ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

ন্যাড়া

ফার্স্ট ইয়ারে ফাইলের ওপরে লিখেছিলাম "ইউনিভার্সিটি অফ যাদবপুর"। এদিকে প্রতিবাদী বামপন্থী। কিন্তু বিক্ষুব্ধ। মানে কোন দলে নেই। ইন্ডিপেন্ডেন্ট। কী করে যেন তালেগোলে আমি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ মানে সিআর ক্যান্ডিডেট হয়ে গেলাম। কাগজের ভাষায় ডিএসএফ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দী এসএফয়াই-এর হয়ে দাঁড়ান আশিস দাস। অসম্ভব ম্যাড়ুম্যাড়ে ব্যাপার-স্যাপার। আমি আর আশিস গাছতলায় বসে কাউন্টার করে সিগারেট খাচ্ছিলাম আর জীবনের সুখ-দুঃখের গল্প করছিলাম। মেন বিল্ডিং-এ ব্যালট গোনা হচ্ছে। আমরা দুজনে গেলাম। অরবিন্দ ভবনের একতলার জানলাগুলো দোতলায়। অ্যায়সা উঁচুতে। আশিস আমার হাতে ব্যাগ দিয়ে প্রায় পাইপ বেয়ে ওঠার মতন জানলা উঠে কার সঙ্গে কথা বলে চেঁচিয়ে বলল, "কাকা, তুমি জিতেছ। ফিল্টার উইলস খাওয়াও।" আমি মনে মনে চাইছিলাম আশিস জিতুক। ওরই জেতার কথা। ক্লাসের সবথেকে পপুলার ছেলে। মজার কথা বলে একেবারে মাতিয়ে রাখে। সবাইকার সঙ্গে বন্ধুত্ব। নেহাত যাদবপুরের সংগ্রামী চরিত্রে খাপ খায় না বলে এসএফআই হেরে গেল বলে আশিস হেরে গেল।

এই বিপ্লবী পটভূমিকায় আমেরিকা আসা যে একেবারেই অসম্ভব সে তো বোঝাই যাচ্ছে। যাদবপুরে তো খড়প্পুর-টুরের মতন অ্যামেরিকা যাবার কালচার ছিল না। যারা যেত তাদের উদ্যোগ বেশি নিতে হত। ফাইনাল ইয়ারে দেখছি ক্লাসে চার-পাঁচজন বন্ধু অ্যাব্লুশান আর টটোলজির মানে নিয়ে ধস্তাধস্তি করে যাচ্ছে। আমি বিন্দাস। একটা চাকরি কী আর পেয়ে যাব না? আমি প্র্যাকটিসিং ইঞ্জিনিয়ার হব। শপফ্লোরে কাজ করব।

তো চাকরি তো পেলাম। শপফ্লোরেই। টাটার একটা কোম্পানি। সে আমলে ভাল মাইনে। ৪২০০ টাকা। তার মধ্যে ৮০০ টাকা ক্যাশে, মানে ব্ল্যাক। সঙ্গে লাগোয়া রেসিডেনশিয়াল কলোনিতে থাকার বাংলো। ফ্যাক্টরির ধারেকাছে কিসু নেই। সময় কাটান মানে ক্লাবে গিয়ে পিংপং খেলা, গরমকালে সাঁতার কাটা আর মাল খাওয়া। একটা নামকোবাস্তে লাইব্রেরি ছিল। সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিতাম এসিতে বসব বলে। তবে লাইব্রেরির থেকে বারের এসি ভাল কাজ করত। রোববার সিনেমা দেখান হত। মানে স্বাধীন ভারতের উঠতি ও বাদামী বক্সওয়ালা হবার সমস্ত আয়োজন কমপ্লিট। আমাদের মতন ছেলেছোগরাদের আরেকটা এন্টারমেন্ট ছিল হাইওয়ে ধরে এক-দেড় মাইল দূরে আটোয়ালের ধাবায় গিয়ে রুটি-তড়কা খাওয়া, মাঝে মাঝে মাজা ম্যাঙ্গোর সঙ্গে বাংলা। সে এক কেলোর কীর্তি অবস্থা। আর একটু হলেই কবিতা লেখা শুরু করতাম।

চাকরিটা গ্লোরিফায়েড শ্রমিক-কাম-ঠিকাদারের। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর নাম গন্ধ নেই। বুদ্ধিশুদ্ধি থাকলে ক্লাস এইট পাস করলেই চলে। একদিন নাইট শিফটে একটা মেজর মেশিন বিগড়ে গেল। আমি নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং বুদ্ধি লাগিয়ে অন্য মেশিনের পার্টস খুলে এই মেশিনে লাগিয়ে প্রোডাকশন কোটা পূর্ণ করলাম। সেই একবারই ইঞ্জিনিয়ারিং লাগাতে পেরেছিলাম। সেই একবারই বসের ব্যাপক ঝাড় খেলাম। কেন ওনাকে ডেকে পরামর্শ নিইনি। কেন অন্য মেশিন থেকে পার্টস নিলাম। ওই মেশিনটাকে তো আবার ঠিক করতে হবে - এইসব। পরে ভেবে দেখলাম আসলে ওনার আক্ষেপ অন্য জায়গায়। উনি পনেরো বছর এই ফ্লোরে কাজ করে কোনদিন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চান্স পেলেনে না, আর আমি ছোকরা ঢুকে ছমাসের মধ্যে একটা চান্স পেয়ে গেলাম! এরকম করে মাস নয়েক কাটাবার পরে দেখলাম এ চাকরি করে কিস্যু হবে না। এর থেকে ভাল অ্যামেরিকা যাওয়া। চাকরি ছেড়ে হোটেল-ডি-পাপায় মুখস্ত কর অ্যাব্লুশান আর টটোলজি।

বুর্জোয়া টাটা-বিড়লারা মানুষের বিপ্লবী উদ্যত মুষ্ঠিকে কীভাবে খুন করে প্রতিক্রিয়াশীল সাম্রাজ্যবাদী কালো হাত বানিয়ে দেয় তা নিয়ে কোন স্টাডি হলে খবর দেবেন। লাইনের একেবারে সামনে আমার জায়গা।

* * * * *

কথায় বলে ন্যাংটার নেই বাটপাড়ের ভয়। কাউন্টারের উল্টোদিকে একজন ছোকরা সাহেব। তার হাতে আমার আই-টোয়েন্টি ফর্ম। পাসপোর্ট। আমাকে বাজিয়ে নিচ্ছে। কেন যাচ্ছ? রাটগার্স ইউনিভার্সিটিই কেন? এই স্পন্সরশিপ লেটার যাঁর, তিনি কে? কেন তিনি তোমাকে স্পন্সর করছেন? এসব প্রশ্নই আসছে ইয়াংকি উচ্চারণে। আমি জবাব দিচ্ছি আমার অ্যাঁ-অ্যাঁ করা ইংরিজিতে। স্থানঃ অ্যামেরিকান কন্সুলেট। কালঃ ১৯৯৩ সালের অগাস্ট মাস। স্টুডেন্ট ভিসার জন্যে দরখাস্ত করেছি। ইউনির্ভাসিটিতে ওরিয়েন্টেশন শুরু অগাস্টের শেষে। শিরে সংক্রান্তি। কিন্তু আগে আসার উপায় ছিলনা। এর আগে একজন মহিলা ভিসা অফিসার ছিলেন। তিনি ধরে প্রায় সবাইকে নাকচ করে দিচ্ছিলেন। খবর পাওয়া গেল তিনি বদলি হয়ে যাচ্ছেন। আসছেন নতুন ভিসা অফিসার। আমরা ভিসাপ্রার্থীরা ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। তখনও দিনকাল ভাল ছিল। অ্যাপয়েন্টমেন্টের গল্প ছিলনা। খবর পেলাম পুরনো ভিসা অফিসার বদলি হয়েছে। সেই শুনে এক সকালে হো চি মিন সরণীতে লাইনে দাঁড়ালাম।

ভিসা অফিসার বললেন দু নম্বর জানলায় গিয়ে টাকা জমা দাও। মানে ইন্টারভিউয়ে পাশ করে গেছি। ভিসা হয়ে গেল। এ জিনিস মাথায় গ্রাহ্য হতে সময় লেগেছিল। সে যাক। বিকেলে চারটের সময় বাইরের জানলা থেকে রসিদ দেখিয়ে ভিসার কাগজ লাগান পাসপোর্ট নিলাম। কী চমৎকার রঙীন ছাপা কাগজে ভিসা। দেখলেও চোখ জুড়িয়ে যায়।

হাতে ঠিক এক সপ্তাহ। এর মধ্যে সব করে ফেলতে হবে। করার মধ্যে বেশি কিছু নেই। টিকিট কাটতে হবে, আপিসে রিজাইন করতে হবে আর সঙ্গে নেবার জন্যে টুকটাক জিনিস কিনতে হবে। টিকিট কাটার ব্যাপারে আমার এক সঙ্গী আছে। বুবাইয়েরও ভিসা হয়ে গেছে। বুবাই যাবে ডেনভার, কালোরাডো। তবে ওর ক্লাস শুরু কদিন পরে।

ট্র্যাভেল এজেন্টের খোঁজ করতে শুরু করলাম। দাদা তখন সফটওয়্যার কোম্পানি চলায়। বার কয়েক অ্যামেরিকা ঘুরে এসেছে। দাদাদের কোম্পানির ট্র্যাভেল এজেন্টের অফিসে গেলাম প্রথমে।প্রচন্ড কায়দার এক মহিলা আমাদের বসালেন এবং পাত্তা দিলেন না। মানে বসিয়েই রাখলেন। ফোন সারলেন। কলীগদের সঙ্গে খেজুর করলেন। তারপরে ইংরিজিতে বললেন, "হ্যাঁ, বলুন কী ব্যাপার।" ব্যাপার বললাম। সব কথোপকথনই ইংরিজিতে। তাঁর ট্যাঁশ। আমার টুটাফুটা। আমি প্রথমে যাব আমার কাকা-পিসিদের কাছে। নিউ জার্সির দক্ষিণে। তাদের সবথেকে কাছের এয়ারপোর্ট ফিলাডেলফিয়ায়। যদিও ফিলাডেলফিয়া শহরের অবস্থিতি পাশে রাজ্য পেনসিলভেনিয়ায়। কিন্তু সাউথ জার্সি থেকে ফিলাডেলফিয়া এয়ারপোর্ট ডেলাওয়্যার নদীর ওপর দিয়ে ওয়াল্ট হুইটম্যান ব্রিজ পেরিয়ে কুড়ি-বাইশ মাইলের ওয়াস্তা। অন্যদিকে নিউ জার্সির নিজস্ব এয়ারপোর্ট নেওয়ার্ক শহরে। সাউথ জার্সি থেকে সে প্রায় নব্বই মাইলের ধাক্কা। তাই কাকা বলে দিয়েছে পারলে ফিলাডেলফিয়ার টিকিট কাটতে। মহিলাকে সে কথা বললাম। শুনেই তিনি উড়িয়ে দিলেন। "নিউ জার্সি যাবে তো? নেওয়ার্কে যাও। ফিলাডেলফিয়া তো পেন্সিলভেনিয়ায়।" আমি বললাম, " সে কথা তো ঠির দিদিভাই। কিন্তু ফিলাডেলফিয়াই কাছে পড়বে।" তিনি শুনবেনই না। অর্বাচীনদের সঠিক পথে চালনা করার দায়িত্ব তাঁর। কিছু মাছের বাজারের দরাদরি চললঃ ফিলাডেলফিয়া-নেওয়ার্ক। শেষ পর্যন্ত তিনি মোক্ষম অস্ত্রটি ছাড়লেন। সোনার কেল্লার মন্দার বোসের স্টাইলে জিগেস করলেন, "আপনি গেছেন?" স্বীকার করতেই হল, যাইনি। তিনি বিজয়ীর হাসি হেসে বললেন, "তাই বলুন। যাননি। আমি গেছি। কাজেই আমার থেকে জেনে নিন, নিউ জার্সি যেতে গেলে নেওয়ার্কে নাবতে হয়।" তারপরে ওনার দয়া হল। "ঠিক আছে, আপনি যখন বলছেন তখন আমি ব্রিটিশ এয়ারওয়জে ক্যালকাটা-ফিলাডেলফিয়া ওয়ান-ওয়ে প্রাইসিং করে দিচ্ছি।" এসব বলে কিসব দেখে-টেখে দর হাঁকলেন চল্লিশ-হাজার টাকা। সামনে কম্পিউটার ছিল কিনা মনে নেই। বোধহয় ছিল না। হাতে চল্লিশ হাজারের কাগজ নিয়ে খাবি খেতে খেতে বেরিয়ে এলাম।

এরকম করে-টরে আরও দুয়েক ঘাটের জল খেয়ে পৌঁছলাম চৌরঙ্গী প্লেসে একটি গলির মধ্যের একটি ছোট ট্র্যাভেল এজেন্সিতে। অল্পবয়েসী একজন যুবক ও তার সহকারী ওই বয়েসী একটি মেয়ে। খুব আন্তরিক ব্যবহার। মনে হল নতুন ব্যবসা খুলেছে। তখন কলকাতায় বুলগেরিয়ার বলকান এয়ারলাইন সার্ভিস শুরু করেছে। কলকাতা-সোফিয়া-নিউ ইয়র্ক। নিউ ইয়র্ক মানে জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্ট - জেএফকে। যদিও দূর পড়ে যাবে প্রায় একশো দশ মাইল, টিকিটের দাম মাত্র চব্বিশ হাজার টাকা। সে টাকা এখন ধার হিসেবে নিলেও, শেষ অব্দি তো আমার পকেট থেকেই যাবে। কাজেই সেই কুলগোত্রহীন বলকান এয়ারলাইনের টিকিটই কাটলাম।


এসে গেল যাবার দিন। বাংলা সিনেমার নায়কের মতন হাত-টাত নেড়ে তো এয়ারপোর্টে ঢুকে পড়লাম। লিখেই মনে হল, বাংলা সিনেমায় কখনও নায়ককে বিদেশ যেতে দেখিনি। ফিরতেই দেখেছি সবসময়ে। একটা প্লেন ল্যান্ডিং-এর শট। তারপরেই নায়ক বেরিয়ে আসছে। তা আসুক। আমি যাব। আমার প্রথম ইন্টারন্যশনাল ফ্লাইট। এর আগে প্লেনে চড়ার দৌড় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে দমদম থেকে বাগডোগরা।


কাউন্টারে গিয়ে দেখি খুব ভিড়। লাইন মতন একটা আছে, তবে সেটা খুব স্পষ্ট নয়। কলকাতায় যেমন হয় আর কি। অল্প গোঁতাগুঁতি করে সামনে এগিয়ে গেলাম। এয়ার ইন্ডিয়ার পোষাক পরা এক ভদ্রলোক সবাইকার টিকিট দেখছেন আর পাশে রাখা একটা লিস্টে সঙ্গে মেলাচ্ছেন। আমি টিকিট দিলাম। শুনলাম সিটের থেকে নাকি লোক বেশি হয়ে গেছে। নতুন শব্দ শিখলাম - ফ্লাইট ওভারবুকড। সবাই যেতে পারবে না। এবার ভেতর থেকে এলেন গুঁফো বড় অফিসার। তিনি এসে লিস্টে ঢ্যাঁড়া দিতে শুরু করলেন। কারা যাবে আর কারা থাকবে। ঢ্যাঁড়া কেটে তিনি আবার ঘরে ঢুকে গেলেন। নাম ডাকা শুরু হল। আমার নাম নেই। শুধু আমারই নয়, অনেকেরই নেই। অনেক চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে যখন বুঝলাম যে, নাহ আজ আর যাওয়া হচ্ছেই না, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলাম।


পরেরদিন ছুটলাম আবার সেই ট্র্যাভেল এজেন্সিতে। ভদ্রলোকের নাম অনির্বাণ বা অনিরুদ্ধ ধরণের কিছু। বললাম, "আজকের কোন ফ্লাইট না ধরতে পারলে ইউনিভার্সিটির ওরিয়েন্টেশন ত অ্যাটেন্ড করতে পারব না।" ভদ্রলোক সেই শুনে আমায় নিয়ে ছুটলেন সুইস এয়ারের অফিসে। আজ্ঞে হ্যাঁ। তখনও কলকাতা শহরে সুইস এয়ারের অফিস ছিল। সুইস এয়ারে কথা বলে আমার জন্যে একটা সুইস এয়ারের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিলেন। কোন আলাদা পয়সা দিতে হলনা। হোক না বম্বে হয়ে। কলকাতা-বম্বে-জুরিখ-নিউ ইয়র্ক। কলকাতা থেকে বম্বে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। বম্বেতে এয়ারপোর্টও পাল্টাতে হবে। তাই সই। আগের দিনের থেকে কম ফ্যানফেয়ারে এয়ারপোর্ট পৌঁছলাম। এবার আর কোন গোলমাল হলনা। বম্বে হয়ে জুরিখ ছুঁয়ে জেএফকে। জুরিখে এয়ারপোর্ট থেকে বেরোতে পারলাম না। চেষ্টাই করিনি। এই প্রথম ইন্টারন্যাশনাল কারেন্সি দিয়ে কিছু খরিদ করলাম। এক প্যাকেট লাল মার্লবোরো। এয়ারপোর্টে খেলাম। প্লেনেও। প্লেনে তখনও সিগারেট খাওয়া যেত শেষের দিকের সিটে। প্লেন নিউ ইয়র্কে নাবছে। বিকেল বেলা। রাস্তায় সারির সারি গাড়ি খেলনার মতন দেখতে লাগছে। সার দিয়ে চলেছে। প্লেন নাবছে।


অ্যামেরিকা!

399 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: ন্যাড়া

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

*
Avatar: র২হ

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

এইটা হোক। এখনকার অভিজ্ঞতা পুরোই তো পাল্টে গেছে।

আমার বড় আফসোস প্লেনে বসে সিগারেট খাওয়ার যুগে লায়েক হতে বা ইন্টারন্যাশনাল প্লেনে চাপতে পারলাম না।

অবশ্য ঝকঝকে, দেওয়াল থেকে দেওয়াল কার্পেট শোভিত আগাপাস্তলা এসি আপিসের ওয়ার্কস্টেশনে বসে ধূমপানটা একটুর জন্যে পেয়েছি। কিন্তু প্লেনে বসে কানের গোড়ায় সামনে সামনে অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে বিড়ি খাওয়া, সে অন্যরকম রেল।

ভিসার জন্যে অ্যাপয়েন্টমেন্টও নিতে হতো না, এইটা পড়ে মজা পেলাম।

ফিলি আর সাউথ জার্সি এইটা কনফিউশন বটে। চিরকাল শুনলাম নিনাদি থাকে ফিলি, ওদিকে আমি যাচ্ছি নিউ জার্সি কিন্তু প্লেন নামছে ফিলি, হোটেল পৌঁছে শুনি নিনাদির বাড়ি পনেরো মিনিট, কি আশ্চর্য।

আর আরো কয়েক বছর আগে, ভেবেছি ও’হেয়ারে প্লেন থেকে নেমে দেখবো আল কাপোনের স্মৃতিবিজড়িত সব অট্টালিকা, কোথায় কী, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে ট্যাক্সিওলা বলেন, আচ্ছা, তোমাদের দেশে লোকেরা ট্যাক্সি ড্রাইভারদের টিপ দেয় তো? আমেরিকায় কিন্তু দেয়।
~~~
সন্দীপনের উপন্যাসটা যেন কী? নিকটজনের মৃত্যুতে তড়িঘড়ি ট্র্যাভেলের ব্যবস্থা,
Avatar: এলেবেলে

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

এটা চলুক, না মানে দৌড়াক। খুব ভালো হচ্ছে।
Avatar: গবু

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

আহ, বেশ হচ্ছে! দৌড়োক!
Avatar: Ela

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

ন্যাড়াদা, দুরন্ত!
Avatar: ন্যাড়া

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

সন্দীপনের উপন্যাসের নাম যদ্দুর মনে পড়ে 'হিরোশিমা মাই লাভ'। তবে ওনার গালগল্প-সম্বলিত আ্যমেরিকা ভ্রমণ নিয়েও খান দুয়েক ল্যাখা আছে।
Avatar: A

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

Bhalo laglo aro hok. Onkedin por Mone porlo Amar first arrival er Katha. San Francisco ke te nemechi. Jabo Berkeley. Jar kaache jabo se address bhul diyechilo. Tokhon mobile r jug noi. Ki Kore pouche chilam tar Bari sheo ek ghotona. Kintu apnar Moto lekha r haath nei :-)
Avatar: Kaktarua

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

সেই মহিলা ভিসা অফিসার এর নাম ছিল ক্যাথেরিন বাক। আজ ২৫ বছর বাদেও মনে পরে গেলো।
Avatar: শঙ্খ

Re: বিপ্লব ও ঘটির অ্যামেরিকা দর্শন

সাধু সাধু। চলুক। অতি উত্তম হইয়াছে শুরুওয়াত


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন