কুশান গুপ্ত RSS feed

নাম পরিবর্তন করি, এফিডেফিট বিনা।আসল নামে হাজার হাজার ডক্টর হাজরা আছেন, কে প্রথম জানা নেই, কে দ্বিতীয়, কে অদ্বিতীয়, এ ব্যাপারে ধারণা অস্বচ্ছ। অধমের ব্লগ অত্যন্ত ইনকনসিস্টেন্ট,কিছু বা খাপছাড়া, খানিকটা বারোভাজা ধরণের। কিন্তু গম্ভীর নিবন্ধের পর ক্লান্তি আসে, তখন কবিতা, তারপর ঘুম, ক্লান্তি ও নস্টালজিয়া। কোনো গন্তব্য নেই, তবু হাঁটতে হয় যেমন। একসময় অবকাশ ছিল অখন্ড, নিষিদ্ধ তামাশা লয়ে রংদার সমকাল চোখ মারিত। আজকাল আর মনেও হয় না, এ জীবন লইয়া কি করিব? আপনাদের হয়?

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বেকার ও সমীকরণ

কুশান গুপ্ত

'বেকার'-এই শব্দটি আমাকে আজন্ম বিস্মিত করেছে।

বাংলায় লেখাপড়া শিখে, এমনকী একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে, সে কী বাংলায় পদার্থবিদ্যার বিদ্যা বালানীয় চর্চা! যেমন, 'ও বিন্দুর সাপেক্ষে ভ্রামক লইয়া পাই।' ভ্রামক কি রে? ভ্রম না ভ্রমণের কাছাকাছি? না, ভ্রামকের নিকটবর্তী শব্দ হলো দ্বন্দ্ব। মূল শব্দ দুটি হলো, যথাক্রমে মোমেন্ট ও কাপল। অর্থাৎ, মুহূর্ত এবং দম্পতি/যুগল ভাবলেই ল্যাঠা চুকে যায়। তা নয়, একটি তীর আঁকা ভেক্টরীয় বল এবং নির্দিষ্ট বিন্দু হইতে উল্লম্ব দূরত্বের নির্ণেয় আজব গুণফল, চিত্তরঞ্জন দাশগুপ্তের মতে, ভ্রামক। দত্ত পাল চৌধুরী বা ডিপিসির মতেও তাই। এমনকী এ বিষয়ে আমাদের পদার্থবিদ্যার মাস্টারমশাই বিষ্ণুবাবুও দ্বিমত পোষণ করেন নি। এ সেই প্লাস টু বা একাদশ-দ্বাদশকালীন সঙ্কটকাল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে। সে এক অস্বস্তিকর আবেশ ভাইসকল, তড়িচ্চুম্বকীয়, চোখে আর ব্রেনে পিঙ্ক ফ্লয়েড লেগে যাচ্ছে সব নাদান কিশোরের, সকল ফ্রকপরিহিতা লীনা চন্দ্রভারকরের। একদিকে অবকলন সমাকলন, অন্যদিকে পর্যায় সারনী ও বেঞ্জিন বলয়। ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে! বগাকে দেখিয়া বগি...

যাই হোক, বেকার শব্দটির সঙ্গে প্রথম পরিচয় দেওয়াল লিখন বা গ্রাফিত্তি দেখে। এটা যে একটা গুরুতর সমস্যা, তা বোঝা হয়ে গেছে ক্লাস ফোরেই। গভর্নমেন্ট শব্দটির না পারি বানান, না উচ্চারণ। কবীর সুমন তো বলেইছেন, গভর্মেন্টের থাকা উচিত উচ্চারণের ডিপার-ম্যান্ট। গরমেন্টই বেকার সমস্যার জন্য দায়ী। একথা, দেওয়াল দেখে, মিছিল দেখে, শ্লোগান শুনে, অভিজ্ঞতাহীন, বুঝে গেছি। বস্তুত কিসের জন্য এই কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী নয়? তখন স্বৈরতন্ত্র ও স্বৈরাচারী শব্দদ্বয় খুব চালু ছিলো। মিছিলের টিপিক্যাল শ্লোগান ছিল আজকের চেয়ে অনেকাংশে জোরালো: স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে, লড়তে হবে একসাথে।

যখন ক্লাস ফোর কী ফাইভ তখন পাশের বাড়ির জমিরদা একটা কাজ পেলো। কীসের কাজ করো, জমিরদা? জমিরদা বললো, বেকারীতে। বেকারীতে কাজ মানে? ওই যেখানে পাউরুটি বিস্কুট তৈরি হয়। ফাঁপরে পড়ে গেলাম। মনে হলো বেকার সমস্যা দূর করে যে, তার নামই কৃষ্ণা বা কাবেরী বেকারী। কিংবা, এ হলো বেকারদের এক রকম পুনর্বাসনস্থল। এভাবেই মনকে বোঝালাম। মনেরে বোঝাও আজ সহজে। কেননা রবি ঠাকুর বলেছেন। মনে রাখতে হবে, আমাদের সময়ে, বাবাকে এসব প্রশ্ন করলে, ভারিক্কি গলায় ডেপোমি হচ্ছে বলে যে চোটপাট চলত, তাতে রিস্ক নিতে পারতাম না। মামা, কাকা বা জ্যাঠারাও কম রিস্কি ছিল না। আমার এক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা ছিল ছোটমামা আর বাবলুদা। তা, ওদেরও লজ্জায় এসব জিজ্ঞেস করিনি, পাছে একেবারে আনাড়ি ভেবে বসে।

অকস্মাৎ, মনে হয় সন ১৯৮৫ তে, কাগজের সুবাদে জানলাম বরিস বেকার নামে এক খেলোয়াড় উইম্বলডন জিতলেন। সেবারেই স্টেফি গ্রাফও আলোকিত হলেন। ভাবলাম, এতদিনে বেকারের একটা সদ্গতি হলো।সমস্যাপীড়িত বেকারও ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হতে পারে তাহলে। এতদিনে তবে বেকারদের প্রতিনিধি, আসল বেকার, সকল চক্রান্ত ব্যর্থ করে জিতে গেল। প্রকৃত, বেকার যুবকদের একমাত্র সান্ত্বনা প্রেম, একথা বুঝতে অনেক দেরি, কারণ নচিকেতা তখন গোপনে সেই আশির দশকে কোনো এক গোকুলে বাড়িতেছেন। স্টেফির ব্যাপারটা পরের বছর লেখচিত্র আঁকার সময় টের পেলুম। অসিত নাগ স্যার গ্রাফ করাতেন। একদিকে এক্স অক্ষ ও অন্যদিকে ওয়াই অক্ষ এঁকে দুটি সরলরেখা যে সবুজ চেকচেক কাগজে ছেদ করে যায়, সেই কাগজকেই বলে গ্রাফ পেপার। তার আগেই সমীকরণ শব্দটির সঙ্গে পরিচয় ঘটে গেছে দুভাবে। প্রাথমিক ভাবে, পিতা ও পুত্রের বয়সঘটিত যে সামাজিক-গাণিতিক কেশব নাগীয় জঘন্য রসিকতা, তা এর মূলে, রুটে, বীজে, দ্বিঘাতে, সর্বত্র। পরীক্ষার হলে অংকের উত্তর আসছে বাবার বয়স ছয়, ছেলের ছত্রিশ। আরো আরো প্রভু( শ্রীনাগ) আরো আরো। এমনি করে, এমনি করেই আমায় মা আ আ রো। সমীকরণ ঘটিত দ্বিতীয় রসিকতাটি হলো আদ্যন্ত বাংলার, ঘেঁটে যাওয়া ব্যাকরণগত:
সমীকরণের দুটি তাজা উদাহরণ:
গল্প>গপ্প
মহোৎসব>মোচ্ছব

অষ্টম শ্রেণীতে ইংরেজিতে একশোতে একচল্লিশ পাওয়ার পরে নবমে বাধ্যত টিউটরের কাছে যাই। আমাদের শ্রদ্ধেয় মাস্টারমশাই দেড় ঘন্টা ইংরিজি ও আধ ঘন্টা বাংলা পড়াতেন। বাংলা মানে আদতে বাংলা ব্যাকরণ।

মনে আছে, শাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরিহিত স্যার একটি মোড়ায় বসে রয়েছেন। মেঝেতে মাদুরে বালক বালিকারা। স্যার বললেন লেখ: গল্প গ্রেটার দ্যান গপ্প ইকোয়াল টু সমীকরণ।

পরেরটা অপিনিহিতি। সেটাতে বললেন, লেখ:

আজি গ্রেটার দ্যান আইজ ইকোয়াল টু অপিনিহিতি।

অতঃপর অভিশ্রুতি ও স্বরাগম। একই গঠনগত সমীকরণ মেনে।

আজও গমগম করিতেছে স্যারের সেই মেঘমন্দ্র কন্ঠস্বর।

110 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন