Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে আরেকজন মানুষকে কিছু দিয়ে আঘাত দিয়ে দিয়ে মেরে ফেলতে? এত নীচ মানুষ হয় কীভাবে? মানুষ না সৃষ্টির সেরা জীব বলে গর্ব করে?

আবরার ভারতের সাথে নতুন পানি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে কিছু লিখেছে, এই কারনে তাকে শিবির সন্দেহে মহান ছাত্রলীগের সুমহান ছাত্ররা তাকে জেরে করে, এবং জেরার জের হিসেবে আবরার মারা গেছে। কী দারুণ সংবাদ! কী দারুণ দায়িত্ব পালন করেছে ছাত্রলীগ। ঠিক কোন দিকে এগুচ্ছি আমরা? বা এখন কোথায় বাস করছি বোঝা যায়? কাওকে শিবির বলে পিটিয়ে মেরে ফেলা যায় এই দেশে। কেউ একটা কাজ করেই ফেলতে পারে, বুঝে না বুঝে। কিন্তু অশনিসংকেত হচ্ছে যারা এই কাজ করেছে তারা এবং তাদের আশেপাশের আরও এমন শত শত, হাজার হাজার মানুষ তৈরি হয়ে আছে যারা মনে করছে এই কাজ করা যায়, যারা সত্যই ভাবে কাওকে শিবির বলে, জামাত বলে পিটিয়ে মেরে ফেললে পার পাওয়া যাবে, এইটা এই দেশে জায়েজ। এরচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? আরে, শিবিরের যে বাপ মা, সেই নিজামি, কামরুজ্জামানকেও তো সরকার আইনে মাধ্যমে, আদালতে অপরাধ প্রমাণ করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল! সরকারের হাতেই তো সব, শাহবাগে ছেড়ে দিলেই তো কারো কোন অস্তিত্ব থাকত না, এতদিন, এত খরচ করে জেল আদালতে দৌড় পেরে প্রমাণের কী ছিল? আর এদিকে এই কুলাঙ্গার গুলো ভাবতেছিল খুব একটা কাজ করা হল যা হোক, একজন শিবির কর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেললাম!

ভারতের সাথে নতুন পানি চুক্তি নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন আছে। না থাকার কোন কারন নাই। দিনের পর দিন পানি দিবে বলে বলে আমাদের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে মোদী সরকার। আমরা আশ্বাসে বিশ্বাস করে দিন পার করছি। এতই বিশ্বাস আমাদের যে আমরা উল্টা পানি দেওয়ার জন্য এবার রাজি হয়ে এসেছি। পররাষ্ট্রনীতি সবার বুঝার বিষয় না। আমরা যা সাদা চোখে দেখি তার ভিতরে অনেক কিছুই থাকতে পারে। হয়ত তেমন কিছুর জন্যই এই চুক্তি, কিন্তু আমরা জানি না তা। আমাদের মনে তাই প্রশ্ন থাকবেই। আমরা প্রশ্ন করেই যাব। আমাদের শঙ্কা দূর করার দায়িত্বও সরকারেরই। অন্য যে কোন সরকার, এমনকি দ্বিতীয়বারের আওয়ামীলীগ সরকার মানে ২০০৮ সালের আওয়ামীলীগ সরকারও এই এমন একটা চুক্তি করতে দুইশ বার ভাবত। তিস্তা পানির খবর নাই ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়া হবে এইটা ভাবতেই অন্য সরকারের ঘাম ছুটে যেত। জনগণ কী ভাববে, জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে এই সব ভেবেই অস্থির হয়ে যাওয়ার কথা এবং জীবনেও এই কাজ করত না অন্য কোন সরকার। কিন্তু এই সরকার তা করেছে। কারন জনগণের প্রতিক্রিয়াকে হিন্দি চুল দিয়াও দাম দেয় না সরকার। সরকারের একটা নিশ্চয়ই চিন্তা আছে, একটা পরিকল্পনা আছে এই চুক্তি নিয়ে, তাই তারা তা করে ফেলেছে ভিন্ন কিছু চিন্তাতেও আনে নাই, আনার প্রয়োজনও বোধ করেনি।

দিনের পর দিন সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে মোদী এবং আগের বিভিন্ন সরকার আমাদের কাছে অঙ্গিকার করেছে, ভারতের সংবিধানেও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে সম্ভবত। অথচ সুযোগ পেলেই গুলি চলে সীমান্তে, প্রাণ যায় ফেলানির। আর আমরা দিয়ে যাচ্ছি শুধু। পানি দিচ্ছি, গ্যাস দিব, বন্দর দিব, ট্রানজিট দিচ্ছি নিজের ক্ষতি স্বীকার করেও। কিন্তু উল্টো দিক থেকে প্রচুর আশ্বাস পাচ্ছি, আশ্বাসে আশ্বাসে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে এখন। বড় লোক বন্ধু চাহিদা মেটাতে মেটাতে আমরা দিশেহারা এখন। এমন অবস্থায় এবারও আমাদের প্রধানমন্ত্রী আবারও কিছু আশ্বাস নিয়ে ফিরে এলেন। ভুল বললাম, কিছু পেয়াজ নিয়ে এসেছেন এমন খবর কোথায় জানি পড়ছিলাম!

এমন পরিস্থিতিতে সবাই তো এই নিয়ে ভাবছে। সেই ভাবনা ভাল না লাগলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে কেউ? শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করার কথা। এরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পড়ে এমন অমানুষ কীভাবে হয়ে যাচ্ছে? ভিন্ন মত শোনার মত সাহস কেন থাকবে না? একজন আবর্জনাও লিখতে পারে, আমি কোনমতেই সেই আবর্জনার সাথে একমত না কিন্তু আমি তার নিয়মিত আবর্জনা লিখার অধিকারের বিপক্ষে তো যেতে পারি না। আর আবরার তো আবর্জনাও লেখেনি। ওই কথা গুলো তো এখন সবারই মাথায়, আমিও তো লিখব বলে গুছিয়ে বসার কথা ভাবছিলাম। এই জন্য শিবির বলে মেরে ফেলবে কেউ? শিবির করা অপরাধ আজ পর্যন্ত তো এই স্বীকৃতিও এনে দিতে পারল না কেউ। জামাত শিবির জঙ্গি এই কথাটা তো আজও মুখে মুখেই, নিষিদ্ধ তো করতে পারেন নাই এখনো। আর জঙ্গি কী? স্বয়ং বাংলা ভাই হলেও কী তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার আছে কারো? না কেউ এই অধিকার দিয়েছে ছাত্রলীগকে? দিলে তারও বিচার করতে হবে, যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে তাদের তো বিচার করতে হবেই। কত বড় ছাত্রলীগ কর্মী এবার তা দেখা উচিত। একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলার মত দুঃসাহস কোথা থেকে আসে খুঁজে দেখা দরকার এবার।

আবরার হত্যার বিচার চাই বিচার চাই বিচার…




416 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...

বিনা ভোটে টানা তিনবার ক্ষমতাসীন হাসিনা সরকারের বাই প্রডাক্ট এই ছাত্রলীগ, হাতুড়ি লীগ, হেলমেটলীগ নামক ফ্রাংকেস্যাইন!

আবরার হত্যার একটা পরিষ্কার মতাদশিিক অবস্থান আছে। ভারতের সাথে চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ লঙ্ঘন হলেও তা বলা যাবে না, শিবির সন্দেহ হলেই তাকে মেরে ফেলা যাবে। একে সাধারণ গেস্টরুম কালচারের সাথে গোলানো ঠিক হবে না।

ফ্যাসিবাদ আর সাধারণ সন্ত্রাসের মধ্যে পার্থক্য হলো ফ্যাসিবাদে আদর্শের মোড়ক লাগিয়ে হত্যাকে বৈধতা দেয়া হয়।
Avatar: ষষ্ঠ পাণ্ডব

Re: আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...

দুনিয়ার অনেক দেশের সরকার দাবি করে তাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। হ্যাঁ, সেখানে যে কেউ যা খুশি বলতে পারেন, কিন্তু সেটা বলার পর তিনি জীবিত বা অক্ষত থাকতে পারবেন কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। মত প্রকাশের পরে মতদাতার নিরাপত্তা যদি সমাজ বা রাষ্ট্র দিতে না পারে তাহলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিটিই ভুয়া, ভিত্তিহীন।

ভিন্ন এক বা একাধিক দেশের সাথে চুক্তি তো বটেই দেশের ভেতরে বড় আকারের জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার আগে জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন। সরকার যদি মনে করে, জনগণ তো ভোট দিয়ে আমাদের হাতে ক্ষমতা দিয়েই ফেলেছে তাহলে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে জনমত যাচাইয়ের দরকারটা কী? তাহলে বুঝতে হবে ঐ দেশে আর যা কিছু থাকুক গণতন্ত্র নেই।

কোথাও কোথাও এমন ক্ষেত্রে গণশুনানীর ব্যবস্থা করা হয় বটে, তবে যারা এই ব্যাপারে খোঁজ রাখেন তারা জানেন যে গণশুনানীর ফলাফল কর্তাদের ইচ্ছার বাইরে গেলে সেটা ফাইলেই আটকে থাকে।

যে রাষ্ট্রে ব্যক্তির ইমেজ রাষ্ট্র, সরকার, জাতি বা সংস্কৃতিকে ছাপিয়ে ওঠে, যেখানে ব্যক্তির প্রবল ছায়ায় ঢেকে যায় কোটি মানুষের অবদান বা আত্মত্যাগ সে রাষ্ট্র ঘোরতর একনায়কতান্ত্রিক - তা হিতৈষী হোক অথবা দানবীয়।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন