Bimochan Bhattacharya RSS feed

নিজের পাতা

গতকাল অনেকদিন পর হাতিবাগান গিয়েছিলাম। হাতিবাগানে গেলেই আমার পুরনো কথা মনে পড়ে। বেশীরভাগই সুখসমৃতি।শ্রী সিনেমার(এখন আর নেই)উল্টোদিকে একটি কাপড়ের দোকানে চোখ পড়তেই ভাবলাম 'আরে দোকান টা এখনো আছে?এক লহমায় ফিরে গেলাম অতীতে। ১৯৬০ এর পুজোর কিছুদিন আগে। মা দশ বছরের আমায় নিয়ে চলেছেন ওই দোকানে।ওই দোকানের মালিক, কর্মচারী সকলেই আমাদের পরিচিত ছিলেন। বাবা এদের এবং অন্য আরো অনেক কে বিশ্বরুপার ফ্রি পাস দিতেন। তো সেইদিন গিয়ে দেখলাম মালিক নেই দোকানে। কর্মচারীরা মাকে বসালেন। খাতা বার করে টাকা নিলেন। সব টাকা দিয়ে মা বল্লেন মা কিছু নতুন শাড়ী নেবেন। কর্মচারী রা চুপ। কিছুসময় পর ওদের মধ্যে একজন বল্লেন-' বৌদি, আপনাকে আর ধার দেওয়া যাবে না।মালিক বারন করেছেন। আমার মা খুব ফর্সা ছিলেন। আমি দেখলাম মার মুখটা লাল হয়ে গেছে। আর একটাও কথা না বলে মা আমার হাত ধরে দোকান থেকে বেরিয়ে এলেন। একটাও কথা বলছিলেন না মা। আমরা যখন হাতিবাগান বাজারের নীচে তখন শুনি কে পেছন থেকে বৌদি বৌদি বলে ডাকছে।পেছন ফিরে দেখি সেই ভদ্রলোক। মার সামনে এসে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন তিনি। বল্লেন--" বৌদি, আমার দোষ নেবেন না।কেউ আপনাকে বলতে পারছিল না বলে আমাকেই বলতে হল, আমরা তো কর্মচারী । মালিক বললে আমাদের বলতেই হয়। আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। মা কি বলবেন বুঝতে পারছিলেন না। কোনমতে আমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। আমাকে শুধু বল্লেন- বাড়িতে কাউকে কিছু বলিস না। আমার মা ছিলেন আমাদের বাড়ীর সর্বময় কত্রী।সকালে উঠে উনুন ধরানো থেকে শুরু হত তার কাজকর্ম। আর কোনদিন আমরা মাকে বিরক্ত হতে দেখি নি। গম্ভীর হয়ে তো থাকতেই পারতেন না। সেদিন কিন্তু মা গম্ভীর ছিলেন ফলে বাইশ জনের সংসারে কুড়ি জনই মাকে জিজ্ঞেশ করলেন কি হয়েছে মার। মা কিন্তু সবাইকেই বলে গেলেন কিছুই হয়নি। বাড়ীর সবচেয়ে ছোট আমি, আমি গিয়েছিলাম মার সংগে তাই আমাকেও উত্তর দিতে হল।মার কথা মত আমি ও বল্লাম না কিছু কাউকে। এমনকি রাত্রে বাবাকেও কিছু বল্লেন না মা। আমি ছোট ছেলে, বাবা মার সংগেই শুয়েছি চিরকাল ফলে আমি দেখলাম না মাকে রাত্রে বাবাকে বলতে কথাটা। কয়েকদিন পর বাবা এসে আমাদের সামনে মাকে বললেন-- "তুমি আমায় বল নি কেন যে ওই দোকানের লোকেরা তোমায় অপমান করেছে।" মা বললেন -'অপমান করবে কেন? টাকা দিতে পারিনি তাই ধার দেবে না বলেছে'। বাবা বল্লেন-- ' ওই দোকানের মালিক এসেছিল সে বল্লো সে এ রকম কথা বলে নি। মা বললেন-- কিন্তু আমরা যে ওদের টাকা ঠিক সময় দিতে পারি নি সেটা তো সত্যি। নগদে কিনতে পারবো যেদিন সেদিন নতুন শাড়ি পড়বো। সিনেমার ফ্লাশ ব্যাক এর মত ঘটনা গুলো সামনে আসছিল।বাবা নিজে, আমি, আমার দাদা দিদিরা এরপর মাকে অনেক অনেক শাড়ী কিনে দিয়েছি কিন্তু আজ আবার মার সেই অপমানিত মুখটা মনে পড়ল। মনে পড়ল সেই ভদ্রলোকের হাউহাউ করে কান্না।আমার মা চলে গেছেন ১৯৮০ সালের ১৬ই অক্টোবর। দুর্গা পুজোর সপ্তমী ছিল সেদিন।শেষযাত্রায় মাকে আমার দিদিরা পরিয়ে দিয়েছিল সেবারই পুজোয় মাকে আমার কিনে দেওয়া নতুন শাড়িটা।কাঠের চিতায় মাকে দাহ করেছিলাম কাশী মিত্র ঘাটে। এই অপদার্থ ছোট ছেলের দেওয়া শাড়ী পরেই পঞ্চভুতে লীন হয়ে গিয়েছিলেন মা সেদিন। কাল হাতিবাগানের সেই দোকানটা দেখে কত কথা মনে পড়ে গেল। কিন্তু মার সেদিনের সেই অপমানিত মুখটা কাল থেকে সমানে তাড়া করে চলেছে আমায়। কোনদিন নিজের মুখে কাউকে বলিনি এই কথাগুলো।আজ লিখে ফেললাম। দেখি কষ্টটা একটু কমে কি না। না , স্মৃতি সততই সুখের হয় না.......।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

Bimochan Bhattacharya প্রদত্ত সর্বশেষ দু পয়সা

RSS feed

স্মৃতির ঝুলি -২

আমার স্কুলবেলাটা মানিকতলায় কেটেছে।অনেক বন্ধু ছিল আমার ওখানে। আর উত্তর কলকাতার কিছু টিপিকাল নামের বন্ধুও ছিল। একজনের নাম ছিল গুয়ে অথচ তার ভাল নাম ছিল শুভজিত। কিন্তু সবাই গুয়ে বলেই ডাকতো এমন কি ওর বাবাও ওকে গুয়ে বলে ডাকতেন। কিন্তু আজ বলবো বাচ্চুর কথা। অনেকগুলো বাচ্চু ছিল আমাদের দলে।ছোট বাচ্চু, ননী বাচ্চু, নাটা বাচ্চু, গেঁড়ে বাচ্চু আর টেকো বাচ্চু। কাল টেকো বাচ্চুর সংগে দেখা হল অনেক অনেক দিন পর। ওকে টেকো বলে ডাকতে গিয়ে দেখলাম আমার নিজের টাক এখন ওর থেকে বেশী। শুধু বাচ্চু বলতে ও আবার রেগে গেল। বললো- ক

স্মৃতির ঝুলি

কাল অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসছিল না। ফেসবুকে ছিলাম অনেকক্ষন।তারপর মোবাইলে এফ এম এ পুরনো দিনের বাঙলা গান শুনছিলাম। একটি গান অনেক অনেকদিন পর শুনলাম। আমার মায়ের খুব প্রিয় গান সেটি। দ্বীপের নাম টিয়ারঙ ছবির গান। " সাত সাগরে পাড়ি দিয়া তরে নিয়া যাই / আমি চাঁন্দেরই সাম্পান যদি পাই। শ্যামল মিত্র গেয়েছিলেন। আহা কি সুন্দর গান! কি কন্ঠস্বর ছিল শ্যামল মিত্রের! শুনেছি সবকটি অক্টেভে অনায়াসে বিচরন করতো তার গলা। এক আশ্চর্য মাদকতা ছিল তার কন্ঠে। পাঠক, এই গানটির " যদি পাই" অংশটি বার বার শুনুন।আমি হলফ করে বলতে পারি,

এদিক সেদিক যা বলছেনঃ