শঙ্খ RSS feed

Sankha subhra Ghoshএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...
  • হ্যামলিনের বাঁশিওলা
    হ্যামলিনের বাঁশিওলার গল্পটা জানিস তো? একটা শহরে খুব ইঁদুরের উপদ্রব হয়েছিল। ইঁদুরের জ্বালায় শহরের লোকের ত্রাহি ত্রাহি রব। কিছুতেই ইঁদুর তাড়ান যাচ্ছেনা। এমন সময়ে হ্যামলিন শহর থেকে একজন বাঁশিওলা বাঁশি নিয়ে এল। শহরের মেয়রকে বলল যে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পেলে সে ...
  • প্রেমের জীবন চক্র অথবা প্রেমিক-প্রেমিকার
    "তোমার মিলনে বুঝি গো জীবন, বিরহে মরণ"।প্রেমের চরম স্টেজটা পার করতে গিয়ে এই রকম একটা অনুভূতি আসে। একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচে না। এই স্টেজটা যদি কোনভাবে খারাপের দিকে যায় তখন মানুষের নানা পাগলামি লক্ষ্য করা যায়। কখনো কখনো পাগলামিটা তার গন্ডি ছাড়িয়ে ছাগলামিতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নাদির

শঙ্খ


"ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"
― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস

***

হেলেন
--------
ঘড়ির কাঁটাটাকে এক ঘন্টা বাঁয়ে হেলিয়ে দিলে, সৌম্য তখনও বসেছিলো শিখরের পাশে। বাইরে একটা ভ্যাপসা গরম ছাড়ছে। জানালার নিচে হানিসাকলের ভারি উগ্র মিষ্টি গন্ধ ফ্লাই স্ক্রিনের মিহি জালি ভেদ করে ঢুকতে চাইছে নাছোড়বান্দা। ধাপে ধাপে নিচে নেমে যাওয়া বুরিম অ্যাভেন্যুর ওদিকে চীৎকার করছে রোদ। এখান থেকে আকাশ দেখা যায়্না। কিন্তু দিনের সময়ের তারতম্য ঠিকই বোঝা যায় আলোয়-ছায়ায়। নিভি ফিরেছে মিনিটদশেক আগে, এবং কোনওদিকে না তাকিয়ে ছুটেছে বাথরুমের দিকে। একটানা একঘেয়ে জল পড়ার শব্দ আসছে আড়-ভেজানো পাল্লার ফাঁক দিয়ে। একচিলতে আলো নিষ্কৃতি পেয়ে বেরিয়ে এসেছে ঐ জায়গাটুকু দিয়ে আর তাতে ইঞ্চিটাক আয়না দৃশ্যমান হয়ে আছে। ভেজা কাচে বাষ্প জমে রুপোলি জালের মত ঝিকিয়ে উঠেছে। সেদিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হলো সৌম্য।

***

স্লো ডান্সিং ইন আ বার্নিং রুম
-------------------------------
শিখরের ঘুমোনোর সময়টা খুব অদ্ভুত। বিকেলের আলো ক্ষয়ে এলে, তবে তার চোখ বুজে আসে আলস্যে। অথচ লাঞ্চের পর থেকে সে হাইপার হয়ে থাকে ঘন্টাখানেক। সিঁড়ি দিয়ে দুদ্দাড় ওঠানামা করতে পারে, আবার একতলার খুদে বাথরুমে বা লন্ড্রি ক্লোসেটে ঢুকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেও পারে, আর এই সময়টা তাকে একেবারেই বশ মানানো যায় না। সৌম্যর খুব অসহায় লাগে এই সময়গুলো। একটা হ্যান্ড টাওয়েল ধরে সে কাছে পিঠেই থাকে, থাকার চেষ্টা করে, যদি কোন প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু খুদে বাথরুম বা ক্লোসেটে সে ঢুকে তুলে আনতে পারে না শিখরকে। কোনও এক কানাচে হয়ত লুকিয়ে বসে আছে সেই মাকড়শাটা। এক্থা ভেবেই সে শিউরে শিউরে উঠতে থাকে আর অনাবশ্যক ভাবে গোড়ালি ঠুকতে থাকে ধূসর কার্পেটে মোড়া ড্রইং স্পেসে।

তারপর একসময় শিখর শান্ত হয়। সেটা বোঝা যায় যখন সে একরকম শব্দ করতে থাকে গলা আর মুখ কাঁপিয়ে। সেই শব্দ তীক্ষ্ণ ও অস্বস্তিকর, কিন্তু সৌম্য অপেক্ষা করে। শিখর এর পরে চলে যায় ডাইনিং স্পেসে। রেফ্রিজারেটার থেকে কিডনি বীনস নইলে বিয়ারের ক্যানগুলো বের করে সাজাতে থাকে ওপরে ওপরে। ফুট চারেক অবধি তার হাত যায়, কিন্তু সব সময় ক্যানগুলো ভারসাম্যের অভাবে একটু পরে পরেই পড়ে যেতে থাকে। কাঠের মেঝেতে ভোঁতা শব্দ হয় থপ থপ। তখন একটা চেয়ার টেনে তার পাশে বসে সৌম্য। একটাও ক্যান সাজাতে হাত দিলেই আবার উত্তেজিত হয়ে যাবে শিখর। তাই চুপ করে এইসময়টা সে বসেই থাকে। রোদের দিনে পাকা টুসটুসে হয়ে রেঙে ওঠে ব্যাকডোরের ওদিকে কাঠের প্লাটফর্ম। যতক্ষণ না শিখরের মধ্যে ঢুলুনি আসে, ওইদিকেই চোখ রেখে ঠায় বসে থাকে সৌম্য। শিখর নিজের মত করে খেলতে থাকে। এর পরে একসময় নিয়মমাফিক শিখর অবসন্ন হয়ে এলে, সাবধানে তাকে কোলে নিয়ে শোবার ঘরে আসে সৌম্য আর সাবধানে শুইয়ে দেয় বিছানার মধ্যিখানে।

নরম পুরোনো ম্যাট্রেসের মধ্যে যেন দেবে ঢুকে যায় শিখরের খুদে অবয়ব। একটা খুব পুরোনো চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া রেক্রনের বালিশ হাতে নিয়ে একদৃষ্টে সে চেয়ে থাকে শিখরের মুখের দিকে তারপরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেটাকে সন্তর্পনে শিখরের মাথার নিচে সেঁধিয়ে দেয় সৌম্য। কখনো শিখরের চুলগুলো কপালে নেমে এলে একটি তেলরঙে আঁকা মুহূর্ত তৈরি হয়, যেখানে হয়ত সে সরিয়ে দিচ্ছে এলোমেলো চুল, আঙুল রাখছে শিখরের স্পঞ্জের মত গালে, কিন্তু সৌম্য নিজেকে সরিয়ে নেয়, তার ব্রোঞ্জের মত মুখে কোন ভাবলেশ খেলে না।


এরপরে সে পারকোলেটরে কফি বানায়। কফির গাঢ় সুগন্ধে আস্তে আস্তে তার মুখের পেশিগুলো তরল হয়ে আসে, হাফ কাপ কফি নিয়ে চলে আসে পাশের স্টাডি টেবিলে। খুলে বসে ভাঁজকরা ল্যাপটপ। জমে থাকা মেইলগুলো একটা একটা করে খুলে পড়তে থাকে। কাজের তালিকা জমতে থাকে তার চোখের সামনে, গাঢ় সবজেটে কালো দীঘির একটা একটা ধাপ ধরে সে যেন নেমে যেতে থাকে, তার প্রতি পদক্ষেপে সে ক্রমশঃ ডুবতে থাকে ইনভয়েস, অ্যাপ্রুভাল, স্ট্রাটেজি, প্রোপোজালের মধ্যে। তার পায়ের পাতা, গোড়ালির গোছ, হাঁটু বেয়ে ওঠা সর্পিল কাজের স্রোত তাকে টেনে নেয় আরও গভীরে। অ্যাভেলেবল দেখে এক দুটো করে চ্যাট মেসেজ ঢুকতে থাকে, কমলা হয়ে দপদপ করে নোটিফিকেশান। মিটিং রিকোয়েস্টের রিমাইন্ডার লাফিয়ে ওঠে জ্যাক-ইন-দা-বক্সের মত। জো ডুব্না হ্যয় তো ইতনে সুকুন সে ডুবো, কি আস-পাস কি লহরোঁ কো ভি পতা না লাগে। ঘুমন্ত শিখর, টকটকে রোদেলা বুরিম অ্যাভেন্যু, ডাইনিং এর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যান, সবকিছু থেকে বিযুক্ত হয় সৌম্যর মনোযোগ, গোটা পৃথিবী ঘিরে জড়িয়ে থাকা এক বিশাল জালের মধ্যেই সে ট্রেবুচেটে ছোঁড়া পাথরের মত একোণা থেকে ওকোণা করতে থাকে।



আর ঠিক সেই সময় মাকড়শাটা আসে ঘষটে ঘষটে। দরজা দিয়ে ঢুকে নিশ্চিত পদক্ষেপে সে চলে আসে শিখরের খাটের দিকে। ডুভের ঝুলতে থাকা কোনা বেয়ে সে সরাসরি ওঠে বিছানায়। চিকন সাদা বেডশিটের ওপরে পিয়ানো বাজানোর আঙ্গুলের মত নিখুঁত ছন্দে একটা একটা টার্সাস সে ফেলে অসীম যত্নে, আরোপিত দক্ষতায়, ধীরে ধীরে। আড়াআড়ি ভাবে বিছানাটা ধরে এগিয়ে সে চলে আসে তার লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি। শিখরের কানের পাশে দিয়ে মেপে মেপে সে উঠে যায় ঘুমন্ত শান্ত টুলটুলে মুখের ওপরে। শিখরের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বিজবিজিয়ে ওঠে লালা। মাকড়শাটার চারজোড়া চোখে বিম্বিত হয় শিখরের প্রকান্ড দৈত্যাকৃতি মুখের উপরিভাগ। চুপচাপ লালার ওপরে পেট চেপে বসে মাকড়শাটা নিপুণ ভাবে বুনতে শুরু করে অদৃশ্য রেশমী সুতো। একটা প্যাটার্ণ তৈরি হয়ে আসছে স্লোলি বাট শিওরলি। শিখরের নিশ্বাস-প্রশ্বাসে দুলতে থাকে মাকড়শাটা।

তারপরে কোনও কোনও দিন হোবোকেনের দিকে থেকে একটা মাতাল হাওয়া দেয় বেসামাল। লাটাই কাটা ঘুড়ির মত লাট খেতে খেতে হাওয়াটা টানেল এফেক্ট তৈরি করে লম্বা লম্বা বাড়িগুলোর ফাঁকফোঁকর দিয়ে আসার সময়। সেই হাওয়ার হাত ধরে উড়ে আসে বাসের টিকিট, সিনেমার পোস্টারের টুকরো, যাঁতিতে পেষাই খ্শলার বাদামী খোসা। একটু কান পাতলে সেই হাওয়ার ভেতরে শোনা যাবে খরখরে রোদে বলডাঙায় অমসৃণ জমিতে লাল কালো ছোপ ছোপ সিন্থেটিক বলে লাথি মারার সুস্বাদু শব্দ। ঘড়িতে অফিসিয়াল বিকেল পেরিয়ে গেলেও রোদ লেগে থাকবে অনেক সন্ধ্যে অবধি। সৌম্যর ঘাড়মাথা টনটন করে উঠবে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে। হঠাৎ করে তার মাথার মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ফিরে আসবে ঘটমান বর্তমান। ঘাড়ে ঝাঁকুনি দিয়ে সে পলকে ফিরে তাকাবে শিখরের ঘুমন্ত ঘামে ভেজা মুখের দিকে, কিন্তু ঠাহর করবার আগেই মাকড়শাটা কোথায় লুকিয়ে গেছে তা খুঁজে বের করা সম্ভব হবে না আর। নিচে স্ক্রীনডোর খোলার ঠাস করে শব্দ হলে সে বোঝে নিভি ফিরেছে। নিভির কাছে ডুপ্লিকেট চাবি থাকে। কাউকে কারুর দরজা খুলে দেবার দরকার পড়ে না।

***

গ্লোরি অব লাভ, মাইট সী ইউ থ্রু
----------------------------------
নিভির অফিসটা কিয়ারনিতে। অনেকবার সে ভেবেছে একটু কাছে সুইচ করে নেবে। কিন্তু করবো করবো করেও সে আর করে ওঠা হচ্ছে না। তিনদিন তার কাজ থাকে সকালের দিকে। আর বাকি দুদিন সে ইচ্ছেমত সাজিয়ে নেয় স্কেজিউল। শনির বদলে সে ছুটি নেয় সোমবারে। এই একটা ফ্লেক্সিবিলিটি আছে এখানে। আর দরকার পড়লে তাড়াতাড়ি বেরোনোও যায়। ঠিকঠাক বাস পেলেই হলো।

অনেক সকালে উঠতে হয় বলে বাসে আসার সময়ে সে সবদিনই ঘুমিয়ে পড়ে। কাছাকাছি এলে শরীরের ঘড়ি সজাগ হয়ে তাকে ঠেলেঠুলে তুলে দেয়। ফেরার সময় সে কখনো গান শোনে বা অডিওবুক চালিয়ে দেয়। কিন্তু তার মন জুড়ে থাকে শিখরের লম্বাটে একটু বাঁকা মুখের আদল-আদরা। কখনো তার ব্রা ভিজে যায় চুঁইয়ে আসা দুধে। আনমনে বার বার সে দু আঙুলে বুকের সামনে টপটা টেনে ধরতে থাকে সামনে যাতে দাগ না পড়ে। একটা চিনচিনে দুঃখবোধ উৎসারিত হতে থাকে তার বুকের বাঁদিকে। তখন সে ছোট্ট হাত বোতল খুলে এক ঢোঁক জল খায়। এই দুঃখবোধের উৎস তার সত্ত্বার এতই পারমাণবিক অতলে, সে নিজেও ঠিক জেনে-বুঝে উঠতে পারেনা। তবে নির্দিষ্ট স্টপে বাস নামিয়ে দিলে সে তার প্রকান্ড আট হাতে পায়ে খলবলিয়ে চলে আসতে থাকে গন্তব্য-শেষে।

সে ফিরলে শিখরকে তোলে ঘুম থেকে। দুপুরে বেশি ঘুমিয়ে ফেললে রাত্তিরে শিখরের চোখ দাঁড়িয়ে যায়। তার অফুরন্ত এনার্জি ড্রেন করতে হাঁপিয়ে যায় নিভি। কিন্তু ডাক্তারের নিষেধ আছে গায়ে হাত তোলার। এদেশে ব্যাপারটা বেআইনিও। তবুও একদিন থাকতে না পেরে একটা চড় বসিয়ে দিয়েছিল নিভি। শিখরের স্তম্ভিত মুখের দিকে তাকিয়ে তার বুক খান খান হয়ে গেছল সেদিন। শিখর সেইরাতে বুনো ঘোড়ার মত দাপিয়ে দাপিয়ে জানিয়েছিল তার বোবা প্রতিবাদ। এক পর্যায়ে পাশের ঘর থেকে ছুটে আসতে হয়েছিল সৌম্যকেও।
একটা সপ্তাহ মোটামুটি কাটে ব্যাপারটা সহজ হতে, তবুও এখনো পলকা টোকা দিলেই যেন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে জোড়াতালি দেওয়া কাচের দেওয়াল, নিভির এমনটা মনে হয়।

ঘুম থেকে তুলে সাধ্যসাধনা করে শিখরকে খাওয়াতে হয়। তারপরে তারা যায় পার্কে। পার্কে শিখরকে নিয়ে আগলে আগলে রেখে সে চেষ্টা করে খেলার। বাকিদের মত সমবয়েসী বন্ধু জোটাতে শিখর অপারগ, ছোটছোট বাচ্চারা শিখরকে আউটলায়ার চিহ্নিত করতে পারে একনিমিষে, তার মুখ ঘষে ঘষে চিনতে চাওয়ার চেষ্টা তাদের ফ্রীক আউট করে, প্রত্যুত্তরে তারা শিখরকে ঠেলে দেয় ওয়েট পোর রাবার সারফেসে। শরীরে চোট না পেলেও শিখর প্রত্যাখানের অপমানের আঘাতে কাঁপে বাঁশপাতার মত, বিবর্ণ হয়ে। বারকয়েক এরকম হবার পরে, সে নিজেই চেষ্টা করে শিখরের খেলুড়ে হতে। চেষ্টা করে ভুলে যাওয়া ছোটবেলায় ফিরে যেতে। কিন্তু শিখর দোলনায় চড়তে ভয় পায়। স্লাইড বেয়ে সে উঠতে চায়, নামতে গেলে সে আঁকড়ে ধরে দুপাশের রেলিং বা দেওয়াল। বাকি বাচ্চাদের অস্থিরতায় তাকে সরিয়ে নিয়ে আসতে হয় শিখরকে, অনির্দিষ্টকাল ধরে তার ভয় ভাঙানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।


সন্ধ্যে আর রাত তাদের নামে অনেক দেরিতে। সৌম্য নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে অনেক রাত অবধি। সারা বিকেল কাপের পর কাপ কড়া কফি সৌম্যর লাগে কিছু সময় অন্তর অন্তর। রাত বাড়লে কফির বদলে সৌম্য ড্রিংক নিয়ে বসে। নিজেই ভেজে নেয় কয়েকটা নাগেটস বা কিমা আর ডাল দিয়ে বানানো কয়েকটা ছাপলি কাবাব। বেশ কয়েকটা রাউন্ডের পরেও সে স্টেডি থাকে, তার চোখ ঝিমোয় না একটুকুও। ল্যাপটপের মধ্যেই ডুবে থাকে তার সমগ্র সত্ত্বা।
ওদিকে পাশের ঘরে শিখরকে বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে নিভি। তার বুকে খাবলে খাবলে কামড়ে, অঝোর লালা মাখিয়ে শিখর খুঁজে ফেরে পরশপাথর। একটানা দুধ চুষতে সে পারে না, প্রকৃতি তার শরীরের বয়স বাড়ালেও মনে ফেলতে পারেনি থাবা। নিভিকে ধৈর্য ধরে শিখরকে ফেরাতে হয় এক দিক থেকে আরেক দিকে।

কোন কোন দিন খুব শরীর জাগলে সে সৌম্যর কাছে যায়। সৌম্যর মধ্যে কোনরকম তাড়না সে অনুভব করতে না পারলেও সৌম্য কোনওদিন তাকে ফেরায় না। ফেরায়নি। কিন্তু নিজে থেকে এসে মুখ ফুটে কখনো ডাকে না, দাবি করে না। জোর খাটায় না, আবার নিভি না গেলেও তার মধ্যে কোন তাড়না অনুভব করা যায় না। একটা গ্লানি নিভিকে গ্রাস করে।

একটু শর্ট হাইট হলেও বয়েসকালে তার আবেদন সম্পর্কে নিভি ওয়াকিবহাল ছিলো পুরোমাত্রায়, কিছুটা গর্বও ছিলো তার। বাবার থেকে সে পেয়েছিলো মজবুত গড়ন আর ভরন্ত স্বাস্থ্য, মায়ের থেকে গায়ের রঙ আর টিকালো নাক-চিবুক। স্বাচ্ছ্যন্দের সংসারে তার বাড় বয়েসের তুলনায় ভালোই ছিল।

বিয়ের আগে সে অনেককে ফিরিয়ে দিয়েছে বরফ শীতল ভাবে। সৌম্য তার থেকে অনেকটায় বড়। চাকরি ভালো করলেও হয়তো ঐ একটা কারণে সেও প্রত্যাখ্যাত হত, কিন্তু তার ভালোমানুষ বাপ-মা বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। সরাসরি নিভিকে তাঁরা অ্যাপ্রোচ করেছিলেন, দিয়েছিলেন স্বাধীনতার ব্ল্যাংক চেক। একবার য্খন বাউন্ডুলে ছেলেটির মতি ফিরেছে, তাঁরা হাতছাড়া করতে চাননি নিভিকে। প্রবাসী বাঙালি বলে নিভির মা বাবার খুঁজছিলেন আরেকটি প্রবাসী বাঙালি পরিবার, ভালো বাড়ি। সব দিক থেকেই সৌম্য কোয়ালিফাই করেছিল ফুল মার্কস পেয়ে। যদিও শেষমেষ সবকিছুই নির্ভর করছিল নিভির মনমর্জির ওপরে।

নিভি হয়ত সৌম্যকেও ফিরিয়ে দিতো। অন্ততঃ নিভির পরিবারের লোকেরা সেরকমটাই ভেবেছিল। কিন্তু সাতপাঁচ ভেবে নিভি রাজি হয়ে গেলো। তারপর হাঁটুমুড়ে প্রপোজ, সাদা ঘোড়া, বারাত সবই হয়েছিল ইন্তেজাম মাফিক। নিভি হঠাৎ করে রাজি কেন হয়েছিল তা কেউই বোঝেনি, কিন্তু অফুরান হুইস্কির বন্দোবস্ত থাকায় আর ঘি-চপচপে লাড্ডু ,নিমকিতে কামড় দিতে সবাই ব্যস্ত থাকায় কথাটা কেমন যেন তলিয়েই গেলো।

বিয়ের কয়েকবছরের মধ্যেই আসে শিখর আর তার একবছরের মাথায় তারা দেশ ছাড়ে। দেশ ছাড়ার আগের কয়েকটা ব্রাউন পেপারের প্যাকেট পুড়িয়ে এসেছিলো নিভি। সৌম্যর সেসব জানার কথা নয়।

আজকে কি সৌম্য তাকে চিনে ফেলেছে সবটা? কোনও রহস্যই কি বাকি নেই তার শরীর-জমিনে? কথাটা আজকাল প্রায়দিনই ঘুরপাক খায় নিভির মাথায়, ঘুমোনোর আগে।

***

অল দা ওয়ে ডাউন দা টেলিগ্রাফ রোড
-----------------------------------------
সৌম্যর চাকরিটা গেছে, এখনো সপ্তাহ ঘোরেনি। কুইড প্রো কোর বাহানায় কমপ্লায়েন্স তাকে খারিজ করলেও আসল কারণটা সে জানে, তার ওপরের হায়ারার্কির সবাই জানে।


সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল যখন ছোকরা সিইও এসেই একধারসে পুরোনো লোক পাল্টাতে শুরু করেছিলো।

এটা ঘটনা যে যখন কোন কোম্পানিতে বড় বস পাল্টায়, বড়মাপের বেশ কিছু চেঞ্জ ঘটেই। কম্পিটিশান নির্মূল করার জন্য প্রথমেই বাদ দিতে হয় বাদবাকি এলিজিবল পিয়ারদের। সেই সঙ্গে টান পড়ে হায়ারার্কিতেও। প্রত্যেকের একটা চেইন থাকে, একটা ডিপেন্ডেন্সি ট্রী থাকে। সব কোম্পানিতেই। ওপরে আঘাত এলে সেটা নিচের দিকে ট্রিকল ডাউন করে। সৌম্য বুঝে ওঠার আগেই তার ডাল ফোঁপরা হয়ে গিয়েছিলো, এক কোপেই তাকে কেটে ফেলা গিয়েছিলো।

তাদের পাবলিশিং অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়ার কোম্পানি কাটথ্রোট কম্পিটিশানে বাজারে আইনত ফেয়ার পলিসির মুখোস পরলেও ক্লায়েন্ট এক্সপেন্ডিচারে একটা মোটা বাজেট রাখে। বিল সাবমিট করতে হয়, কারণ হাতে হাতে টাকা দেওয়া বারণ। আগের সিইওর আমলে অডিট হতো ঠিকই কিন্তু কিছু কিছু খরচার ব্যাপারে ফিনান্স চোখ ঘুরিয়ে নিত উল্টোদিকে। যারা ক্লায়েন্ট ডিলিং এর জায়্গায় থাকে, কিছুটা ডিসকাউন্ট তাদের দিতেই হত। সব সময়ে সব জায়্গায় প্রশ্ন করতে নেই।

সৌম্য বিজনেস ডেভেলপমেন্টের একটা মোটামুটি মাঝারি থেকে বড় পোর্টফোলিও সামলাতো। নতুন এনগেজমেন্ট আনো, নইলে পুরোনোদের থেকে বেশি বেশি কাজের বরাত দেখাও। বড্ড বেশি সাদা-কালো কর্পোরেটে চেষ্টার গ্রে এরিয়ার কোন দাম নেই।

মাসখানেক আগে হঠাৎ করেই একটা রেফারেন্স পেয়েছিলো সৌম্য। তার এক পুরোনো কোলিগের সুবাদে। একটা বড় কাজের বরাত আসতে চলেছে। সৌম্য তার তূণীরের সবকটি তীর নিক্ষেপ করেছিলো অভ্রান্ত লক্ষ্যে।

বরাবরের মতই নতুন কনট্র্যাক্টের ডিরেক্টরকে সে ডিনারের পর নিয়ে গেছিলো জেন্টলম্যান'স ক্লাবে। ইফ ইউ আর অ জেন্টলম্যান, ইউ গটা গো টু জেন্টলম্যান'স ক্লাব। ডিরেক্টর পাকা খেলুড়ে, বেশ বোঝা যায় তার বেশ 'হাত'-যশ আছে এই ব্যাপারে।
প্রথম থেকেই সে কোলে বসিয়ে নিয়েছে এক কমবয়েসি লাতিনাকে, কিন্তু ল্যাপ ডান্স নিচ্ছে অন্যদের থেকে। আট কি নবারের পর সৌম্য একটু উসখুস করছিলো, অন্যান্যবার এতদূর অবধিও গড়ায়না, কিন্তু এই ডিরেক্টর তখন সবে মাত্র তার ডানা মেলতে শুরু করেছে ঈগলের বিস্তারে। আধখোলা ডানায় কি ওড়া যায়!

রাত গড়িয়ে গেল অনেক, চাঁদ হেলে গেল আটলান্টিকের পূবে, ডিরেক্টরের হাত লাতিনার স্বল্পবাসের অনেক গভীরে ঘাই মারছে আদিম বাঘাড় মাছের মতন, সে ঘাড় হেলিয়ে খুব ক্যাজুয়ালি সৌম্যকে জানিয়েছিলো, নতুন কন্ট্র্যাক্ট পাবার এই এক দাম। নন-নিগোশিয়েবল।


ম্যানেজমেন্টকে কে চুকলি কেটেছিলো কেউ জানে না, অডিটের সময় তার ডাক পাওয়াটা সৌম্য বলতে গেলে অনেক আগেই অনুমান করেছিলো। কনসিকোয়েন্স কি হবে সেই নিয়ে তার ডাউট থাকলেও হবার সম্ভাব্যতা নিয়ে তার কোন ডাউট ছিলো না। কনট্র্যাক্টটা তারা পেয়েছিলো কিন্তু খুবই ছোট কাজ। এমনকিছু লাভ উসুল করতে পারেনি কোম্পানি। ওদিকে ক্লায়েন্ট এক্সপেন্ডিচারে সৌম্য ম্যাক্স থ্রেশহোল্ডের অনেক বেশি ওভারশ্যুট করেছিলো। চাপের মুখে সে সবচেয়ে মারাত্মক ভুলটা করে ফেলে, সাবমিট করে বসে ক্লাবের আর হোটেলের বিল। ধাক্কাটা এসেছিলো প্রত্যাশিতভাবেই, অপ্রত্যাশিত দিক থেকে।


সেক্রেটারি মেরিয়াম কাজে ঢুকেছিলো বছর খানেক আগে। মেরিয়াম ট্রেনি থেকে পার্মানেন্ট হয়েছিলো তারই রেকোমেন্ডেশানে। স্বভাব প্রগলভ, উপছানো যৌবন আর প্রশ্রয় ভরা চাউনির মেরিয়াম ঠিক যেন এক চুম্বক, তাকে অস্বীকার করার কোন জায়্গা নেই। কাজ বুঝে নেবার সময় মেরিয়ামের চোখেমুখের মুগ্ধতা, ছুতোনাতায় কেবিনে এসে নানা প্রসঙ্গ উত্থাপনের পর তার মতামত নেওয়া, অছিলায় ছুঁয়ে দেওয়া হাত সৌম্যকে বারবার সিগনাল দিতে থাকে নিবেদনপর্ব প্রস্তুত, এবার গ্রহণটুকুই কেবল বাকি।

কমপ্লায়েন্সের মেইলটা যখন পড়ছিলো সৌম্য, তার পায়ের নিচের মাটি দুলছিলো অল্প অল্প করে। সেদিন সে অফিসে গেছিলো কী মনে করে। তার কেবিনের বাইরে মেরিয়াম কাজ করে যাচ্ছে নিয়মমাফিক। দূরে কেউ একটা কনফারেন্স নিচ্ছে স্পীকার অন করে, বিভিন্ন রকমের অ্যাকসেন্টে চাপান -উতোর চলছে যেমন প্রায় প্রতিদিনই চলে, ফ্লোরের মধ্যে লিগাল আর অপস এর জুনিয়ার কর্মিরা নিজেদের টার্মিনালে কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে টার্গেটের অদৃশ্য ফিনিশিং লাইনের দিকে।

কিন্তু সৌম্যর মনে হলো সবাই একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এই মেইলের কপি পৌঁছে গেছে প্রতিটি সিস্টেমে, প্রতিটি টার্মিনালে। একবার তার মনে হলো, পুরো ব্যাপারটাই অবিশ্বাস্য আর হাস্যকর। ঠোঁট আর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছিলো তার, কফিতে চুমুক দিতে গিয়ে দেখলো ঠান্ডা বিস্বাদ তলানিটুকু পড়ে আছে খালি মাগে। সে মাগ নিয়ে বেরোলো তার কেবিন থেকে, মেরিয়াম তার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো, তার চোখে মুখে একটা সতর্ক জিজ্ঞাসা পড়তে পারলো সৌম্য, কফি আর তার নেওয়া হলো না, সে বেরিয়ে গেলো অফিস থেকে।

এলোমেলো হাঁটছিলো সে, কোন গন্তব্যই তার নেই, সে চলে যেতে পারে যেদিকে খুশি। শরীরটা ভার লাগছিলো সীসের মত। সিনাত্রা পার্কের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে তখন বৃষ্টি নামছিলো। থমথমে আকাশের ঠিক মাঝখানে জমে আছে জন কনস্টেবলের তুলির আঁচড়। বাতাস বইছিলো একটানা, উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো ধূসর খয়েরি রঙের পাতা, মোওড ঘাসের নোনতা সোঁদা গন্ধ আর সীগালগুলোর কর্কশ ডাকের প্রতিধ্বনি।
একটা ছাই রঙের র‌্যামকে হাত দেখিয়ে থামিয়ে হুড়মুড়িয়ে রাস্তা পেরোলো সৌম্য। দমবন্ধ করে থাকা আকাশ ভেঙে কয়েক ফোঁটা ঠান্ডা জল টপ টপ করে নেমে এলো কংক্রিটের ফুটপাথে, সৌম্য ঢুকে পড়লো একটা ফার্মাসি দোকানে।


মাঝারি সাইজের দোকান, তেমন একটা ভিড় নেই। ঢোকার আর বেরোনোর একটাই বড় দরজার, তার পাশে বিল কাউন্টার, দুটি কমবয়েসি মেয়ে দোকানের ইউনিফর্ম পরে কাউন্টার সামলাচ্ছে। দুএকজন লোক আইলগুলোতে চাহিদামাফিক জিনিস খোঁজ করছে। একদম পেছনে ফার্মাসিস্টের কাউন্টার, সেখানে কয়েকজন খুব সম্ভবতঃ প্রেসক্রিপশান ড্রাগ কিনছে।

আইলগুলোতে এলোমেলো ঘুরছিলো সে। কী নেবে কী দরকার, এসব কোনকিছুই তার মাথায় আসছে না, সে চাইছে পালাতে। তার মাথার মধ্যে বারবার ভেসে উঠছে মেরিয়ামের মুখ, আর দপদপ করছে তার ঘাড় আর রগ।

ওটিসি ড্রাগ আর মেডিক্যাল ইক্যুপমেন্টের চোখ ধাঁধানো অ্যাড লাগানো আছে এখানে ওখানে। পেপার কাট আউট বা ঝক্ঝকে প্যামফ্লেটে। শিকারের আশায় জাল বিছানো রয়েছে প্রতিটি ইঞ্চিতে। দশকোটি বছর ধরে চলছে এই প্রক্রিয়া।

দোকানের শেষ প্রান্তে একটা ফ্রিতে প্রেশার মাপার যন্ত্র রাখা আছে এককোণে। একজন মাঝবয়েসি হিস্পানিক মহিলা তেতোমুখে সেখান থেকে উঠে গেলে পায়ে পায়ে এগুলো সৌম্য। বাইরে এখন বেরোনো যাবে না, বৃষ্টি শুরু হয়েছে ঝিরঝিরে। কিছুটা সময় তাকে কাটাতেই হবে। চল্লিশ পেরোনোর পর সে বারকয়েক মেপেছে প্রেশার, মোটামুটি সীমানার মধ্যেই থাকে তার রিডিং। আজ হয়তো অন্য রেজাল্ট আসতে পারে।


প্রেশার মাপার চেয়ারে বসে বাঁ পাশে একটা হাত গলানোর গোলমত জায়্গা আছে, সেইখানে পুরো হাত গলিয়ে দিয়ে কাঁধ আর কনুইয়ের মাঝের অংশ রেখে একটা স্যুইচ টিপে দিলে যন্ত্রটা চালু হয়। এয়ার প্রেশারের পালস খিমচে ধরে হাত। পাশের ডিসপ্লেতে দেখা যায় রিডিং। এই যন্ত্র সৌম্য আগেও ব্যবহার করেছে।

হাত তুলে গোল জায়গাটা দিয়ে গলাতে গিয়ে সামনের র‌্যাকের দিকে আনমনে তাকাতে তার চোখ গেলো একটা বিজ্ঞাপনের দিকে, তার বিস্ফারিত চোখ এক সেকেন্ডের কম সময়ে পড়ে নিলো সেটা আর সে ছিটকে সোজা হয়ে দাঁড়ালো একনিমিষে। তার বুকে হাতুড়ি পিটছে, শরীর হালকা হয়ে গেছে একেবারে, উত্তেজনায় তার শরীর কাঁপছে, এই সহজ জিনিসটা তার মাথায় আগে আসে নি!

কাউন্টারের ওদিকে অল্পবয়েসী আফ্রিকান আমেরিকান ফার্মাসিস্ট কিছু একটা কাজ করছিলো মনোযোগ দিয়ে। সৌম্যর চীৎকারে সে একটু বিস্মিত আর কিছুটা বিরক্ত হয়েই মুখ তুলে তাকালো, সৌম্যর নজর অনুসরণ করে তার চোখ গেলো সামনের দেওয়ালে একটা ছবির দিকে, ব্যাকগ্রাউন্ডে ডবল হেলিক্সের নিচে মিকেল্যাঞ্জেলোর ক্রিয়েশান অব অ্যাডাম, আর নিচে বড় কালো ফন্টে লেখা আছে 'কুইস এস?', গড, অ্যাডাম এবং সৌম্য তিনজনের প্রসারিত হাতের উদ্যত তর্জনী ত্রিমাত্রিক ভাবে মিশেছে একটি বিন্দুতে।


***

তৎত্বমসি
-----------
স্নান করে এসে নিভি একটু শুয়েছিলো। কদিন ধরে তার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। সকালে উঠতে গেলে শরীর খুব টানে, মনের জোরে নিজেকে ঠেলে তুলতে হয়। ঘাড়ে পিঠে কেমন একটা ব্যথা থেকে থেকে চাগাড় দিয়ে ওঠে। প্রেশারটা চেক করাতে হবে। আজকে আর যেন শরীর বইছিলো না। একসপ্তাহ তার অনিয়মিত গেল।

শিখরকে তুলতে এসে তার পাশেই একটু পিঠ সোজা করে শুয়েছিলো সে। একটা হাওয়া তার ক্লান্তি ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। গরম, ট্রপিকাল, সতেজ একটা বুনো গন্ধে সে ভারি স্বস্তি অনুভব করতে করতে ঢেউএর দোলায় চেপে পাড়ি দিচ্ছিলো দক্ষিণে, মাটির নিচে ঢুকে যেতে যেতে ভিজে যাচ্ছিলো তার ঊরুসন্ধি, ভিজে যাচ্ছিলো তার বুকের গ্রন্থি। সব সেলুলাইট ঝরে ঝরে যাচ্ছিলো তার সারা শরীর থেকে, কুয়াশার মধ্যে ওড়া স্নো ফ্লেক্সের মত। তার সমস্ত গোলাপি রঙ, দুই বিনুনি আর ফ্রকের মধ্যে শিহরিত দেহ গুঁড়িয়ে, মুচড়ে দলে নিষ্পেষিত করছিলো কমলবনে মস্ত হস্তী।
তারপর একসময় বিকেলের রোদ কখন যেন তেরচা ভাবে ঢুকে তার পা ধুইয়ে দিলো। নিভি একবার অস্ফুটে বলে উঠলো উঃ মাগো। তারপর সে শ্রান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়লো শিখরের দিকে পাশ ফিরে।


চিক সোয়াব্গুলো তিনদিন আগে পাঠিয়েছিলো সৌম্য। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। সন্ধ্যে গড়িয়ে রাতের পথ ধরলে সৌম্য কারুর কোন সাড়াশব্দ না দেখে একবার এসেছিলো এঘরে। অন্ধকার ঘরের মধ্যে থমথম করছে অদ্ভুত নৈশব্দ।

ফট করে স্যুইচ টিপে আলো জ্বালাতেই চিকন সাদা বেডশিটের ওপরে ধূসর রঙা কোকুনের মধ্যে শিখরের নিমজ্জিতপ্রায় শরীর বেষ্টন করে থাকা খাটের সমান বিশাল এক মাকড়শা কুঁকড়ে সরে গেলো দেওয়ালের দিকে।



---
ঋণ স্বীকারঃ ইন্দ্রাণী দত্ত, ডেনি ভিলনভ


https://i.pinimg.com/originals/b1/62/68/b162686e297055eaadedb888be4854
f9.jpg

Maman is a bronze, stainless steel, and marble sculpture by the artist Louise Bourgeois

[ প্রথম প্রকাশঃ ফেসবুক মজলিশ শারদীয়া সাতাশে সেপ্টেম্বর, ২০১৯]

731 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: শঙ্খ

Re: নাদির

#
Avatar: ন্যাড়া

Re: নাদির

আরেশশালা! এ তো অন্য লেভেল।
Avatar: rivu

Re: নাদির

চমৎকার!
Avatar: দ

Re: নাদির

আইব্বাপ!
জ্জিয়ো
Avatar: b

Re: নাদির

সাঙ্ঘাতিক গ্ল্প।
Avatar: প্রশ্ন

Re: নাদির

"হাত তুলে গোল জায়গাটা দিয়ে গলাতে গিয়ে সামনের র‌্যাকের দিকে আনমনে তাকাতে তার চোখ গেলো একটা বিজ্ঞাপনের দিকে, তার বিস্ফারিত চোখ এক সেকেন্ডের কম সময়ে পড়ে নিলো সেটা আর সে ছিটকে সোজা হয়ে দাঁড়ালো একনিমিষে। তার বুকে হাতুড়ি পিটছে, শরীর হালকা হয়ে গেছে একেবারে, উত্তেজনায় তার শরীর কাঁপছে, এই সহজ জিনিসটা তার মাথায় আগে আসে নি!"

এই সহজ জিনিসটা কোনটা
Avatar: dc

Re: নাদির

ভালো লাগলো। আরও ভালো লাগলো এইজন্য যে টেলিগ্রাফ রোড আমার খুব প্রিয় গানগুলোর মধ্যে একটা।
Avatar: র২হ

Re: নাদির

এই গল্পটা ভীষন ভালো লাগলো। একেকটা লাইন বারবার পড়লাম। বর্ণনাগুলি, শব্দের ব্যবহার সব আলাদা আলাদা করে চোখে পড়লো।

গুরুর জন্যে একটা মৌলিক গল্প হোক? (কোন সংখ্যা বলতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু অনিয়মিত সাময়িকি লেবেলটা গেলেও চরিত্র প্রায় স্থির।)
Avatar: b

Re: নাদির

অবয়বহীন মার্বেল থেকে ছেনির অবিরল আঘাতে গড়ে তোলা সুনিপুণ ভাস্কর্য্য , যার মধ্যে ছেনি হাতুড়ি বাটালির কোনো চিহ্ন নেই। সব কিছু, ঠিকঠাক, খাপে খাপে বসে গেছে।

(ভিলনভের কোন সিনেমার কাছে ঋণস্বীকার করলেন?)
Avatar: i

Re: নাদির

সবার আগে আমার তরফে লেখককে ধন্যবাদ , কৃতজ্ঞতা। ঋণ স্বীকারের ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত এবং আমার এক পরম প্রাপ্তি।

এক কথায় বলে দেওয়া যায় সেরিব্রাল লেখা। খুবই অন্যরকম। ইঙ্গিতবাহী নামকরণ ,হোসে সারামাগোর লাইন, গানের লিরিক দিয়ে পর্ব বিন্যাস , 'কুইস এস', শেষে মামান ভাস্কর্য ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারে ভিলনভের নাম- বিবিধ সূত্র দেওয়া আছে পাঠকের জন্য, প্রচুর প্রচুর স্পেস। পাঠককে এতখানি জায়গা ছাড়তে অনেকখানি আত্মবিশ্বাস আর সাহস দরকার। কুর্নিশ। এবং গোটা ব্যাপারটা যেন মুভি ক্যামেরায় লেখা। গদ্য পড়লাম না ফিল্ম দেখলাম এখনও বুঝে উঠতে পারছি না-
সাধারণতঃ গদ্য বেশিরভাগ লেখকের কলমেই দ্বিমাত্রিক। ৩ডি ব্যাপারটা আসে না।এক্ষেত্রে দারুণ এসেছে। সঙ্গে বর্ণ , গন্ধ, স্পর্শ-

আরো যেটা বলার- স্পেস দেওয়ার কারণেই এ'লেখায় একধরণের অবোধ্যতা রয়েছে-যা মায়ার জন্ম দেয়। পাঠক ফিরে ফিরে গল্পটি পড়বেন। ভাববেন। আজকের দিনে খুব কম গল্পই পাঠক ফিরে পড়েন।

ডেনি ভিলনভএর এনিমি সিনেমাটি দেখে নিয়ে এ'লেখা আবার পড়ব। অভিঘাত বদলায় কী না দেখি-
Avatar: dhanyabaad

Re: নাদির

লেখাটা আর আলোচনা কি যে সুবিধা করে দিল! মুভিটা দেখিনি, তবে মুভিটা, বিশেষতঃ তার শেষটা নিয়ে লেখা পড়ে নিলাম, জানলাম, কিছুটা বুঝলামও বোধহয় sexuality আর femininity র এক্টা অন্যরকম মেটাফর নিয়ে। মামান গুগুল করে অন্য অন্য এঙ্গল থেকে ছবিগুলো ও সাহায্য করল।

তারপর গল্পটা ফিরে পড়লাম।
Avatar: dhanyabaad

Re: নাদির

এইটা ভিলনভ বলেছেন এনিমির এন্ডিং নিয়েঃ

“To be honest with you, it’s not in the book, it’s not in the novel, and I’m not sure if Saramago would’ve been happy with the idea of having something that is so surrealistic in his naturalistic environment that he created in the novel. It’s an image that I found that was a pretty hypnotic and profound [way] to express something about femininity that I was looking to express in one image. Because in the book you can use chapters to express something, but in cinema you have one shot, and the spider was exactly the perfect image. There’s movies that I saw in my life that propose images that were not explained, but were provocative, that were opening doors from a subconscious point of view — images that are frightening and oppressive, but at the same time, you feel the image. It prints itself in your brain, but you feel uncomfortable with it. But there’s a strong meaning in it, and I think that if you think just a little bit you will find it quite quickly.”

খুব পছন্দ হল কোটটা, মনে হল আমার মত যারা এই জঁরাটা বিশেষ বোঝেন না তবু বুঝতে চান, তাদের গল্পটা পড়তে বুঝতে সাহায্য হতে পারে!



Avatar: শঙ্খ

Re: নাদির

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ঃ) আপনারা পড়লেন, মন্তব্য করলেন, আমি সম্মানিত বোধ করছি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে আগে চলে যাইঃ

"এই সহজ জিনিসটা কোনটা"

- কিছু হিন্টস দিয়েছিলুম, যেমন
"ব্যাকগ্রাউন্ডে ডবল হেলিক্সের নিচে মিকেল্যাঞ্জেলোর ক্রিয়েশান অব অ্যাডাম, আর নিচে বড় কালো ফন্টে লেখা আছে 'কুইস এস?'"
বা
"চিক সোয়াব্গুলো তিনদিন আগে পাঠিয়েছিলো সৌম্য। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে।"

উত্তর হলোঃ ডিএনএ টেস্ট কিট। বাড়িতে বসে সহজে ও সস্তায় ডিএনএ চেক।


"গুরুর জন্যে একটা মৌলিক গল্প হোক?"

যদি নতুন কিছু লিখতে পারি, অবশ্যই পাঠাবো। ঃ) একটা লেখা চলছে, জানি না কবের মধ্যে শেষ হবে ঃ


"ভিলনভের কোন সিনেমার কাছে ঋণস্বীকার করলেন?"

উত্তরটা ছোটাইদি দিয়েই দিয়েছে, এনিমি। প্রসঙ্গতঃ এটি সারামাগোর O Homem Duplicado বা দা ডাবল উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত।


"স্পেস দেওয়ার কারণেই এ'লেখায় একধরণের অবোধ্যতা রয়েছে-যা মায়ার জন্ম দেয়।"

অবোধ্যতার ব্যাপারটা মানছি। আমার দরকার ছিল স্পেস দিয়েও কিছু কিছু ক্লু, কিছু নড ছেড়ে রাখা, কৌতূহলী পাঠকের জন্য, কিছু ঈস্টার এগ। আবার চেষ্টা করতে হবে।

ধন্যবাদকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি যে সময় নিয়ে ক্লু গুলি নিয়ে ভেবেছেন, একটা হোম ওয়ার্ক করে গল্পটা ফিরে পড়লেন, এবং শুধু তাই না, সেই জিনিসগুলো এখানে শেয়ার ও করলেন, আমি কৃতজ্ঞ।


সবাইকে আবারও ধন্যবাদ!
Avatar: i

Re: নাদির

শঙ্খ,
আমি ঠিক বোঝাতে পারি নি। অবোধ্যতা শব্দটি সদর্থক এক্ষেত্রে। দুর্বোধ্যতা নয়। পাঠক ফিরে ফিরে পড়বেন। সেটাই বলতে চেয়েছিলাম। আর এতখানি স্পেস রাখার জন্য আগের পোস্টেই কুর্ণিশ জানিয়েছিলাম তো।

আমার শুধু মাঝে মাঝে পাঠকের মুন্ডুর মধ্যে ঢুকে যেতে ইচ্ছে হয় খুব। কে কীভাবে পড়েন সেটা জানতে। এই গল্পটি ই হয়ত কেউ সূত্রগুলি অনুসরণ না করেই পড়লেন। নিজের মত করে। কেউ আবার নিজের মত পড়ে নিয়ে আবার ফিরে পড়লেন সূত্রগুলির সাহায্য নিয়ে। তাতে কি ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র গল্পের জন্ম হল? না পাঠদুটি পরস্পরকে ছুঁয়ে রইল? অথবা একটি পাঠ অন্যটিকে গ্রাস করে নিল? এইসব ভাবায়।

অশেষ শুভেচ্ছা এবং কুর্ণিশ আবারও।
Avatar: শিবাংশু

Re: নাদির

ছবিগুলি বাস্তব। কিন্তু গাঁথার সুতোটা পরাবাস্তব। স্তরবিভাজনের মধ্যের স্পেসগুলি ঠিক জ্যামিতিক নয়। কিন্তু সমে ঘুরে আসছে। যাঁরা বড়ো উস্তাদদের চক্রধার তেহাইয়ের প্যাটার্নটা অনুসরণ করেন, তাঁদের পক্ষে হয়তো বোঝা সহজ হবে। আধ মাত্রা, সিকি মাত্রা, দুবার কি চারবার ঘুরে এলেই একটা পুরো চক্র পূর্ণ হয়ে যায়। মনস্ক পাঠকের জন্য ঠিক হোঁচট নয়, পজ বলা যেতে পারে। ইন্দ্রাণী যাকে হয়তো 'অবোধ্য' বলতে চাইছেন। ওঁর লেখাতেও এই 'ঠহরাও' ব্যাপারটা আমরা লক্ষ করি।

'মাকড়শা' মেটাফরটা পশ্চিমি চিন্তায় বেশ সুলভ। আমাদের সাহিত্যেও পশ্চিমের হাত ধরেই এসেছে। এই গল্পে অবশ্য তার ব্যবহারটা অনিবার্য বোধ হবে।

বেশ ভালো লাগলো শঙ্খ। পরিণত লেখা। টেকনিক ও আবেগ, সন্তুলনের মাত্রাটায় গরমিল হয়নি।
Avatar: ঝর্না

Re: নাদির

দারুন একটা লেখা পড়লাম...


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন