Tapas Kumar Das RSS feed

Tapas Kumar Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...
  • হ্যামলিনের বাঁশিওলা
    হ্যামলিনের বাঁশিওলার গল্পটা জানিস তো? একটা শহরে খুব ইঁদুরের উপদ্রব হয়েছিল। ইঁদুরের জ্বালায় শহরের লোকের ত্রাহি ত্রাহি রব। কিছুতেই ইঁদুর তাড়ান যাচ্ছেনা। এমন সময়ে হ্যামলিন শহর থেকে একজন বাঁশিওলা বাঁশি নিয়ে এল। শহরের মেয়রকে বলল যে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পেলে সে ...
  • প্রেমের জীবন চক্র অথবা প্রেমিক-প্রেমিকার
    "তোমার মিলনে বুঝি গো জীবন, বিরহে মরণ"।প্রেমের চরম স্টেজটা পার করতে গিয়ে এই রকম একটা অনুভূতি আসে। একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচে না। এই স্টেজটা যদি কোনভাবে খারাপের দিকে যায় তখন মানুষের নানা পাগলামি লক্ষ্য করা যায়। কখনো কখনো পাগলামিটা তার গন্ডি ছাড়িয়ে ছাগলামিতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দ্বিষো জহি

Tapas Kumar Das

বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।

তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - পেঁজা তুলোর মতো মেঘ - সোনা রোদে ধুয়ে যাচ্ছে চরাচর। শুধু আনন্দ টাই নেই। মস্তিষ্কের ভিতরে শিরা ও ধমনীতে মহাকালের অশনি সংকেতের মতো অমোঘ ঢাক গুড়গুড় করে ওঠে যেন প্রলয়ের গর্জন - বোধনের আগেই এবারে বিসর্জন হয়ে গেছে আমার, যেতে পারিনি সেই শহরে। সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদের আদমের মতো বাড়িয়ে দিয়েছি হাত - শুধু ওপক্ষেই সেই আঙ্গুল ধরবার কেউ নেই, আমি এবং শহরের মাঝে হাজার কিলোমিটারের গ্যাপ। আনসারমাউন্টেবল।

ধার্মিক নই। কাঠ নাস্তিক। শাস্ত্রমতে বিবাহ করিনি, মলমাসে বিয়ে। সন্তানের অন্নপ্রাশন হাতেখড়ি কিছুই করিনি, পিতা মাতার পারলৌকিক কার্যও না (যে পাপে আমি আর আমার সমমনস্ক সহোদর এককালে সমাজচ্যুত হয়েছিলাম ভার্চুয়ালি)। তাই মহামায়ার সাথে আমার নাড়ির যোগে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। এ আমার শিকড়ে ফেরার গান শুধু। আনন্দের অভিসার।

ধর্মব্যাবসায়ীকে ঘৃনা করি। দশ কোটি টাকার প্রতিমা বানানোর নির্লজ্জ্তাকেও। আমজনতাকে ঘৃণা করতে পারি কই? পঞ্চমীর রাত্রে বাবা একপাতা টিপ্ নিয়ে ফিরলে ভিখারির মেয়ের মুখে যে হাসি, ষষ্ঠীর দিন ভিড়ের একপাশে কুঁকড়ে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে একটু ফাঁকা পেয়ে টিনের পিস্তল কিনে তাতে ক্যাপ ভরে ঝুলে নেমে যাওয়া প্যান্টুল সামলাতে সামলাতে শিকনি নাকে রিক্সাওয়ালার ছেলের যে হাসিমুখ মন্ডপে দাঁড়িয়ে - এলিট নাস্তিক সাজার উন্নাসিকতায় সেই গভীর অন্তস্পর্শী আনন্দকে অবজ্ঞা করবো - এতবড়ো আস্পর্ধা আমার নেই, সেই বৌদ্ধিক অবনমন ও যেন কখনো না হয়।

ধর্ম নিপীড়িত জনগনের আফিম - বলেছিলেন দাড়িওয়ালা এক মানুষ। শিক্ষার শুরু থেকেই, কৈশোরের শুরু থেকেই যে মানুষকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছি। কিন্তু আফিম উৎপাদকদের ঘৃণা করতে গিয়ে নিপীড়িত জনতাকেই দেগে দিতে হবে অশিক্ষিত ধার্মিক বলে, এমত অমার্জিত ঔদ্ধত্য এমনকি সেই ভদ্রলোকও কখনো দেখাননি বলেই আমার বিশ্বাস। আমি তো চুনোপুঁটি মাত্র। তাই আনন্দে ভরসা হারাইনি। শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আনন্দ, সারা বছরের একঘেয়ে জীবন থেকে কটাদিনের মুক্তির আনন্দ, সম্বত্সরের শোষণ নিপীড়নে জর্জরিত নিরীহ গরিবের এই কটা দিন একটু হাসিমুখে থাকার প্রয়াস, শিকনি নাকে বাচ্ছাগুলোর উজ্জ্বল মুখ নাহোক খুশিতেই শুধু।

আনন্দম! আনন্দম! আনন্দম!

এবং উত্তরণের আনন্দ ও বটে। দুগ্গা ঠাকুর ও অসুর বাবাজির সংঘাতকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ পোষ্টে আজকাল বিভিন্নভাবে বিনির্মাণ করা হয় - প্রগতিবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, নারীবাদ ইত্যাদি প্রভৃতির প্রস্তাবিত আলোকে। (ক্বচিৎ) তাতে (সামান্য) জ্ঞানের দ্যুতি থাকে হয়তো , কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে (বাকি সব দরকচা মারা তত্ত্বালোচনার মতোই) তাতে কি হেলদোল হয় সে ব্যাপারে এই অধম যথেষ্ট সন্দিহান। আমি তাই সরল আনন্দকে জ্ঞানের চাপে পিষে ফেলার চেষ্টা থেকে শতহস্ত দূরে থাকি। আমি অকৃতি অধম।

দূর্গা অসুরের এই দ্বন্ধ কে বহিরঙ্গে বিনির্মাণ না করে অন্তর্জগতের দ্বন্ধ হিসেবে দেখি। সেখানে নিজেই নিজের শত্রুপক্ষ। এই যে রূপ পাল্টে পাল্টে মহিষাসুরের নব নব আক্রমণ, আর এক এক অস্ত্রের ব্যবহারে মহামায়ার তাকে নিধন - এর মধ্যে আমি আমার অন্তর্দ্বন্ধকেই দেখতে পাই। শুভ ও অশুভ এই দুই পক্ষের বাহ্যিক লড়াই নয়, এ আমার ই অন্তরের সীমাবদ্ধতার সাথে আমার নিজেরই লড়াই বরং। উত্তরণের। প্রতিমুহূর্তে আত্মশুদ্ধির যে চেষ্টা, তার সামনে এসে শিং উঁচিয়ে দাঁড়ায় নিজের ই লোভ অসূয়া আত্মম্ভরিতা - প্রানপনে তাকে ঠেকিয়ে রাখি, অতিক্রম করি। আবার নতুন রূপ ধরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, আবার প্রতিরোধে চোয়াল কঠিন করে রুখে দাঁড়াই। এভাবেই নিরন্তর সংগ্রামের আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে নিজেকেই খাঁটি সোনা বানানোর অন্তর্নিহিত প্রয়াস। আমরণ চালু থাকে।

আমিই মহামায়া। মহিষাসুরও আমিই। আত্মরূপেণ সংস্থিতা। বাইরের কেউ নয়।

রূপ চাই না - বহিরঙ্গের নির্মাণ। জয়? কার বিরুদ্ধে? কে প্রতিপক্ষ তাই তো জানি না, হয়তো নিজেই। যশে লোভ নেই , যশপ্রার্থী দের হাঘরেপণা দেখে দেখে ঘৃণা ধরে গেছে। মন্ত্রের শুধু একটা জিনিসই দিও হে মহামায়া আমায় :

দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি!

187 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন