Debasis Bhattacharya RSS feed

Debasis Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

Debasis Bhattacharya


রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা দিলে এই একুশ শতকেও ভূতের ‘কামব্যাক’ সম্ভব । দাদা বার বার পাহাড়প্রমাণ বাধা ঠেলে ভারতীয় ক্রিকেট দলে ‘কামব্যাক’ করেছেন, আর আমরা সব অধীর উত্তেজনায় আপিস কাচারি কামাই করে সে সব দেখেছি । তাহলে, তাঁর অঙ্গুলি হেলনে যে হাই ডেফিনিশন টিভির পর্দায় ভূতেরা ফিরে আসবে, সে কি আর খুব বেশি কথা হল ?

গতকাল ভর সন্ধেবেলাতেই ‘জি বাংলা’ চ্যানেলের ‘দাদাগিরি’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক সৌরভ গাঙ্গুলির সামনে হাজির হলেন এক মহিলা, তিনি ভুত খুঁজে বেড়ান, এবং এই আশ্চর্য কর্মকাণ্ড সুসম্পন্ন করার জন্য তাঁর নাকি একটি গোটা দলই আছে ! তিনি ওঝা-গুণিনদের মতন গেঁয়ো তন্ত্রমন্ত্রের ভরসায় থাকেন না, দস্তুরমত ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ভুত খোঁজেন । যদিও সৌরভ গাঙ্গুলি, মানে আমাদের দাদা, বারবারই তাঁকে ভরসা দিয়ে বলেছেন যে ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে তাঁর মনে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই এবং কোনওকালে ছিল না, তবু সেই অকুতোভয় মহিলা ভূতের ‘প্রমাণ’ হিসেবে বিস্তর যন্তরপাতি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন, আমাদের মত অজ্ঞ অকিঞ্চনকে প্রাজ্ঞ ও রোমাঞ্চিত করে তোলবার জন্য । তা, বন্ধুদের তরফে তীব্র প্ররোচনা-কবলিত অবস্থায় প্রাজ্ঞ ও রোমাঞ্চিত হবার চেষ্টায় ত্রুটি রাখার উপায় আমার ছিল না । সে চেষ্টার ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াল সেটা বলবার জন্যই এই লেখা, তবে তার আগে একটু ভাল করে দেখে নেওয়া যাক, এই মহিলা ওই অনুষ্ঠানে ক্যামেরার সামনে ঠিক কী কী বললেন এবং করলেন । মহিলার নাম ‘ঈশিতা দাস সান্যাল’, এবং আমরা এরপর থেকে সাধারণত তাঁকে সে নামেই ডাকব ।

আমরা টিভির পর্দায় যা দেখলাম, তার মোদ্দা কথাগুলো এই রকম । এই ঈশিতা দাস সান্যাল জানালেন, কোথাও ভূতের উপদ্রব হচ্ছে খবর পেলেই তিনি তাঁর ভূতান্বেষী বন্ধুদের নিয়ে সেখানে ছুটে যান এবং তাঁদের বিচিত্র সব যন্ত্রপাতি দিয়ে ভূত খুঁজে দেখেন । এ রকম দুটি ‘অভিজ্ঞতা’-র কথা তিনি ওই অনুষ্ঠানে বর্ণনা করলেন । প্রথমটি কার্শিয়াং-এর ‘ডাওহিল’ অঞ্চলের কথা, যেখানে রয়েছে ‘ডেথ রোড’ নামে একটি রাস্তা, যার নাকি ভূতের উপদ্রবের ব্যাপারে ভীষণই বদনাম । সেখানে নাকি তাঁরা তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্র এবং তাপমাত্রা মাপার বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি নিয়ে গেছিলেন, এবং সে সব যন্ত্রে অস্বাভাবিক ‘রিডিং’ পেয়েছেন, যা নাকি ভূতের অস্তিত্বেরই প্রবল ইঙ্গিত । ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড বা তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্র নাকি সেখানে অস্বাভাবিকরকম জোরালো, এবং তাপমাত্রা যা হওয়া উচিত তার চেয়ে বেশি । তাছাড়া, সেখানে আরও অনেক ‘অস্বাভাবিক’ ঘটনা ঘটে । যেমন, বারবারই তাঁরা গাড়ি থেকে নামলেই বৃষ্টি পড়তে থাকে এবং গাড়িতে উঠলেই থেমে যেতে থাকে, হঠাৎ করে তাঁদের ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়, আলো নিভে যায়, এবং তাঁর এক সঙ্গীর পিঠের ওপরে নখের জোরালো আঁচড় পড়ে রক্তপাত হয়ে যায়, গায়ে পোষাক পরা অবস্থাতেই ! আরেকটি ঘটনা ঘটে ইছাপুরের এক ‘প্রেত-উপদ্রুত’ ফ্ল্যাটবাড়িতে, যেখানে ওই আবাসনের জমিটির পুরোনো মালিক, যিনি কলহপ্রবণ ছিলেন এবং জলে ডুবে মারা যান, তাঁর ‘আত্মা’ নাকি এসে কলহ সৃষ্টি করতে থাকে আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে । তার ‘প্রমাণ’ হিসেবে অনুষ্ঠানে দেখানো হয় একটি ভিডিও, যেখানে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা বসে আছেন একটি ছোট্ট যন্ত্রের সামনে, যার মাধ্যমে তাঁরা নাকি আত্মাকে কিছু প্রশ্ন করছেন এবং উত্তর পাচ্ছেন (আমার মনে হল যন্ত্রটি একটি সাধারণ স্মার্টফোন মাত্র, যাতে বিশেষ একটি ‘অ্যাপ’-এর সাহায্যে প্রশ্নকর্তার কথাগুলোরই উদ্ভট প্রতিধ্বনি হয়, এবং তা বানানো মোটেই কঠিন নয়) । ঈশিতার বলা নিছক গল্পগুলো বাদ দিলে ‘প্রমাণ’ হিসেবে যে দুটো ভিডিও দেখান হল তার দুটোই সম্পূর্ণ অকাজের । কার্শিয়াং-এর রাস্তায় তাঁর সঙ্গীর পিঠের আঁচড় যখন দেখানো হল, তখন অন্ধকারের মধ্যে শুধু পিঠটাই দেখানো হল, কারুর মুখ দেখা গেল না, আহত হবার মুহূর্তটির কোনও বিস্তারিত বর্ণনাও স্বয়ং আহতের মুখ দিয়ে শোনানো হল না । ঘটনাটি যে ঠিক ওই অঞ্চলেই ঘটছে, সে ব্যাপারেও ভিডিও-তে কোনও ইঙ্গিত রাখা হল না (যেমন, ঘটনাটি ঘটবার মুহূর্তেই তাকে ক্যামেরা দিয়ে ফলো করা, বা, পিঠের ক্লোজ আপ দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা জুম আউট করে গোটা চিত্রটি তুলে ধরা বা ওই জাতীয় কিছু) । আর, ইছাপুরের ফ্ল্যাটের ঘটনায় শোনা গেল কিছু কষ্টশ্রাব্য উদ্ভট অবোধ্য প্রতিধ্বনি, যার আসলে কোনও মানেই হয়না । ‘ঘটনা’-র দশা যদি এই, তো তাহলে দেখা যাক ‘যন্ত্রপাতি’-গুলোর দশাটা ঠিক কেমন ।

কী কী বৈদ্যুতিন যন্ত্র ঈশিতা দেখিয়েছেন, সে দিকে একটু তাকানো যাক । প্রথমত, একটি যন্ত্র যা দিয়ে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড বা তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্র-র প্রাবল্য মাপা যায় (‘ই এম এফ মিটার’) । এ দিয়ে আসলে দেখা হয় মূলত কোনও বৈদ্যুতিক যন্ত্রের কাছাকাছি অঞ্চলের বিকিরণ (বেতার তরঙ্গের বিকিরণ), যাতে বোঝা যায় যন্ত্রটি ঠিকঠাক চলছে কিনা । আমাদের বাড়িতে সব সময়ই নানা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চলে, কাজেই সেখানে ওই মিটার নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরঘুর করলে নানা রকম ‘রিডিং’ আসবে, সেটাই স্বাভাবিক । রাস্তাতেও ইলেক্ট্রিকের লাইন বা ওই ধরনের জিনিসের ধারকাছ দিয়ে গেলে মিটারের রিডিং বেড়ে যাবে, তার সঙ্গে ভূতের মোটেই সম্পর্ক নেই । দ্বিতীয়ত, তাপমাত্রা মাপার গোটা দুই যন্ত্র । এক্ষেত্রেও, বনে-জঙ্গলে বা বাড়িতে যেখানেই থাকুন না কেন, বাড়ির বিশেষ গঠন, জানলা-দরজা-গাছপালা থেকে দূরত্ব, ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনার বা অন্যান্য যন্ত্রপাতির দুরত্ব, ঠিক কোন দিক থেকে রোদ কীভাবে এসে পড়ছে বা হাওয়া বইছে তার খুঁটিনাটি, এইসবের ওপর নির্ভর করে তাপমাত্রা ওঠানামা করতেই পারে, তাতেও ভুত বেচারার দোষ নেই । তৃতীয়ত, একটি লেজার ও একটি ইনফ্রা-রেড ‘প্রক্সিমিটি ডিটেক্টর’, যা যথাক্রমে লেজার ও ইনফ্রা-রেড রশ্মি বিকিরণ করে এবং সামনে কিছু থাকলে সে রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে যন্ত্রে ফিরে গিয়ে কাছাকাছি থাকা কোনও কিছুর অস্তিত্বের সংকেত দেয়, দূরত্বও জানিয়ে দেয় (মনে রাখবেন, কঠিন বস্তুর অস্তিত্ব, ভূতের নয় মোটেই)। চারপাশের বাধা এড়িয়ে ধাক্কা না খেয়ে নিজে নিজেই চলাফেরা করতে পারে এমন স্বয়ংক্রিয় রোবট-এ প্রায়শই এ ধরনের ‘সেন্সর’ ব্যবহার করা হয়, তবে কিনা, তারা ভূত দেখতে পায় এমন দাবি রোবট বিশেষজ্ঞরা আজ পর্যন্ত করেননি । আর তবে যন্ত্র বলতে বাকি রইল সেই প্রতিধ্বনি-অ্যাপওয়ালা প্ল্যাঞ্চেট-প্রবণ অত্যাশ্চর্য স্মার্টফোন, যাতে বিনোদন বলতে উদ্ভট প্রতিধ্বনি, আর ‘প্রমাণ’ বলতে লবডঙ্কা ! ভূতুড়ে বাণী যদি শোনাতেই হয়, তো তার মধ্যে বেচারা প্রশ্নকর্তার কথার বিকৃত প্রতিধ্বনি ঢোকালে তাতে যে কী ছাই সুবিধে হয়, সে বোধহয় শুধু ভূতপ্রেমীই জানে !

কিন্তু, ভূতাকাঙ্খীদের আসল গণ্ডগোল ভূতুড়ে আঁচড় বা আগড়ম বাগড়ম যন্ত্রপাতিতে নেই, আছে তাঁদের কথাবার্তার মধ্যে, ভূতুড়ে কর্মকাণ্ডের ‘বৈজ্ঞানিক’ ব্যাখ্যার মধ্যে । এঁরা ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড’, ‘এনার্জি’, এইসব কথা এমন অনায়াসে এবং এমন নিপাট অর্থহীনতার সঙ্গে বলতে পারেন, যেগুলো শুনলেই বোঝা যায়, এগুলো খায় না মাথায় মাখে সে ব্যাপারে তাঁরা বিন্দুবিসর্গও জানেন না । ঈশিতার বক্তব্য, আমাদের শরীর মন ও তার কাজকর্মের মধ্যে যেহেতু প্রচুর ‘এনার্জি’ থাকে, এবং ‘এনার্জি’ যেহেতু সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, অতএব আমরা মরে গেলেই নাকি সেই এনার্জি ধ্বংস না হয়ে ভূত হয়ে যায়, এবং পিঠে আঁচড় দেওয়া থেকে শুরু করে অন্য নানা বিচিত্র বেয়াদবি করে ভদ্রলোকেদের কাজকর্মে অত্যন্ত অসুবিধের সৃষ্টি করে । আচ্ছা, তাই নাকি ? কিন্তু, তাহলে কয়েকটা সহজ সরল প্রশ্নের উত্তর দিন দেখি ! সকালবেলা গাড়ির ট্যাঙ্কে তেল ভর্তি করে বেরিয়ে সারাদিন ঘোরাঘুরির পর দিনের শেষে যখন তেল পুড়ে শেষ হয়ে গিয়ে আবার পেট্রোল পাম্পে হাজির হতে হয়, তখন আগের তেলটা কি মোটরগাড়ি-দেহ থেকে বেরিয়ে ‘তেলভূত’ হয়ে ঘুরে বেড়ায় ? টর্চের ব্যাটারি পুড়ে শেষ হয়ে যাওয়ার পর তার ভেতরকার শক্তি বুঝি ‘ব্যাটারিভূত’ হয়ে নিশুতি রাতে আপনার ছাদে হাঁটাহাঁটি করে ? কালীপুজোয় পুড়ে যাওয়া লাখো লাখো বাজি কি তবে সবই ‘ফুলঝুরি ভূত’ আর ‘চকলেট বোমা ভূত’ হয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কর্তাদের মাথায় গিয়ে চাপে ? নাঃ, এ যে অবাস্তব সে কথা বোধহয় সকলেই বুঝবেন ।

ভূতুড়েবিজ্ঞানীদের কথায় গণ্ডগোলটা ঠিক কোথায় ? ‘এনার্জি’ যে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, এ তো বিজ্ঞানেরই কথা, একে তো আর অস্বীকার করা যায় না । ভুলটা তবে কোথায় হচ্ছে ? ভুলটা হচ্ছে ‘প্রসেস’ আর ‘ফাংশন’ জাতীয় ধারণার সাথে ‘সাবস্টেন্স’ আর ‘কোয়ান্টিটি’ জাতীয় ধারণাকে গুলিয়ে দেওয়ার মধ্যে । উদাহরণ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা যাক । একটা মোটরগাড়ি ও তার তেলটা হচ্ছে ‘সাবস্টেন্স’ বা বস্তু, তেলের ভেতরে আছে শক্তি নামক একটি বস্তুধর্ম বা ‘কোয়ান্টিটি’ যাকে আমরা বস্তুর কর্মক্ষমতা হিসেবে মাপতে পারি, মোটরগাড়ির ভেতরে বিশেষ ব্যবস্থায় তেলটা ক্রমাগত পুড়ে পুড়ে শক্তি সরবরাহ করে যেভাবে ইঞ্জিনটাকে চালু রাখছে সেটা হচ্ছে ‘প্রসেস’ বা প্রক্রিয়া, আর এই প্রক্রিয়ায় মোটরগাড়িটি যে আমাদেরকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অনায়াসে বয়ে নিয়ে যেতে পারছে সেটা হচ্ছে তার ‘ফাংশন’ বা ক্রিয়া । ঠিক তেমনিই, আমাদের দেহ ও খাবারদাবার হচ্ছে ‘সাবস্টেন্স’ বা বস্তু, খাবারের ভেতরে নিহিত আছে শক্তি নামক একটি বস্তুধর্ম বা ‘কোয়ান্টিটি’, আমাদের দেহের ভেতরে বিশেষ ব্যবস্থায় খাবারটা ক্রমাগত হজম হয়ে শক্তি সরবরাহ করে যেভাবে শরীর ও তার কাজকর্মকে চালু রাখছে সেটা হচ্ছে ‘প্রসেস’ বা প্রক্রিয়া, আর এই প্রক্রিয়ায় আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক যেভাবে এক অসাধারণ ছন্দে আমাদেরকে অনায়াসে বাঁচিয়ে রাখতে পারছে সেটা হচ্ছে তার ‘ফাংশন’ বা ক্রিয়া । আমাদের আহার-নিদ্রা-মৈথুন-চিন্তা-ভালবাসা-ক্রোধ-ঘৃণা সবই এই ‘ফাংশন’ । জটিলতা ও সূক্ষ্মতায় অবশ্যই আমাদের সাথে মোটরগাড়ির কোনও তুলনা হয়না, কিন্তু তা সত্ত্বেও দুয়ের মধ্যে এই মিলগুলো ভীষণ মৌলিক ও বাস্তব । কাজেই, এখন নিশ্চয়ই পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে, ‘প্রসেস’ এবং ‘ফাংশন’ চালু রাখার জন্য ‘এনার্জি’ বা শক্তি অপরিহার্য, কিন্তু দুটো জিনিস মোটেই এক নয় । আমাদের শ্বাসনালী রুদ্ধ হয়ে গেলে, বা মোটরগাড়ির ইঞ্জিনে তেল আসবার নলটি বন্ধ হয়ে গেলে, দেহ বা গাড়ির পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটতে পারে, ভেতরে খাদ্য বা তেল রূপে শক্তিভাণ্ডার সম্পূর্ণ অটুট থাকলেও । আবার উল্টোদিকে, সে ভাণ্ডার শেষ হয়ে গেলেও ভেতরের ব্যবস্থাটি অটুট থাকলে ‘প্রসেস’ এবং ‘ফাংশন’ আবারও চালু করে দেওয়া যায়, খাদ্য বা তেল পেটে পুরলেই । এই কথাগুলো মাথায় রাখলে কেউ আর নিশ্চয়ই এমনটা বলবেন না যে, আমরা (বা মোটরগাড়ি) শেষ হয়ে গেলে আমাদের (বা মোটরগাড়ির) ‘এনার্জি’ বেরিয়ে গিয়ে ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায়, বা ভূতবিজ্ঞানীর পিঠ চুলকোয় ।

তাছাড়া, ‘থার্মোডিনামিক্স’ বা তাপগতিবিদ্যার আরও একটি নিয়ম বা প্রাকৃতিক সত্য এ প্রসঙ্গে স্মর্তব্য । এ বিদ্যার অনেকগুলো নিয়ম আছে, তার মধ্যে দ্বিতীয় নিয়মটি হল, শক্তিকে একবার কাজে লাগিয়ে নিলে সে ধ্বংস না হলেও আর কর্মক্ষম অবস্থায় থাকে না, তাপ হিসেবে বস্তুর মধ্যেকার এক রকমের বিশৃঙ্খলা হয়ে থেকে যায়, তখন আর তাকে মোটেই কাজে লাগানো যায় না, ভূতুড়ে বাড়ির অন্ধকার ছাদে হাঁটাহাঁটি করে নিরীহ গেরস্তের কাজ বাড়ানোর তো প্রশ্নই ওঠে না । এ যদি না হত, তাহলে আর বারবার আমাদের তেল কয়লা পোড়াতে হত না, একই জ্বালানিতে চিরকাল কাজ চলত ।

