Tapas Kumar Das RSS feed

Tapas Kumar Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দ্বিষো জহি

Tapas Kumar Das

বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।

তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - পেঁজা তুলোর মতো মেঘ - সোনা রোদে ধুয়ে যাচ্ছে চরাচর। শুধু আনন্দ টাই নেই। মস্তিষ্কের ভিতরে শিরা ও ধমনীতে মহাকালের অশনি সংকেতের মতো অমোঘ ঢাক গুড়গুড় করে ওঠে যেন প্রলয়ের গর্জন - বোধনের আগেই এবারে বিসর্জন হয়ে গেছে আমার, যেতে পারিনি সেই শহরে। সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদের আদমের মতো বাড়িয়ে দিয়েছি হাত - শুধু ওপক্ষেই সেই আঙ্গুল ধরবার কেউ নেই, আমি এবং শহরের মাঝে হাজার কিলোমিটারের গ্যাপ। আনসারমাউন্টেবল।

ধার্মিক নই। কাঠ নাস্তিক। শাস্ত্রমতে বিবাহ করিনি, মলমাসে বিয়ে। সন্তানের অন্নপ্রাশন হাতেখড়ি কিছুই করিনি, পিতা মাতার পারলৌকিক কার্যও না (যে পাপে আমি আর আমার সমমনস্ক সহোদর এককালে সমাজচ্যুত হয়েছিলাম ভার্চুয়ালি)। তাই মহামায়ার সাথে আমার নাড়ির যোগে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। এ আমার শিকড়ে ফেরার গান শুধু। আনন্দের অভিসার।

ধর্মব্যাবসায়ীকে ঘৃনা করি। দশ কোটি টাকার প্রতিমা বানানোর নির্লজ্জ্তাকেও। আমজনতাকে ঘৃণা করতে পারি কই? পঞ্চমীর রাত্রে বাবা একপাতা টিপ্ নিয়ে ফিরলে ভিখারির মেয়ের মুখে যে হাসি, ষষ্ঠীর দিন ভিড়ের একপাশে কুঁকড়ে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে একটু ফাঁকা পেয়ে টিনের পিস্তল কিনে তাতে ক্যাপ ভরে ঝুলে নেমে যাওয়া প্যান্টুল সামলাতে সামলাতে শিকনি নাকে রিক্সাওয়ালার ছেলের যে হাসিমুখ মন্ডপে দাঁড়িয়ে - এলিট নাস্তিক সাজার উন্নাসিকতায় সেই গভীর অন্তস্পর্শী আনন্দকে অবজ্ঞা করবো - এতবড়ো আস্পর্ধা আমার নেই, সেই বৌদ্ধিক অবনমন ও যেন কখনো না হয়।

ধর্ম নিপীড়িত জনগনের আফিম - বলেছিলেন দাড়িওয়ালা এক মানুষ। শিক্ষার শুরু থেকেই, কৈশোরের শুরু থেকেই যে মানুষকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছি। কিন্তু আফিম উৎপাদকদের ঘৃণা করতে গিয়ে নিপীড়িত জনতাকেই দেগে দিতে হবে অশিক্ষিত ধার্মিক বলে, এমত অমার্জিত ঔদ্ধত্য এমনকি সেই ভদ্রলোকও কখনো দেখাননি বলেই আমার বিশ্বাস। আমি তো চুনোপুঁটি মাত্র। তাই আনন্দে ভরসা হারাইনি। শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আনন্দ, সারা বছরের একঘেয়ে জীবন থেকে কটাদিনের মুক্তির আনন্দ, সম্বত্সরের শোষণ নিপীড়নে জর্জরিত নিরীহ গরিবের এই কটা দিন একটু হাসিমুখে থাকার প্রয়াস, শিকনি নাকে বাচ্ছাগুলোর উজ্জ্বল মুখ নাহোক খুশিতেই শুধু।

আনন্দম! আনন্দম! আনন্দম!

এবং উত্তরণের আনন্দ ও বটে। দুগ্গা ঠাকুর ও অসুর বাবাজির সংঘাতকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ পোষ্টে আজকাল বিভিন্নভাবে বিনির্মাণ করা হয় - প্রগতিবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, নারীবাদ ইত্যাদি প্রভৃতির প্রস্তাবিত আলোকে। (ক্বচিৎ) তাতে (সামান্য) জ্ঞানের দ্যুতি থাকে হয়তো , কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে (বাকি সব দরকচা মারা তত্ত্বালোচনার মতোই) তাতে কি হেলদোল হয় সে ব্যাপারে এই অধম যথেষ্ট সন্দিহান। আমি তাই সরল আনন্দকে জ্ঞানের চাপে পিষে ফেলার চেষ্টা থেকে শতহস্ত দূরে থাকি। আমি অকৃতি অধম।

দূর্গা অসুরের এই দ্বন্ধ কে বহিরঙ্গে বিনির্মাণ না করে অন্তর্জগতের দ্বন্ধ হিসেবে দেখি। সেখানে নিজেই নিজের শত্রুপক্ষ। এই যে রূপ পাল্টে পাল্টে মহিষাসুরের নব নব আক্রমণ, আর এক এক অস্ত্রের ব্যবহারে মহামায়ার তাকে নিধন - এর মধ্যে আমি আমার অন্তর্দ্বন্ধকেই দেখতে পাই। শুভ ও অশুভ এই দুই পক্ষের বাহ্যিক লড়াই নয়, এ আমার ই অন্তরের সীমাবদ্ধতার সাথে আমার নিজেরই লড়াই বরং। উত্তরণের। প্রতিমুহূর্তে আত্মশুদ্ধির যে চেষ্টা, তার সামনে এসে শিং উঁচিয়ে দাঁড়ায় নিজের ই লোভ অসূয়া আত্মম্ভরিতা - প্রানপনে তাকে ঠেকিয়ে রাখি, অতিক্রম করি। আবার নতুন রূপ ধরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, আবার প্রতিরোধে চোয়াল কঠিন করে রুখে দাঁড়াই। এভাবেই নিরন্তর সংগ্রামের আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে নিজেকেই খাঁটি সোনা বানানোর অন্তর্নিহিত প্রয়াস। আমরণ চালু থাকে।

আমিই মহামায়া। মহিষাসুরও আমিই। আত্মরূপেণ সংস্থিতা। বাইরের কেউ নয়।

রূপ চাই না - বহিরঙ্গের নির্মাণ। জয়? কার বিরুদ্ধে? কে প্রতিপক্ষ তাই তো জানি না, হয়তো নিজেই। যশে লোভ নেই , যশপ্রার্থী দের হাঘরেপণা দেখে দেখে ঘৃণা ধরে গেছে। মন্ত্রের শুধু একটা জিনিসই দিও হে মহামায়া আমায় :

দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি!

197 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন