Anamitra Roy RSS feed

Anamitra Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

Anamitra Roy



সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের অস্তিত্বকে ড্রয়িংরুমসাহিত্য-প্রিয় বাঙালি তাঁর জীবৎকালে বিশেষ মেনে নিতে পারেনি। সন্দীপনের ভাষা এবং বিষয়বস্তু দুটোই এর জন্য সমানভাবে দায়ী। সুনীলসাহিত্যের পাঠক সন্দীপন পড়তে গিয়ে যতিচিহ্ন থেকে যতিচিহ্নে হোঁচট খেত, রসভঙ্গ হয়ে যেত তাদের। কাউকে কাউকে বলতেও শুনেছি, "সন্দীপন আমি কেনই বা পড়ব! সহজ করে লিখতে পারাটাও সাহিত্যিকের একটা গুণ এবং সুনীল সেইদিক থেকে অনেক মহান লেখক!" সন্দীপনের মৃত্যুর পর এদিকে, তাঁর সেই ভাষা নিয়েই একচোট হইচই হয়েছিল বটে! আহাহা, সোনালী ডানার ঈগল, আহা, ডাবলবেডে একা; কিন্তু বিষয়বস্তুর বিষয়টিকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সন্দীপনের ভাষা আমার কোনোদিনই কঠিন লাগেনি, তবে বিষয় হজম করতে গেলে মনে হয় অনেককেই নিজেদের অনেক মহান চারিত্রিক গুণের কথা স্বীকার করে নিতে হতো! তারচেয়ে এই ভালো, ওসব সন্দীপন করে, আমরা করি না। সন্দীপন একাই চরিত্রহীন, আমরা নিরীহ সাহিত্যপয়দাকর্মের সঙ্গে যুক্ত 'বা-লে'।

যাই হোক, আজ যে সন্দীপনের জন্মদিন সেটা নিতান্তই কাকতালীয়। এই লেখাটা এমনিতেও লিখতেই হতো খুব শিগগীরই। কারণ বেঁচে থাকার সময় মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পাঠকের ছিছিক্কারের লক্ষ্যবস্তু সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এবার একাধারে নারীবাদ এবং অপরদিকে চাড্ডি আক্রমণের শিকার। মজার ব্যাপার এই যে, নারীবাদী এবং চাড্ডি উভয়পক্ষেরই মূল বক্তব্য একই; সন্দীপন সেক্সিস্ট, মিসোজিনিস্ট এবং চরিত্রহীন। এই গোটা আখ্যানটাই তৈরী করা হচ্ছে মূলত একটি চিঠির ভিত্তিতে। চিঠিটি "চাইবাসা চাইবাসা" নামক গল্প থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা (তারিখ ১৩ই জানুয়ারি, ১৯৬০) বলে জানা যাচ্ছে। এখন যদিও গল্পটি পড়লে সেখানে সত্যিকারের চিঠিপত্রই তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে হবে কিন্তু চিঠিটির প্রকৃতই অস্তিত্ব ছিল নাকি তা সন্দীপনের মস্তিস্কপ্রসূত তার কোনো প্রমাণ নেই। চিঠিটির আরেকটি মজার দিক হচ্ছে সেখানে সন্দীপন ট্রেনে কি করেছিলেন তার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় এবং সুনীলও যে বাসে অনুরূপ কিছু করেছিলেন তার উল্লেখ আছে, শুধু সুনীল এক্স্যাক্টলি কি করেছিলেন সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই। এটা টিপিক্যাল সন্দীপনীয় খচরামো। বাসে কি হয়েছিল সেটা চিঠিগুলোর পর যেখানে লেখক নিজস্ব নোটগুলি রেখেছেন সেখানে উল্লেখ করাই যেত। কিন্তু কে না জানে যে সুনীল ভদ্রলোক। সন্দীপন নিজেকে নগ্ন করলেন, কিন্তু বন্ধুর ইমেজে আঁচটুকুও লাগতে দিলেন না। এই চিঠিটা লেখাতে নাই থাকতে পারতো, সেক্ষেত্রে সন্দীপনকে গালাগাল করার অবকাশও থাকতো না। সন্দীপন কিন্তু চিঠিটাকে বিনা দ্বিধায় টেক্সট-এর অন্তর্গত করলেন। সন্দীপন এইজন্যই সন্দীপন। ধারণাটুকুও আসার বহু আগেই সন্দীপন #IDidItToo করে ফেলেছেন। সন্দীপন বাংলাসাহিত্যের প্রথম #IDidItToo -কারী লেখক।

তবে কিনা এই গোটাটাই কথার কথা। কারণ গোটাটিই সুনীল দেখেছেন। সুনীল যা দেখেছেন সন্দীপন কি তাই-ই করছিলেন? এ বিষয়ে গোটা গল্পটায় হ্যাঁ অথবা না কোনোকিছুই বলা নেই। "ভুল হয়েছে" থেকে "বেশ করেছি" অথবা এমনকি "হ্যাঁ হয়েছিল" বা "সুনীলের ধারণা"; কোনোকিচ্ছু না !

"এয়ারপোর্টে প্লেন নামার আগে মেঘের মধ্যে দিয়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকেও অবিকল অনুরূপ আদিবাসিনী দেখিয়েছিল। মশালে আগুন, আমেরিকার স্বাধীন জেনানাকে ঘিরে ঘুরছিল অতলান্তিকের সমুদ্র-জল, ২৭-২৮ বছর আগে দেখা, রাজাখার্শোয়াং-এর কুয়াশা-কাটা রমণী-মূর্তির কথা প্লেনে বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে হঠাৎই মনে পড়েছিল।"

কি লেখা হলো সেটা যারা পড়তে জানেন পড়লে বুঝবেন নিশ্চয়ই। উপরের লাইনগুলি "জঙ্গলের দিনরাত্রি" থেকে নেওয়া, যে উপন্যাস (অথবা নয়, তর্ক চলতে পারে)-টিকে এক ব্যক্তি দেখলাম সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের ডায়রি বলে উল্লেখ করেছেন। বলাবাহুল্য, লেখাটি তিনি পড়ার প্রয়োজন মনে হয় না বোধ করেছেন বলে। কারণ "জঙ্গলের দিনরাত্রি" মূলত একটি "অযৌন হানিমুন"-এর গল্প, যে হানিমুনটি ঘটেছিলো সন্দীপন এবং শক্তি নামক দুই চাটুজ্যের ভিতর। সেখানে নারী এবং যৌনতা সংক্রান্ত প্রচুর কথা রয়েছে, যেমন সন্দীপনের প্রায় সব লেখাতেই থাকে। লেখক এও জানিয়েছেন যে তিনি নারী-কাতর। কিন্তু কোথাও যৌন-আগ্রাসনমূলক কোনো ঘটনার বিবরণ নেই। কোনো এক রহস্যময় হাটে এক রহস্যময়ী আদিবাসী নারীর সাথে পয়সার বিনিময়ে রমণের একটা অনুল্লিখিত গল্প আছে, কিন্তু সেখানেও এমনকি যৌনক্রিয়ার কোনো বিবরণ নেই। ছোট্ট অংশ, গোটাটাই ম্যাজিক রিয়্যাল, এমনকি হাটটাও পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরেকটি অংশে ফুলমণি নামক এক পঞ্চাশোর্ধ মেথরানির কথা রয়েছে। খাবারের বিনিময়ে যৌনতা দিয়ে তাকে খুশি করেন সন্দীপন। এখানেও যৌনক্রিয়ার কোনও বিবরণ নেই, যা রয়েছে তা হলো ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে সন্দীপনের বিভিন্ন আশঙ্কার বিবরণ। বলাবাহুল্য, এই স্মৃতি সন্দীপনের কাছে সুখদায়ক নয়। তার মোটেই ইচ্ছে ছিল না, শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতার বশে সে ওই প্রৌঢ়ার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। অর্থাৎ খাবারের বিনিময়ে বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য হয়েছিল প্রিন্স অফ লিটিল ম্যাগাজিন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনায় কে প্রিডেটর? --- এবার যিনি এই লেখাটিকে সেক্সুয়াল প্রিডেটর-এর ডায়রি বললেন তিনি কি ভেবে বললেন আমার সত্যিই জানা নেই। পাহাড়ি ঝর্ণার সঙ্গে ওঁরাও রমণীর পিঠের ওপর লুটিয়ে থাকা বেণীর তুলনাকে যৌন আগ্রাসন বলে না, কাব্যসৌন্দর্য্য বলে, যেটা সন্দীপনের গদ্যে বহুজায়গায় নানাভাবে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

হ্যাঁ, সন্দীপন সেক্সিস্ট ছিলেন। নিঃসন্দেহে ছিলেন। কিন্তু মাথায় রাখা প্রয়োজন যে তিনি সেই দৃষ্টিভঙ্গি লুকোতে যাননি কোনোদিন, বরং ডকুমেন্ট করেছেন, ক্রুডভাবে ডকুমেন্ট করেছেন নিজের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়েই। যৌনতাকে স্বাভাবিক ভেবে স্বাভাবিক ভাবেই অ্যাপ্রোচ করেছেন নিজের নিরহংকার নোংরামি (ফাল্গুনী-র থেকে ধার নিলাম) সহকারে। সুনীলের মত পদতলে বসে কৃপাপ্রার্থী হতে চাননি। এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন যে বাকিরা এই কাজটা করেননি; হাংরিরা যেমন পুরুষ ও প্রকৃতির বাইনারি টেনেছেন এটা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েই যে পুরুষ এবং তার "শক্তি"-ও আসলে প্রকৃতি থেকেই সৃষ্ট। আরও অনেক কথাই বলা যায়, অনেক বড় করা যায় লেখাটাকে। কিন্তু ইচ্ছা করছে না। বরং সন্দীপনকে কোট করেই শেষ করি, আবারও "জঙ্গলের দিনরাত্রি" ---

"এলিয়টের মৃত্যুর পর প্রকাশিত এক বিশাল কমমেমোরিয়াল ভলিউমে সবাই দিস্তে দিস্তে লিখলো! শুধু এজরা পাউন্ড লিখেছিলেন পাঁচ লাইন। যথা: কে আর লন্ডনের অলি-গলি দিয়ে হাঁটার সময় অমন শুখা হিউমার করবে! আর ওর কবিতা নিয়ে কি আবার বলব। শুধু বলতে পারি: রিড হিম।"

পি এস: আপনি ঠিক সেটাই দেখবেন যা আপনি দেখতে চান, কারণ সম্ভবত, সিদ্ধান্ত আপনার আগেই নেওয়া হয়ে গেছে।



বাংলাসাহিত্যে একটা উপন্যাস আছে যার প্রথম পরিচ্ছেদে জানা যায় উপন্যাসটির মূল চরিত্রের যে প্রেমিকা তার আরেকটি প্রেমিক রয়েছে, কিন্তু সে এখনও প্রপোজ করে উঠতে পারেনি। আমাদের মূল চরিত্র, অবিনাশ, চায় তার প্রেমিকা, মমতা, ওই দ্বিতীয় প্রেমিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিক; একই দিনে দুজনের সঙ্গে দেখা করার থাকলে মমতা যেন সঞ্জয়ের কাছেই যায়, তার কথা ভাবার দরকার নেই। সে একঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাবে। অথচ ঘটনা শুরু যেদিন, সেইদিন মমতা এসেছিল দু'ঘন্টা দশ মিনিট দেরি করে। আসার কথা তার ছিল না, মূল চরিত্রেরও কথা ছিল না অপেক্ষা করার, তবু তাদের দেখা হয়। এর একমাস বাদে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় পার্ক সার্কাস সেমেটারির সামনে। দশ বছরের সম্পর্ক ছিল তার আগে তাদের মধ্যে। আরও জানা যায়, সঞ্জয়, তথা মমতার অপর প্রেমিকের পার্টির রঙ গেরুয়া।

এছাড়া রয়েছে মান্তু, একজন রেপ সারভাইভার, অবিনাশের বোন। সে অবিনাশের সঙ্গেই থাকে। তার বর তাকে ত্যাগ করেনি, সে নিজেই থাকতে পারেনি আর। মান্তু ফ্ল্যাটের বাইরে যায়না, এটাই তার অসুখ। পরিবারের সম্মানের খাতিরে তার ধর্ষণের ঘটনা শ্বশুর পুলিশে রিপোর্ট করেননি। রণেন, তার বর, তাকে ভালোবাসে। মান্তু ঘৃণা করে রণেনকে। চঞ্চল আর রণেন, মার্ক্সবাদী পার্টির সদস্য। অবিনাশ একটু ফ্রয়েড ঘেঁষা। মান্তুর রেপের ঘটনাটা চঞ্চলকে নাড়া দিয়েছিল। চঞ্চল রেপ সিরিজের আটটা ছবি আঁকে তারপর। প্রকাশ কর্মকারের সেই ছবিগুলো পছন্দ হয়েছিল।

চঞ্চলের এ পর্যন্ত শয্যাসঙ্গিনীর সংখ্যা আট।

সঞ্জয়কে মমতা বিয়ে করবে, সম্ভবত।

মমতা মরাল ওম্যান হিসেবে মরতে চায়, অথচ অবিনাশের সঙ্গে সম্পর্কও রেখে যেতে চায়, এমনকি বিয়ের পরেও।

অবিনাশ ভাবে, "তাহলে তো আমি আগাগোড়া যেভাবে দেখছি সেটাই ঠিক। আমার হারাবার কিছু নেই। মাঝে মাঝে একে ধর্ষণ করে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া করার কিছু নেই।"

এর আগে একটা গোটা অংশ জুড়ে অবিনাশের দেওয়া বিবরণ রয়েছে মমতার সঙ্গে কবে কোথায় কতটা সেক্স করা গেছে সেই নিয়ে। মূলত ঘরের অভাবেই তাদের সম্পর্কটা বেশিরভাগ সময়ই ঠোঁট আর বুকের মাংসে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। কারণ, মমতা বারেবারেই জানিয়েছে যে ঘর পাওয়া গেলে তার কোনও আপত্তিই নেই। অবিনাশকে সে শরীরীভাবে চায়, কিন্তু বিছানা দরকার, জিএসআই এর গোপন অন্ধকার ঘরে পৃথিবীর মানচিত্রের ওপর শুয়ে করার জিনিস নয় ওসব।

লেখক সন্দীপন জানেন, মেয়ে, পাগল এবং ক্রীতদাসদের শরীর-অধিকার কোনও দিনই তাদের নিজেদের নয়।

বলে দিলে গোটাটাই বলে দেওয়া যায়, যেমন রয়েছেন অপর্ণাদি, যিনি মমতার বাবা সুখময়ের থেকে ১৫ বছরের ছোট।

উপন্যাস শেষ হওয়ার কিছুটা আগে মান্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়ে আত্মহত্যা করে। যার ফলস্বরূপ, অবিনাশ মমতাকে বলে, "একটা ঘর খালি হয়েছে মমতা। আমরা একটা ঘর পেয়েছি।"
সন্দীপন লেখেন, "বলতে বলতে আমি বুঝলাম এই সেই অনির্বচনীয় কিন্নরকণ্ঠ যে-স্বরে চিরকাল প্রেমিকরা 'আমি তোমায় ভালোবাসি, মেয়ে' বলে এসেছে।"

ছবির অংশটি মমতা সেনগুপ্ত-র চিঠি থেকে নেওয়া। লেখকের রাজনৈতিক অবস্থান লক্ষনীয় যে, উপন্যাসটি শেষ হয় এই চিঠি দিয়ে। মমতা জানায় সঞ্জয়কেও সে ছেড়ে যাচ্ছে তবে তার কারণ সে অবিনাশ কে বলবে না।

চিঠির শেষ লাইন, "আমি তৃতীয় পুরুষের খোঁজে আছি।"
একটি পুনশ্চ রয়েছে। তাতে জানা যাচ্ছে বাবা আর অপর্ণাদির বিয়েতে মমতা সম্মতি জানিয়েছে।

এই উপন্যাসটিতে পুরুষের যৌনতা ও তৎসংক্রান্ত ধারণা, পুরুষের ভালোবাসা এবং হিপোক্রেসি ইত্যাদি বিষয়কে যেভাবে নগ্ন করা হয়েছে তা আর কোনো পুরুষসৃষ্ট উপন্যাসে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আর কোনো পুরুষরচিত উপন্যাস লিঙ্গরাজনীতির ভিত্তিতে নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এভাবে সোচ্চার কিনা আমি জানিনা সত্যিই।

'কলেরার দিনগুলিতে প্রেম' - এই নামের সঙ্গে মার্কেজের কোনও সম্পর্ক নেই।

এরপর যখন একটি ছোটগল্পে উদ্ধৃত সুনীল গাঙ্গুলির একটি চিঠি (যার প্রকৃত অস্তিত্ব রয়েছে নাকি কল্পনাপ্রসূত জানা যায় না)-তে উল্লিখিত একটি ঘটনা (যা ঘটার সময় সুনীলের বাঙ্ক থেকে সন্দীপনের বাঙ্কের দূরত্ব, রাত্রের ট্রেনে আলোর পরিমান, সুনীল কোনো নেশা করে ছিলেন কিনা কোনকিছুই জানা যায় না)-র ভিত্তিতে নারীবাদীরা এই লেখককে অভিযুক্ত করেন, বলেন ওয়াক থু --- মনে হয় না কোথাও একটা ভীষণরকম অবিচার হয়ে যাচ্ছে? সেই অবিচার সন্দীপনের প্রতি নাকি নারীবাদের প্রতি দীক্ষিত পাঠকই তার বিচার করবেন!


https://i.postimg.cc/JzsB920T/Momotar-Chithi.jpg

740 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: aranya

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

অনমিত্র আমার প্রিয় লেখক, ভাল লাগল এই সন্দীপন স্মরণ।

মহান লেখক বলে কিছু হয় না, যেমন মহান রাঁধুনী বলে কিছু হয় না, লেখালেখি একটা কাজ, অন্য যে কোন কাজের মতই।

মহান মানুষ হয়, তিনি অন্য মানুষের জন্য বা প্রাণী, উদ্ভিদ, পরিবেশের জন্য কি করেছেন, তার নিরিখে। শঙ্কর গুহনিয়োগী, পুণ্যব্রত গুণ মহান মানুষ, আমার চোখে।

সহজ করে লিখতে পারা অব্শ্যই সাহিত্যিকের একটা গুণ, তেমনি সন্দীপনের ভাষা বা কমলকুমারের ভাষা একেবারে অন্যরকম, অসাধারণ - এদের মধ্যে তুলনার কোন মানে নেই।

সন্দীপন তার নারীকাতরতা বা নারীলোলুপতা নিয়ে খোলাখুলি লিখেছেন, নিজেকে নগ্ন করেছেন - তার জন্য কুর্ণিশ। কিন্তু মেয়েদের মাল মনে করার যে মনোভাব , তার জন্য মানুষ হিসবে তাকে নম্বর দেওয়া গেল না।

কোন এক আত্মীয় মারা গেছেন, সন্দীপনের শ্মশানে যাওয়ার কথা। দরজায় বেল বাজল - একটি কলেজ ছাত্রী দেখা করতে এসেছে , হাতে বই। প্রিন্স অফ লিটল ম্যাগাজিন লিখছেন - বুঝলাম আজ আর শ্মশানযাত্রা হল না। ১৫ মিনিটের মধ্যে মেয়েটিকে বিছানায় নিয়ে এলাম

তো আমার জানতে ইচ্ছে করে, সেই মেয়েটির পরে কি হল, কেমন জীবন কাটাল সে। সন্দীপন সেই ওয়ান নাইট বা ওয়ান ডে স্ট্যান্ডের পর হয়ত আরও কিছুদিন মেয়েটিকে বিছানায় এনেছেন, তার পর কাটিয়ে দিয়েছেন। মেয়েটির ওপর কি অভিঘাত এই সব ঘটনার?

লেখক সন্দীপন অনন্যসাধরণ - ভাষা ও বিষয় দু দিক থেকেই।

মানুষ সন্দীপন - নাঃ , তেমন কিছু লেখার নেই
Avatar: অনিন্দ্য সেনগুপ্ত

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

সন্দীপন রিলেটেড কন্ট্রোভার্সিটা ইদানিং একটূ টুইস্টেড ভাবে রিসারফেস করেছে। দীপ চ্যাটার্জি নামে একজন - মিটু আন্দোলনের প্রেক্ষিতে - ৫০ দশক পরবর্তী বাংলা সাহিত্যকে এক কথায় রাইট অফ করে দিয়েছে রিগ্রেসিভ মরালিস্ট স্টান্স থেকে, যার সঙ্গে জ্বালানীর মত কাজ করেছে বামপন্থার ডিনাউন্সিয়েশন। বছর দেড়েক আগে শতাব্দী দাশ একটা পোস্ট দিয়েছিলেন সন্দীপনের লেখা থেকে উদ্ধৃত করে এবং তাকে ডিনাউন্স করে, সেটা এবার ব্যবহৃত হয়ে যায়।
শতাব্দী দাশ যেভাবে ডিনাউন্স করেছিলেন, সেই পার্সপেক্টিভটা এক জাতীয় আধুনিকতাবাদী বাংলা সাহিত্যচর্চার সেক্সিজম নিয়ে। ৫০-এর দশকে কৃত্তিবাস, তার আগে হাংরি, শাস্ত্রবিরোধী ইত্যাদি যে আন্দোলন তা যে সেক্সিজম এবং ম্যাস্কুলিনিজমের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেটা প্রমাণ করা কঠিন নয়। শতাব্দীর পোস্টটা সেই পার্সপেক্টিভ থেকেই লেখা। লেখায় যে ডিনাউন্সিয়েশনটা আছে সেটা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সাহিত্যে যে সেক্সিজমের নর্মালাইজেশন তার প্রতিক্রিয়াতেই ঘটে।
এইবার মুশকিল হল - বাঙালি পুরুষ-শিল্পী যে আদতেই নিপীড়ক, গত দু‘সপ্তাহের যে শকিং রেভেলেশনগুলো ঘটছে - তা নিয়ে লিখতে গিয়ে বামবিরোধী কলমে মরালিস্ট বামবিরোধী সুরটাই প্রবল হয়ে ওঠে, শতাব্দীর পোস্টটা ব্যবহৃত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় আমাদের দায় হল শতাব্দীর সঙ্গে সহমত হওয়ার পরে এনগেজ করে (যদি তর্কও করতে হয়) দীপদের ডিনাউন্স করা।
আমি এই আশংকাটা করছিলাম - সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় এবং মলয় মিত্রের বিরুদ্ধে যে প্রবল রিঅ্যাকশন, তার মধ্যে মরালিস্ট কনজারভেটিভ স্বর যে প্রাধান্য পাচ্ছে সেটা চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছিল। এটার জন্য মিটু-কে দায়ী করা যায়না, সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করার এটা একটা ভয়ংকর কোল্যাটারাল, আম জনতার এই প্রবেশ, যে আমজনতা এখন মরালিস্ট, শিল্প-বিরোধী, রিগ্রেসিভ - তারা এই আর্ট-প্র্যাক্টিসকেই পার্ভারশন হিসেবে দেখবে, এবং এই সুযোগে বামপন্থাকে আবার খিস্তোবে। আমরা সবাই জানি সেই খিস্তোনোতে খানিক হলেও যুক্তি থাকবে, একধরণের বামপন্থী প্র্যাক্টিস দীর্ঘদিন সেক্সিস্ট এবং ক্ষমতালোভী ছিল মাইক্রো ও ম্যাক্রো লেভেলে। এ সেই কৃতকর্মের ফল।
অনমিত্রর এই লেখায় এই বামবিরোধী কনটেক্সট সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা উচিত ছিল - ভ্যালিড সমালোচনা কীভাবে দক্ষিণপন্থীদের অস্ত্র না হয়ে ওঠে তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন - সেটা অ্যাড্রেস করে লিখতে শুরু করলে ভালো হত। কারণ লেখাটার প্রয়োজন হঠাৎ হয়নি।
সন্দীপন কমপ্লেক্স। প্রথম পাঠে উনি রিপালসিভ, কারণ উনি মডার্নিস্ট এবং ডিস্টার্বিং। আমি ভদ্রলোকের সঙ্গে একবার দীর্ঘ একটা আড্ডা দিয়েছিলাম এক সন্ধ্যেয় - উনি মুখে বলা কথাকেও লেখার এক্সটেনশন হিসেবে ব্যবহার করতেন। অতএব উনি যে নিয়ত একধরণের কন্সট্রাকশন অফ সেলফ চালিয়ে যাচ্ছেন সেটা নিয়মিত সন্দীপনের লেখা যারা পড়েন তারাই জানেন। ওনার কাছে সেলফ-ও একটা ফিকশন এবং অবজেক্ট। ওনার লেখার প্রধান আক্রমণের বস্তু হল সেক্সিস্ট মধ্যবিত্ত একটা পুরুষ সত্তা, যেটা থেকে উনি নিজেকে দূরত্বে রাখেন না, ইমপ্লিকেট করেন, ফিকশনালাইজ করেন, নির্মাণ করে চলেন। এই যে ‘আত্ম‘ একটা পলিটিকাল নির্মাণ এবং অ্যাফার্ম করার জন্য নয় বরং ডিনাউন্স করার জন্য, এবং একজন কনজিউমেট লেখক যে যখন লিখছেন না তখনও লেখার রিহার্সাল করে চলেছেন সেটা নির্মাণ করে, self as a speaking construction, এটা ধরা খুব মুশকিলের আমাদের দৈনন্দিনের বুদ্ধিতে।
অনমিত্রর রিডিংগুলো সেইদিক দিয়ে নুয়ান্সড এবং ঠিক। আমি একটা ভালো বই হারিয়েছি - সেটায় স্ক্রিনশট দেওয়ার মত একটা জায়গা ছিল - সন্দীপন একটা সাক্ষাৎকারে বলছেন যে ফেমিনিস্ট দৃষ্টিভঙ্গী থেকে তার লেখা নস্যাৎ করে দেওয়া যায়, সেটাই একমাত্র ভ্যালিড পার্সপেক্টিভ। এবং এটা নির্বিকারে বলেছিলেন। সন্দীপনের লেখা কঠিন, আপাতভাবে রিপালসিভ; কিন্তু ক্রাফটে অথবা ভাষার কাব্যগুণ, পারফর্মেন্স এবং এক্সেলেন্সে এতটাই উচ্চমানের যে সেটা তোমাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে আরেকটু নিবিড় এবং বুদ্ধিমান পাঠে, তখন পরতে পরতে কমপ্লেক্সিটি বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্তু এই ধৈর্য অনেকেরই থাকবেনা, এবং সন্দীপন হয়তো কমপ্লেনও করতেন না - তিনি শিল্পীর অমরত্বে বিশ্বাস করতেন না; তার হয়তো কাজ ছিল দুটো - একটা বুর্জোয়া ম্যাস্কুলিনিস্ট সেলফকে ন্যাংটো করে চাবকানো এবং তার পাশে ভাষাকে একভাবে সার্ভ করে যাওয়া একরকম ব্যানাল থেকে কাব্যিকতার তুঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অর্থাৎ সেলফের বাইরে ভাষার পুজারীর উর্ধ্বতন subject এবং যৌনসত্তার নিম্নতর সেলফ - এটা ডি এন এ হেলিক্সের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে উঠতে থাকে। এর প্রিডিসেসর জীবনানন্দ, হ্যামলেট আর কামুর আউটসাইডার।
এই প্র্যাক্টিসটা সাহসী hazardous এবং difficult - ওনার রাইটিং সাবজেক্টিভিটি ওনার কাছে বেশি জরুরী ছিল, যার নিরিখে ওনার যে সামাজিক-সেক্সুয়াল সেলফ, তাকেও সেই সাবজেক্টের অবজেক্ট করে তুলতে পারতেন এবং তাকে তাচ্ছিল্য করা ওনার কাছে ব্যাপার ছিল না। এটা সবাই পারবেনা। যে চিঠিটা আলোচ্য এবং উদ্ধৃত সন্দীপনের লেখা থেকে - সেটা আদপেই সুনীলের লেখা কিনা সেটাই সন্দেহের - কিন্তু সেটাও এই কন্সট্রাকশন অফ সেলফের মধ্যে পড়ে।
এবার কেউ যদি বলে যে ওই লেখার ভেতরের 'সন্দীপন' নামক কন্সট্রাক্টটা তার মানে ফিকশনাল, মিথ্যে - ব্যক্তি সন্দীপন ওরকমটি নন - ব্যাপারটা হল অত সহজও নয়। হয়তো ব্যক্তি সন্দীপন ওটাই, কারণ সেই সন্দীপনটাই লেখক সন্দীপনের খাঁচার মধ্যে গিনিপিগ। এটা বোঝা কঠিন। এই লোকগুলো আর্টে নিবেদিত; আর্টের আর্টিকুলেশনের বাইরে যে সেলফ সেটা ওদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং প্রহারযোগ্য ছিল - আমার সন্দীপন পড়ে এটাই মনে হয়।
তার জন্য কি 'ব্যক্তি'-কে এক্সকিউজ করা যায়? অর্থাৎ লেখককে এক্সকিউজ হিসেবে খাড়া করা যায়? সন্দীপন থাকলে হয়তো বলতেন যে তার লেখা নশ্বর - তাই ব্যক্তিকে কনডেম করাই যায় লেখাকে ইগনোর করে।
Avatar: গোদা প্রশ্ন

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

কিন্তু ব্যক্তিকে কনডেম করা কি সাহিত্য সমালোচনার অবজেক্টিভ? ধরুন জানা গেল ব্যক্তি সন্দীপন একজন নোংরা চরিত্রের লোক। এটা জেনে আমি পাঠক হিসেবে কোথায় পৌঁছোলাম, আর বাংলা সাহিত্যই বা এই নলেজ অর্জন করে কোথায় পৌঁছোলো?
Avatar: সমালোচক

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

পাঠক বা বাংলা সাহিত্যের কোথাও পৌঁছনো নিয়ে কেউ বদার্ড নয়। একজন লোক যে শিল্প করে বলেই ব্যক্তিজীবনে মোলেস্টর হলে সেই মোলেস্টেশন কেসগুলোকে লোকে (পাঠক বা সাধারণ মানুষ) ওভারলুক করবে, মিটু স্টেটমেন্ট গুলো থেকে সেই দাবীর অসারতা বেরিয়ে আসে। সন্দীপনের গদ্য বাংলা সাহিত্যকে কয়েক যোজন এগিয়ে নিয়ে গেলেও ব্যক্তি সন্দীপন জীবনে মোলেস্টর হলে তাঁকে সেই কাজের জন্য দন্ডিত হতে হবে, ডিফেমড হতে হবে, তাঁর সামাজিক অবস্থানকে লজ্জিত হতে হবে - এটাই বর্তমান বিতর্কের নারীবাদী অবস্থানের দাবী। তিনি সাহিত্য এক্সেলেন্সের মাধ্যমে কোনো মোলেস্টেশন কেসকে খুবই শিল্পসম্মত ভাবে উপস্থিত করতেই পারেন, কিন্তু দিনের শেষে সেই কেসটির জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে, লজ্জিত হতে হবে - এটাই দাবি।

এবার কেস হল উত্তম পুরুষে লেখা যেকোনো সাহিত্যকীর্তিকে লেখকের জীবনপঞ্জী হিসেবে দাঁড় করানোর কিছু আইনি ও বোধগম্য বাধা আছে। থিওরেটিকাল মরাল পুলিসগিরি করার সময়, লোককে মার্ক করার সময় বা আঙুল তোলার সময় সেগুলি ম্যাটার করে না, কিন্তু সেটিকে এস্ট্যাব্লিশ করতে গেলে করে। অনিন্দ্য যেমন বললেন, যে সেলফ এর কনস্ট্রাকসন এবং যে সেলফ এর অটপ্সি সন্দীপনের লেখার বিষয়, সেটাকে সন্দীপন ব্যক্তিমানুষটির সাথে ইকোয়েট করা একটি রাবিশ প্রপোজিশন যতক্ষন না ফিজিকাল ওয়ার্ল্ডের কেউ কোনো বাস্তব ঘটনা হিসেবে সেটিকে আইডেন্টিফাই করছে।
Avatar: অনিন্দ্য সেনগুপ্ত

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

@গোদা প্রশ্ন - না, 'ব্যক্তিকে কনডেম করা' সাহিত্য সমালোচনার অবজেক্টিভ নয়। দেখবেন যে সমস্ত লেখার জবাবে অনমিত্র লিখেছে সেগুলোও ঠিক সাহিত্য সমালোচনা নয়, সেগুলি একধরণের সামাজিক অ্যাক্টিভিজমের পোস্ট। এবার প্রশ্ন হল - লেখা ও পাঠের বাইরে কি তাহলে সাহিত্য আলোচিত হবেনা? উপরে অরণ্য শেষের দিকে যেটা বলেছেন - একজন লেখক কারুর সঙ্গে অন্যায় করলেন, তারপর সেটা ফলাও করে লিখলেন, তারপর সেটাকে সাহিত্যপাঠের ভিতরে ও বাইরে কীভাবে দেখবো?
এখানে ডিসক্লেমার - যেটাকে অরণ্য বলেছেন যে সন্দীপন করেছিলেন - সেটা 'ডকুমেন্টারি' না 'ফিকশন' আমার সন্দেহ থাকবে, আবার তা প্রমাণ করারও উপায় নেই।
প্রশ্নটা হল - একজন লেখক নোংরা হতে পারেন, কিন্তু তার নোংরামোর জন্য অপরের যদি ক্ষতি হয়, তাহলে কি তিনি শাস্তিযোগ কিছু করেছেন? অবশ্যই করেছেন বলে আমার মত। কিন্তু তার নিরিখে তার কাজ পড়ে যাবো কি? এখানে আমি শিওর নই।
অ্যাক্টিভিস্টরা বলবেন যে শিল্প এইসব শিল্পীদের নোংরামি করার অজুহাত তৈরি করে (গত দুসপ্তাহে বাংলা থিয়েটারে মিটু মনে করুন; যেখানে কিন্তু র‍্যান্ডম ব্যাভিচারের অভিযোগ আসেনি; এসেছে আর্ট প্র্যাক্টিস করার অজুহাতে মলেস্টেশনের অভিযোগ), সেটা আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তোলে (পুরুষ)শিল্পী জিনিয়াস ঘোষণা করে, আরো খারাপ, সেই অপরাধ আমরা ইগনোর করতে আরম্ভ করি শিল্প নিয়ে আলোচনা করার কালে, অপরাধ পার পেয়ে যায়। পাবলো নেরুদা আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন তিনি ধর্ষণ করেছিলেন, বর্ণনা করেছিলেন - এরপরও পাবলো নেরুদা মহান কবি হয়ে থাকবেন। অতএব সাহিত্য আলোচনা তার সাহিত্যবহির্ভুত এই নোংরা কর্মটাকে 'ইগনোর' করে চলবে, তাতে প্রমাণিত হবে যে সাহিত্য বাস্তব পৃথিবীর ন্যায়-অন্যায়ের প্রতি উদাসীন।
ফেমিনিস্ট অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে বেশিরভাগ এমনতর শিল্পীকৃত অন্যায়ই জেন্ডারড, অন্য কথায়, নারীদের নিম্নতর মনে করা। কারণ এইরকম শিল্পের ধারণায় শিল্পী আইডেন্টিটিটাই এসেনশিয়ালি ম্যাস্কুলিন।
বেশি লিখে ফেললাম - আদতে প্রশ্নটা হল - ব্যক্তি লেখক কেমন তা সাহিত্য সমালোচনার অঙ্গ নয় - কিন্তু সাহিত্য সমালোচনা ব্যক্তি লেখকের অন্যায়ের প্রতি কি স্টান্স নেবে? উদাসীন থাকবে? আমার কাছে resolved উত্তর নেই।
Avatar: গোদা প্রশ্ন

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

"পাঠক বা বাংলা সাহিত্যের কোথাও পৌঁছনো নিয়ে কেউ বদার্ড নয়। একজন লোক যে শিল্প করে বলেই ব্যক্তিজীবনে মোলেস্টর হলে সেই মোলেস্টেশন কেসগুলোকে লোকে (পাঠক বা সাধারণ মানুষ) ওভারলুক করবে, মিটু স্টেটমেন্ট গুলো থেকে সেই দাবীর অসারতা বেরিয়ে আসে। সন্দীপনের গদ্য বাংলা সাহিত্যকে কয়েক যোজন এগিয়ে নিয়ে গেলেও ব্যক্তি সন্দীপন জীবনে মোলেস্টর হলে তাঁকে সেই কাজের জন্য দন্ডিত হতে হবে, ডিফেমড হতে হবে, তাঁর সামাজিক অবস্থানকে লজ্জিত হতে হবে - এটাই বর্তমান বিতর্কের নারীবাদী অবস্থানের দাবী।"

যে সমালোচনাটার কথা হচ্ছে সেখানে ব্যক্তি সন্দীপন মলেস্টর কিনা তার চেয়েও বড় ইস্যু যেটা করার চেষ্টা করা হয়েছে (আরও অনেকে করেছেন) সেটা হল লেখার মাধ্যমে মলেস্টেশনকে নর্মালাইজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেক্সিজম, মিসোজিনি ইত্যাদিকে গর্বিত ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে, ইত্যাদি। এবং যিনি বা যাঁরা এটা করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আসলে পুরোটাই 'উল্টো বুঝলি রাম' কেস হয়েছে। অর্থাৎ আপনি অনেক মাথা খাটিয়ে একজনের লেখায় ক্যাজুয়াল সেক্সিজম খুঁজে পেলেন, অথচ দেখা গেল সেই সেক্সিজমের উপস্থাপনাটা পুরোটাই লেখার সচেতন ক্রাফটের পার্ট, এবং উদ্দেশ্য মোটেও সে নিয়ে গর্ব করা নয়। এটাকে গোদা বাংলায় মুরগি হওয়া বলা যায়। আবার হাওয়া আপনার দিকে থাকলে গলার শির-টির ফুলিয়ে এবং একটি দল জুটিয়ে আপনি এটাও এস্টাব্লিশ করে দিতে পারেন যে লেখক এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, অর্থাৎ তাঁর লেখার উল্টো ব্যাখ্যার দায় তাঁরই। ফেসবুক যুগে যখন জটিলতা বর্জন এবং সরলীকরণের প্রতিযোগিতা চলছে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় সম্ভবনাটাই সবচেয়ে বেশি।
Avatar: সমালোচক

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

Satabdi Das
June 27, 2018
চন্দ্রিল ভট্টাচার্য বলেছিলেন,’আম বাঙালির কাছে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের স্পেলিং মিস্টেক।’ ভীষণ স্মার্ট খিল্লি! আমাদের কৈশোরে শেখানো হয়েছিল, ‘সন্দীপন না পড়লে পড়েছটা কী?’

পড়তে গিয়ে গদ্যশৈলী চমকে দিল। বিশেষত ছোটগল্পের। উপন্যাস পড়ে মনে হল এত না লিখলেও চলত, কারণ তিনখণ্ডের উপন্যাস সমগ্রটা মিলেমিশে একটাই অস্তিত্ববাদী উপন্যাস যেন।

কিন্তু সুস্থির ভাবে লেখা সম্পর্কে একান্ত ব্যক্তিগত এই যে পাঠকের মতামত, সেটা দেওয়াও সহজ ছিল না। প্রাথমিক ভাবে যে বোধটা হত,সেটা ঘেন্নার। রাগের। ক্ষোভের। একজন লেখকের নায়কেরা অবলীলায় ধর্ষণ করে। প্রিয় নারীকে খুন করতে চায়। কারণ সে তো নিজেই অস্তিত্ববাদী সংকটের আবর্তে। মানব অস্তিত্ব নিয়েই দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন যেখানে, সেখানে নারীর ধর্ষণ,তাকে কুক্কুরীজ্ঞানে অপমান করা..এসব এমন কি আর মাথাব্যথার কারণ!

আজ সকালে অবশ্য হঠাৎ পড়ে ফেললাম, ‘চাইবাসা চাইবাসা’। ফিকশন নয়, ছ পাতার আত্নজৈবনিক এপিস্টোলারি। শক্তি ও সুনীলের কিছু চিঠি তুলে দেওয়া। বস্তুত হয়ত একথা বোঝাতেই যে সন্দীপন তাঁদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। ঘেন্নাটা একদম নাভিকুণ্ড থেকে বমির মতো দলা পাকিয়ে উঠল।

সুনীলের চিঠিটিই বিশেষত লক্ষ্যণীয়। বঙ্গের মূল ধারার সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারক ও বাহক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এখানে কিছু ব্যাখ্যা দিচ্ছেন নিজ আচরণের। কারণ তার আগের একটি ফর্মাল ইংরিজি চিঠিতে সন্দীপন কিছু কাটা কাটা অভিযোগ এনেছেন, তা অনুমেয় সুনীলের চিঠি থেকেই।

অন্য অভিযোগগুলি, দেবেশ রায় সংক্রান্ত কিছু কূট-কচালি ইত্যাদি বাদ দিলে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মূল ব্যাখ্যা ‘সেদিন রাতের ট্রেনের ঘটনা’ নিয়ে। সেটাই চিঠির সিংহভাগ দখল করে আছে। সেই যেদিন ওঁরা চাইবাসা থেকে ফিরছিলেন!

সুনীল বলছেন, সেদিন রাতে ট্রেনে সন্দীপনের পদতলে আদিবাসী এক যুবতীকে বসে থাকতে দেখে তিনি 'খুশি' হয়েছিলেন। ভেবেছিলেন ‘বাসে ছোট ছোট মেয়েগুলির থেকে’ তিনি যেরকম 'তৃপ্তি' পেয়েছিলেন, সন্দীপনও তেমন কিছু পাবেন। বন্ধুর জন্য বন্ধুর সুখ আর কি! ব্রাদারহুড। ক্যামরেদারি। অত:পর সন্দীপনকে গোপনে সেই আদিবাসী নারীর শরীর ছোঁয়ার চেষ্টা করতে তিনি দেখেন। খানিক ভালো লাগা খানিক ঈর্ষা নিয়ে চুপ থাকেন উপরের বাঙ্কে।

এরপর মেয়েটি অসহায়তা ও ক্রোধ নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। তার ‘কুৎসিত’ মা অচেনা ভাষায় কিছু বলে। মেয়েটির চোখে ঘুম ছিল। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হওয়ার ফলে তার ঘুম হয় না।

অর্থাৎ একটি ট্রেনে একজন নারী লাঞ্চিত হচ্ছেন,মলেস্টেড হচ্ছেন একজন পুরুষের হাতে। এবং পুরুষটি ব্যতিক্রমী লেখক যাঁর গদ্যশৈলী না চিনলে কিছুই চেনা হয় না। এই পুরুষ এভাবে শহুরে মেয়েদেরও মলেস্ট করে থাকেন, কিন্তু প্রান্তিক আদিবাসী নারী তাঁর কাছে আরোই সহজভোগ্য। তার শরীরের নানা খাঁজে তিনি রাতের অন্ধকারের সুযোগে হাত তো রাখবেনই- এমনটা মনে করেন তাঁর বন্ধু, যাঁর নামে বাঙলা সাহিত্যে একটি যুগ চিহ্নিত হবে। তিনি এমন মনে করেন, কারণ বাসে ছোট ছোট মেয়েদের শরীর থেকে তিনিও এমন সুখ পেয়েছেন।

অত:পর সুনীল বলেন, আরও হাস্যকর ভাবে, মেয়েটির অসহায়তা তাঁর মধ্যে বিবেকদংশন নয়, অপরাধবোধ নয়,যা জাগিয়ে তোলে তা হল ‘শিভালরি’। মেয়েটির শরীরে হাত না দিয়ে সন্দীপন ‘নিজের বুকে তাকে শুতে দিতে পারত’! অসাধারণ! একজন সরাসরি ভোগ করতে চান।একজন বুক পেতে,মাথা টেনে নিয়ে, ঘুমোতে দিয়ে মেয়েটিকে আবারও, ভোগই করতে চান, তাকে আরেকটু নমনীয় করে। কারো একবারের জন্যও মনে হয়না, ঘুমের বিষয়ে মেয়েটি স্বাবলম্বী।তার যেমন সেই মুহূর্তে যৌনতাকামী হাতের প্রয়োজন ছিল না, তেমনই প্রয়োজন ছিল না আশ্রয় হিসেবে কোনো বুকের। মেয়েটি তার ক্রুদ্ধ চোখ দিয়ে শুধু বলতে চেয়েছিল-এই স্থান,কাল, এই রাত, এই ট্রেন-আমারও।
লিভ। মি। আলোন।

অত:পর, ঠিক তিন দিনের মাথায় সুনীল আবার সন্দীপনের সাহিত্যরীতিতে মনোনিবেশ করেছিলেন, তাঁকে আর ‘জাজ’ করেননি-বলছেন তিনি।

সন্দীপন সব চিঠির পর, ‘চাইবাসা চাইবাসা’ শেষ করছেন এ’কথা জানিয়ে যে, এই সুনীলের সাথেই রোরো নদী পেরিয়েছিলেন, নদীর ওপারে তাঁদের যৌথভাবে জীবনের প্রথম আদিবাসী নারীকে পাওয়া।

ওয়াক এবং থু:!
Avatar: সমালোচক

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

Deep Chatterjee
October 23, 2019 at 11:08 AM ·
এই যে বঙ্গ সংস্কৃতি জগতের অনেক বিশিষ্ট মানুষের নামে মলেস্টেশন, যৌন হেনস্থা, পিডোফিলিয়া, এমনকি অ্যাটেম্পট টু রেপ পর্যন্ত সব কেস রোজ রোজ সামনে আসছে, এই নিয়ে নতুন করে “শকিং!”, “সাংস্কৃতিক অধঃপতন!”, “এতো বিখ্যাত মানুষ, তাও এরকম!” ইত্যাদি বলে ভিরমি যাওয়ার কিছু নেই। বঙ্গ সংস্কৃতি অনেকদিন আগেই মরে গেছে। এখন শুধু শবদেহ প্রিসার্ভেশন ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়ছে বলে মড়া পচার গন্ধতে সবাই নাক ঢাকছেন।
নারায়ণ সান্যাল, ১৯৮৯ এবং ১৯৯২-তে দু’টি বই লেখেন—যথাক্রমে “আবার সে এসেছে ফিরিয়া” এবং “মান মানে কচু”। দুর্ভাগ্যের বিষয় আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগে লেখা বইদু’টি আজ প্রায় বিস্মৃতির অতলে চলে গেছে, এবং সেই বইতে নারায়ণ সান্যাল বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির অধঃপতনের যে আলোচনা যথেষ্ট তথ্য দিয়ে রীতিমত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলেন, সেটা আমরা দেখেও দেখিনি। বদলে সান্যালবাবুকে উদ্ধৃত করেই বলি— “অরুন্ধতী! সর্বস্ব আমার! হাঁ করো, আ-আলজিভ চুমু খাও!”—এই জাতীয় কবিতাকে এবং কবি-সাহিত্যিকদের মাথায় তুলে কিংবদন্তী, সাহিত্য-সম্রাট বানিয়েছি।
ঐতিহাসিক উপন্যাসের নামে বিখ্যাত মানুষ, বাঙালির আইকনদের নিয়ে যে যাচ্ছেতাই করা হয়েছে, ইতিহাস বিকৃতি, তথ্য-বিকৃতির চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সুনীল যে সেই আয়োজনের প্রধান হোতা, সেই নিয়ে নারায়ণ সান্যাল আজ থেকে তিরিশ বছর আগে “আবার সে এসেছে ফিরিয়া”-তে প্রায় লাইন তুলে তুলে দেখিয়েছিলেন, কিন্তু তারপরও “সেই সময়” বা “প্রথম আলো” নিয়ে বাঙালির আদলেখপনা বিন্দুমাত্র কমেনি, উল্টে বইগুলোকে “ক্লাসিক” স্টেটাস দেওয়া হয়েছে। আর সুকৌশলে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে “আবার সে এসেছে ফিরিয়া”-কেই। একটা সংবাদপত্র গ্রুপ আর একটা ধ্বংসাত্মক রেজিমেন্টেড বিদেশী রাজনৈতিক মতবাদে অন্ধবিশ্বাসী পার্টি কীভাবে বঙ্গ-সংস্কৃতি জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য স্থাপনের জন্য এই সাব-স্ট্যান্ডার্ড, খেলো পাবলিকদের সাহিত্য-সংস্কৃতির মহাগুরু বানিয়েছেন, সেটা স্পষ্ট হয়, যখন দেখি এই সুনীল-সন্দীপনরা নিজেদের স্মৃতি-চারণে মলেস্টেশনের কথা রসিয়ে রসিয়ে লিখে, পাবলিশ করে, তারপরও দশকের পর দশক ধরে বাংলার মানুষের স্যালুট পেয়ে যান। তো আজ সেই উত্তর আধুনিক বাংলার নাটক, সঙ্গীত, শিল্প জগতের বিশিষ্টদের মলেস্টেশন, নোংরামি সামনে আসার পর, “এ আমি ভাবতে পারছি না!” বলে বাঙালির আকাশ থেকে পড়ার কী আছে?
না হে বিশিষ্ট বঙ্গসন্তানগণ। আপনারা বিগত প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এইসবই ভেবে এসেছেন। তাই নারায়ণ সান্যাল যখন আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে লিখেছিলেন—“সাময়িক পত্রিকার এইসব পোষা-কবি আর কথা-সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে শুধু ইররেলিভেন্ট নয়, অবসীন! তাদের রচনাবলী পদাঘাতে পাপোসেও ফেলা যাবে না, কারণ পাপোসটা পয়সা দিয়ে কেনা!”—তখন আপনারা সেটা দেখতে পাননি, বদলে সেই পাপস মাথায় দিয়ে দামী বালিস ভেবে শান্তির ঘুম ঘুমিয়েছিলেন। এখনো ঘুমোন। আর নিজেদের সাংস্কৃতিক বলে প্রমাণ করতে এই বইগুলো কিনে ঘরের বইয়ের তাক, আলমারি সাজান। তাই আজ সুনীলের নামে রাস্তা হয়, আর নারায়ণ সান্যালের বই আউট অফ প্রিন্ট হয়। নিজেদের হিপোক্রিসিকে একটু সরিয়ে রেখে, একটা কথা একটু স্বীকার করুন না—আমরা মলেস্টার, আলুর দোষের লোকেদেরই বঙ্গ-সংস্কৃতির আইকন বানিয়েছি। তাঁরা সাহিত্যলালিত পানু-চটি লিখেছেন, আমরা মুগ্ধ হয়ে “মাস্ট রিড ক্লাসিক” বলে সেগুলো পড়েছি, পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়েছি। সেই বইগুলিকে একটার পর একটা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সত্যি জানতে আমরা শিখিনি বা শেখাইনি বা ইচ্ছাকৃতভাবে সে অভ্যেস ত্যাগ করেছি। আমড়ার আঁটি মাটিতে পুঁতলে, সেখানে তো হিমসাগর আম ফলবে না।
বাংলার কালচার হয়ে গেছে কিছু অপ্রয়োজনীয়, দুর্বোধ্য, যৌনগন্ধী, উত্তর আধুনিক বাম আঁতলামো, যার ঘাঁটি নন্দন-অ্যাকাডেমি চত্বর, আর কফি হাউস, যাদবপুর এইসব কিছু জায়গা। এবং সেই তথাকথিত সাংস্কৃতিক জগতে বিগত পঞ্চাশ বছর ভারতের হাজার হাজার বছরের দার্শনিক চিন্তাকে “পুঁজিবাদী সামন্ততান্ত্রিক শোষণ আর বঞ্চনার চক্রান্ত, ফ্যাসিবাদী হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা” বলে “নো এন্ট্রি” বোর্ড দেখান হয়েছে। ফলে আমাদের নিজস্ব যা তা গেছে, আর বিদেশের বদহজম হওয়াগুলো বমি হয়ে বেরিয়েছে। সাংখ্য, বৌদ্ধ দর্শন সোপেনহাওয়ার থেকে শুরু করে সার্ত্রে, কামুদেরও প্রভাবিত করেছে, অদ্বৈত বেদান্ত বিশ্বের তাবড় তাবড় বৈজ্ঞানিকদের ভাবিয়েছে, আর আমরা এখানে বসে, রবীন্দ্রনাথের ঘাড়ে বন্দুক রেখে, নিজেদের লাম্পট্য, পিডোফিলিয়াকে জাস্টিফাই করার জন্য, রবীন্দ্রনাথকেই লম্পট, পিডোফাইল বানিয়ে কুৎসা করা বইয়ের লেখকদের নিয়ে আত্মহারা হয়ে গেছি। আমাদের দেশের একজন মানুষ আজ থেকে অনেক বছর আগে একবার বলেছিলেন—“মনুষ্যসমাজ যেরূপ সাহিত্যের দ্বারা পরিপুষ্ট হয় তার মনোবৃত্তি তদ্রূপ গড়িয়া ওঠে।”—তাঁর নাম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। তো আমরা বিগত কয়েকদশক ধরে উত্তর আধুনিক শিল্প চর্চার নামে, “ইররেলিভেন্ট, অবসীন” সাহিত্য থেকে শিল্প-সংস্কৃতিক জগতের অন্যান্য সবকিছু মাথায় করে নেচেছি—আমাদের মনোবৃত্তিও সেরকম গড়ে উঠেছে। তাই আজ তার স্বাভাবিক পরিণতিতে থিয়েটার, সঙ্গীত, সাহিত্য, বাচিক শিল্প সব জায়গা থেকেই মলেস্টেশন, যৌন হেনস্থা, পিডোফিলিয়া-র ঘটনা উঠে আসছে। এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আমরা এতদিন ধরে “সাংস্কৃতিক মনন” বলে যা বেছেছি, যা চর্চা করেছি, আর যা বাদ দিয়েছি, তার রিটার্ন গিফ্ট। আর্টের নামে উত্তর আধুনিক, দুর্বোধ্য, বাম এলিট, পানু নিয়ে আঁতলামো করলে, আর এই জগতের বাইরে বিশ্বসুদ্ধু সবাইকে অশিক্ষিত ভাবলে, সেসবের প্রতিবাদ করলে “সেক্সুয়াল ফ্রাস্ট্রেশনে ভুগছে, তাই এইসব বলছে” বলে বক্তৃতা দিলে, মলেস্টার, রেপিস্ট, পিডোফাইলরাই কালচার কাকু হয়ে সাংস্কৃতিক জগতে রাজত্ব করবেন। তখন আর এই বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সেলিব্রিটিদের নিয়ে “উনি এরকম! আমি তো ভাবতেই পারিনি!” বলার কিছু নেই।
এইসব মুগ্ধতার বদভ্যেস ছাড়ুন। এটা বুঝুন আপনার সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু নন্দন-অ্যাকাডেমি-কফি হাউস-যাদবপুরের উত্তর আধুনিক বাম আঁতলামোতে নেই, আছে এই দেশের হাজার হাজার বছরের দার্শনিক চিন্তায়, সাংখ্য-বৌদ্ধ-তন্ত্রের আদি যুগ থেকে ন্যায়-নব্যন্যায়-বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হয়ে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ-রবীন্দ্রনাথ-অরবিন্দ পর্যন্ত যার অন্যতম বড় কেন্দ্র আমাদের এই বঙ্গভূমি। “নীরার খোলা পিঠে আমি আঁচড় কেটেছি, তাই তেত্তিরিশ বছর আমি নখ কাটব না” নিয়ে নাল না ফেলে, নিজেদের প্রকৃত সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে অনুসন্ধানী হন। তবে যদি এই দূষিত, ঘৃণ্য পরিবেশ থেকে পরবর্তী প্রজন্ম মুক্ত হতে পারে। নাহলে এ জিনিস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে থাকবে। একসময় সুনীলরা করেছেন, এখন রঙ্গিলা দাড়ুলরা করছেন, পরে আরও কেউ করবেন। আর আমরা একহাতে মলেস্টারদের মহান শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী বলে মাথায় তুলব, আরেক হাতে “ইনি এরকম করলেন! ভাবতেও পারছি না! আমি ওঁর কতবড় ভক্ত ছিলাম।” বলে কপাল চাপড়াব।
Avatar: b

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

যাই হোক, এই প্রসঙ্গে আমি প্রাচীন বঙ্গ্ভূমির সাহিত্যের একটি উদাহরণ দেইঃ

ধীরসমীরে যমুনাতীরে বসতি বনে বনমালী।
পীন-পয়োধর-পরিসর-মর্দন-চঞ্চল করযুগশালী।।


Avatar: Atoz

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

প্রাচীন বঙ্গভূমির বিশিষ্ট সাহিত্য চর্যাপদ এনে ফেললে আর দেখতে হবে না! অবশ্য সেসব সান্ধ্যভাষায় রচিত, নানারকম আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায়।
Avatar: Atoz

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

বি, আপনার উদ্ধৃতটারও আধ্যাত্মিক ব্যাখা দেওয়া যায়।
যেমন ধরুন না কেন, "মৃত্যুর নদীতীরে তিনি জীবনের বনমালী, পরম প্রেমে ক্ষণায়ুশাসিত জীবকে নিয়ত পরিচালনা করে করে তাঁর হাতে কড়া পড়ে গেল। " ঃ-)
Avatar: b

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

এ তো মহাভারতের মামাতো ভাই। ভাগ্যিস ফেসবুক করি না।
Avatar: সমালোচক

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

শতাব্দী দাসের লেখায় কমেন্টগুলো -- তো, এগুলোই অনমিত্রকে দিয়ে সন্দীপন প্রশস্তি লেখায়, এবং এগুলোই আজকের আলোচনার প্রাসংগিকতা বোঝায়। আপনি "গোদা প্রশ্ন", যেদিকে আলোচনাটাকে ঠেলতে চাইছেন - সেক্সিস্ট, মিসোজিনিস্ট অ্যঙ্গেলকে সাহিত্যের কনটেন্ট হিসেবে ফর্ম দ্বারা নর্মালাইজ করার বিরোধীতা, দেখা যাচ্ছে নারীবাদীরা আদৌ করছেন না। তাঁরা ব্যক্তি সুনীল ও সন্দীপনকেই মিসোজিনিস্ট, মোলেস্টার ও সেক্সুয়াল প্রিডেটর হিসেবে আক্রমণ করছেন।
==================================================

Akash Chatterjee পড়লাম। ইঁট পেতে যাই। সন্দীপন সম্পর্কে অনেকগুলো কথা বলা যায়। এই পিতৃতন্ত্র নিয়েই। যাক গে, বাকিরা কী বলে শুনি।
1
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das সন্দীপনকে শুধু পিতৃতান্ত্রিক বলা যায়না। ভয়ানক মিসোজিনিস্ট ও সেক্সিস্ট।
11
Hide or report this
Like
· 1y
Akash Chatterjee
Akash Chatterjee ঠিক। এটা যেমন সত্যি, তেমন এর একটা উল্টোপিঠ আছে। মীরাবাঈ, আলমারি এবং আরো বেশ কয়েকটি লেখায়। অনেকগুলো লেখাতেই। যেখানে সন্দীপন আদপে বিদ্রুপ করেছেন-- নিজেকে, এবং বাঙালি পৌরুষের বিপন্নতা শিভালরি সমস্ত কিছুকেই। এই পৌরুষের আবার সার্টেন ক্লাস আইডেনটিটির জায়গা রয়েছে- তা মধ্যবিত্ত। ধরি মাছ না ছুঁই পানি। এই মানসিকতা, সমস্তকিছুই( যা আদপে সন্দীপনেরও) তা বিদ্রুপের বা উপহাসের মুখোমুখি হয়েছে।
1
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das কিন্তু তাতে মিসোজিনি একই থাকে। নিজেই নিজেকে বিদ্রুপ করেন, নিজেই নিজেকে নিয়ে সঙ্কটে। অন্য লিঙ্গের প্রতি মনোভাব তাতে বদলায় না।
2
Hide or report this
Like
· 1y
Aeonian Anirban
Aeonian Anirban 'আত্মবমন' নামের গল্প টি পড়ুন, যদি আগে না পড়ে থাকেন।
Hide or report this
Like
· 5d
Abhijnan Sarkar
Abhijnan Sarkar জঙ্গলের দিনরাত্রি বলে আজকাল থেকে বেরানো আর একটি বই আছে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের। প্রতিপাদ্য হচ্ছে, অরণ্যর দিনরাত্রি ছবিটি সেই সময়ের স্টার কৃত্তিবাসীদের নিয়ে কত মডারেট আখ্যান, সেটার সমালোচনা।তাদের চাইবাসা ও আদিবাসী অঞ্চলে অভিযান কত বড় যৌন অ্যাডভেঞ্চার ছিল তার বর্ণনা রয়েছে এই বইতে। মোটামুটি সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের ডাইরি।
7
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Satabdi Das
Satabdi Das ওটা পড়েছি। উপন্যাস সমগ্রর পার্ট হিসেবেই আছে।
1
Hide or report this
Like
· 1y
Tripti Santra
Tripti Santra গদ্যটায় অন্য খাজ....তা বাদে খেকুরে, পারভারট
5
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath সন্দীপন পড়তে গেলে যে উইটটা পাঠকের থাকা দরকার তা বহু পাঠকেরই নেই
3
Hide or report this
Like
· 1y
Hide 35 Replies
Satabdi Das
Satabdi Das খুবই উইটি মলেস্টেশন।
11
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das এনিওয়ে, এই এক্সকিউজটাও বহুশ্রুত।
5
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath উহু এক্সকিউজ নয়, এটা একদম বাস্তব সত্যি, আমরা যারা সন্দীপনকে সামনে দেখেছি তারা খানিকটা এই ব্যাপারটার সঙ্গে হ্যাবিচুয়েট। ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায়। লোকে পড়ে হয়ত বলবে এমা কি ঘিনে ঘিনে সেক্স নিয়ে লিখেছে পার্ভাট, তারাই আবার স্মরণজিত পড়ে আহা উহু করবেন। সন্দীপন পড়তে গেলে অনেকটা সজনীকান্ত বুঝতে হবে। ওই লেভেলের প্যারডি সেই সময় দাঁড়িয়ে সজনীকান্ত লিখেছিলেন। ভাবতে পারেন সজনীকান্ত প্রিয় বন্ধু মনোজ বসুকে একজায়গায় বর্ননা করছেন বনজ মোষ বলে। এই উইটটা সকলে নিতে পারেন না। যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে মাগীবাজ এবং শরৎচন্দ্রকে মাতাল আখ্যা দেওয়া হয় কিংবা জীবনানন্দকে অশ্লীল কবি, অনেকটা সেভাবেই এরা সন্দীপনকেও দাগিয়ে দেন
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das আপনার সমস্যাটা কী? যে বইটির পাতা তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটিতে চিঠিটি সুনীলের লেখা, সন্দীপনের না। তা ফিকশন নয়। বাস্তব ঘটনা। এবং তা মলেস্টেশন। এতে আপনি উইট খুঁজছেন?
এই 'আমরা যারা তাকে চিনি-ওরা যারা স্মরণজিত পড়ে' ইত্যাদি ইলিটিস্ট বিভাজন এই পোস্টে অবান্তর। আমরা যারা স্মরণজিত পড়িনা তারা এই ঘটনা ও তা নিয়ে সন্দীপন ও সুনীল উভয়েরই মনোভাব অত্যন্ত বিবমিষা উদ্রেককারী মনে করি।ধন্যবাদ।
24
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Simantini Ghosh
Simantini Ghosh Suvendu Debnath , Molestation ebong Meyeder shorir ke mangshopindo kore tola, ei duto r modhye wit kothay , eta bujhiye bolle badhito hoi.
Ami abashyo Smaranjit porini. Sandipan kichu porechi, ebong tar (fiction) lekhar modhye awsombhob misogyny ebong existential crisis, dutoi prokot bole mone hoyeche. Seta onek bikhyato lekhoker lekha tei paowa jae, karon somajmanoser urddhe khub kom manush e jete paren. Fiction hole tar interpretation niye debate er obokash thake aboshyo.
Kintu eta to mongoRa golpo noy, eta ekti chithi, jate ekta shotyi ghotonar bornona dewa ache. eta kon interpretation e witty seta janar agroho roilo.
5
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath নাহ আমি এই বইটিতে উইট খুঁজি নি সমস্যাও নেই আমার, কারণ লেখকের ব্যক্তিগতজীবন কখনই আমার কাছে উপজীব্য হয়ে ওঠেনি, আমি শিল্পীর শিল্প নিয়েই আলোচনা করতে ভালবাসি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নয়। কারণ শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন তা সে যে কোনও আর্ট ফর্মের শিল্পীই হোননা কেন ঘাঁটতে গেলে যে পাঁক উঠে আসবে, তা অনেকেই সহ্য করতে পারবেন না। বাংলাসহ বিশ্ব সাহিত্যে এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। আমি আপনার এক্সকিউজটি বহুশ্রুত বলার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দীপনকে জানার কথা বলেছি, এই বইটির বা পাতাটির লেখা প্রসঙ্গে নয়।
Hide or report this
Like
· 1y
অন্বেষা সেনগুপ্ত
অন্বেষা সেনগুপ্ত সন্দীপনের সঙ্গে স্মরণজিতের তুলনা অাসছে কোথ্থেকে?
3
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Simantini Ghosh আপনি একটু বুঝতে ভুল করেছেন ম্যাডাম, আমার বক্তব্যটা এই লেখাটির পরিপ্রেক্ষিতে ছিল না। তাহলে তো চিঠি বা লেখাটির উল্লেখ করতাম যে এর মধ্যেও উইট আছে। আমি বলেছি লেখক সন্দীপনের সাহিত্যকর্ম নিয়ে
Hide or report this
Like
· 1y
Raya Debnath
Raya Debnath সন্দীপনের লেখা , লেখার প্রতিপাদ্য নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করতে গেলে সন্দীপনকে ‘চিনতে ‘হবে? মলেস্টেশন উইট? আপনার কাছে উপজীব্য হয়নি কারণ মলেস্টেশনে আপনি উইট খুঁজে পান। আমাদের রাস্তাঘাটে মলেস্টেড হতে হয়তো তাই এই ভয়ানক অপরাধে আমরা উইট খুঁজে পাই না।
এটা একটা ঘেন্না পাওয়া চিঠি। “ব্যক্তিজীবন” দেখেন না মানে? অবশ্য আপনার “দেখা”বা “না দেখায়” আদিবাসী মেয়েটির যৌন হেনস্থা হওয়া আটকায় না। মেয়েরাই খুব একটা মানুষ নয়, তো এ আবার আদিবাসী মেয়ে, তাই না?
12
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath @শতাব্দী এর উত্তরে সন্দীপন কি লিখেছিল সেটা কি ওই বইটিতে দেওয়া আছে? কারণ সুনীলের চিঠি পড়ে, সন্দীপনের জবাব জানতে আগ্রহ বোধ হচ্ছে।
Hide or report this
Like
· 1y
Simantini Ghosh
Simantini Ghosh Tahole seta ekhane khub e oprasongik. Karon lekha ti r mul protipadyo Sandipan er sahityo kormer somalochona noy, otyonto gorhito achoron er somalochona.
ar ei bohu shilpi byektijibon e pervert tai shilpi r shilpo tar byektijbon er theke alada, eta o bohusruto ojuhaat. Kar bhababeg ahoto hobe, starting from Klaus Kinski to Woody Allen to Harvey Weinstein to Dipesh Chaudhuri, ta niye amar kono mathabyatha nei.
This is exactly what perpetuates the permissive environment in which a rape culture thrives.
Orom bhababeg ahoto howai bhalo. At least ekta dialogue o jodi toiri hoy, tahole oneke khub ashojhyo bodh korleo bodhoy samgrik bhabe kono khoti nei.
Dhonyobad.
7
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Raya Debnath Raya Debnath এই তো আমি পুরোটা না পড়েই বলতে শুরু করে দিলেন? আমি কিন্তু আগেই বলে নিচ্ছি আমি সন্দীপনের ফ্যান নই। এবার বলি আমি এই লেখাটির প্রসঙ্গে মন্তব্য করি নি। মলেস্টেশনে উইট আমি খুঁজে পাই সেটা আমার কমেন্ট দেখে বুঝে গেলেন? যাহ বাবা, এ তো আচ্ছা হল দেখছি, ফেসবুকে আজকাল কোনও বিষয়ে কমেন্ট করা দায় হয়ে পড়ছে। আগে শুনুন কি জানুন কি বলতে চাইলাম। তবে না আমার প্রতিবাদ করবেন বা আমাকে বকাবকি করবেন।বাকি রইল আদিবাসী রা মেয়ে কিনা সেটা আমি মর্মে মর্মে বুঝি ম্যাডাম কারণ জীবনে অনেকটা দীর্ঘ সময়ে তাদের মধ্যে কাটিয়ে বুঝেছি, কি পরিমাণ লড়াই তাদের করতে হয় এবং তাদের হয়ে লড়তে গিয়ে চাকরিটি খুইয়েছি।
1
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Simantini Ghosh হ্যাঁ আপনার এই কথাটা খুব জায়েজ এবং যুক্তি সংগত এটা মেনে নিতে কোনও বাধা নেই যে আমার কমেন্টটা অপ্রাসঙ্গিক। আমি শতাব্দীর এই পোষ্টের পুরোটা পড়ে জাস্ট প্রথম লাইনটির পরিপ্রেক্ষিতেই কথা বলেছি অর্থাৎ ওই চন্দ্রিল কি বলেছেন সন্দীপন সম্পর্কে। বাকি সুনীল এবং সন্দীপনের মধ্যে রেষারেষিটা সকলেই জানেন। যদি সন্দীপন এটা করে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই অপরাধ, কিন্তু করেছেন কতটা সেটা একটু সন্দেহ আছে, তাই Satabdi Das র কাছেই প্রশ্ন করেছি দেখুন যে ওই বইটিতে সন্দীপনের উত্তরের চিঠিটা আছে কিনা, কারণ দেখাটা সুনীলের কি না তাই।
Hide or report this
Like
· 1y
Raya Debnath
Raya Debnath আপনি, ভেবে দেখছেন ঠিক কী কী বলছেন? আপনি এসে জ্ঞান দিচ্ছেন কী ভাবে সন্দীপন ‘পড়তে’ হয়, সজনীকান্ত বুঝে সন্দীপন পড়তে বলছেন। বলছেন সবাই নাকি সন্দীপনের “উইট” টা বোঝে না। কোথায় বলছেন কথাগুলো? না, যেখানে স্পষ্টত সন্দীপনের একটি অপরাধমূলক আচরণ নিয়ে কথা হচ্ছে। সেখানে এসে লিখছেন “তিলে খচরামি”টা সবাই করতে পারে না, আবার গলাবাজি করছেন?
আপনি শিল্পির ব্যক্তিজীবন নিয়ে বদারড নন জোর গলায় বলেছেন, এমনকি আপনাকে বিষয়টি আরোও একবার মনে করিয়ে দেওয়ার পরেও। এই সমস্ত কিছুই করতে পেরেছেন কারণ মলেস্টেশন অপরাধটি আপনাকে সরাসরি এফেক্ট করে না এবং আপনি সেটা ছাড়া বিষয়টি বোঝার মত ন্যূনতম সংবেদনশীল নন।
একটা লেখার প্রথম লাইন পড়ে লাফিয়ে এসে গুচ্ছ প্রবলেমেটিক বক্তব্য রেখে অন্যকে নিজের সেই প্রবলেমেটিক মন্তব্য রিরিড করতে বলে এখন বলছেন লেখাটা আপনি পড়েননি?
আপনিতো অসাধারণ
11
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das Suvendu Debnath, আপনি ওঁর কাছের লোক হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছেন অথচ এসব কমবেশি সকলেরই জানা।এখানে কোনো 'উত্তর'নেই।আত্মপক্ষ সমর্থন থাকবে কেন?সন্দীপন একে অপরাধ ভাবছেন না। শুধু একজন নারীকে কীভাবে পেতে হয়, সে নিয়ে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। লক্ষ্য একই। কীভাবে তিনি লেখাটি শেষ করেছেন, তা আমার লেখায় বলা আছে।পড়ে নিন।
6
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Raya Debnath অপনি দেখছি আলোচনার মাঝ খান টুকু এসে পড়ে ব্যক্তিকে বিচার করেন। আমি শতাব্দীর বহুশ্রুত কথাটির পরিপ্রেক্ষীতে বলেছি। যাই হোক আপনার সঙ্গে তর্ক করা বৃথা ম্যাডাম। অথচ এই পোষ্টে একই জিনিস প্রতিবাদ করছেন Simantini Ghosh। ওনার আলোচনার কথা এবং যুক্তি কিন্তু মন্দ লাগছে কারণ যুক্তি সহকারে বলছেন এবং ভুলটি ধরিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে আপনার বক্তব্যটা বড্ড অফেনসিফ হয়ে উঠছে। ভাষাটিও শুধু মাত্র আক্রমণ করার জন্যই মনে হচ্ছে। কারণ আমি একবারও বলিনি লেখাটা পড়িনি বলেছি কি কোথাও? পরিস্কার বলেছি পুরো লেখাটি পড়ে চন্দ্রিলের মন্তব্যটার প্রসঙ্গে আমি বলেছি। আপনি না বুঝলে আমার দায় নয়। আগে বুঝতে শিখুন কি বলতে চেয়েছি ভাল করে পড়ুন। আর এই প্রসঙ্গে এই চিঠিটি প্রসঙ্গে একটু সন্দীপনের উত্তরটা যদি খুঁজে দিতেন। ভালো লাগত
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Satabdi Das নাহ নাহ মোটেও কাছের লোক বলে পরিচিয় দিই নি শতাব্দী, আমি বলেছি আমরা যারা সন্দীপনকে চাক্ষুষ দেখেছি, তার মানে কিন্তু কাছের লোক নয়। বাকি রইলো সুনীলের বক্তব্য এই চিঠিতে, সেটা নিয়ে বলি, সন্দীপন এবং সুনীলের মধ্যে এই ধরণের দোষারোপ পালটা দোষারোপ চিরকাল চলেছে। যখন সন্দীপনকে চিঠিটা লেখা হয়েছে তখন তার তো একটা বক্তব্য থাকবেই তাই না? সুনীল ট্রেনের ওই আবছায়া আলোয় যা দেখেছেন সেটা তো তার ধারণা, কারণ ট্রেনের একদম টপ বাঙ্ক থেকে তিনি দেখছেন নীচের সিটে একজন আদিবাসী মেয়ে সন্দীপনের পায়ের কাছে বসে আছে, সন্দীপন তার শরীর ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন, অর্থাৎ ওই আধো অন্ধকারে সুনীল মেয়েটির মায়ের মুখ মেয়েটির চোখের ক্রোধ দেখতে পাচ্ছেন। সুনীলের বহু লেখায় এভাবে সন্দীপনকে হ্যাঁটা করা হয়েছে, যা পরবর্তী কালে জানা গিয়েছে সন্দীপনের প্রতি রাগ বশতই করা হয়েছে। তাই এখানে সন্দীপনের চিঠির জবাবটিখুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাববেন না আমি সন্দীপনের ফ্যান বা সন্দীপনকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছি। আমি একটা ঘটনার যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র, যে এক পক্ষ শুনেই কারও দিকে আঙুল তোলা উচিত নয়, যখন এই রকম একটা সিরিয়াস অ্যালিগেশনের ব্যাপার। সুনীল এবং সন্দীপনের একে অপরের প্রতি বিদ্বেষটা এবং বন্ধু মহলে একে অপরের প্রতি মনোভাবটা সকলেরই জানা প্রায়। তাই আমি আগ্রহী সন্দীপনের জবাবটা জানার ব্যাপারে
Hide or report this
Like
· 1y
Ipsita Sengupta
Ipsita Sengupta "আমরা যারা সন্দীপনকে সামনে দেখেছি তারা খানিকটা এই ব্যাপারটার সঙ্গে হ্যাবিচুয়েট। ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায়। লোকে পড়ে হয়ত বলবে এমা স্মরণজিত পড়ে আহা উহু করবেন। সন্দীপন পড়তে গেলে অনেকটা সজনীকান্ত বুঝতে হবে। " শতাব্দীর পোস্টটা পড়ার পর আপনি সেই প্রেক্ষিতে এটা লিখলেন Suvendu Debnath বাবু?
5
Hide or report this
Like
· 1y
Raya Debnath
Raya Debnath অফেনসিভ? আপনি একটা লেখা আপনার কথা অনুযায়ী “না পড়ে” সন্দীপনের উইট বোঝাতে আসছেন ? যেখানে একটি মেয়ের যৌন হেনস্থা হয়েছে সেই নিয়ে স্পষ্ট কথা হচ্ছে সেখানে “এক লাইন পড়ে” উইট বোঝাতে এসেছেন আর আপনি অফেনসিভ হওয়ার কথা বলছেন? আপনার বোধ আছে , আপনি কী বলছেন? আমি আপনার প্রত্যেকেই কমেন্ট পড়েছি। অত্যন্ত জঘন্য দিয়ে শুরুই করেছেন আবার এখন নিজের কথা জাস্টিনটাই করছেন?
1
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Ipsita Sengupta হ্যা লিখলাম, কারণ সুনীলের এই চিঠিখানি নিয়ে আমার বহু অংশে সন্দেহ রয়েছে। আপনি হয়ত সুনীল সন্দীপনের রেষারেষিটা জানেন। তাই কারণ যেখানে চিঠির বর্নানা দেওয়া হয়েছে। আবারও বলছি, যে সন্দীপন যদি এমন কাজ করে থাকেন তা ক্ষমার অযোগ্য, কিন্তু আদৌ করেছেন কি না সেটার জন্যই সন্দীপনের উত্তরটা জানার কথা বলছি
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Raya Debnath "না পড়ে" ? এই রে এদিকে আপনি বলছেন আমার সব কমেন্ট পড়েছেন আবার বলছেন আমি লিখেছি "না পড়ে" তাও না পড়ে টা কোট করে।
Hide or report this
Like
· 1y
Raya Debnath
Raya Debnath 😑😑😑😑
আপনি শতাব্দীর লেখাটি পুরোটা পড়েননি নিজে দাবি করেছেন।
এবার নিজে আমার কমেন্ট রিরিড করুন।
আপনি দাবি করেছেন “না পড়েই” আপনি মন্তব্য করেছেন। আপনার এই “না পড়ে “ মন্তব্য অতন্ত হাস্যকর , তাই “ “ অবতারণা? বুঝেছেন?
নাকি আরোও ভেঙে বোঝাতে হবে?
1
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Ipsita Sengupta একবার সুনীলের বর্ননাটা পড়ে দেখুন, তিনি রয়েছেন রাতের বেলা বাঙ্কের মাথায়, ঘুমোবার চেষ্টা করছেন, অথচ তিনি এতটাই মহান যে মুখ ফিরিয়ে নিলেন বন্ধুকে আটকালেন না প্রতিবাদ করলেন না। নিজের বাবাকে পরলোকগত ভেবে নিলেন। আবার আদিবাসী মেয়েটির চোখে আগুন দেখলেন। তিনি তো সবচেয়ে বড় অপরাধী তাহলে ধরতে হবে চোখের সামনে অপরাধ হতে দিয়েও চুপ করে রইলেন। অবিশ্যি যদি সন্দীপন আদৌ তেমন কিছু করে থাকেন। একজায়গায় সুনীল এই চিঠিতে লিখছেন, "এই সময় আমি দেখতে পেলুম আপনার পদতল থেকে মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো। তার একপাশে আপনি অন্যদিকে কালো রঙের একটি পুরুষ, সামনে একটি কুৎসিত বৃদ্ধা পেছনে দেওয়াল"। একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন দৃশ্যটা। ট্রেনের নীচের সিট, একজন পুরুষ সেই সিটে বসে আছেন, মেয়েটির একপাশে অন্য একটি পুরুষ, সামনে একটি বৃদ্ধা। তারপরও সুনীল যেটা বলছেন সেটা সম্ভব কি না? এটি সেই সময় অধিকাংশ ট্রেন সফরে মদ্যপ অবস্থায় থাকা সুনীলের কতটা কল্পনা আর কতকটা বাস্তব? Raya Debnath এবং যারা আমাকে বলছেন তাদের সকলকেই একটু ভেবে দেখার কথা বলছি। "আবার সুনীল ঠিক পরের লাইনেই বলছেন মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো শুধু শরীরের গ্রন্থি গুলোকে একটু সহজ করে নিতে চাইল"। সুনীল বারে বারে চিঠিতে নিজের কল্পনাকে আশ্রয় করে নিলেন। এই চিঠিটি সম্ভবত অরণ্যের দিনরাত্রির সময়কার লেখা। কারণ সুনীল ওই উপন্যাসে সন্দীপনকে না রাখায়, (কারণ সন্দীপনের দাবী অনুযায়ী সন্দীপন ওই সফরে ছিলেন) সন্দীপন পড়ে ওই একই ধাঁচে একটি উপন্যাস লেখেন যেখানে তিনি আবার রাগ বশত সুনীলকে জায়গা দেন নি।
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Ipsita Sengupta
Ipsita Sengupta Suvendu Debnath কিন্তু আপনার প্রথম কমেন্টেই কিন্তু কোথাও সন্দেহ প্রকাশ ছিল না - ছিল কি? বরং " ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায় " গোছের আত্মশ্লাঘা বোধ করেছেন। :-)
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das ইনি এরকম সুনীল ভার্সাস সন্দীপন তরজা কেন করছেন, কেউ বুঝলে আমায় বুঝিও। দুজনেই সমান মিসোজিনিস্ট ও মলেস্টার এটাই তো বলার চেষ্টা হচ্ছিল।
6
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Ipsita Sengupta সে প্রশ্নের জবাব কিন্তু আমি দিয়েছি Simantini Ghosh এর জবাবে। সেই ভুলটা স্বীকারও করেছি যে হয়ত প্রসঙ্গত আমি ঠিক বলি নি
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath Satabdi Das আমি তরজা করছি না Satabdi Das আমি আপনার ওই একটি কমেন্ট "সন্দীপন সম্পর্কে বহুশ্রত" বলার পর যেভাবে আক্রমণ শুরু হল তার বিপক্ষে যুক্তি দিতে চেয়েছি। ওই কমেন্টটি করার পর এমন রে রে শুরু হল যেন সন্দীপন বা সুনীল নন মলেস্টেশনটা আমিই করেছি, বা একজন মলেস্টারকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছি। নইলে এত কথা বলতাম না"।
Hide or report this
Like
· 1y
Raya Debnath
Raya Debnath নিরন্তর এতটা বাজে কী করে বকা যায়? জাস্ট কীভাবে?
2
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das আপনি মলেস্টেশন করেননি। কেউ তা বলেননি।আপনি মলেস্টারকে ডিফেন্ড করেছেন, কারণ নাকি তিনি'উইটি', সেক্ষেত্রে প্রতিবাদ আসবেই। আপনার একটু ভেবে বলা উচিত ছিল প্রেক্ষিত ও প্রসঙ্গ। এখানে সন্দীপনের শৈল্পিক নৈপুণ্য আলোচনা হচ্ছে না।
3
Hide or report this
Like
· 1y
Ipsita Sengupta
Ipsita Sengupta Suvendu Debnath আপনার সেই কমেন্টটিও পড়লাম। অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট করেছেন এবং বলেছেন প্রথম লাইন দেখে লিখেছেন। কিন্তু "ওই তিলে খচরামি"টার কথা সেখানে তো ছিলনা। বলছিলাম কি খচরামি করিনা বলে খচরামি বুঝিনা সেটা নয় কিন্তু ভাই। :-)
1
Hide or report this
Like
· 1y
Raya Debnath
Raya Debnath আমাদের এই সাহিত্য সাহিত্যিক নিয়ে আলোচনায় নির্মম ভাবে সেই মেয়েটা ঢাকা পড়ছে যে শুধু মেয়ে নয় সাঁওতালও । ফলে বাবুদের কাছে ‘সহজলভ্য’। এই সাহিত্য নিয়ে এই মুহূর্তে অপ্রাসঙ্গিক আঁতলামিটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছে । বোঝা যাচ্ছে না?
6
Hide or report this
Like
· 1y
Simantini Ghosh
Simantini Ghosh 1. Suvendu apni bollen apni protyokkho bhabe dekhechen adibasi mohila ra kirokom shoshoner sommukheen hon, ebong tader jonye lodte giye chakri hariyechen.
sekhetre shikkhito shohure babu ra adibasi meyeder gaye haat deben lukiye, ei Oteebo common exploitation ta apnar kache erokom abishashwo ebong aschorjojonok, eta I adbhut contradictory lagche.
Khyatonama sahityik ba personal porichiti thakle I she manush e achoron korte sokkhom nawn, eta to just classist ebong personal bias.
2. Je kono post e comment korar age puro post ta pore korle bhalo hoy na Ki?
3. Apologia is apologia at the end of the day. Apni Ek Bar wit bole theme jan ni, even after Satabdi pointed out the molestation angle, er pore tile khochrami theke Sajanikanto etc sahityacharcha tene anlen.
Seta oprasongik point out korate bolchen Sunil Ki kore dekhlen, eta sotyi na Mithye.
Satabdi r post e etao royeche eta ekta autobiographical epistolary ebong Sandipan sesh korechen ei bole je Sunil er songe tini joutho songom korechen adibasi nari r sathe- er pore reshareshi ta ekhane kothay dekhchen?
Je khane Sunil porom oudarjye tindin pore sahityer khatire abar sob bhule gelen,
If anything they both represent the same evil, a boys club of entitlement and privilege, keu bus e bacha meyeder theke shorir sukh pan, keu train er adibasi meyeder theke.
Ei sadharon jinish gulo Ki kore eto durbodhyo hoy eta I rohosyo.
Jai howk. Further comment er aage ekbar puro post ta porle, ebong somalochona ta keno, kisher biruddhe, eta bujhe comment korle bhalo hoy,
6
Hide or report this
Like
· 1y
Sankha Subhra Mullick
Sankha Subhra Mullick Ini ekhono vejacchen :( .. Tobe tomra khubi thanda vabe boktobyo gulo tackle korcho .. I should watch and learn
Hide or report this
Like
· 1y
Sayantani Adhikary
Sayantani Adhikary Ei suvendu babu r boktobyo khub i common. Jemon "ekta lok eto matal chilo je dnarate parchilo na, tahole she molest korlo ki kore?" "Bus e oto mahila chilo karur kichu holo na, oi molested holo erokom hoy naki?" "Eta ekta trap. Cheletake exploit/malign korar jonyo bolche eshob."
2
Hide or report this
Like
· 1y
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar Aro ekta katha mone hoy, je bipul buddhidipto jonopriyota Sunil sandipan peye cholechhen tate bojha jaye misogyny, molestation eigulo sudhu accepted i noy bipul bhabe appreciated. Aajkal publicly ei sob bola mushkil... ei r ki .
Fole Suvendubabur boktobyo ta o thik line ei ache
4
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
সুব্রত ঘোষ
সুব্রত ঘোষ একদম। ওয়াক এবং থু।
4
Hide or report this
Like
· 1y
Kshanika Santra
Kshanika Santra dey PePe Dey
Hide or report this
Like
· 1y
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar মনের কথা বললে হে। এই কারণে একাধিকবার চেষ্টা করেও সন্দীপন পড়ে উঠতে পারিনি। সুনীলের বড়দের উপন্যাস গল্পও তথৈবচ। এ ব্যাপারে অশিক্ষিতই রয়ে গেছি।
8
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das সাহিত্যের ছাত্ররা বা সাহিত্যিকরা পড়ুন, শিখুন। সাধারণ পাঠকের স্বাধীনতা থাকুক বর্জনের, শুধুমাত্র বিষয়বস্তুর কারণেই।
6
Hide or report this
Like
· 1y
Bahata Ansumali Mukhopadhyay
Bahata Ansumali Mukhopadhyay খুব দরকারি লেখা পড়ালেন । ধন্যবাদ
2
Hide or report this
Like
· 1y
Riju Basu
Riju Basu মিসোজিনিস্ট সেক্সিস্ট তো বটেই মেয়েদের কনসেন্ট নিয়ে এক ধরনের মানসিক পঙ্গুতা পুরুষকে অসাড় করে রেখেছে। সুনীলদের এসব চিঠিচাপাটিতে এগজটিক পশ্চিম নিয়ে রোম্যান্সের বাইরের এই নোংরামি আমরা ধরতে পারিনি বহু বহু দিন। ছেলেদের অনেক কিছুই আনলার্ন করার থাকে। সুনীলদের দিন গিয়েছে, যারা আছি তাদের শেখার পর্ব।
16
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath একদম Riju Basu দা, তবে সুনীলের এই চিঠির বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়, তোমারও কি তাই মনে হয় না?
Hide or report this
Like
· 1y
Riju Basu
Riju Basu সন্দেহ কিসে? এমনটা নাও ঘটতে পারে?
Hide or report this
Like
· 1y
Suvendu Debnath
Suvendu Debnath নাহ, সন্দটা সুনীল বলেই, যে সেটি কতটা বাস্তব আর কতকটা সুনীলের মস্তিস্ক প্রসুত
Hide or report this
Like
· 1y
Riju Basu
Riju Basu তা জানি না, তবে নানা গর্হিত অপরাধ নিয়ে ছেলেদের বোধের খামতি শিক্ষিতদের মধ্যেও দেখা যায়।
6
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das মহা জ্বালা।সন্দীপন এই ঘটনা অস্বীকার করেন নি। আদৌ।সন্দীপন নিজেই চিঠিটি ছেপেছেন, নিজের 'চাইবাসা চাইবাসা' নামক এপিস্টোলারিতে। এবং একরকম স্বীকার করেছেন চাইবাসা অধ্যায়ে এরকম অনেক কাণ্ড তাঁরা একসাথে ঘটিয়েছেন। (তারপরে আবার একে অন্যকে দোষারোপ করেছেন)।
এক কথা শুভেন্দু বাবুকে বারবার বলা মুশকিল।
7
Hide or report this
Like
· 1y
অলোকপর্ণা
অলোকপর্ণা চটি নামক গল্পটা ছাড়া সন্দীপনের বাকি গল্পগুলো একই বয়ানের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে। তারপর আর উপন্যাস বা অন্যান্য লেখা পড়িনি।
3
Hide or report this
Like
· 1y
Ayan ChakrabortiActive Now
Ayan Chakraborti Sandipan ke aamio kinchit chakkhush korechhi, Sunil keo. Onara meyeder proti bodher byapare gorporta chhele der motoi chhilen. Meyeder jouno object er baire khub ekta kichhu bhabten na. Er songe onader sahityik hisebe mulyayon er somporko nei. Aabar khanik achheo.
7
Hide or report this
Like
· 1y
Sayantani Adhikary
Sayantani Adhikary Sandipan besh kom boyeshe porechilam. Tokhon sexism ebhabe bujhtam na. Tao bhoyanok awsasti hoechilp
1
Hide or report this
Like
· 1y
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar Ei aswasti tai katiye ar porte parini.
1
Hide or report this
Like
· 1y
Sayantani Adhikary
Sayantani Adhikary Ekdom. Amio duto teente porechilam. Ekhon porle boi toi chnure felbo sure. Sunil porao bondho korechi
1
Hide or report this
Like
· 1y
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar আম্মো
1
Hide or report this
Like
· 1y
Riju Basu
Riju Basu আমি সন্দীপন সেভাবে পড়িনি। পড়তে চাই। শতাব্দীর পোস্টটা সন্দীপনের সাহিত্যকর্ম নয়, সুনীলসন্দীপনদের একটা বয়সের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞান নিয়ে, সাহিত্য নয়। সাহিত্যের সঙ্গে এই মানসিকতার যোগ থাকতেও পারে, কিন্তু একমাত্র সেটাই সন্দীপনের সাহিত্য বিচারের মাপকাঠি হবে না। মিসোজিনিস্ট সন্দীপনও বড় বা জরুরি সাহিত্যিক হতে পারেন, কিন্তু। এই নানা রকম আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দীপনকে পড়া জরুরি মনে হচ্ছে।
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das পড়ো না কেন? 'আজকাল'-এর তিন খণ্ডে উপন্যাসসমগ্র। 'মিত্র ঘোষ'-এর দুই খণ্ড গল্পসমগ্র। এছাড়া ডায়রি চিঠিপত্র। হাতের কাছে না থাকলে এর সব কটাই পিডিএফ এ পাওয়া যায়।আমারবই ডট কম-এ।
ওঁর রচিত প্রায় সব কিছু মিসোজিনিস্ট। এতটাই যে 'কলেরার দিনগুলিতে প্রেম'-এ শেষে একটি চিঠি আছে অত্যাচারিত মেয়েটির(চরিত্রটির) লেখা।যেখানে সে বলছে তাকে খেলনা ছাড়া,সেক্স অবজেক্ট ছাড়া কিছু ভাবা হয়নি, কিন্তু তা সত্ত্বেও উপন্যাসের আসল মিসোজিনিস্ট সুর এতটুকু ক্ষীণ হয়নি। চিঠিটাই আন-সন্দীপনলাইক, খাপছাড়া, উপন্যাসের প্রতি অবিচার, অযথা ব্যর্থভাবে পলিটিকালি কারেক্ট থাকার চেষ্টা মনে হয়েছে।
সন্দীপনের খুব ভয়ংকর লেভেলের নারীদ্বেষী।
2
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Satabdi Das
Satabdi Das মুশকিল হচ্ছে, আমি ব্যক্তিগত ভাবে, কোনো লেখা মিসোজিনিস্ট রেসিস্ট ইত্যাদি হলেও সাহিত্যশৈলী আপ্রিয়েশিয়েট করতে ট্রেনিং প্রাপ্ত, কারণ সাহিত্যের ছাত্রী। কিন্তু ওটা আজকাল আর পারিনা। পারলেও পারাটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
3
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar আমি আবার মিসোজিনিস্ট রেসিস্ট ইত্যাদি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে বঙ্কিম, শরৎ, ত্রৈলোক্যনাথ, রবীন্দ্রনাথ, বিভূতিভূষণ, নরেন মিত্র, বনফুল , শরদিন্দু , শীর্ষেন্দু, শ্যামল ইত্যাদি পড়তে পড়তে সন্দীপন আর সুনীলে এসে ঠেকে গেলুম।
2
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Riju Basu
Riju Basu আসলে মিসোজিনিস্ট চরিত্র নিয়ে লেখা যেতেই পারে, কিন্তু লিখতে গিয়ে লেখাটাই নারীবিদ্বেষমূলক হয়ে গেলে মুশকিল। শেক্সপিয়রের কত ধরনের চরিত্র তবু মনে হয়, শেক্সপিয়রের আসলে নাগাল পাওয়া গেল না
3
Hide or report this
Like
· 1y
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar লেখাটাই নারীবিদ্বেষমূলক ঠিক নয় হয়তো। লেখাটার তলে তলে যে সুর বাজে, সেইটে নারী-অবজ্ঞাকারী।
1
Hide or report this
Like
· 1y
সুকল্প দত্ত
সুকল্প দত্ত মৃত্যুর তেরো বছর বাদেও সন্দীপনের কুখ্যাতি যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে,জানলে তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ ফিচেল হাসি হাসতেন।সন্দীপনকে মানুষ চাইলেও ভুলতে পারবেন না এই কুখ‍্যাতির জন্যই শুধু।তিনি যে মনে প্রাণে বিতর্কিত হতেই চেয়েছেন।তাই নিজেকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি।পাঠককে সবটা খুলে দেখিয়েছেন,দেখ আমার ব‍্যক্তিজীবনের অজাচার,যাতে তাদের গলার ভিতর একদলা থুতু জমে যায় ও তা সজোরে নিক্ষিপ্ত হয় তাঁর মুখে।নাহলে তিনি এই মারকাটারি চিঠিটিকে গল্পসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত করতেন না।তাঁর লেখালিখিকে স্রেফ মাংসবিক্রি বলে গেছেন।একজন না-লেখক থেকে সার্বিকভাবে অমানুষ হয়ে উঠেছেন।কিংবা একজন অমানুষ থেকে না-লেখক।বাংলাগদ‍্যের এক এবং অদ্বিতীয় 'ভিলেন' তিনি।আজ এই বিতর্ক যেন এই স্টেটমেন্টকেই আরও একবার উশকে দিল।পাঠককে কুর্ণিশ।আসুন আরও ঘেন্না করে অমর করে তুলি সন্দীপনকে।
1
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Sankha Subhra Mullick
Sankha Subhra Mullick Mane ?
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das পুরো আলোচনায় সন্দীপনের চরিত্র চিত্রণ লক্ষ্য ছিল না, তাঁকে স্মরণ করাও নয়। সেটা আপনি কোনো কারণে বোঝেন নি। সন্দীপনকে নিন্দার ছলে স্মরণ করার হলে সুনীলকে নিয়ে কোনো শব্দ খরচ করা হত না।
একটা নির্দিষ্ট জেনারেশনের লেখকদের জেন্ডার ইনসেন্সিটিভি নিয়ে সামান্য কিছু কথা বলা হয়েছে। সন্দীপনের সূত্র ধরে এরপর হাংরি জেনারেশনের প্রায় প্রত্যকের জেন্ডার ইন্সেন্সিটিভিটি নিয়ে বলা যায়, এক এক করে। তাতে তাদের মধ্যে জীবিত ও মৃতরা কে কে ফিচেল হাসি হাসলেন, তা নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই।
দ্বিতীয়ত, যে নারীর সাথে লাঞ্চনা ঘটছে, তিনি আমাদের কাছে বরং স্মরণীয়। তিনি ও তাঁর বেদনা আলোচ্য। তাঁর প্রকৃত মানসিক অবস্থার প্রতি দুজনেরই বোধের অভাবই আলোচ্য।
7
Hide or report this
Like
· 1y · Edited
Arnab Mukherjee
Arnab Mukherjee Satabdi Das আমি আপনার সাথে একমত যে সমাজমানসে এই সংবেদনহীনতা, এই বুঝতে না পারা, বুঝতে না চাওয়া বেশ প্রচলিত। যে সাহিত্যিক সংবেদনশীল নন, তিনি/তাঁরা নিন্দনীয়। কোনো যুক্তি দিয়ে , তার সাহিত্যগুণ বা সাহিত্যিক হিসাবে তার জনপ্রিয়তা দিয়ে, তাঁর মানসিকতাকে সমর্থন করা যায় না।
এটা যেমন সত্যি, তেমন ই, একজন লেখকের সমাজের সত্যিকে তুলে ধরাও জরুরি। তাতে তাঁর মতামত যোগ হবে কিনা তা বিতর্ক সাপেক্ষ।
তাই কোনো সাহিত্যিক নিজেকে উজাড় করে লিখবেন কিনা তাও বিতর্কিত। তিনি ফলাফল স্বীকার করতে বাধ্য থাকা প্রয়োজনীয়।
আমি একমত থাকলাম আপনার সাথে যে ওই মানসিকতার প্রতি ঘৃণায় আমার অধিকার। আর আমার মা, বউ বা মেয়েকে এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাতে না যেতে হয়, তার জন্য মতামত তৈরি করা আমার কর্তব্য।
1
Hide or report this
Like
· 1y
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar Arnab Mukherjee একটা কথা মনে হল। আপনার মা মেয়ে বা বউকে এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাতে না যেতে হয় , এইটে দেখা আপনার ব্যক্তিগত কর্তব্যের মধ্যে ফেললেও , সেইটা খুব একটা হবার নয়। বরং কোনো পুত্রের হাতে না কোনো নারীকে লাঞ্ছিত হতে হয় সেইটে নিশ্চিত করা সব ছেলেদের মা বাবাদের দায়িত্ব বলে মনে হয়। সেই মানসিকতা বাড়ির বাতাবরণে তৈরি করা সম্ভব।
3
Hide or report this
Like
· 1y
Arnab Mukherjee
Arnab Mukherjee Mahasweta Samajdar আসলে মনের কথাই লিখছিলাম। আমার ছেলে নেই, তাই মেয়ের কথাই লিখেছি। ঠিক বলেছেন। নিজেকে বদলাতে চেষ্টা করছি আর আশেপাশ কেও (ভাই, বন্ধু ইত্যাদি)।
2
Hide or report this
Like
· 1y
Mahasweta Samajdar
Mahasweta Samajdar Arnab Mukherjee মেয়ের বাঁচাটা অনেকাংশেই ভাগ্যনির্ভর।ওতে আর আমাদের হাত নেই।
1
Hide or report this
Like
· 1y
Arnab Mukherjee
Arnab Mukherjee Mahasweta Samajdar কোনোদিন ই ছিল না। আলোচনার বিষয়বস্তুতে ফেরা যাক। আমরা চেষ্টা করছি। কোনো কোনো পুরুষ ও। এটুকুই সার।
3
Hide or report this
Like
· 1y
Debarshi Ghosh
Debarshi Ghosh Prachur naam sunechi,porini . Eta shune ar porar ichheo nei. Je juger lekhok i hok, dhorshon niye glorification porar moto bashona nei. Tar cheye Taranshakar,Rabindranath era benche thakuk. Oi juger nirikheo nijeder moto kore narider jotota sensitively bojhar ,sei chesta ora kore gechen.
2
Hide or report this
Like
· 1y
Debabrata Shyamroy
Debabrata Shyamroy এটা কোথায় পড়ছেন? গদ্যসংগ্রহ?
Somen Basu লেখাটা দেখে রাখো।
Hide or report this
Like
· 1y
Satabdi Das
Satabdi Das গল্পসমগ্র প্রথম পার্ট। মিত্র ঘোষ।
2
Hide or report this
Like
· 1y
Somen Basu
Somen Basu দেখেছি
Hide or report this
Like
· 1y
সুস্মিতা ঘোষ
সুস্মিতা ঘোষ Satabdi di, ei post ta ami ektu akta reference hishebe share korbo?
Hide or report this
Like
· 5d
Satabdi Das
Satabdi Das সুস্মিতা ঘোষ কোথায়?
Hide or report this
Like
· 5d
সুস্মিতা ঘোষ
সুস্মিতা ঘোষ Satabdi Das একটা পোস্টে একজন জানতে চাইছেন, কোনো বইয়ে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের মলেস্টেশনের কোনো রেফারেন্স কেউ পেয়েছে কীনা? পোস্টটার ছবিটা রেফারেন্স হিসেবে দেখাতাম।
1
Hide or report this
Like
· 5d
সুস্মিতা ঘোষ
সুস্মিতা ঘোষ আর তোমার লেখাটা তো খুব পরিষ্কার আর তীক্ষ্ণ ভাবে লেখা। তাই পোস্ট। তবে শুধু ছবিটা হলেও হবে।
1
Hide or report this
Like
· 5d
Satabdi Das
Satabdi Das আচ্ছা। হ্যাঁ।
Hide or report this
Like
· 5d
Sumona Choudhury
Sumona Choudhury Shamim Ahmed Saswati Bhattacharjee
Hide or report this
Like
· 5d
Debabrata Shyamroy
Debabrata Shyamroy বাংলা গদ্যের বিশিষ্ট এক লেখকের বোদ্ধা চ্যালারা কীভাবে লেখকের মৃত্যুর পর তাঁর চূড়ান্ত পারভাশনকেও সমর্থন করছেন, সাহিত্য দিয়ে জাস্টিফাই করছেন, তা দেখার জন্য এই থ্রেডটার কাছে বারবার ফিরতে হবে।
7
Hide or report this
Like
· 5d
Aeonian Anirban
Aeonian Anirban ইনফ্যাকত্ 'অরণ্যের দিনরাত্রি ' ও খুব বাজে রুচির উপন্যাস মনে হয়েছে।
2
Hide or report this
Like
· 5d · Edited
Aeonian Anirban
Aeonian Anirban শেয়ার করব ?
Hide or report this
Like
· 5d
Satabdi Das
Satabdi Das Aeonian Anirban hyan
Hide or report this
Like
· 5d
Jaya Thakur
Jaya Thakur ঘেন্না
Hide or report this
Like
· 5d
Aditi Basuroy
Aditi Basuroy Amader sob ‘purush ‘ lekhok ...AHA ei to asole monovab ..kon dik e jai bolo to ?
1
Hide or report this
Like
· 5d
Sayan Das
Sayan Das Suvendu Debnath er prothom comment, jekhane uni molestation er wit na dhorte para niye dukkho prokash korechhen tate love reaction die gechhilen sei prokashok jini 'metoofeetoo' theke surakkhito thakar upodesh biliyechhilin. Jak, uni je andoloner purono sathi, molestation er pokkhe jodio, tar abar proman pawa gelo
Hide or report this
Like
· 5d
Tinku Khanna
Tinku Khanna ধন্যবাদ শতাব্দী আপনার সুস্পষ্ট তীক্ষ্ণ লেখাটির জন্য। আমি চাইবাসা চাইবাসা পড়িনি। কিন্তু অরণ্যের দিনরাত্রি পড়ে আমার বিবমিষা হয়েছে। আমাদের কলেজ জীবনে সন্দীপন cult figure ছিলেন। কিন্তু ওঁর অসম্ভব mysogynistic লেখা পড়তে ভীষণ বিরক্ত লাগতো।
4
Hide or report this
Like
· 5d
Aeonian Anirban
Aeonian Anirban Tinku Khanna
অরণ্যের দিনরাত্রি সম্পর্কে আমি পুরো একমত। এটি একটি বিকৃত রুচির বাবু কালচারের মহিমা কীর্ত্তন।
1
Hide or report this
Like
· 5d
Manobi Bandyopadhyay
Manobi Bandyopadhyay সবটাই অরণ্যের দিনরাত্রি । এমনি দেশি সহ্য হয় না রবিবার রেওয়াজির জন্য লাইন । আদিবাসি ,! যৌনতায় পুরুষরা ছেলেমানুষ । প্রতিটি পুরুষই জানে তার নারীটি সুখের ভান করতে বাধ্য হয় । আশালতা বিনোদিনীর খোলস যখন ঋতুপর্ণ ছাড়ালেন আমরা বাল্মীকির রতি ক্রিয়া যেন দেখে ফেললুম । তবেই তো ঐশ্বর্যর দোহাই ।
1
Hide or report this
Like
· 5d
সুস্মিতা ঘোষ
সুস্মিতা ঘোষ আজ সন্ধ্যায় দু'টি জ্ঞানলাভ হলো।
১) সুনীল-সন্দীপনের সময়ে লোকজন 'কনসেন্ট' শব্দের মানে বুঝতো না। আজকের বিচারে ওঁদের বিচার করলে চলবে না। তাই ঘটনাটি অনভিপ্রেত হলেও অপরাধ নয়।
২) ঘটনাটা ঘটেই নি! পুরোটা সুনীল ব্যঙ্গার্থে লিখেছেন। মহৎ সাহিত্য ইত্যাদি।
ও হ্যাঁ। সন্দীপন একজন মহান নারীবাদী। এটিও পড়লাম।
এসব মন্তব্য পড়লাম আবার চাড্ডি-বাম-লিবারাল নির্বিশেষে। Mahasweta দি, তুমি ঠিকই বললে। আমাদের নিজেদের দল চাই।
4
Hide or report this
Like
· 4d
Jaya Thakur
Jaya Thakur সন্দীপন? নারীবাদী? Seriously 🙄🙄🙄🙄
1
Hide or report this
Like
· 4d
Jaya Thakur
Jaya Thakur ওনার গদ্যের স্টাইল আর ফর্ম ইউনিক বলে উনি ভগবান নন। কেউই নয়
1
Hide or report this
Like
· 4d
Sankar Das
Sankar Das কলেজ জীবনে পড়েছিলাম। এই লোকগুলো চিরকালের হারামী সে কথা সবাই জানে। হাংরী মুভমেন্টের নারীবিদ্বেষী চরিত্র থেকে এদের সূত্রপাত। নন্দিনীর Nandini Dhar একটা ভাল লেখা আছে হাংরী নিয়ে। আয়নানগর পত্রিকায়।
1
Hide or report this
Like
· 4d
Yashodhara Ray Chaudhuri
Yashodhara Ray Chaudhuri Satabdi Das আমার বহুদিনের প্রজেক্ট সন্দীপনের লেখার নারীবিরোধী জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করা যেভাবে হেনরি মিলারকে চিহ্নিত করেছিলেন নারীবাদীরা যথা এরিকা ইয়ং। কাজটা ত তুমিই শুরু করে দিয়েছ। থ্যাংক ইউ। বাকি পুরো বাংলা সাহিত্যের ক্যাননটাই তারপর ধরতে হবে।
13
Hide or report this
Like
· 4d
Aditi Basuroy
Aditi Basuroy Yashodhara Ray Chaudhuri Shirsendu er lekha teo khub naribirodhita achhe ..nischoi dekehchho ..bisesh kore Meye der kaj kora byapar e jao Pakhi te bola hoyechhe chhele der Bogol er gondho shnukte Meye der kaj e jaoar dorkar nei ba Dhiman purush er mon er Tol paoa Meye der kommo noy . Echharao onek achhe eta mone Porlo
2
Hide or report this
Like
· 4d
Yashodhara Ray Chaudhuri
Yashodhara Ray Chaudhuri Aditi Basuroy অবশ্য ই আছে
Hide or report this
Like
· 4d
Raka Dasgupta
Raka Dasgupta Aditi আমি ঠিক এই কারণেই শীর্ষেন্দুর লেখা নিতে পারি না রে! যত ভালোই লিখুন না কেন। পিতৃতান্ত্রিকতা, ব্রাহ্মণ্যবাদের এমন একটা strong undercurrent থাকে !
সুনীলকে প্রোগ্রেসিভ ভাবতাম, এবার ধাক্কা খেলাম।
4
Hide or report this
Like
· 4d
Aditi Basuroy
Aditi Basuroy Raka Dasgupta ekdom e...aschorjyo vromon e dekh ..Durbin..jao pakhi sob Kichhu tei sei ek e regressive attitude..Meye der choritrayan dekhle I Bojha jay
1
Hide or report this
Like
· 4d
Yashodhara Ray Chaudhuri
Yashodhara Ray Chaudhuri বাংলা।সাহিত্য নিয়ে এই কথা নতুন হলেও, বিশ্ব সাহিত্যে নতুন নয়।
https://www.elle.com/.../10-mysoginistic-novels-every.../
Hide or report this
10 Misogynistic Novels Every Woman Should Read
ELLE.COM
10 Misogynistic Novels Every Woman Should Read
10 Misogynistic Novels Every Woman Should Read
Like
· 4d
Yashodhara Ray Chaudhuri
Yashodhara Ray Chaudhuri হেনরি মিলার, কেরুয়াক, নবোকভের লোলিটা, এগুলো নিয়ে বহুদিন আলোচনা চলছে বিতর্কও
2
Hide or report this
Like
· 4d
Yashodhara Ray Chaudhuri
Yashodhara Ray Chaudhuri https://erenow.net/.../the-devil-at-large-erica.../8.php
Hide or report this
Must We Burn Henry Miller? Miller and the Feminist Critique - The Devil at Large: Erica Jong on Henry Miller
ERENOW.NET
Must We Burn Henry Miller? Miller and the Feminist Critique - The…
Must We Burn Henry Miller? Miller and the Feminist Critique - The Devil at Large: Erica Jong on Henry Miller
1
Like
· 4d
Sebanti Ghosh
Sebanti Ghosh Raka Dasgupta শেষের দিকে বুঝতে পারতেন। লেখাগুলো খেয়াল করিস। লেখা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নারী প্রটাগনিস্ট। এই বদলটা অন্যদের আসেনি।
2
Hide or report this
Like
· 4d
Prajnadipa Halder
Prajnadipa Halder লেখাটা ভীষণ সময়োপযোগী। ধন্যবাদ শতাব্দীদি। এই জরুরি লেখাটার জন্যে।
1
Hide or report this
Like
· 4d
Satabdi Das
Satabdi Das Prajnadipa Halder এটা তো একবছর আগে লেখা।
Hide or report this
Like
· 4d
Prajnadipa Halder
Prajnadipa Halder Satabdi Das হ্যাঁ। কিন্তু এই সময়ে যখন অপরাধীর পক্ষে ব্যক্তিপূজা চলছে, সেই সময় এই লেখাটা আর একবার পড়ার দরকার ছিল। আরও আগে থেকেই চর্চা হওয়া প্রয়োজন ছিল।
Hide or report this
Like
· 4d · Edited
Koushik Dutta
Koushik Dutta তোমার এই লেখাটা গতবছর জুনের। দেখতে পাইনি। বস্তুত সন্দীপনের গল্প সংকলনে এই না-গল্পটা পড়ে এরকম বিবমিষা জন্মেছিল বলেই তোমাকে এটা পড়তে দিয়েছিলাম স্পেসিফিকালি। পড়ে কেন কিছুই বললে না, তা নিয়ে একটু বিস্ময় ছিল, কিন্তু প্রশ্ন করিনি। এখন দেখছি লিখেছিলে খুব দামী কথা।
আসলে শিল্পী ও কবি জীবনের এই গতটাই নর্মালাইজড হয়ে গিয়েছিল। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠিত কবি ও শিল্পী পুরুষ হওয়ায় আরও বেশি করে চলে এসেছে এসব। আজ যা প্রকাশ্যে আসছে মিটু-তে, তা আসলে নতুন কিছু নয়। এটাই সাংস্কৃতিক জীবনের মূল ধারা এদেশে।
এসব লেখা পড়তে গিয়ে দেখেছি সেরিব্রাল সন্দীপন, সুনীলদের ভিড়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় কিছুটা অন্যরকম ছিলেন। মাথার চেয়ে হৃদয়ের দ্বারা কিছু বেশি চালিত এবং প্রেম-যৌনতার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সৎ। তার মানে হয়ত চরিত্রে হৃদয়ের স্পর্শ লাগলে মানুষ হওয়া কিছুটা সহজ হয়। নইলে সব সদাচরণ শুধুমাত্র মাথা দিয়ে শিখতে গেলে কঠিন হয়। শিখলেও ফেসবুকে বা অন্যত্র মুখস্থ লিখে দেওয়া যদিবা সম্ভব হয়, জীবনে প্রয়োগ করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেতে হয়। এটা স্রেফ মনে হওয়া। এসব বিষয়ে বিশেষ কিছু জানি না আমি।
3
Hide or report this
Like
· 4d
Samrat Sengupta
Samrat Sengupta খুব ভালো লেখা। আমি একটা প্রস্তাব দিচ্ছি - নামজাদাদের পিতৃতান্ত্রিক লেখাগুলো খুঁজে বের করে তার একটা প্রতিরোধী পুনর্লিখন হোক। এরকম একটা সংকলন আপনারা একটা কালেক্টিভ হিসেবে সম্পাদনা করতে পারেন। করলে আমি যুক্ত হতে চাইবো। অন্তত দশটা লেখার নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে পুনঃপাঠ ও পুনর্লিখন করে এটা করা যায়। এটা শুধুই একটা প্রস্তাব। যে কেউ করতে পারে।
4
Hide or report this
Like
· 4d
তনু শ্রী
তনু শ্রী Raja Podder দা, দেখবেন একটু?
1
Hide or report this
Like
· 4d
Sulagna Pal
Sulagna Pal Haan erkm lekhar aro darkar ache Satabdi.Ei je lekhak,kabi,shilpi,avinetader bhagoban vaba ebong ank dhoroner char deoa egulo niye aro lekha asuk..
Hide or report this
Like
· 4d · Edited
Sebanti Ghosh
Sebanti Ghosh সন্দীপন আমার চিরকাল অস্বস্তির। যশোধরার সঙ্গে কথাও হতো এ নিয়ে। পরে আর পড়তেই ইচ্ছে করতো না।
Avatar: ফেবু

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

অর্থাৎ ছাগলদের দ্বারা ধানচাষ। 🙂
Avatar: Ishan

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

মাঝে দুটো লম্বা পোস্ট মুছে দিলাম। আলোচনা আটকানোর জন্য নয়। কিন্তু পোস্টগুলি এত লম্বা, যে ফোন ঝুলে যাচ্ছে।

যিনি করেছেন, একটু ভেঙে ভেঙে করে দিলেই কোনো সমস্যা থাকেনা।
Avatar: S

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

ঈশানদা এরকম একটা জিনিস মুছে দিলেন? পতিবাদ করে গেলাম।

আমি অনেকটা পড়েও বুঝতে পারলাম না যে মিটু আর সার্কাজমের কোনটা বিজেপি আর কোনটা সিপিএম?
Avatar: :-)

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

ছ্যাঃ সন্দীপন আবার লেখক হলো কবে? ও তো না-লেখক। গপ্পের প্রতি লাইনে লাইনে নারীর জয় হবে, গোলগাল চাষীভাইদের জয় হবে, দুনিয়ার মজদুর এক হবে, তব্বে না গপ্পো। না না, আন্দোলন চলুক।

বিশেষ করে আমার চাড্ডিতুতো ভাইরা ভারতবর্ষ গল্পটা খুঁজে পড়ে ফেলুন। বিচি হালকা করে টাকে উঠে যেতে পারে, কিন্তু আন্দোলনের ভালো মেটিরিয়াল পাবেন। দুদিন পর রায় বেরোবে। এই তো সময়।

আর আমি আমি করে ইন্টুমিন্টু লিখেছে দেখলেই বাঁড়া ধরে দিন টান রাজা হবে খানখান। মাইরি অরওয়েল কতভাবে ফিরে আসে! :-)
Avatar: dc

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

"এটার জন্য মিটু-কে দায়ী করা যায়না, সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করার এটা একটা ভয়ংকর কোল্যাটারাল, আম জনতার এই প্রবেশ, যে আমজনতা এখন মরালিস্ট, শিল্প-বিরোধী, রিগ্রেসিভ - তারা এই আর্ট-প্র্যাক্টিসকেই পার্ভারশন হিসেবে দেখবে, এবং এই সুযোগে বামপন্থাকে আবার খিস্তোবে। আমরা সবাই জানি সেই খিস্তোনোতে খানিক হলেও যুক্তি থাকবে, একধরণের বামপন্থী প্র্যাক্টিস দীর্ঘদিন সেক্সিস্ট এবং ক্ষমতালোভী ছিল মাইক্রো ও ম্যাক্রো লেভেলে। এ সেই কৃতকর্মের ফল।"

এটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। মানে সেক্সিজম ইত্যাদির সমালোচনা বামপন্থাকে বাঁচিয়ে করতে হবে?
Avatar: অনিন্দ্য সেনগুপ্ত

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

@dc "সেক্সিজম ইত্যাদির সমালোচনা বামপন্থাকে বাঁচিয়ে করতে হবে" এটা কোথাও লেখা বা ইমপ্লাই করা হয়নি তো - বলা হয়েছে বরং সেক্সিজম ইত্যাদি সমালোচনায় বামপন্থীদেরও বাঁচানো যাবেনা (বামপন্থা তো একধরণের পন্থা, যার মধ্যে একটা হল মার্ক্সবাদ, সেটাও কি সেক্সিস্ট বলা যায়?)
Avatar: সিএস

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

মনে রাখবেন, সন্দীপনের নামটিও আসল নাম নয়, জন্মদত্ত নামটি বদল করে সন্দীপন নামটি নিয়েছিলেন কম বয়সেই এবং সেই নাম কেউ ব্যবহার করুক বা বলুক, চাইতেনও না। অর্থাৎ 'সেল্ফ' নিজেরই নির্মাণ, সন্দীপনের ক্ষেত্রে একটি সচেতন ক্রিয়া। চরিত্র তো একটিই যা আমি, যার বিবিধ নাম, বিজন, রাজমোহন, অংশু, মহেন্দ্র, প্রতুল, অবিনাশ, এরকম কথা সন্দীপন প্রায়ই বলতেন। প্রতি দশকে এক একটি নাম আসে যার মধ্যে দিয়ে দশকগুলিকে দেখে নেওয়া যায়, যারা সন্দীপন নামক লেখক্চরিত্রটির পার্সোনা (জীবনানন্দেরও যেমন, সুবিনয় মুস্তাফি, লোকেন পালিত, মাল্যবান, হেম, সুতীর্থ), যার লেখল চরিত্রটি থেকে নিজেদের অবয়ব পাচ্ছে, তাদের 'সেল্ফ' তৈরীর মাধ্যমে আবার এই চরিত্রগুলির মাধ্যমে সন্দীপন, অ্যাজ এ লেখক, সেই ব্যাপারটিও গড়ে উঠছে, লেখক ও চরিত্রদের মধ্যে এই যাতায়াত বাংলা ভাষায় একমাত্র জীবনানন্দের ক্ষেত্রে হয়েছে বলে মনে করি।

সন্দীপনের ডায়েরিও আমি অনেকাংশে বানানো বলে মনে করি। ঠিক যেমন ভাবে কাফকার ডায়েরিও, বানানো। অর্থাৎ, য ঘটেছে সেগুলিকে নথিবদ্ধ করার বদলে অভিজ্ঞ্তাগুলিকে "লিখিত" রূপ দেওয়াই প্রথম উদ্দেশ্য যেন, শব্দ আর বাক্যগুলিকে ঠিক্ঠাক বসানো। আর এই যে চিঠিত, সুনীল নিজেই চিঠিগুলির অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এক সাক্ষাতকারে, তদুপরি এই বলেছিলেন যে চাইবাসা পর্বে তাঁরা যেসব জায়গায় যেতেন, সন্দীপন অনেক সময়েই থাকতেন না, এও ছিল সুনীলের মত। উপরন্তু এও, যে সন্দীপন হয়ত সেইসব জায়গায় সুনীলদের সাথে থাকতে চাইতেন।

শুধু কিন্তু সন্দীপন নামে ব্যক্তি চরিত্রটির সেল্ফটিই বানানো হচ্ছে না, তাহলে তিনি বিশেষ লেখক হতেন না, আসল উদ্দেশ্য তো নিজেকে ব্যবহার করে, মধ্যবিত্ত এক everyman-কে তৈরী করা, সন্দীপনের সারা জীবনের লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য, যদি সেরকম কিছু থেকে থাকে, এও আমি মনে করি। প্রমাণ হিসেবে, শেষের দিকে লেখা "ফুটবল খেলার শব্দ" নামে গল্পটি, উৎসাহীরা পড়ে দেখতে পারেন।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন