শিবাংশু RSS feed

শিবাংশু দে-এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

হে মোর দেবতা

শিবাংশু

তোমারি তুলনা তুমি....

আজ তাঁর জন্মদিন। আমার জংলা ডায়রির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা উড়িয়ে দিলুম তাঁর ফেলে যাওয়া পথে।
দাঁড়াও পথিকবর....জন্ম যদি তব অরণ্যে,

" সবুজ কাগজে
সবুজেরা লেখে কবিতা
পৃথিবী এখন তাদের হাতের মুঠোয়"
(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
মহাভারতের কালে অঙ্গ ও বঙ্গদেশ শুধুই অরণ্য ছিলো। কিন্তু বাঙালির অরণ্যপ্রীতির ইতিহাস বিশেষ প্রাচীন নয়। রাজা রামমোহন বেশ কিছুদিন চাতরার জঙ্গলমহলে আমিন ও মুন্সির কাজ করেছিলেন প্রায় দু'শো ব্ছর আগে। যে চাতরা আজকের দিনেও প্রায় দুর্গম একটি অরণ্যপ্রদেশ। অগম্য, সন্ত্রাস অধ্যুষিত সবুজের স্বর্গ। কিন্তু তাঁর কোনও লেখায় চাতরার ভূপ্রকৃতি নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই। স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র দীর্ঘকাল মেদিনীপুরের দক্ষিণে গভীর জঙ্গল পেরিয়ে ভদ্রকে গিয়ে ডেপুটিগিরি করতেন। কপালকুণ্ডলায় সামান্য উল্লেখ ব্যতিরেকে আর কোথাও কিছু লেখেননি। রবীন্দ্রনাথ পল্লীগ্রাম নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন। কিন্তু অরণ্য নিয়ে নয়। সঞ্জীবচন্দ্রের 'পালামৌ' য়ুরোপীয়দের ভারতদর্শন, তবে বাংলায়। বড়ো লেখকদের মধ্যে তো আর কারো নাম মনে আসছে না, যিনি সমুচিত আগ্রহ ও ভালোবাসা দিয়ে অরণ্যবৃক্ষের মর্যাদা দিতে চেয়েছিলেন। প্রকৃতির এই বিস্ময়টি নিয়ে প্রথম যিনি প্রকৃত শিল্প সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন, তিনি বন্দ্যকুলোদ্ভব কবি বিভূতিভূষণ। একটা গল্প শুনেছি। বিভূতিভূষণ ঘাসমাটিতে আক্ষরিকভাবে কান পেতে কিছু শুনতে পেতেন। কী শুনতেন, তা আমরা হয়তো বুঝতে পারবো না। কিন্তু তাঁর ভালোবাসার মাত্রাটি সামান্য হলেও অনুভব করতে পারি। মাত্র দশটি বই নিয়ে যদি নির্বাসনে যেতে হয়, তবে তার একটি তো অবশ্যই 'আরণ্যক'। অরণ্যকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে তার আগে তো কেউই কিছু লেখার চিন্তা করতে পারেননি। পরে লেখা হয়েছে, কিন্তু তা আরণ্যকের ধারেকাছে যেতে পারেনি। তাই বাঙালির অরণ্যচর্চার মুখ ও প্রধান প্রতিনিধি বিভূতিভূষণ। যেহেতু তিনি জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় বিহারের বনজঙ্গলের মায়ায় বুঁদ হয়েছিলেন, তাই বিহারি হিসেবে আমিও তাঁর চলাচলের পথে ধুলো ঘেঁটে বেড়াবো, তাই তো স্বাভাবিক।
----------------
বিভূতিভূষণের 'আরণ্যকে'র জঙ্গল দিয়ে শুরু করা যায়। খেলাত ঘোষের চাকরি নিয়ে যখন তিনি ভাগলপুর যা'ন, তখনও ঐ প্রান্তটি মহাভারতের কর্ণের পড়ে পাওয়া অঙ্গরাজ্যের থেকে বিশেষ নগরায়িত ছিলোনা। এখন তিনটে জেলা হয়েছে বাঁকা, গোড্ডা, দুমকা। এই সব এলাকাগুলোতে জঙ্গল ছড়িয়ে ছিলো সেকালে। বিভূতিবাবুর (বিহারে এভাবেই বলা হয়) লবটুলিয়া বইহারের কল্পনা আসলে পুর্নিয়ার উত্তরে আরারিয়া থেকে ফর্বেসগঞ্জ, তরাইয়ের বনজঙ্গল। সতীনাথ ভাদুড়ি আর ফণীশ্বরনাথ রেণুর রাজপাট। আপাততঃ ভাগলপুর থেকে পূর্বদিকে জগদীশপুর পেরিয়ে বাঁকার পথে বইসির কাছে দক্ষিণের বনভূমি যেতে হবে। ছোট পাহাড়ের রেঞ্জ একটা । শাল-সেগুন-গামারের বনভূমি। যেখানে পূর্ণিমারাতে পরিরা খেলা করতে আসে। এখানেই তাঁর মহালিখারুপ অরণ্যানী। 'মহালিখারুপ' নামটি উনি নিয়ে ছিলেন সিংভূমের 'মহালিমরুপ' পাহাড়ের নাম অনুকরনে। সিংভূমে তাঁর চলার পথ খুঁজতে গেলে আসতে হবে জামশেদপুর থেকে দক্ষিণপূর্বে রাখামাইন্স, গালুডি, চাপড়ি পেরিয়ে সুর্দা মাইন্সের দিকে রুয়ামের জঙ্গল। জামশেদপুরের প্রত্যন্ত শহরতলি সুন্দরনগর পেরোলেই একটু একটু করে সবুজের রাজত্ব শুরু হয়ে যায়। করিমসাহেবের পুকুর পেরিয়ে সুন্দরনগরের দিকে বাঁদিকে বাঁক নিলেই নরোয়া পাহাড়, ভাটিন মাইনসের রাস্তা। রাস্তাটি পৌঁছোবে জাদুগোড়া মোড়ে। যখন জাদুগোড়া থাকতুম তখন এই রাস্তাটি ছিলোনা। ছিলোনা বললে ভুল হবে। ভাটিনের পর থেকে দু'টো পাহাড়ের মাঝখান থেকে সরু পায়ে চলার পথ ছিলো। ট্রেকিং করার জন্য আদর্শ। মুর্গাঘুটু, হরতোপা থেকে রাজদোহার দীঘি। নরওয়াপাহাড়ে মাইনিং শুরু হবার পর ইউরেনিয়াম কর্পোরেশনের কলোনি হলো, অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের কমপ্লেক্স বসলো। জঙ্গলের মধ্যে গ্রাম গুলো জুড়ে জুড়ে চওড়া রাস্তা। আধঘন্টা-পৌনে ঘন্টার মধ্যে জাদুগোড়া কলোনি। তবে পুরোনো রাস্তাটি সত্যিই পুরোনো। জামশেদপুরের দক্ষিণে রেলস্টেশন পেরিয়ে সেই সুন্দরনগর হয়েই সোজা হাতা মোড়। ঐ মোড়টির নকটার্নটির সঙ্গে অনেক চেনা নাম জড়িয়ে আছে। বাঁদিকে গেলে সঁকরদা, কালিকাপুর পেরোলেই সিংভূমের আদি জঙ্গল । পাহাড়ের গায়ে রংকিনীদেবীর মন্দির। এই লোকজ দেবীটিকে নিয়ে নানা রোমাঞ্চকর গপ্পোগাছা রয়েছে। বিভূতিভূষণের লেখায় এই দেবী বহুবার এসেছেন। এই রাস্তাটিও গিয়ে পড়ছে জাদুগোড়া মোড়ে। পাহাড়ের দক্ষিণদিক দিয়ে। এটাই ছিলো জামশেদপুর থেকে ঘাটশিলা যাবার আদি রাস্তা। কলকাতা যাবার জন্যও। এই পথেই পঞ্চাশ সালের এক হেমন্তের বিকেলে জরুরি তলব পেয়ে জামশেদপুরের বিধান রায়, ডঃ ব্রহ্মপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, অনিঃশেষ পাহাড় আর ঘন জঙ্গল পার করে ঊর্ধশ্বাসে তাঁর কালো অস্টিন গাড়িটি ছুটিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ঘাটশিলার ডাহিগোড়ায়। কিন্তু ততোক্ষণে বিভূতিভূষণ দেবযানে সওয়ার হয়ে গেছেন। হাতের কালোব্যাগটি আর খুলতে হয়নি তাঁকে। প্রণাম করে বেরিয়ে চলে এসেছিলেন।
---------------------
হাতা মোড় থেকে ডানদিকে ঘুরলেই চাইবাসা হয়ে পশ্চিম সিংভূমের অন্দরমহলের আঁকাবাঁকা পথ। গোবিন্দপুর, রাজনগর, কুজুনদী। চাইবাসা পেরিয়ে ঝিকপানি, হাটগামারিয়া, নোয়ামুন্ডি, বড়াজামদা, বড়বিল, বোলানি, মহিষানি, কিরিবুরু, বরাইবুরু, মেঘাতুবুরু। আবার হাতামোড় থেকে নাকবরাবর গেলে হলুদপুকুর পেরোলেই ওড়িশার সীমান্ত। তিরিং আর বাহালদার পাশে পাশে রয়েছে বাঁকা'র জঙ্গল। সোজা রাইরংপুর, বিসো'ই, বাংরিপোসি হয়ে বারিপদা। গোটা এলাকাটি ছিলো বিভূতিভূষণের নখদর্পণে। তিরিশ-চল্লিশের দশকে এসব জায়গা ছিলো মানচিত্রের বাইরে গভীর অরণ্যানী। অগম্য, বিপজ্জনক। কিন্তু তাঁর কা্ছে জঙ্গলের কিছুই নেতিবাচক নয়। বাংলাসংস্কৃতিতে জঙ্গলকে অনন্ত রোমান্টিক ভাবমূর্তি দেবার একটা সচেতন প্রয়াস তো তাঁর চিরকালই ছিলো। জানিনা তা ভালো না মন্দ। তিনি তো জন্মেছিলেন রাজা মিডার স্পর্শশক্তি নিয়ে। কিন্তু তাঁকে অনুসরণ করে যাঁরা জঙ্গলকে রোমান্সের স্টুডিও ফ্লোর করে তুলেছেন পরবর্তীকালে, তাঁদের জন্য থাক দু'চারটে দীর্ঘশ্বাস।
-------------------------
জাদুগোড়া থেকে পথটি সুর্দা পর্যন্ত গিয়ে দুদিকে ঘুরে যায়। একদিকে মৌভান্ডার, ঘাটশিলা, অন্যদিকে মুসাবনি, আদি কপার ক্যাপিটাল অফ ইন্ডিয়া। গোটা পথটির সঙ্গেই জঙ্গল জড়াজড়ি করে এগিয়ে গেছে। রুয়াম রেঞ্জ। অনন্ত সিং , অমলেন্দু সেন আর মেরি টাইলারের গপ্পো একালেও কেউ কেউ মনে রাখেন। চাপড়ি, নেত্রা, কেঁদাডিহ, সোহদা, মাঝে মাঝে তামার খনি। জঙ্গলটি চিরে সুবর্ণরেখা দুলে দুলে বয়ে যায়। সুবর্ণরেখা আমাদের গঙ্গা। রুয়াম থেকে নদী পেরিয়ে পূর্বদিকে গেলে গালুডির বাঁধ। ঘাটশিলায় ডাহিগোড়ার বাড়ি থেকে বিভূতিভূষণ হেঁটে হেঁটে এই গালুডির সুবর্ণরেখা পেরিয়ে পশ্চিমে রুয়ামে পাহাড়ের উপরে সিদ্ধেশ্বর শিবের মন্দিরে সবুজের ভাষা শুনতে যেতেন। ভয়ঙ্কর সুন্দর বনরাজিনীলা পেরিয়ে চড়াইয়ের পাকদণ্ডি ধরে তাঁর এগিয়ে যাওয়া। ওখানে এ তল্লাটের সব চেয়ে বেশি শঙ্খচূড়ের আস্তানা। বাবুজি ধীরে চলনা। ওখানকার জঙ্গলে একটু মন দিই যদি তবে আরণ্যকের বায়োস্কোপ, চোখে সবুজ, মনে সিপিয়া, শুধু মিলিয়ে নেওয়াটুকুই বাকি।
-------------------------------
এই নদী, এই নীলসবুজ, এই জোড় লাগা নাগিনীর মতো বনপথ, সব মিলিয়েই তো জংলাভৈরবীর ঢিমে বড়ত। কসুর পতিয়ালার সবাই গেয়েছেন "নৈন মোরে তরস রহে, আজা বালম পরদেশি।" মাটির কুমারী মেয়ে তার সব মায়ামোহমদিরতা নিয়ে এভাবেই সম্পূর্ণা নারী হয়ে ওঠে, অরণ্যে বেফিক্র লাপতা হয়ে যাওয়ার টান, হারিয়ে যাওয়ার স্বাদ। যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের.....। পৃথিবীর যাবতীয় আততি, আশ্লেষ, আমূল থেকে খোঁজা, খুঁজে যাওয়া। সৌন্দর্যের সঙ্গে কথাবার্তা, সে তো হবেই। সে অন্যপূর্বা কি না কখনও ভাবিনি। তবু ও গাঁয়ে আমারও কিছু ঘরবাড়ি আছে। কবি যখন বলেন আমার প্রিয় লাইনগুলো, তখন ভাবি এতো আমার কথা, তিনি না হয় লিখেই দিয়েছেন,
বিভূতিভূষণও সৌন্দর্যকে দেখতে দেখতে কাছ দিয়ে হেঁটে চলে যান, মহাপ্রস্থানের পথে। আর আমি যুধিষ্ঠিরের কুকুরের মতো তাঁর পিছু পিছু।
এই মানুষজন্ম, এভাবেই চেয়েছি চিরদিন .....
" সৌন্দর্যের সঙ্গে ফের দেখা হলো, দেখলাম সৌন্দর্যের সিঁথিতে সিন্দুর
তার মানে সম্প্রতি সে বিবাহ করেছে, আমি সৌন্দর্যের সঙ্গে প্রায়শ কথাবার্তা বলতাম এককালে, এখন সে বিবাহ করেছে বলে আমি
আর কথা বলিনি তো, শুধু তার কাছ দিয়ে হাঁটলাম বহুক্ষণব্যাপী...."
(সৌন্দর্য- বিনয় মজুমদার)

https://www.youtube.com/watch?v=9fj0ukHnnzw&fbclid=IwAR0fCtmMEuSUGj-NM
PcVWHlGGRKtfVb1nB2Zgra4zrx__cueRTna3cDMh2Y


215 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: শিবাংশু

Re: হে মোর দেবতা

"....এখান হইতে চলিয়া যাইবার সময় আসিয়াছে। একবার ভানুমতীর সঙ্গে দেখা করিবার ইচ্ছা প্রবল হইল। ধন্‌ঝরি শৈলমালা একটি সুন্দর স্বপ্নের মতো আমার মন অধিকার করিয়া আছে… তাহার বনানী … তাহার জ্যোৎস্নালোকিত রাত্রি …

সঙ্গে লইলাম যুগলপ্রসাদকে।

তহসিলদার সজ্জন সিং-এর ঘোড়াটাতে যুগলপ্রসাদ চড়িয়াছিল- আমাদের মহালের সীমানা পার হইতে না-হইতেই বলিল-হুজুর, এ ঘোড়া চলবে না, জঙ্গলের পথে রহল চাল ধরলেই হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে আমারও পা খোঁড়া হবে। বদলে নিয়ে আসি।

তাহাকে আশ্বস্ত করিলাম। সজ্জন সিং ভালো সওয়ার, সে কতবার পূর্ণিয়ায় মকদ্দমা তদারক করিতে গিয়াছে এই ঘোড়ায়। পূর্ণিয়া যাইতে হইলে কেমন পথে যাইতে হয় যুগলপ্রসাদের তাহা অজ্ঞাত নয় নিশ্চয়ই।

শীঘ্রই কারো নদী পার হইলাম।

তারপর অরণ্য, অরণ্য- সুন্দর অপূর্ব ঘন নির্জন অরণ্য! পূর্বেই বলিয়াছি এ-জঙ্গলে মাথার উপরে গাছপালার ডালে ডালে জড়াজড়ি নাই- কেঁদচারা, শালচারা, পলাশ, মহুয়া, কুলের অরণ্য- প্রস্তরাকীর্ণ রাঙা মাটির ডাঙা, উঁচু-নিচু। মাঝে মাঝে মাটির উপর বন্য হস্তীর পদচিহ্ন। মানুষজন নাই।

হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিলাম লবটুলিয়ার নূতন তৈরি ঘিঞ্জি কুশ্রী টোলা ও বস্তি এবং একঘেয়ে ধূসর, চষা জমি দেখিবার পরে। এ-রকম আরণ্য প্রদেশ এদিকে আর কোথাও নাই।

এই পথের সেই দুটি বন্য গ্রাম- বুরুডি ও কুলপাল- বেলা বারোটার মধ্যেই ছাড়াইলাম। তার পরেই ফাঁকা জঙ্গল পিছনে পড়িয়া রহিল- সম্মুখে বড় বড় বনস্পতির ঘন অরণ্য। কার্তিকের শেষ, বাতাস ঠাণ্ডা- গরমের লেশমাত্রও নাই।

দূরে দূরে ধন্‌ঝরি পাহাড়শ্রেণী বেশ স্পষ্ট হইয়া ফুটিল।"

কারো, বুরুডিহ....এ আমাদের সিংভূমের গপ্পো। বইসি-বাঁকার নয়। দেবতাকে ছাড়া আমাদের সিংভূম বাঁচেনা...


Avatar: tini

Re: হে মোর দেবতা

কারোর কিছু বলার নেই হয়ত।
কেউ কেউ যেমন মনের কাছে রয়ে যায় সারাটি জীবন, দেখা না হলেও, হয়্ত কোনোদিন কথা না হলেও - এ বইটা, আজ বুঝতে পারি, অজান্তে রয়ে গেছে মনের কোনাটিতে, ফিরে ফিরে আসে আচমকা মূহূর্তে।
ধন্যবাদ শিবাংশুদা।
Avatar: aranya

Re: হে মোর দেবতা

বাঃ, ভাল লাগল খুব
Avatar: শিবাংশু

Re: হে মোর দেবতা

@tini, অরণ্য,
ধন্যবাদ...


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন