ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বদল

ন্যাড়া

ছাত্র হয়ে অ্যামেরিকায় পড়তে যারা আসে - আমি মূলতঃ ছেলেদের কথাই বলছি - তাদের জীবনের মোটামুটি একটা নিশ্চিত গতিপথ আছে। মানে ছিল। আজ থেকে কুড়ি-বাইশ বছর বা তার আগে। যেমন ধরুন, পড়তে এল তো - এসে প্রথম প্রথম একেবারে দিশেহারা অবস্থা হত। হবে না-ই বা কেন? এতদিন অব্দি রাস্তায় গাড়ি দেখেছি অ্যাম্বাসেডর আর মারুতি। কন্টেসা দেখলে লোক জমে যেত। সবে বেরোন স্ট্যান্ডার্ড ২০০০ গাড়ি দেখা গেলে বাড়ি থেকে লোক ডেকে এনে দেখান হত। ভেন্ডিং মেশিন দেখিনি কভু - মানে পয়সা ফেললাম আর ঘটাত করে কোকের ক্যান বেরিয়ে এল। ভেন্ডিং মেশিন ছাড়ুন, কোকের ক্যানই দেখিনি। দেহাতিপনার বহরটা বুঝছেন? বম্বে-টম্বের দু'চারটে ছেলে একটু ওপর-চালাকি মারত, হয়ত কোনদিন দুবাই ঘুরে এসেছে, তাই বিদেশী গাড়ি, কোকের ক্যান দেখা আছে। কিন্তু চান করতে ঢুকে ঠান্ডা-গরমের কল চালাতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়নি এমন ছেলের সন্ধান আমি জানিনা।

কাল্পনিক উদাহরণ দিয়ে কী লাভ। আমার কথাই ধরুন। প্রথমদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরের খানা খেতে গেছি। অ্যামেরিকান হ্যামবার্গারের নাম তো অনেক শুনেছি, ভাবলাম সেটাই চেখে দেখা যাক। পড়েছি যখন যবনের হাতে। গিয়ে দেখি দিব্যি ব্যবস্থা। দোকানের সামনে দড়ি দিয়ে লাইন। সেই লাইনে নানাদেশি ছেলেমেয়ে অর্ডার দেবার জন্যে অপেক্ষা করছে। কাউন্টারের পেছনে আলোকোজ্জ্বল বোর্ডে নানারকম খাবারের ছবিসহ নাম-দাম দেওয়া আছে। বোঝার কোন অসুবিধে নেই। ফিরিস্তিটা লম্বা। হ্যামবার্গারের তলায় রয়েছে চিজবার্গার। সে কী চিজ কে জানে! যাকগে, ভাবলাম, আমি তো চোখ বুজে একটা হ্যামবার্গার অর্ডার দিয়ে দিই। হ্যামবার্গারের পাশে লেখা স্যান্ডুইচ - $১.০৯, মিল - $২.১৯। সঙ্গে এক বছরের পুরনো এক পাপী ছিল। সে বুঝিয়ে দিল। বলল, মিলটা নে। তালে সঙ্গে লম্বা ফালি করে কাটা আলুভাজা আসবে। আর আসবে এক গেলাস ঠান্ডা - কোক বা ওই জাতীয় কিছু। তিনটে আলাদা করে কিনতে যা খরচ তার থেকে একসঙ্গে মিল নিলে সস্তা পড়বে। ঠিক আছে। তাই নেব। সস্তায় আমার আপত্তি নেই। অতএব, লাইন ধরে এগিয়ে কাউন্টারের কাছে পৌঁছচ্ছি। এমন সময়ে হঠাৎ হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। এই মেরেছে। কাউন্টারের মেমসাহেব তো ইংরিজি বলবে। বুঝব কী করে? এখনও সাহেব-মেমদের ইংরিজি শুনে বোঝা রপ্ত হয়নি। কী যে সুর করে বলে যায়, দুচারটে শব্দ বুঝি, বাকিটা আন্দাজ। পরক্ষণেই আশা জাগল। বোঝার আর আছেটা কী? বলব তো আমি। খুচরো-টুচরো গুণে রেখেছি। চোখ-কান বুজে "ওয়ান হ্যামবার্গার মিল" বলে দামটা হাতে গুঁজে দেব, আবার কী! তারপরে খাবারটা ভেতর থেকে এনে একটা লাল ট্রে-র ওপর সাজিয়ে হাতে ধরিয়ে দেবে। তাই তো দেখছি সবাইকে দিচ্ছে। কথা বোঝার সুযোগটা কোথায়! মিছামিছি কর কেন চিন্তা!

কিন্তু তারপরে যেটা হল, সেটা আনপ্ল্যানড। কাউন্টারে গিয়ে আমি কিছু বলার আগেই মেয়েটা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কী একটা জিগেস করে ফেলেছে। এরকম তো কথা ছিল না! মেয়েটা - ১, আমি - ০।

আমি কি ডরাই কভু ভিখারী রাঘবে? আমি ততোধিক তৎপরতায় বলেছি "ওয়ান হ্যামবার্গার মিল"। মেয়েটা - ১, আমি - ১।
মেয়েটা আবার সেই প্রশ্ন করেছে। তার মানে আমি যে ভেবেছিলাম, প্রশ্নটা আদতে "কী চাই", তা নয়। আমি কমপ্লিট ভ্যাবলা। মেয়েটা - ২, আমি - ১।

মেয়েটা বুঝে গেল আমি দেহাতি, গ্রামদেশ থেকে এসেছি। ভেতরে গিয়ে খাবার এনে লাল ট্রে-তে দিল। তারপরে ঠকাং-ঠকাং করে ক্যাশ রেজিস্টারে কিসব টিপল, সামনের ডিসপ্লেতে দেখলাম দাম এসেছে আমার হিসেবের থেকে প্রায় কুড়ি সেন্ট বেশি। কেন, সে কথা জিগেস করে লাভ নেই। কারণ বললেও বুঝতে পারব না। কাজেই মানে মানে আরও কুড়ি সেন্ট যোগ করে পয়সা দিয়ে খাবার নিয়ে বেরিয়ে এলাম। মেয়েটা - ৩, আমি - ১।

তারপরে রিসিটে দেখি কুড়ি সেন্ট বেশি যে এসেছে সেটা ট্যাক্সের জন্যে। আর সেই প্রথম প্রশ্ন? পরে বুঝেছি, ওটা জিগেস করেছিল, "এখানে খাবে না নিয়ে যাবে - For here or to-go?" এখানকার ফাস্টফুড কাউন্টারের বাঁধা প্রথম প্রশ্ন। "নিয়ে যাব" বললে কাগজের ঠোঙায় খাবার মুড়ে দেবে, আর নইলে ট্রেতে।

ঘটনাটা এত ফলাও করে বললাম এই কারণে যে প্রথম-প্রথম পদে পদে এমন বিপদ ওঁত পেতে থাকত। পাকামি করে স্যালাড কিনতে গেছি, জিগেস করে "কী ড্রেসিং দেব?" এক গাল মাছি! একটারও নাম জানিনা। চালাকি করে জিগেস করলাম, "কী কী আছে?" তখন বলে, "সব আছে।" ব্যস, আমি মরি স্বখাত-সলিলে। কদিন পরেই বুঝে গেলাম, ওপরচালাকি করে লাভ নেই। হাত তুলে অনেস্টি ইজ দ্য বেস্ট পলিসি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এইভাবে লোকে আস্তে আস্তে অ্যামেরিকায় অভ্যস্ত হয়। একদিন পাশ করে বেরয়। চাকরি পায়। স্টুডেন্ট ভিসা এফ-ওয়ান থেকে চাকরির এইচ-ওয়ান ভিসায় যায়। নতুন অ্যাপার্টমেন্টে নেয়। প্রথমে আরেকজনের সঙ্গে শেয়ারে, তারপরে একা। বাবা-মা বেড়াতে আসেন। বিয়ের জন্যে চাপ দেন। বিয়ে করে। সন্তান হয়। গ্রীনকার্ড হয়। বাড়ি কেনে। প্রথমে স্টার্টার হোম। টাউনহাউজ হয়তো। তারপরে সিঙ্গল ফ্যামিলি হোম। পেছনে ব্যাকইয়ার্ড। লন মো করতে হয়। দ্বিতীয় সন্তান। গাড়ি লজঝড়ে স্টুডেন্ট কার থেকে সেডান হয়ে মিনিভ্যান হয়। সিটিজেনশিপ হয়। সন্তানের কলেজের জন্যে পয়সা জমানো শুরু করতে হয়। নিজেদের রিটায়ারমেন্টেরও। তৎসহ আধিব্যাধির চিন্তা। ছেলেটা থেকে লোক হয়ে অনাবাসী হয়ে যায়।

দেশ বদলে যায়।

1055 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 15 -- 34
Avatar: S

Re: বদল

আসলে ছাত্রাবস্থায় একটা বড় সময় ইস্কুলের চৌহদ্দির মধ্যেই কেটে যায়। সেটা মোটামুটি হোমলি অ্যাটমোস্ফিয়ার। তাছাড়া কোহোর্টরা মোটামুটি কম্প্যাশনেট হয়। সেটা চাকরীস্থলে না হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর ফলে বেশ একটা ট্রেনিং হয়।
Avatar: dc

Re: বদল

আরও মনে পড়ল স্কিপোল এয়ারপোর্টে প্রথম চলমান ওয়াকওয়ে দেখার ঘটনা। তার আগে অবধি আমি জানতামই না এসক্যালেটার ওরকম লম্বালম্বি পাতা থাকতে পারে। খানিকক্ষন সামনে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, অ্যাসিমভের গল্প টল্পও মনে পড়েছিল। তারপর ভাবলাম একবার এটায় উঠে পড়লে যদি এয়ারপোর্ট থেকে বাইরে নিয়ে চলে যায়? সেই ভেবে পাশ কাটিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। খানিক দূর গিয়ে দেখি ও হরি, একটু আগে গিয়ে শেষ হয়ে গেল। ওই প্রথমবার বোকা বনাটা পরিষ্কার মনে আছে। আমি অবশ্য একা জার্নি করেছিলাম, তাই অন্য কারুর সামনে বোকা বনতে হয়নি :d
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: বদল

এপিটাফ দিলা না ন্যাড়া দা? লেখা জোশ হৈছে।

ম্যারিকার বাঙালি সমাজ নিয়া জানার আগ্রহ ছিল। সুখ-দুঃখ, বিরক্তি, উৎসব ও শোক। পারলে আরেকদিন লেখ। প্লিজ।


Avatar: আমার

Re: বদল

এক বন্ধু ঐ ফর হিয়ার ওর টু গো শুনে বলেছিল, হ্যাঁ আমি বি১ এ এসেছি, কিছুদিন পরে চলে যাব। মেয়েটা হাসি হাসি মুখে শুনে আবার একই কথা বলায়, সে বুঝ্লে ছড়িয়েছে। তবে ইংরাজী অনেক সোজা, ইউরোপে তো ভাষায় বুঝতে পারি না।
Avatar: Inriji

Re: বদল

আমার চিরকালই ধারণা ব্রিটিশরা ইনরিজিটা ভালো জানে না, তার থেকে মার্কিন ইনরিজি সহজে বোঝা যায় (যদিও মার্কিন দেশে রেস্টরুমে গিয়ে বাথ্রুম করতে হয়)!
Avatar: b

Re: বদল

এই প্রসঙ্গে আমার ধর্মভ্রষ্ট হবার গল্পটাও লেখা যাক। বিফ বার্গার তো খাবোই না। দোকানে চিকেনবার্গার আছে।তার চেয়ে শস্তা হ্যামবার্গারও আছে। হ্যাম কি রকম হয় জানি না, কিন্তু ওটা শুওর থেকে হয় জানি। মাসছয়েক পরে এক বন্ধু জ্ঞানাঞ্জনশলাকা প্রদান করলেন। তদ্দিনে হিন্দু হবার সমস্ত আশা শেষ।
Avatar: mandi

Re: বদল

সুপার মার্কেটে ট্রলি নিতে এক পাউন্ড টা পাছে ফেরত না পাই সেই ভয়ে প্রথম দিন হাতের শিরা টেনে ধরা মাল ছোটো বাস্কেটে নিয়ে্ছিলাম। তাই বলে ভাববেন না যে খুব বেশি বাজার করার পয়সা টয়সা ছিলো। ৫ কেজি আলু সারা মাস কাবারি বাজারের ব্যাপার টা মাথায় রাখতে হতো
Avatar: b

Re: বদল

আমার আরেক বন্ধু, সব সময় মাথায় ডলার আর টাকার কনভার্শন রেট ঘুরছে। সুপার মার্কেটে গিয়ে সবচেয়ে শস্তা মাংসের ইয়া বড় বড় ডাব্বা নিয়ে এলো, মুখে বিজয়ীর হাসি। এর দু চারদিন পরে টের পেলো ক্যাট ফুড।
Avatar: র২হ

Re: বদল

হাহাহা; আমার এক বন্ধু ডগ বিস্কিট কিনে এনেছিল, দুয়েকটা চিবিয়ে ব্যাপারটা বুঝতে পারে। যুক্তি অকাট্য, টাইগার বিস্কিট কি বাঘে খায়? এরা কুকুর এত ভালোবাসে বলে হয়তো ডগ বিস্কিট নাম দিয়েছে।
Avatar: শঙ্খ

Re: বদল

এক সহকর্মী শিখিয়ে দিয়েছিলেন।

টেক অ্যাওয়ে বলবে না, টু গো
উইদাউট আইস (ফাউন্টেন কোক কেনার সময়) বললে চাপ, বলতে হবে নো আইস
এখানে কেউ কিউতে দাঁড়ায় না, লাইনে দাঁড়ায়
মাটন কিনতে পাওয়া যায় না, গোট মিট চাইতে হবে

তারপরে চিনে দোকানে গিয়ে 'আও মেয়েপ্পু' মানে কিনা 'হাউ মে আই হেল্প য়ু?'
বা 'পোপাইরাই', মানে পোর্ক ফ্রায়েড রাইস
Avatar: Atoz

Re: বদল

আও মেয়েপ্পু? ঃ-) হি হিহিহি
Avatar: mahua

Re: বদল

আমি মুস্কিলে পড়ি UK তে।।।জল কিনতে গেছি - বলে ষ্টীল না স্পার্কলিং। আমি তো টোটাল ক্যাবলা

Avatar: AD

Re: বদল

ইংলিশ স্পিকিং দেশে এই অবস্থা, তাহলে ইউরোপের অন্য দেশে গেলে কি অবস্থা হবে?
Avatar: lcm

Re: বদল

ইউরোপের অন্য দেশ - স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া-তে, একজায়গায় মাল্টিস্টোরিড পার্কিং স্ট্রাক্চার, ছোট্ট জায়গার মধ্যে গোল গোল করে (স্ক্রু ড্রাইভারের প্যাঁচের মতন) ঘুরে কয়েক তলা নীচে পার্ক করেছি। বেরোনোর সময় আবার পাকদন্ডী বেয়ে ওপরে উঠে বেরোনোর জায়গায় লাঠি, যেমন হয় ভেবেছি যে পার্কিং রিসিট-টা মেশিনে গুঁজে দেবো, টাকা চাইবে মেশিন, ক্রেডিট কার্ড দেবো, লাঠি উঠে যাবে, আমি বেরিয়ে যাবো। তো দেখি পয়সা দেবার কোনো ব্যব্স্থা নেই, তাড়াহুড়োতে নীচে পে-মেশিন আছে কি না খেয়াল করি নি। কল বাটন টিপে কল করলাম হেল্প লাইনে, এক ভদ্রলোক তেড়ে স্প্যানিশে গাঁক গাঁক করে কিছু বললেন, বললাম স্প্যানিশ জানি না, তবু তিনি বলে যাচ্ছেন। এক সময় 'ওকে' বলে ফোন কেটে দিলেন। গাড়ি থেকে নেমে এদিক ওদিক দেখ্লাম কোথাও পে-মেশিন আছে কি না। আমি তো ভাব্ছি ঐ স্ক্রু বেয়ে আবার পেছিয়ে নামতে গেলে তো হয়েছে কান্ড। ওদিকে অন্য গাড়ি চলে এলে কি হবে। আবার ফোন, আবার সেই লোক। এবার আমি ফোনে গুগল ট্রানস্লেটে স্পিকার অন করে ধরে আছি, গুগল বাব্জি কিস্যু ট্রান্স্লেট করতে পারল না, কি সব হাবিজাবি বুঝল কে জানে। হ্ঠাৎ লোকটি কি একটা বলে লাইন কেটে দিলেন। বসে আছি, আবার বেরিয়ে দেখলাম পুলিশ-টুলিশ কাউকে যদি পাওয়া যায়। তরপরে দেখি একজন স্কুটার চালিয়ে এলেন, ঐ ভদ্রলোক, আমাকে ইশারায় স্কুটারের পিছনে বসতে বললেন, খেয়েছে! কোথায় নিয়ে যাবে, শাস্তি দেবে নাকি, জয়-হরি বলে বসে পড়লাম, একটু দূরে ওপাশে পে-মেশিনের সামনে নামিয়ে দিলেন, পয়সা দিলাম, আবার স্কুটারে বসিয়ে ওপরে আনলেন। এবার রিসিট গুঁজে দিতে লাঠি উঠল। ভদ্রলোক হাততালি দিলেন। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে চললুম।
Avatar: b

Re: বদল

দূর, অতো ইউরোপ আম্রিগা ছড়ুন। ট্রেন আসানসোল ক্রস করলেই বাঙালীর পেন্টুল ঢিলে হয়ে যায়। আমার এক সহপাঠি দিল্লিতে পড়তে গেছিলো, সে অনেকদিন জানতো "ভাজপা" হল দিল্লির জাঠ ল্যাঙ্গুয়েজে অটল বিহারী "ভাজপেয়ীর" অন্য নাম। সে অবশ্য কলকাতা থেকে একটা "হিন্দি-বাংলা শিকষা" কিনে নিয়ে গেছিলো। তাতে গরু সম্পর্কে এই অমর লাইনটি ছিলোঃ ইহার বাচ্ছা বড় হইলে বলদ হইয়া যায়/ ইসকি ব্চ্চা আগে চলকর ব্যয়েল হো যাতা হ্যায়।
Avatar: SH

Re: বদল

আমি ২২ বছর আগে প্রথম বার আমেরিকা যাই। JFK তে নেমে trolly র line এ আমার সামনেই অনেক-এ দেখছি নিয়ে যাচ্ছে।। আমি টানাটানি করে বিফল হয়ে ভাবছি কি করা যায়। দুর থেকে এক বিশাল কালো দৈত্য আমার বালখিল্যপনা দেখে মিটিমিটি হাসছিল। শেষে সে-ই এসে দেখাল $ coin দিয়ে কিভাবে trolly খুলতে হয়।

তার পর-ও আছে ঃ-) trolly ছেডে দেওয়ার সময় টানাটানি করে coin টা বের করতে না পেরে ভেবেছিলাম এটা হয়্ত trolly use করার fees।
Avatar: :-G

Re: বদল

বি-এর গরুর গপ্পের ওপর আমাদের স্যানিণি কি কিছু মত দিবেন্না? গোরুর পিঠে চড়ে পুরোনো গুরুর দিনে ফির্তে চাওয়া কি খুব্বেশী কিছু চাওয়া? এই বাজারে?
Avatar: S

Re: বদল

এই গল্পগুলো চলুক।
Avatar: Swati Ray

Re: বদল

তোর এই দারুন লেখাটা প্রায় মিস করে যাচ্ছিলাম। কি যে করিস!
Avatar: Lama

Re: বদল

জীবনে একবারই আমেরিকা গেছি। খাবারের দোকানের লোকেরা নানা ক্থা জিগায়। হোমিওপ্যাথদের মত। শেষে, খাবারের অর্ডার দিতে গেলে কোনো সায়েব বন্ধুকে শিখিয়ে পড়িয়ে সঙ্গে নিয়ে যেতাম। তাকে দিয়েই খাবারের অর্ডার দেওয়াতাম।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 15 -- 34


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন