Saikat Bandyopadhyay RSS feed

Saikat Bandyopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

Saikat Bandyopadhyay

অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে। এই ঘটনা সত্যিই ঘটেছে, এক বর্ণ বানানো না। যে কেউ চেক করে আসতে পারেন। এক কবি কদিন আগে আমার কানে-কানে মানে ফোনে-ফোনে বলেছিলেন, সন্দীপনের পরেই তুমি। ভেবেছিলাম তিনি নির্ঘাত ইয়ার্কি করেছিলেন। কিন্তু আজ কাত্তিকের ফেবু খুলে দেখি কবি সত্যদ্রষ্টা, সত্যিই কপাল খুলেছে। সেই বিদগ্ধ সমালোচক এবার সন্দীপন ছেড়ে আমার পিছনে পড়েছেন। সন্দীপনের মলেস্টেশন ইত্যাদি আবিষ্কার শেষ করে এবার আমার সম্পর্কে লিখেছেন “(তিনি)ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সকে জাস্টিফাই করেন ও মিটু সম্পর্কে সুবিখ্যাত মন্তব্য আছে( 'বিশ বছর আগে পাছায় চিমটি কেটেছিল, আজ আমার মন ব্যথায় টলোমলো' )”।

ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স কবে জাস্টিফাই করলাম কে জানে, নির্ঘাত কাউকে মেরে ঠ্যাং ভেঙে দেব বলেছিলাম হবে। হতেও পারে। সেটা ডোমেস্টিক না হলেও ভায়োলেন্স তো। কিন্তু দ্বিতীয়টা? গুল বললে কম বলা হয়, মিথ্যাচার বললে মিথ্যাচারকে অপমান করা হয়। যে মন্তব্যটি কোট করা হয়েছে, তা মি-টু নিয়ে তো নয়ই, আদৌ কোনো মহিলা সম্পর্কিতও নয়। জেন্ডার অ্যাগনস্টিক। ওটা ইন্দ্রাণীদির বই নিয়ে লেখা। এইখানেই পাওয়া যাবে ( https://www.guruchandali.com/blog/2019/01/31/1548911579549.html?author
=604947533
) । এ নিয়ে আগেও একদফা ক্যাচাল হয়েছিল, কারো পড়ে পছন্দসই লাগেনি, কিন্তু এটা মি-টু সংক্রান্ত লেখা? অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ এরকম ভাবতে পারে? তাও গম্ভীর সমালোচনা করছি এরকম, বেশ একটা এয়ার নিয়ে?

বলাবাহুল্য এইরকম বাক্যবন্ধ আমি ইতিপূর্বেও ব্যবহার করেছি। “ভরা মঞ্চে বক্তার নিতম্বে ভার্চুয়াল চিমটি কেটে পালিয়ে যাবে ফচকে ছোঁড়া”, হুবহু নয়, কিন্তু এই রকমই লিখেছিলাম ল্যালা ম্যানিফেস্টোতে। কী ভাগ্যিস, এখনও তাতে বিদগ্ধ সমালোচকের দৃষ্টি পড়েনি।

তা, বিদগ্ধ সমালোচকের যুক্তিপরম্পরা অনুসরণ করলে আমি যা বুঝলামঃ
১। পাছা কেবল মহিলাদের থাকে।
২। একমাত্র মহিলাদেরই চিমটি কাটা যায়।

এই দুটি ধরে না নিলে লেখায় পাছা এবং চিমটি থাকলেই তা নারী নির্যাতনের বিবরণ, এবং মিটুবিরোধী জিহাদের অংশ, এই জাতীয় উর্বর কল্পনা সম্ভব নয়। অবশ্য উর্বর কল্পনাশক্তি না থাকলে হেলে না ধরতে পেরে স্বপ্নে জিরাফ কেউ ধরবেনই বা কেন।

এ যে কী উন্নতমানের এই সৃজনীশক্তি, যাঁরা এই টুকু পড়ে বুঝতে পারছেননা, তাঁদের জন্য রইল আমারই লেখার কয়েকটি অংশ, অর্থাৎ সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েক টুকরো পাছা। ইয়ার্কি নয়, গুগলে "সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় নিতম্ব" সার্চ দিয়ে একটি পাওয়া গেছে। অন্যটি আমার খেয়াল ছিলনা, ফেবুতেও এটা দিয়েছি, তার নিচে লিংক বিশেষজ্ঞ সায়ন ভট্টাচার্য দিয়েছেন।

পাছা ১।
ভাবগম্ভীর সভার মধ্যে বক্তার নিতম্বে ভার্চুয়াল চিমটি কেটে পালিয়ে যাবে ফচকে ছোঁড়া। সাজানো ড্রইংরুমে টিভির পাশে রেখে দেওয়া হবে দুটো চামচ আর একপাটি জুতো, টেবিলে ফ্লাওয়ার ভাসের পাশে থাকবে একখানি তোবড়ানো কোকের বোতল। গাম্ভীর্য আর প্র্যাকটিকাল জোক, রসিকতা আর কালো হিউমার পাশাপাশি রেখে তৈরি হবে বিচিত্র এক অর্ডার অফ থিংস।
-- লেখার নাম ল্যালা ম্যানেফেস্টো। এর বেশি দেওয়া যাবেনা, গাল দিতে হলে কিনে পড়বেন। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখুন, পাছায় চিমটি কাটাকে কীভাবে প্র‌্যাকটিকাল জোক বলা হয়েছে।

পাছা ২।
হিন্দি ও বলতে পারিনা, ইংরিজি ও না। কী ভাগ্যিস ভারতীয় লোকসভা যেতে হয়নি। মুখ খুললেই 'অধ্যকষা মাহোদয়া' চোরের দায়ে ক্যাঁক করে ধরতেন।"মাতৃভাষায় কথা বলতে হলে এক দিন আগে খবর দেবেন, তারপর মুখ খুলবেন"। (অর্থাৎ লোকসভায় কেউ পাছায় চিমটি দিলে একদিনের নোটিস দিয়ে তারপর "বাবারে মেরে ফেলল রে" বলার অনুমতি মিলবে।)
তারপর আসত মিডিয়া। "উলুবেড়িয়ায় গ্রহান্তরের জীবের পদার্পণ" এর ঢঙে খবর হত "দিল্লিতে একজন বাঙালি দেখা গেছে, তাও একেবারে লোকসভায়"।
এবং সবশেষে আমার জাতভাই ও বেরাদররা। আঙুল দেখিয়ে বলতেন, "দেখ দেখ এই লোকটা না বাংলায় কথা বলে"।
লোকসভা যাইনি, জোর বেঁচে গেছি উফ।
-- নামহীন ফেসবুক পোস্ট। একটু স্ক্রল করলে আমার ফেবুর দেওয়ালেই দেখা যাবে। সাংসদ দেবের লোকসভায় ভাষণ নিয়ে হাসাহাসি হবার পর লেখা। লক্ষ্য করে দেখুন, পাছায় চিমটি এবার সোজা গণতন্ত্রের কেন্দ্রে। অন্তর্ঘাত।

পাছা ৩।
এর সঙ্গে যোগ করুন উপরের উদ্ধৃতি, 'বিশ বছর আগে পাছায় চিমটি কেটেছিল, আজ আমার মন ব্যথায় টলোমলো।'

নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কী ভীষণ এই মি-টু বিরোধী চক্রান্ত, কী ভাবে স্রেফ পাছা ও চিমটিকে দিনের পর দিন নর্মালাইজ করে তাকে প্রকারান্তরে জাস্টিফাই করা হয়েছে? এ নিয়ে 'বিজনের রক্তমাংস' এর মতো পাপের তালিকা বানানো সম্ভব। আমি নিজেও বুঝিনি, যতদিন না এই বিদগ্ধ সমালোচক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। সাধে কি আর ইনি সন্দীপনেরও যুগান্তকারী সমালোচনা করে বিস্তর হাততালি কুড়োন? অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে, বললে হবে?

501 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

হুম্মম বাবা, এই জন্য গুরুর মেনুফেস্টোতে বলেছে, সন্দীপনী করো না!

"ভাবগম্ভীর সভার মধ্যে বক্তার নিতম্বে ভার্চুয়াল চিমটি কেটে পালিয়ে যাবে ফচকে ছোঁড়া। "

হা হা প গে... :ডি
Avatar: aranya

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

সৈকতের বেশ তীব্র স্বাদের একটা লেখা পড়েছিলাম, স্ত্রী-কে খুন করার পরিকল্পনা করছে একজন, যৌন খেলাধূলো চলছে, তার সাথে সমান্তরাল - হত্যার ছক।
সেই লেখাটারও বোধহয় আজ মানে দাঁড়াবে - “(তিনি)ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সকে জাস্টিফাই করেন" ।

সত্যিই, অদ্ভুত এক সময়ে বাস করছি আমরা
Avatar: রিভু

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

এখানে লেখার খুব একটা ইচ্ছে ছিলোনা, কিন্তু সৈকতদা বারবার ফোকাসটা ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন পাছায় চিমটির দিকে। আসল পয়েন্টটা ধরা আছে চব্বিশ বছর পরে তে। যাঁরা সৈকতদার লেখা মাঝে মাঝেও পড়ে থাকেন, তাঁদের কি মনে হওয়া খুব অস্বাভাবিক যে পয়েন্টটা মিটুর উদ্দেশ্যে ছিল?
Avatar: রিভু

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

চব্বিশ না, বিশ।
Avatar: দীর্ঘশ্বাস

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

এবং মিটু যেন কেবল মহিলাদের মুভমেন্ট। যেন কোনো একদা নির্যাতিত পুরুষ বা LGBTQ মিটু লিখতে পারেননা।
সৈকতের যুক্তিবৈদগ্ধের কী অবস্থা দাঁড়িয়েছে!
Avatar: গোদা প্রশ্ন

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

দুঃখের বিষয়, আমার এখানেও কটি গোদা প্রশ্ন আছে। তার আগে, আমি রিভুর সাথে একমত যে এখানে শুধু পাছায় চিমটি হলে বেনিফিট অফ ডাউট পাওয়া সহজ হত। কিন্তু ঐ কুড়ি বছর পরের কথা উল্লেখে ব্যাপারটা আরও বেশি মীটু মীটু লাগছে। তবে দীর্ঘশ্বাসের সাথে একমত নই। আমি ১০০% নিশ্চিত, এক্ষেত্রে ইমেজারিতে পুরুষ থাকলে এসব মীটুর কথা তুলে ঝাঁপিয়ে পড়ার একটি লোকও জুটত না।

কিন্তু আমার গোদা প্রশ্নটা অন্য। ধরে নিন কেউ মীটুকে হ্যাটা করার জন্যই লিখেছে। কেউ মীটুর মোডাস অপারেণ্ডি পছন্দ করে না। সে যেমন প্রবন্ধ লিখে বিরোধিতা করতে পারে, তেমনি রিডিকিউলও করতে পারে। তাতে এত উত্তেজনাই বা কেন? এর আগে জন হেনরি গানের প্যারডি করে চন্দ্রবিন্দু লিখেছিল 'বাথরুমটা কি তোর বাবার?' বাম বিপ্লবী মহলে ভাবাবেগের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। এদিকে তাঁরাই দিনে দুবেলা অন্য রাজনৈতিক/ধর্মীয় ও অন্যান্য বিশ্বাসের লোককে রিডিকিউল করে চলেছেন। অথচ নিজেদের বিশ্বাস/মতাদর্শ নিয়ে কেউ পাল্টা খোঁচা মারলে সেটা নিতে পারেন না। থ্রী ইডিয়টের সেই গরীব বন্ধুটির বাড়ীতে শয্যাশায়ী বাবার গা চুলকোনো চুল খাবারের মধ্যে দেখতে পাওয়ার দৃশ্য মনে করুন। দারিদ্র্য নিয়ে কী নিষ্ঠুর রসিকতা। কীভাবে নিয়েছিলেন?

সমস্ত বিষয়, সে শোষিত নিপীড়িত বঞ্চিত অবহেলিত লাঞ্ছিত জনতার পক্ষে হলেও, তার মধ্যের স্টিরিওটাইপটিকে একটু এক্স্ট্রীমে পুশ করে আপনি রসিকতার বিষয় করতে পারেন। তাতে এত কিছু মহাভারত অশুদ্ধ হয় না। আমেরিকাতে কালোদের স্টিরিওটাইপ নিয়ে ঝুড়ি ঝুড়ি কমেডি/হিউমার/স্যাটায়ার হয়, কালোরা নিজেরাই করে থাকে বহু ক্ষেত্রে, সেই একই স্টিরিওটাইপ যা তাদের অবদমনের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পৃথিবীর সমস্ত জাস্টিফায়েড বক্তব্য/দাবীদাওয়া/আন্দোলনের সাথে আনজাস্টিফায়েড এক্সট্রিম হাত ধরাধরি করে চলে, এবং সেই এক্সট্রিমটাই সাধারণত কমেডি বা স্যাটায়ারের বিষয় হয়। মীটুও এর কোনো ব্যতিক্রম বলে আমার মনে হয় না। একদিকে যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে, বহু লাঞ্ছিত মহিলার মুখে ভাষা জুগিয়েছে, তেমনি এক্স্ট্রীমও ভালমতই আছে। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির কিছু কেসে পরের পর ফেসবুকে যে লেভেলের সার্কাস হয়েছে, স্রেফ সেগুলোকে রিডিকিউল করে একঘন্টার স্ট্যাণ্ড-আপ কমেডি শো হতে পারে। কিন্তু মুশকিল হল আমাদের প্রতিবাদী জনতা নিজেদের এত সিরিয়াসলি নেন, যে কেউ সেসব করতে গেলে তার ফাঁসির দাবীও করে বসতে পারেন তাঁরা। ফলে আপাতত এগুলো নিয়ে হয় সমর্থনমূলক কথাবার্তা, নয় প্রচুর গার্ড-টার্ড নিয়ে, ভয়ংকর জার্গন-টার্গনের আড়ালে লুকিয়ে, প্রথমে দুপাতা জুড়ে 'আমি আসলে তোমাদেরই লোক' বলে এস্টাব্লিশ করে, তারপর দু-একটি মৃদু সমালোচনা করা যেতে পারে। তার বেশি কোনোরকম 'অন্য বক্তব্য' কেউ শোনার জায়গায় নেই। রিডিকিউল তো ছেড়েই দিন।

সৈকতবাবু কী ভেবে লিখেছেন জানি না। উনি বলছেন উনি মীটুকে রিডিকিউল করার জন্য লেখেননি। হতে পারে। হয়ত সচেতনভাবে রিডিকিউল করতে চাননি, কিন্তু অবচেতনে মীটু বিরোধি মতামত থাকায় সেটার কাছাকাছি ইমেজারি লেখায় চলে এসেছে, এরকমও হতে পারে। এরকম হয় না এমন নয়। সমস্যা হল এখন এই বিষয়টা নিয়ে সমাজে ইমোশন খুবই হাই লেভেলে রয়েছে। বিশেষত যাঁরা হ্যারাসমেন্ট সারভাইভর, তাঁদের মধ্যে। তার সাথে রয়েছে ফেসবুকের সামাজিক ন্যায়যোদ্ধারা, যাঁরা দিন শুরুই করেন ফেবুপ্রান্তরে আজ কী নিয়ে যুদ্ধ করবেন সেই পরিকল্পনা করতে করতে। ফলে ভেবে লিখে থাকুন বা না ভেবে, এটা নিয়ে প্রতিক্রিয়া আসারই ছিল। খুব ব্যতিক্রমী কিছু ঘটেছে বলে আমার মনে হলনা।
Avatar: sm

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

গোদা ভাই,আপনার প্রশ্ন কোথায় গেলো!?
Avatar: গোদা প্রশ্ন

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

এই তো। :-)

"কিন্তু আমার গোদা প্রশ্নটা অন্য। ধরে নিন কেউ মীটুকে হ্যাটা করার জন্যই লিখেছে। কেউ মীটুর মোডাস অপারেণ্ডি পছন্দ করে না। সে যেমন প্রবন্ধ লিখে বিরোধিতা করতে পারে, তেমনি রিডিকিউলও করতে পারে। তাতে এত উত্তেজনাই বা কেন?"
Avatar: :-))

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

সবকিছুই হতে পারে। উত্তেজনাও সবকিছুর বাউন্ডারিতে পড়ে। তা নিয়েই বা প্রশ্ন কেন?
Avatar: :-))

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

সবকিছুই হতে পারে। উত্তেজনাও সবকিছুর বাউন্ডারিতে পড়ে। তা নিয়েই বা প্রশ্ন কেন?
Avatar: গোদা প্রশ্ন

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

এ কী! 'প্রশ্ন' আর 'উত্তেজনা' এক হল!!
Avatar: dipanjan

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

উত্তেজনা তো শুধু এই দু লাইন নিয়ে নয়। দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সৈকতের দেওয়ালের পরের পোস্টে সে ইতিহাসের কিছু ইতিবৃত্ত আছে। আমার মনে হয় এর অনেকটাই ভুল বোঝাবুঝি - "লস্ট ইন ট্রান্সলেশন" জাতীয়। মহিলা নারীবাদীরা অনেক সময়ই ভুক্তভোগী এবংথবা এক্টিভিস্ট। তাই যে আলোচনা কিছু সিস্ হেট্ পুরুষদের কাছে তাত্ত্বিক, বিমূর্ত তা ওনাদের কাছে অস্তিত্বের। সেটা স্বীকার না করলে বা বেনিফিট অফ ডাউট না দিলে, কমিউনিকেশন গ্যাপ আসে, আলোচনার সুর কেটে যায়, হিউমার কে অসহ্য ট্রিভিয়ালইজেশন মনে হয়। ভিন্ন লিঙ্গের ভিন্ন যৌনতার মানুষের মধ্যে নারীবাদ আলোচনায় এগুলো কিছুটা ইউনিভার্সাল। কিন্তু সেখান থেকে ব্যক্তি আক্রমণ, মিথ্যাচার একটা বড় লাফ। সেটার নিন্দে হওয়া উচিত।
Avatar: হুতোম

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

আর হ্যাঁ, সদ্য এটাও জানা গেল যে ডিভোর্স শুধু মেয়েদেরই হয়। কোনো লেখায় ডিভোর্সী শব্দটার উল্লেখ থাকলে তা বিশ্বশুদ্ধ ডিভোর্সী নারীদের হ্যাটা করে।
Avatar: দীর্ঘশ্বাস

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

ডিভোর্সী সখী সমিতি? হ্যাঁ শুধু মেয়েদেরই টার্গেট করে এই শব্দবন্ধ। আনফরচুনেটলি।
Avatar: নাতিদীর্ঘশ্বাস

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

পীড়িত পতি পরিষদ নিয়েও ততোধিক খিল্লি ছিল যে!
Avatar: দীর্ঘশ্বাস

Re: অলৌকিক জিনিস আজও ঘটে

সেটা ছেলেদের টার্গেট করে। সিম্পল।
মূল লেখাটার লিংক দিন তো এই গৃহহিংসা বা ডিভোর্সী সখি সমিতির।
নিজ প্রকাশনার বই সংক্রান্ত প্রোমোশনাল লেখায় মিটু সম্পর্কিত কটাক্ষ থাকতে পারেনা সেটাও অযৌক্তিক দাবীই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন