উদয়ন ঘোষচৌধুরি RSS feed

নিজের পাতা

মোদ্দা ব্যাপার হল, বাঙালি সব জানে। সব মানে, সঅঅঅব। ব্রহ্মা যা জানে না, বাঙালি তা-ও জানে। মোদী থেকে মারাদোনা – লাইফে কে কি করতে পারল না, বাঙালি জাস্ট একটা বিড়ি খেতে খেতে বলে দেবে। উদয়ন বাঙালি, তাই সে-ও সব জানে। অন্তত সেরকমই মনে করে সে। সিনেমা নিয়ে, বইপত্র নিয়ে, বেড়ানোর গপ্পো নিয়ে, আর আরও হ্যানত্যান ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর ভাঁটায়। সেইসব বুকনিবাতেলা এবার আপনার ক্লিকে। প্রকাশিত বই : উদোর পিণ্ডি, সৃষ্টিসুখ, ২০১৪; লিঙ্গ নেই মৃত্যু নেই, উবুদশ, ২০১২

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...
  • অলোক রায় এবং আমাদের নবজাগরণ চর্চা
    সম্প্রতি চলে গেলেন বাংলার সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক অলোক রায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ছয় দশক জুড়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ...
  • দুই ক্রিকেটার
    ক্রিকেট মানেই যুদ্ধু। আর যুদ্ধু বলতে মনে পড়ে ষাটের দশক। এদিকে চীন, ওদিকে পাকিস্তান। কিন্তু মন পড়ে ক্রিকেট মাঠে।১৯৬৬ সাল হবে। পাকিস্তানের গোটা দুয়েক ব্যাটেলিয়ন একা কচুকাটা করে একই সঙ্গে দুটো পরমবীর চক্র পেয়ে কলকাতায় ফিরেছি। সে চক্রদুটো অবশ্য আর নেই। পাড়ার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

উদয়ন ঘোষচৌধুরি প্রদত্ত সর্বশেষ দু পয়সা

লেখকের আরও পুরোনো লেখা >> RSS feed

ভোররঙের পৃথিবী


সে প্রায় গতজন্মের গপ্পো। চিন্টু তখন হাপপ্যান্টুলে। বিকেলগুলো পাড়ার লাইব্রেরিতে ঝুঁকে কাটিয়ে দ্যায় সে, যে সময় বাকিরা ফুটবল আর কোচিং পিটছে। কলকাতা থেকে আসতেন যে লাইব্রেরিয়ান যুবতী, ছিপছিপে শাড়ি ও চশমা; টয়লেটে যাতায়াতের পথে আশ্চর্য দেখতেন এক ব্রণওলা ক্যাবলা কিশোর, ফ্যালফেলিয়ে রয়েছে অন্ধকার হতে থাকা টেবিলের ওপর। চিন্টু কখনওই কোনও দেবতা ছিল না। পেট-পিঠ মিশে যাওয়া কোমরের খাঁজে সে সময় সে প্র্যাকটিস করত বই-ঝাড়া শিল্প। আর এমনই এক সোনালি গোধূলিতে সে ঝেড়েছিল একটা পত্রিকা। 'যষ্টিমধু' নাম; পাতায় পাতায় হ

অনর্গল সেই আগল খুলে আজ যা যা দেখছি (৪)


‘সম্পর্ক’ অনেক সময় নিজের সঙ্গেও। উডি অ্যালেন-এর চাঁছাছোলায়, “Don’t knock masturbation, it’s sex with someone you love”। স্বমেহন নয়, ‘আত্মরতি’ যদি হয় স্বমনন-খোঁজ? যখন নিজেকেই ভাবা যায় ঈশ্বর? নিজেকেই ভাঙা-গড়া, লাথি-আদর, ধুরবাল ও জিওগ্গুরু? হ্যাঁ, “Vanity is the favorite sin”। সৃষ্ট চরিত্রের প্রতি লেখক এতটাই ধ্রুব যে, রক্তমাংসের মানুষও তার কাছে খেলনা। উপন্যাসের খোঁজে স্ত্রীকে প্রাণিত করে সহকর্মীর সঙ্গে সাজানো-প্রেমে; সাজানো-প্রেম সেজে ওঠে, লেখকের আস্তানা হয় অ্যাসাইলামে (শব্দ, ২০০৫, লীনা যাদব)।

অনর্গল সেই আগল খুলে আজ যা যা দেখছি (৩)


সম্পর্ক’ কি কেবল সমাজের বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ? প্রসন্ন গিরগিটিসুখ? এমনও তো সুর জাগে, যা গান হয়ে ওঠে না; এমনও তো সুরা হয়, যা দুই উলটো মেরুকে মুখোমুখি বসায়; বদলে দ্যায় চরিত্রের ঝর্ণারেখা, গনগনে রোদ্দুরের ঘাম মুছিয়ে তুলে আনে ছায়াসঙ্গীতে। পেশাদার খুনি ভালবেসে ফ্যালে চির-অদেখা এক নারীকে, সাহারা বলতে টেলিফোনে মায়াকথাজাল (হোয়াট আ ওয়ান্ডারফুল ওয়ার্ল্ড, ২০০৬, ফউজি বেনসাইদি)। জয়ী সামরিকের ছেলে নির্বান্ধব প্রান্তরে সময় কাটায় যুদ্ধবন্দী সমবয়েসির সঙ্গে; একদিন বন্ধুর সঙ্গে ঢুকে যায় বিষাক্ত গ্যাস-চেম্বারে (দ

অনর্গল সেই আগল খুলে আজ যা যা দেখছি (২)


যে কোনও ‘সম্পর্ক’ গুঁড়ো করতে, সম্ভবত, দুটো জিনিস যথেষ্ট – বেরহম খিদে আর বেশুমার যৌনতা। খুনের মিথ্যে দায়ে জেলে যায় স্বামী আর মাঝবয়েসি স্ত্রী ফেঁসে যায় খুনি মালিকের শরীরী প্রেমে (থ্রি মাঙ্কিস, ২০০৮, নুরি বিলগে চিলান)। বেরোজগার শ্রমিক আফশোস করে বন্ধুর কাছে, যদি তার রোগা বউটা কারও কামনা কাড়তে পারত, হয়ত ক’টা রুটি জুটে যেত একবেলা পেট চালানোর (সিটি অফ গোল্ড, ২০১০, মহেশ মঞ্জরেকর)। প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকন্যার শরীরে সংযুক্ত হয় ডাক্তার, মায়ের সামনেই; পর্দায় তখনও খোলা-জন্মনালী মায়ের স্মিতমুখ; মানুষে

অনর্গল সেই আগল খুলে আজ যা যা দেখছি (১)


“Cinema is a foreign language, a language created for those who need to travel to the other sides of life.”

আখাম্বা একটা বাড়ি, যেখানে বেড়ে উঠছে একটি শিশু। সে খুব গম্ভীর, চুপচাপ পৃথিবী জরিপ করাই যেন তার কাজ। ‘পৃথিবী’ বলতে ওই বিশাল বাড়ি, তার যুবতী মা, পঙ্গু প্রৌঢ় বাবা, আর এক প্রাচীন চাকর। জন্ম-ইস্তক বাবা তাকে মেরে ফেলতে চায়। বড় হতে হতে সে জানতে পারে, মায়ের স্বামী, যাকে সে ‘বাবা’ ডাকে, লোকটা আদতে ধ্বজভঙ্গ; অতএব যোগ্যতাহীন। মা বোঝায়, ওই চাকরটিই তার প্রকৃত প্রেমিক; স্থানীয় প্রথামাফিক যে

সব দো, শব দো *


মঙ্গল পাণ্ডে নয়; চিল্লেছিল আমির খান, প্রবল বাবরি আর গোঁফ বাগিয়ে। 'হলল্লা বোল'। আমিরি চুলের মেন্টেনেন্স খরচা উঠেছিল কি না সন্দেহ, তবে পাবলিক হল্লাটা খেয়েছিল। ওটা খাওয়া পাবলিকের ঐকান্তিক ধর্ম। কেউ মরছে কি না, কেউ ধুঁকছে কি না, কেউ তার বিষাদফোঁড়ায় আলতো হাত রাখছে কি না – সে জেনে পাবলিকের কি! পাবলিক বেঁচে আছে এবং সাংঘাতিক তীব্ররূপে আছে – সেটা সক্কলের জানা দরকার। জানানো তার হক। সে জন্যেই ঈশ্বরবাবু তাকে গলা দিয়েছে। এবার তো বাকিদের গলায় সে পা তুলবেই। ইস্কুলে চুকিৎকিৎ বা কমপ্লেক্সে হাডুডু – স্রেফ চি

রাধার কি হইহই লো...


দ্বাপরের গায়ে তখন অনেক বসন্ত কেটে গিয়ে অনেক হেমন্ত ফেঁসে গেছে। হলদেটে বিকেলে রাধারানির এক্সপ্রেশন আবার সেই ‘শোলে’-র জয়া ভাদুড়ি টাইপ। অন্তরে পুনরায় চাগাচ্ছে হরমোনাল ব্যথা। বসিয়া বিরলে থাকয়ে একলে সিনড্রোম। ড্রাই-ফ্রুটওলা চকোলেট ছাড়া ঠোঁটে তিনি কুটোটি ঠ্যাকাচ্ছেন না। প্রচুর ভেব্বে-চিন্তে চোখের মণি ঠিকরে তুলে ললিতা এক দিন বললেন, ‘‘দুককু কি আর সাধে, মা! ফুটেজ খেল রাধে মা!’’ বিশাখা ব্যালকনিতে বৈকালিক রূপচর্চা করছিলেন, সারা মুখে ধ্যাবড়া সাদা লেপে তড়বড়িয়ে বললেন, ‘‘আরে, আমি তো বলতেই ভুলে গেসলুম, সেদ

বুদ্ধদেবের ঘুমঘর *




একটানা গোঁগোঁ হাওয়া আর ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। দু জনেই একটা করে গাছের ডাল কুড়িয়েছি, ওয়াকিং স্টিকের বদলে। অন্ধের মতো হাতড়ে পা ফেলছি। রাস্তার শেষটুকু যেন উঁচু হয়ে ঠেলে উঠেছে। বরফের হাঁচোড়-পাঁচোড়ে ক্যারদানিটা কিছু বেশিই। খাদ যথেষ্ট খাড়াই। নিশ্চিত জানি, অল্প এদিক ওদিক পা রাখলেই হড়কে খাদে ঢুকে যাব। সিঙ্গালিলার জঙ্গলে ঝিঙ্গালিলা জন্তু-টন্তু বেরিয়ে আসা বিচিত্র নয়। হঠাৎ অনেকটা ওপরে একটা আলোর চলাফেরা, কিছু যেন কেউ বলছে। হ্যাঁ, ওই তো বাপির হেডটর্চ, আমাদের খুঁজছে। চেঁচিয়ে সাড়া দিই, আওয়াজ ওদিকে প

বুদ্ধদেবের ঘুমঘর *




শেষমেশ দশজন। উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসে নিউ জলপাইগুড়ি হয়ে সিরিখোলায় পৌঁছতে বিকেল। সঙ্গে আনা মুড়ি-চানাচুর চিবিয়ে হাঁটতে বেরোই আশেপাশে। জায়গাটা এক্কেরে পকেট। ঘাড় উঁচু করলেই পাহাড়ি দেওয়াল, ঘন বন-মাখানো শরীর। খোলা, মানে, ছোট নদীটা মাঝ-বরাবর চলেছে হাসতে হাসতে। নদীর ওপর গুঁড়ি, কাঠ, দড়ি বেঁধে বানানো ব্রিজ; কেউ যাতায়াত করলে দোলে। বিশাল বিশাল পাথুরে চাঁই নদীর দু দিকে। যেটুকু অংশ মানুষ খালি করতে পেরেছে, হোটেল বানিয়ে ফেলেছে। কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকার আকাশ, চাঁদ-চিহ্নহীন। নদী আর পাথরদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে

বুদ্ধদেবের ঘুমঘর *




ফ্যাচাংটা তুলেছিল বাপি, ২০১৩-র নভেম্বরের গোড়ায়। মল্লাগাওানা-য় ত্রেপনজীর বাড়িতে, বারান্দায় পা দোলাতে দোলাতে। এ সব ক্ষেত্রে যেটা ও করে, ছাঁটা-গোঁফে লুকিয়ে রাখা ফিচেল একটা হাসি দ্যায় আর একদম শিশুর মতো প্রস্তাবটা ছোঁড়ে। সামনেই একমাস ওর পাহাড়-প্রবাস, মাউন্টেনিয়ারিং-এর অ্যাডভান্স কোর্স, চড়বে দ্রৌপদী-কা-দাঁড়া। সঙ্গে জুটিয়েছে বাবাই আর দেবুদাকে, বেসিক কোর্স-এর জন্যে। বাপির ফন্দি, প্রাক-কোর্সে প্র্যাকটিসের জন্যে সান্দাকফু ট্রেক, ২০১৪-র ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। গত পনেরো বছরে বার সাতেক ও সেখানে
>> লেখকের আরও পুরোনো লেখা >>

এদিক সেদিক যা বলছেনঃ