Aniket Chattopadhyay RSS feed

Aniket Chattopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ

Aniket Chattopadhyay



#গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ ১

রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর বউদির সঙ্গে প্রেম আর নেতাজী ফিরে আসবেন, বেঁচে আছেন, বিয়ে করেছেন কিনা, এই দুটো বিষয় নিয়ে যত অখাদ্য বই লেখা হোক না কেন, পাবলিশারতো জুটে যাবেই, বিক্রি বাট্টাও কম হয় না। সেটা অনেকে বুঝেছেন, বুঝেছেন অনুজ ধর ও। কাজেই নেতাজী নিয়ে প্রায় একই গাল গল্প ছাপিয়েই যাচ্ছেন। একবার বাংলা তে, একটু পালটে নিয়ে সেটাই আবার ইংরিজি তে। তো ওনার ‘নেতাজী ফিরেছিলেন’ আর CONUNDRUM বই দুটো পড়ে এই লেখা। একটা পুরো দস্তুর জোচ্চর হামবাগ নিম্ন স্তরের ফেরেব্বাজ কে নেতাজী বলে প্রমাণ করার চেষ্টা। প্রমাণ কোথায়? ইনি বলেছেন, উনি বলেছেন, তিনি বলেছেন। মানে কিছু লোকজন কী বলেছেন তার ওপর ভিত্তি করে ইতিহাস লেখা। ডিএনএ টেস্ট হয়েছে? হ্যাঁ। ফল কী? দু জায়গাতেই নেগেটিভ। হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট রা কী বলেছেন? সরকারি দপ্তর (আদালতে গেলে যাঁদের ভাষ্য মানা হবে), তাঁরা বলেছেন মিলছে না। এমন একটা material proof নেই যা প্রমাণ করে যে এই দুটো মানুষ এক। এবং এই জোচ্চরটি নিজে যা বলেছেন সেগুলো সামনে রাখলে বুঝতে অসুবিধে হয়না যে অত্যন্ত নিম্ন স্তরের ফেরেব্বাজ ছিলেন এই লোকটি। আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে লিখবো এই গুমনামি জোচ্চরটি কী কী দাবী করেছিলেন। একটু ছুঁইয়ে রাখা যাক, যাতে আগামী কদিন এই গুলবাজটির কথা পড়তে পড়তে হাসতে হাসতে আপনাদের দিন কাটবে। গুমনামি জোচ্চর (নিজেকে যিনি নেতাজী বলেন) ভারতে এসেছিলেন নেপাল বর্ডার দিয়ে সঙ্গে ছিল হিটলার আর হিমলার !!! গুমনামি জোচ্চর (নিজেকে যিনি নেতাজী বলেন) মাও সে তুং কে অ্যালোপাথি খাবার পরামর্শ দিয়েছিলেন, ওনার দরখাস্ত লিখে দেবার পর চীন ইউ এন সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যপদ পায়, উনি হো চি মিন কে ভিয়েতনাম যুদ্ধে জিততে হলে কী করতে হবে সেটা বলে দেন, উনিই জেনারেল মানেক শ কে কিভাবে বাংলাদেশ এর যুদ্ধে জিততে হবে সেটা বলে দিয়েছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম প্রচুর কথা যা ঐ গুমনামি জোচ্চর বলেছিলেন সেটা লিখব। পড়বেন, মতামত দেবেন। আমার কিছু ফেসবুক বন্ধু বান্ধব কে ট্যাগ করছি। আপত্তি থাকলে জানাবেন, তুলে নেবো। একটা নিম্ন স্তরের জোচ্চর কে আর যাই হোক দেশের এক অবিসংবাদী নেতা নেতাজী বলে চালানোর প্রতিবাদ করুন।



#গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ ২

যদিও সরকারি ডিএনএ আর হাতের লেখা পরীক্ষায় ডাহা ফেল, কমিশনের রিপোর্টে clinching evidence নেই বলে পরিস্কার জানানো হয়েছে, যদিও নেতাজী পরিবারের অধিকাংশ সদশ্য বিরোধিতা করেছেন, যদিও আই এন এ র প্রায় কেউই মেনে নেন নি, যদিও ফরোয়ার্ড ব্লক দলের কেউই মেনে নেন নি তবুও আসুন তর্কের খাতিরে মেনে নিই যে CONUNDRUM বই এর লেখক যা প্রমাণ করতে চেয়েছেন তা সঠিক। অর্থাৎ নেতাজীই গুমনামি বাবা অথবা গুমনামি বাবাই নেতাজী। তাহলে এই বই এ সবথেকে সত্যি কথাগুলো কী ? কমিশন, প্রমাণ, তথ্য, এসব বাদ দিলে স্বয়ং গুমনামি বাবা যা বলেছেন সেটাই সব থেকে সত্যি। কারণ ওগুলোই তো নেতাজী উবাচ। এবার যদি দেখা যায় যে নেতাজীর মত শিক্ষিত, বিবেচক, পৃথিবীর ইতিহাস ভুগোল এবং রাজনীতি জানা এক মানুষ এসব কথা বলতেই পারেন না, বলা সম্ভব নয় তাহলে মাননীয় পাঠক, আমরা বলতেই পারবো যে গুমনামি আদতে এক নিম্ন স্তরের জোচ্চর ছিলেন। আপাতত তাঁকে জোচ্চর বলছি না। গুমনামি বাবাই নেতাজী, নেতাজীই গুমনামি বাবা। আসুন দেখা যাক তিনি কী কী বলেছেন।

ওসব প্লেন দুর্ঘটনা ইত্যাদি কিছুই হয় নি, উনি বহাল তবিয়তে পৌঁছেছিলেন রাশিয়া, এবং রাশিয়া তখন সাইবেরিয়া অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। বারবার চেষ্টা করছে, পারছে না কিছুতেই। ভাবুন একবার রাশিয়া আর কদিন পর আ্যটম বোমা ফাটাবে, চাঁদে লোক পাঠাবে, তো সেই রাশিয়া চেষ্টা করছে এবং ব্যর্থ হচ্ছে। এমন সময়ে উনি মাঠে নামলেন, প্রজেক্ট সফল হয়ে গ্যালো। ব্যস তারপর থেকে ওনার সঙ্গে রাশিয়ান শীর্ষ নেতাদের দারুণ ভাবসাব হয়ে গ্যালো। উনিই জানাচ্ছেন যে ঐ প্রজেক্ট এ বেশ কিছু আজাদ হিন্দ সরকারের অনেক লোকজন ও তাঁর সঙ্গেই ছিল। ১৯৪৯ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে চীন চলে যান। বই এর ৩১৪ থেকে ৩১৯ পাতার মধ্যে এই তথ্য আছে, এবং খুব পরিস্কার বলা আছে যে ভগবানজী ওরফে গুমনামি বাবা ওরফে মহাকাল ওরফে নেতাজী নিজেই এই কথা গুলো বলেছিলেন। এবং এই কটা পাতার মধ্যে এক জায়গায় লেখক অনূজ ধর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে কী ভাবে গুমনামি বাবা সাইবেরিয়ার লেবার ক্যাম্পগুলোর হুবহু বর্ণনা দিয়েছেন।

এবার কাটাছেঁড়ায় আসি। গুমনামি বাবার কাছে ১১ টা আলেকজান্ডার সলঝেনেৎসিন এর বই পাওয়া গেছে। তারমধ্যে ‘গুলাগ আর্কিপেলগো’ নিশ্চই থাকবে। এবং ওটা পড়ার পর সাইবেরিয়া, সেখানকার নির্বাসন, লেবার ক্যাম্প নিয়ে ঘণ্টা খানেক বলাই যায়, তিনিও বলেছিলেন, এতে বিস্ময়ের কী আছে?

তিনি বললেন রাশিয়া গেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেমন ভাবে গেছেন, তিনি সে সব নিয়ে একটা কথাও বলেন নি। এবার আসা যাক চীনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিরাট প্রজেক্ট এর কথায়। মাথায় রাখুন সাল টা ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৯, চীনে মাও এর নেতৃত্বে লড়াই হচ্ছে এবং সেই যুদ্ধের সথেকে বেশি হাতিয়ার মাও পেয়েছিলেন সোভিয়েত রাশিয়ার কাছ থেকে, বেইজিং এ একটা মিউজিয়াম আছে, সেসব অস্ত্রশস্ত্র রাখা আছে, কেবল অস্ত্র নয়, ট্রেনিং এবং অর্থ এসেছিল রাশিয়ার কাছ থেকে। সেই রাশিয়া নাকি ঐ সময়েই চীনের বিরুদ্ধে বিশাল প্রজেক্ট করছে, এবং নেতাজী তাতে সাহায্য করছেন!! একা নয় সংগে আছেন আজাদ হিন্দ সরকারের অনেক লোকজন। আজাদ হিন্দ সরকারের একজন ও নিখোঁজ হয়েছেন বলে আজ পর্যন্ত তথ্য নেই, তাহলে সেই লোকজনেরা কারা? একজন দুজন নয়, তাঁর ভাষায় several, তো তাঁরা এলেন কোথা থেকে এবং আরও বড় প্রশ্ন তাঁরা গেলেন কোথায়? মিথ্যের এই এক দোষ, ঢাকা যায় না কিছুতেই, ফুটে ফুটে ওঠে। যেহেতু ১৯৬০ সাল থেকে এই গুলগল্প দেওয়া শুরু কাজেই গুমনামি বাবার মনে হয়েছিল রাশিয়া চীনের বিরুদ্ধে প্রজেক্ট করতেই পারে, মাথায় ছিলনা যে ১৯৪৫-১৯৫১ চীন রাশিয়ার সবথেকে সুসম্পর্কের সময়। মাথায় রাখুন রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সাহায্য নিয়েই মাও লড়েছিলেন, পয়লা অক্টোবর ১৯৪৯ লালফৌজ এর বিজয় দিবস। এবং গুমনামি বাবা গুল দেবার সময় খেয়াল করেন নি যে ঐ আজাদ হিন্দ সরকারের হিসেব টা কেউ চাইতে পারে। এবং কি আশ্চর্য, ৪৫ – ৪৯ তিনি রাশিয়ায় থাকলেন, এক আধ বছর পর থেকে তো দারুন সম্পর্ক রাশিয়ান দের সঙ্গে, সঙ্গে আছেন অনেক আজাদ হিন্দ সরকারের লোকজন, তিনি কিন্তু ভারতবর্ষে র কারোর সঙ্গে, আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। কেন? ৪৫, ৪৬ তো নেহেরুর সরকার নয়, শরৎ বসু বেঁচে, না উনি যোগাযোগ করছেন না। কারণ একটাই উনি মিথ্যে কথা বলছিলেন।

অতঃপর রাশিয়া পর্ব সমাপ্ত। এরপর চীন, যেখানে মাও সে তুং কে উনি ডাকতেন ‘তুং’ বলে। ও, একটা ছবি দিয়ে দিলাম ঐ চীনের মিউজিয়ামের।



#গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ ৩

আগের পর্বে দেখেছিলাম গুমনামি ওরফে নেতাজী ১৯৪৯ সালে চীন চলে আসছেন। আসার আগে নিকিতা ক্রুশ্চেভ এর সঙ্গে বসে অপেরা দেখে ফেলছেন (পাতা ৭৪০)। দেখে “দাশভাদানিয়া” মানে বিদায় বন্ধু বলে চীন চলে গেলেন। সেই বছরেই পয়লা অক্টোবর পিপলস লিবারেশন আর্মি মাও এর নেতৃত্বে চীনের ক্ষমতায়। তো ঠিক সেই সময়েই মাও এর সঙ্গে মোলাকাৎ হয়েছিল কিনা তা কিন্তু গুমনামি বাবা বলেন নি। অবশ্য নিকিতা র কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি চীনে গেলে মাও এর কাছেই তো যাবেন। মোদ্দা কথা হল, দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে গেল। উনি মাও সে তুং এর তুং এর মধ্যে ভারত কে খুঁজে পেলেন। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শুরু হয়ে দুটো নদী তুঙ্গ আর ভদ্রা মিশে তুঙ্গভদ্রা নাম নিয়ে কর্ণাটকের ওপর দিয়ে আরব সাগরে চলে গেছে। তো তিনি ডাক নাম দিলেন মাও এর তুঙ্গভদ্রা। এদিকে তুঙ্গভদ্রা নদ নয় নদী, স্ত্রী লিঙ্গ, নিশ্চই মাও সেটা জানতেন না, গুমনামিও জানতেন না। যাই হোক এই তুঙ্গভদ্রার সঙ্গে ওনার দারুণ দোস্তি হয়। পরবর্তি সময়ে সেই দোস্তির কথা আরও জানা যাবে। ওদিকে লালকেল্লাতে নেহেরু ব্যারিস্টারের গাউন চড়িয়ে আই এন এ র বন্দী সৈনিকদের হয়ে আদালতে, সারা দেশ উত্তাল, সঙ্গে অরুণা আসফ আলি ইত্যাদিরা। গুমনামি এই ব্যাপারে এক্কেবারে চুপ, কোনো স্ট্রেস ট্রমা নেই। আই এন এ র একজন সৈনিকেরও শাস্তি হলনা, গুমনামি বাবা চুপ। ওদিকে দেশে ফিরতে হবে। গুমনামি বাবার চিঠি, লেখা কাগজ বা অনুগামীদের লিখিত কাগজপত্রে তারিখ দেখা যায় তাহলে ভারতবর্ষে উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে আগের যে তারিখ দেখা যাচ্ছে তা কিন্তু ৫৯/৬০। মুখে অবশ্য অনেকেই ৫৬/৫৭ থেকে ওনার কথা বলেছে। এখানে একটা রহস্য রাখা রইল। পরে আলোচনা করা যাবে। কাগজ পত্র নেই কিন্তু কেন ওনাকে ৫৭ তেই উত্তরপ্রদেশে দেখানো হচ্ছে তারও কারণ আছে। সে থাক আপাতত অনুজ ধরের লেখা বই এর মধ্যেই থাকি। উনি তার মানে ১৯৪৯ নাগাদ রাশিয়া থেকে ক্রুশচেভ কে দাসভাদানিয়া বলে চীন গিয়ে মাও কে নি হাও (হ্যালো) বললেন, ৬/৭ বছর কাটালেন, তারপর ভারত আমার ভারতবর্ষ। না আগে থেকে কাউকে যোগাযোগ করেন নি। গান্ধীজী মারা যাচ্ছেন, যাঁকে তিনি বাপু বলতেন, যার নামে ব্রিগেড তৈরি করেছিলেন, তিনি খুন হচ্ছেন, কোনও কথা নেই। শরৎ বসু মারা যাচ্ছেন ১৯৫০। না কোনো কথা নেই। ওদিকে জার্মানি তে বউ মেয়ে, না কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু একজনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, তিনি হলেন হিটলার। এবার হিটলারকে তিনি ‘হিটু’ বলে ডাকতেন কিনা জানা নেই। সেই হিটলার এবং হিমলার কে নিয়ে হাঁচড় পাঁচড় করতে করতে নেপাল হয়ে ভারতবর্ষে ঢুকলেন। (পাতা ৬৮৮ - ৬৯০)ঢোকার পরে অবশ্য হিটলার আর হিমলার যে কোথায় চলে গ্যালো উনি জানেন না। কিন্তু কিছুদিন পর গুমনামি উত্তরপ্রদেশে। হিটলার আর হিমলারের কী হল ওনার জানা নেই। এবং লেখক বলছেন যে এটা যদি সত্যি হয় (কী কান্ড, গুমনামি ওরফে নেতাজীর মুখনিসৃত বাণী যদি সত্যি হয় !!!) তাহলে এটাই তো কারণ যার জন্য তিনি সবার সামনে আসতে পারেন নি। ভাবা যায়। এদিকে আমরা ভাবছিলাম এই মধ্যের এতগুলো বছর কি এমনি এমনিই কেটে গ্যালো? না, তার উত্তর দিলেন এস এম গোস্বামী, মুখার্জি কমিশনে দাঁড়িয়ে দ্বর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে ঐ সময় নেতাজী এবং হিটলার কোরিয়া রণাঙ্গনে কোরিয়ার হয়ে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ করছে।এবং অনুজ ধর নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। (রাণা যশবন্ত কে ‘অর্ধসত্য’ সাক্ষাৎকারে)

এ নিয়ে আমার কিছু বলার দরকার নেই, কতবড় আষাড়ে গল্প ফাঁদা হয়েছে, সব্বাই বুঝবেন। কত নিম্ন স্তরের জোচ্চর হলে এ ধরণের কথাবার্তা বলা যায়। তা যাক আপনারা বিচার করুন। আমি একটা সাইবেরিয়ার ভিডিও দিয়ে দিলাম, মাত্র গত বছর ঘুরে এসেছি, সাইবেরিয়ার লেবার ক্যাম্প এখানেই ছিল।



#গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ ৪

আগেই বলেছি যে CONUNDRUM বইতে অনুজ ধর যেভাবে, যা যা যুক্তি দিয়ে গুমনামি বাবা কে নেতাজী বলে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, আপাতত তার সবটা মেনে নিয়ে ধরে নিচ্ছি যে গুমনামি বাবা নেতাজী, নেতাজী গুমনামি বাবা। এবার সেই নেতাজী ওরফে গুমনামি বাবা ঐ বই তেই যা যা বলেছেন পাতা ধরে ধরে সেটাই তুলে ধরছি এবং পাঠকদের জিজ্ঞেস করতে চাইছি যে এই অর্বাচীনের মত কথা বলা কি নেতাজীর পক্ষে সম্ভব? আমি মনে করি অত্যন্ত নিম্নস্তরের জোচ্চরের পক্ষেই এভাবে এই কথাগুলো বলা সম্ভব।

গত অধ্যায়ে আমরা দেখেছিলাম যে উনি ‘হিটু’ আর ‘হিমু’ থুড়ি অ্যাডলফ হিটলার আর হাইনরিখ হিমলার কে নিয়ে দেশে ঢুকলেন, এর আগে হিটলারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোরিয়ার যুদ্ধে লড়াই করেছেন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ তাহলে কেবল এই লড়াইটুকু করলেন আর কিছুই করলেন না? ধ্যাৎ তা হয় নাকি? তিনি এক দেশ তৈরি করলেন। হিমালয়ের কোলে সে দেশ চিনের ও না, রাশিয়ার ও না। সে দেশ এর কথা কেউ জানে না। সেখানে নানান দেশ থেকে লোকজন এসে বসবাস করেন। সেই খান থেকে গুমনামি ওরফে নেতাজী একটা শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে চিন রাশিয়া ভারত তো বটেই এমনকি ভুমধ্য সাগরের পাশাপাশি দেশগুলোতেও নজর রাখেন। ভাবুন একবার হিমালয়ের কোল থেকে টেলিস্কোপ দিয়ে ভূমধ্যসাগরের রাজনৈতিক অবস্থার ওপর নজর রাখা, তিনি নিশ্চই ভূগোল শিখছিলেন না !!!! এখানেই শেষ নয়, ঐখানে একটা যন্ত্র আছে যা অন্য দেশের রাডারের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। ( রাডার বললেই অবশ্য এখন আর এক জনের কথা মনে পড়ে যায় ) কী পদ্ধতি তে আড়াল করা হয়? ধপধপে সাদা সিল্ক, মলমল আর মার্কিন থান দিয়ে ঢেকে রাখলেই ব্যস রাডার এর আর খোঁজ পাবে না। এটা জার্মান বৈজ্ঞানিকের কাছ থেকে শেখা। (পাতা ৪৪৭, ৪৪৯) ভাবা যায় এত সহজেই রাডারের হাত থেকে বাঁচা গ্যালো। মাঝে মধ্যেই তিনি এখানে চলে যেতেন। কিভাবে যেতেন, কিভাবে ফিরতেন, পাসপোর্ট লাগত কিনা এসব জানতে চেয়ে লজ্জা দেবেন না প্লিজ, গুমনামি এসব জানান নি।

এইবার তিনি কাজে নামলেন। এতদিন আমেরিকার বিরুদ্ধে, এবার আমেরিকার পক্ষে। ৫৬/৫৭ থেকেই তিব্বতে ঝামেলা চলছে, চীন এর লাল ফৌজ তিব্বতের নিয়ন্ত্রণ কড়া হাতে সামলাচ্ছে। আমেরিকা দলাই লামা কে সমর্থন করছে, তারা চেয়েছিল সরাসরি কিছু করতে, জানিয়েছিল দলাই লামার কাছ থেকে সরাসরি অনুরোধ এলেই আমেরিকা খোলাখুলি মাঠে নামবে। তো সেরকম অনুরোধ দলাই লামার পক্ষ থেকে করা হয়নি। অতঃপর সি আই এ গোলাগুলি বন্দুক অর্থ দিতে শুরু করে। পাশাপাশি গুমনামি বাবা দলাই লামার পাশে। তিনিও সরাসরি চিনের বিরুদ্ধে, তাঁর বন্ধু তুং থুড়ি তুঙ্গভদ্রার বিরুদ্ধে, মাও এর বিরুদ্ধে, আমেরিকার এই প্রচেষ্টা কে সফল করার জন্য লড়ে যাচ্ছেন। দলাই লামার অনুগামীদের গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং দিচ্ছেন। এবং মার্চ ১৯৫৯, তিব্বতে অভ্যুথ্বান ঘটিয়ে দালাই লামা কে রাস্তা দেখিয়ে দেখিয়ে ভারতবর্ষ পাঠিয়ে দিলেন। (পাতা ৩৪১ – ৩৪৩ ) ওঁ মণিপদ্মেহুঁ।

বিশ্বের কেউ জানতে পারেনা এমন দেশ, বিশ্বের কেউ জানতে পারলো না এমন যন্ত্র, রাডার নিরোধক ব্যবস্থা এবং শেষমেষ আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়ে দালাই লামা কে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া যে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোরিয়ায় ঘমাশান যুদ্ধ করলেন কদিন আগেই !!! পাঠক আপনার কি মনে হয় যিনি এসব বলছেন তিনি নেতাজী? নাকি মনে হচ্ছে একটা তৃতীয় শ্রেণির জোচ্চর? আমি মনে করি খুব নিম্ন মানের জোচ্চরের পক্ষেই এসব বলা সম্ভব।

এরপর চীন ভারত যুদ্ধ। সেখানে কি ছিলেন, নেতাজী? কাল সে কথা।

476 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: শঙ্খ

Re: গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ

বেশ। লিখুন। পড়বো।
Avatar: নতুন পোস্ট

Re: গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ

.


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন