প্রায় পুরোটাই এদের জিনে ধরা রয়েছে, লার্নিং এবং বাইরের পৃথিবীর প্রভাব সামান্যই।
________________________________________

নন-রিলিজিয়াস সার্কাম্সিসন বা যৌনাঙ্গচ্ছেদের উদ্ভব
______________________________
সার্কাম্সিসনের ইতিহাস মানুষের সেক্সুয়াল ডমিন্যান্স-এর সঙ্গে সোশ্যাল ডমিন্যান্স একীভূত হয়ে যাওয়ার ইতিহাস। এটাকে একটু ছুঁয়ে যাওয়া দরকার মনে হলো। আফ্রিকা, মিডল ইস্ট, মিশরের লিনিয়েজে নারী ও পুরুষের সার্কাম্সিসন একটি গুরুত্বপূর্ণ রিচুয়াল। জেনিটাল মীউটিলেসন লার্নিং ও কমিউনিকেশনের ফলে মানুষের মধ্যে এসেছে। প্রাণীর মধ্যে এর কাছাকাছি কোনো ব্যবহার(বিহেভিয়ার) নেই। কেনিয়ার একটি উপজাতি বাদে সমস্ত উপজাতি সার্কাম্সিসন প্র্যাকটিস করে, তানজানিয়া, নাম্বিয়া ইত্যাদি বহুবিধ আফ্রিক্যান দেশ সার্কাম্সিসন প্র্যাকটিস করে। কেন সার্কাম্সিসন এর প্রয়োজন পড়ল, এমনকি নিতান্ত শান্তিপ্রিয়, স্থিতিশীল পিতৃতান্ত্রিক সমাজেও?

এ নিয়ে বহুবিধ বিতর্ক রয়েছে, তার রেলিভ্যান্ট অংশ বলি।

সেক্স ফর প্লেজার
___________________________________________________________________

রিপ্রোডাকটিভ সাক্সেসের কথা ভেবে কোনো প্রাণী কখনো সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে বলে ভাবা যায় না। প্লেজার এবং রিপ্রোডাকটিভ সাকসেস বেশিরভাগ সময় কাপলড থেকেছে। মানুষের এনাটমি কিন্তু অকস্মাৎ আরো একটা নতুন কনফিউশন যোগ করলো। অর্গ্যাজম এবং নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্স।
অর্গ্যাজম আদতে কি ? সেক্সুয়াল স্টিমুলেসন এর ( বিভিন্ন রকম) ফলে গড়ে ওঠা শারীরিক টেনশনের রিলিজ। পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই পেলভিক মাসলের রিদমিক contraction এবং রিলিজের পরে বহুল পরিমাণে অক্সিটোসিন এবং প্রল্যাকটিনের রিলিজ , ইউফোরিয়া, এবং শরীর ও মনের স্বস্তি।
পুরুষের অর্গ্যাজম ইরেকশন এবং ইজাকুলেশনের সঙ্গে যুক্ত। পেনিসের অঙ্কদেশে একগুচ্ছ নার্ভ আছে যা ইন্টারকোর্স ছাড়াও সেকন্ডারী সেক্সুয়াল অনুভূতি নিয়ে যায় মস্তিষ্কে। এছাড়া কানের লতি, নিপল, উরুর ভিতরদিক এই সব জায়গায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ যারা গিয়ে শেষপর্যন্ত হাইপোথ্যালামাসএ জুড়েছে। এরা প্রত্যেকেই কিছুটা সেক্সুয়াল উত্তেজনা তৈরী করতে পারে। তবে, শেষপর্যন্ত শুরুর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শেষ বিন্দু। অর্গ্যাজমের মূল মস্তিষ্কে। প্যারালাইজড ব্যক্তিদের কোনো স্টিমুলেসন ছাড়াই অর্গ্যাজম এচিভ করতে দেখা গেছে, ঘুমের মধ্যে, বই পড়ে বা ছবি দেখে।
নারীর অর্গ্যাজম একটু বেশি কমপ্লেক্স। শারীরিক ভাবে, নারীর অর্গ্যাজম ২০ সেকেন্ডের ৫-১০ টি জরায়ুর contraction দিয়ে চিহ্নিত। সেকন্ডারি চিহ্ন যোনিদ্বারের ফুলে ওঠা , স্তনবৃন্ত ইরেক্ট হয়ে ওঠা ইত্যাদি। স্টিমুলাস হতে পারে সাধারণ স্পর্শ থেকে শুরু করে g -স্পট (যোনিপথের ভিতর দিকে যেখানে clitoris এর ভিতরের অংশ এবং স্কিনস গ্ল্যান্ড রয়েছে ) স্টিমুলেসন , clitoral স্টিমুলেসন, স্তনবৃন্ত স্টিমুলেসন। Anal স্টিমুলেসনও অর্গ্যাজম আনতে সক্ষম।
অর্গ্যাজম একাধারে কোয়ালিটেটিভ ও কোয়ান্টিটেটিভ। সবটাই ডিপেন্ড করছে স্টিমুলাস যেখানে দেওয়া হচ্ছে সেখানকার নার্ভ এন্ডিং এর সংখ্যার উপর। যেমন , clitoris এ , বহু, প্রায় ৮,০০০ নার্ভ এন্ডিং রয়েছে। clitoral স্টিমুলেসন এর ফলে অর্গ্যাজম প্রায় ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। সেখানে ইন্টার কোর্সের সময় g -স্পট এর স্টিমুলেসন কতটা হচ্ছে তার উপর নারীর অর্গ্যাজম ডিপেন্ড করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই আদৌ অর্গ্যাজম হয়না।
চার রকম মূল নার্ভের কাজ যৌন উত্তেজনা বহন করা-হাইপোগ্যাসট্রিক, পেলভিক, পুডেনডাল এবং ভেগাস। এর মধ্যে ভেগাস নার্ভ স্পাইনাল কর্ড দিয়ে মস্তিষ্কে যায় না, -যা এক্সপ্লেন করে স্পাইনাল কর্ডে আঘাতের ফলে প্যারালাইজড মানুষের ও কিভাবে অর্গ্যাজম হয়। নিপল, এবং অন্যান্য ইরজেনাস অঙ্গ থেকে সংকেত এসে এই নার্ভ গুলিতে জয়েন করে এবং আলটিমেটলি ব্রেনে পৌঁছয়।

ফিমেল অর্গ্যাজম কি রিপ্রোডাকটিভ সেক্সের জন্য বিপদসংকেত?
__________________________________________________________________________

অর্গ্যাজম পুরুষ ও নারীর মস্তিষ্কে কতকগুলি অনুভূতিকে শাট ডাউন করে বিশেষত ভয়, সাপ্রেশন, দুশ্চিন্তা। সেকেন্ডারী স্টিমুলেসন নারীকে বেশি ভালো অর্গ্যাজম দিতে পারে, ইন্টারকোর্সের থেকে। সমস্ত সোসাইটি ই যখন ধীরে ধীরে পিতৃতান্ত্রিক হয়ে আসছে , তখন নারীর সেক্সের পার্টনারের চয়েস কমে এলো। সেইসঙ্গে, নারীর সেক্স ফর প্লেজারের প্রয়োজন কমে সেক্স ফর রিপ্রোডাকসনে যোগদানের প্রয়োজন বেড়ে উঠলো। স্বভাবতই, প্রয়োজনীয় পরিমাণে বা কোয়ালিটিতে সেক্স ফর প্লেজার না পাওয়ায় নারী আত্মরতি বা সমকামিতার প্র্যাকটিস আগের চেয়ে বাড়িয়ে দিল। এতে সব সময় তাকে পুরুষের উপর নির্ভরশীল থাকার দরকার হচ্ছেনা। একটা নিতান্ত চুপচাপ কিন্তু অত্যন্ত মিনিংফুল বিদ্রোহ।
সমাজ এই প্র্যাকটিস খুশি মনে মেনে নিলোনা। পুরুষের কাছে নারী এই মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল, যার বিহেভিয়ারকে সে সম্পূর্ণ কন্ট্রোল করতে চায়। নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্সুয়াল প্র্যাকটিস কে সোজাসুজি রিপ্রোডাকসন কমে যাওয়ার কারণ ও সে ভেবে নিতে পারে। এই কন্ট্রোলের স্বার্থে এবং মনোগ্যামির স্বার্থে এলো ফিমেল সার্কাম্সিসন, এরকম মনে করা হয়।

নিচের ছবিতে দেখুন আফ্রিকার কোন কোন জায়গায় ফিমেল সার্কাম্সিসন প্র্যাকটিস হয়।



http://s9.postimage.org/66t3ys8n3/jgi_88_f3.jpg

ফিমেল সার্কাম্সিসন এক এক উপজাতির মধ্যে এক এক রকম, কোথাও শুধুমাত্র clitoris রিমুভ করা হয়, কোথাও তারপর যৌনদ্বারের উপরের লিবিয়া মেজর ও মাইনর ও রিমুভ করা হয় এবং তারপর বিভিন্ন ওষুধ ও পুল্টিশ প্রয়োগ করে মেয়েটির কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত এক দেড় মাসের জন্য একসাথে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়, যাতে যৌনপথ সম্পূর্ণ জুড়ে যায়। রক্ত ও মূত্রত্যাগের জন্য কাঠের টুকরো বা অন্য কোনো অবস্ট্রাকসন দিয়ে দুটি ছিদ্র রাখা হয়।



http://s13.postimage.org/o9d3924av/jgi_88_f1.jpg

প্রচুর রক্তক্ষয় ও যন্ত্রণা দায়ক এই পদ্ধতি রিচুয়াল হিসেবে পালন করা হয় মেয়েদের ৪ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে। যাতে clitoris দ্রুত বড় হয় ও রিমুভ করতে সুবিধা হয়, সেজন্য কোনো কোনো উপজাতিতে শিশু মেয়েদের clitoral stimulation ও একটি রিচুয়াল। এই পদ্ধতির হাইজিন নিয়ে বিতর্ক সবাই জানেন , সে বিষয়ে আর যাচ্ছিনা। উপরের ছবিতে দেখুন কি কি রকম ফিমেল সার্কাম্সিসন হয়ে থাকে। সন্তানজন্ম ও সঙ্গমের সময় আঘাত ও রক্তক্ষরণ প্রচুর মেয়ের মৃত্যুর কারণ, তা ছাড়া বিভিন্ন ইনফেকশন তো আছেই।



http://s10.postimage.org/z6bxnal3d/FGM_Full_size.jpg

এই পদ্ধতি স্বল্পস্থায়ী পানিশমেন্ট হিসাবে শুরু হয়েছিল, না দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যান হিসেবে তা জানা নেই। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে ১। লুটেরা অন্য উপজাতিদের কাছ থেকে নিজেদের মেয়েদের আলাদা করতে, ২। রিপ্রোডাকটিভ সেক্সুয়াল প্র্যাকটিস কে একমাত্র প্র্যাকটিস হিসাবে রাখতে এই স্ট্র্যাটেজি ভালো কাজ করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে যে সব নারীরা এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গেছে তারা পরবর্তীকালে এই পদ্ধতিকে সাপোর্ট করে। এর কারণ কি হতে পারে? বয়স্ক নারীরা কি শিশুদের উপর ভায়োলেন্সের এই ফর্মকে এনজয় করত? হয়ত। সোশ্যাল কন্ফর্মিটি একটি কারণ তো অবশ্যই।

মেল সার্কাম্সিসনের কথাও বলতে হয়। কিন্তু তার আগে একটা কনসেপ্ট এর কথা বলি। এটা হয়ত অনেকেই জানেন, কিন্তু একটু একটু কনফিউশন আছে, সেটা ক্লিয়ার করে দিলে আমার পরবর্তী আলোচনাগুলোর সুবিধে হবে।

মানুষের মধ্যে বিবর্তনের সময়কালটুকু আদতেই খুব ছোট। সেই তুলনায় সামাজিক প্রাণী হিসাবে মানুষের বিবর্তন খুব দ্রুত। এই বিবর্তনের শারীরিক কম্পোনেন্টগুলো বেশিরভাগই মস্তিষ্কের গঠনগত বিবর্তন। শারীরিক গঠনের আর বিশেষ কোনো বিবর্তন আমরা দেখতে পাইনি।
অথচ সমাজের একক হিসেবে প্রতিনিয়ত মানুষের বিবর্তন আমরা চোখের সামনে দেখতে পাই। এক একটা রিলিজিয়াস প্র্যাকটিস গড়ে ওঠা, সোশিও-ইকনমিক বিহেভিয়ারাল প্যাটার্ন গড়ে ওঠা, জেনারেশন থেকে জেনারেশনে একটা ব্যবহার রিচুয়াল হিসাবে বয়ে চলা। ঠিক যেমন বাবা মায়ের থেকে সন্তান পায় তার জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয়।
জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সমস্ত বিহেভিয়ারাল প্র্যাকটিস সরাসরি তুলনীয় নয়। কালো চোখ আমার সন্তানের মধ্যে সহজেই সঞ্চারিত করতে পারি, কিন্তু বিহেভিয়ার সঞ্চারিত করতে পারি না। তার জন্য সমাজের সাহায্য দরকার, যে বিহেভিয়ারগুলোকে রিচুয়াল-এ পর্যবসিত করবে এবং প্রতি প্রজন্মকে তা মানতে বাধ্য করবে। জোর করেও বাধ্য করতে পারে, আবার মেজরিটির সাথে কনফর্ম করার জন্য মানুষ নিজে থেকেও ব্যবহারগত বৈশিষ্ট্যকে অনুকরণ করতে পারে।

বংশগত বৈশিষ্ট্যের একটা কোয়ান্টিফায়েবল ইউনিট আছে-জিন। এটা আমরা আজ জেনেছি।

যেসব বিহেভিয়ারাল বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়না, কিন্তু রিচুয়াল এবং কালচারাল হেরিটেজ হিসাবে প্রবাহিত হয় , তারা বহুলাংশে জিন কে অনুকরণ করে।
কালচারাল বৈশিষ্ট্যের ইউনিট কে একটা নাম দেওয়া হয়েছে, Meme । দ্য সেলফিশ জিন এ রিচার্ড ডকিন্স এই নামটি কয়েন করেন, এবং তদবধি এই কয়েনেজটি প্রচলিত।
একসাথে অনেকগুলো রিলেটেড ব্যবহার যদি প্রবাহিত হয়, তা হলে তাদের আমরা বলব-memeplex ।
memeplex এর উদাহরণ-
বিভিন্ন প্রদেশের ভাষা, অক্ষর, লিখিত ও মৌখিক
গানের বা বাজনার টিউন ও ঘরানা
প্রচলিত বিশ্বাস, মিথ, রিচুয়াল্স, কাস্টমস, যুদ্ধের অঙ্গ
ধর্ম

মেমেপ্লেক্স এর জেনেটিক মূল হলো মিমিক্রি বা অনুকরণ। লার্নিং এন্ড মিমিক্রি প্রাণীকুলে প্রায়শই দেখা যায়। মনুষ্যসমাজে এই শিক্ষা এবং অনুকরণ একটি জটিল রূপ ধারণ করেছে। অনুকরণের মাধ্যমে কালচারাল রিচুয়াল্স এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যাচ্ছে , ঠিক জিনের প্রবাহের মতই। তাই, কালচারাল বিবর্তনের ধারাকে সোজা করে ভাববার জন্য একটা কনসেপ্ট এর দরকার ছিল, যেটা meme । meme কালচারালি সিলেক্টেড হতে পারে, ঠিক জিনগত বৈশিষ্ট্যের মত। meme প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে পারে, অথবা একই প্রজন্মের মানুষের মধ্যেও সঞ্চারিত হতে পারে। কিন্তু meme কে কোয়ান্টিফাই করা সম্ভবপর নয়।

কালচারাল বিবর্তনের আলোচনায় meme একটি জরুরি কম্পোনেন্ট।

মেল সার্কাম্সিসনের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে লম্বা বিতর্ক আছে। বেশি বিশদে না গিয়ে ছোট-খাটো আকারে জেনে যাই।

১) ফোরস্কিন রিমুভ্য়াল মানে প্রায় ২০,০০০ নার্ভ এন্ডিং এর রিমুভ্য়াল। তা সত্ত্বেও সেক্সুয়াল প্লেজার বা masturbation এর বিশেষ কোনো হ্রাস হয়েছে বলে কেউ রিপোর্ট করেন নি। অবশ্যই যেহেতু বেশির ভাগ সারকামসিশন ছোটবেলায় হয়ে থাকে , এর কম্প্যারেটিভ একাউন্ট পাওয়া কঠিন। সারকামসাইজড এবং আনসারকামসাইজড পুরুষের মধ্যে যৌন ক্ষমতার বিশেষ হেরফের হয়না।

২) মেল সার্কাম্শিসনের পক্ষে দুটি মূল যুক্তি দেখানো হয়-এক-ফোরস্কিন রিমুভ্য়াল স্বাস্থ্যকর, কারণ সিবাম গ্রন্থি নি:সৃত স্মেগমা বা লুব্রিক্যান্ট থেকে মাইক্রবিয়াল ইনফেকশন হয়ে থাকে এবং পেনাইল ক্যান্সারের চান্স বাড়ে , দুই-সারকামসাইজড পেনিস মেয়েদের কাছে ভিসুয়ালি ও ওরাল সেক্সের জন্য বেশি আকর্ষণীয়।

প্রথম যুক্তিটি খুব একটা খাটেনা , কারণ আনসারকামসাইজড পুরুষের মধ্যে ক্যান্সার ও এস টি ডি র চান্স সারকামসাইজড পুরুষের থেকে বেশি নয়।
দ্বিতীয় যুক্তিটি সংখ্যাতত্ত্বের দিক দিয়ে সঠিক, মাল্টিপল সঙ্গী যাদের রয়েছে এমন মেয়েরা সারকামসাইজড পুরুষকে প্রেফার করেন।

৩) ফোরস্কিন রিমুভ্য়াল আত্মরতি কমানোর জন্য শুরু হয়েছিল এমন মত বহুল-সমর্থিত। সারকামসাইজড পুরুষদের মধ্যে আত্মরতির সময় আর্টিফিসিয়াল লুব্রিক্যান্টের ব্যবহার কমন। যদিও প্রাকৃতিক লুব্রিক্যান্টের অভাবে আত্মরতি কমে গেছে তা নয়, সেদিক দিয়ে দেখলে এটিও একটি ফেইলড এটেম্প্ট। পুরুষের ভার্জিনিটির সঙ্গে ফোরস্কিন রিমুভ্য়ালের কিঞ্চিত যোগ থাকতে পারে।

৪) এথনিক সমাজে সার্কাম্শিসন কে একটি গ্লোরিফায়েড রিচুয়াল করে তোলা হয়েছে, যার পর থেকে সে সমাজের একজন পূর্ণাঙ্গ পুরুষ, সম্পত্তির অধিকারী, যুদ্ধ ও গুপ্তবিদ্যার অধিকারী। বলা হয়, যন্ত্রণা সহ্য করতে শেখা এক যোদ্ধার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ।
অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ান, জিউ ও ইসলামিক সমাজে পবিত্রতা ও আত্মরতির abolition এর সঙ্গেই সার্কাম্শিসনকে রিলেট করা হয়। এর সবকিছুই সমাজে এক্সেপ্টেড হওয়ার জন্য অবশ্য-কর্তব্য, অর্থাৎ সমাজের ডমিন্যান্স ওভার ইন্ডিভিজুয়ালস সেক্সুয়াল ওয়েজ এন্ড চয়েসেস।

নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্স কমানোর জন্য মেল সার্কাম্শিসন আর ফিমেল সার্কাম্শিসন একই ভূমিকা পালন করে। যদিও, মেল সার্কাম্শিসন, হয়ত পুরুষের কিছু সুবিধা এবং নারীর প্রেফারেন্সের কারণে অনেক বেশি প্রচলিত, এবং প্রচুর সামাজিক কম্পোনেন্টের সাথে ইভলভ করে। সেইজন্য মেল সার্কাম্শিসন একটি memeplex বলে জ্ঞাত।



http://s12.postimage.org/wmx8wjg0d/meme_c_6.jpg

এই ছবিতে দেখা যাবে মেমেপ্লেকস হিসাবে মেল সার্কাম্শিসনের সাথে কি কি ফ্যাক্টর জড়িত।

মেল সার্কাম্শিসন মেজরিটির সঙ্গে কন্ফর্মিটি, এবং সমাজের সিদ্ধান্তকে ইন্ডিভিজুয়ালের উপর বাধ্যতামূলক ইম্পোজ করার আর একটি উদাহরণ, এবং পৃথিবীর প্রথম প্ল্যানড সার্জারী। মিশর ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় সার্কাম্শিসন ছিল । কেনিয়ায় আজও কোনো আনসারকামসাইজড পুরুষ রাজনৈতিক পজিশন পাবেন না।



http://s10.postimage.org/4lopz0l0p/ancient_circumcision2.jpg


এছাড়াও , বাবা/মা, অথবা সমাজের সিদ্ধান্তকে শিশুর উপরে ইম্পোজ করা আর এক ধরনের মেল লাইন ডমিন্যান্স। সমাজ জানিয়ে দিচ্ছে শিশুকে শারীরিকভাবে একটি নর্মের সাথে কনফর্ম করতে হবে। এবং শিশুর হয়ে তার বাবা/মা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

আমাদের এখান থেকে জানার কথা এইটুকুই-
ক।নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্সকে সমাজ পুরুষ ও নারী উভয়ের এক্স্পেন্সেই ডিসকারেজ করছে
খ। সমাজ শিশুর উপর ডমিন্যান্সও প্র্যাকটিসের মধ্যে নিয়ে আসছে, যাতে উপযুক্ত শারীরিক ও মানসিক পূর্ণাঙ্গতা গড়ে ওঠার আগেই মানুষকে সামাজিক ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তোলা যায় ।
________________________________________
শেষের দিকে যাচ্ছি , সুতরাং এবার ধর্ষণের ইতিহাসে ফিরে আসি।
আমরা দেখলাম-
১। প্রানীকুলে ফোর্সড কপুলেশন আছে। তাকে এড়াবার জন্য কিছু মেয়েরা বিশেষ অভিযোজনগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরী করেছে। এবং সঙ্গম যদিও দুই সম্মত নারী ও পুরুষের মধ্যেই প্রত্যাশিত, অসম্মতির সঙ্গমও হয়েই থাকে। দুয়ের মধ্যে প্রানীকুলে একটা ব্যালান্স আছে।
২। মানুষের লুকোনো ওভিউলেশন হওয়ার পর যৌনতা সংক্রান্ত আর কোনো বাহ্যিক এডাপটেশন হয়নি।
৩। কিন্তু, ক্রমাগত বিবর্তিত ও উন্নত হতে থাকা মস্তিষ্ক মানুষের বিবর্তনের চাবিকাঠি। সে শুধু একটা মিনিমাল সমাজ তৈরী করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার সমাজ একটা ক্রমশ পরিবর্তনশীল এনটিটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে বিবর্তন প্রকৃতি তাকে দেয়নি, সেই বিবর্তনগুলি সে নিজের মত বানিয়ে নিতে শুরু করেছে, কালচার এবং রিচুয়ালের সাহায্য নিয়ে।
৪। মনুষ্যজাতিতে মূলত পিতৃতান্ত্রিক সমাজের ডমিন্যান্স এর তেমন কোনো ব্যাখ্যা করা যায়না। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের সুবিধাগুলি মাতৃতান্ত্রিক সমাজের থেকে কতটা বেশি সেটা বলাও কঠিন। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ অনেক বেশি শক্ত ভাবে বাঁধা, এবং হয়ত সেই কারণে সমাজ হিসেবে /গোষ্ঠী হিসেবে বেটার। এখানে ভায়োলেন্স পিতৃতান্ত্রিক সমাজের গঠনগত সিমেন্ট হিসাবে কাজ করে কি না, সেটা একটা ডিবেট, অনেকেই বলেন, করে।
৫। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে ধর্ষণ কমন সিনারিও, কারণ মেয়েদের উপর যৌনক্ষেত্রে ডমিন্যান্স excert করা পুরুষের পক্ষে প্রথমে ইন্ডিভিজুয়াল এটেম্প্ট এবং পরে রিচুয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
৬। কিন্তু, বিবাহের বাইরে ধর্ষণ শুধু বিজিত গোষ্ঠীর নারীকুলের ওপর করাই প্রচলিত। নারী যেহেতু সম্পত্তির অংশ, তাকে ভাগ করে নেওয়া পুরুষের কাম্য নয়। একই গোষ্ঠীর মধ্যে , স্বামীর বিনা অনুমতিতে নারীর উপর ধর্ষণ প্রচলিত নয়।
৭। বিবাহের সম্পর্ক যখন মনগ্যামিতে এসে দাঁড়াল তখন নারীর অধিকার একটি পুরুষের হাতে। এক্ষেত্রে পুরুষের চয়েস কম, সুতরাং নারীর সম্মতি এবং পরবর্তী পেরেন্টাল কেয়ারের এশিওরেন্স , আর্থ সামাজিক স্ট্যাটাস ইত্যাদি রেলিভ্যান্ট হয়ে দাঁড়াল, যা দিয়ে নারী তার নিজের ও সন্তানের জন্য সিকিউরিটি নিশ্চিত করলো।
৮। মানুষ তার ক্রমশ ইভলভ হতে থাকা লার্নিং ও রিজনিং এবিলিটি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে এই নবজাত সমাজকে শক্ত করে খাড়া করার চেষ্টা করতে লাগলো। এই ইভলিউসনের কন্ট্রোলিং সেন্টার সেই মস্তিষ্ক। নিচের ছবিতে দুটি কন্ট্রোলিং অংশ দেখানো হলো।






সিরিয়াল রেপিস্ট কেস স্টাডি- ধর্ষণের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক আলোকপাত
___________________________________________________________________________________
সংখ্যাতত্ত্ব বলছে পার্টনার রেপ ও একোয়ান্টেনস রেপ আদতে ধর্ষণের অনেক বেশি প্রচলিত প্যাটার্ন। এবং আমাদের আলোচনার জন্যও পার্টনার রেপ ও একোয়ান্টেনস রেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইসব ক্ষেত্রে ধর্ষণকারীরা সমাজের পরিসীমার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, নিজেদের সামাজিক অবস্থান অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হচ্ছে , এবং নিজেদের পিঠ বাঁচিয়ে তবেই ধর্ষণে লিপ্ত হচ্ছে। পার্টনার রেপের ক্ষেত্রে সন্তান সম্ভাবনার হার বেশি, প্রজননগত সাফল্য বেশি, ডমিন্যান্স দীর্ঘস্থায়ী। এদের প্রিডেটর-প্রে সম্পর্ক আমাদের আলোচনার জন্য ঢের বেশি রেলিভ্যান্ট।
দু:খের বিষয়, এই ধর্ষণকারীরা মূলত আনরিপোরটেড। ফলে এদের নিয়ে করা স্টাডির সংখ্যা বেশ কম, রেপ সারভাইভররা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো তথ্য বা বিবৃতি দিতে চান না। সেজন্য আমাদের হাতে এই জাতীয় ধর্ষণ নিয়ে ডেটা খুব কম। আমাদের প্রাথমিক স্টাডি ও স্ট্যাট তাই ঘোষিত সিরিয়াল রেপিস্টদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

আরেকটি লিমিটেশন হলো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা। বেশিরভাগ জায়গায় রেপ ভিকটিমদের ট্রমা নিয়ে কাজ হয়ে থাকে। রেপিস্টদের প্রোফাইলিং সব দেশেই ক্রিমিনাল বিহেভিয়ার স্টাডির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু এই ধারা অনেক বেশি পরিমাণে থিওরির উপর নির্ভরশীল, অরিজিনাল কেস স্টাডির থেকে। আমার উত্সাহ অরিজিনাল কেস স্টাডিতে, কারণ সাবজেক্টকে বায়োলজিক্যালি প্রোফাইল করে কোনো প্যাটার্ন পাওয়া যায় কিনা সেটা আমার বিষয়। এখানে সাবজেক্ট মানে রেপিস্ট। বেশিরভাগ স্টাডি যেগুলো আমি উল্লেখ করব সেগুলো আমেরিকা বেসড; সুতরাং আমাদের স্যাম্পল এ একটা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকছে। অন্যান্য জায়গার স্টাডি ও যতটা পারা যায় কভার করার চেষ্টা করব, কিন্তু ডেটা প্রকৃত অর্থে লিমিটেড। মনে রাখতে হবে ধর্ষণের যেহেতু একটা কালচারাল কন্টেক্স্ট আছে, সেই জন্য রিজিওন-স্পেসিফিসিটি একটা জরুরি এলিমেন্ট।
মহিলাদের করা রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল অফেন্সের হার এরকম -
* Strangers: 28%
* Intimates/Partners: 10%
* Relatives: 2%
* Friends/acquaintences: 57%
* Unknown: 3%( যেখানে অফেন্ডার এর আইডেনটিটি সম্পর্কে কোনো রিপোর্ট হয়নি)
পুরুষদের করা রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল অফেন্সের হার এরকম -
* Strangers: 48%
* Friends/acquaintences: 52%

ভিকটিমরা ৪০% ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু অনেকেরই মৃত্যুও ঘটে থাকে । তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো পোস্ট -রেপ ট্রমা, যা ভিকটিমের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে নানাভাবে অল্টার করে।

এবার আমরা কতকগুলো টেক্সটবুক কেস দেখব। মনে রাখতে হবে আমরা সিরিয়াল রেপের ক্ষেত্রে খুব টিপিক্যাল কিছু এক্সপেক্ট করিনা, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিরিয়াল রেপিস্টরা সাইকোপ্যাথ, সামাজিক আউটলায়ার এবং তাদের প্যাথলজি আলাদা আলাদা । কিন্তু, এই প্যাথলজির মধ্যে কিছু কমন আছে কিনা সেটা কৌতুহলোদ্দীপক।
তো, সেই এনালিসিসটা করতে গিয়ে আমরা অবশ্যই পরে বাযোলজিক্যাল ডেটায় যাব, কারণ সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে আগে দেখা যাক সেই মানুষগুলোকে যাদের উপর কিনা স্টাডি গুলো করতে হবে।

টেক্সটবুক কেস ১
______________
টেড বান্ডি, গ্রিন রিভার কিলার
আমেরিকা।
৩০ টি ধর্ষণ , ধর্ষণ-উত্তর খুন, অঙ্গচ্ছেদ, এবং মৃতদেহের ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত।

FBI কেস ফাইল থেকে অনুবাদ করে দিলাম। অহেতুক সেনসিটিভ বর্ণনা এড়ানোর চেষ্টা করলাম।

" টেড বান্ডি(Theodore Robert "Ted" Bundy )জানুয়ারী ১৯৭৪ এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮ এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে গড়ে প্রতি মাসে এক মহিলার ধর্ষণ এবং প্রাণনাশ করেছিল। ওই সময় সে FBI এর "প্রথম দশজন পলাতক অপরাধীদের" তালিকায় ছিল এবং ওয়াশিংটন, অরিগন, আইডাহো উটাহ, কলোরাডো, এবং ফ্লোরিডাতে কমপক্ষে ৩৬ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।
আমেরিকান ইতিহাসে কুখ্যাততম সিরিয়াল খুনীদের একজন , বানডি প্রায় এক বছরের জন্য আইনের হাত এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াতে সক্ষম হয়। ১৯৭৫ সালের শেষের দিকে পাঁচটি স্টেটের মিলিত ইনভেস্টিগেশনে তার অপরাধের একটি প্যাটার্ন চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। বানডি তার শিকার আকর্ষণের জন্য কখনো বা অসহায় , হ্যান্ডিক্যাপড সাজত, কখনো বা অথরিটি ফিগার(পুলিশ, ফায়ার ফাইটার) , তার MO (মোডাস অপারেন্ডি) ছিল সুন্দর চেহারা ও আকর্ষক ব্যবহারের মাধ্যমে ভিকটিমের বিশ্বাস অর্জন। প্রথমদিকে সে ভিকটিমের বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে আঘাত করত , এবং ধর্ষণের পর ভিকটিমকে ফেলে রেখে পালাতো। পরের দিকে তার ক্রাইম অনেক প্ল্যানড হয়ে ওঠে। তখন অনেক ক্ষেত্রেই সে ভিকটিমকে তার গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে সক্ষম হত, যেখানে ব্রুটাল মারধর ও ধর্ষণের পর সে ভিকটিমকে হত্যা করত। হত্যার পর সে একটি সেকেন্ডারী সাইটে ভিকটিমের দেহ লুকিয়ে রাখত, রিচুয়াল হিসেবে তার জামাকাপড় খুলে পুড়িয়ে দেবার পর। টেড বান্ডি একজন নেক্রোফিলিক ও ছিল, এবং মৃত ভিকটিমের দেহ সম্পূর্ণ নষ্ট না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সে বার বার ফিরে এসে সেই দেহগুলিকে ধর্ষণ করত। তার ভিক্টিমেরা ছিল সকলেই শ্বেতাঙ্গ, অনেকে কলেজ ছাত্রী , ১২ -২৭ বছর বয়স্ক , সোনালী চুল মাঝখানে সিঁথি করে আচড়ানো। জবানবন্দিতে বান্ডি জানায় তার ভিকটিমলজির কারণ হলো, এরা সকলেই জেনেরালি এট্রাক্টিভ প্যাটার্নে পড়ে। প্রসঙ্গত, বান্ডির নিজের বান্ধবীর চেহারাও এমন ই ছিল। বান্ডি হাতকড়া ব্যবহার করত ভিকটিমকে সাবডিউ করার জন্য।
দুবার বান্ডি পুলিশের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হয়, এবং প্রত্যেকবারেই সেই পালানোতে বুদ্ধিমত্তা ও নিখুঁত প্ল্যানিং এর ছাপ ছিল। প্রত্যেকবারই সে ধরা পড়ার পরেও পালানো মাত্র আবার অপরাধ করার চেষ্টা করে। ১৯৮৯ সালে বান্ডি র মৃত্যুদন্ড হয়। মৃত্যুর আগে সে অতিরিক্ত পর্ণগ্রাফি দেখাকে নিজের এই অবস্থার কারণ বলে অভিযুক্ত করে। নিজের অপরাধের জন্য তার কোনো রিমর্স বা গিল্ট দেখা যায় নি। সাইকোপ্যাথ বলেই তাকে চিহ্নিত করা হয়। কোনো রকম ইন্ভেসিভ এক্সপেরিমেন্ট তখন জানা ছিলনা।
টেক্সটবুক কেস ২
_________________
Luis Alfredo GARAVITO CUBILLOS ওরফে tribilin কিলার(ডিজনির গুফি চরিত্রের স্প্যানিশ নাম।)
কলম্বিয়া
১৩৮-১৯২ জন ছোট ছেলেকে (৬ -১২ বছর) ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।
সমকামী ধর্ষক।

লুই আলফ্রেড গারাভিত্ত কলম্বিয়ার জেনোভো শহরে নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মেছিল। ছোটবেলায় বাবার হাতে এবিউসের শিকার ও দুই প্রতিবেশী পুরুষের দ্বারা ধর্ষিত গারাভিত্তের শৈশব ছিল ট্রাবলড। ১৬ বছর বয়সে সে একটি দোকানে ক্লার্ক হিসবে কাজ করতে শুরু করে এবং পরবর্তীকালে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের ৫৯ টি শহরে স্ট্রিট ভেন্ডার হিসেবে ঘুরে ঘুরে কাজ করে। এই প্রতিটি শহরেই সে প্রচুর পথশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। প্রত্যেক শহরে সে নিজের পোশাক ও এপিয়ারেন্স বদলায়। তার মোডাস অপারেন্ডি ছিল টাকা বা কাজ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুদের ঝোপের আড়ালে নিয়ে যাওয়া এবং তাদের বেঁধে রেখে ধর্ষণ ও হত্যা। প্রাপ্ত শবদেহগুলির গলায়/ঘাড়ে একটি দীর্ঘ ক্ষত এবং পুরুষাঙ্গ ছিন্ন পাওয়া যায়। স্ক্রু ড্রাইভার বা হ্যামার দিয়ে খুন্গুলি করা হয়।

গারাভিত্ত বুদ্ধিমান ও হাই রিস্ক বিহেভিয়ার সিরিয়াল কিলার ছিল না। সে সমাজে অত্যন্ত গ্রহনযোগ্য ভাবে থাকত, এবং লো রিস্ক পথশিশুদের মধ্যে ভিকটিম খুঁজত। দরিদ্র ও বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় পথশিশুদের হারিয়ে যাওয়া কোনো নতুন ঘটনা ছিলনা। পথশিশুদের আই ডি কার্ড থেকে ছবি কেটে গারাভিত্ত তার খুনের ট্রফি ও নোট রাখত। খুব বেশি সাইকোলজিক্যাল স্টাডি না হলেও এটুকু দেখা গেছে যে গারাভিত্ত ভয় পেত, অন্যান্য সাইকোপ্যাথ দের মত ভয়ের অনুপস্থিতি তার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরেই সে কনফেস করে, এবং বার বার বলে যে মুক্তি পেলে সে আর এই কাজ করবে না। সোশ্যালি এক্সেপ্টেবল ম্যানিপুলেশনের চেষ্টা তার মধ্যে দেখা যায়। বিভিন্ন শহরে গারাভিত্ত সন্তান সমেত মহিলাদের সাথে বসবাস করেছে। তার সোশ্যাল সঙ্গিনীদের বক্তব্য অনুযায়ী সে অত্যন্ত কেয়ারিং ও নন-ভায়োলেন্ট পিতা, এবং সন্তানদের সঙ্গে তার খুব ই ভালো সম্পর্ক। এমনকি এক একটি শহর ছেড়ে যাওয়ার পরেও সে কোনো কোনো সঙ্গিনীকে শিশু ও ফ্যামিলির ভরণপোষণের জন্য টাকা পাঠায়। পুলিশের প্রশ্নের উত্তরে সে জানায় তার ভিকটিম শিশুরা বাড়িতে এবিউসড হত এবং সেজন্য সে তাদের জন্য দু:খবোধ করে। কিন্তু নিজের হত্যার জন্য কোনো রিমর্স বা গিল্ট তার মধ্যে দেখা যায়নি, সে দাবি করে কোনো সুপারন্যাচারাল শক্তি তাকে দিয়ে এই কাজ করিয়ে নেয়।

গারাভিত্তর চিন্তা -ভাবনার ফ্লো ছিল ক্যাওটিক। এক চিন্তায় সে বেশিক্ষণ স্থির হয়ে থাকতে পারত না, খুব লজিক্যাল চিন্তা ভাবনা করতে তাকে দেখা যায়নি। কলম্বিয়ার রিসোর্স কম থাকায় খুব বেশি সাইকোলজিক্যাল স্টাডি একে নিয়ে হয় নি, কিন্তু ওয়ান টু ওয়ান ডিসকাশনে যখন অন্যান্য সিরিয়াল কিলারদের কথা বলা হয় তখন সে উত্সাহী হয়ে তারা কতগুলি হত্যা করেছে তার সংখ্যা জানতে চায়। কিন্তু ইম্পেয়ারড থট প্রসেসের জন্যই হয়ত কিছুক্ষণ পরেই সে ইন্টারেস্ট হারিয়ে অন্য কথায় চলে যায়।

সোশ্যালি একসেপ্টেবল পজিশনে থেকে ক্রমাগত খুন ও ধর্ষণ করে যাওয়া ইনসাইড বর্ডার লাইন পার্সোনালিটির চিহ্ন। অর্থাৎ সমাজের ভিতরে থাকাই এই ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং সেজন্য সে খুন্গুলিও নিজে করেছে বলে দাবি করে না। কিন্তু তার ক্রমাগত ছবি তোলার অভ্যেস , চেহারা বদলানো ইত্যাদি নার্সিসিজম এরই চিহ্ন। কিন্তু সমাজের প্রতি তার ডিনায়াল সে প্রকাশ করতে চায়না। হয়ত কলম্বিয়া ছাড়া অন্য কোনো উন্নত দেশে তার করা অপরাধ খুব দ্রুত ধরা পড়ে যেত-কারণ অনেকটাই একোয়ান্টেনস রেপ এর মত প্যাটার্ন , এবং এতগুলি শিশুর নিখোঁজ হওয়াতে পুলিশের যে পরিমাণ একটিভিটি প্রত্যাশিত ছিল তা এক্ষেত্রে হয়নি। সুতরাং , গারাভিত্তকে বর্ডার লাইন সাইকোপ্যাথ বলা যায়। কিন্তু সোশিওপ্যাথ বলা যায়না। সোসাইটিতে তার প্রতি হওয়া এবিউসকে সে কপি করেছে এবং আরো ঘষামাজা করেছে, কিন্তু এটাকে সে সমাজের নর্ম বলেই রেকগনায়জ করেছে। তাই তার কোনো রিমর্স দেখা যায়না।

তো আরো সব ভয়াবহ কাহিনী শুনিয়ে সবার ঘুম কেড়ে নেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। তাই এই দুটো উদাহরণ থেকে একটা স্বয়ংসিদ্ধ টানার চেষ্টা করা হোক।
আগের টেক্সট বুক কেস গুলো থেকে, সিরিয়াল রেপিস্ট /কিলার যারা সমাজের প্রচলিত নর্মের বাইরে গিয়ে ক্রমাগত অপরাধ করে যেতে থাকে তাদের মধ্যে কতগুলো প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। কম ভীতি ও সহানুভূতি। সমাজের রীতিনীতির সঙ্গে নিজেদের ব্যবহারকে এসোসিয়েট করতে সমস্যা। গিল্ট এবং রিমর্স এর অনুপস্থিতি। ভিকটিমকে ওভারপাওয়ার করার চেষ্টা। সামাজিক কগনিশন প্রসেসে গলদ। এই প্রসেস গুলো সাধারণ মানুষে যেভাবে চলে একজন সাইকোপ্যাথের মধ্যেও কি সেভাবেই চলে? দেখা যাক।

মানুষের মস্তিষ্ক তার পূর্বপুরুষদের থেকে ক্রমাগত উন্নত হয়েছে এই বলে আগে একখানি ছবি দেখিয়েছিলাম। এবার আর একবার সেখানে ফিরে আসবো।
মানুষের মস্তিষ্কের উন্নতি বা বৃদ্ধি মূলত ঘটেছে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবে, সেরিব্রাল কর্টেক্সে। সেরিব্রাল কর্টেক্সের আয়তন বেড়েছে আদিমমানুষের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ, গাইরেশন বা মস্তিষ্কে ভাঁজ বেড়েছে প্রায় ৬০%(আনুমানিক )। গঠনগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যগত স্পেশালাইজেসন বেড়েছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে জটিল এই কম্পিউটারের বেশিরভাগ ফাংশন আমরা জানিনা, যা জানিনা তার মধ্যে অনেকটাই মানুষের সামাজিক ব্যবহারের ব্যাখ্যা। তবুও ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ফাংশনে উঁকি মারার কাজ এগোচ্ছে।

কোনো মানুষ সামাজিক অপরাধ করে যখন সেই অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে তার ধারণা অপরিষ্কার, অথবা সে সেই শাস্তির পরোয়া করেনা । কিন্তু সামাজিক মানুষ হিসাবে তার সাধারন ভাবে সমাজকে মেনে চলা উচিত-এটা আমি কোনো দার্শনিক ভিউ থেকে বলছিনা । আমরা দেখলাম, বিভিন্ন মেমেপ্লেক্স এর মাধ্যমে , সামাজিক নর্ম কি হওয়া উচিত (মনে রাখতে হবে এটা সমাজ টু সমাজ ভ্যারি করবে )সেটা জেনারেশন টু জেনারেশন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেটা একজন ঠিকঠাক বুঝতে পারবে এবং অন্যজন পারবে না কেন?
পাঠক মনে রাখবেন সমাজের গড়ে ওঠা , কালচার, রিলিজিয়ন, এথিক্স ইত্যাদি মাল্টিকম্পোনেন্ট বস্তুগুলি এক একটি মেমেপ্লেক্স। এদের সৃষ্টি লার্নিং এন্ড রিজনিং এবং লং টার্ম মেমরির থেকে, যাতে করে মানুষ লার্নিং এবং রিজনিং দিয়ে নর্মগুলি তৈরী করেছে, দীর্ঘসময় সেগুলিকে মস্তিষ্কে প্রসেস করেছে, নর্মের সাথে নিজেকে একাত্ম করলে যে রিওয়ারড পাওয়া যাবে, অর্থাৎ সমাজ আমার কিছু দায়িত্ব নেবে, এবং আমি সুরক্ষিত থাকব, এই বোধ স্মৃতি হিসাবে মস্তিষ্কে সেলাই করেছে। এমন কিছু জিনিসের উদ্ভব করেছে (ধর্ম, রিচুয়াল, সঙ্গীত ) যেগুলি এই কাজে ক্রমাগত সাহায্য করবে। সামাজিক অপরাধে যে শাস্তি হয় সেই শাস্তির মিমিক করে ভবিষ্যতে অপরাধের আগে ভয় পেতে শিখিয়েছে। অর্থাৎ, মানুষ, ব্যক্তি-মানুষের উপর সমাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, সেটি ই মানুষের বিবর্তনের ধারা। এই বিবর্তনকে মানুষের এনাটমি ও ফিজিওলোজি সাপোর্ট করেছে। কিভাবে? মস্তিষ্কের সুপার -ফাস্ট বিবর্তনের মাধ্যমে। সমাজ তাকে অন্য সব প্রাণীর চেয়ে উচ্চমানের এডাপটেশন দিয়েছে। সমাজ তাকে দিয়েছে সুরক্ষা। অন্যের তৈরী করা হাতিয়ার , অন্যের তৈরী করা খাদ্যের ব্যবহার করে মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতেছে-তার নেই শীতের জন্য লোম, গরমের জন্য অতিরিক্ত স্বেদগ্রন্থি, শিশুথলি। শুধুমাত্র মস্তিষ্কের প্রবল বিবর্তনের ক্ষমতা, যার মধ্যে শেয়ারিং এবং বন্ধন দুটি খুব জরুরি কম্পোনেন্ট, তার উপর নির্ভর করে মানুষ এই দীর্ঘ বিবর্তনের পথ পেরোচ্ছে। মনে করুন, একটা ভালো সিনেমা দেখলে আমরা অন্যকে দেখাতে উদগ্রীব হয়ে উঠি। একটা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলে তার ফল সমাজের সকলে পায়। আমরা বিনিময় শিখেছি, এমনকি বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে মুদ্রা তৈরী করেছি। কে শেখালো? কিছুই আকাশ থেকে পড়েনি। সমাজ গঠনের এই তাড়না আমাদের অস্তিত্বের তাড়নার সঙ্গে জড়িত, তার ফিজিক্যাল ডিটারমিন্যান্ট আছে। জেনেটিক শুধু নয়, এপিজেনেটিক এবং স্ট্রাকচারাল, এনাটমিকাল।

মানুষের মস্তিষ্ক পরিণত হয় প্রায় ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। এই সময়ের মধ্যে, শিশুর মস্তিষ্কে সামাজিক বোধ গুলি ভিসুয়ালিজেশন, হিয়ারিং, স্মেল এবং লার্নিং এর মাধ্যমে প্রবেশ করানো সমাজের কর্তব্য। পেরেন্টাল সুপার্ভিসন এই জন্য সকল সমাজে একই রকম, এই জন্যই মানুষ পিতামাতা ছেলেপুলের আচার আচরণ সম্পর্কে সদা-সতর্ক। যে পিতামাতা সমাজের সঙ্গে যত একাত্ম বোধ করেন তারা তত প্রটেক্টিভ হয়ে ওঠেন। আর এইজন্যই, শিশু থেকে টিন এজার দের মধ্যে , অপরাধপ্রবণতা , ইমোশনাল স্পাইক, ক্ষণিক উত্তেজনার বশে অসামাজিক কাজকর্ম করা, ড্রাগ ও এলকোহলের প্রবণতা বেশি। শরীর যতই বাড়ুক, এই মানসিক পরিণতি এচিভ করতে আমাদের অনেক সময় লাগে। আবার এক ই কারণে বয়স্ক মা বাবাকে সমাজের নতুন নর্ম এ অভ্যস্ত করতে অসুবিধা হয়। কারণ তাঁদের স্মৃতির উপর নতুন স্মৃতি বসাতে তাঁদের অসুবিধা হয়। তাদের মস্তিষ্ক পরিণত।
এবার দেখুন এই সামাজিক বোধ এস্টাবলিশ করার জন্য দায়ী মস্তিষ্কের কোন কোন প্রধান অংশ -

সামনের দিকে রয়েছে ফ্রন্টাল লোব, যেটা আমাদের লার্নিং , রিজনিং, লং টার্ম মেমরির স্টোরেজ ও প্রসেসিং এ সাহায্য করে। টেম্পোরাল লোব কাজ করে for accurate perception and interpretation of social communication । আর এমিগডালা, টেম্পোরাল লোব এর মূলে লুকিয়ে থাকা দুটি নার্ভ গ্যাংলিয়া আমাদের ভয় পেতে শেখায়, যে ভয়ের ভিত্তি আমাদের দীর্ঘ-সঞ্চিত সংস্কারে, বা স্মৃতিতে, অর্থাৎ কিনা, পুরনো স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে,মিথ বা রিচুয়ালের শিক্ষার সাথে মিলিয়ে, (দীর্ঘ এনালিসিসে না গিয়েই) সে ভয়, তার ফলাফল এবং সেই অনুযায়ী আমাদের রিফ্লেক্স একসনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছবিটা আমাদের পরবর্তী আলোচনার জন্য মাথায় রাখতে হবে। মূলত এই অংশগুলির মধ্যে ঠিকঠাক যোগাযোগ চলছে কিনা, তার উপর নির্ভর করে আমাদের সামাজিক নিয়মের বাধ্যতা , পানিশমেন্ট বা রিওয়ারডের বোধ, এবং নীতিগুলি মনে রাখার ও এনালিসিস করবার ক্ষমতা।

সামাজিক উপযোগিতার সংজ্ঞা হলো সমাজে নিজের এবং অন্যদের মধ্যে সম্পর্কের গঠন ও উপস্থাপনাকে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী নিজের সামজিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা। অবশ্যই, ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক আচরণ দুটিই জটিল ট্রেট এবং বহু ফাংশনাল নিউরোনাল সার্কিট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রত্যেকটি বিচ্ছিন্ন ব্যবহারের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল বা নেট ওয়ার্কের ম্যাপিং করা এখনো সম্ভব হয়নি, কিন্তু রাফলি কোন অঞ্চল কোন কোন অনুভূতির নিয়ন্তা সেটা বলা সম্ভব।
টেম্পোরাল লোব কি করে? মানুষ চেনে, বিশেষ বিশেষ ইমোশনের সঙ্গে জড়িত মুখভঙ্গি ও স্বর চেনে, অন্য মানুষের ইনটেনসন তার দেহভঙ্গী থেকে অনুমান করতে পারে। এছাড়াও empathy নিয়ন্ত্রণ করে।
এই অঞ্চলে কোনো ড্যামেজ বা ইমপেয়ারমেন্ট থাকলে আমরা অন্য মানুষের সঙ্গে ঠিক ঠাক কমিউনিকেট করতে পারিনা। তার আচার আচরণ পড়ে উঠতে পারিনা, তার কথা বা ভঙ্গির ভুল ব্যাখ্যা করি।
এইখান থেকে সংকেত গিয়ে ফ্রন্টাল লোবে প্রসেস হয়, ফ্রন্টাল লোব ভুল সংকেত পেলে সেই সিচুয়েসনকে ভুলভাবে জাজ করবে এবং সেই অবস্থায় আমাদের আচরণ যা হওয়া উচিত তা হবে না, আমরা সামাজিক ভাবে ভুল ব্যবহার করব।
ফ্রন্টাল লোবের আঘাতের স্টাডিতে দেখা গেছে, আমরা সেরকম ক্ষেত্রে সামাজিক আচরণের রিওয়ার্ড বা পানিশমেন্ট ভ্যালুকে মাপতে পারিনা। ফ্রন্টাল লোবে ডিস ফাংশন আছে এরকম অপরাধীদের মধ্যে নিম্নলিখিত অস্বাভাবিক ব্যবহার দেখা গেছে
১) অন্যের ইমোশনের প্রতি ইনসেনসিটিভ হওয়া , ইমোশনালি ব্লান্ট হওয়া
২)সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা, সর্বদাই ভুল বা অসামাজিক সিদ্ধান্ত, পুওর জাজমেন্ট, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব।
৩)সহানুভূতির অভাব, নিজের জীবনের উদ্দেশ্য হিসাবে বিভিন্ন বিপজ্জনক ব্যবহারের পার্ফেক্সনকে বেছে নেওয়া, অন্যান্য কাজে ধারাবাহিকতার অভাব।
ফ্রন্টাল লোব সমস্ত এক্সিকিউটিভ স্কিল নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কিনা planning, sequencing, inhibition, generation, working memory, ও abstract reasoning -এককথায় জটিল রিজনিং , লার্নিং , ইন্তারপ্রিতেশন, অর্থাৎ কগনিটিভ স্কিল গুলি সবই তার দখলে।
ইমোশনাল ফাংশনিং নিয়ন্ত্রণ করে Amygdala , অর্থাৎ কোনো প্রিভিয়াস স্টিমুলাসের স্মৃতি (বিশেষ কোনো আলো, রং, শব্দ, গন্ধের স্মৃতি, ) এবং তার সাথে একটা রিওয়ার্ড বা পানিশমেন্টকে এসোসিয়েট করে। মানুষের মধ্যে Amygdala র ক্ষতি তাই ভয় পাওয়া কে নষ্ট করে দেয়, এবং তাত্ক্ষণিক রিওয়ার্ড বা পানিশমেন্ট থেকে সামাজিক /লং টার্ম রিওয়ার্ড বা পানিশমেন্টকে আলাদা করতে দেয়না। যার ফলে অন্যায় আচরণ করে যদি সেই মুহূর্তে ভালো লাগে তাহলে রোগী সেই কাজটি করে চলে, তার কন্সিকয়েন্সেস ভাবে না।
এই তিনটি মুখ্য অংশের মধ্যে যোগাযোগের সামান্য তারতম্য আমাদের সোশ্যাল ব্যবহারে প্রচুর হেরফের করতে সক্ষম, গঠনের তারতম্য ও। সত্যি কথা বলতে এই গঠন ও যোগাযোগের তারতম্যের জন্যই আমরা আলাদা আলাদা মানুষ, কেউ রাগী, কেউ হাস্যমুখ, কেউ ভিতু, কেউ নার্ভাস, কেউ জিনিয়াস- আর কেউ বা-ক্রিমিনাল।



http://s7.postimage.org/fkxzh7pgr/Evolutionary_brain.png

বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কে তিনটি গঠনগত স্তর রয়েছে। একটি হলো আদিম মস্তিষ্ক (প্রিমিটিভ ব্রেইন)। একে আর্চিপেলিয়াম ও বলা হয়। এই মস্তিষ্ক হলো সরীসৃপের মস্তিষ্কের মত, মূল শারীরিক কাজকম্ম সারতে ও বেঁচে বর্তে থাকতে যতটুকু দরকার। শ্বাস নেওয়া, খাদ্যগ্রহণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণকারী এই অংশকে ব্রেইনস্টেম বলা হয়। এর পরে এলো আবেগপ্রবণ মস্তিষ্ক, যা কিনা বেশ উন্নত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে প্রথম দেখা গেল। এই অঞ্চল হলো টেম্পোরাল লোব/লিম্বিক সিস্টেম, যা কিনা আবেগ, ভয় সকল স্বত:স্ফূর্ত ইমোশনকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে আমরা আগেই জেনেছি। আর , সর্বশেষ, ও সর্বোন্নত অংশ/ স্তর হলো যুক্তিনিষ্ঠ মস্তিষ্ক, যা কিনা আমাদের সকল ইমোশন ও জৈবিক ইচ্ছাকে যুক্তি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করে এবং তদনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। এই মস্তিষ্কের অবদান হলো আমাদের থট ফর গ্রেটার গুড, নিজের সুখ ও তাত্ক্ষণিক গ্রাটিফিকেসনের উপরে সমষ্টির মঙ্গল চিন্তা, এমপ্যাথী। ফ্রন্টাল লোব হলো এই যুক্তিপূর্ণ মস্তিষ্ক। মানুষের বিবর্তনের চাবিকাঠিটি হলো এই যুক্তিপূর্ণ মস্তিষ্কের ক্রমবিবর্ধন ও ক্রমোন্নতি।

ছবি দেখা হোক।


http://s17.postimage.org/vh2t3hpy7/Evolutionary_brain2.png

মানুষের আদিম পূর্বপুরুষ থেকে মানুষে পৌঁছতে পৌঁছতে বেড়েছে মানুষের যুক্তিপূর্ণ মস্তিষ্কের আয়তন, এবং বেড়েছে ভাঁজের সংখ্যা। এই অংশ ডমিনেট করেছে অন্যান্য মস্তিষ্কের কাজকে , এবং বিবর্তনের স্বার্থে তাদের প্রয়োজনমত ব্যবহার করেছে। আদিম মস্তিষ্ক থেকে আবেগপ্রবণ মস্তিষ্ক বিবর্তিত হয়েছে "ট্রাইবাল মানব" বা সংঘবদ্ধ মানুষের স্বার্থে। আবেগ, একে অন্যের মুখভঙ্গি, দেহভঙ্গিতে অনেককিছু বুঝতে পারা, ভয় , খুশি , স্নেহ বিবর্তিত হয়ে মানুষকে এক একটি ছোট ছোট সামাজিক গ্রুপ বা ট্রাইব এ সংঘবদ্ধ করেছে। ট্রাইবাল বোধ মানুষের মধ্যে আজও বহুলাংশে উপস্থিত। অন্ত:সমাজ প্রতিযোগিতা, টেরিটরি আলাদা করা, উপজাতিসমূহের মধ্যে যুদ্ধ, ছোট স্কেলের আইডেনটিটি থেকে "মাই গ্রুপ" "মাই রেস " ও "মাই রিলিজিওন " বোধ গুলি আসে, যা কিনা কালচার ও বৃহত্তর সমাজের আঁতুর ঘরের সময়কার ট্রেট। এই বিশেষ বোধকেই ট্রাইবাল মাইন্ড বলে অভিহিত করা হয়। ইমোশনাল ব্রেইনের সাথে যুক্তিনিষ্ঠ ব্রেইনের ঠিকঠাক বোঝাপড়া এই বোধগুলিকে প্রশমিত করলেও , মুছে ফেলতে যে সক্ষম হয়নি, বা চায়নি, তা মানুষের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
যাদের আবেগপ্রবণ মস্তিষ্ক আর যুক্তিনিষ্ঠ মস্তিষ্কের মধ্যে নির্ঘাত কিছু গোলমেলে কানেকশন আছে এমন দু এক জন সোশিও প্যাথের কথা আমরা একটু আগে শুনলাম। কেমন হয় যদি এবার তাদের মগজে উঁকি মেরে দেখা যায়, আমাদের হাইপথেসিস ভুল , না সঠিক। তাদের মস্তিষ্কের কোন বিশেষ ব্যাপার বা অংশ আমাদের, সাধারণ সমাজ-ভিতু মানুষদের থেকে আলাদা?
১। গত কুড়ি বছরের স্টাডিতে দেখা যায়, খুনি, ধর্ষক এবং অন্যান্য ভায়োলেন্ট ক্রিমিনালদের মধ্যে মস্তিষ্কের প্যাথলজির প্রাদুর্ভাব খুবই বেশি(তার মানে পাগল নয়, শুধু আলাদা ভাবে ঘটনা ও তার পারম্পর্যকে দেখা )। একটি কাজে, ৩১ জন অপরাধীর মধ্যে ২০ জনের মধ্যেই একের চেয়ে বেশি নিউরলোজিক্যাল কন্ডিশন দেখা যায়। আর একটি কাজে ৩৭২ জন অত্যন্ত ভায়োলেন্ট মানসিক রোগীর মধ্যে ২০% এর ফ্রন্টাল লোবে স্ট্রাকচারাল এবনর্মালিটি দেখা যায়, আর ৪১% এর টেম্পোরাল লোবে। ক্রমাগত অপরাধ করে যাওয়া অপরাধীদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুস্থ মস্তিষ্কের অনুপাত ৩১:১, যখন কিনা হঠাত একবার করে বসা অপরাধে দোষীদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুস্থ মস্তিষ্কের অনুপাত ৪ :১। নিউরোপ্যাথলজি অপরাধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
২। মস্তিষ্কের ফাংশনাল ইমেজিং অধুনা সম্ভব হচ্ছে PET (পজিট্রন এমিশন টোপোগ্রাফি) এর সাহায্যে। কম্পিউটার দিয়ে রিমডেল করা ছবির সাহায্যে আমরা ব্রেনের সেকশনে নিউরোনের মেটাবলিক এক্টিভিটির ডিফারেন্স বুঝতে পারি। এই এনালিসিস এর সাহায্যে ৪১ জন খুনির মস্তিষ্কে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে নিউরোনাল একটিভিটি দেখা গেছে , যা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম, এবং ভায়োলেন্সের সাথে সমানুপাতিক।
৩। দেখা গেছে, এই ৪১ জনের মধ্যে ১২ জন শিশুকালের বিভিন্ন এবিউসের শিকার, অথবা ঠিকঠাক পরিবেশে বড় হয় নি। এদের তুলনায় , যারা স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হয়েও খুনি এবং ভায়োলেন্ট, তাদের মস্তিষ্কে ক্ষত বা এবনর্মালিটি অনেক পরিমানে বেশি।

ছবি দেখুন । PET স্ক্যান, বামদিকে নর্মাল মানুষ, মাঝে খুনি যে কিনা এবিউসিভ পরিবেশে বড় হয়েছে, ডানদিকে আছে স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হওয়া খুনি। লাল, হলুদ-হাই একটিভিটি, নীল, কালো কম একটিভিটি। দেখুন খুনি ও স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কে এক্টিভিটির তফাত।



http://s7.postimage.org/qxqpml3jf/brains.jpg
________________________________________

এতক্ষণ আমরা যে মস্তিষ্কের ছবি দেখলাম, তার উপর ভিত্তি করে দু-একটি বিবৃতি দেওয়া যাক-
১। অপরাধপ্রবণতা অনেকটাই মস্তিষ্কের গঠনের / ফাংশনের উপর নির্ভরশীল
২। সিরিয়াল ধর্ষণকারীরা মস্তিষ্কের প্যাথলজি দ্বারা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত
৩। মস্তিষ্কের প্যাথলজি একটি বংশগত গুণ হতেই পারে। যেহেতু এটি একটি গঠনগত অল্টারেশন তাই জেনেটিক কম্পোনেন্টের এদিক ওদিকে এই ধরনের অল্টারেশন মানুষের মধ্যে দেখতে পাওয়া সম্ভব।

তা হলে কি আমরা অপরাধপ্রবণতাকে, বিশেষ করে ধর্ষণের প্রবণতাকে একটি স্ট্যাটিক প্যাথলজিক্যাল কম্পোনেন্ট বলব, যা কিনা বিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আজ ও মানুষের মধ্যে রয়েছে? যার উপরে মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, এবং তা হলে ধর্ষণকে, খুনকে আমরা কেন অপরাধ বলব? কেন এজন্য অপরাধীর শাস্তি হবে?
_____________________________________________________________
না: এত সহজ নয় আমাদের সিদ্ধান্ত। কেননা, মস্তিষ্ক সদা পরিবর্তনশীল।

শুধু ০-২৫ বছরের বাড় বৃদ্ধির সময়েই নয়, মস্তিষ্ক ক্রমাগত পালটাতে থাকে। আর কে পাল্টায় মস্তিষ্ককে? পরিবেশ। অভিজ্ঞতা । শিক্ষা। এ এমন একটি কম্পোনেন্ট যা কিনা আমাদের কালচারাল বিবর্তনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিশুকালে ক্রমাগত বকুনি, ভার্বাল এবিউস, শারীরিক অত্যাচার যা কিনা মনের ওপর প্রভাব ফেলে, আইসোলেটেড বহির্জগতের সঙ্গে কম সম্পর্কযুক্ত / বায়াসড/জেন্ডার ইনক্লাইনড পরিবেশ, মস্তিষ্কের গঠনকে বদলে দেয়। এই দেওয়া কিন্তু ইররিভার্সিবল সব সময় নয়। আদর, যত্ন , প্রপার কমিউনিকেশন ও পরিবেশ আবার এইরকম ক্ষতিকে সারিয়ে তুলতে সক্ষম। অসামাজিকতা বা সামাজিক অপরাধপ্রবণতা, মাইল্ড /এক্সট্রিম, দুই ই এই ক্যাটেগরিতেই পড়ে। শৈশবে এই সারানোর বা বদলানোর গতি অনেক দ্রুত। আর বেশি বয়সে, যেহেতু মস্তিষ্ক নিজের হিসেবে সামাজিক মূল্যবোধকে গড়ে নিয়েছে, ডি-স্ট্রাকচার করে নিয়েছে , তাই কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়।

তাহলে , অন্তত জেনেটিক্যালি সিলেক্টেড ট্রেট বা ধর্মের আন্ডারে আমরা রেপকে ফেলতে পারছিনা। যদি ধর্ষণ ওভাবে সিলেক্টেড হত, তাহলে দুটো জিনিস দেখা যেত ১। ধর্ষণের রিপ্রোডাক টিভ সাকসেস অনেক বেশি হত, ২। মেয়েদের ধর্ষণের বিরুদ্ধে কিছুনা কিছু উন্নত রেজিস্ট্যান্স গড়ে উঠত। কিন্তু সেরকম কোনো ইনস্ট্যান্স দেখা যায়নি। যে সব ট্রাইবের মধ্যে ধর্ষণ হয়, তারাও কিন্তু ধর্ষণকে কোনো সামাজিক সুপ্রথা হিসাবে চিহ্নিত করেনি, একই সমাজের মধ্যে পরনারী গমনকে লেজিটিমেট বলে নি। তারা ভায়োলেন্সের মাধ্যমে নারীর উপর একটি সামাজিক ডমিন্যান্স তৈরী করার চেষ্টা করেছে, নারী যে একটি মূল্যবান সম্পত্তি সেই কনসেপ্টকে জোরালো করেছে। কিন্তু ধর্ষণকে একটি বিধি হিসাবে তৈরী করেনি।
________________________________________
মানুষের ক্ষেত্রে, ধর্ষণের জৈবিক ব্যাখ্যার টানার মধ্যে দিয়ে ছুটে ছুটে গ্যাছে সমাজের গঠন, কালচার ও ধর্মের নানারঙ্গা পোড়েন। Clifford Geertz এর কথায়, "without culture patterns (i.e. ‘organized systems of significant symbols’) human behavior would be shapeless and without direction, ‘a mere chaos of pointless acts and exploding emotions.’" সেক্সুয়াল বিহেভিয়ারের ব্যাপারে মানুষের যৌনতা শুধুমাত্র প্রজননের হাতিয়ার আর নয়, অনেক ব্যাপ্ত তার ইমপ্যাক্ট। যে সমাজে পুরুষের সেক্সুয়াল এগ্রেশন আর ডমিন্যান্স বেশি, সেই সমাজে ধর্ষণের হার ও বেশি, কারণ ধর্ষণ এখানে সমাজের একটি নিয়ন্ত্রক।
ট্রাইবাল পুরুষতান্ত্রিক সমাজগুলিতে যেখানে ধর্ষণের হার বেশ বেশি, সেখানে নারী অপেক্ষাকৃতভাবে নিম্নমানের জীবন যাপন করে, ও সমাজের বায়াসের শিকার হয়। অন্যদিকে যে সমাজগুলিতে ধর্ষণের হার বেশ কম, সেখানে নারী ও পুরুষের সম্পর্ক হয় অত্যন্ত কঠিন সামাজিক বন্ধনের নিগড়ে ( যেখানে নারী প্রকৃতার্থে সম্পত্তি এবং সুরক্ষিত, পুরুষতান্ত্রিক স্টেবিলায়জড পলিগ্যামাস সমাজ) অথবা, নারী ও পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ কম ( পুরুষতান্ত্রিক , মনোগ্যামাস, নারীর দৈহিক নিয়মের সাথে কনফর্ম করা সমাজ) , অথবা, মাতৃতান্ত্রিক সমাজ।
দ্বিতীয় ধরনের সমাজকে ( পুরুষতান্ত্রিক , মনোগ্যামাস, নারীর দৈহিক নিয়মের সাথে কনফর্ম করা সমাজ) মানুষের বিবর্তন ধীরে ধীরে প্রেফার করেছে, কারণ এই রকম সমাজে অন্তর্প্রজাতি কনফ্লিক্ট কম, প্রজনন স্টেডি। প্রথম ধরনের সমাজে (যেখানে নারী প্রকৃতার্থে সম্পত্তি এবং সুরক্ষিত, পুরুষতান্ত্রিক স্টেবিলায়জড পলিগ্যামাস সমাজ) ভায়োলেন্সের আধিক্যের ফলে সন্ততির রিজনিং ও ইমোশনাল ক্যাপাসিটি পুওর, এবং সমাজের বন্ধনকে ইম্পোজ করার জন্য অনেক শক্তি ও এনার্জির ইনভেস্টমেন্ট দরকার। আমাদের অধুনা পৃথিবীতে এই দু ধরনের সমাজ দেখা যায়, যা কালচার ও রিলিজিওন নামক মেমেপ্লেক্স এর দ্বারা সংরক্ষিত।


এখন দ্বিতীয় ধরনের সমাজ, যা কিনা মেজরিটি , তার মধ্যেও ধর্ষণের আধিক্য কেন?


ধর্ষণ কিন্তু প্রজননগত ভাবে আর কোনো সফল টুল নয়। কিন্তু, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স , ইন্টিমেট রেপের সংখ্যাধিক্য, এবং মব রেপ, আমাদের বলে, যে পুরুষ এবং নারীর মধ্যে এক বিশেষ ধরনের সেক্সুয়াল কনফ্লিক্ট বিদ্যমান, যা প্রজননকে কেন্দ্র করে নয়। যা কিনা শুধুমাত্র সেক্সুয়াল প্লেজারকে কেন্দ্র করে।

বর্তমান পৃথিবীতে, আমাদের যুক্তিপূর্ণ মস্তিষ্কের হিসেবী পদক্ষেপ ধর্ষণকে এই সেক্সুয়াল প্লেজারের টুল হিসেবেই কি বাঁচিয়ে রেখেছে ? প্রানিকুলে মেল সিলেকশন বলে কোনদিনই খুব বেশি কিছু ছিলনা, ওদিকে মেয়েরা মেট চয়েস করত অনেক হিসেব করে। নারী মানুষের দেহে এলো সেকেন্ডারী সেক্স ক্যারেক্টারস, যার বিবর্ধন, সজ্জা অন্যতম কর্তব্য বলে সামাজিক নর্মস এ চিহ্নিত হলো, ক্রস কালচারালি। পুরুষের সঙ্গে তুমুল সেক্সুয়াল dimorphism এলো, শুধু এনাটমিকালিই নয়, কালচার শেখালো তাকে আরো বিবর্ধিত করতে। মেল সিলেকশন মুখ্য ভূমিকা নিল, কালচারালি, ও কিছুটা জেনেটিক্যালি। পুরুষের মন জয় করতে মেয়েরা অগ্রণী ভূমিকা নিল, কখনো সাজগোজ, কখনো সার্জারির মাধ্যমে। অধুনা সমাজে নারীর যে ভিজ্যুয়াল ইমেজ , তার বেশির ভাগটাই এই যৌনতার নিয়মের মাধ্যমে তৈরী। এই বিভিন্ন ভাষাভাষী, বিভিন্নভাবে সংযুক্ত পৃথিবীতে মানুষের যুক্তিপূর্ণ মস্তিষ্কের সামনে হাজারো অপশন। প্রত্যেক দিন, প্রত্যেক ব্যক্তিমানুষের মস্তিষ্ক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আর একটু বদলে যাচ্ছে। সমাজের সংজ্ঞা তার কাছে নতুন করে লেখা হচ্ছে। বিশেষত, বিভিন্ন সমাজের সম্পর্কে জানা , এবং বিভিন্ন ফর্ম অফ সেক্সুয়াল বিহেভিয়ারএর সামনে এক্সপোজড হওয়া মস্তিষ্ককে বারংবার rewiring করছে, আমাদের জীবত্কালেই আমরা বিবর্তিত হচ্ছি। ধর্ষণকে অধুনা সমাজের পুরুষ ব্যবহার করছে-
১। পারিবারিক ডমিন্যান্স তৈরী করতে
২। সারভাইভ্যাল অফ ফিট এনাফ থিওরি-যে পুরুষেরা যে কোনো নারীকে সমাজের পরিসরে woo করতে সক্ষম নয়, তারাও কখনো না কখনো নিজেদের ফিটেস্ট প্রমাণ করতে পারে
৩। নারীর "না" মানে আসলে "হ্যা"-সমাজ প্রভাবিত মিস কমিউনিকেশন
৪। দায়িত্বহীন সেক্স

এছাড়াও প্যাথলজিক্যাল রেপিস্টরা রয়েছেন ই, যারা ওয়ান টাইম এগ্রেসর দের থেকে এগিয়ে। মনে রাখতে হবে, রেপ পুরুষকে সেন্স অফ রিওয়ারড দেয়, সুতরাং ওয়ান টাইম রেপিস্ট ধরা না পড়লে এই ব্যবহার রিপিট করতে থাকবে, যেটা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের ও জণ্ম দেয়, ড্রাগ বা এলকোহলের মত এডিকসনের কাজ করে। যদি ভিকটিম ভয় পেয়ে মেনে নেয় বা এগ্রেসরের পছন্দসই ব্যবহার করে, তা হলে সে বারংবার একই ভাবে ধর্ষণ করার চেষ্টা করবে। এই প্রত্যেক ধর্ষণ, ভার্বাল এবিউস , যৌন সম্পর্ক সম্পর্কিত গালি দেবার অভ্যেস মানুষের মস্তিষ্ককে রিমডেল করতে থাকে, ক্রমাগত।

সুতরাং, সবশেষে বলা যায়, ধর্ষণ বিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভূত একটি ব্যবহার ত বটেই, কিন্তু অধুনা সমাজে ধর্ষণের তাত্পর্য্য সমাজের বিবর্তনের সঙ্গে অনেক অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত , শুধুমাত্র বায়োলজিক্যাল নয়। এও বলা যায়, যে শেষ অবধি সমাজের বিবর্তন ও যেহেতু আমরা বায়োলজিক্যালি মাপতে পারছি এবং ধীরে ধীরে এতটা বলার দিকে এগোচ্ছি যে সমাজ, পরিবেশ ও মানুষের শরীর দুটো আলাদা জিনিস নয়, একটা অন্যটার সাথে অচ্ছেদ্য ভাবে যুক্ত, তাই শেষ অবধি ধর্ষণ হয়ত একটি নির্বাচিত বায়োলজিক্যাল- কালচারাল ব্যবহার, প্রাণীকুলের ধর্ষণ থেকে যার অবস্থান অনেক দূরে।

আমার পাওয়া এত অবধি তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী অধুনা সমাজে ধর্ষণের উপকার সম্পর্কে কিছু বলা নেই। সমাজের সাধারণ স্ট্রাকচারাল গঠনকে এখন পর্যন্ত সামাজিক ধর্ষণ উপকৃত করছে মেল ডমিন্যান্সের ফর্ম হিসাবে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন অসামাজিক ধর্ষণ সমাজকে সেই উপকার দিচ্ছেনা। তবে মেয়েদের মধ্যে ভয় তৈরী হচ্ছে এবং সমাজের আরো নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে চলাফেরা, বন্ডিং এবং সুরক্ষার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এটা একটা ইনডাইরেক্ট এফেক্ট হতেও পারে।
কিন্তু একই সঙ্গে, ইনফরমেশন এজের ব্লাস্ট এর এই পিক পয়েন্টে আমরা ফ্রন্টাল লোবের বিবর্তনেরও একটা পিক পয়েন্টে রয়েছি। হতে পারে সমাজের একটা নতুনতর গঠনের জন্য মস্তিষ্ক তৈরী হচ্ছে। বিবর্তনের ইতিহাসে, মানুষের মস্তিষ্কের বিবর্তন দ্রুততম। তাই সময়ের হিসাবে ছোট্ট হলেও এই সময়টুকুর মধ্যে এক ইতিহাসকাল ধরা রয়েছে। বায়োলজিক্যালি /কালচারালি এই গোটা সময় ধরে বলাত্কারকে ধরে রাখা কাকতালীয় হতে পারেনা। এই লেখায় আমি চেষ্টা করলাম, যতখানি পারা যায় বলাত্কারের বিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য দিতে। বিশ্লেষণের শেষে এসে এটুকুই বলার, সমাজ , মানুষের উপর বায়োলজিক্যালি দখল নিয়েছে। বলাত্কার সেই দখলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ব্যক্তিমানুষ আসলে বেশিটাই সমাজের দাস, সমাজ মস্তিষ্ক ও পরিবেশের। এমনকি অপরাধী ও । এ এক অনন্ত ভিশাস সাইকল।
_____________________________________________________________

(শেষ)

যারা অশেষ ধৈর্য্যে এই লেখাটি পড়েছেন, গুরুর সেই অনন্যসাধারণ পাঠককুলকে আমার নমস্কার ।


অগুন্তি লেখালিখি ও গবেষণা থেকে এই রচনার উদ্ভব। সব-কটি দিতে পারলাম না, কিছু দিলাম।
______________________________________________________


1. Power, Anger, and Sadistic Rapists: Toward a Differentiated Model of Offender Personality ; Angela Pardue and Bruce A. Arrigo; International Journal of Offender Therapy and Comparative
Criminology; 2008; 52; 378 DOI: 10.1177/0306624X07303915

2. Criminalization Tensions: Empirical Desert, Changing Norms & Rape Reform
Paul H. Robinson, University of Pennsylvania, NELLCO Legal Scholarship Repository

3. Nepotistic patterns of violent psychopathy: evidence for adaptation?
Daniel Brian Krupp, Lindsay A. Sewall, Martin L. Lalumière, Craig Sheriff and Grant T. Harris; Frontiers in Psychology, doi: 10.3389/fpsyg.2012.00305

4. Association of violence against women with religion and culture in Erbil Iraq: a cross-sectional study; Namir G Al-Tawil ,BMC Public Health 2012, 12:800
5. Life Histories, Blood Revenge and Warfare in a Tribal population: N. A. Chagnon, 1988, Science, 239(4843), 985-992

6. .“A Natural History of Rape: Biological Bases of Sexual Coercion.” Thornhill, Randy; Palmer, Craig T , MIT Press, Cambridge, MA. 2000.

7. “An Evolutionary Analysis of Psychological Pain
Following Rape: I. The Effects of Victim’s Age and Martial Status”, Thornhill, Nancy; Thornhill, Randy. Ethology and Sociobiology,Vol. 11, pp.155 – 176. 1990

8. Sexual conflict, G Ran Arnqvist, Locke Rowe, Princeton University Press, 2005

9. Female Control: Sexual Selection by Cryptic Female Choice, William G. Eberhard, Princeton University Press,1996

10. The Genial Gene: Deconstructing Darwinian Selfishness, Joan Roughgarden, University of California Press, 2009

11. Adult male circumcision: effects on sexual function and sexual satisfaction in Kisumu, Kenya.Krieger JN, Mehta SD, Bailey RC, Agot K, Ndinya-Achola JO, Parker C, Moses S. J Sex Med. 2008 Nov;5(11):2610-22

12. Reconstructive surgery after female genital mutilation. Creighton S, Bewley S, Liao LM.Lancet. 2012;380(9852):1469;

13. Female circumcision: history, medical and psychological complications, and initiatives to eradicate this practice. Shah G, Susan L, Furcroy J. Can J Urol. 2009;16(2):4576-9.

14. Ritualistic female genital mutilation: current status and future outlook.
Elchalal U, Ben-Ami B, Gillis R, Brzezinski A
Obstet Gynecol Surv. 1997 52(1,0):643-51.
15. Between prophylaxis and child abuse: the ethics of neonatal male circumcision.Benatar M, Benatar D. Am J Bioeth. 2003;3(2):35-48.

16. The relationship between egalitarianism, dominance, and violence in intimate relationships. Karakurt G, Cumbie T. J Fam Violence. 2012;27(2):115-122.

17. The role of gender identity threat in perceptions of date rape and sexual coercion.Munsch CL, Willer R. Violence Against Women. 2012 ,18(10):1125-46. doi: 10.1177/1077801212465151.

18. FBI: Facts and reports: http://www.fbi.gov/stats-services/publications

19. The limits of sexual conflict in the narrow sense: new insights from waterfowl biology. Brennan PL, Prum RO.
Philos Trans R Soc Lond B Biol Sci. 2012;367(1600):2324-38

20. The evolution of female ornaments and weaponry: social selection, sexual selection and ecological competition.Tobias JA, Montgomerie R, Lyon BE
Philos Trans R Soc Lond B Biol Sci. 2012;367(1600):2274-93.

21. Thinner cortex in the frontal lobes in mentally disordered offenders.
Howner K, Eskildsen SF, Fischer H, Dierks T, Wahlund LO, Jonsson T, Wiberg MK, Kristiansson M. Psychiatry Res. 2012 Aug;203(2-3):126-31.

22. Cortical thickness and folding deficits in conduct-disordered adolescents. Hyatt CJ, Haney-Caron E, Stevens MC.
Biol Psychiatry. 2012 Aug 1;72(3):207-14.

23. How glitter relates to gold: similarity-dependent reward prediction errors in the human striatumKahnt T, Park SQ, Burke CJ, Tobler PN. . J Neurosci. 2012;32(46):16521-9.

24. Generalization of value in reinforcement learning by humans. Wimmer GE, Daw ND, Shohamy D. Eur J Neurosci. 2012 Apr;35(7):1092-104.

25. Circumcision as a Memeplex, Hugh Young, Bodily Integrity and the Politics of Circumcision, 2006, pp 1-16.

26. On Selfish Memes: culture as complex adaptive system. Situngkir, Hokky (2004) Cogprints.org





Name:  sosen          

IP Address : 125.242.31.0 (*)          Date:18 Nov 2012 -- 07:16 PM

পুরো লেখাটা একসঙ্গে করে কিছু রেফারেন্স জুড়ে দিলাম। সময়াভাবে সব রেফারেন্স লিস্ট করা সম্ভব হলো না। কেউ পার্টিকুলার কোনো রেফারেন্স চাইলে আমায় বলতে পারেন। ধন্যবাদ সকলকে।
এই লেখা লেখার সময়েই দু-একটি অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছিল-যেমন নি:স্বার্থ ব্যবহার, ক্রিমিনাল সাইকোলজি, সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন ও পেডোফিলিয়া ইত্যাদি। পরে সকলে চাইলে সেই বিষয়গুলি নিয়ে লেখার চেষ্টা করব। খুব রেলিভ্যান্ট প্রশ্ন/ইনফরমেশন রেখেছেন সকলেই, এবং এরকম একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লেখার পরেও কেউ কোথাও এই লেখাকে আক্রমণ করেননি, আমার ব্যাখ্যা বুঝবার চেষ্টা করেছেন এবং নিজেদের সুচিন্তিত মতামত রেখেছেন। এইরকম আলোচনার পরিবেশ গুরুতে বজায় থাকুক সবসময়। পাঠকদের জন্যে আমার তরফ থেকেও স্ট্যান্ডিং ওভেশন।


Name:  I          

IP Address : 24.99.211.204 (*)          Date:18 Nov 2012 -- 10:00 PM

সোসেন, খুব ভালো। পুরো লেখাটা ফিরে ফিরে পড়তে হবে। প্রিন্ট আউট নিয়ে রাখা ভালো।


Name:  siki          

IP Address : 24.97.18.64 (*)          Date:18 Nov 2012 -- 11:58 PM

সোসেনকে আরেকবার গ্র্যান্ড স্যালুট।


Name:  nina          

IP Address : 79.141.168.137 (*)          Date:19 Nov 2012 -- 01:19 AM

অসম্ভব ভাল কাজ। এটা বই আকারে কাছে রাখার খুব ইচ্ছে রইল----
সোসেনকে গোবেল ( গুরু+নোবেল) দেওয়া হউক!


Name:  sosen           

IP Address : 125.241.31.224 (*)          Date:19 Nov 2012 -- 09:05 AM

দেখলাম এখানে কিছু ছবি আসেনি- :(


Name:  siki          

IP Address : 24.140.82.133 (*)          Date:19 Nov 2012 -- 10:14 AM

গোবেলের জন্য সোসেনের নাম - নীনাদির প্রোপোজাল আমি সেকেন্ড করলাম।


Name:  কল্লোল          

IP Address : 125.184.77.87 (*)          Date:19 Nov 2012 -- 12:37 PM

এটার চটি চাই চাই চাইইইই।


Name:  sosen          

IP Address : 125.242.170.5 (*)          Date:06 Jan 2013 -- 11:26 AM

যেহেতু এই লেখার নির্যাস নিয়েই এই আর্টিকেল, তাই এখানে রেখে গেলাম।
http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=1911&boxid=115415546


Name:  ladnohc          

IP Address : 116.215.62.98 (*)          Date:06 Jan 2013 -- 03:49 PM

ক ✌


Name:  অবাস্তব          

IP Address : 71.95.189.220 (*)          Date:21 Jan 2013 -- 09:07 AM

http://epaper.timesofindia.com/Default/Scripting/ArticleWin.asp?From=A
rchive&Source=Page&Skin=TOINEW&BaseHref=TOIM/2013/01/21&PageLabel=7&En
tityId=Ar00700&ViewMode=HTML



Name:  মৌ          

IP Address : 24.99.88.226 (*)          Date:22 Jan 2013 -- 09:47 PM

অসাধারণ লেখা। খুব মন দিয়ে পড়লাম, অনেক কিছু জানলাম। কিছু কিছু জায়গা বুঝলাম না, তবে বরাবরই সাইন্সে কাঁচা তাই নিজেকে ক্ষমা করলাম। গুগলবাবার কাছে যেতে হবে। এই লেখাটির একটা বই প্রকাশ করবার জন্য গুরুচণ্ডালীর কাছে আবেদন রাখলাম, ছবি দিয়ে।


Name:  jhumjhumi          

IP Address : 127.194.231.201 (*)          Date:23 Jan 2013 -- 07:22 PM

সোসেন কে অসংখ্য ধন্যবাদ। সত্যি অসাধারণ লেখা। অনেক পরিশ্রম রয়েছে, যত্ন করে লিখেছেন। এটি বই আকারে প্রকাশ করা হোক।


Name:  siki          

IP Address : 132.177.146.141 (*)          Date:21 Jun 2013 -- 01:46 PM

http://www.popsci.com/science/article/2013-05/science-arousal-during-r
ape



Name:  khilli noy          

IP Address : 131.241.218.132 (*)          Date:21 Jun 2013 -- 06:33 PM

খুব সুন্দর লেখা ।
শুধু একটাই add করতে চাই ছোট ছেলেরাও অনেক সময় অ্যাডাল্ট পুরুষ তো বটেই মহিলা দ্বারাও ধর্ষিত হয় ।নিছক পিডফিল লালসার শিকার বলে গুরুত্ব যেন না কমানো হয় ।
যেমন নিউজিল্যান্ড এর সেই ১১ বছরের বাচ্চাটি যে স্কুলের বন্ধুর মায়ের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে "বাবা" হতে চলেছে ।
http://ibnlive.in.com/news/boy-11-fathers-child-with-a-36yearold-woman
-in-new-zealand/400181-2.html



Name:  sswarnendu          

IP Address : 198.154.74.31 (*)          Date:16 Nov 2014 -- 09:40 AM

লেখাটা কেমন দুম করে শেষ হয়ে গেল... প্রতিপাদ্য বিষয় কি ছিল তাইই স্পষ্ট হল না...

"সুতরাং, সবশেষে বলা যায়, ধর্ষণ বিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভূত একটি ব্যবহার ত বটেই, কিন্তু অধুনা সমাজে ধর্ষণের তাত্পর্য্য সমাজের বিবর্তনের সঙ্গে অনেক অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত , শুধুমাত্র বায়োলজিক্যাল নয়। এও বলা যায়, যে শেষ অবধি সমাজের বিবর্তন ও যেহেতু আমরা বায়োলজিক্যালি মাপতে পারছি এবং ধীরে ধীরে এতটা বলার দিকে এগোচ্ছি যে সমাজ, পরিবেশ ও মানুষের শরীর দুটো আলাদা জিনিস নয়, একটা অন্যটার সাথে অচ্ছেদ্য ভাবে যুক্ত, তাই শেষ অবধি ধর্ষণ হয়ত একটি নির্বাচিত বায়োলজিক্যাল- কালচারাল ব্যবহার, প্রাণীকুলের ধর্ষণ থেকে যার অবস্থান অনেক দূরে।"--- এই প্যারাগ্রাফের কিছুই বুঝলাম না, বেশ contradictory ও লাগল...
প্রথমত, "ধর্ষণ বিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভূত একটি ব্যবহার " কেন? যদি "প্রাণীকুলের ধর্ষণ থেকে যার অবস্থান অনেক দূরে" ই হয় তাহলে forceful copulation বা resisted mating এর থেকে rape কে তো আলাদা করেই দেখা উচিত... এই লেখার আর্গুমেন্ট এ forceful copulation কে যদিও বা নির্বাচিত বলে মেনেও নি, তার সাথে ধর্ষণের সম্পর্কও ঠিক বুঝলাম না... "শেষ অবধি ধর্ষণ হয়ত একটি নির্বাচিত বায়োলজিক্যাল- কালচারাল ব্যবহার"-- এটাও বুঝলাম না... মানে এই কন্টেক্সটে "নির্বাচিত" মানে কি? আর যদি হয় ও... বায়োলজিক্যাল দিক থেকে 'নির্বাচিত' র মধ্যে "প্রকৃতি নির্বাচন করেছেন" টাইপ একটা কিছু আছে...meme selection এর ক্ষেত্রে তো এমন কোন কিছু দাবি করছেন কি? selected meme তো necessarily beneficial কিছু নয়...

"বায়োলজিক্যালি /কালচারালি এই গোটা সময় ধরে বলাত্কারকে ধরে রাখা কাকতালীয় হতে পারেনা।" --- মানুষের মধ্যে ধর্মবিশ্বাস, পুজো-আচ্চা এইসব থেকে যাওয়াও কাকতালীয় নয়, point টা কি?

"বিশ্লেষণের শেষে এসে এটুকুই বলার, সমাজ , মানুষের উপর বায়োলজিক্যালি দখল নিয়েছে।"--- সমাজ কি? মানে এখানে কি অর্থে? power ও dominance এর একটা কেন্দ্রীভূত রূপ হিসেবে? নাকি ethology যে ভাবে প্রাণিজগতে 'সমাজ' কে দেখে, মানে animal behaviour ( social প্রাণীদের ক্ষেত্রে social behaviour ও যার অংশ ) ? anthropology র perspective ও ঠিক ethology র perspective এর সাথে এক নয়...

বড্ডই vague ভাবে শেষ হল মোটমাট...






Name:  sswarnendu          

IP Address : 138.178.69.138 (*)          Date:19 Nov 2014 -- 10:13 PM

কয়েকটা প্রশ্ন রাখলুম তা কেই উত্তর দিলে না :(


Name:  sswarnendu          

IP Address : 138.178.69.138 (*)          Date:19 Nov 2014 -- 10:14 PM

*কেউ


Name:  Ekak          

IP Address : 24.96.31.142 (*)          Date:19 Nov 2014 -- 10:22 PM

আমার মনে হলো সোসেন লেখাটার মধ্যে "বিবর্তন" শব্দটার বিয়াপকতা কেভ্ব্যবহার করেছেন শেষের দিকে । "সমাজ" এর গড়ে ওঠাও যে একটা বিবর্তন এবং সেইকারণেই পার্থক্যটা এখন দিস্ক্ন্তিন্ক্তিভ আইদেন্দিতি দাবি করে এটাই বক্তব্য। এটা পরিস্কার করে বলা নেই বলে হটাত পরস্পরবিরোধী মনে হচ্ছে। এটা একেবারেই আমার মনে হওয়া ।


Name:  sswarnendu          

IP Address : 198.154.74.31 (*)          Date:20 Nov 2014 -- 12:16 AM

@একক,
সেটা আমারও মনে হয়েছে, কিন্তু
"বায়োলজিক্যালি /কালচারালি এই গোটা সময় ধরে বলাত্কারকে ধরে রাখা কাকতালীয় হতে পারেনা।", "শেষ অবধি ধর্ষণ হয়ত একটি নির্বাচিত বায়োলজিক্যাল- কালচারাল ব্যবহার"--- এইসব লাইন দেখে ঘেঁটে গেলুম।



Name:  adhuli          

IP Address : 190.148.69.210 (*)          Date:20 Nov 2014 -- 04:23 AM

খুব যুক্তিপূর্ণ লেখা, পরে ভালো লাগলো। সব যুক্তি-এর সাথে যে একমত হতে পারলাম তা নয়, তবে সসেন এর গবেসণা আর analysys অসাধারণ। আমরা আজকে 21st সেঞ্চুরি তে দাড়িয়ে একটা সমাজ দেখতে চাইছি যেখানে ধর্ষণ বলে কিছু নেই, তবে সেটা একটা ideal সমাজ এর স্বপ্ন। সেটা বাস্তব হতে পারবে কি না, বা আদৌ হবে কিনা, নাকি অন্য কোনো সমাজ বিবর্তন আসবে, গত কযেক হাজার বছর এর সব নিয়ম পাল্টে দিয়ে, সেটা কে বলতে পারে। তবে ভারত এ ধর্ষণ এর চেয়েও যেটা জঘন্য বলে মনে হয়, সেটা হলো কোনো ঘটনার পরে নেতাদের বা সমাজের ঘৃণ্য মানসিকতা, ধর্ষিতার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ আর ধর্ষকদের আড়াল করার চেষ্টা। সেগুলো আসল অপরাধ এর থেকেও আরো বেশি অপরাধ বলে মনে হয়। এই মানসিকতার জন্য বহু ঘটনা পুলিশ এর কাছে আসে না, ধর্ষণ বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স হয়ত ইন্ডিয়া তে সবথেকে আন্ডার রিপোর্টেড crimes । তাই সরকারী স্ট্যাটিসটিক্স নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। আর স্ট্যাটিসটিক্স ভালো না হলে তার analysys এও ভুল এর সম্ভাবনা বাড়ে।

খুব ভালো লাগলো সসেন। এই লেখাটা কোনো টপ লেভেল নিউস পেপার বা ম্যাগাজিনে এ দেখতে চাই, যাতে আরো বেশি মানুষ এর কাছে পুছতে পারে। বিতর্ক হোক। তর্ক তো থাকবেই, তর্কের শেষেই সমাধান বেরিয়ে আসবে আশা করি। তবে আমার নিজের ধারণা ধর্ষণ কে একেবারে এলিমিনেট করা সম্ভভ নয়, কিন্তু ভিকটিমদের পোস্ট ট্রমা সাপোর্ট টা আরো অনেক বেশি জরুরি। যদিও এটা মূল লেখার বিষয় নয়, জাস্ট আমার মতামত টা বললাম।


Name:  sosen          

IP Address : 125.244.227.59 (*)          Date:20 Nov 2014 -- 07:37 AM

স্বর্ণেন্দু, আপনার প্রশ্ন পড়েছি। এই লেখার শেষের দিকের অস্বচ্ছতা স্বীকার করছি- এটি প্রায় দু বছর আগের লেখা এবং শেষের দিকে তাড়াহুড়ো করে শেষ করা। তবে আপনার প্রশ্নগুলি আমি ঠিক বুঝতে পারিনি, মনে হোলো কোনো বিশেষ পয়েন্ট নয়, সম্পূর্ণ লেখাটির সমালোচনা করেছেন, সেজন্য আলাদা করে উত্তর কিছু দেওয়ার নেই। কখনো লেখাটি কোথাও বের হলে এই পার্টিকুলার অংশের অস্বচ্ছতা পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। গুরুতে নিয়মিত আসিনা, টই তো দেখাই হয়না, তাই আপনার প্রশ্নও দেখতে পাইনি। দুঃখিত।


Name:  .          

IP Address : 236712.158.895612.180 (*)          Date:02 Dec 2019 -- 06:12 PM

.


Name:  দ          

IP Address : 237812.69.453412.116 (*)          Date:03 Dec 2019 -- 08:24 AM

হ্যাঁ এইটা

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]     এই পাতায় আছে188--218