আসলে, ভূত বা 'আত্মা'-র ধারণাটি হল 'প্রসেস' বা ‘ফাংশন’-কে 'সাবস্টেন্স' বা বস্তু বলে ভুল করবার একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত । জীবিতের তুলনায় সদ্যমৃত মানুষের (বা অন্য প্রাণির) দৈহিক তফাৎ কিছুই বোঝা যায় না, অথচ সে আর সাড়া দেবে না, কথা বলবে না, ভালবাসবে না, এমনকি রাগও করবে না । তাহলে নিশ্চয়ই কোনও এক রহস্যময় সূক্ষ্ম বস্তু আছে, যার নাম দেওয়া যাক 'আত্মা' --- দেহের মধ্যে তার থাকা বা না থাকাটাই তবে তফাৎ গড়ে দিচ্ছে ! আধুনিক মানুষ জানে যে বাইরে থেকে দেখতে এক হলেও আসলে জীবিত ও মৃত দেহের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ, এবং ওই দৈহিক তফাতটাই হল প্রাণ-মন থাকা বা না থাকারও কারণ । দেহ পচতে শুরু না করলে তফাত বোঝা যায় না, মনে হয় মানুষটা বুঝি ঘুমিয়ে আছে, এখুনি জেগে উঠতেও পারে, কিন্তু আসলে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বিপাকীয় ক্রিয়া থেমে যায়, কোষগুলো মরে যেতে থাকে, রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় । অথচ, আদিম মানুষের পক্ষে তা বোঝা অসম্ভব ছিল । তারা না জানত শব-ব্যবচ্ছেদবিদ্যা, না বুঝত আধুনিক শারীরবিদ্যা ও কোষতত্ত্ব, না ছিল তাদের হাতে মাইক্রোস্কোপ । তারা তাই বুঝতে পারে নি যে, প্রাণ-মন হল আসলে 'দেহ' নামক এক মহা জটিল বস্তু-সমবায়ের 'ফাংশন' বা ক্রিয়া --- জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার পারিপার্শ্বিকের সাথে বিভিন্ন স্তরে অবিরাম চলতে থাকা এক আশ্চর্য মিথষ্ক্রিয়া । এই অতি গভীর ও সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াকেই প্রাচীন মানুষ দেখেছিল এক সূক্ষ্ম বস্তু রূপে । এমন নয় যে তারা আমাদের চেয়ে বোকা ছিল । তারা জানত, ভেতরে ঢুকে থাকা বস্তু অন্য বস্তুর ধর্মকে পালটে দিতে পারে । কলসীর ভেতরে জল ঢাললে তার ওজন বেড়ে যায়, আবার তা বার করে নিলে সে ওজন কমেও যায় । জলের মধ্যে নুন বা চিনি মেশালে স্বাদ নোনতা বা মিষ্টি হয়ে যায়, আবার নানা প্রক্রিয়ায় আলাদা করে নিলে সে স্বাদ চলেও যায় । কাজেই, 'আত্মা' নামক সূক্ষ্ম বস্তু ঢুকে পড়ে দেহে প্রাণ-মন সঞ্চার করবে আর বেরিয়ে গিয়ে তাকে মড়া বানিয়ে দেবে, এ চিন্তা তাদের কাছে খুব বেশি অসম্ভব বলে মনে হয় নি । প্রাচীন মানুষের ক্ষেত্রে এইসব ভুল দোষের ছিল না, বরঞ্চ এগুলো তাদের চিন্তাশীলতা, অনুসন্ধিৎসা ও কল্পনাশক্তিরই প্রমাণ ।

কিন্তু, আজকের দিনেও যারা এই প্রাচীন ভুল কাজে লাগিয়ে লোক ঠকায়, টেলিভিশনের মত আধুনিক বিজ্ঞাননির্ভর প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কুসংস্কার প্রচারের গণ-আয়োজন করে, তারা কেমন লোক ?

আঙুলটা তাই উঠুক এদের বিরুদ্ধেই ।


6974 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 130 -- 149
Avatar: Atoz

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

এতদিন আমিও বুঝিনি ওই বৃদ্ধার অবিশ্বাসের কারণটা ঠিক কোন্‌খানে। এতদিনে বুঝলাম। ঃ-)
Avatar: sm

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

মনের জানালা খোলা থাকা জরূরী আবার কোন জিনিষ কে নিয়ে জিজ্ঞাসা জারী থাকবে,সেটাও জরুরী।অনেকটা কাঁটা বেছে খাওয়া র মতন। ইওরোপীয় হুইচ নিয়ে আজ কেউ আগ্রহী নয়।কারণ আধুনিক বিজ্ঞান এটাকে কল্পনা বলে মেনে নিয়েছে।
ভূত ও দ্রুত আসন হারাচ্ছে।ভগবান ও সেই পথে গমন করছে।
কিন্তু জিজ্ঞাসা টা তো জারী রাখা জরুরী।
কাজু ও একই কথা বলতে চেয়েছিলেন।কিন্তু সকলে মিলে খিল্লী শুরু করলেন।
আঁচড়ের কথায় বড় এস লিখলেন।ঘুমের ঘোরে নিজের নখের আঘাত এর কথা।
কিন্তু নিজের নখ দিয়ে তো নিজের পিঠ আঁচড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
আমি একটি রোগের উল্লেখ করলাম।যেখানে পিঠে কেউ শার্প অবজেক্ট দিয়ে স্ট্রোক করলে অনুরূপ আঁচড়ের দাগ তৈরী করা যায়।
এই টুকরো টাকরা ব্যাখ্যা গুলো যুক্তি গ্রাহ্য হতে থাকলেই ভূত বা কু সংস্কার নিয়ে জনতা আগ্রহ হারাবে।
দাবিয়ে দিলে বা উহা জিজ্ঞাসার বিষয় নয় বললেই,কাউন্টার প্রোডাকটিভ হয়ে যায়। টি আর পি বাড়তে থাকে।
হিতে বিপরীত হয়।

Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

জীবদেহে যদি শৃঙ্খলা ও জটিলতা থাকে, এবং আমি যদি তার কারণ না জানি, তো তার মানে শুধু এটুকুই দাঁড়ায় যে ওটা আছে এবং আমি তার কারণ জানিনা, এর মধ্যে আবার ভগবান আসে কীভাবে ? এ যুক্তির কাঠামোটা হচ্ছে --- 'ক' কী করে হল তা জানি না, অতএব 'খ' সত্যি --- এটা ননসেন্স আর্গুমেন্ট । এ হল আসলে নিজের অজ্ঞতাকে চালাকি করে জ্ঞান বলে হাজির করার চেষ্টা ।

বাস্তব জীবনে এ রকম যুক্তিকে মানলে তার ফল দাঁড়াবে মারাত্মক । যেমন ধরুন, যদি বলি, "আমার বগলে কীভাবে টসটসে ফোঁড়া হল জানি না, অতএব আমি আপনার থেকে লাখ খানেক টাকা পাই" --- তাহলে আপনি তৎক্ষণাৎ অধোবদনে আমাকে একলাখ টাকা দিতে বাধ্য থাকবেন ।

তার ওপর, যদি কোনওমতে মেনেও নিই যে জীবদেহের সূক্ষ্মতা ব্যাখ্যা করার জন্য ভগবানকে টানতেই হবে, তাতেও আখেরে মোটেই লাভ হচ্ছে না । যখনই ওই ধরনের ফেনোমেনন ব্যাখ্যা করার জন্য কোনও সচেতন সত্তাকে টানছেন, তখনই আসলে আপনি ঠারেঠোরে মানছেন যে, কেউ সচেতনভাবে না বানালে ওটা নিজে থেকে কিছুতেই ঘটতে পারত না (এ রকম আর্গুমেন্ট এ থ্রেডেও এসেছে, না এসে উপায় নেই) । বেশ, ভাল কথা । কিন্তু গণ্ডগোলটা হচ্ছে গিয়ে, ওর পরেই প্রশ্ন আসবে, তাহলে, ঈশ্বরও তো এক বিরাট সচেতন বুদ্ধিমান সত্তা, কেউ না বানালে তিনিই বা এলেন কোত্থেকে ! এইবার ঈশ্বরকে ব্যাখ্যা করার জন্য একজন অধি-ঈশ্বর লাগবে, এবং তাঁর সম্পর্কেও একই প্রশ্ন উঠবে, সে প্রশ্নকে মোকাবিলা করার জন্য অধি-অধি-ঈশ্বরকে ডাকতে হবে, তিনিও প্রশ্ন থেকে ছাড় পাবেন না ............. এভাবেই চলতে থাকবে অনন্তকাল, সমস্যার সমাধান হবে না । এই পরিস্থিতিকে যুক্তিশাস্ত্রে বলে 'ইনফাইনাইট রিগ্রেস' ।

আর যদি বলেন ঈশ্বরকে সৃষ্টি করতে হয় না কারণ তিনি স্বয়ম্ভূ, তাহলে প্রশ্ন উঠবে, 'স্বয়ম্ভূ' কিছু থাকতে পারে বলে যদি মানতেই হয় তো এই জীবশুদ্ধু জড়জগতটাকে স্বয়ম্ভূ ভাবলেই হয়, ভগবান ভদ্দরলোককে আর কষ্ট দেওয়া কেন ?

আর সবশেষে, এত কিছু ঘাপলাও যদি মানতে প্রস্তুত থাকেন, তাতেও আখেরে লাভ নেই । ঈশ্বর তো এক অজানা বস্তু (বা সত্তা) যা দিয়ে আপনি জগতকে (বা তার অংশবিশেষ জীবকে) ব্যাখ্যা করছেন । কিন্তু, তাতে আদৌ জ্ঞানবৃদ্ধি হচ্ছে কি ?

ধরুন আপনি জীবনে প্রথম বাঘ দেখলেন । আপনি নিশ্চয়ই এবার তাকে 'বন্যজন্তু', 'চারপেয়ে', 'হিংস্র', 'মাংসাশী' ইত্যাদি জানাচেনা ধারণার সঙ্গে জুড়ে আমাদের জানা জগতের কোথাও একটা স্থান করে দিতে চাইবেন, আপনার পূর্ব ধারণার সাপেক্ষে তাকে বুঝতে চাইবেন, ইতিমধ্যে যা যা জানা আছে তার সঙ্গে তাকে যুক্ত করে বুঝতে চাইবেন । অজানা জিনিসকে আমরা এভাবেই জানি বুঝি, না হলে 'জানা' ব্যাপারটার কোনও মানেই থাকেনা ।

এবারে ভেবে দেখুন, জীবদেহ সৃষ্টির অজানা কারণকে আপনি যদি অজানা ইশ্বর দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, তাহলে আপনি অজানা জিনিসকে অজানা জিনিসের সঙ্গে যুক্ত করে ফেললেন, তাতে আপনার মনে ভুয়ো জ্ঞানের তৃপ্তিটা ঠিকই এল, কিন্তু প্রকৃত অর্থে জ্ঞানবৃদ্ধিটা মোটেই হল না ।

অর্থাৎ, ভগবান মহাশয় আপনার এই জগতটাকে বুঝতে আপনাকে মোটেই সাহায্য করতে পারছেন না ।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

এবং, কে না জানে, ভুত হল ছিঁচকে ভগবান, আর ভগবান হল গিয়ে খানদানি ভূত ।
Avatar: sm

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

এটাই বোঝার ভুল।ঈশ্বর এর স্বরূপ বোঝার চেষ্টা হচ্ছে।কেন এমন সত্ত্বার কথা জনতা তৈরী করলো?
ইউনিভার্স কেন এতো রিদমিক,ছন্দোবদ্ধ,ইউনিক?
কেন সূত্র মেনে চলার চেষ্টা করে?
এটাই জিজ্ঞাসা।এটার উত্তর বিজ্ঞান কে এগিয়ে নিয়ে যায়।
বিগ ব্যাং সবাই জানে?কিন্তু বিগ ব্যাং এর আগের অবস্থা কেমন ছিল?
ইউনিভার্স এর শুরু ও শেষ কেমন করে হচ্ছে?
ইউনিভার্স কি একটাই?
বিজ্ঞানীরা বলছেন,এ যেন সমুদ্রে বুদ্বুদ ফাটছে!
প্রতিটি বুদ্বুদ এক একটি ইউনিভার্স।
দেখুন তো ঈশ্বর কে কে সৃষ্টি করলো,এমন ধাঁধার মতন লাগছে কি না?
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

ওইসব প্রশ্ন করুন না যত খুশি, তাতে সমস্যা নেই । কিন্তু, ইউনিভার্স একটা না দুটো জানিনা, অতএব ভূতে এসে পিঠে আঁচড় কাটছে, এইসব ভুলভাল বকলেই মুশকিল ।
Avatar: sm

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

আমি তো একটা রোগের কথা (dermatographia)দিয়ে কিছুটা ব্যাখ্যা দিলাম।এটা যদি যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয় তো,,সাধারণ জনতার সংশয় একটু কাটতে পারে।অর্থাৎ ভূতের ওপর থেকে বিশ্বাস একটু একটু করে কমতে থাকবে।
ওই লিমিট টেন্ডস টু বা ক্যালকুলাস এর মতন ব্যাপার আর কি!ধীরে ধীরে ভূতের ওপর অবিশ্বাস টাই বিশ্বাসে দাঁড়াবে।
ভূতের জায়গায় ঈশ্বর ও বসাতে পারেন।
এভাবেই বিজ্ঞান এগোয়।গোলটা কোথায়?
দুম করে উহা হয় ই না,বা আলোচনার যোগ্য নয়, বলে দিলে সাধারণ জনতার কৌতূহল আরো বেড়ে যায়।

Avatar: দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

না, ওটা সম্ভবত ডার্মাটোগ্রাফিয়া নয়, আমার ধারণা গোটা ভিডিওটিই জোচ্চুরি করে বানানো । আদৌ যে ওইখানে কারুর ওই রকম কিছু হয়েছিল, এই ব্যাপারটাই ওখানে এস্টাব্লিশ্‌ড্‌ হয়নি । সেটা এস্টাব্লিশ্‌ড্‌ হলে তবে তো 'ডার্মাটোগ্রাফিয়া' বা ওই গোছের কিছু কিনা সে প্রশ্ন আসবে । একজনের পিঠটুকু শুধু ফোকাস করে অন্ধকারের মধ্যে কয়েকটি দাগ দেখালে কিছুই প্রমাণ হয় না ।

কোনটা অর্থপূর্ণ প্রশ্ন, সে নিয়ে ইতিমধ্যেই অসাধারণ গবেষণার অস্তিত্ব আছে । সে সব যে সবাইকে জানতেই হবে, এমনটা হয়ত নয় । তবু, একটু জেনে রাখলে সময় নষ্ট ও বিপত্তির হাত থেকে অনেকটা বাঁচা যায় ।
Avatar: ন্যাড়া

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

আজকে দাদাগিরির ওই এপিসোড খাপচাখাপচা দেখলাম। বুজরুকির দুর্গন্ধ খুবই প্রকট।
Avatar: খ্যাঁচানো পাবলিক

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

'দাদাগিরি'-তে কারুকেই এতক্ষণ কথা বলতে দেওয়া হয়না, যা এ ক্ষেত্রে হল । ডিজাইন খুব পরিষ্কার ।
Avatar: S

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

দাদা এখন বিজেপিতে না?
Avatar: রঞ্জন

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি


ঈশ্বর আছে কি নেই নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই দরকার আমরা কে কীভাবে ঈশ্বরকে ডিফাইন করছি, অর্থাৎ ঈশ্বর বলতে আমরা কী বুঝছি।
যদি আমি যা বুঝছি বা ভাবছি আর ন্যাড়াবাবু অন্য কিছু ভাবছেন বা একক আরেকরকম ভাবছে তাহলে মিনিময় হতে পারে না ।
ধরুন ন্যায় দর্শনের ঈশ্বর অণু-পরমাণু বা আকাশ সৃষ্টি করেননি , ওগুলো আগে থেকেই আছে । ভদ্রলোক শুধু সেগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে আর্কিটেক্টের মত বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছেন।
কিন্তু বেদান্ত মতে জগত সৃষ্টি কথাটাই অর্থহীন। ওটা হ্যালুসিনেশন। ওর অস্তিত্ব দড়িতে সাপ দেখার মত , যে দেখছে তার আবিল চেতনায় সৃষ্ট হচ্ছে। ওই ভূত দেখার মতন। তা এদের মধ্যে মিনিময় হবে কি করে ?
তাই আগে দরকার এটা ঠিক করা যে আমরা কোন ঈশ্বরের কথা বলছি-- বিশ্বের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর? ন্যায়ের বিধান দেওয়া পাপপুণ্যের বিচার করে দণ্ড এবং প্রাইজ দেওয়া ঈশ্বর? নাকি এক অনিবার্য নেসাসিটি যা নাহলে এইসবকিছুর কোন মানে বের করাই মুশকিল?

ন্যাড়াবাবু এবং এককএর কথা -- ঈশ্বর এক কলেক্টিভ মিথ-- তাই এ আছে কি নেই নিয়ে কথা বলার চাইতেও জরুরি এই মিথের সামাজিক আধার এবং তার অস্তিত্ব বিলোপ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ ভাবা--- এড়িয়ে যাওয়া যায় না ।
কিন্তু সিরিয়াস আস্তিক বা ঈশ্বরের অস্তিত্বে আস্থাবান জনতা
এবং প্রতারকদের মধ্যে ফারাক করা জরুরি।
প্রতারক মানে যে ভূত বা ভগবান বলতে যা বলছে নিজেই কাজকম্মে তার খন্ডন করছে বা জানে যে গুল মারছে।
যেমন আমি যদি শিশিতে করে মন্ত্রপড়া জল নিয়ে বলি যে এতে অসুখ সেরে যাবে , অথচ নিজের জ্বরজারি হলে ডাক্তারের কাছে দৌড়ই।
[ ইদানীং রামবাবার শিষয় এবং বিজনেস পার্টনার আচার্য বালকৃষ্ণ হার্টের প্রবলেম হতেই এইমস এ ভর্তি হলেন। চাইবো উনি সুস্থ হন , কিন্তু লোকজনকে আনটেস্টেড আন সার্টিফায়েড অষূধ দেওয়া বন্ধ করুন।]

ষাটের দশকের শেষের দিকে করঞ্জিয়ার ব্লিটজ পত্রিকায় ছবি শুদ্ধ একটা খবর বেরিয়েছিল। এক বাবাজী রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণের থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে সার্টিফিকেট আদায় করেছেন। তিনি নাকি জলের উপর দিয়ে হাঁটতে পারেন। শেষে সবার সামনে পুকুরের উপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে ডুবে গেলেন , টেনে তোলা হোল!
Avatar: aranya

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

ভুত কি শুধুই কুসংস্কার, প্রতারণা, ভুত মানে তো রোমাঞ্চ-ও।
রোমান্স-ও আছে - তারানাথ তান্ত্রিক ও মধুসুন্দরী দেবী। ভুতের গল্পের যে বিপুল সম্ভার - ড্রাকুলা বা বাংলায় বিশালগড়ের দুঃশাসন - একটু আধটু ভুতে বিশ্বাস না থাকলে কি আর এসব বই সেভাবে উপভোগ করা যায়..

কেঠো বিজ্ঞানের দোহাই পেড়ে আপনারা সবই তুড়ি মেড়ে উড়িয়ে দিচ্চেন, খুউব দুঃখ হয়
Avatar: S

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

ভূতের গল্প পড়া, সিনেমা দেখার সেই মুহুর্তে ভূতে বিশ্বাস তো করতেই হয়, নইলে রোমাঞ্চ আসবে কোত্থেকে?
Avatar: aranya

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

সেই।
জোকস অ্যাসাইড, দেবাশীস-রা নিঃসন্দেহে ভাল কাজ করছেন। এখনও ডাইনি সন্দেহে একঘরে করা, মারধর, মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটে গ্রামের দিকে, আদিবাসী অঞ্চলে। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার জরুরী।
Avatar: রঞ্জন

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

অরণ্যের সাথে একমত। ছত্তিশগড় এবং --।
Avatar: Atoz

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

দাদা এক্কেরে ছক্কা হাঁকাইছে। লোকের মুখে দাদাগিরি ছাড়া আর কথা নাই। ফেসবুক ভাইস্যা যায়। ঃ-)
Avatar: Atoz

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

আচ্ছা, ওই প্রবীরবাবুর কী হল তারপর? উনি এখন কোথায়? জেলে?
Avatar: কৌশিক সাহা

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

ভূত কিনিতে এসেছি ভাই
ভূত কিনিতে এসেছি
ভূতের তেলে ওষুধ হবে,
স্বপ্নে আদেশ পেয়েছে

তেল তৈরী হবে, TRP হুহু করে ঊর্ধগামী হবে, সেটাই মোদ্দা।
James Clarke Maxwell আবার কেডা, Sadi Carnot বা কে? ছিল নাকি কেউ?
Avatar: কৌশিক সাহা

Re: ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি

ভূত কিনিতে এসেছি ভাই
ভূত কিনিতে এসেছি
ভূতের তেলে ওষুধ হবে,
স্বপ্নে আদেশ পেয়েছে

তেল তৈরী হবে, TRP হুহু করে ঊর্ধগামী হবে, সেটাই মোদ্দা।
James Clarke Maxwell আবার কেডা, Sadi Carnot বা কে? ছিল নাকি কেউ?

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 130 -- 149


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন