Abhijit Majumder RSS feed
Abhijit Majumder খেরোর খাতা

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...
  • হ্যামলিনের বাঁশিওলা
    হ্যামলিনের বাঁশিওলার গল্পটা জানিস তো? একটা শহরে খুব ইঁদুরের উপদ্রব হয়েছিল। ইঁদুরের জ্বালায় শহরের লোকের ত্রাহি ত্রাহি রব। কিছুতেই ইঁদুর তাড়ান যাচ্ছেনা। এমন সময়ে হ্যামলিন শহর থেকে একজন বাঁশিওলা বাঁশি নিয়ে এল। শহরের মেয়রকে বলল যে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পেলে সে ...
  • প্রেমের জীবন চক্র অথবা প্রেমিক-প্রেমিকার
    "তোমার মিলনে বুঝি গো জীবন, বিরহে মরণ"।প্রেমের চরম স্টেজটা পার করতে গিয়ে এই রকম একটা অনুভূতি আসে। একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচে না। এই স্টেজটা যদি কোনভাবে খারাপের দিকে যায় তখন মানুষের নানা পাগলামি লক্ষ্য করা যায়। কখনো কখনো পাগলামিটা তার গন্ডি ছাড়িয়ে ছাগলামিতে ...
  • সত্যিটা
    প্রায়-শূন্য করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তমালী। করিডোরের প্রান্তে হেডমিস্ট্রেসের ঘর। সেখানে মিটিং আছে। ক’দিন ধরে স্কুলে তোলপাড় চলছে। গুরুতর অভিযোগ। আজ সেই নিয়ে মিটিং। হেডমিস্ট্রেস ছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির দু-একজন এসেছেন দেখেছে। আর আসার কথা অবন্তীর বাবা-মা’র। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২

Abhijit Majumder

মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২

চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে।
দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ শুধুমাত্র আমার পঞ্চস্বামীর বিরূদ্ধে।
চিত্রগুপ্ত: হ্যাঁ কৃষ্ণা, তোমায় দ্যূতক্রীড়ার পণ রাখা ওদের উচিৎ কার্য হয় নি।
দ্রৌপদী: সে অভিযোগ থেকে তো আমি ওদের কবেই মুক্তি দিয়েছি। সেই দিন মনে রাখলে আমাকে পুনরায় অগ্নিতে প্রবেশ করতে হত।
চিত্রগুপ্ত: তবে?
দ্রৌপদী (কাঠগড়ায় দন্ডায়মান পঞ্চস্বামীর প্রতি একবার অপাঙ্গে দৃষ্টিনিক্ষেপ করে): আপনি তো সর্বজ্ঞ রাজন। আপনার স্মৃতি কিছুই ভোলে না। তবুও এই সভাকে একবার স্মরণ করিয়ে দিই সেই প্রভাতের কথা। তখন আমাদের অজ্ঞাতবাস পূর্ণ হয়েছে। ইন্দ্রপ্রস্থের ওপর কুন্তীপুত্র যুধিষ্টিরের দাবী অগ্রাহ্য করেছে দুর্যোধন। এই প্রভাত সেই সময়ের। আমি তখন দর্পণের সামনে বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন। এমন সময় কক্ষে প্রবেশ করলেন এঁরা। আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন এই পাঁচজন। ভালো করে দেখুন রাজন। একজন নন, দুজন নন, পাঁচ পাঁচ জন। যে পাঁচজনের ওপর ছিল আমাকে রক্ষার ভার। ভারতবর্ষের সম্মানরক্ষার ভার। আমার সেই পঞ্চস্বামী এসে দাঁড়ালেন আমার সামনে। আমি আশাভরা চোখ নিয়ে তাকালাম। এবার, অন্তত এবার আমি ন্যায় পাবো। আর এঁরা কি বললেন আমাকে? বললেন বহু জল্পনা, বহু আলোচনার পর ওঁরা একমত হয়েছেন যে আমার প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবিধান হল পাঁচটি গ্রাম। আমার হাসি পাচ্ছে রাজন। আমার প্রগলভতা ক্ষমা করবেন। পাঁচটি গ্রাম? আমার আলুলায়িত কেশের মূল্য পাঁচটি গ্রাম? আমি আরও আশ্চর্য হলাম এঁদের ঐক্যমত্য দেখে। জ্যেষ্ঠ পান্ডুপুত্রের কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা বিশেষ ছিল না। কিন্তু ভীম, অর্জুন, তোমরাও?
যুধিষ্ঠির: কিন্তু মহাকাল তো তোমাকে তোমার ন্যায়বিচার দিয়েছে পাঞ্চালী। সুযোধন তো তার পাপের শাস্তি পেয়েছে। আর কেন?
দ্রৌপদী: তাই তো তার বিরূদ্ধে আমার আজ আর কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু আপনারা? কোথায় বিচার হবে আপনাদের পাঁচজনের যাঁরা ধর্মরক্ষার জন্য জগদ্বিখ্যাত?আপনাদের বিচার কোথায় হবে, হে ধর্ম-অবতার?

112 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন