Rouhin Banerjee RSS feed

Rouhin Banerjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বদল
    ছাত্র হয়ে অ্যামেরিকায় পড়তে যারা আসে - আমি মূলতঃ ছেলেদের কথাই বলছি - তাদের জীবনের মোটামুটি একটা নিশ্চিত গতিপথ আছে। মানে ছিল। আজ থেকে কুড়ি-বাইশ বছর বা তার আগে। যেমন ধরুন, পড়তে এল তো - এসে প্রথম প্রথম একেবারে দিশেহারা অবস্থা হত। হবে না-ই বা কেন? এতদিন অব্দি ...
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কাইট রানার ও তার বাপের গল্প

Rouhin Banerjee

গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের কাজ - অতএব গ্রাম / মফস্বলে ছেলেবেলা কাটিয়েও আমার ঘুড়ি ওড়ানো হয়নি - অন্যরা ওড়াতো, আমি সতৃষ্ণ নয়নে চেয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা করতাম কেন এটা খারাপ কাজ। সে বোধ আজও হলনি আমার - এদিকে যারা এসব বলত, তারা দেখি কবে যেন পালটি খেয়ে গেছে - ঘুড়ি ওড়ানো নাকি খুবই ভাল, নস্টালজিক ইত্যাদি। মাঝখান থেকে আমি অশিক্ষিতই রয়ে গেলাম (কান্নার ইমোজি)।

সে যাক গে - এ গল্প আমার নয়, আমার ছেলের। তা প্রথম বছর (২০১৭) সে ১৫ই আগস্ট থেকে ১৭ই সেপ্টেম্বর অবধি একাই চেষ্টা করে ব্যর্থ হবার পর দ্বিতীয় বছর (২০১৮) আমাকে মুরুব্বি ঠাওরালো - কারণ এতদিন অবধি তার সমাধান করতে না পারা সমস্যার হাল আমার হাতেই হয়ে এসেছে। কিন্তু এবারে বাবাও ফেল - দুজনেই একই ভাবে ধ্যাড়াচ্ছি। তাও দোকানদারের থেকে শিখে এসে কল কেটে সুতো বাঁধাটা গেল, ঘুড়ি উড়িয়ে তো আর দোকানদার দেবে না। অতএব চন্দ্রযান (আই মীন চন্দ্রায়ন - হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে জল বেরোনোর ইমোজি দুবার) অভিযান দ্বিতীয়বারেও মুখ থুবড়ে পড়িল।

পুত্র কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র নয়। তৃতীয় বছরে (২০১৯) সে বুঝে গেছে বাবা মোটেই সর্বকর্মা সর্বসমস্যার সমাধানকারী ওমনিপোটেন্ট শ্রীভৃগু ফিগু নয়। অতএব এবারে সে অন্য পথ ধরেছে। আগস্টের শেষাশেষি থেকেই দেখছি বিকালে ইস্কুল থেকে ফেরার সময়ে সঙ্গে আসে তিন চারজন পুঁচকে - তারা এ পাড়ারও নয়, পাশের পাড়ার। কোনমতে ইস্কুলের ব্যাগটা রেখেই ছাদে - দাপাদাপি চলতে থাকে যতক্ষণ অন্ধকার না হয়।

দু-চারদিন পর্যবেক্ষণ করে বোঝা গেল এরা আসলে কোচিং স্টাফ - ট্রেনার। বাপের ওপর আর ভরসা না রেখে ছেলে নিজের কোচ নিজেই খুঁজে এনেছে। অবশ্য ছেলের ভূমিকা এখনো কাটা ঘুড়ি খুঁজে আনাতেই সীমাবদ্ধ - ওড়ানোর দায়ীত্ব কোচিং টীমের - কিন্তু ট্রেনিং তো রিগোরাস হবেই - শেখা অত সহজ? তাছাড়া কাইট রানার হওয়াও যথেষ্ট স্কিলের এবং কৃতিত্বের কাজ - খালেদ হোসেইনি শিখিয়েছেন।

এদিকে বিল্ডিং তো ভদ্রলোকের - তায় আবার হিঁদু মধ্যবিত্ত - তাদের প্যালপিটিশন থামায় কে? অ্যাসোশিয়েশানের হোয়াটস্যাপ গ্রুপে খবর হয়ে গেছে মেঘ বারণ করা সত্ত্বেও রোজ বাইরের ছেলেদের এনে সাড়ে ছটা পর্যন্ত ছাদে ধুপধাপ করছে, ছেলেগুলো আবার এ পাড়ারও নয়, এবং "বস্তির"। এই মহাসংকটে মেঘের বাবা কিছু করুক এই তাদের চাহিদা। চাহিদা পুরণে অক্ষম মেঘের বাবা আপাততঃ হিরন্ময় নীরবতা পালন করছেন।

বিল্ডিং এর মীটিং ডাকা হয়েছে আগামী সপ্তাহে - মেঘের বাপের হিসেব পুরো অমিত শাহের মত - বিশ্বকর্মা পুজো আজ, এরপরে আর ঘুড়ি ওড়ানোর সীজন নেই। অতএব সামনের সপ্তাহের মীটিং এ " সব বন্ধ হয়ে আচ্ছে দিন এসে গেছে" বলতে কোনই চাপ নেই। আপাততঃ লাটাইটা ভেঙে গেছে জানিয়ে সে স্কুলে গেছে - যাই, একটা লাটাই কিনে আনি। বোলো বিশ্বকর্মা মাই কী - ঝ্যায়

213 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Rouhin Banerjee

Re: কাইট রানার ও তার বাপের গল্প

কোচিং স্টাফ -

https://postimg.cc/RqPZcQVn
Avatar: Rouhin Banerjee

Re: কাইট রানার ও তার বাপের গল্প

Avatar: Rouhin Banerjee

Re: কাইট রানার ও তার বাপের গল্প

Avatar: র২হ

Re: কাইট রানার ও তার বাপের গল্প

হাহা চমৎকার ব্যাপার!
আমিও মফস্বলে থেকেও ঘুড়ি ওড়াইনি, আমাদের বন্ধুরাও নয়, পাড়াভর্তি সব ভালো ছেলে, পাশের পাড়ার দুষ্টু ছেলেরা ওড়াতো, মা দুয়েকবার স্কুল ফেরত ঘুড়ি কিনে এনেছিল কিন্তু ওই, মেন্টরের অভাবে হয়নি - বাবা বয়েসকালে ভয়ানক ডানপিটে হয়েও আমাদের ঠিক যথোচিত আস্কারা কেন দেয়নি কে জানে, তাছাড়া মা বাবার ধারনা ছিল ছোটরা ছাতে গেলেই ধপ করে নিচে পড়ে যায়, তাই ছাতে যাওয়ারও নিষেধ ছিল। অবশ্য দুজনেই সারাদিন বাইরে, দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক, এখন বুঝি। আর যতদিনে স্বাধীনতা আদায় হয়েছে ততদিন ঘুড়ি টুড়ির মত জাগতিক বিষয় থেকে মোহ শিফ্ট হয়ে গেছে।

তবে কথা সেটা না। আমার এক বন্ধু সুপারি দিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীদের বাগান ভাঙিয়ে দিয়েছিল। তারপর ওই মিটিং, অভিযোগ, তস্য পিতার বারংবার ক্ষমাপ্রার্থনা এসবের পরেও যখন ধ্যারারারা রেকারিং ডেসিমেল চলছে, তখন ভদ্রলোক বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন - দেখুন, আমাকে অনেকবার বলেছেন, আমিও ক্ষমা টমা চেয়েছি। আরো যদি কিছু বলার থাকে তবে সাহস করে আমার ছেলেকে গিয়ে বলুন।

তারপর শান্তিকল্যান।

যাইহোক, সুদর্শন ঠাকুর মিটিঙের শুভলাভালি রাখুন, বিশ্বকর্মা মাইকি জয়।
Avatar: Rouhin Banerjee

Re: কাইট রানার ও তার বাপের গল্প

আ মোলো যা!! তাই বলবে কেনে!?🙄
আমি হলে মিটিংয়ে গিয়ে বলতুম - "বেয়াড়া ছেলে আমার! কিচ্ছুতেই কথা শুনছেই না - দেখুন তো মুশকিল!" তারপর দেখতুম শালারা ব্যটা শালা ভদ্দরনোকেরা কী করে!😏😏


যাই - ফেবুতেও বলে আসি 🙄🙄


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন