Somnath Roy RSS feed

Somnath Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গান্ধিজির স্বরাজ

Somnath Roy

আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব সব কিছুই ব্রিটিশ শাসনের ফলে এমন এক রূপে আমরা দেখছি যা আগয়ে অভাবনীয় ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি জিনিস নিয়ে বিতর্ক আসতে পারে, যেমন হিন্দু-মুসলমান। কিন্তু, আমি যা সূত্র পাচ্ছি তা আজকের ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশনের বদলে দুটি গোষ্ঠীর আন্তর্সম্পর্ক বই কিছু ছিল না। মাত্রা অনেক কম ছিল। নেতাজি এই প্রসঙ্গে একটা মোক্ষম উক্তি করেছেন তরুণের স্বপ্নতে- হিন্দু মুসলমান বিভেদ যদি অতই তীব্র হত, ব্রিটিশ শাসনের একশ বছরের মধ্যে সারাভারতের যে গণবিদ্রোহ, তাতে অবিসংবাদী নেতা হিসেবে বাহাদুর শাহকে গ্রহণ করা হত না। এছাড়া আজকের যা যা জ্বলন্ত সমস্য, পরিবেশ, প্লাস্টিক, নগরায়ণ ইত্যাদি এসব তো আছেই। প্রাক ব্রিটিশ ভারতে কি সমস্য ছিল না? অবশ্যই ছিল, তবে তার উপদ্রব ও মাত্রা অনেক কম ছিল বলেই মনে হয়েছে, ফলে উপশম সহজতর ছিল- দেশের মাটিতে দীর্ঘস্থায়ী ঘা রেখে যেত না।
ব্রিটিশ শাসন ভারতে গেঁড়ে বসার সঙ্গে তিনটে জিনিস জড়িয়েছিল- ১) কৃষকের থেকে অভূতপূর্ব অত্যাধিক হারে খাজনা নেওয়া, বস্তুত বাঙলার কৃষকের খাজনার টাকার মূল ভাগ সে লণ্ডনে পাঠায়, কিন্তু খাজনা এতই তুলত যে ইংগ মহীশূর, ইঙ্গ মারাঠা প্রভৃতি যুদ্ধ সেই পড়ে থাকা অংশেই চালিয়ে নেওয়া হয়। এমন কী কলকাতা শহর ও 'নবজাগরণের' বিকাশও হয় বাঙলার কৃষকের খাজনাতে, ২) বিশিল্পায়ন- সারাভারত পৃথিবীর মোট পণ্যের ২৫% উৎপাদন করত ১৭৫০-এ। খুব দ্রুত সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, ৩) ভারতের বাজারে নিজের পণ্য বিক্রির গ্যারান্টি নিয়ে শিল্পবিপ্লব করা। জেমস ওয়াট বা উইলকিনসন হাজার হাজার কন্ডেন্সার বানানোর ফান্ডিং পেয়েছিলেন ভারতের বাজার থেকে লভ্যাংশ আসবে এই নিশ্চয়তার উপরেই।
লক্ষ্যণীয়, এই তিনটে পদ্ধতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। ভারতের সমৃদ্ধতম অঞ্চল ছিল বাংলা। ব্রিটিশ শাসন শুরু হয় বাংলা থেকে এবং তার পনের বছরের মধ্যে বাঙলার ১/৩ ভাগ লোক মারা যান।
১৭৫০ এ অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা, সম্ভবতঃ প্রযুক্তিতেও ইউরোপের থেকে ভারত বিশেষ করে বাংলা এগিয়ে ছিল। তাহলে সে ব্রিটিশদের পদানত হল কেন? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটা জিনিসই আমার মনে হয়েছে। দেখবেন প্রায় কোনও যুদ্ধ ব্রিটিশরা সরাসরি জেতে নি এই দেশে। বরং টমাস রো বলেইছিলেন মুঘলবাহিনীকে হারানো কস্মিনকালে সম্ভব নয়। কিন্তু বহুবছর ধরে লেগে থেকে, ভারতের শাসকদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব আবিস্কার করে সেটা কাজে লাগিয়ে এক অক্লান্ত অধ্যবসায়ে ব্রিটিশরা জিতেছে। পর্তুগিজরা তো শুধু কেরালাতে কচুকাটা হওয়া থেকে জিততে একশ বছর নিয়েছে। কিন্তু তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম চেষ্টা করে গেছে ভারত দখল করতে। আমার মনে হয়েছে এইটার কারণ - 'রাষ্ট্র'। রাষ্ট্র নামক ধারণার প্রতি আনুগত্য থাকাই এবং রাষ্ট্রের অনুগ্রহে নিজের উন্নতির ভরসা থাকাই ইউরোপিয়ানদের শক্তি দিয়েছে কলোনিবিস্তার প্রয়াস চালিয়ে যাওয়ার। ভারতবর্ষে রাষ্ট্রের ধারণা অনেক দুর্বল থেকেছে। শাসক এসেছে গিয়েছে, সাম্রাজ্যবিস্তার করেছে এবং সাম্রাজ্যের বর্ধিত অংশের লোকজন সম্রাটকে কর দিয়েছে, এইটুকুই মোটের ওপর রাষ্ট্রের ধারণা ছিল। করের বিনিময়ে কিছু নিরাপত্তা এবং বিপদে আপদে সুবিধে পাবে। এর বাইরে অন্য কোনও মহান আদর্শ রাষ্ট্রকে ভিত্তি করে জনমানসে অধিষ্ঠিত হয়নি বলেই আমার মনে হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে গৃহযুদ্ধ এদেশে হয়নি বললেই চলে। এবং রাষ্ট্র দুর্বল হওয়ার একটা সরাসরি ফল সমাজের শক্তিশালী হওয়া। একথা ঐতিহাসিক সত্য যে আওরাঙজিবের মুক্তির পর যখন বাংলায় মুঘল শাসকের প্রভাব কম, সেই পঞ্চাশবছর বাঙলার অর্থনীতির অভতপূর্ব উন্নতি হয়েছে, এত উন্নতি যে মারাঠা আক্রমণের পরের বছর অবধি আলিবর্দি কর ছাড় দিতে পেরেছিলেন!
রাষ্ট্রব্যবস্থার তিনটে চরিত্র এই প্রসঙ্গে চোখে পড়ছে- ১) কোনও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনসংস্থা থাকা, রাজসভা বা পার্লামেন্ট, শাসন চালানো ছাড়াও যার উপরে আলাদা করে পবিত্রতা আরোপ করা আছে (প্রায় ঈশ্বরের জায়গায়) এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে তার অবাধ প্রবেশাধিকার। যেমন, বর বউ একসঙ্গে থাকবে কী না, দুই ভাইয়ের মধ্যে বাড়ির পাঁচিল কোথা দিয়ে উঠবে- এইসবের ফাইনাল অধিকার রাষ্ট্রের। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদিও শেষ অবধি রাষ্ট্রের দায়ি্ত্ব। ২) রাষ্ট্র এবং পণ্যের বাজারের মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, একে অন্যের প্রশ্রয় ছাড়া চলে না এবং ৩) রাষ্ট্র ও বাজারের ভিত্তি হল সংগঠিত, বৃহৎ কেন্দ্রিভূত শিল্প, যেখানে অনেকে কাজ করবে কিন্তু লভ্যাংশের বণ্টনে বিশাল তারতম্য থাকবে। এবং রাষ্ট্রের লক্ষ্য হবে জনসাধারণকে ক্রমে শুধুমাত্র সেই শিল্পের উৎপাদক ও ক্রেতা করে তোলা।
আমরা স্বাধীনতা পেয়েও এই তিনটি রাষ্ট্রচরিত্রের বাইরে বেরোই নি, অথচ এই রাষ্ট্রধারণা এদেশে একান্তই ব্রিটিশ নির্মাণ। গান্ধিজি ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে পদার্পণের কিছুটা আগে, ১৯০৯ সালে একটি ইস্তেহার লেখেন, যেখানে রাষ্ট্রের এই ধারণাকে পালটে ফেলার কথাই তিনি বলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন শক্তিগুলির মধ্যে সম্ভবতঃ তিনিই অতটা জোর দিয়ে বলেন যে ব্রিটিশকে সরিয়ে ব্রিটিশ ধাঁচের শাসনব্যবস্থাকে কায়েম করা স্বরাজ নয়। কারণ দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে তা বাস্তবে কোনও পরিবর্তনই আনবে না। ফলে স্বরাজ বা স্বাধীনতার লক্ষ্য অন্য হওয়া উচিত। বইটির নাম হিন্দ স্বরাজ।
হিন্দ স্বরাজের এক জায়গায়, প্রশ্নকর্তা তাঁকে জিগেশ করছেন- রাষ্ট্রকে আপনি কী করতে বলবেন? গান্ধিজি উত্তর লিখছেন - রাষ্ট্র কে? অর্থাৎ রাষ্ট্রভিত্তিক রাজনীতির প্রেমিসটিকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি পথ খুঁজছেন। সেরকমই শহরকেন্দ্রিক দেশ, যেখানে গ্রামগুলি শুধুমাত্র শহরের সাপ্লাই-সেক্টর এবং বৃহৎ শিল্প ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা যেখানে কিছু লোকের মুনাফার জন্য বাকিদের অবর্ণনীয় ক্লেশ-বিরোধিতা করেছেন। মূল লড়াইয়ে নামার আগে তার ইস্তেহার লেখা খুব বিরল ঘটনা নয়, সে প্রসঙ্গে আমার 'কী করিতে হইবে'-র কথা মনে পড়ে। লক্ষ্যণীয় যে গান্ধিজি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এই ইস্তেহারকে (অতি সামান্য পরিবর্জন ছাড়া) তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাইন মনে করতেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন রাষ্ট্রের স্থানে ব্যক্তিগত ধর্মকে বসাতে না পারলে, লোভ ও হিংসাকে ধর্ম দিয়ে প্রতিহত না করতে পারলে স্বরাজ বা নিজেই নিজের রাজা হওয়া সম্ভব না, না ব্যক্তির ক্ষেত্রে না সমাজের ক্ষেত্রে এবং সেই স্বরাজের কিছু ধারণা তিনি প্রাক ব্রিটিশ ভারতীয় সমাজে দেখেছিলেন। সভ্যতার ব্রিটিশ ধারণা বর্জন না করলে সেটা পাওয়া সম্ভব নয়। সভ্যতার ব্রিটিশ ধারণা যাকে বলছি তার মধ্যে উপ্ত ছিল একধরণের চিন্তা যাকে আমরা ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তার সমান্তরাল হিসেবে দেখতে পারি, কিছু লোক উন্নত চিন্তাভাবনা করে সমাজকে এগোবে আর কিছু লোককে তাদের সাপোর্টে কায়িক শ্রম, কম উদ্ভাবনী কাজ করতে হবে এবং কম স্বাচ্ছন্দ্য পেতে হবে। সাম্রাজ্যবাদী উদ্যোগের সময়ে এই কিছু লোকের জায়গায় কিছু জাতি বা জনগোষ্ঠী এসেছে, উৎকর্ষর সূত্রেই কাউকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দিতে হবে এই ধারণা এসেছে। যদিও এই অভ্যেসকে ভাঙার চেষ্টা হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন অ্যানার্কিস্ট ও কমিউনিস্ট আন্দোলনে, কিন্তু মোটের ওপর উৎকর্ষ এবং শ্রমের বিচ্ছিন্নতাই থেকেছে। গান্ধিজি সেই সূত্রকে ভাঙতে চেয়েছেন (আম্বেদকর আর গান্ধি বিতর্কেও এই আভাস পাওয়া যায়), ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাসবোধ থেকে তিনি দেখেছেন উৎকর্ষ আর শ্রম পৃথক নয়, সমাজের উন্নতির সূত্রে স্তরবিভেদ দরকার এরকম তো নয়ই। বরং উৎকর্ষ তাদের মধ্য থেকেই এসেছে যারা জীবনচর্যার অংশ হিসেবেই সেটাকে বজায় রেখেছেন এবং আর্ট ও সঙ্গীতের মতন বিমূর্ত বিষয়েও তা সত্যি। (আমি অবাক হয়ে গেছিলাম যখন দেখেছিলাম পূর্ববঙ্গের মাঝিদের কাছ থেকে ঈশ্বরগুপ্ত রামপ্রসাদের পদ উদ্ধার করছেন। বাকিরা ভুলে গেলেও মাঝিরা নৌকো চালানোর গান হিসেবে তা ধরে রেখেছিল।)
চিত্তরঞ্জন গান্ধিজিকে 'এযুগের ঋষি' বলেছিলেন। বহু মহাপ্রাণই তাঁর সান্নিধ্যে এসে তাঁকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, নিজের মেকলে-নির্দেশিত শিক্ষার জড়তা ভেঙে। আবার সকলের কাছে তিনি গৃহীত হন নি। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে এক বিশাল বিতর্ক আছে তাঁর, যার মধ্যে দুই মুক্তচিন্তার নিজস্ব ডায়নামিক্স দেখা যায়, তেমনি আম্বদেকরের সঙ্গেও আছে। ১৯৪৫এ স্বাধীনতা সমাগত বিধায় তিনি নেহরুকে হিন্দ স্বরাজ পুনর্পাঠ করতে বলেন। নেহরু বৃহৎ শিল্প বিহীন, দুর্বল রাষ্ট্রভিত্তিক নীতিকে পশ্চাদপদ বলে তাকে এক কথায় বাতিল করেন। গান্ধিজি নিজেও বারবার বলেছেন কংগ্রেস তাঁর রাজনীতি গ্রহণ করেন নি। পরিহাসের ব্যাপার যে তিনি কংগ্রেসের একচ্ছত্র নেতা ছিলেন অথচ তাঁর সংগঠন তাঁর পথে চলে নি। কখনও তিনি সেজন্য কংগ্রেসকে বিরত করার চেষ্টা করেছেন, কখনও নিজে দূরে সরে গিয়ে নিজের পথে সত্যাগ্রহ করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে কংগ্রেস এবং কংগ্রেসচালিত সরকারের নীতিবৈকল্যের প্রতিবাদে তিনি স্বাধীনতার পর ৭৮ বছর বয়সে এক সপ্তাহের অনশন অবধি করেন।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রতিপত্তির মূল ভিত্তি ছিলেন গান্ধিজি, কিন্তু গান্ধিজি নিজের নীতিতে কংগ্রেসকে চালিত করতে পারেন নি। এর একটা বড় কারণ তিনি নিজেই লিখেছেন যে সংগঠনের ওপর জোর করে নীতি চাপিয়ে দেওয়া তাঁর রাজনীতি ছিল না। লক্ষ্যণীয়, গান্ধিজি তিনজন শিক্ষকের কথা বিভিন্ন জায়গায় লিখেছেন, তলস্তয়, রাস্কিন এবং কবি রাজচন্দ্র বা রায়চাঁদভাই। এরমধ্যে গুজরাটের জৈনসাধক কবি রাজচন্দ্রকেই একমাত্র তিনি সরাসরি পেয়েছেন। জৈনধর্মের মূল দুটি শিক্ষা অহিংসা এবং অনেকান্তবাদ (অনেক মতকে সম্মান দেওয়া স্বীকার করা) রাজচন্দ্রের থেকেই সম্ভবতঃ গান্ধিজি শিক্ষা করেছিলেন, তিনি লিখেছেন যে এই নীতিগুলি থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হন নি। তার ফলেই দেশের একচ্ছত্র গণনেতা হয়েও স্বাধীন দেশে তাঁর নীতি গৃহীত হয় নি।
অথচ, আমরা যদি দেখি গান্ধিজি এই জনপ্রিয়তার শিখরে উঠলেন কীভাবে? দেখব যে তিনি শ্রমিক কৃষকের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকেছেন, তাঁদের কাছে তাঁর নিজের রাজনীতি নিয়ে গেছেন যা আসলে সেই শ্রমিক কৃষকের নিজের চিন্তাভাবনার থেকে আলাদা নয়। গান্ধিজি বরাবরই লিখেছেন যে তিনি তাঁর চিন্তাভাবনার বেশির ভাগটা পেয়েছেন লোকসমাজ থেকে। আপনারা যদি হিন্দস্বরাজ পড়েন দেখবেন কত সহজে সেই বৈপ্লবিক তত্ত্ব তিনি রেখেছেন, যার সবটা সম্ভবতঃ প্রাথমিক শিক্ষাটুকু থাকলেই একজন বুঝে যেতে পারে। ফলে জনসাধারণ গান্ধিজির মধ্যে তাই পেয়েছে যা আসলে তাদের নিজেদের অর্জিত বিশ্বাসই। আমরা পদার্থবিদ্যায় দেখি, বস্তুর স্বাভাবিক ফ্রিকোয়েন্সি আর বাইরে থেকে দেওয়া বলের ফ্রিকোয়েন্সি মিলে গেলে রেজোনেন্স হয়। কাব্যের ভাষায় গান্ধিজি গণ-আন্দোলনে গেলে সেই রেজোনেন্স হয়েছে। বিহার বাংলা থেকে গুজরাট যেখানে তিনি নেমেছেন সেখানেই মানুষ এক পরিসীম শক্তি পেয়েছে নিজের স্বরাজ নিজে খোঁজার। সাধারণ মানুষ সহজে এই শক্তি পায় না, কিন্তু পেয়ে গেলে তারা অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। গান্ধিজির লড়াইয়ের ইস্যুগুলোও থেকেছে উৎপাদকের নিজের ইস্যু, তাঁর সবচেয়ে বড় স্কেলে লড়াই হয়ত লবণ আন্দোলন- যেটা স্বাধীনতা আন্দোলনের বাকি দাবিদাওয়ার একদমই বাইরের কিছু। আর, সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় অস্মিতা তার উৎপাদক স্বত্ত্বা, নন-এলিয়েনেটেড স্বাধীন উৎপাদক স্বত্তা। সেইটা বুঝতেন বলেই তিনি কংগ্রেসের প্রতীক করে ফেলেন চরকাকে- সেই চরকা যা প্রত্যেক ব্যক্তিকে উৎপাদকের মর্যাদা দেয়।
নেতাজির লেখা খুব বেশি নেই, কিন্তু যেটুকু পড়েছি, নেতাজির ইতিহাসবোধ তারিফ করার মতন লেগেছে। গান্ধিজি নিয়ে নেতাজির দুটো উক্তি স্মর্তব্য। এক, তিনি গান্ধিজিকে জাতির জনক বলেন, বস্তুতই কৃষক উৎপাদকের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সারাভারত জুড়ে এক জাতিস্বত্ত্বার উন্মেষ ঘটে। আমরা ক্রিকেট মাঠে ইন্ডিয়া বলে শিহরিত হই আজকে, সারা জাতি রাতে প্রহর গণি চন্দ্রায়ণ সফল হবার, ব্রিটিশ শাসনের শুরুর পর্বে সেই জাতিস্বত্ত্বা কোথায় ছিল? বরং প্রথম দিকের জাতীয়তাবাদি গানও বাংলা নিয়ে, ভারত নিয়ে নয়। দুই নম্বর, নেতাজি যখন গান্ধিজির বিরোধিতায় কংগ্রেস ছাড়ছেন, তখন তিনি বলেন বাকি সদস্যদের সমর্থন নিয়ে কী হবে যদি না তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষটির সমর্থন পান। গান্ধিজির ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে আজকাল অনেকে অনেক কিছু লিখে যেতে পারে, কিন্তু সমসময়ে ব্যক্তি গান্ধিজি প্রায় ঈশ্বরের মতন উজ্জ্বল ছিলেন, নেতাজি থেকে জিন্না, সহজানন্দ থেকে যোশি কেউ সে নিয়ে দ্বিমত রাখেন নি, ব্রিটিশদের কথাও ধরা যায়। এই চরিত্রবল তাঁর নীতির থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, এমনই তিনি বারবার লিখেছেন। আমার জীবনই আমার শিক্ষা- এই তিনি বলে যেতেন।
অর্থাৎ গান্ধিজির ব্যক্তি এবং সংগঠক হিসেবে জনপ্রিয়তা তাঁর রাজনীতি-সমাজচিন্তার বাইরে নয়। গান্ধিজির সংগঠন দাঁড়ানোর কারণ তাঁর রাজনীতি লোকসমাজে সমাদৃত। যদিও দেশের নেতারা সেই রাজনীতি গ্রহণ করেন নি। হয়ত এই দ্বন্দ্বের ফলেই পূর্ণ স্বরাজের ডাক দিতে তাঁকে বারবার বিমুখ দেখি। লোকসমাকের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয় নি, এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্বরাজ তাঁর কাছে অনভিপ্রেতই মনে হত। এবং হয়ত স্বরাজের পক্ষে তা ক্ষতিকর তাইই তিনি মনে করতেন।
আমরা দেখলামও, এমন স্বাধীনতা আমরা পেলাম যা বস্তুত ব্রিটিশ রাজত্বের এক কপি-পেস্টই। বৃহৎ শিল্পের হাত থেকে উৎপাদকের মুক্তি হয় নি, রাষ্ট্রের হাত থেকে সমাজ ও মুক্তি পায়নি। এবং এই দুটো জিনিস আরও বেশি করে চেপে বসছে পরিবেশের উপর। গান্ধিজিকে দেশের এক প্রতীক হিসেবে রাখা হয়, তাঁর মূল শিক্ষাগুলির থেকে দূরে সরিয়ে যা আসলে আমাদের অনেক অনেক সমস্যার সত্যিকারের সমাধানের কথা বলে।
আর সেই শিক্ষা অনুযায়ী, গান্ধিভাবনার স্বরাজের পথে হাঁটতে এখনও বহু গণ-আন্দোলনের পথ বাকি!




521 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: r2h

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

এটা ভালো লাগলো, লোকজনের মতামত নিয়ে আলোচনা গড়ালে ভালো হয়।
এলেবেলের লেখাও পড়লাম।
Avatar: Question

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

জনবিস্ফোরনে ব্রিটিশদের দায় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।
Avatar: Somnath Roy

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

দেখুন, এই লেখার শুরুতেই আমি লিখেছি, যে এটা আমার নিজের উপলব্ধি- সমস্তটা ডকুমেন্টেড পাব্লিকেশন দিয়ে সাপোর্ট দিতে পারব না। তবে ভারতের জনসংখ্যার হেরফের-এর সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে সেটা ইতিহাসবিদরা দেখেছেন। প্রথম দিকে যখন মনন্তর আক্রান্ত দেশ, তখন ব্রিটিশরাও জনসংখ্যা বাড়াকে সুশাসন হিসেবে দেখত। কিন্তু, জনসংখ্যা সমস্যা হয়ে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে। সেই প্রসঙ্গে একটা পেপারের লিঙ্ক দিলাম, পড়ে দেখুন- https://drive.google.com/open?id=1_DGlPpaGwSYMyZVPJo-SiWEuMbHReVy5

পরে বিশদে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আমার ধারণা, মন্বন্তর, জীবনের অনিশ্চ্যতা বাড়া, বিশিল্পায়ন হয়ে কৃষিতে ফিরে যাওয়া এবং গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়া জনস্ফীতির জন্যে দায়ী।
Avatar: Amit

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

ভারতের হিন্দু সমাজের জাত পাত, বর্ণভেদ, ছোয়া ছুয়ি র চূড়ান্ত নোংরামি এসব ও কি ব্রিটিশ দের দান ? কেও আওয়াজ ওঠালেই, দলিত কেও মন্দিরে ছুঁয়ে দিলে তাকে এক ঘরে করে দেওয়া, দলিত কেও আওয়াজ ওঠালে তাদের ছেলেদের মেরে ফেলা , মেয়েদের রেপ করে দেওয়া এসব ও ব্রিটিশ দের দান ?

হ্যা, তথাকথিত শান্তি হয়তো গ্রামে ছিল, শ্মশানে যেমন থাকে। এসব তো কয়েক হাজার বছর ধরে দিব্যি চলেছে। ব্রিটিশ রা এসবের মূলোচ্ছেদ করতে পারেনি সেতো দেখাই যাচ্ছে এখনো রোজ।
Avatar: Somnath Roy

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

জাতিভেদ ভারতীয় সমাজের একাংশে তো ছিলই। কিন্তু অস্পৃশ্যতা, বর্ণহিংসা ইত্যাদির স্কেল ব্রিটিশ শাসনে অনেক গুণ ম্যাগনিফাই হয়েছে। দলিতরা রাজকার্য ইত্যাদি বিভিন্ন কিছুতেই ছিল, ফাটিয়ে ব্যবসা করত, জায়গির পেত ইত্যাদি। অ্যাডামস রিপোর্ট নেটে পাওয়া যায়, শূদ্রদের মধ্যে সাক্ষরতা এবং শিক্ষার হার উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেও কীরকম ছিল দেখে নিতে পারেন। ব্রিটিশ শাসনে নিচুজাতির মধ্যে দারিদ্র বাড়ে। জমিহারা হতে হয় অনেককে এবং বিশিল্পায়ন হয়। খেয়াল করে দেখবেন সিপাহি বিদ্রোহের আগে যতগুলো ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ, তা মুসলিম এবং শূদ্র-শূদ্রেতরদেরই করা।
আর, ঐ শ্মশানের শান্তি ইত্যাদি যা বলছেন সেসব কল্প-ইতিহাস। ঐ সময় নিয়ে যাঁরা লিখেছেন তাঁদের বই পড়ুন। অ্যাডামস সমীক্ষা আগে বললাম, এছাড়া চটজলদি মনে পড়ছে ধরমপালজির বিউটিফুল ট্রি, সুশীল চৌধুরীর বাঙলার বাণিজ্য নিয়ে বই ইত্যাদি। হাল আমলে বিশেন্দু নন্দ পলাশীপূর্ব বাংলা নিয়ে দুটো বই বের করেছেন, দেখতে পারেন। সুপ্রকাশ রায়ের বাঙলার কৃষক বিদ্রোহ বইতেও কিছু আভাস পাবেন।


Avatar: Amit

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

"অস্পৃশ্যতা, বর্ণহিংসা ইত্যাদির স্কেল ব্রিটিশ শাসনে অনেক গুণ ম্যাগনিফাই হয়েছে"- - এর তথ্যসূত্র কি ? "দলিতরা রাজকার্য ইত্যাদি বিভিন্ন কিছুতেই ছিল, ফাটিয়ে ব্যবসা করত, জায়গির পেত "- এরই বা তথ্যসূত্র কি ? সেসব কি ভ্যালিডেটেড নাকি হোয়াটস্যাপ ?

বাস্তবে সমাজের অন্তজ যারা, ময়লা পরিষ্কার থেকে মরা জ্বালানো যারা করতো , তাদের পেশা কি আদৌ কিছু সম্মানজনক ছিল না আছে ? অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগ ছিল তাদের - ? নাকি এখনো আছে ? জোর করে তো বংশানুক্রমে তাদেরকে জোর করে সেই পেশা তেই ফেলে রাখা হয়।

শশী থারুর এর ইনগ্লোরিয়াস এম্পায়ার এ বিশিল্পায়ন এবং জমির ওপর চাপ বাড়াকে হাইলাইট করা হয়েছে, সেসব সত্যি কথা। কিন্তু সেখানেও একটা কথা বলা হয়েছে - জাহাজ বানানোতে বাংলার আর্টিসান দের দক্ষতা ছিল ঠিক ই, কিন্তু বানানোর খরচ কম হতো বা ব্যবসা লাভজনক হতো মূলত কম মজুরির জন্যেই। সেকারণে বহু ব্রিটিশ মার্চেন্ট বাংলাতে তাদের জাহাজ বানানো শুরু করেছিলেন, সেটাকে ঠেকাতে ব্রিটেন এ আইন করা হয় যাতে ওখানে শ্রমিক দের চাকরি বাঁচানো যায়। তো আজকের দিনেও তো অমিত শাহ একই কথা বলেন, বাংলাদেশী রা এসে সস্তায় কাজ করে এখানকার লোকের চাকরি খেয়ে নিলো। তফাৎ কোথায় ?

তাহলে ইটা বোঝা গেলো বাংলায় জাহাজ বানানোর ইন্ডাস্ট্রি তেওঁ সেই যুগেও কারিগর দের মজুরি ইউরোপের তুলনায় কমই দেওয়া হতো। ব্যবসার লাভ মালিকরাই পেতো যারা বেশির ভাগ ই উঁচু জাতের স্বাভাবিক ভাবেই। সেটাকে কি খুব ভালো ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেট উপ বলা যায় ? ইন্ডিয়া গ্লোবালি ২৫-% জিনিস উৎপাদন করতো তো শ্রমিক দের মজুরি বাড়লো না কেন ?

নিজেরদের ময়লা অন্যের ঘাড়ে ফেলে কি লাভ হয় জানি না। ইতিহাস তো পাল্টানো যাবে না, কিন্তু এখনো তো অবস্থা কিছু পাল্টাতে দেখি না, সেই একই ট্রেডিশন চলছে, ম্যানহোল সাফ করতে গিয়ে লোক মরছে প্রতিদিন। ব্রিটিশ দের গালাগাল দিয়ে কি সেসব বন্ধ হবে ? ৭০ বছর তো কেটে গেলো।
Avatar: এলেবেলে

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

হিন্দ স্বরাজ প্রথমে গুজরাটিতে লেখা হচ্ছে ১৯০৯ সালে যা পরের বছর ইংরেজিতে অনুবাদ হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। তখনও অবধি গান্ধী ঘোষিত ভাবে ইংরেজপ্রেমী এবং প্রচণ্ড রকমের বর্ণবিদ্বেষী। তো ইতিহাসে এমন কোন রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছিল যে হঠাৎ তিনি এত দিশি হয়ে উঠলেন? যাঁর সারাজীবন ঘিরে থাকল কতগুলো আইনজীবী তিনি কোন আক্কেলে বলেন Railways, lawyers and doctors have impoverished the country so much so that, if we do not wake up in time, we shall be ruined? যাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে আজীবন বাজাজ-টাটা-বিড়লা-সারাভাই, তিনি যদি বলেন We cannot condemn mill-owners; we can but pity them. It would be too much to expect them to give up their mills, but we may implore them not to increase them. If they would be good they would gradually contract their business তবে তাঁর ওই ছাতার দর্শন কি লোকে জল দিয়ে ধুয়ে খাবে? পুরোটাই তো প্ল্যানমাফিক লেখা। অথচ গোটা লেখাটাতে সেই ইতিহাসটাই অনুল্লেখিত।
Avatar: সোমনাথ

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

অমিত, পাগল! হোয়্যাতে বাবর, নেহেরু, জ্যোতি, মমতা নিয়ে তথ্য আসে, ব্রি্টিশ নিয়ে আসে না। কিছু সূত্র তো দিয়েছি, বাকি সব বিবিধ জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিশেষতঃ নবাব সুলতানদের কর্মচারীদের সম্বন্ধে পড়তে গেলে দেখবেন নিচুজাতের কত নাম পাচ্ছেন। রায় রামানন্দ বা শিবাজির বাবার প্রশাসনিক কাজ পেতে জাতে আটকায় নি তো। আমার দলিত শব্দটা লেখা ঠিক হয় নি, দলিত বলে কোনও বর্গ তখন দেশে ছিল কী না সন্দেহ। শূদ্র, অন্ত্যজ জাতি ইত্যাদি ছিল- তাদের উপরে দলন ব্রিটিশ আমলে বাড়ে, তার একটা সূচক হয়তো হতে পারে রাজকার্যে এইসকল জাতির পার্টিসিপেশন কীভাবে কমে আসে দেখা।
দুই - জাহাজ ব্যবসা নিয়ে ডিটেলে জানিনা, পরে পড়ব। কিন্তু সারা ইউরোপকে বাংলা কাপড় পড়ায় বলা হত। কত কোটিগজ কাপড় নাকি বাংলা থেকে ইউরোপে যেত, আর এই উৎপাদন হত ছোট ছোট প্রায় ঘর ভিত্তিক ইউনিটে। ব্যবসা যত বেড়েছে উৎপাদনের ইউনিট তত বেড়েছে, বড় কারখানার বদলে এই মডেলটা দেশে ফলো হত। ফলে উৎপাদক নিজেই মালিক, এইরকম একটা অবস্থা ছিল। আর হ্যাঁ,বয়ন শিল্পে নিচু ্জাতি,নিচু জাতি থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম প্রচুর ছিল (সুশীল ৌধুরী)।

আমার মনে হয় না এরকম আমি বলেছি যে জাতি বা শ্রেণীর সমস্যা ছিল না, কিন্তু ব্রিটিশ আমলে ্লুণ্ঠন ও সম্পদের কেন্দ্রিভবনে তা অনেকগুণ বেড়ে যায়, যা আজও কমেনি কারণ আমরা ব্রিটিশ রাষ্ট্রব্যবস্থাতেই আটকে রয়েছি।

সত্তর বছরে আমরা ব্রিটিশ বা ইউরো্পকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বেরোতে পেরেছি বলে ্কি আপনার মনে হয়?


ও হ্যাঁ, ম্যানহোল একটা ভালো উদাহরণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণের আগে ম্যানহোলের দরকার হত কি? আমি জানিনা, আশা করি ভারতে স্যানিটেশনের ইতিহাস নিয়ে আরও চমকপ্রদ না পড়া ইতিহাস অপেক্ষা করে আছে।

Avatar: সোমনাথ

Re: গান্ধিজির স্বরাজ

এলেবেলে, আপনাকে আমি আরেকটা লাইন দিচ্ছি, দেখুন এইভাবে ভাবা যায় না্কি! ধরে নিন গান্ধিজি একজন হাড় হারামজাদা, গান্ধিজির সব ছবি টবি পুড়িয়ে ফেলা উচিত (সে অবশ্য মন্দ আইডিয়া নয়, মোদি কিছুটা করেইছিল :P)। কিন্তু, ধরে নেওয়া যাক, গান্ধিজি একজন বিরাট মাস-পুলার। ভারতের স্বাধীন হবার আন্দোলনে গণ-অংশগ্রহণের অনেকটাই গান্ধির নামে হয়েছিল। ধরে নেওয়া যাক, এটা আংশিক সত্যিও যে সাম্রাজ্যবাদ এবং ্বঞ্চনার বিরুদ্ধে অতবড় গণ বিক্ষোভ কমই হয়েছে।

গান্ধিজির নামে সেইগুলো কেন হয়েছিল, একটু ভাবুন। কনস্পিরেসি থিওরি একটা দরকারি জিনিস। অদ্যবধি ৃথিবীতে একজনও অ্যাক্টিভিস্ট আসেন নি, যাঁর নামে আবু জাহেলরা সেসব ছড়ায় নি। তার বাইরে কিছু খোঁজ পাচ্ছেন কি?



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন