Tapas Kumar Das RSS feed

Tapas Kumar Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দ্বিষো জহি

Tapas Kumar Das

বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।

তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - পেঁজা তুলোর মতো মেঘ - সোনা রোদে ধুয়ে যাচ্ছে চরাচর। শুধু আনন্দ টাই নেই। মস্তিষ্কের ভিতরে শিরা ও ধমনীতে মহাকালের অশনি সংকেতের মতো অমোঘ ঢাক গুড়গুড় করে ওঠে যেন প্রলয়ের গর্জন - বোধনের আগেই এবারে বিসর্জন হয়ে গেছে আমার, যেতে পারিনি সেই শহরে। সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদের আদমের মতো বাড়িয়ে দিয়েছি হাত - শুধু ওপক্ষেই সেই আঙ্গুল ধরবার কেউ নেই, আমি এবং শহরের মাঝে হাজার কিলোমিটারের গ্যাপ। আনসারমাউন্টেবল।

ধার্মিক নই। কাঠ নাস্তিক। শাস্ত্রমতে বিবাহ করিনি, মলমাসে বিয়ে। সন্তানের অন্নপ্রাশন হাতেখড়ি কিছুই করিনি, পিতা মাতার পারলৌকিক কার্যও না (যে পাপে আমি আর আমার সমমনস্ক সহোদর এককালে সমাজচ্যুত হয়েছিলাম ভার্চুয়ালি)। তাই মহামায়ার সাথে আমার নাড়ির যোগে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। এ আমার শিকড়ে ফেরার গান শুধু। আনন্দের অভিসার।

ধর্মব্যাবসায়ীকে ঘৃনা করি। দশ কোটি টাকার প্রতিমা বানানোর নির্লজ্জ্তাকেও। আমজনতাকে ঘৃণা করতে পারি কই? পঞ্চমীর রাত্রে বাবা একপাতা টিপ্ নিয়ে ফিরলে ভিখারির মেয়ের মুখে যে হাসি, ষষ্ঠীর দিন ভিড়ের একপাশে কুঁকড়ে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে একটু ফাঁকা পেয়ে টিনের পিস্তল কিনে তাতে ক্যাপ ভরে ঝুলে নেমে যাওয়া প্যান্টুল সামলাতে সামলাতে শিকনি নাকে রিক্সাওয়ালার ছেলের যে হাসিমুখ মন্ডপে দাঁড়িয়ে - এলিট নাস্তিক সাজার উন্নাসিকতায় সেই গভীর অন্তস্পর্শী আনন্দকে অবজ্ঞা করবো - এতবড়ো আস্পর্ধা আমার নেই, সেই বৌদ্ধিক অবনমন ও যেন কখনো না হয়।

ধর্ম নিপীড়িত জনগনের আফিম - বলেছিলেন দাড়িওয়ালা এক মানুষ। শিক্ষার শুরু থেকেই, কৈশোরের শুরু থেকেই যে মানুষকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছি। কিন্তু আফিম উৎপাদকদের ঘৃণা করতে গিয়ে নিপীড়িত জনতাকেই দেগে দিতে হবে অশিক্ষিত ধার্মিক বলে, এমত অমার্জিত ঔদ্ধত্য এমনকি সেই ভদ্রলোকও কখনো দেখাননি বলেই আমার বিশ্বাস। আমি তো চুনোপুঁটি মাত্র। তাই আনন্দে ভরসা হারাইনি। শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আনন্দ, সারা বছরের একঘেয়ে জীবন থেকে কটাদিনের মুক্তির আনন্দ, সম্বত্সরের শোষণ নিপীড়নে জর্জরিত নিরীহ গরিবের এই কটা দিন একটু হাসিমুখে থাকার প্রয়াস, শিকনি নাকে বাচ্ছাগুলোর উজ্জ্বল মুখ নাহোক খুশিতেই শুধু।

আনন্দম! আনন্দম! আনন্দম!

এবং উত্তরণের আনন্দ ও বটে। দুগ্গা ঠাকুর ও অসুর বাবাজির সংঘাতকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ পোষ্টে আজকাল বিভিন্নভাবে বিনির্মাণ করা হয় - প্রগতিবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, নারীবাদ ইত্যাদি প্রভৃতির প্রস্তাবিত আলোকে। (ক্বচিৎ) তাতে (সামান্য) জ্ঞানের দ্যুতি থাকে হয়তো , কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে (বাকি সব দরকচা মারা তত্ত্বালোচনার মতোই) তাতে কি হেলদোল হয় সে ব্যাপারে এই অধম যথেষ্ট সন্দিহান। আমি তাই সরল আনন্দকে জ্ঞানের চাপে পিষে ফেলার চেষ্টা থেকে শতহস্ত দূরে থাকি। আমি অকৃতি অধম।

দূর্গা অসুরের এই দ্বন্ধ কে বহিরঙ্গে বিনির্মাণ না করে অন্তর্জগতের দ্বন্ধ হিসেবে দেখি। সেখানে নিজেই নিজের শত্রুপক্ষ। এই যে রূপ পাল্টে পাল্টে মহিষাসুরের নব নব আক্রমণ, আর এক এক অস্ত্রের ব্যবহারে মহামায়ার তাকে নিধন - এর মধ্যে আমি আমার অন্তর্দ্বন্ধকেই দেখতে পাই। শুভ ও অশুভ এই দুই পক্ষের বাহ্যিক লড়াই নয়, এ আমার ই অন্তরের সীমাবদ্ধতার সাথে আমার নিজেরই লড়াই বরং। উত্তরণের। প্রতিমুহূর্তে আত্মশুদ্ধির যে চেষ্টা, তার সামনে এসে শিং উঁচিয়ে দাঁড়ায় নিজের ই লোভ অসূয়া আত্মম্ভরিতা - প্রানপনে তাকে ঠেকিয়ে রাখি, অতিক্রম করি। আবার নতুন রূপ ধরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, আবার প্রতিরোধে চোয়াল কঠিন করে রুখে দাঁড়াই। এভাবেই নিরন্তর সংগ্রামের আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে নিজেকেই খাঁটি সোনা বানানোর অন্তর্নিহিত প্রয়াস। আমরণ চালু থাকে।

আমিই মহামায়া। মহিষাসুরও আমিই। আত্মরূপেণ সংস্থিতা। বাইরের কেউ নয়।

রূপ চাই না - বহিরঙ্গের নির্মাণ। জয়? কার বিরুদ্ধে? কে প্রতিপক্ষ তাই তো জানি না, হয়তো নিজেই। যশে লোভ নেই , যশপ্রার্থী দের হাঘরেপণা দেখে দেখে ঘৃণা ধরে গেছে। মন্ত্রের শুধু একটা জিনিসই দিও হে মহামায়া আমায় :

দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি!

170 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন