Anamitra Roy RSS feed

Anamitra Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

Anamitra Roy



সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের অস্তিত্বকে ড্রয়িংরুমসাহিত্য-প্রিয় বাঙালি তাঁর জীবৎকালে বিশেষ মেনে নিতে পারেনি। সন্দীপনের ভাষা এবং বিষয়বস্তু দুটোই এর জন্য সমানভাবে দায়ী। সুনীলসাহিত্যের পাঠক সন্দীপন পড়তে গিয়ে যতিচিহ্ন থেকে যতিচিহ্নে হোঁচট খেত, রসভঙ্গ হয়ে যেত তাদের। কাউকে কাউকে বলতেও শুনেছি, "সন্দীপন আমি কেনই বা পড়ব! সহজ করে লিখতে পারাটাও সাহিত্যিকের একটা গুণ এবং সুনীল সেইদিক থেকে অনেক মহান লেখক!" সন্দীপনের মৃত্যুর পর এদিকে, তাঁর সেই ভাষা নিয়েই একচোট হইচই হয়েছিল বটে! আহাহা, সোনালী ডানার ঈগল, আহা, ডাবলবেডে একা; কিন্তু বিষয়বস্তুর বিষয়টিকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সন্দীপনের ভাষা আমার কোনোদিনই কঠিন লাগেনি, তবে বিষয় হজম করতে গেলে মনে হয় অনেককেই নিজেদের অনেক মহান চারিত্রিক গুণের কথা স্বীকার করে নিতে হতো! তারচেয়ে এই ভালো, ওসব সন্দীপন করে, আমরা করি না। সন্দীপন একাই চরিত্রহীন, আমরা নিরীহ সাহিত্যপয়দাকর্মের সঙ্গে যুক্ত 'বা-লে'।

যাই হোক, আজ যে সন্দীপনের জন্মদিন সেটা নিতান্তই কাকতালীয়। এই লেখাটা এমনিতেও লিখতেই হতো খুব শিগগীরই। কারণ বেঁচে থাকার সময় মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পাঠকের ছিছিক্কারের লক্ষ্যবস্তু সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এবার একাধারে নারীবাদ এবং অপরদিকে চাড্ডি আক্রমণের শিকার। মজার ব্যাপার এই যে, নারীবাদী এবং চাড্ডি উভয়পক্ষেরই মূল বক্তব্য একই; সন্দীপন সেক্সিস্ট, মিসোজিনিস্ট এবং চরিত্রহীন। এই গোটা আখ্যানটাই তৈরী করা হচ্ছে মূলত একটি চিঠির ভিত্তিতে। চিঠিটি "চাইবাসা চাইবাসা" নামক গল্প থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা (তারিখ ১৩ই জানুয়ারি, ১৯৬০) বলে জানা যাচ্ছে। এখন যদিও গল্পটি পড়লে সেখানে সত্যিকারের চিঠিপত্রই তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে হবে কিন্তু চিঠিটির প্রকৃতই অস্তিত্ব ছিল নাকি তা সন্দীপনের মস্তিস্কপ্রসূত তার কোনো প্রমাণ নেই। চিঠিটির আরেকটি মজার দিক হচ্ছে সেখানে সন্দীপন ট্রেনে কি করেছিলেন তার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় এবং সুনীলও যে বাসে অনুরূপ কিছু করেছিলেন তার উল্লেখ আছে, শুধু সুনীল এক্স্যাক্টলি কি করেছিলেন সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই। এটা টিপিক্যাল সন্দীপনীয় খচরামো। বাসে কি হয়েছিল সেটা চিঠিগুলোর পর যেখানে লেখক নিজস্ব নোটগুলি রেখেছেন সেখানে উল্লেখ করাই যেত। কিন্তু কে না জানে যে সুনীল ভদ্রলোক। সন্দীপন নিজেকে নগ্ন করলেন, কিন্তু বন্ধুর ইমেজে আঁচটুকুও লাগতে দিলেন না। এই চিঠিটা লেখাতে নাই থাকতে পারতো, সেক্ষেত্রে সন্দীপনকে গালাগাল করার অবকাশও থাকতো না। সন্দীপন কিন্তু চিঠিটাকে বিনা দ্বিধায় টেক্সট-এর অন্তর্গত করলেন। সন্দীপন এইজন্যই সন্দীপন। ধারণাটুকুও আসার বহু আগেই সন্দীপন #IDidItToo করে ফেলেছেন। সন্দীপন বাংলাসাহিত্যের প্রথম #IDidItToo -কারী লেখক।

তবে কিনা এই গোটাটাই কথার কথা। কারণ গোটাটিই সুনীল দেখেছেন। সুনীল যা দেখেছেন সন্দীপন কি তাই-ই করছিলেন? এ বিষয়ে গোটা গল্পটায় হ্যাঁ অথবা না কোনোকিছুই বলা নেই। "ভুল হয়েছে" থেকে "বেশ করেছি" অথবা এমনকি "হ্যাঁ হয়েছিল" বা "সুনীলের ধারণা"; কোনোকিচ্ছু না !

"এয়ারপোর্টে প্লেন নামার আগে মেঘের মধ্যে দিয়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকেও অবিকল অনুরূপ আদিবাসিনী দেখিয়েছিল। মশালে আগুন, আমেরিকার স্বাধীন জেনানাকে ঘিরে ঘুরছিল অতলান্তিকের সমুদ্র-জল, ২৭-২৮ বছর আগে দেখা, রাজাখার্শোয়াং-এর কুয়াশা-কাটা রমণী-মূর্তির কথা প্লেনে বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে হঠাৎই মনে পড়েছিল।"

কি লেখা হলো সেটা যারা পড়তে জানেন পড়লে বুঝবেন নিশ্চয়ই। উপরের লাইনগুলি "জঙ্গলের দিনরাত্রি" থেকে নেওয়া, যে উপন্যাস (অথবা নয়, তর্ক চলতে পারে)-টিকে এক ব্যক্তি দেখলাম সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের ডায়রি বলে উল্লেখ করেছেন। বলাবাহুল্য, লেখাটি তিনি পড়ার প্রয়োজন মনে হয় না বোধ করেছেন বলে। কারণ "জঙ্গলের দিনরাত্রি" মূলত একটি "অযৌন হানিমুন"-এর গল্প, যে হানিমুনটি ঘটেছিলো সন্দীপন এবং শক্তি নামক দুই চাটুজ্যের ভিতর। সেখানে নারী এবং যৌনতা সংক্রান্ত প্রচুর কথা রয়েছে, যেমন সন্দীপনের প্রায় সব লেখাতেই থাকে। লেখক এও জানিয়েছেন যে তিনি নারী-কাতর। কিন্তু কোথাও যৌন-আগ্রাসনমূলক কোনো ঘটনার বিবরণ নেই। কোনো এক রহস্যময় হাটে এক রহস্যময়ী আদিবাসী নারীর সাথে পয়সার বিনিময়ে রমণের একটা অনুল্লিখিত গল্প আছে, কিন্তু সেখানেও এমনকি যৌনক্রিয়ার কোনো বিবরণ নেই। ছোট্ট অংশ, গোটাটাই ম্যাজিক রিয়্যাল, এমনকি হাটটাও পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরেকটি অংশে ফুলমণি নামক এক পঞ্চাশোর্ধ মেথরানির কথা রয়েছে। খাবারের বিনিময়ে যৌনতা দিয়ে তাকে খুশি করেন সন্দীপন। এখানেও যৌনক্রিয়ার কোনও বিবরণ নেই, যা রয়েছে তা হলো ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে সন্দীপনের বিভিন্ন আশঙ্কার বিবরণ। বলাবাহুল্য, এই স্মৃতি সন্দীপনের কাছে সুখদায়ক নয়। তার মোটেই ইচ্ছে ছিল না, শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতার বশে সে ওই প্রৌঢ়ার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। অর্থাৎ খাবারের বিনিময়ে বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য হয়েছিল প্রিন্স অফ লিটিল ম্যাগাজিন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনায় কে প্রিডেটর? --- এবার যিনি এই লেখাটিকে সেক্সুয়াল প্রিডেটর-এর ডায়রি বললেন তিনি কি ভেবে বললেন আমার সত্যিই জানা নেই। পাহাড়ি ঝর্ণার সঙ্গে ওঁরাও রমণীর পিঠের ওপর লুটিয়ে থাকা বেণীর তুলনাকে যৌন আগ্রাসন বলে না, কাব্যসৌন্দর্য্য বলে, যেটা সন্দীপনের গদ্যে বহুজায়গায় নানাভাবে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

হ্যাঁ, সন্দীপন সেক্সিস্ট ছিলেন। নিঃসন্দেহে ছিলেন। কিন্তু মাথায় রাখা প্রয়োজন যে তিনি সেই দৃষ্টিভঙ্গি লুকোতে যাননি কোনোদিন, বরং ডকুমেন্ট করেছেন, ক্রুডভাবে ডকুমেন্ট করেছেন নিজের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়েই। যৌনতাকে স্বাভাবিক ভেবে স্বাভাবিক ভাবেই অ্যাপ্রোচ করেছেন নিজের নিরহংকার নোংরামি (ফাল্গুনী-র থেকে ধার নিলাম) সহকারে। সুনীলের মত পদতলে বসে কৃপাপ্রার্থী হতে চাননি। এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন যে বাকিরা এই কাজটা করেননি; হাংরিরা যেমন পুরুষ ও প্রকৃতির বাইনারি টেনেছেন এটা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েই যে পুরুষ এবং তার "শক্তি"-ও আসলে প্রকৃতি থেকেই সৃষ্ট। আরও অনেক কথাই বলা যায়, অনেক বড় করা যায় লেখাটাকে। কিন্তু ইচ্ছা করছে না। বরং সন্দীপনকে কোট করেই শেষ করি, আবারও "জঙ্গলের দিনরাত্রি" ---

"এলিয়টের মৃত্যুর পর প্রকাশিত এক বিশাল কমমেমোরিয়াল ভলিউমে সবাই দিস্তে দিস্তে লিখলো! শুধু এজরা পাউন্ড লিখেছিলেন পাঁচ লাইন। যথা: কে আর লন্ডনের অলি-গলি দিয়ে হাঁটার সময় অমন শুখা হিউমার করবে! আর ওর কবিতা নিয়ে কি আবার বলব। শুধু বলতে পারি: রিড হিম।"

পি এস: আপনি ঠিক সেটাই দেখবেন যা আপনি দেখতে চান, কারণ সম্ভবত, সিদ্ধান্ত আপনার আগেই নেওয়া হয়ে গেছে।



বাংলাসাহিত্যে একটা উপন্যাস আছে যার প্রথম পরিচ্ছেদে জানা যায় উপন্যাসটির মূল চরিত্রের যে প্রেমিকা তার আরেকটি প্রেমিক রয়েছে, কিন্তু সে এখনও প্রপোজ করে উঠতে পারেনি। আমাদের মূল চরিত্র, অবিনাশ, চায় তার প্রেমিকা, মমতা, ওই দ্বিতীয় প্রেমিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিক; একই দিনে দুজনের সঙ্গে দেখা করার থাকলে মমতা যেন সঞ্জয়ের কাছেই যায়, তার কথা ভাবার দরকার নেই। সে একঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাবে। অথচ ঘটনা শুরু যেদিন, সেইদিন মমতা এসেছিল দু'ঘন্টা দশ মিনিট দেরি করে। আসার কথা তার ছিল না, মূল চরিত্রেরও কথা ছিল না অপেক্ষা করার, তবু তাদের দেখা হয়। এর একমাস বাদে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় পার্ক সার্কাস সেমেটারির সামনে। দশ বছরের সম্পর্ক ছিল তার আগে তাদের মধ্যে। আরও জানা যায়, সঞ্জয়, তথা মমতার অপর প্রেমিকের পার্টির রঙ গেরুয়া।

এছাড়া রয়েছে মান্তু, একজন রেপ সারভাইভার, অবিনাশের বোন। সে অবিনাশের সঙ্গেই থাকে। তার বর তাকে ত্যাগ করেনি, সে নিজেই থাকতে পারেনি আর। মান্তু ফ্ল্যাটের বাইরে যায়না, এটাই তার অসুখ। পরিবারের সম্মানের খাতিরে তার ধর্ষণের ঘটনা শ্বশুর পুলিশে রিপোর্ট করেননি। রণেন, তার বর, তাকে ভালোবাসে। মান্তু ঘৃণা করে রণেনকে। চঞ্চল আর রণেন, মার্ক্সবাদী পার্টির সদস্য। অবিনাশ একটু ফ্রয়েড ঘেঁষা। মান্তুর রেপের ঘটনাটা চঞ্চলকে নাড়া দিয়েছিল। চঞ্চল রেপ সিরিজের আটটা ছবি আঁকে তারপর। প্রকাশ কর্মকারের সেই ছবিগুলো পছন্দ হয়েছিল।

চঞ্চলের এ পর্যন্ত শয্যাসঙ্গিনীর সংখ্যা আট।

সঞ্জয়কে মমতা বিয়ে করবে, সম্ভবত।

মমতা মরাল ওম্যান হিসেবে মরতে চায়, অথচ অবিনাশের সঙ্গে সম্পর্কও রেখে যেতে চায়, এমনকি বিয়ের পরেও।

অবিনাশ ভাবে, "তাহলে তো আমি আগাগোড়া যেভাবে দেখছি সেটাই ঠিক। আমার হারাবার কিছু নেই। মাঝে মাঝে একে ধর্ষণ করে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া করার কিছু নেই।"

এর আগে একটা গোটা অংশ জুড়ে অবিনাশের দেওয়া বিবরণ রয়েছে মমতার সঙ্গে কবে কোথায় কতটা সেক্স করা গেছে সেই নিয়ে। মূলত ঘরের অভাবেই তাদের সম্পর্কটা বেশিরভাগ সময়ই ঠোঁট আর বুকের মাংসে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। কারণ, মমতা বারেবারেই জানিয়েছে যে ঘর পাওয়া গেলে তার কোনও আপত্তিই নেই। অবিনাশকে সে শরীরীভাবে চায়, কিন্তু বিছানা দরকার, জিএসআই এর গোপন অন্ধকার ঘরে পৃথিবীর মানচিত্রের ওপর শুয়ে করার জিনিস নয় ওসব।

লেখক সন্দীপন জানেন, মেয়ে, পাগল এবং ক্রীতদাসদের শরীর-অধিকার কোনও দিনই তাদের নিজেদের নয়।

বলে দিলে গোটাটাই বলে দেওয়া যায়, যেমন রয়েছেন অপর্ণাদি, যিনি মমতার বাবা সুখময়ের থেকে ১৫ বছরের ছোট।

উপন্যাস শেষ হওয়ার কিছুটা আগে মান্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়ে আত্মহত্যা করে। যার ফলস্বরূপ, অবিনাশ মমতাকে বলে, "একটা ঘর খালি হয়েছে মমতা। আমরা একটা ঘর পেয়েছি।"
সন্দীপন লেখেন, "বলতে বলতে আমি বুঝলাম এই সেই অনির্বচনীয় কিন্নরকণ্ঠ যে-স্বরে চিরকাল প্রেমিকরা 'আমি তোমায় ভালোবাসি, মেয়ে' বলে এসেছে।"

ছবির অংশটি মমতা সেনগুপ্ত-র চিঠি থেকে নেওয়া। লেখকের রাজনৈতিক অবস্থান লক্ষনীয় যে, উপন্যাসটি শেষ হয় এই চিঠি দিয়ে। মমতা জানায় সঞ্জয়কেও সে ছেড়ে যাচ্ছে তবে তার কারণ সে অবিনাশ কে বলবে না।

চিঠির শেষ লাইন, "আমি তৃতীয় পুরুষের খোঁজে আছি।"
একটি পুনশ্চ রয়েছে। তাতে জানা যাচ্ছে বাবা আর অপর্ণাদির বিয়েতে মমতা সম্মতি জানিয়েছে।

এই উপন্যাসটিতে পুরুষের যৌনতা ও তৎসংক্রান্ত ধারণা, পুরুষের ভালোবাসা এবং হিপোক্রেসি ইত্যাদি বিষয়কে যেভাবে নগ্ন করা হয়েছে তা আর কোনো পুরুষসৃষ্ট উপন্যাসে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আর কোনো পুরুষরচিত উপন্যাস লিঙ্গরাজনীতির ভিত্তিতে নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এভাবে সোচ্চার কিনা আমি জানিনা সত্যিই।

'কলেরার দিনগুলিতে প্রেম' - এই নামের সঙ্গে মার্কেজের কোনও সম্পর্ক নেই।

এরপর যখন একটি ছোটগল্পে উদ্ধৃত সুনীল গাঙ্গুলির একটি চিঠি (যার প্রকৃত অস্তিত্ব রয়েছে নাকি কল্পনাপ্রসূত জানা যায় না)-তে উল্লিখিত একটি ঘটনা (যা ঘটার সময় সুনীলের বাঙ্ক থেকে সন্দীপনের বাঙ্কের দূরত্ব, রাত্রের ট্রেনে আলোর পরিমান, সুনীল কোনো নেশা করে ছিলেন কিনা কোনকিছুই জানা যায় না)-র ভিত্তিতে নারীবাদীরা এই লেখককে অভিযুক্ত করেন, বলেন ওয়াক থু --- মনে হয় না কোথাও একটা ভীষণরকম অবিচার হয়ে যাচ্ছে? সেই অবিচার সন্দীপনের প্রতি নাকি নারীবাদের প্রতি দীক্ষিত পাঠকই তার বিচার করবেন!


https://i.postimg.cc/JzsB920T/Momotar-Chithi.jpg

745 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 14 -- 33
Avatar: ফেবু

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

অর্থাৎ ছাগলদের দ্বারা ধানচাষ। 🙂
Avatar: Ishan

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

মাঝে দুটো লম্বা পোস্ট মুছে দিলাম। আলোচনা আটকানোর জন্য নয়। কিন্তু পোস্টগুলি এত লম্বা, যে ফোন ঝুলে যাচ্ছে।

যিনি করেছেন, একটু ভেঙে ভেঙে করে দিলেই কোনো সমস্যা থাকেনা।
Avatar: S

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

ঈশানদা এরকম একটা জিনিস মুছে দিলেন? পতিবাদ করে গেলাম।

আমি অনেকটা পড়েও বুঝতে পারলাম না যে মিটু আর সার্কাজমের কোনটা বিজেপি আর কোনটা সিপিএম?
Avatar: :-)

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

ছ্যাঃ সন্দীপন আবার লেখক হলো কবে? ও তো না-লেখক। গপ্পের প্রতি লাইনে লাইনে নারীর জয় হবে, গোলগাল চাষীভাইদের জয় হবে, দুনিয়ার মজদুর এক হবে, তব্বে না গপ্পো। না না, আন্দোলন চলুক।

বিশেষ করে আমার চাড্ডিতুতো ভাইরা ভারতবর্ষ গল্পটা খুঁজে পড়ে ফেলুন। বিচি হালকা করে টাকে উঠে যেতে পারে, কিন্তু আন্দোলনের ভালো মেটিরিয়াল পাবেন। দুদিন পর রায় বেরোবে। এই তো সময়।

আর আমি আমি করে ইন্টুমিন্টু লিখেছে দেখলেই বাঁড়া ধরে দিন টান রাজা হবে খানখান। মাইরি অরওয়েল কতভাবে ফিরে আসে! :-)
Avatar: dc

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

"এটার জন্য মিটু-কে দায়ী করা যায়না, সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করার এটা একটা ভয়ংকর কোল্যাটারাল, আম জনতার এই প্রবেশ, যে আমজনতা এখন মরালিস্ট, শিল্প-বিরোধী, রিগ্রেসিভ - তারা এই আর্ট-প্র্যাক্টিসকেই পার্ভারশন হিসেবে দেখবে, এবং এই সুযোগে বামপন্থাকে আবার খিস্তোবে। আমরা সবাই জানি সেই খিস্তোনোতে খানিক হলেও যুক্তি থাকবে, একধরণের বামপন্থী প্র্যাক্টিস দীর্ঘদিন সেক্সিস্ট এবং ক্ষমতালোভী ছিল মাইক্রো ও ম্যাক্রো লেভেলে। এ সেই কৃতকর্মের ফল।"

এটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। মানে সেক্সিজম ইত্যাদির সমালোচনা বামপন্থাকে বাঁচিয়ে করতে হবে?
Avatar: অনিন্দ্য সেনগুপ্ত

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

@dc "সেক্সিজম ইত্যাদির সমালোচনা বামপন্থাকে বাঁচিয়ে করতে হবে" এটা কোথাও লেখা বা ইমপ্লাই করা হয়নি তো - বলা হয়েছে বরং সেক্সিজম ইত্যাদি সমালোচনায় বামপন্থীদেরও বাঁচানো যাবেনা (বামপন্থা তো একধরণের পন্থা, যার মধ্যে একটা হল মার্ক্সবাদ, সেটাও কি সেক্সিস্ট বলা যায়?)
Avatar: সিএস

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

মনে রাখবেন, সন্দীপনের নামটিও আসল নাম নয়, জন্মদত্ত নামটি বদল করে সন্দীপন নামটি নিয়েছিলেন কম বয়সেই এবং সেই নাম কেউ ব্যবহার করুক বা বলুক, চাইতেনও না। অর্থাৎ 'সেল্ফ' নিজেরই নির্মাণ, সন্দীপনের ক্ষেত্রে একটি সচেতন ক্রিয়া। চরিত্র তো একটিই যা আমি, যার বিবিধ নাম, বিজন, রাজমোহন, অংশু, মহেন্দ্র, প্রতুল, অবিনাশ, এরকম কথা সন্দীপন প্রায়ই বলতেন। প্রতি দশকে এক একটি নাম আসে যার মধ্যে দিয়ে দশকগুলিকে দেখে নেওয়া যায়, যারা সন্দীপন নামক লেখক্চরিত্রটির পার্সোনা (জীবনানন্দেরও যেমন, সুবিনয় মুস্তাফি, লোকেন পালিত, মাল্যবান, হেম, সুতীর্থ), যার লেখল চরিত্রটি থেকে নিজেদের অবয়ব পাচ্ছে, তাদের 'সেল্ফ' তৈরীর মাধ্যমে আবার এই চরিত্রগুলির মাধ্যমে সন্দীপন, অ্যাজ এ লেখক, সেই ব্যাপারটিও গড়ে উঠছে, লেখক ও চরিত্রদের মধ্যে এই যাতায়াত বাংলা ভাষায় একমাত্র জীবনানন্দের ক্ষেত্রে হয়েছে বলে মনে করি।

সন্দীপনের ডায়েরিও আমি অনেকাংশে বানানো বলে মনে করি। ঠিক যেমন ভাবে কাফকার ডায়েরিও, বানানো। অর্থাৎ, য ঘটেছে সেগুলিকে নথিবদ্ধ করার বদলে অভিজ্ঞ্তাগুলিকে "লিখিত" রূপ দেওয়াই প্রথম উদ্দেশ্য যেন, শব্দ আর বাক্যগুলিকে ঠিক্ঠাক বসানো। আর এই যে চিঠিত, সুনীল নিজেই চিঠিগুলির অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এক সাক্ষাতকারে, তদুপরি এই বলেছিলেন যে চাইবাসা পর্বে তাঁরা যেসব জায়গায় যেতেন, সন্দীপন অনেক সময়েই থাকতেন না, এও ছিল সুনীলের মত। উপরন্তু এও, যে সন্দীপন হয়ত সেইসব জায়গায় সুনীলদের সাথে থাকতে চাইতেন।

শুধু কিন্তু সন্দীপন নামে ব্যক্তি চরিত্রটির সেল্ফটিই বানানো হচ্ছে না, তাহলে তিনি বিশেষ লেখক হতেন না, আসল উদ্দেশ্য তো নিজেকে ব্যবহার করে, মধ্যবিত্ত এক everyman-কে তৈরী করা, সন্দীপনের সারা জীবনের লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য, যদি সেরকম কিছু থেকে থাকে, এও আমি মনে করি। প্রমাণ হিসেবে, শেষের দিকে লেখা "ফুটবল খেলার শব্দ" নামে গল্পটি, উৎসাহীরা পড়ে দেখতে পারেন।
Avatar: সিএস

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

তবে ঠিক করেছি যে এবার থেকে নারায়ণ সান্যাল পড়াই সেফ। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত মিয়ে দশকর্মা ভান্ডার টাইপের প্রচুর বই লিখেছেন, সেগুলিই পড়াই ভাল, যেমন জীবনানন্দ না পড়ে সজনীকান্ত, এনারা যাঁরা বাংলা সাহিত্যের অধঃপতনের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত, সেই কবে থেকে !
Avatar: খ

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন



ঃ-))))) আমার মনে হয় সন্দীপন এর মেন যে জিনিসটা ইনটারেস্টিং, ভদ্রলোক, নিজের ইচ্ছা, অ্যাসপিরেশন এবং স্রেফ বাঙালি মধ্যবিত্ত হবার কারণেই কিসুই তেমন পেরে না ওঠার ঘটনাটা নিয়ে কখনো ঢাকতে ঢাকতে কখনো খুলতে খুলতে, নিজেকেই স্ক্যান্ডালাইজ করতে করতে লিখেছেন। এবং দ্যাট মেকস হিম আ গ্রেট। এবং চ্যাংড়া নুনু টাইপের একটা ছেলের উপস্থিতি কে একজন পরিণত বয়স্ক মহিলার ভালো নাই লাগতে পারে, দেয়ার মে ইভেন বি সিরিয়াস রিজন্স, কিন্তু সন্দীপন কে নিয়েও যদি ইনডাল্জ না করি কাকে নিয়ে করব মাইরি।

এই যে পল অস্টার, বা কেরুয়াক এমনকি গিন্সবার্গ দের কিছুটা হুইটম্যান কিংবা হয়তো হাক্সলি বা হেমিং ওয়ে অনুপ্রাণীত পুরুষকার সেটার একটা ইমিডিয়েট প্রভাব থাকলেও, আমার মনে হয় সন্দীপন এর সেন্সিবিলিটি টা কে সব সময় বিপন্নতা বলতে ইচ্ছে না করলে একটা গ্রেট অ্যাবসেন্স অফ কারেজ বলতে ইচ্ছে করে মাইরি, কিন্তু কারেজ নিজের নেই বলে সেটা বলতে পারি নাঃ-))) মরাল পজিশন এর দিক থেকে বলছি, অথচ ভাষার ব্যবহার টায় অসম সাহসী।

সিরিয়াস কেস অফ বিলেটেড অ্যাডোলোসেন্স। এবং আমি জানিনা সিরিয়াস ক্রিটিক রা এভাবে দ্যাখেন কিনা। আমার একটা জিনিস করার ইচ্ছে আছে, একদম চ্যালেঞ্জ করে, সেটা হল, ৫০ পরবর্তী স্বল্প পঠিত বাঙালি সাহিত্যিক দের সেমিনাল কয়েকটা লেখা নিয়ে ইংরেজি তে লেখা এবং ক্যাটিগোরি র কেস টা ইউরোপীয় ভাষা গুলোর সাহিত্যিক দের কাজের পাশে রেখে করব। ফলো-ইং আপ উইথ ওয়ান অর টু অনুবাদ স।

এটা আমরা যারা বাংআলী তাদের কাছে খিল্লি ছাড়া কিছু না, কারণ আমাদের ঐতিহ্য নানা রকম কিন্তু আমার এটা চিৎঅকার করে বলতে ইচ্ছে করে পৃথিবীর সর্বত্র, নিরীক্ষা নানা রকম হয়েছে, এবং সেটা শুধুই আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পাবার জন্য হয় নি এখেনে।


Avatar: ন্যাড়া

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

(সিএস কি বই-সৈকত?) আপনাদের মনে হয়না, হিরোশিমা-পরবর্তী, মানে আজকালের সন্দীপন, ক্রমশঃ ক্র‍্যাফট-সর্বস্ব হয়ে উঠছিলেন? ওই সময় থেকে সন্দীপনকে আমার যথেষ্ট রিপিটিটিভ লাগে। বিশেষ করে বুঝলাম সন্দীপনগুলো একত্রে পড়ে।
Avatar: এলেবেলে

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

@ন্যাড়া, সহমত। ওই কারণেই চন্দ্রিল সন্দীপনকে 'বছরবিয়োনি' বলে ব্যঙ্গও করেছিলেন। আজকালে প্রতি বছর উপন্যাস লেখার ফরমায়েশ পেলে ও জিনিস হতে বাধ্য।
Avatar: সমালোচক

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

@ঈশান, আমার ৫ বছরের পুরোনো স্যামসাং ঝুলল না, আপনার নতুন ফোন ঝুলে গেল? আপনার ক্লোজেস্ট লোকেরা ছাড়া একজনও বলতে পারবে তার ফোন ঝুলে যাচ্ছে? নিজের সাইটে পাওয়ার এক্সারসাইজ করবেন তার জন্যে এরকম ছেঁদো এক্সকিউজ দেওয়ার দরকার নেই তো। সোজা বলুন, ফেসবুক থেকে কনভার্সেশন সাইটে কপি পেস্ট করার অধিকার সবাইকে দেওয়া নেই বা গুরুর গ্রুপ ছাড়া ফেসবুকের অন্য কোথাও থেকে কপিপেস্ট এখানে অ্যালাউড না, বা এটুজেড যেমন বললেন পাবলিক পোস্টের পাবলিক কমেন্ট কপি করলেও নেটিকেটে আটকাচ্ছে বা কিছুই নয়, আপনার পছন্দ হয়নি।

অনমিত্রের লেখা, বা অনিন্দ্য-র মন্তব্য সবই ফেসবুকে চলা যে মন্তব্যপরম্পরার রিঅ্যাকশন সেটা পড়া না থাকলে এই বিষয়ে এনগেজ করা নিতান্ত বোকাবোকা ব্যপার।

প্রায় ঘন্টা দেড়দুয়েকের পরিশ্রম উড়িয়ে দিলেন। প্রতিটি কমেন্ট এক্সপ্যান্ড করে, গোটা আলোচনা দুইখান আরেকবার রিট্রিভ করা সম্ভব নয়।

ভালো। অ্যাডমিন নির্ভর ব্যক্তিগত সাইট যে নৈর্ব্যক্তিক হওয়া সম্ভব নয় সেটা আরেকবার প্রমাণ করলেন।
Avatar: সিএস

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

ন্যাড়াবাবু, আপনার প্রথম প্রশ্নর উত্তর, সিএস সংক্রান্ত, হ্যাঁ। ঃ-)

আর দ্বিতীয় প্রশ্ন, সন্দীপনের উপন্যাস সংক্রান্ত, না, সেরকম মনে করিনা। কিন্তু একটু সময় লাগবে, বিশদে লিখতে। ছোট করে বলতে গেলে এরকম যে আজ নয়, সে বিশ বছর আগে আমার প্রথম অফিসে এক কলীগকে সন্দীপন পড়িয়েছিলাম। প্রতিক্ষণের 'পঞ্চাশটি গল্প" সে সময় নিয়ে পড়েছিল এবং আমি বুঝেছিলাম যে তা মাথাটি অল্প হলেও চঞ্চল হয়ে পড়েছে। তারপরই তাকে প্রতিক্ষণেরই উপন্যাস একাদশ বইটি দিই, কিন্তু সে এক রাতের মধ্যেই বইটি পড়ে ফেরত দেয়। এবার বুঝতে পেরেছিলাম যে, সন্দীপনের উপন্যাসের ওপর যা একটা বড় অভিযোগ যে উনি সেখানে ওনারই গল্পগুলিকে রিসাইকেল করেছেন, ফ্রেজ আর দৃশ্য আর চরিত্র সহ, অতএব গল্পগুলি পড়া হয়ে গেলে, উপন্যাসগুলির মধ্যে আর নতুনত্ব খুঁজে পায়নি, আমার ঐ কলীগটি। আমার বক্তব্য, গল্পগুলিতে, সৃষ্ট চরিত্রগুলিকে নিয়ে যা লিখেছেন সেগুলি থেকে সময় আর মধ্যমিত্তমদির জগত উঠে আসে, সেইদিক দিয়ে গদ্যের যা কাজ সেটা করিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু উপন্যাসে এসে, হিরোসিমা উপন্যাসের পরেও ঐ একই রকমের চরিত্রগুলিকে নিয়েই, একই রকমের ঘটনা বা বর্ণনা ব্যবহার করেও ক্রমাগত ভ্যারিয়েশনের কাজ করে গেছেন। লক্ষ্য যেন একটাই যে আশি আর নব্বইয়ের দশকে যখন গতরজব্দ উপন্যাস আর সিরিয়াল সাহিত্যের রমরমা , তখন কম্প্রোমাইজ না করে, হাতে যা আছে তা দিয়ে, গদ্য-কবিতার মাঝামাঝি একটা ভাষা দিয়ে বড় সঙ্গীতকারদের মত (আমার মনে থাকছে পস্চিমের সঙ্গীতকারদের কথাই) ক্রমাগত কাজের মধ্যে অদলবদল ঘটিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়বস্তুর নিরিখেই, কলেরার দিনগুলিতে প্রেম, রুবি কখন আসবে, কুকুর সম্বন্ধে দুটো-একটা কথা, এখন জীবন অনেক সতেজ স্বাস্থ্যে ভরা, এসো নীপবনে ইত্যাদি উপন্যাসগুলি একই রকম বলতে পারিনা। সন্দীপন শুধুই কৃৎকৌশল, এরকম একটা কথা দীর্ঘদিনই, কিন্তু বিষয়টা দেখবে না, এরকম একটা কথা সন্দীপনের দিক থেকেও ছিল, বিশেষ করে উপন্যাসগুলি নিয়ে।

এটা আপতিক নয় যে 'এসো, নীপবনে' উপন্যাসটিতে লোকেশ চরিত্রটি, সে যার হাতে খুন হবে সেই জয়ীতাকে বলেছিল যে সে প্রেমিকা হলেও তার কন্যাসমা, আর ঐ উপন্যাসের আরো কয়েক বছর পরে, শেষের দিকে এসে, 'স্বর্গের নির্জন উপকূল' উপন্যাসের গল্পটিই ছিল মেয়ের হাতে বাবার খুন হয়ে যাওয়া নিয়ে। যেন 'এসো, নীপবনে' উপন্যাসটি লেখার পরে, থীমটি বাকি রয়ে গেছিল, সেটি শেষ হল পরের উপন্যাসটিতে। একে রিপিটেশন বললে তাই, কিন্তু আমি বলি ভ্যারিয়েশন। এবং এও থাকে যে 'এসো, নীপবনে' ফ্রেজটি রবীন্দ্রনাথের গান হয়ে শান্তিরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস হয়ে উঠেছিল - যে শান্তিরঞ্জন, চল্লিশের দশকের ল্বেখক, সন্তোষকুমারের সমসাময়িক, অতি অল্প-পঠিত, কিন্তু সন্দীপনদের প্রন্জন্মের কাছের লেখক, মোটামুটি কম বয়সে মারা গেলে সন্দীপন শ্মশানযাত্রীও হয়েছিলেন - সেই উপন্যাসে নারী পুরুষের এক ত্রিভুজের কথা ছিল যা সন্দীপনের হাতে আবারও ফিরে আসবে বলে মনে করি।

(বানান ভুল থাকতে পারে, আগের পোস্টে ছিল, আশা করি বোঝা যাবে।)
Avatar: Ishan

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

কমেন্ট ওড়েনি। হাইড করা আছে। কীভাবে পাঠাব জানাবেন। অ্যাডমিনগিরির ব্যাপারই নেই।
Avatar: গোদা প্রশ্ন

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

অনিন্দ্যবাবু লিখেছেনঃ
"বেশি লিখে ফেললাম - আদতে প্রশ্নটা হল - ব্যক্তি লেখক কেমন তা সাহিত্য সমালোচনার অঙ্গ নয় - কিন্তু সাহিত্য সমালোচনা ব্যক্তি লেখকের অন্যায়ের প্রতি কি স্টান্স নেবে? উদাসীন থাকবে? আমার কাছে resolved উত্তর নেই।"

অন্যায় বলতে এখানে কোন অন্যায়ের কথা বলতে চাওয়া হচ্ছে? মলেস্টেশন এবং রেপ আইনি অর্থে ক্রাইম। অপরাধ। তার সাথে লেখক, অলেখক, লেখা, সাহিত্য সমালোচনা - কোনোকিছুরই যোগাযোগ নেই। যে-ই করে থাকুন প্রমাণিত হলে শাস্তি পাবেন। মারা যাওয়ার পরে এরকম অপরাধের তথ্য প্রমাণিত হলেও অপরাধ অপরাধই থাকবে। সাহিত্য সমালোচকের একটা অপরাধের প্রতি হঠাৎ চোখ বুজে থাকার প্রয়োজন কেন পড়বে, বা দ্বিধা কেন হবে - সেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হল না। কিন্তু এক্ষেত্রে এই মলেস্টেশন নামক অপরাধটির যে বিবরণ রয়েছে, সেটা আদৌ ঘটেছিল কিনা কেউ জানে না। জানা সম্ভবও নয়। উল্লিখিত চিঠিটি যেহেতু তসলিমা নাসরিনের আমার মেয়েবেলার মত আত্মজীবনীর অংশ বলে লেখকের দিক থেকে দাবী করা নয়, তাই তা কতটা সত্যি, কতটা ফিকশন কেউ জানে না। কাজেই এই চিঠিটি নিয়ে এটুকুই একজন র‌্যাশনাল মানুষ বলতে পারে যে এটা সত্যি হয়ে থাকলে কিন্তু অপরাধ হয়েছে। কেউ আরও এক পা বাড়িয়ে বলতে পারেন 'আমার মনে হয় এই চিঠিতে যা উল্লেখ আছে সেগুলো সত্যি'। কিন্তু সেটা তাঁর মনে হওয়া। এটুকুই। পিরিয়ড। এরকম স্পেকুলেশনগুলো গসিপের অংশ হতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত রাগী রাগী সিরিয়াস ভঙ্গিতে একখানা গম্ভীর অ্যানালিসিস জাস্ট একটা স্পেকুলেশনের ওপর ভিত্তি করে নামিয়ে দিলাম - এ কোনো সুস্থবুদ্ধির মানুষের কাজ হতে পারে না। যাঁর কিছু প্রমাণ করার এজেণ্ডা থাকবে, বা বাজার গরম করার, অথবা নিতান্ত নির্বোধ, তাঁর কথা আলাদা। তিনি সর্বদাই রজ্জুতে সর্প দেখবেন।

এবার প্রশ্ন হল, তাহলে সাহিত্য সমালোচনার সাথে সম্পর্কিত অংশ কোনগুলো? সেটা হল ঐ সেক্সিজম, মিসোজিনি - ইত্যাদি। অর্থাৎ একজন লেখকের লেখনশৈলীর মধ্যে যদি এইসব প্রবণতাগুলো দৃশ্যমান হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই সাহিত্য সমালোচনার অঙ্গ। কিন্তু প্রশ্ন হল, এগুলো কি অপরাধ? সুবিধাবাদ, কুচুটেপনা, অন্যকে হেয় করার প্রবণতা, বাড়াবাড়ি ইগো, এলিটিজম - এরকম ধরণের হরেক নেগেটিভ গুণাবলী মানুষের থাকে। প্রতিটা রিয়েল, রক্তমাংসের মানুষই (ফেবু প্রোফাইলের 'আইডিয়াল' সামাজিক ন্যয়যোদ্ধাটি নয়) এরকম কোনো না কোনো (এক বা একাধিক) খারাপ গুণ নিয়ে চলে। সেক্সিস্ট প্রব্ণতাও সেরকমই একটি অনাকাঙ্খিত, কিন্তু বাস্তব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যমাত্র। সমাজের কেবলমাত্র একটি ক্ষুদ্র প্রগতিশীল বাবলের মধ্যে সেক্সিস্ট প্রবণতাকে অন্য সমস্ত নেগেটিভ গুণাবলীর থেকে বেশি নেগেটিভ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে ইদানিংকালে। যদিও সেই ক্ষুদ্রাংশের বাইরে ব্যাপক মানুষের কাছে অভদ্রতা, মিথ্যেভাষণ, দলবাজি, কুচুটেপনা - এরকম আরও বহু নেগেটিভ গুণাবলী অনেক বেশি গুরুত্ব পায়। এই প্রগতিশীল ক্ষুদ্রাংশের কাজ ছিল সেই বৃহদংশের মানুষ, যাঁদের সেক্সিস্ট প্রবণতার বোধ স্পষ্ট নয়, তাঁদের সেই প্রবণতা সম্পর্কে আলোকিত করা। কিন্তু প্রগতিশীলতার তুলনায় প্রগতিশীলতার প্রদর্শন (প্রিটেনশন) যে যে মাত্রায় এই ক্ষুদ্রাংশের কাছে গুরুত্ব পেতে পেতে গেছে, সেই সেই মাত্রায় 'দেখো আমার সেক্সিজমকে চিহ্নিত করার দক্ষতা কত বেশি' এই অলিখিত দেখনদারির মধ্যে পুরো বিষয়টা গিয়ে পড়েছে। এবং এতে করে অন্য যেসমস্ত নেগেটিভ চারিত্রিক গুণাবলী বৃহদংশের কাছে ম্যাটার করে, এই প্রগতিশীল ক্ষুদ্রাংশ সেগুলোকে ইগনোর করতে এবং ইমবাইব করতে শিখেছেন। ফলে সময়েরে ফেরে সেক্সিজম হয়ে উঠেছে নেগেটিভিটির প্রায় একমাত্র মাপকাঠি এবং তা হয়ে উঠেছে অপরাধসম। এবং পাশাপশি বেড়ে উঠেছে অন্যান্য খারাপ গুণগুলোর প্রতি একধরণের নিস্পৃহতা এবং সেগুলোকে চিহ্নিত করতে পারার অক্ষমতা। ভেবে দেখবেন, সহজ বুদ্ধিতে এটাই বলে যে উত্তম, মধ্যম বা প্রথম পুরুষে কোনো লেখক যদি সুবিধাবাদ, বা কুচুটেপনার মত কোনো নেগেটিভ গুণাবলীকে লেখায় খুলে মেলে ধরতেন, তাহলে সেই অকপটতা প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হত। সেখানে সেক্সিজম বলেই তার খোলামেলা প্রকাশকে নিন্দার যোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি মলেস্টেশন বা রেপের মত অপরাধের সাথে খানিকটা গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে, একই স্ট্যাটাস দিয়ে ফেলা হচ্ছে। একটু চোখ কান খোলা রাখলেই আপনি দেখতে পাবেন, এমন একটি 'আলোকিত' প্রজন্ম আমরা পেয়েছি, যারা নিজেদের সেক্সিজম নিয়ে হয়ত সত্যিই কুন্ঠিত, কিন্তু কুচুটেপনা এবং দলবাজি নিয়ে গর্বিত, বা বলা যায় সেগুলোকে চিহ্নিত করার বোধ তারা হারিয়েছে। তাই প্রথমটিকে তারা গোপন করতে চায় ঘরের কার্পেটের নিচে, আর দ্বিতীয়টির উদযাপন চলে অজান্তে। একই সঙ্গে। পাশাপাশি।
Avatar: গুরুচণ্ডা৯

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

নিন ফিরিয়ে দিলাম। পারলে এবার একটু ভেঙে দিন। আর গাল দেবেন না।
Avatar: concised

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

শতাব্দী দাসের লেখায় কমেন্টগুলো -- তো, এগুলোই অনমিত্রকে দিয়ে সন্দীপন প্রশস্তি লেখায়, এবং এগুলোই আজকের আলোচনার প্রাসংগিকতা বোঝায়। আপনি "গোদা প্রশ্ন", যেদিকে আলোচনাটাকে ঠেলতে চাইছেন - সেক্সিস্ট, মিসোজিনিস্ট অ্যঙ্গেলকে সাহিত্যের কনটেন্ট হিসেবে ফর্ম দ্বারা নর্মালাইজ করার বিরোধীতা, দেখা যাচ্ছে নারীবাদীরা আদৌ করছেন না। তাঁরা ব্যক্তি সুনীল ও সন্দীপনকেই মিসোজিনিস্ট, মোলেস্টার ও সেক্সুয়াল প্রিডেটর হিসেবে আক্রমণ করছেন।
==================================================

Akash Chatterjee পড়লাম। ইঁট পেতে যাই। সন্দীপন সম্পর্কে অনেকগুলো কথা বলা যায়। এই পিতৃতন্ত্র নিয়েই। যাক গে, বাকিরা কী বলে শুনি।
Satabdi Das সন্দীপনকে শুধু পিতৃতান্ত্রিক বলা যায়না। ভয়ানক মিসোজিনিস্ট ও সেক্সিস্ট।
Akash Chatterjee ঠিক। এটা যেমন সত্যি, তেমন এর একটা উল্টোপিঠ আছে। মীরাবাঈ, আলমারি এবং আরো বেশ কয়েকটি লেখায়। অনেকগুলো লেখাতেই। যেখানে সন্দীপন আদপে বিদ্রুপ করেছেন-- নিজেকে, এবং বাঙালি পৌরুষের বিপন্নতা শিভালরি সমস্ত কিছুকেই। এই পৌরুষের আবার সার্টেন ক্লাস আইডেনটিটির জায়গা রয়েছে- তা মধ্যবিত্ত। ধরি মাছ না ছুঁই পানি। এই মানসিকতা, সমস্তকিছুই( যা আদপে সন্দীপনেরও) তা বিদ্রুপের বা উপহাসের মুখোমুখি হয়েছে।
Satabdi Das কিন্তু তাতে মিসোজিনি একই থাকে। নিজেই নিজেকে বিদ্রুপ করেন, নিজেই নিজেকে নিয়ে সঙ্কটে। অন্য লিঙ্গের প্রতি মনোভাব তাতে বদলায় না।
Aeonian Anirban 'আত্মবমন' নামের গল্প টি পড়ুন, যদি আগে না পড়ে থাকেন।
Abhijnan Sarkar জঙ্গলের দিনরাত্রি বলে আজকাল থেকে বেরানো আর একটি বই আছে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের। প্রতিপাদ্য হচ্ছে, অরণ্যর দিনরাত্রি ছবিটি সেই সময়ের স্টার কৃত্তিবাসীদের নিয়ে কত মডারেট আখ্যান, সেটার সমালোচনা।তাদের চাইবাসা ও আদিবাসী অঞ্চলে অভিযান কত বড় যৌন অ্যাডভেঞ্চার ছিল তার বর্ণনা রয়েছে এই বইতে। মোটামুটি সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের ডাইরি।
Satabdi Das ওটা পড়েছি। উপন্যাস সমগ্রর পার্ট হিসেবেই আছে।
Tripti Santra গদ্যটায় অন্য খাজ....তা বাদে খেকুরে, পারভারট
Suvendu Debnath সন্দীপন পড়তে গেলে যে উইটটা পাঠকের থাকা দরকার তা বহু পাঠকেরই নেই
Satabdi Das খুবই উইটি মলেস্টেশন।
Satabdi Das এনিওয়ে, এই এক্সকিউজটাও বহুশ্রুত।
Suvendu Debnath উহু এক্সকিউজ নয়, এটা একদম বাস্তব সত্যি, আমরা যারা সন্দীপনকে সামনে দেখেছি তারা খানিকটা এই ব্যাপারটার সঙ্গে হ্যাবিচুয়েট। ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায়। লোকে পড়ে হয়ত বলবে এমা কি ঘিনে ঘিনে সেক্স নিয়ে লিখেছে পার্ভাট, তারাই আবার স্মরণজিত পড়ে আহা উহু করবেন। সন্দীপন পড়তে গেলে অনেকটা সজনীকান্ত বুঝতে হবে। ওই লেভেলের প্যারডি সেই সময় দাঁড়িয়ে সজনীকান্ত লিখেছিলেন। ভাবতে পারেন সজনীকান্ত প্রিয় বন্ধু মনোজ বসুকে একজায়গায় বর্ননা করছেন বনজ মোষ বলে। এই উইটটা সকলে নিতে পারেন না। যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে মাগীবাজ এবং শরৎচন্দ্রকে মাতাল আখ্যা দেওয়া হয় কিংবা জীবনানন্দকে অশ্লীল কবি, অনেকটা সেভাবেই এরা সন্দীপনকেও দাগিয়ে দেন
Satabdi Das আপনার সমস্যাটা কী? যে বইটির পাতা তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটিতে চিঠিটি সুনীলের লেখা, সন্দীপনের না। তা ফিকশন নয়। বাস্তব ঘটনা। এবং তা মলেস্টেশন। এতে আপনি উইট খুঁজছেন?
এই 'আমরা যারা তাকে চিনি-ওরা যারা স্মরণজিত পড়ে' ইত্যাদি ইলিটিস্ট বিভাজন এই পোস্টে অবান্তর। আমরা যারা স্মরণজিত পড়িনা তারা এই ঘটনা ও তা নিয়ে সন্দীপন ও সুনীল উভয়েরই মনোভাব অত্যন্ত বিবমিষা উদ্রেককারী মনে করি।ধন্যবাদ।
Simantini Ghosh Suvendu Debnath , Molestation ebong Meyeder shorir ke mangshopindo kore tola, ei duto r modhye wit kothay , eta bujhiye bolle badhito hoi.
Ami abashyo Smaranjit porini. Sandipan kichu porechi, ebong tar (fiction) lekhar modhye awsombhob misogyny ebong existential crisis, dutoi prokot bole mone hoyeche. Seta onek bikhyato lekhoker lekha tei paowa jae, karon somajmanoser urddhe khub kom manush e jete paren. Fiction hole tar interpretation niye debate er obokash thake aboshyo.
Kintu eta to mongoRa golpo noy, eta ekti chithi, jate ekta shotyi ghotonar bornona dewa ache. eta kon interpretation e witty seta janar agroho roilo.
Suvendu Debnath নাহ আমি এই বইটিতে উইট খুঁজি নি সমস্যাও নেই আমার, কারণ লেখকের ব্যক্তিগতজীবন কখনই আমার কাছে উপজীব্য হয়ে ওঠেনি, আমি শিল্পীর শিল্প নিয়েই আলোচনা করতে ভালবাসি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নয়। কারণ শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন তা সে যে কোনও আর্ট ফর্মের শিল্পীই হোননা কেন ঘাঁটতে গেলে যে পাঁক উঠে আসবে, তা অনেকেই সহ্য করতে পারবেন না। বাংলাসহ বিশ্ব সাহিত্যে এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। আমি আপনার এক্সকিউজটি বহুশ্রুত বলার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দীপনকে জানার কথা বলেছি, এই বইটির বা পাতাটির লেখা প্রসঙ্গে নয়।
অন্বেষা সেনগুপ্ত সন্দীপনের সঙ্গে স্মরণজিতের তুলনা অাসছে কোথ্থেকে?
Suvendu Debnath Simantini Ghosh আপনি একটু বুঝতে ভুল করেছেন ম্যাডাম, আমার বক্তব্যটা এই লেখাটির পরিপ্রেক্ষিতে ছিল না। তাহলে তো চিঠি বা লেখাটির উল্লেখ করতাম যে এর মধ্যেও উইট আছে। আমি বলেছি লেখক সন্দীপনের সাহিত্যকর্ম নিয়ে
Raya Debnath সন্দীপনের লেখা , লেখার প্রতিপাদ্য নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করতে গেলে সন্দীপনকে ‘চিনতে ‘হবে? মলেস্টেশন উইট? আপনার কাছে উপজীব্য হয়নি কারণ মলেস্টেশনে আপনি উইট খুঁজে পান। আমাদের রাস্তাঘাটে মলেস্টেড হতে হয়তো তাই এই ভয়ানক অপরাধে আমরা উইট খুঁজে পাই না।
এটা একটা ঘেন্না পাওয়া চিঠি। “ব্যক্তিজীবন” দেখেন না মানে? অবশ্য আপনার “দেখা”বা “না দেখায়” আদিবাসী মেয়েটির যৌন হেনস্থা হওয়া আটকায় না। মেয়েরাই খুব একটা মানুষ নয়, তো এ আবার আদিবাসী মেয়ে, তাই না?
Suvendu Debnath @শতাব্দী এর উত্তরে সন্দীপন কি লিখেছিল সেটা কি ওই বইটিতে দেওয়া আছে? কারণ সুনীলের চিঠি পড়ে, সন্দীপনের জবাব জানতে আগ্রহ বোধ হচ্ছে।
Simantini Ghosh Tahole seta ekhane khub e oprasongik. Karon lekha ti r mul protipadyo Sandipan er sahityo kormer somalochona noy, otyonto gorhito achoron er somalochona.
ar ei bohu shilpi byektijibon e pervert tai shilpi r shilpo tar byektijbon er theke alada, eta o bohusruto ojuhaat. Kar bhababeg ahoto hobe, starting from Klaus Kinski to Woody Allen to Harvey Weinstein to Dipesh Chaudhuri, ta niye amar kono mathabyatha nei.
This is exactly what perpetuates the permissive environment in which a rape culture thrives.
Orom bhababeg ahoto howai bhalo. At least ekta dialogue o jodi toiri hoy, tahole oneke khub ashojhyo bodh korleo bodhoy samgrik bhabe kono khoti nei.
Dhonyobad.
Suvendu Debnath Raya Debnath Raya Debnath এই তো আমি পুরোটা না পড়েই বলতে শুরু করে দিলেন? আমি কিন্তু আগেই বলে নিচ্ছি আমি সন্দীপনের ফ্যান নই। এবার বলি আমি এই লেখাটির প্রসঙ্গে মন্তব্য করি নি। মলেস্টেশনে উইট আমি খুঁজে পাই সেটা আমার কমেন্ট দেখে বুঝে গেলেন? যাহ বাবা, এ তো আচ্ছা হল দেখছি, ফেসবুকে আজকাল কোনও বিষয়ে কমেন্ট করা দায় হয়ে পড়ছে। আগে শুনুন কি জানুন কি বলতে চাইলাম। তবে না আমার প্রতিবাদ করবেন বা আমাকে বকাবকি করবেন।বাকি রইল আদিবাসী রা মেয়ে কিনা সেটা আমি মর্মে মর্মে বুঝি ম্যাডাম কারণ জীবনে অনেকটা দীর্ঘ সময়ে তাদের মধ্যে কাটিয়ে বুঝেছি, কি পরিমাণ লড়াই তাদের করতে হয় এবং তাদের হয়ে লড়তে গিয়ে চাকরিটি খুইয়েছি।
Suvendu Debnath Simantini Ghosh হ্যাঁ আপনার এই কথাটা খুব জায়েজ এবং যুক্তি সংগত এটা মেনে নিতে কোনও বাধা নেই যে আমার কমেন্টটা অপ্রাসঙ্গিক। আমি শতাব্দীর এই পোষ্টের পুরোটা পড়ে জাস্ট প্রথম লাইনটির পরিপ্রেক্ষিতেই কথা বলেছি অর্থাৎ ওই চন্দ্রিল কি বলেছেন সন্দীপন সম্পর্কে। বাকি সুনীল এবং সন্দীপনের মধ্যে রেষারেষিটা সকলেই জানেন। যদি সন্দীপন এটা করে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই অপরাধ, কিন্তু করেছেন কতটা সেটা একটু সন্দেহ আছে, তাই Satabdi Das র কাছেই প্রশ্ন করেছি দেখুন যে ওই বইটিতে সন্দীপনের উত্তরের চিঠিটা আছে কিনা, কারণ দেখাটা সুনীলের কি না তাই।
Raya Debnath আপনি, ভেবে দেখছেন ঠিক কী কী বলছেন? আপনি এসে জ্ঞান দিচ্ছেন কী ভাবে সন্দীপন ‘পড়তে’ হয়, সজনীকান্ত বুঝে সন্দীপন পড়তে বলছেন। বলছেন সবাই নাকি সন্দীপনের “উইট” টা বোঝে না। কোথায় বলছেন কথাগুলো? না, যেখানে স্পষ্টত সন্দীপনের একটি অপরাধমূলক আচরণ নিয়ে কথা হচ্ছে। সেখানে এসে লিখছেন “তিলে খচরামি”টা সবাই করতে পারে না, আবার গলাবাজি করছেন?
আপনি শিল্পির ব্যক্তিজীবন নিয়ে বদারড নন জোর গলায় বলেছেন, এমনকি আপনাকে বিষয়টি আরোও একবার মনে করিয়ে দেওয়ার পরেও। এই সমস্ত কিছুই করতে পেরেছেন কারণ মলেস্টেশন অপরাধটি আপনাকে সরাসরি এফেক্ট করে না এবং আপনি সেটা ছাড়া বিষয়টি বোঝার মত ন্যূনতম সংবেদনশীল নন।
একটা লেখার প্রথম লাইন পড়ে লাফিয়ে এসে গুচ্ছ প্রবলেমেটিক বক্তব্য রেখে অন্যকে নিজের সেই প্রবলেমেটিক মন্তব্য রিরিড করতে বলে এখন বলছেন লেখাটা আপনি পড়েননি?
আপনিতো অসাধারণ
Satabdi Das Suvendu Debnath, আপনি ওঁর কাছের লোক হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছেন অথচ এসব কমবেশি সকলেরই জানা।এখানে কোনো 'উত্তর'নেই।আত্মপক্ষ সমর্থন থাকবে কেন?সন্দীপন একে অপরাধ ভাবছেন না। শুধু একজন নারীকে কীভাবে পেতে হয়, সে নিয়ে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। লক্ষ্য একই। কীভাবে তিনি লেখাটি শেষ করেছেন, তা আমার লেখায় বলা আছে।পড়ে নিন।
Suvendu Debnath Raya Debnath অপনি দেখছি আলোচনার মাঝ খান টুকু এসে পড়ে ব্যক্তিকে বিচার করেন। আমি শতাব্দীর বহুশ্রুত কথাটির পরিপ্রেক্ষীতে বলেছি। যাই হোক আপনার সঙ্গে তর্ক করা বৃথা ম্যাডাম। অথচ এই পোষ্টে একই জিনিস প্রতিবাদ করছেন Simantini Ghosh। ওনার আলোচনার কথা এবং যুক্তি কিন্তু মন্দ লাগছে কারণ যুক্তি সহকারে বলছেন এবং ভুলটি ধরিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে আপনার বক্তব্যটা বড্ড অফেনসিফ হয়ে উঠছে। ভাষাটিও শুধু মাত্র আক্রমণ করার জন্যই মনে হচ্ছে। কারণ আমি একবারও বলিনি লেখাটা পড়িনি বলেছি কি কোথাও? পরিস্কার বলেছি পুরো লেখাটি পড়ে চন্দ্রিলের মন্তব্যটার প্রসঙ্গে আমি বলেছি। আপনি না বুঝলে আমার দায় নয়। আগে বুঝতে শিখুন কি বলতে চেয়েছি ভাল করে পড়ুন। আর এই প্রসঙ্গে এই চিঠিটি প্রসঙ্গে একটু সন্দীপনের উত্তরটা যদি খুঁজে দিতেন। ভালো লাগত
Suvendu Debnath Satabdi Das নাহ নাহ মোটেও কাছের লোক বলে পরিচিয় দিই নি শতাব্দী, আমি বলেছি আমরা যারা সন্দীপনকে চাক্ষুষ দেখেছি, তার মানে কিন্তু কাছের লোক নয়। বাকি রইলো সুনীলের বক্তব্য এই চিঠিতে, সেটা নিয়ে বলি, সন্দীপন এবং সুনীলের মধ্যে এই ধরণের দোষারোপ পালটা দোষারোপ চিরকাল চলেছে। যখন সন্দীপনকে চিঠিটা লেখা হয়েছে তখন তার তো একটা বক্তব্য থাকবেই তাই না? সুনীল ট্রেনের ওই আবছায়া আলোয় যা দেখেছেন সেটা তো তার ধারণা, কারণ ট্রেনের একদম টপ বাঙ্ক থেকে তিনি দেখছেন নীচের সিটে একজন আদিবাসী মেয়ে সন্দীপনের পায়ের কাছে বসে আছে, সন্দীপন তার শরীর ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন, অর্থাৎ ওই আধো অন্ধকারে সুনীল মেয়েটির মায়ের মুখ মেয়েটির চোখের ক্রোধ দেখতে পাচ্ছেন। সুনীলের বহু লেখায় এভাবে সন্দীপনকে হ্যাঁটা করা হয়েছে, যা পরবর্তী কালে জানা গিয়েছে সন্দীপনের প্রতি রাগ বশতই করা হয়েছে। তাই এখানে সন্দীপনের চিঠির জবাবটিখুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাববেন না আমি সন্দীপনের ফ্যান বা সন্দীপনকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছি। আমি একটা ঘটনার যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র, যে এক পক্ষ শুনেই কারও দিকে আঙুল তোলা উচিত নয়, যখন এই রকম একটা সিরিয়াস অ্যালিগেশনের ব্যাপার। সুনীল এবং সন্দীপনের একে অপরের প্রতি বিদ্বেষটা এবং বন্ধু মহলে একে অপরের প্রতি মনোভাবটা সকলেরই জানা প্রায়। তাই আমি আগ্রহী সন্দীপনের জবাবটা জানার ব্যাপারে
Ipsita Sengupta "আমরা যারা সন্দীপনকে সামনে দেখেছি তারা খানিকটা এই ব্যাপারটার সঙ্গে হ্যাবিচুয়েট। ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায়। লোকে পড়ে হয়ত বলবে এমা স্মরণজিত পড়ে আহা উহু করবেন। সন্দীপন পড়তে গেলে অনেকটা সজনীকান্ত বুঝতে হবে। " শতাব্দীর পোস্টটা পড়ার পর আপনি সেই প্রেক্ষিতে এটা লিখলেন Suvendu Debnath বাবু?
Raya Debnath অফেনসিভ? আপনি একটা লেখা আপনার কথা অনুযায়ী “না পড়ে” সন্দীপনের উইট বোঝাতে আসছেন ? যেখানে একটি মেয়ের যৌন হেনস্থা হয়েছে সেই নিয়ে স্পষ্ট কথা হচ্ছে সেখানে “এক লাইন পড়ে” উইট বোঝাতে এসেছেন আর আপনি অফেনসিভ হওয়ার কথা বলছেন? আপনার বোধ আছে , আপনি কী বলছেন? আমি আপনার প্রত্যেকেই কমেন্ট পড়েছি। অত্যন্ত জঘন্য দিয়ে শুরুই করেছেন আবার এখন নিজের কথা জাস্টিনটাই করছেন?
Suvendu Debnath Ipsita Sengupta হ্যা লিখলাম, কারণ সুনীলের এই চিঠিখানি নিয়ে আমার বহু অংশে সন্দেহ রয়েছে। আপনি হয়ত সুনীল সন্দীপনের রেষারেষিটা জানেন। তাই কারণ যেখানে চিঠির বর্নানা দেওয়া হয়েছে। আবারও বলছি, যে সন্দীপন যদি এমন কাজ করে থাকেন তা ক্ষমার অযোগ্য, কিন্তু আদৌ করেছেন কি না সেটার জন্যই সন্দীপনের উত্তরটা জানার কথা বলছি
Suvendu Debnath Raya Debnath "না পড়ে" ? এই রে এদিকে আপনি বলছেন আমার সব কমেন্ট পড়েছেন আবার বলছেন আমি লিখেছি "না পড়ে" তাও না পড়ে টা কোট করে।
Raya Debnath 😑😑😑😑
আপনি শতাব্দীর লেখাটি পুরোটা পড়েননি নিজে দাবি করেছেন।
এবার নিজে আমার কমেন্ট রিরিড করুন।
আপনি দাবি করেছেন “না পড়েই” আপনি মন্তব্য করেছেন। আপনার এই “না পড়ে “ মন্তব্য অতন্ত হাস্যকর , তাই “ “ অবতারণা? বুঝেছেন?
নাকি আরোও ভেঙে বোঝাতে হবে?
Suvendu Debnath Ipsita Sengupta একবার সুনীলের বর্ননাটা পড়ে দেখুন, তিনি রয়েছেন রাতের বেলা বাঙ্কের মাথায়, ঘুমোবার চেষ্টা করছেন, অথচ তিনি এতটাই মহান যে মুখ ফিরিয়ে নিলেন বন্ধুকে আটকালেন না প্রতিবাদ করলেন না। নিজের বাবাকে পরলোকগত ভেবে নিলেন। আবার আদিবাসী মেয়েটির চোখে আগুন দেখলেন। তিনি তো সবচেয়ে বড় অপরাধী তাহলে ধরতে হবে চোখের সামনে অপরাধ হতে দিয়েও চুপ করে রইলেন। অবিশ্যি যদি সন্দীপন আদৌ তেমন কিছু করে থাকেন। একজায়গায় সুনীল এই চিঠিতে লিখছেন, "এই সময় আমি দেখতে পেলুম আপনার পদতল থেকে মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো। তার একপাশে আপনি অন্যদিকে কালো রঙের একটি পুরুষ, সামনে একটি কুৎসিত বৃদ্ধা পেছনে দেওয়াল"। একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন দৃশ্যটা। ট্রেনের নীচের সিট, একজন পুরুষ সেই সিটে বসে আছেন, মেয়েটির একপাশে অন্য একটি পুরুষ, সামনে একটি বৃদ্ধা। তারপরও সুনীল যেটা বলছেন সেটা সম্ভব কি না? এটি সেই সময় অধিকাংশ ট্রেন সফরে মদ্যপ অবস্থায় থাকা সুনীলের কতটা কল্পনা আর কতকটা বাস্তব? Raya Debnath এবং যারা আমাকে বলছেন তাদের সকলকেই একটু ভেবে দেখার কথা বলছি। "আবার সুনীল ঠিক পরের লাইনেই বলছেন মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো শুধু শরীরের গ্রন্থি গুলোকে একটু সহজ করে নিতে চাইল"। সুনীল বারে বারে চিঠিতে নিজের কল্পনাকে আশ্রয় করে নিলেন। এই চিঠিটি সম্ভবত অরণ্যের দিনরাত্রির সময়কার লেখা। কারণ সুনীল ওই উপন্যাসে সন্দীপনকে না রাখায়, (কারণ সন্দীপনের দাবী অনুযায়ী সন্দীপন ওই সফরে ছিলেন) সন্দীপন পড়ে ওই একই ধাঁচে একটি উপন্যাস লেখেন যেখানে তিনি আবার রাগ বশত সুনীলকে জায়গা দেন নি।
Ipsita Sengupta Suvendu Debnath কিন্তু আপনার প্রথম কমেন্টেই কিন্তু কোথাও সন্দেহ প্রকাশ ছিল না - ছিল কি? বরং " ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায় " গোছের আত্মশ্লাঘা বোধ করেছেন। :-)
Satabdi Das ইনি এরকম সুনীল ভার্সাস সন্দীপন তরজা কেন করছেন, কেউ বুঝলে আমায় বুঝিও। দুজনেই সমান মিসোজিনিস্ট ও মলেস্টার এটাই তো বলার চেষ্টা হচ্ছিল।
Suvendu Debnath Ipsita Sengupta সে প্রশ্নের জবাব কিন্তু আমি দিয়েছি Simantini Ghosh এর জবাবে। সেই ভুলটা স্বীকারও করেছি যে হয়ত প্রসঙ্গত আমি ঠিক বলি নি
Suvendu Debnath Satabdi Das আমি তরজা করছি না Satabdi Das আমি আপনার ওই একটি কমেন্ট "সন্দীপন সম্পর্কে বহুশ্রত" বলার পর যেভাবে আক্রমণ শুরু হল তার বিপক্ষে যুক্তি দিতে চেয়েছি। ওই কমেন্টটি করার পর এমন রে রে শুরু হল যেন সন্দীপন বা সুনীল নন মলেস্টেশনটা আমিই করেছি, বা একজন মলেস্টারকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছি। নইলে এত কথা বলতাম না"।
Raya Debnath নিরন্তর এতটা বাজে কী করে বকা যায়? জাস্ট কীভাবে?
Satabdi Das আপনি মলেস্টেশন করেননি। কেউ তা বলেননি।আপনি মলেস্টারকে ডিফেন্ড করেছেন, কারণ নাকি তিনি'উইটি', সেক্ষেত্রে প্রতিবাদ আসবেই। আপনার একটু ভেবে বলা উচিত ছিল প্রেক্ষিত ও প্রসঙ্গ। এখানে সন্দীপনের শৈল্পিক নৈপুণ্য আলোচনা হচ্ছে না।
Ipsita Sengupta Suvendu Debnath আপনার সেই কমেন্টটিও পড়লাম। অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট করেছেন এবং বলেছেন প্রথম লাইন দেখে লিখেছেন। কিন্তু "ওই তিলে খচরামি"টার কথা সেখানে তো ছিলনা। বলছিলাম কি খচরামি করিনা বলে খচরামি বুঝিনা সেটা নয় কিন্তু ভাই। :-)
Raya Debnath আমাদের এই সাহিত্য সাহিত্যিক নিয়ে আলোচনায় নির্মম ভাবে সেই মেয়েটা ঢাকা পড়ছে যে শুধু মেয়ে নয় সাঁওতালও । ফলে বাবুদের কাছে ‘সহজলভ্য’। এই সাহিত্য নিয়ে এই মুহূর্তে অপ্রাসঙ্গিক আঁতলামিটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছে । বোঝা যাচ্ছে না?
Simantini Ghosh 1. Suvendu apni bollen apni protyokkho bhabe dekhechen adibasi mohila ra kirokom shoshoner sommukheen hon, ebong tader jonye lodte giye chakri hariyechen.
sekhetre shikkhito shohure babu ra adibasi meyeder gaye haat deben lukiye, ei Oteebo common exploitation ta apnar kache erokom abishashwo ebong aschorjojonok, eta I adbhut contradictory lagche.
Khyatonama sahityik ba personal porichiti thakle I she manush e achoron korte sokkhom nawn, eta to just classist ebong personal bias.
2. Je kono post e comment korar age puro post ta pore korle bhalo hoy na Ki?
3. Apologia is apologia at the end of the day. Apni Ek Bar wit bole theme jan ni, even after Satabdi pointed out the molestation angle, er pore tile khochrami theke Sajanikanto etc sahityacharcha tene anlen.
Seta oprasongik point out korate bolchen Sunil Ki kore dekhlen, eta sotyi na Mithye.
Satabdi r post e etao royeche eta ekta autobiographical epistolary ebong Sandipan sesh korechen ei bole je Sunil er songe tini joutho songom korechen adibasi nari r sathe- er pore reshareshi ta ekhane kothay dekhchen?
Je khane Sunil porom oudarjye tindin pore sahityer khatire abar sob bhule gelen,
If anything they both represent the same evil, a boys club of entitlement and privilege, keu bus e bacha meyeder theke shorir sukh pan, keu train er adibasi meyeder theke.
Ei sadharon jinish gulo Ki kore eto durbodhyo hoy eta I rohosyo.
Jai howk. Further comment er aage ekbar puro post ta porle, ebong somalochona ta keno, kisher biruddhe, eta bujhe comment korle bhalo hoy,
Sankha Subhra Mullick Ini ekhono vejacchen :( .. Tobe tomra khubi thanda vabe boktobyo gulo tackle korcho .. I should watch and learn
Sayantani Adhikary Ei suvendu babu r boktobyo khub i common. Jemon "ekta lok eto matal chilo je dnarate parchilo na, tahole she molest korlo ki kore?" "Bus e oto mahila chilo karur kichu holo na, oi molested holo erokom hoy naki?" "Eta ekta trap. Cheletake exploit/malign korar jonyo bolche eshob."
Mahasweta Samajdar Aro ekta katha mone hoy, je bipul buddhidipto jonopriyota Sunil sandipan peye cholechhen tate bojha jaye misogyny, molestation eigulo sudhu accepted i noy bipul bhabe appreciated. Aajkal publicly ei sob bola mushkil... ei r ki .
Fole Suvendubabur boktobyo ta o thik line ei ache
সুব্রত ঘোষ একদম। ওয়াক এবং থু।
Kshanika Santra dey PePe Dey
Mahasweta Samajdar মনের কথা বললে হে। এই কারণে একাধিকবার চেষ্টা করেও সন্দীপন পড়ে উঠতে পারিনি। সুনীলের বড়দের উপন্যাস গল্পও তথৈবচ। এ ব্যাপারে অশিক্ষিতই রয়ে গেছি।
Satabdi Das সাহিত্যের ছাত্ররা বা সাহিত্যিকরা পড়ুন, শিখুন। সাধারণ পাঠকের স্বাধীনতা থাকুক বর্জনের, শুধুমাত্র বিষয়বস্তুর কারণেই।
Bahata Ansumali Mukhopadhyay খুব দরকারি লেখা পড়ালেন । ধন্যবাদ
Riju Basu মিসোজিনিস্ট সেক্সিস্ট তো বটেই মেয়েদের কনসেন্ট নিয়ে এক ধরনের মানসিক পঙ্গুতা পুরুষকে অসাড় করে রেখেছে। সুনীলদের এসব চিঠিচাপাটিতে এগজটিক পশ্চিম নিয়ে রোম্যান্সের বাইরের এই নোংরামি আমরা ধরতে পারিনি বহু বহু দিন। ছেলেদের অনেক কিছুই আনলার্ন করার থাকে। সুনীলদের দিন গিয়েছে, যারা আছি তাদের শেখার পর্ব।
Suvendu Debnath একদম Riju Basu দা, তবে সুনীলের এই চিঠির বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়, তোমারও কি তাই মনে হয় না?
Riju Basu সন্দেহ কিসে? এমনটা নাও ঘটতে পারে?
Suvendu Debnath নাহ, সন্দটা সুনীল বলেই, যে সেটি কতটা বাস্তব আর কতকটা সুনীলের মস্তিস্ক প্রসুত
Riju Basu তা জানি না, তবে নানা গর্হিত অপরাধ নিয়ে ছেলেদের বোধের খামতি শিক্ষিতদের মধ্যেও দেখা যায়।
Satabdi Das মহা জ্বালা।সন্দীপন এই ঘটনা অস্বীকার করেন নি। আদৌ।সন্দীপন নিজেই চিঠিটি ছেপেছেন, নিজের 'চাইবাসা চাইবাসা' নামক এপিস্টোলারিতে। এবং একরকম স্বীকার করেছেন চাইবাসা অধ্যায়ে এরকম অনেক কাণ্ড তাঁরা একসাথে ঘটিয়েছেন। (তারপরে আবার একে অন্যকে দোষারোপ করেছেন)।
এক কথা শুভেন্দু বাবুকে বারবার বলা মুশকিল।
অলোকপর্ণা চটি নামক গল্পটা ছাড়া সন্দীপনের বাকি গল্পগুলো একই বয়ানের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে। তারপর আর উপন্যাস বা অন্যান্য লেখা পড়িনি।
Ayan Chakraborti Sandipan ke aamio kinchit chakkhush korechhi, Sunil keo. Onara meyeder proti bodher byapare gorporta chhele der motoi chhilen. Meyeder jouno object er baire khub ekta kichhu bhabten na. Er songe onader sahityik hisebe mulyayon er somporko nei. Aabar khanik achheo.
Sayantani Adhikary Sandipan besh kom boyeshe porechilam. Tokhon sexism ebhabe bujhtam na. Tao bhoyanok awsasti hoechilp
Mahasweta Samajdar Ei aswasti tai katiye ar porte parini.
Sayantani Adhikary Ekdom. Amio duto teente porechilam. Ekhon porle boi toi chnure felbo sure. Sunil porao bondho korechi
Mahasweta Samajdar আম্মো
Riju Basu আমি সন্দীপন সেভাবে পড়িনি। পড়তে চাই। শতাব্দীর পোস্টটা সন্দীপনের সাহিত্যকর্ম নয়, সুনীলসন্দীপনদের একটা বয়সের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞান নিয়ে, সাহিত্য নয়। সাহিত্যের সঙ্গে এই মানসিকতার যোগ থাকতেও পারে, কিন্তু একমাত্র সেটাই সন্দীপনের সাহিত্য বিচারের মাপকাঠি হবে না। মিসোজিনিস্ট সন্দীপনও বড় বা জরুরি সাহিত্যিক হতে পারেন, কিন্তু। এই নানা রকম আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দীপনকে পড়া জরুরি মনে হচ্ছে।
Satabdi Das পড়ো না কেন? 'আজকাল'-এর তিন খণ্ডে উপন্যাসসমগ্র। 'মিত্র ঘোষ'-এর দুই খণ্ড গল্পসমগ্র। এছাড়া ডায়রি চিঠিপত্র। হাতের কাছে না থাকলে এর সব কটাই পিডিএফ এ পাওয়া যায়।আমারবই ডট কম-এ।
ওঁর রচিত প্রায় সব কিছু মিসোজিনিস্ট। এতটাই যে 'কলেরার দিনগুলিতে প্রেম'-এ শেষে একটি চিঠি আছে অত্যাচারিত মেয়েটির(চরিত্রটির) লেখা।যেখানে সে বলছে তাকে খেলনা ছাড়া,সেক্স অবজেক্ট ছাড়া কিছু ভাবা হয়নি, কিন্তু তা সত্ত্বেও উপন্যাসের আসল মিসোজিনিস্ট সুর এতটুকু ক্ষীণ হয়নি। চিঠিটাই আন-সন্দীপনলাইক, খাপছাড়া, উপন্যাসের প্রতি অবিচার, অযথা ব্যর্থভাবে পলিটিকালি কারেক্ট থাকার চেষ্টা মনে হয়েছে।
সন্দীপনের খুব ভয়ংকর লেভেলের নারীদ্বেষী।
Satabdi Das মুশকিল হচ্ছে, আমি ব্যক্তিগত ভাবে, কোনো লেখা মিসোজিনিস্ট রেসিস্ট ইত্যাদি হলেও সাহিত্যশৈলী আপ্রিয়েশিয়েট করতে ট্রেনিং প্রাপ্ত, কারণ সাহিত্যের ছাত্রী। কিন্তু ওটা আজকাল আর পারিনা। পারলেও পারাটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
Mahasweta Samajdar আমি আবার মিসোজিনিস্ট রেসিস্ট ইত্যাদি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে বঙ্কিম, শরৎ, ত্রৈলোক্যনাথ, রবীন্দ্রনাথ, বিভূতিভূষণ, নরেন মিত্র, বনফুল , শরদিন্দু , শীর্ষেন্দু, শ্যামল ইত্যাদি পড়তে পড়তে সন্দীপন আর সুনীলে এসে ঠেকে গেলুম।
Riju Basu আসলে মিসোজিনিস্ট চরিত্র নিয়ে লেখা যেতেই পারে, কিন্তু লিখতে গিয়ে লেখাটাই নারীবিদ্বেষমূলক হয়ে গেলে মুশকিল। শেক্সপিয়রের কত ধরনের চরিত্র তবু মনে হয়, শেক্সপিয়রের আসলে নাগাল পাওয়া গেল না
Mahasweta Samajdar লেখাটাই নারীবিদ্বেষমূলক ঠিক নয় হয়তো। লেখাটার তলে তলে যে সুর বাজে, সেইটে নারী-অবজ্ঞাকারী।
সুকল্প দত্ত মৃত্যুর তেরো বছর বাদেও সন্দীপনের কুখ্যাতি যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে,জানলে তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ ফিচেল হাসি হাসতেন।সন্দীপনকে মানুষ চাইলেও ভুলতে পারবেন না এই কুখ‍্যাতির জন্যই শুধু।তিনি যে মনে প্রাণে বিতর্কিত হতেই চেয়েছেন।তাই নিজেকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি।পাঠককে সবটা খুলে দেখিয়েছেন,দেখ আমার ব‍্যক্তিজীবনের অজাচার,যাতে তাদের গলার ভিতর একদলা থুতু জমে যায় ও তা সজোরে নিক্ষিপ্ত হয় তাঁর মুখে।নাহলে তিনি এই মারকাটারি চিঠিটিকে গল্পসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত করতেন না।তাঁর লেখালিখিকে স্রেফ মাংসবিক্রি বলে গেছেন।একজন না-লেখক থেকে সার্বিকভাবে অমানুষ হয়ে উঠেছেন।কিংবা একজন অমানুষ থেকে না-লেখক।বাংলাগদ‍্যের এক এবং অদ্বিতীয় 'ভিলেন' তিনি।আজ এই বিতর্ক যেন এই স্টেটমেন্টকেই আরও একবার উশকে দিল।পাঠককে কুর্ণিশ।আসুন আরও ঘেন্না করে অমর করে তুলি সন্দীপনকে।
Sankha Subhra Mullick Mane ?
Satabdi Das পুরো আলোচনায় সন্দীপনের চরিত্র চিত্রণ লক্ষ্য ছিল না, তাঁকে স্মরণ করাও নয়। সেটা আপনি কোনো কারণে বোঝেন নি। সন্দীপনকে নিন্দার ছলে স্মরণ করার হলে সুনীলকে নিয়ে কোনো শব্দ খরচ করা হত না।
একটা নির্দিষ্ট জেনারেশনের লেখকদের জেন্ডার ইনসেন্সিটিভি নিয়ে সামান্য কিছু কথা বলা হয়েছে। সন্দীপনের সূত্র ধরে এরপর হাংরি জেনারেশনের প্রায় প্রত্যকের জেন্ডার ইন্সেন্সিটিভিটি নিয়ে বলা যায়, এক এক করে। তাতে তাদের মধ্যে জীবিত ও মৃতরা কে কে ফিচেল হাসি হাসলেন, তা নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই।
দ্বিতীয়ত, যে নারীর সাথে লাঞ্চনা ঘটছে, তিনি আমাদের কাছে বরং স্মরণীয়। তিনি ও তাঁর বেদনা আলোচ্য। তাঁর প্রকৃত মানসিক অবস্থার প্রতি দুজনেরই বোধের অভাবই আলোচ্য।
Arnab Mukherjee Satabdi Das আমি আপনার সাথে একমত যে সমাজমানসে এই সংবেদনহীনতা, এই বুঝতে না পারা, বুঝতে না চাওয়া বেশ প্রচলিত। যে সাহিত্যিক সংবেদনশীল নন, তিনি/তাঁরা নিন্দনীয়। কোনো যুক্তি দিয়ে , তার সাহিত্যগুণ বা সাহিত্যিক হিসাবে তার জনপ্রিয়তা দিয়ে, তাঁর মানসিকতাকে সমর্থন করা যায় না।
এটা যেমন সত্যি, তেমন ই, একজন লেখকের সমাজের সত্যিকে তুলে ধরাও জরুরি। তাতে তাঁর মতামত যোগ হবে কিনা তা বিতর্ক সাপেক্ষ।
তাই কোনো সাহিত্যিক নিজেকে উজাড় করে লিখবেন কিনা তাও বিতর্কিত। তিনি ফলাফল স্বীকার করতে বাধ্য থাকা প্রয়োজনীয়।
আমি একমত থাকলাম আপনার সাথে যে ওই মানসিকতার প্রতি ঘৃণায় আমার অধিকার। আর আমার মা, বউ বা মেয়েকে এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাতে না যেতে হয়, তার জন্য মতামত তৈরি করা আমার কর্তব্য।
Mahasweta Samajdar Arnab Mukherjee একটা কথা মনে হল। আপনার মা মেয়ে বা বউকে এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাতে না যেতে হয় , এইটে দেখা আপনার ব্যক্তিগত কর্তব্যের মধ্যে ফেললেও , সেইটা খুব একটা হবার নয়। বরং কোনো পুত্রের হাতে না কোনো নারীকে লাঞ্ছিত হতে হয় সেইটে নিশ্চিত করা সব ছেলেদের মা বাবাদের দায়িত্ব বলে মনে হয়। সেই মানসিকতা বাড়ির বাতাবরণে তৈরি করা সম্ভব।
Arnab Mukherjee Mahasweta Samajdar আসলে মনের কথাই লিখছিলাম। আমার ছেলে নেই, তাই মেয়ের কথাই লিখেছি। ঠিক বলেছেন। নিজেকে বদলাতে চেষ্টা করছি আর আশেপাশ কেও (ভাই, বন্ধু ইত্যাদি)।
Mahasweta Samajdar Arnab Mukherjee মেয়ের বাঁচাটা অনেকাংশেই ভাগ্যনির্ভর।ওতে আর আমাদের হাত নেই।
Arnab Mukherjee Mahasweta Samajdar কোনোদিন ই ছিল না। আলোচনার বিষয়বস্তুতে ফেরা যাক। আমরা চেষ্টা করছি। কোনো কোনো পুরুষ ও। এটুকুই সার।
Debarshi Ghosh Prachur naam sunechi,porini . Eta shune ar porar ichheo nei. Je juger lekhok i hok, dhorshon niye glorification porar moto bashona nei. Tar cheye Taranshakar,Rabindranath era benche thakuk. Oi juger nirikheo nijeder moto kore narider jotota sensitively bojhar ,sei chesta ora kore gechen.
Debabrata Shyamroy এটা কোথায় পড়ছেন? গদ্যসংগ্রহ?
Somen Basu লেখাটা দেখে রাখো।
Satabdi Das গল্পসমগ্র প্রথম পার্ট। মিত্র ঘোষ।
Somen Basu দেখেছি
সুস্মিতা ঘোষ Satabdi di, ei post ta ami ektu akta reference hishebe share korbo?
Satabdi Das সুস্মিতা ঘোষ কোথায়?
সুস্মিতা ঘোষ Satabdi Das একটা পোস্টে একজন জানতে চাইছেন, কোনো বইয়ে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের মলেস্টেশনের কোনো রেফারেন্স কেউ পেয়েছে কীনা? পোস্টটার ছবিটা রেফারেন্স হিসেবে দেখাতাম।
সুস্মিতা ঘোষ আর তোমার লেখাটা তো খুব পরিষ্কার আর তীক্ষ্ণ ভাবে লেখা। তাই পোস্ট। তবে শুধু ছবিটা হলেও হবে।
Satabdi Das আচ্ছা। হ্যাঁ।
Sumona Choudhury Shamim Ahmed Saswati Bhattacharjee
Debabrata Shyamroy বাংলা গদ্যের বিশিষ্ট এক লেখকের বোদ্ধা চ্যালারা কীভাবে লেখকের মৃত্যুর পর তাঁর চূড়ান্ত পারভাশনকেও সমর্থন করছেন, সাহিত্য দিয়ে জাস্টিফাই করছেন, তা দেখার জন্য এই থ্রেডটার কাছে বারবার ফিরতে হবে।
Aeonian Anirban ইনফ্যাকত্ 'অরণ্যের দিনরাত্রি ' ও খুব বাজে রুচির উপন্যাস মনে হয়েছে।
Aeonian Anirban শেয়ার করব ?
Satabdi Das Aeonian Anirban hyan
Jaya Thakur ঘেন্না
Aditi Basuroy Amader sob ‘purush ‘ lekhok ...AHA ei to asole monovab ..kon dik e jai bolo to ?
Sayan Das Suvendu Debnath er prothom comment, jekhane uni molestation er wit na dhorte para niye dukkho prokash korechhen tate love reaction die gechhilen sei prokashok jini 'metoofeetoo' theke surakkhito thakar upodesh biliyechhilin. Jak, uni je andoloner purono sathi, molestation er pokkhe jodio, tar abar proman pawa gelo
Tinku Khanna ধন্যবাদ শতাব্দী আপনার সুস্পষ্ট তীক্ষ্ণ লেখাটির জন্য। আমি চাইবাসা চাইবাসা পড়িনি। কিন্তু অরণ্যের দিনরাত্রি পড়ে আমার বিবমিষা হয়েছে। আমাদের কলেজ জীবনে সন্দীপন cult figure ছিলেন। কিন্তু ওঁর অসম্ভব mysogynistic লেখা পড়তে ভীষণ বিরক্ত লাগতো।
Aeonian Anirban Tinku Khanna
অরণ্যের দিনরাত্রি সম্পর্কে আমি পুরো একমত। এটি একটি বিকৃত রুচির বাবু কালচারের মহিমা কীর্ত্তন।
Manobi Bandyopadhyay সবটাই অরণ্যের দিনরাত্রি । এমনি দেশি সহ্য হয় না রবিবার রেওয়াজির জন্য লাইন । আদিবাসি ,! যৌনতায় পুরুষরা ছেলেমানুষ । প্রতিটি পুরুষই জানে তার নারীটি সুখের ভান করতে বাধ্য হয় । আশালতা বিনোদিনীর খোলস যখন ঋতুপর্ণ ছাড়ালেন আমরা বাল্মীকির রতি ক্রিয়া যেন দেখে ফেললুম । তবেই তো ঐশ্বর্যর দোহাই ।
সুস্মিতা ঘোষ আজ সন্ধ্যায় দু'টি জ্ঞানলাভ হলো।
১) সুনীল-সন্দীপনের সময়ে লোকজন 'কনসেন্ট' শব্দের মানে বুঝতো না। আজকের বিচারে ওঁদের বিচার করলে চলবে না। তাই ঘটনাটি অনভিপ্রেত হলেও অপরাধ নয়।
২) ঘটনাটা ঘটেই নি! পুরোটা সুনীল ব্যঙ্গার্থে লিখেছেন। মহৎ সাহিত্য ইত্যাদি।
ও হ্যাঁ। সন্দীপন একজন মহান নারীবাদী। এটিও পড়লাম।
এসব মন্তব্য পড়লাম আবার চাড্ডি-বাম-লিবারাল নির্বিশেষে। Mahasweta দি, তুমি ঠিকই বললে। আমাদের নিজেদের দল চাই।
Jaya Thakur সন্দীপন? নারীবাদী? Seriously 🙄🙄🙄🙄
Jaya Thakur ওনার গদ্যের স্টাইল আর ফর্ম ইউনিক বলে উনি ভগবান নন। কেউই নয়
Sankar Das কলেজ জীবনে পড়েছিলাম। এই লোকগুলো চিরকালের হারামী সে কথা সবাই জানে। হাংরী মুভমেন্টের নারীবিদ্বেষী চরিত্র থেকে এদের সূত্রপাত। নন্দিনীর Nandini Dhar একটা ভাল লেখা আছে হাংরী নিয়ে। আয়নানগর পত্রিকায়।
Yashodhara Ray Chaudhuri Satabdi Das আমার বহুদিনের প্রজেক্ট সন্দীপনের লেখার নারীবিরোধী জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করা যেভাবে হেনরি মিলারকে চিহ্নিত করেছিলেন নারীবাদীরা যথা এরিকা ইয়ং। কাজটা ত তুমিই শুরু করে দিয়েছ। থ্যাংক ইউ। বাকি পুরো বাংলা সাহিত্যের ক্যাননটাই তারপর ধরতে হবে।
Aditi Basuroy Yashodhara Ray Chaudhuri Shirsendu er lekha teo khub naribirodhita achhe ..nischoi dekehchho ..bisesh kore Meye der kaj kora byapar e jao Pakhi te bola hoyechhe chhele der Bogol er gondho shnukte Meye der kaj e jaoar dorkar nei ba Dhiman purush er mon er Tol paoa Meye der kommo noy . Echharao onek achhe eta mone Porlo
Yashodhara Ray Chaudhuri Aditi Basuroy অবশ্য ই আছে
Raka Dasgupta Aditi আমি ঠিক এই কারণেই শীর্ষেন্দুর লেখা নিতে পারি না রে! যত ভালোই লিখুন না কেন। পিতৃতান্ত্রিকতা, ব্রাহ্মণ্যবাদের এমন একটা strong undercurrent থাকে !
সুনীলকে প্রোগ্রেসিভ ভাবতাম, এবার ধাক্কা খেলাম।
Aditi Basuroy Raka Dasgupta ekdom e...aschorjyo vromon e dekh ..Durbin..jao pakhi sob Kichhu tei sei ek e regressive attitude..Meye der choritrayan dekhle I Bojha jay
Yashodhara Ray Chaudhuri বাংলা।সাহিত্য নিয়ে এই কথা নতুন হলেও, বিশ্ব সাহিত্যে নতুন নয়।
https://www.elle.com/.../10-mysoginistic-novels-every.../
10 Misogynistic Novels Every Woman Should Read
Yashodhara Ray Chaudhuri হেনরি মিলার, কেরুয়াক, নবোকভের লোলিটা, এগুলো নিয়ে বহুদিন আলোচনা চলছে বিতর্কও
Yashodhara Ray Chaudhuri https://erenow.net/.../the-devil-at-large-erica.../8.php
Must We Burn Henry Miller? Miller and the Feminist Critique - The Devil at Large: Erica Jong on Henry Miller
Sebanti Ghosh Raka Dasgupta শেষের দিকে বুঝতে পারতেন। লেখাগুলো খেয়াল করিস। লেখা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নারী প্রটাগনিস্ট। এই বদলটা অন্যদের আসেনি।
Prajnadipa Halder লেখাটা ভীষণ সময়োপযোগী। ধন্যবাদ শতাব্দীদি। এই জরুরি লেখাটার জন্যে।
Satabdi Das Prajnadipa Halder এটা তো একবছর আগে লেখা।
Prajnadipa Halder Satabdi Das হ্যাঁ। কিন্তু এই সময়ে যখন অপরাধীর পক্ষে ব্যক্তিপূজা চলছে, সেই সময় এই লেখাটা আর একবার পড়ার দরকার ছিল। আরও আগে থেকেই চর্চা হওয়া প্রয়োজন ছিল।
Koushik Dutta তোমার এই লেখাটা গতবছর জুনের। দেখতে পাইনি। বস্তুত সন্দীপনের গল্প সংকলনে এই না-গল্পটা পড়ে এরকম বিবমিষা জন্মেছিল বলেই তোমাকে এটা পড়তে দিয়েছিলাম স্পেসিফিকালি। পড়ে কেন কিছুই বললে না, তা নিয়ে একটু বিস্ময় ছিল, কিন্তু প্রশ্ন করিনি। এখন দেখছি লিখেছিলে খুব দামী কথা।
আসলে শিল্পী ও কবি জীবনের এই গতটাই নর্মালাইজড হয়ে গিয়েছিল। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠিত কবি ও শিল্পী পুরুষ হওয়ায় আরও বেশি করে চলে এসেছে এসব। আজ যা প্রকাশ্যে আসছে মিটু-তে, তা আসলে নতুন কিছু নয়। এটাই সাংস্কৃতিক জীবনের মূল ধারা এদেশে।
এসব লেখা পড়তে গিয়ে দেখেছি সেরিব্রাল সন্দীপন, সুনীলদের ভিড়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় কিছুটা অন্যরকম ছিলেন। মাথার চেয়ে হৃদয়ের দ্বারা কিছু বেশি চালিত এবং প্রেম-যৌনতার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সৎ। তার মানে হয়ত চরিত্রে হৃদয়ের স্পর্শ লাগলে মানুষ হওয়া কিছুটা সহজ হয়। নইলে সব সদাচরণ শুধুমাত্র মাথা দিয়ে শিখতে গেলে কঠিন হয়। শিখলেও ফেসবুকে বা অন্যত্র মুখস্থ লিখে দেওয়া যদিবা সম্ভব হয়, জীবনে প্রয়োগ করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেতে হয়। এটা স্রেফ মনে হওয়া। এসব বিষয়ে বিশেষ কিছু জানি না আমি।
Samrat Sengupta খুব ভালো লেখা। আমি একটা প্রস্তাব দিচ্ছি - নামজাদাদের পিতৃতান্ত্রিক লেখাগুলো খুঁজে বের করে তার একটা প্রতিরোধী পুনর্লিখন হোক। এরকম একটা সংকলন আপনারা একটা কালেক্টিভ হিসেবে সম্পাদনা করতে পারেন। করলে আমি যুক্ত হতে চাইবো। অন্তত দশটা লেখার নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে পুনঃপাঠ ও পুনর্লিখন করে এটা করা যায়। এটা শুধুই একটা প্রস্তাব। যে কেউ করতে পারে।
তনু শ্রী Raja Podder দা, দেখবেন একটু?
Sulagna Pal Haan erkm lekhar aro darkar ache Satabdi.Ei je lekhak,kabi,shilpi,avinetader bhagoban vaba ebong ank dhoroner char deoa egulo niye aro lekha asuk..
Sebanti Ghosh সন্দীপন আমার চিরকাল অস্বস্তির। যশোধরার সঙ্গে কথাও হতো এ নিয়ে। পরে আর পড়তেই ইচ্ছে করতো না।

Avatar: সমালোচক

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

একটাই তো ফিরিয়েছেন কেবল !! অন্য পোস্টের জন্য পাওনা বাকি আদ্ধেক গাল তো বাকিই রয়েছে।
Avatar: ?

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

এখানে সুনীল চরিত্রটার নাম সুনীল পাল ছিল না?
এখানে উদ্ধৃত চিঠিগুলির পরেই যে বর্ণনা তাতেই মূল গল্পটা কাঠামো নেয়। এখানে বর্ণিত চিঠি তাই পত্রসাহিত্যে ব্যবহৃত টুল না হয়ে বাস্তব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে কেন মর্যাদা পাবে সেটাও ভাবনার।
আর, তারপরেও, সুনীল চরিত্রটার লেখা চিঠির মূল সুর মনে হয় এটাই ছিল যে, সে কনসেন্টকে এতটাই গুরুত্ব দেয়, যে সন্দীপন চরিত্রটি যদিও পয়সার বিনিময়ে পাওয়া নারীটির থেকে যতটুকু সম্ভব উসুল করে নেবে, কিন্তু সুনীল চরিত্রটি বরং মেয়েটির কনসেন্টের জন্য তখনও তার পদপ্রান্তে বসে থাকবে।
এহেন চিঠি লিখিয়ের ক্ষেত্রে বাসের অভিজ্ঞতা অবশ্যই পুরোপুরি অপরপক্ষের কনসেন্টের সাথে পাওয়া তৃপ্তি। এখানে ডাউটের কোনো জায়গা নেই। বাসের ঘটনাকে মোলেস্টেশন বা কনসেন্টহীন হ্যারসমেন্ট বলতে হলে চিঠির প্রথমার্ধকে পুরোপুরি ডিনাই করতে হয় বা চরিত্রটিকে পুরোপুরি কনড্রাডিক্টরি বলতে হয়।
সন্দীপনের চরিত্রটির ট্রেনের কীর্তিকলাপ দেখে প্রাথমিকভাবে মজা পাওয়ার অনুভূতিও সুতরাং অবশ্যই এটা ভেবেই হবে যে গোপন ছোঁয়াছুঁয়ির মধ্যে দিয়ে একটা মিউচুয়াল কনসেন্ট এসট্যাবলিশ হতে চলেছে। কিন্তু যখন সুনীল চরিত্রটি অনুভব করে যে ট্রেনের মেয়েটির কনসেন্ট নেই, এবং প্রথমবার সেই কনসেন্টহীনতা জানান দেওয়ার পরেও সন্দীপন চরিত্রটি দ্বিতীয়বারও অ্যাপ্রোচ করছে, তখনই সে ক্রোধে জ্বলে ওঠে, অসুরের শক্তিতে সন্দীপন চরিত্রটিকে বাথরুমে টেনে নিয়ে গিয়ে তার মাথায় জল ঢেলে দেওয়ার কথা ভাবে এবং এমনকি অপমান সম্ভাবনাতেও বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করার কথা ভাবে। অর্থাৎ কনসেন্টহীন কাজটিকে নর্মালাইজ তো করা হল না, বরং একজন কনসেন্টপ্রিয় মানুষের চোখ দিয়ে প্রবল ভর্ৎসনাই করা হল।
কোনো রেপের ঘটনা পোট্রে করে যদি রেপিস্ট চরিত্রটিকে নর্মালাইজ না করে পরিস্কার অ্যাকিউজ করা হয়, তবে কি লেখক/লেখিকার প্রতি এই নর্মালাইজেশনের অভিযোগ ওঠে?


Avatar:   দীপাঞ্জন

Re: কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

এই গল্পে দুই সুনীল রয়েছেন - সুনীল পাল ও সুনীল। দ্বিতীয় সুনীল চরিত্রের পদবী গল্পে না থাকলেও সে চরিত্র যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছায়া তাতে সন্দেহ নেই। দুই সুনীলই চাইবাসা যান দুটো আলাদা ট্রিপে। ক্রনোলজি-টা এইরকম। সুনীলের বন্ধু ফিসারি ডিপার্টমেন্টের অফিসার সমীর রায়চৌধুরীর সাথে শক্তির পরিচয় হয়। সমীরের কাছে শক্তি চাইবাসার কথা জানতে পারেন। শক্তি আর সন্দীপন চাইবাসা যাবার পরিকল্পনা করেন। যাবার আগের দিন সুনীল পালের সাথে শক্তির পরিচয়। সুনীল পাল, শক্তি, সন্দীপন চাইবাসা যান। সুনীল পাল প্রথম রাত্রে মহুয়া পর্ব দেখে পরের দিনই ফিরে আসেন। সে ঘটনার কথা এ গল্পে না থাকলেও জঙ্গলের দিনরাত্রি উপন্যাসে রয়েছে । কুড়ি দিন থেকে সন্দীপন ফিরে আসেন কলকাতায়। ফিরে আসার পর শোনেন শক্তি নাকি জেলে চাইবাসায়। তখন সুনীল আর শক্তি ফিরে যান চাইবাসায় প্রথম ট্রিপ থেকে সন্দীপন ফেরার দিন সাতেক পরে। গল্পের বাকিটা দ্বিতীয় ট্রিপ নিয়ে যেখানে সন্দীপনের সাথে সুনীল (গঙ্গোপাধ্যায়), আর যে চিঠিটা নিয়ে গল্পের শুরু, সেই চিঠিটা দ্বিতীয় ট্রিপ থেকে ফেরার পথে ট্রেনের ঘটনা নিয়ে। এমন ঘটনা ঘটেছিলো কিনা, কি ঘটেছিলো, চিঠি আদৌ আছে কিনা, থাকলেও সে চিঠির কতটা সন্দীপন ডকুমেন্ট করেছেন আর কতটা আপন মনের মহুয়া, সেসব আজ স্পেকুলেশন। তবে এসবের সাথে সুনীল পাল চরিত্রে কোনো সম্পর্ক নেই। এই সুনীল দ্বিতীয় সুনীল, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সুনীল পাল প্রথম ট্রিপের প্রথম রাতের পরেই সিন্ থেকে আউট।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 14 -- 33


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন