Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে আরেকজন মানুষকে কিছু দিয়ে আঘাত দিয়ে দিয়ে মেরে ফেলতে? এত নীচ মানুষ হয় কীভাবে? মানুষ না সৃষ্টির সেরা জীব বলে গর্ব করে?

আবরার ভারতের সাথে নতুন পানি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে কিছু লিখেছে, এই কারনে তাকে শিবির সন্দেহে মহান ছাত্রলীগের সুমহান ছাত্ররা তাকে জেরে করে, এবং জেরার জের হিসেবে আবরার মারা গেছে। কী দারুণ সংবাদ! কী দারুণ দায়িত্ব পালন করেছে ছাত্রলীগ। ঠিক কোন দিকে এগুচ্ছি আমরা? বা এখন কোথায় বাস করছি বোঝা যায়? কাওকে শিবির বলে পিটিয়ে মেরে ফেলা যায় এই দেশে। কেউ একটা কাজ করেই ফেলতে পারে, বুঝে না বুঝে। কিন্তু অশনিসংকেত হচ্ছে যারা এই কাজ করেছে তারা এবং তাদের আশেপাশের আরও এমন শত শত, হাজার হাজার মানুষ তৈরি হয়ে আছে যারা মনে করছে এই কাজ করা যায়, যারা সত্যই ভাবে কাওকে শিবির বলে, জামাত বলে পিটিয়ে মেরে ফেললে পার পাওয়া যাবে, এইটা এই দেশে জায়েজ। এরচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? আরে, শিবিরের যে বাপ মা, সেই নিজামি, কামরুজ্জামানকেও তো সরকার আইনে মাধ্যমে, আদালতে অপরাধ প্রমাণ করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল! সরকারের হাতেই তো সব, শাহবাগে ছেড়ে দিলেই তো কারো কোন অস্তিত্ব থাকত না, এতদিন, এত খরচ করে জেল আদালতে দৌড় পেরে প্রমাণের কী ছিল? আর এদিকে এই কুলাঙ্গার গুলো ভাবতেছিল খুব একটা কাজ করা হল যা হোক, একজন শিবির কর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেললাম!

ভারতের সাথে নতুন পানি চুক্তি নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন আছে। না থাকার কোন কারন নাই। দিনের পর দিন পানি দিবে বলে বলে আমাদের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে মোদী সরকার। আমরা আশ্বাসে বিশ্বাস করে দিন পার করছি। এতই বিশ্বাস আমাদের যে আমরা উল্টা পানি দেওয়ার জন্য এবার রাজি হয়ে এসেছি। পররাষ্ট্রনীতি সবার বুঝার বিষয় না। আমরা যা সাদা চোখে দেখি তার ভিতরে অনেক কিছুই থাকতে পারে। হয়ত তেমন কিছুর জন্যই এই চুক্তি, কিন্তু আমরা জানি না তা। আমাদের মনে তাই প্রশ্ন থাকবেই। আমরা প্রশ্ন করেই যাব। আমাদের শঙ্কা দূর করার দায়িত্বও সরকারেরই। অন্য যে কোন সরকার, এমনকি দ্বিতীয়বারের আওয়ামীলীগ সরকার মানে ২০০৮ সালের আওয়ামীলীগ সরকারও এই এমন একটা চুক্তি করতে দুইশ বার ভাবত। তিস্তা পানির খবর নাই ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়া হবে এইটা ভাবতেই অন্য সরকারের ঘাম ছুটে যেত। জনগণ কী ভাববে, জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে এই সব ভেবেই অস্থির হয়ে যাওয়ার কথা এবং জীবনেও এই কাজ করত না অন্য কোন সরকার। কিন্তু এই সরকার তা করেছে। কারন জনগণের প্রতিক্রিয়াকে হিন্দি চুল দিয়াও দাম দেয় না সরকার। সরকারের একটা নিশ্চয়ই চিন্তা আছে, একটা পরিকল্পনা আছে এই চুক্তি নিয়ে, তাই তারা তা করে ফেলেছে ভিন্ন কিছু চিন্তাতেও আনে নাই, আনার প্রয়োজনও বোধ করেনি।

দিনের পর দিন সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে মোদী এবং আগের বিভিন্ন সরকার আমাদের কাছে অঙ্গিকার করেছে, ভারতের সংবিধানেও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে সম্ভবত। অথচ সুযোগ পেলেই গুলি চলে সীমান্তে, প্রাণ যায় ফেলানির। আর আমরা দিয়ে যাচ্ছি শুধু। পানি দিচ্ছি, গ্যাস দিব, বন্দর দিব, ট্রানজিট দিচ্ছি নিজের ক্ষতি স্বীকার করেও। কিন্তু উল্টো দিক থেকে প্রচুর আশ্বাস পাচ্ছি, আশ্বাসে আশ্বাসে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে এখন। বড় লোক বন্ধু চাহিদা মেটাতে মেটাতে আমরা দিশেহারা এখন। এমন অবস্থায় এবারও আমাদের প্রধানমন্ত্রী আবারও কিছু আশ্বাস নিয়ে ফিরে এলেন। ভুল বললাম, কিছু পেয়াজ নিয়ে এসেছেন এমন খবর কোথায় জানি পড়ছিলাম!

এমন পরিস্থিতিতে সবাই তো এই নিয়ে ভাবছে। সেই ভাবনা ভাল না লাগলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে কেউ? শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করার কথা। এরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পড়ে এমন অমানুষ কীভাবে হয়ে যাচ্ছে? ভিন্ন মত শোনার মত সাহস কেন থাকবে না? একজন আবর্জনাও লিখতে পারে, আমি কোনমতেই সেই আবর্জনার সাথে একমত না কিন্তু আমি তার নিয়মিত আবর্জনা লিখার অধিকারের বিপক্ষে তো যেতে পারি না। আর আবরার তো আবর্জনাও লেখেনি। ওই কথা গুলো তো এখন সবারই মাথায়, আমিও তো লিখব বলে গুছিয়ে বসার কথা ভাবছিলাম। এই জন্য শিবির বলে মেরে ফেলবে কেউ? শিবির করা অপরাধ আজ পর্যন্ত তো এই স্বীকৃতিও এনে দিতে পারল না কেউ। জামাত শিবির জঙ্গি এই কথাটা তো আজও মুখে মুখেই, নিষিদ্ধ তো করতে পারেন নাই এখনো। আর জঙ্গি কী? স্বয়ং বাংলা ভাই হলেও কী তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার আছে কারো? না কেউ এই অধিকার দিয়েছে ছাত্রলীগকে? দিলে তারও বিচার করতে হবে, যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে তাদের তো বিচার করতে হবেই। কত বড় ছাত্রলীগ কর্মী এবার তা দেখা উচিত। একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলার মত দুঃসাহস কোথা থেকে আসে খুঁজে দেখা দরকার এবার।

আবরার হত্যার বিচার চাই বিচার চাই বিচার…




385 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...

বিনা ভোটে টানা তিনবার ক্ষমতাসীন হাসিনা সরকারের বাই প্রডাক্ট এই ছাত্রলীগ, হাতুড়ি লীগ, হেলমেটলীগ নামক ফ্রাংকেস্যাইন!

আবরার হত্যার একটা পরিষ্কার মতাদশিিক অবস্থান আছে। ভারতের সাথে চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ লঙ্ঘন হলেও তা বলা যাবে না, শিবির সন্দেহ হলেই তাকে মেরে ফেলা যাবে। একে সাধারণ গেস্টরুম কালচারের সাথে গোলানো ঠিক হবে না।

ফ্যাসিবাদ আর সাধারণ সন্ত্রাসের মধ্যে পার্থক্য হলো ফ্যাসিবাদে আদর্শের মোড়ক লাগিয়ে হত্যাকে বৈধতা দেয়া হয়।
Avatar: ষষ্ঠ পাণ্ডব

Re: আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...

দুনিয়ার অনেক দেশের সরকার দাবি করে তাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। হ্যাঁ, সেখানে যে কেউ যা খুশি বলতে পারেন, কিন্তু সেটা বলার পর তিনি জীবিত বা অক্ষত থাকতে পারবেন কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। মত প্রকাশের পরে মতদাতার নিরাপত্তা যদি সমাজ বা রাষ্ট্র দিতে না পারে তাহলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিটিই ভুয়া, ভিত্তিহীন।

ভিন্ন এক বা একাধিক দেশের সাথে চুক্তি তো বটেই দেশের ভেতরে বড় আকারের জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার আগে জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন। সরকার যদি মনে করে, জনগণ তো ভোট দিয়ে আমাদের হাতে ক্ষমতা দিয়েই ফেলেছে তাহলে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে জনমত যাচাইয়ের দরকারটা কী? তাহলে বুঝতে হবে ঐ দেশে আর যা কিছু থাকুক গণতন্ত্র নেই।

কোথাও কোথাও এমন ক্ষেত্রে গণশুনানীর ব্যবস্থা করা হয় বটে, তবে যারা এই ব্যাপারে খোঁজ রাখেন তারা জানেন যে গণশুনানীর ফলাফল কর্তাদের ইচ্ছার বাইরে গেলে সেটা ফাইলেই আটকে থাকে।

যে রাষ্ট্রে ব্যক্তির ইমেজ রাষ্ট্র, সরকার, জাতি বা সংস্কৃতিকে ছাপিয়ে ওঠে, যেখানে ব্যক্তির প্রবল ছায়ায় ঢেকে যায় কোটি মানুষের অবদান বা আত্মত্যাগ সে রাষ্ট্র ঘোরতর একনায়কতান্ত্রিক - তা হিতৈষী হোক অথবা দানবীয়।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন