বোধশব্দ পত্রিকা RSS feed

বোধশব্দ পত্রিকার খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

বোধশব্দ পত্রিকা

মানস চক্রবর্তী

কবিতা কি বিনােদনসামগ্রী? তর্ক এ নিয়ে আপাতত নয়। কবিতা কি আদৌ কোনাে সামগ্রী? কোনাে কিছুকে পণ্য হয়ে উঠতে হলেও তার একটা যােগ্যতা দরকার হয়। আজকের দিনে কবিতা সে-অবস্থায় আদৌ আছে কি না সবার আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার। কবিতা নামে একটা ব্যাপার আছে, এটুকু সাধারণভাবে স্বীকৃত। স্বীকৃত বলেই নিউইয়র্ক টাইমস-এর গত নভেম্বরের বেস্টসেলার লিস্টে তিন নম্বরে ছিল কানাডার পাঞ্জাবি বংশােদ্ভূত কবি রুপি কউর-এর অক্টোবর ২০১৭-য় প্রকাশিত দ্য সান অ্যান্ড হার ফ্লাওয়ারস কবিতার বইটি। অর্থাৎ, মানুষ কবিতা পড়েন। বাঙালি পড়েন কি না, সে-কথা এই মুহূর্তে অবান্তর। কবিতার গুণাগুণও এক্ষেত্রে অবান্তর। ইয়েহুদা ভিজান (Yehuda Vizan) ইজরায়েলের তরুণ কবি, জন্ম ১৯৮৫। লেখেন হিব্রুতে। দু-খানি কবিতার বই রয়েছে। নিজের সম্পাদিত পত্রিকাও রয়েছে। অবস্থান প্রতিষ্ঠানবিরােধীই বলা চলে। সাহিত্যের পাঠকদের নিয়ে বিরক্ত। সমসাময়িক হিব্রু সাহিত্য নিয়েও ক্ষুব্ধ ইয়েহুদা। উনি তৃতীয় বই প্রস্তুত করে বসে আছেন, প্রকাশক পাচ্ছেন না।

https://i.postimg.cc/0QM6WCTf/PIC-1.jpg
ফলত, কবিতা নামে একটা ব্যাপার সাধারণভাবে স্বীকৃত, এটুকুই বলা যায়, তার বেশি নয়। কবিতারই মতাে কবিতার পাঠকের অবস্থাও গােলমেলে। দুই সমৃদ্ধ শিক্ষিত দেশের দুই পৃথক ভাষার কবির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত। ভাষা একটা কারণ হতে পারে। অবশ্যই কারণ। তবু, হিব্রুর মতাে একটা ভাষার পাঠক নেই? না কি রুপি কউর আর ইয়েহুদার কবিতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পাঠকপ্রাপ্তির হালহদিশ দিতে পারবে?

কবিতার পাঠক কারা? এই মুহূর্তে বাংলায় কবিতার পাঠক যাঁরা, লেখেন তারাই। ইংরাজিতে নয় নিশ্চিত। কত জন বাঙালি ইংরাজি ভাষার কবিতা পড়েন? রুপি কউরের বইটা পেয়ে অ্যামাজনে রিভিউ পােস্ট করেছেন ছত্রিশ জন। তার মধ্যে তিন জন বাংলাভাষী। এ থেকে কিছুই প্রমাণ হয় না। আমরা অনলাইনে কিছু কিনলেই কাস্টমার রিভিউ লিখি না। কিন্তু অনলাইন কোম্পানিগুলির রেটিং সিস্টেম এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলত একটা ধারণা পাওয়াই যায় যে ইংরাজি কবিতার বইও বাঙালি পড়ছে না তেমন। বাংলায় কবিতার পাঠক প্রায় নেই-ই। বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিদের বইও জনপ্রিয় প্রকাশনার বেস্টসেলার লিস্টে প্রায় ওঠে না। খুব বেশি হলে নাকি এগারাে-শাে কপি ছাপার সাহস দেখান আনন্দ পাবলিশার্স। বাকিরা ছাপার হিসেব প্রকাশ করেন না। হিসেব প্রকাশ না করার অনেক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সরল যেটা, আমার অনেক থাকলে লােককে বড়ােমুখ করে বলে বেড়াই, না থাকলে উচ্চবাচ্য করি না। করুণা চাই। বাংলা ভাষার কবিতা বই-এর প্রকাশকরা যে করুণাপ্রার্থী, প্রমাণ করার খুব-একটা দরকার নেই। দৈনিক পত্রিকাগুলিতে আলােচনা বের করার জন্য উমেদারি করেন। প্রকাশক বিজ্ঞাপন ছাপাবেন বলে লেখকের থেকে বাড়তি টাকা চান। ও হ্যাঁ, যে বাংলা কবিতার কথা হচ্ছে, সেই বাংলা কবিতার হাতে-গােনা বই প্রকাশক নিজের টাকায় ছাপেন। বেশিরভাগই লেখকের টাকায় ছাপানাে। তাও আবার খরচের তিন গুণ চার গুণ টাকা ব্যয়ে। একটা কবিতার বই বের করতে প্রকাশক চার ফর্মা তিন-শাে কপির জন্য সাতাশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। খুব কম নিলে পনেরাে হাজার টাকা। আর, তিন-শাে কবি ছাপব বললেও, সাকুল্যে কত কপি ছাপা হয়, সেটাও খুব স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে জরুরি কথা, বই বিক্রির দায়িত্ব প্রায় কোনাে প্রকাশকই নেন না। কয়েকটা মেলায় কয়েক কপি ডিসপ্লে হয় মাত্র। লেখক পঞ্চাশ কপি পান। বড়াে কবিদের সেসব বিলিয়ে দেন। বড়াে কবিরা কদাচিৎ ফোন করে প্রতিক্রিয়া জানান। লেখক সেই প্রতিক্রিয়া ফেসবুকে পােস্ট করে জানান। এই তাে চক্কর! কে না জানে বাংলা বাজারের এই বৃত্তান্ত।

কথাটা যখন বিপণনের, অর্থাৎ ব্যাবসার, অন্যতম সারকথাটি হল স্পষ্টতা। যে-পণ্যটি ঝাপসা, যার গুণাগুণ সম্পর্কে তার উৎপাদকরাই নিশ্চিত নন, সেই পণ্য বাজারে বিক্রি হওয়া কঠিন। বাংলা কবিতা নিয়ে তবুও ব্যাবসা হয়, এ-কথাটি অস্বীকার করাও যাবে না। গল্পটা তাহলে কী? আমরা বেঁকে দেখব কিঞ্চিৎ। কবিতার বই বের করে প্রকাশক লাভ করেন। এই বাক্যটি নিয়ে আমরা খানিক সময় দিই। বাংলা কবিতার বই করে প্রকাশক লাভের উপর লাভ করেন। আগের চক্করটি মাথায় রাখলে দেখব, প্রকাশক শুরুই করছেন লাভ দিয়ে। টাকাটি আসছে লেখকের পকেট থেকে। ব্যাবসার নিয়মে আসার কথা ছিল পাঠকের পকেট থেকে। ধরা যাক, বইটির প্রােডাকশনের খরচ। বড়ােজোর বারাে হাজার টাকা। লেখককে দিতে হয় অন্তত পনেরাে হাজার, তা হলে দু-তিন হাজার টাকা এমনিই পকেটস্থ। যদি একটি বই করার পর বইটি কোনােক্রমে পঞ্চাশটিও বিক্রি হয়, অর্থাৎ পাঠক মােট উৎপাদনের সতেরাে শতাংশ কেনেন, তা হলেও প্রকাশক কিছু না করে বাড়তি কুড়ি শতাংশ লাভ করে নেন। সাধারণত এখন চার ফর্মা বই-এর দাম হয় এক-শো টাকা। চল্লিশ শতাংশ ছাড়ে বিক্রির জন্য দিলেও হিসেবটা তা-ই দাঁড়াচ্ছে। অভিযােগ, বাংলা বাজারে খুব কম প্রকাশকের থেকেই লেখক স্বচ্ছ হিসেব পেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে উপরি লাভের অঙ্কটি সাত হাজারে গিয়ে পৌঁছােয়। (কাগজ, বাইন্ডিং মিলিয়ে অন্তত পাঁচ হাজার)। অর্থাৎ, একটা চার ফর্মার কবিতার বই করে প্রকাশক সহজেই তিন থেকে আট হাজার টাকা লাভ করেন।

এর সঙ্গে আবার হালফিল যুক্ত হয়েছে পিওডি (কলকাত্তাইয়া)! পিওডি এসে গিয়ে প্রকাশকদের আরও সুবিধে করে দিয়েছে। লেখকদেরও। প্রকাশককে আগে পঞ্চাশ কপি ছাপতে হলেও ছাপার জন্য সেই হাজারেরই দাম মেটাতে হত। যদিও এমনও শােনা যায়, দু-টি বা চারটি বই একসঙ্গে ছেপে নেওয়ার স্ট্র্যাটেজিও কেউ কেউ নিতেন। দু-টি বই একই ডিমাই শিটে ছেপে অর্ধেক করে নিয়ে ছাপার খরচ কমানাে সম্ভব। তবে আর এসবের দরকার পড়ে না প্রিন্ট অন ডিমান্ড-এর দৌলতে। যদিও প্রিন্ট অন ডিমান্ড পদ্ধতি স্কলারলি কাজের জন্যই পৃথিবীর অন্যত্র ব্যবহার হওয়ার রেওয়াজ। লেখক খুব খেটেখুটে কাজ করলেন, তারপর নিজেই বিজ্ঞাপন দিলেন তাঁর বই-এর। যে ক-জন পাঠক আগ্রহ দেখালেন, তাদের জন্যই ছাপা হল নির্দিষ্ট কয়েকটি কপি। পৃথিবীর সর্বত্র বিষয়টি অসম্ভব মর্যাদার। লেখক-পাঠক পারস্পরিক সম্মানের। লেখক বাণিজ্যের পরিসরের আগেই আগ্রহী পাঠকের কাছে পৌঁছােবার সুযােগ পেতেন এই প্রিন্ট অন ডিমান্ড পদ্ধতির জন্য। আর বাংলা বাজারে দেখা যাচ্ছে, পিওডি এসে ‘সংস্করণ’ ও ‘মুদ্রণ’ ব্যাপারটাকেই বাতিল করে দিয়েছে। আজ একটি বই তিন-শাে কপি ছাপা হওয়া পর্যন্ত ছ-টি সংস্করণও সম্ভব। সব মিলিয়ে কী দাঁড়াল তাহলে? এমনিই প্রকাশক যা লাভ করতে পারছেন, তার আর দরকারই পড়ে না প্রচারের। লেখকের কাছেও বিক্রিটা বড়ােকথা নয়, তার দরকার কবিখ্যাতি অথবা মহাকালের দরবারে স্থায়ী আসন। কবি হয় একে-ওকে ধরে বিখ্যাত হবেন, নতুবা নিজের পয়সায় বই ছাপিয়ে তাতে যত্ন করে কীটনাশক মাখিয়ে কালের গহ্বরে নিক্ষেপ করবেন। মহাকাল একসময় তাকে লুফে নেবেন। যেমন জীবনানন্দকে নিয়েছেন।

বাংলা কবিতার উচ্চাশা শুধুমাত্র এই। ভুল বলা হল, কবিদের উচ্চাশা। পাঠক নিশ্চয় লক্ষ করছেন, আমরা ধীরে ধীরে কবির থেকে কবিতাকে আলাদা করার চেষ্টা করছি। হ্যা, বাংলা কবিতার বাজার নেই। কবিদের আছে। কবিরা বিশেষত বিক্রি হন, বিক্রি হওয়ার জন্য হাটে গিয়ে দাঁড়ান। আমাদের সাংস্কৃতিক প্রভুরা তাদের প্রাইম-টাইমে বেচবেন বলে কিনে নিয়ে যান। দৈনিক কাগজে কলাম লেখান, প্রকাশনা দফতরে বসিয়ে দেন, মাসিক পত্রিকার সাবএডিটর বানিয়ে দেন। সর্বোপরি নতুন মাল বাছাই-এর গুরুভার অর্পণ করেন। আর? আর একদল সেই যে, মহাকালের দিকে তাকিয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকেন। বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যের সঙ্গে বিপুল পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা।

আর তাদের কবিতার কী হল? কবিতা অহংকারী হয়ে উঠল। আমরা জেনে গেলাম, কবিতা সকলের জন্য নয়। কবিতার পাঠক চিরকালই খুব কম। এই চিরকালের মাপ কতটা, এক বারও প্রশ্ন করলাম না। চণ্ডীমণ্ডপে যে মনসামঙ্গল গাওয়া হত, তার কাব্যগুণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মুখরিত, যে পদাবলি পথে পথে গেয়ে বেড়ানাে হত, তার নান্দনিক ঐশ্বর্য আন্তর্জাতিক মানের বলে সেমিনারে সেমিনারে ঢিঢি পড়ে গেল। অথচ আমরা আউড়ে গেলাম কবিতার পাঠক চিরকালই খুব কম। বাংলার ছড়া, প্রবাদপ্রবচনের কাব্যগুণ নিয়ে গবেষণা করে কতশত ছেলেপুলে করে খাচ্ছে। কত কবির হৃদয় বিগলিত হয় এসবে। অথচ আধুনিক পাঠক কেন কবিতাবিচ্যুত হলেন, তা নিয়ে চিন্তা তাে দূরস্থান, উলটে অহংকার-শ্লাঘাবােধের সীমা নেই!
মানুষের সুক্ষ্মতম অনুভূতির প্রকাশ শিল্প– এই কথাটি মেনে নিতে কারােরই আপত্তি থাকে না। মন খুঁতখুঁত করে যখনই মেনে নিতে হয়, অনুভূতির প্রকাশই আসলে বিনােদন। পাঠক-দর্শক-শ্রোতারও অনুভূতির প্রকাশ ঘটে শিল্পের সম্মুখীন হয়ে। তিনিও নতুন করে আবিষ্কার করেন ধ্যাদধেড়ে জগতটাকে। অস্বীকার করতে পারা যাবে না, বিনােদন ছাড়া মানুষ বাঁচে না। বাঁচে কি? প্রশ্ন উঠতে পারে বাঙালি কি আদৌ বেঁচে আছে? এই কুতর্কে আমরা যাব না। বরং স্বীকার করে নেব, কবিতা বেশিরভাগ বাঙালিকে আজ আর বিনােদিত করতে পারে না। অন্তত কবিতার প্রয়ােজন সিংহভাগ বাঙালি বােধ করেন না। যার প্রয়ােজন নেই, তার বাজার নেই। যার বাজার নেই, তার আবার বিপণন কীসের? আজকের বাজার অর্থনীতিতে অবশ্য প্রয়ােজন তৈরি করার কথাই বেশি করে বলা হচ্ছে। প্রয়ােজন তৈরি করে যে বাজারে মাল বেচা হয়, তার ক্রেতা কারা? যাঁদের হাতে উদ্বৃত্ত ব্যয় করার ক্ষমতা আছে। এবারে আসবে হিসেবের প্রশ্ন। যাদের হাতে উদ্বৃত্ত ব্যয় করার টাকা আছে, তারা কত শতাংশ? মেরেকেটে পনেরাে। ২০১৫-র সােশিয়াে-ইকনমিক সেন্সাস অনুযায়ী বিরানব্বই শতাংশ গ্রামীণ মানুষের আয় দশ হাজারের নীচে। ধরে নেওয়া যায়, বাকি আট শতাংশের সঙ্গে শহরের হিসেব ধরলে মােট অংশ বেড়ে বড়ােজোর পনেরাে শতাংশই দাঁড়াবে। এই পনেরাে শতাংশের পকেট নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে কয়েকশাে মাল্টিন্যাশনাল, তাদের লােভনীয় সামগ্রীর জন্য। উফ, কবিতাকে এদের সঙ্গে এঁটে উঠতে হলে কী করতে হবে, ভাবলেই কবি শিউরে উঠবেন! পাঠক এবার মনে করুন ভারতমাতার পলাতক সন্তান রূপি কউরের কথা। চার বছর বয়সে বাবা-মার সঙ্গে কানাডা পাড়ি দিয়েছিলেন। নিজের কবিতার বই-এর বিজ্ঞাপন কীভাবে করেছেন, খেয়াল করুন। বাংলা কবিতা ভাবতে পারবে আশা করেন? বাজারে টক্কর দিতে হলে বাজারে নেমে পড়ার এ একটা উদাহরণ। বিপরীত দিকে ইজরায়েলের কবি হয়েহুদাকেও স্মরণ করা যাক। ইয়েহুদার মনােভাব আমাদের খুবই পরিচিত। ইয়েহুদা গ্রেফতার হয়েছিলেন ইজরায়েলের কবিতার অগ্রগতির জন্য তৈরি সংস্থার অফিস বিল্ডিং-এর সামনে নিজের পত্রিকার চমকদার বিজ্ঞাপন করে। একটা বাক্স রেখে দিয়েছিলেন। তার উপর লেখা ছিল- ‘টিক টক টিক টক, Ketem 2 বেরােচ্ছে দু-সপ্তাহের মধ্যেই। Ketem ইয়েহুদাদের পত্রিকা। এই পাগলামিও বাংলা কবিতা প্রত্যক্ষ করেছে গত শতকেই। তাতে করে কি আড়চোখে তাকিয়েছিল পাঠক? উত্তরে সকলেই সমস্বরে বলবেন, হা। অধ্যাপক অধ্যুষিত বাংলা কবিতার ঝাঁকা ভরতে শুরু করেছিল নিতান্ত এলেবেলে উড়নচণ্ডীদের কবিতায়। আমরা এবার প্রবেশ করব মূল প্রতিপাদ্যে— বাংলা কবিতার ক্রেতাঃ জেলা বনাম কলকাতা।

একটি মাত্র বাক্যে সাবাড় করে দেওয়া যায় প্রসঙ্গটি। কলকাতা বিক্রি করে, জেলা কেনে। সুতরাং বাংলা কবিতার ক্ষেত্রেও জেলা ও কলকাতার সম্পর্ক আসলে ক্রেতা ও বিক্রেতার। পূর্বের প্যাঁচালটি আসলে সহজ করে দেবে হিসেব। যে-কারবারটির একটা অংশ আবর্তিত হয় ঠকবাজি দিয়ে, তার শিকার জেলার কবিযশঃপ্রার্থী লেখকরা। জালের খুঁটটি ধরা আছে কলেজস্ট্রিটকেন্দ্রিক কলকাতায়। কবিতা নামক ব্যাবসাটির এই হিসেব অত্যন্ত সরল এবং আলােচিত। পড়ে থাকে কাঁচা ব্যাবসার কথা। কবিতার বই-এর ব্যাবসার কথা। বাংলা প্রকাশনার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানটি রাজ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছে। কোথাও বেশ ভালােই চলছে, দু-একটি জায়গায় ঝিমােচ্ছে। যদিও ডিসপ্লেতে কবিতার বই খুব-একটা থাকে বলে খবর নেই, অর্ডার করলে পাওয়া যায়। অর্থাৎ বড়াে তরফের কিছু ক্রেতা জেলায় বাস করেন। আর কলেজস্ট্রিটে তাদের সহযােগী যে-সংস্থা মূলত এখন কবিতার বই বের করছে দোকানটিতে গেলে দেখা যাবে, কবিতার বই একরকম লাটানাে থাকে। যাকে কোনােমতেই ‘ডিসপ্লে’ বলা যাবে না। সেখানেও একরকম চাহিদা স্থির করেই যেতে হয়। যান কারা? জেলা এবং কলকাতা উভয় জায়গারই ক্রেতা।

কলকাতায় আর কবিতার বই পাওয়া যায় বিশেষত ধ্যানবিন্দুতে। ধ্যানবিন্দুর সপ্তাহের মধ্যে পড়া ছুটির দিন এবং শনিবারের বিক্রির হিসেব নিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। জেলার কবি-লেখকরা যান এবং কেনাকাটি করেন ওই দিনগুলিতেই বেশি। তিন-শাে জন পাঠকের প্রত্যাশায় থাকা বাংলা কবিতাবই-এর সিংহভাগ পাঠক জেলাই সরবরাহ করবে, এটা স্বাভাবিক। তথ্যপ্রমাণের দরকারই-বা কী? আসল কথাটি হল প্রবণতা।

এই তিন-শাে জনের বাইরের অংশ, তারা কী করছেন আজকাল? আগে কী করতেন? এসবের হিসেবে বাংলা বাজারের যায়-আসে না। বাজারের নিয়মে, যাঁরা কিনছেন, তাঁরাই কেবল ক্রেতা নন। সম্ভাব্য ক্রেতারাও হিসেবের মধ্যে আছেন। আর এই সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্যই বিপণনের আয়ােজন। এক অর্থে, একটা পণ্য বাজারস্থ হলে সকলেই সম্ভাব্য ক্রেতা।

কবিতার প্রসঙ্গে যখন কথা বলছি, খেয়াল করা দরকার জেলার মধ্যেও টুকরােটাকরা কলকাতা উঁকি মারে। ঠিক যেমন কলকাতার মধ্যে জেলা। আসলে দু-ভাবে ব্যাপারটাকে দেখা যায়, ভৌগােলিক এলাকার দিক থেকে। আর মানসিকতার দিক থেকে। মনােভাবের নিরিখে কবিতার বর্তমান পাঠকরা প্রায় সকলেই কলকাতার। এই আলােচনাতে আগেও এসেছে কথাটা। জেলায় বসে পাঠক নিজে ঠিক করতে পারেন না, কী পড়বেন। কলকাতায় যে-কবির কদর, জেলার পাঠক তাকেই পড়েন। আর দেখা যায় স্থানীয় কারাে কারাে লেখাও পঠিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই স্থানীয় মানুষটিও দেখা যাবে লেখেন আরেকজন কলকাতায় অ্যাটেস্টেড কবিরই মতাে। ফলত আমাদের কবিতা না-পড়া অংশটির দিকেই তাকাতে হবে।

জেলায় জেলায় এখন লিটল ম্যাগাজিন মেলা হচ্ছে। পুরুলিয়ায় হচ্ছে, কোচবিহারে হচ্ছে, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় হচ্ছে, হুগলি-বর্ধমান-মেদিনীপুর-বাঁকুড়ায় হচ্ছে। প্রতিটি মেলাই নিজের মতাে আলাদা। প্রতিবছর পাঁচটি জায়গায় মেলা করেন, এরকম লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকের থেকে খবর নিলেই জানা যাবে, কবিতার বই পুরুলিয়া-তারকেশ্বরে বিক্রি বেশি। দেখা যাবে, মেদিনীপুরে বেশি নিবন্ধ-জাতীয় কাজের। কোচবিহারে অপরিচিত কারাে বিক্রি প্রায় নেই। বসিরহাটে বিক্রিই নেই প্রায়। বাঁকুড়ার কথা আমি জানি না। বর্ধমানে নিরীক্ষামূলক কাজ পাঠককে বেশি আকর্ষিত করে। প্রতিবছরই যদিও একটি পত্রিকার বিক্রি বাড়ে একেকটি মেলায়। কমছে, এমন দৃষ্টান্ত প্রায় নেই-ই। তারকেশ্বরে মেলা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে, অংশগ্রহণ করেছিল বাইশটি পত্রিকা। ২০১৭-র মেলায় অংশ নিয়েছিল চৌষট্টিটি পত্রিকা। প্রথম বছর মােট বিক্রির পরিমাণ ছিল আঠেরাে-উনিশ হাজার টাকা। ২০১৭-য় বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত পঁচাত্তর হাজার টাকা। 'আমি আর লীনা হেঁটে চলেছি' আমাদের পত্রিকা, কবিতাকেন্দ্রিক আমাদের কাজকর্ম। একটি বই এবার হয়েছে গদ্যের - 'আর্যতর্কঃ একটি তাত্ত্বিক ক্রীড়াভূমি', এই বইটি বাদ দিয়ে বিক্রির পরিমাণ সাড়ে আট হাজার টাকার সামান্য কিছু বেশি। গত বছর ছিল ছ-হাজার টাকার আশেপাশে। এবারে পাঁচটি নতুন কবিতার বই, পত্রিকার একটি নতুন সংখ্যা কিনেছেন যাঁরা পত্রিকা নিয়ে মেলায় এসেছেন এবং এলাকার মানুষই। অন্য যে-সমস্ত পত্রিকা তারকেশরের মেলায় এসেছিল, অর্ধেকের বেশিই কবিতাকেন্দ্রিক। তাদেরও বিক্রি বেশ ভালাে। বর্ধমানে আমাদের বিক্রি 'আর্যতর্ক' বাদ দিয়ে দু-হাজার টাকা। দ্বিতীয় বার মেলা করছি আমরা ওখানে, গতবার বিক্রি ছিল সাত-শাে টাকার আশেপাশে। বিক্রি বাড়ছে। পুরুলিয়া লিটল ম্যাগাজিন মেলাতেও প্রায় একই ছবি। কবিতাকেন্দ্রিক পত্রিকা ওখানেও বেশি। বিক্রিবাটা পুরুলিয়ায় অনেক বেশি। মেলাটা পুরুলিয়ায় হচ্ছে গত ষোলো বছর। মােদ্দা কথা হল, কলকাতার বাইরে যখনই কবিতা হাজির হচ্ছে, পাঠকপ্রাপ্তির হার বাড়ছে। যদিও হিসেবটা সেই তিন-শাে বই-এর সীমা পার করছে না কোনােভাবেই। তারকেশ্বর এবং পুরুলিয়ার মেলায় অংশ নেওয়া সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বললে জানা যাবে, অচেনা মুখ প্রচুর আসছেন মেলাগুলিতে এবং বই-পত্রিকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পরের বছর আবার খুঁজে খুঁজে আসছেন পছন্দের পত্রিকাটি সংগ্রহ করার জন্য। পাঠক তৈরি হচ্ছে।

https://i.postimg.cc/26DpMkJK/PIC-2.jpg
পাঠক তৈরি হওয়ার গতি খুবই কম। তার কারণ কবিতার বইপত্রের বিক্রি। এই মুহুর্তে লিটল ম্যাগাজিনগুলিরই, আর একটি পত্রিকা সম্পাদনা করার পর সম্পাদকদের পক্ষে পাঠকের প্রতি মনােযােগী হওয়ার মতাে শক্তি অবশিষ্ট থাকছে না। সঙ্গত কারণেই থাকছে না। যেমন করে একজন কবি কবিতা লেখার পর তার বিক্রিবাটা নিয়ে কতটুকুই-বা ব্যস্ত হওয়ার ফুরসত পান? যেমন করে একজন চাষি ফসল ফলাবার পর পাইকারের কাছে সঁপে দেন তাঁর ভবিষ্যৎ। খুঁজে পান না, সেই একই ফসল কেনার সময় তাঁকে তিনগুণ দাম দিতে হয় কেন। তেমনই কবিও খুঁজে পান না, সবটুকু যত্ন সত্ত্বেও কেন যে পাঠক তিনি পাচ্ছেন না।

লিটল ম্যাগাজিন হােক বা বাণিজ্যিক পত্রিকা, সকলেই প্রায় এক পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। লিটল ম্যাগাজিন মেলাগুলি তার বাইরের ছক হয়ে উঠতে পারে। যেখানে যেটুকু হয়ে উঠতে পারছে, সেখানেই সম্ভাবনা ঝিলিক মারছে। মেলাগুলির পেরে ওঠাও সামান্যই। তবে, গ্রামগঞ্জের পাঠক খুঁজে খুঁজে কবিতার বই কিনে নিয়ে যাবেন কলেজস্ট্রিট কিংবা শহর থেকে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কবিদের, সাহিত্য সংশ্লিষ্ট মানুষদের সমান্তরাল যােগ থাকবে না, অথচ লেখালিখির সম্ভ্রম কুড়িয়ে উন্নততর মানুষ হিসাবে আহ্লাদিত হব, আবার পাঠকও জুটবে— এ-আশা বিগত সহস্রাব্দের। রােগটা সামাজিক। সামাজিকতার। নাগরিক মানুষের সময় আর গ্রামীণ ('গ্রাম্য' নয়) মানুষের সময় এক নয়। এখনও গ্রামীণ মানুষ আশ্চর্য হন। বিস্মিত হতে দেখা যায় আজও তাঁদের। কবিও পারেন বিস্ময়ের জগতে নিয়ে যেতে পাঠককে। কেবল দু-জনার দেখা হওয়া দরকার। দেখা হওয়া দরকার কোনাে দুর্ঘটনা ছাড়াই। মুখােমুখি বসিবার এই ঘটনাটি কল্পনা করা বাকি রয়ে যাচ্ছে কেবল। হোঁচট খাচ্ছে। কোন শিকারির থেকে বাঁচতে যে মরুভূমির তপ্ত বালিতে মুখ গুঁজে রয়েছে বাংলা কবিতা?

[বোধশব্দ | কবিতার বিপণন
‘বোধশব্দ’ পত্রিকার জানুয়ারি ২০১৮ সংখ্যাটির বিষয় ‘কবিতার বিপণন’। কী আছে সংখ্যাটিতে? ‘কবিতা’ ও ‘বিপণন’, এই দুই প্রায় বিপরীতার্থক করে-তোলা শব্দ আজ নিজেদের মধ্যে কোন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সম্পর্কিত, বা আদৌ সম্পর্কিত কি না, তা খুঁজে দেখা। সেই সূত্রে অতীতে ফেরা, ভবিষ্যতের দিকে তাকানোও। মহাকাল ও সিলেবাস ছাড়া কি কবির আর কোথাও স্থান পাওয়ার নেই? দামিই যদি হবে, দাম কেন থাকবে না বাংলা কবিতার? রাজদরবার ও ফেসবুকে কবির ঢাক-ঢোল কত ডেসিবেল পর্যন্ত জায়েজ? প্রকাশক আর কবির সেতুটি কি আদৌ নিষ্কর না কি সেখানেও কোনো ওপেন সিক্রেট খেলাধুলো রয়েছে? গ্রন্থনির্মাণে, তার বিজ্ঞাপনে আর বিপণিতে প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে কতটা সচেতন আমরা? অন্তর্জালে বেচা-কেনা কিংবা বৈ-বই নিয়েই-বা কী ভাবছি? সোজা কথায়, কবিতা ও তার বিপণনকেন্দ্রিক এমন নানাবিধ ছানবিনের প্রয়াস বা কাব্যকচালি রয়েছে এখানে।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৬। দাম ১৫০ টাকা। সঙ্গে হিরণ মিত্রের করা একটি কবিতার পোস্টার!
এখনও কিছু কপি পাওয়া যাবে কলেজ স্ট্রিটে ‘ধ্যানবিন্দু’ ও ‘সুপ্রকাশ বইঘর’-এ। ভারতে অনলাইনে boighar.in ও thinkerslane.com-এ। বাংলাদেশে প্রাপ্তিস্থান ‘বাতিঘর’। এ ছাড়া অন্যান্য সংখ্যা ও বইপত্র নিয়ে কলকাতা বইমেলা ও লিটল ম্যাগাজিন মেলায় ‘বোধশব্দ’-র টেবিল তো থাকবেই!

যোগাযোগ:
[email protected]]

https://i.postimg.cc/NMgJR5ZB/Cover-2018.jpg


438 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: প্রতিভা

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

কোদালকে কোদাল বলার সাহসই নয় শুধু যুক্তির ঘেরাটোপ এই লেখার আকর্ষণ। স্পষ্ট এবং সত্যি কথা স্পষ্ট করেই বলা, পাঠক বড়জোর আমতা আমতা করতে পারেন, গলা ছেড়ে তর্কে জড়াতে পারবেন না।
চক্ষুশূল হয়ে থাকে শুধু 'ব্যাবসা'। যতোবার এসেছে সঙ্গে একখান এক্সট্রা আ-কার !
Avatar: সুস্নাত

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

নমুনা ১
সংসদ বানান অভিধান
পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ
দ্বিতীয় মুদ্রণ: আগস্ট ২০১১
পৃষ্ঠা ৫২৫

ব্যাবসা
ব্যাবসাদার
ব্যাবসাদারি
ব্যাবসাবাণিজ্য
...
নমুনা ২
আকাদেমি বানান অভিধান
সপ্তম সংস্করণ, জুলাই ২০১১
পৃষ্ঠা ৩৫৪

ব্যাবসা
ব্যাবসাদারি
ব্যাবসাবাণিজ্য
...
এখানে ছবি দেওয়ার উপায় নেই, তাই লিখলাম। 'ব্যবসা' নয়, 'ব্যাবসা'। ভুল বানানে অভ্যস্ত চোখে ঠিক বানান চক্ষুশূল হবেই।
Avatar: byabsa

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

যদ্দূর মনে হয় ব্যবসাই ছোটকালে শিখেছিলুম। বানানের ও এতো কিছু পাল্টে গ্যালো, তাই ভাবি - নিজস্ব বানানবিধিই শ্রেয়। তবে যদি কেউ বলেন আমি তাহলে তালগাছের বানান লিখব চন্দ্রমুখি - তখন কি হবে জানিনে!
Avatar: ন্যাড়া

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

যদ্দিন বাঁচি, তদ্দিন শিখি। আম্মো জানতাম 'ব্যবসা' ঠিক, 'ব্যাবসা' ভুল। আজ দেখি চলন্তিকায় দুইই আছে। হরিচরণে 'ব্যাবসা' কিন্ত 'ব্যবসায়' আর 'ব্যবসায়ী'।

নতুন বাংলা বানানবিধি কি 'ব্যবসা' ভুল বলেছে?
Avatar: b

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

আমাদের এক মাস্টারমশায় উচ্চারণ করতেন, ববস্থা, ববসা ইত্যাদি।
Avatar: ন্যাড়া

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

পুরনো কলকাতার লোকেরা আর পশ্চিমের প্রবাসীরা অমন বলতেন। দাদার কীর্তি ছবিতে মনু মুখোপাধ্যায়ের প্রবাসী ডাক্তারের চরিত্রটি 'ববস্থা' উচ্চারণ করেছিল।
Avatar: সিএস

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

হুঁ, আমাদের স্কুলেও ছিলেন এক্জন স্যার - বব্স্স্থা, ববসায়ী বলতেন। বানানে আ-কার দেব কী দেব না দ্বন্দে পড়লেই, উচ্চারণটা মনে করে নিই।

(কিন্তু শেষে, এই লেখার সাথে সবাই বানান নিয়ে পড়লাম !!)
Avatar: খ

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

লেখাটা ভালো লেগেছে।

সৈকত ২য় যদি কিছু মন্তব্য করত খুব ভালো হত। প্রতি টি বাংলা বইয়ের প্রতি প্রথম একশো পাঠকের মধ্যে নিশ্চিত যে , তার কিছু একটা লেখা উচিত ঃ-)))

কিন্তু বইপত্র পড়ার ব্যাপারে গ্রাম কবে শহর ঘিরবে অপেক্ষা করতে করতে ৫০ বছর কেটে গেল মাইরি, আর ভাল্লাগে না।

আমার অবশ্য একটা বক্তব্য হল, রুরাল কবিতা ইজ ফিনিশড। কবিতা এবং উচ্চতম সেকুলার বিদ্যা চর্চা এখন মূলত নাগরিক, তাই এটা অবাক হবার মত কোন ঘটনা না। জেলা তে, আমার পর্যবেক্ষন হল, যেখানে নগরায়ন বেশি হয়েছে, সেখানে স্থান মাহাত্ম এবং স্থানিক প্রতিনিধিত্ত্বের বাইরে গিয়ে কাজ হচ্ছে, এবং ফ্র্যাংকলি সেটাই কাম্য।

প্রায় প্রশাসনিক রাজনীতির প্রতিফলন যেটা দেখা যায় সাহিত্য সংস্কৃতির জগতে, প্রতিটি জেলার প্রতিটি প্রতিভাবান কেই যেমন একটু শহুরে মহানুভবের দাক্ষিন্য দ্বারা আবিষ্কৃত হতে হয়, এটা মিটবে প্রচুর বড় শহর তৈরী হলে, তাতে ট্র্যাডিশনাল স্কিল এর, জীবনে প মারা যাবে, কিন্তু কবিতার উপকার হতে পারে ;-)


Avatar: খ

Re: পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা

আমি একটা কেলো করেছি, এটাকে নর্মাল টই ধরে নিয়ে ক্যাও কমেন্ট করে দিয়েছি, এটা তো পত্রিকার ব্লগ মত। সরি, ক্ষমা প্রার্থনীয়, ডিলিট হলে কোন আপত্তি নাই, প্লিজ হুতো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন