ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

হাসিমারার হাটে

ন্যাড়া

অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির থাকব। পরের দিন পারোর পার্মিট নিয়ে বাসে করে পারো হয়ে থিম্পু। এই হল প্ল্যান।

প্রথমেই গর্দিশ। আমাদের পারো যাবার পার্মিট দিলনা। কাজেই সোজা থিম্পু। থিম্পুতে নেবেই মালুম হল এখানে সাতদিন কেন, তিনদিনও থাকা যাবেনা। করার মতন কিচ্ছু নেই। দ্বিতীয়দিনের মাথায় প্ল্যান চেঞ্জ করলাম। ব্যাক-টু-ফুন্টসলিং। সেখান থেকে দার্জিলিং চলে যাব। ফুন্টসলিঙে যখন নাবলাম তখন সেদিনকার মতন শিলিগুড়ি-নিউ জলপাইগুড়ির শেষ বাস চলে গেছে। কাল সকালের আগে বাস নেই। মানে পরের দিনটাও মায়ের ভোগে। পরশুর আগে দার্জিলিং পৌঁছনো যাবে না। স্থানীয় লোকেদের জিগেস করে অন্য একটা পথ বেরলো। ফুন্টসলিং থেকে হাসিমারা জিপে আধা-ঘন্টার পথ। রাত দশটায় হাসিমারা থেকে শিলিগুড়ির ট্রেন আছে। সেটা ধরলে সেদিন রাতেই শিলিগুড়ি পৌঁছে পরের দিন ভোরে দার্জিলিং-এর বাস ধরা যাবে। ব্যস। চালাও পানসি হাসিমারা।

হাসিমারায় পৌঁছে গেলাম বিকেল তিনটে নাগাদ। ট্রেন তো সেই দশটায়। করব কী এতক্ষণ! জিপের ড্রাইভারই বলল যে পাশের গ্রামে হাট বসেছে। সেখানে সময় কাটান যেতে পারে। গিয়ে দেখলাম নদীর ধারে বিরাট মাঠ। মাঠের একদিকে রাস্তা, একদিকে নদী, একদিকে জঙ্গল আর অন্যদিকে হাল্কা গাছ-টাছ, আগাছা-ভরা জমি - সেদিকটাই হাসিমারার দিক। হাট সেই মাঠেই। কিছু স্থায়ী স্ট্রাকচার আছে, তাতে সাইনবোর্ডও ঝুলছে। মনে হয় এটাই বাজার, হাটবারে হাটুরেরা মালপত্র নিয়ে এখানে এসেই বসে পড়ে। ধুলোভরা ন্যাড়া মাঠ। খান কয়েক গাছ আছে। মাঠে চট-পেতে, গরুর-গাড়ির-ওপর, চৌকি-পেতে ব্যাপারিরা বসেছে। খরিদ্দাররাও সব চাষাভুষো, কুলি-কামিন, খেটে খাওয়া মানুষ। ইতস্তত কিছু গরু আর নেড়ি কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। গঞ্জের হাট যেরকম হয় আর কি! শুভায়ু একটু বামপন্থী আদর্শবাদী টাইপ। নিজে সাহিত্য-টাহিত্য করে। ঋত্বিকের বিরাট ভক্ত। হাটে ঢুকেই বারদুয়েক "প্রান্তিক, মার্জিনালাইজড, সাব-অল্টার্ন" এসব বলতে আরম্ভ করেছে। অভিজিতের আবার এসবে বিশেষ ঝোঁক নেই। কোথাও গেলেই তার ছোঁকছোঁক কী নেশা করা যায়! বিশেষতঃ দেশজ নেশা। এখানে এসেও চা খেতে খেতেই সে খবর নিয়ে ফেলেছে যে এখানকার গাঁজার ঠেকটা দশকর্মা ভান্ডারের পাশে। চা খেয়ে হাটটা এক পাক মারব বলে উঠতেই অভিজিত তাড়া লাগাতে শুরু করল, "চল, চল। দশকর্মা ভান্ডারটা ময়না করে আসি।" তো গেলাম। পাশে-টাশে নয়, দশকর্মা ভান্ডারের সামনেই বাঁশের বেঞ্চি পাতা আছে আর সেখানেই চলছে গঞ্জিকাসেবন। অভিজিত ব্যাগ থেকে নিজের কলকে বের করে গাঁজা কিনে তরিবত করে ঠাসতে শুরু করল। বেঞ্চিতে আরও কটা লোক বসে। দেখে সবাইকেই হাটুরে বলে মনে হয়। শুধু একজন লোক ধুতির ওপর একটা নীল মোটা সুতির পাঞ্জাবী পরে চোখ বন্ধ করে ব্যোম হয়ে পদ্মাসনে বসে আছে। একটা সাদা উড়ুনি গলায় মাফলারের মতন প্যাঁচানো। আর একটা উড়ুনি মাথায় জড়িয়ে পাগড়ির মতন করে পরা। একটু পরে বুঝলাম একা নয়, লোকটার সঙ্গে দুজন চাকর রয়েছে। তারাও বোধহয় আড়ালে দম দিচ্ছিল। একটু পরে চোখ লাল করে এসে লোকটাকে একটা কলকে সেজে দিল। লোকটা কলকেয় টান দিল। একটাই টান, কিন্তু সে কী টান! একটু পরেই ফট শব্দ করে কলকে ফেটে গেল। লোকটা ফাটা কলকেটা একজন চাকরের হাতে দিয়ে আবার ব্যোম হল। টানের বহর দেখে আমাদের চক্ষু চড়কগাছ। লোকটাকে দেখলে মনে হয় এখানকার অবস্থাপন্ন লোক। আমাদের শহুরে চোখে গ্রাম্যভাব প্রকট হলেও অন্য হাটুরেদের থেকে স্পষ্টই আলাদা।

দশকর্মা ভান্ডারের মালিকের নাম হরিশ। প্রৌঢ়, মেঠো দোকানির যেরকম চেহারা হয়। অভিজিৎ দম নিল। শুভায়ুও। আমি প্রায় ডেজিগনেটেড ড্রাইভারের মতন একটাও টান না দিয়ে হরিশের সঙ্গে খেজুর করলাম। পাশের নদীটা তোর্সা। ওপর দিকে খর, কিন্তু এখান থেকে শান্ত। বন্যা-টন্যা বিশেষ হয়না। চারপাশে চা বাগান। একটু এগোলেই কালচিনি, দলসিংপাড়া, রাঙামাটি - এইসব চা বাগান - তাদের নাকি খুব নাম। এছাড়া চতুর্দিকে জঙ্গল। প্রায়ই হাতি বেরোয়। হাতিকে এরা এখানে ট্রান্সপোর্ট হিসেবেও ব্যবহার করে। যা বুঝলাম হাসিমারা টাউনে বিশেষ কিছু নেই। মূলতঃ চা বাগানের ট্রেডিং পোস্ট। সবার রুজিই কোন-না-কোনভাবে চা বাগানের সঙ্গে জড়িত। আর নয়ত জঙ্গলের সঙ্গে। দু-চারঘর ধনী আছে, কিন্তু তারাও মূলতঃ ট্রেডার। এবং অবাঙালি। নীল-পাঞ্জাবী-পরা লোকটা লোকাল লোক নন। গেল বছর দুয়েক আসছেন। থাকেনও না। পরিবার বোধহয় দক্ষিণের কোথা থেকে আসে। ভদ্রলোক এখান থেকে তাদের সঙ্গে নিয়ে ফিরে যান। কোথায় থাকেন কখনও স্পষ্ট করে বলেননি। হরিশ জিগেস করল, "মাঠান কি এবারও পিছবছরের মত হাতিতে ফিরিছেন নাকি গো?" ভদ্রলোক অল্প কথার মানুষ। বললেন, "নৌকোয়।"

একটু পরে ওনার চাকর হন্তদন্ত এসে বলল, "বাবা, মাঠান এসে গেছে। আমি এগিয়ে দেখি।" ততক্ষণে রোদ পড়ে অন্ধকার গাঢ় হয়ে এসেছে। অধিকাংশ হাটুরেই তাদের দোকান গুটিয়েছে। অন্যরা হ্যাচাক জ্বালিয়ে নতুন উদ্যমে কেনাবেচা শুরু করেছে। হরিশও একটা হ্যাচাক জ্বালিয়ে ঝুলিয়ে দিল। রোদ চলে যাবার পরেই ঝপ করে ঠান্ডা নেবেছে। গা গরম করব বলে আমরা উঠে গিয়ে একটা তেলেভাজার দোকানে মুড়ি-পেঁয়াজি আর গরম গরম ভাজা জিলিপি খেলাম। অভিজিৎ বলল, "বড্ড মোবিলের গন্ধ"। তারপরে চা খেয়ে একটু এদিক-ওদিক ঘুরে ফিরে ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখি সবে সাড়ে ছটা। হাট মোটামুটি ফাঁকা। খালি স্থায়ী কটা দোকানে আলো জ্বলছে - দশকর্মা, তেলেভাজার দোকান, একটা ভাতের হোটেল, খান-দুয়েক চায়ের দোকান, একটা কাপড়ের দোকান আর একটা বাসনকোসনের দোকান। এখন বুঝলাম জায়গাটা কত বড়। যে দোকানগুলোয় আলো জ্বলছে সেগুলো এত দূরে দূরে যে দুটোর মাঝে অন্ধকারের পুকুর। আমরা গুটিগুটি পায়ে আবার দশকর্মায় ফিরে এলাম। অভিজিৎ আরেকটা পুরিয়া কিনল, বলল, "এটাই লাস্ট"। ভদ্রলোক যেরকম বসে ছিলেন সেরকমই আছেন। ব্যোম স্টেটে। হঠাৎ একটা হাল্কা সোরগোল শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি একজন গিন্নিবান্নি ধরণের মহিলা, গ্রাম্য কিন্তু সুন্দরীই শুধু নন ব্যক্তিত্বময়ী, লটবহর, চাকর-বাকর, ছেলে-মেয়ে শুদ্ধু এসে উপস্থিত হয়েছেন। সঙ্গে চাকরকে দেখে বুঝলাম এটিই ভদ্রলোকের পরিবার। লটবহর বললাম বটে, তবে সঙ্গে জিনিসপত্র বেশি নেই। কটা বাক্স-তোরঙ্গ মাত্র। সঙ্গে জনাচারেক চাকর-ঝি। আর আছে দুই ছেলে, দুই মেয়ে। একটি মেয়ের হাতে খেলনা বেহালা, নিশ্চয়ই এক্ষুণি কিনেছে। একটা ফেরিওলা দেখছিলাম এখনও ঘুরে ঘুরে মাটির বেহালা বিক্কিরি করছে। বড় ছেলেটার হাতে একটা ছোট খাঁচা। ছোট পাখি বা ইঁদুর পোষে যাতে, সেরকম। ছোট ছেলেটার হাতে খেলনা তীরধনুক। ছেলেমেয়েরা ভদ্রলোককে এসে প্রণাম করল। গিন্নিও। সেই সঙ্গে ঝি-চাকররা। আমি শহরে বড় হয়েছি। এ দৃশ্য আমার কাছে একদম নতুন।

উনি উঠে পড়লেন। চারদিক দেখে কথাটি না বলে দারা-পুত্র-পরিবার নিয়ে প্রায় মিছিল করে এগিয়ে গেলেন। এতক্ষণ লক্ষ্য করিনি। অন্য চাকরটার সঙ্গে একটা দড়িবাঁধা ষাঁড় ছিল। সেও যোগ দিল মিছিলে। মিছিল অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। শুভায়ুর গলা প্রায় আবেগে বুজে এল - "মাদার কাল্ট। এই আমার ভারতবর্ষ"। হঠাৎ অভিজিত ধুমকি থেকে জেগে উঠে শুনি হরিশকে জিগেস করছে, "তোমার তো দশকর্মার দোকান। পাঁজি আছে?" হরিশ বলল, "তা আর থাকবেনি?"

- দাও তো। আগের বছরেরটাও দিও।

হরিশ দুখানা বেণীমাধব শীলের পাঁজি এগিয়ে দিল। আমি বললাম, "তোর খুব ধুমকি হয়েছে। পাঁজি রাখ, চল, আমরাও স্টেশনের দিকে এগোই আস্তে আস্তে।" অভিজিৎ ধমকে উঠল, "দাঁড়া। আমি ধুমকিতেও যা দেখলাম, তোরা তাও দেখতে পেলি না।" এই বলে দুটো পাঁজিতে দুটো পাতা খুলে আমাদের সামনে খুলে ধরে বলল, "নে, এবার দেখ শালা।" আমরা দেখলাম দুটোতেই "দুর্গাপূজার নির্ঘন্ট"-র পাতা খোলা। অভিজিৎ আঙুল দিয়ে দেখাল - গেল বছরেরটায় লেখা "দেবীর গজে গমন" আর এ বছরেরটায় লেখা "দেবীর নৌকায় গমন"। আর ঠিক তক্ষুণি হরিশের হ্যাচাকটা দপ-দপ-দপ-দপ আওয়াজ তুলে চারদিক অন্ধকার করে নিবে গেল।

419 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: ন্যাড়া

Re: হাসিমারার হাটে

#
Avatar: anandaB

Re: হাসিমারার হাটে

এই লেখাটা পড়লাম আচার্য চিন্ময় লাহিড়ীর টোরি শুনতে শুনতে। প্রায় ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর আগে এরকম ই এক পুজোর দিনে এই বন্দিশ শুনেছিলাম

এখন দেখি বাম চোখের পেছন টা ভিজে লাগছে, লেখার গুণ না বন্দিশ কে জানে। হয়ত দুটোই
Avatar: @&@

Re: হাসিমারার হাটে

এলেখাটার জন্য গুরুর পুজোবার্ষিকীতে সিংহাসন বাঁধা!
Avatar: &@&

Re: হাসিমারার হাটে

বাঁধা থাকা উচিত
Avatar: শঙ্খ

Re: হাসিমারার হাটে

ধইন্য ধইন্য বলি তারে / বেঁধেছে এমনো ঘর শূন্যের উপর পোচতা করে

Avatar: র২হ

Re: হাসিমারার হাটে

আহ, এটা প্রচন্ড ভালো!
Avatar: দ

Re: হাসিমারার হাটে

হাহাহাহাহাহা
আমি এদিকে এবারেও হাতিতে ফিরিছেন ন্নৌকায় অবধি পড়েই বুঝে ফেলেছি গল্পটা
Avatar: দ

Re: হাসিমারার হাটে

হাহাহাহাহাহা
আমি এদিকে এবারেও হাতিতে ফিরিছেন ন্নৌকায় অবধি পড়েই বুঝে ফেলেছি গল্পটা
Avatar: dc

Re: হাসিমারার হাটে

ব্যাপক হয়েছে। আমি টুইস্টটা একেবারেই ধরতে পারিনি।
Avatar: ধুস

Re: হাসিমারার হাটে

এই লেখার লাইনে লাইনে সুতো ছড়িয়ে আছে। গলায় উড়নি মানে সাপ, মাথায় উড়নি মানে জটা। চাকর দুজন নন্দী আর ভৃঙ্গী। হাতি আর নৌকার ইঙ্গিত স্পষ্ট। হাসিমারায় লোক থোড়ি নৌকো করে আসে। বেহালা, ইদুর আর তীর ধনুক সব ই বোঝা যাচ্ছে। দুর্বল হচ্ছে দোকানে দু'টো পঞ্জিকা।
Avatar: !?

Re: হাসিমারার হাটে

ওমা নন্দী চাকর হবে কেন? নন্দী মহারাজ তো ষাঁড়টা। আর ভৃঙ্গী তো ভূত। অন্য ‘সুতো’ গুলি মিল্লেও চাকর দুটি ধুসের কথায় চলবে না।
Avatar: ধুস

Re: হাসিমারার হাটে

এক নন্দী অনুচর অন্য নন্দী বাহন। কে না জানে।
Avatar: র২হ

Re: হাসিমারার হাটে

হ্যাঁ, সুতো তো আছেই, নৌকো থেকে স্পষ্টও, তবে তাতে করে লেখার মজাটা কমছে না।
Avatar: i

Re: হাসিমারার হাটে

পুজাবার্ষিকীর মলাটের মত।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন