সুকান্ত ঘোষ RSS feed

আমার লেখায় কোন সমাজ বদলের ঈঙ্গিত পাবেন না কিন্তু! আর পাবেন না রাজনৈতিক সচেতনতা। এবার আপনার ব্যাপার।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

জীবন যেরকম

সুকান্ত ঘোষ

কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা পোষ্ট করেছিলাম “সাচ্‌ ইজ লাইফ” বলে। কেন করেছিলাম সেটা ঠিক ব্যখ্যা করে বলতে পারব না – আসলে গত দুই বছরে ব্যক্তিগত ভাবে যা কিছুর মধ্যে দিয়ে গেছি তাতে করে কখনও কখনও মনে হয়েছে যে হয়ত এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি মানুষ চট করে হয় না। আমি যেন নিজেই বুঝতে পারছিলাম না, নিজে যা ভাবছি সেটাই কি স্বাভাবিক ভাবনা? সাধারণ মানুষ কি এমন ভাবেই ভাবে – নাকি পরিস্থিতি এমন কোণার দিকে ঠেলে দিয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে আমার ভাবনা! সর্বান্তকরণে আশা করব যে কাউকে যেন আমার মতন ঘটনার সম্মুখিন হতে না হয় সেই উপলব্ধির জন্য। সেই সাত পাঁচ ভেবেই আমি কিছু কথা ইংরাজীতে লিখি – হয়ত কিছু মানুষ পড়বে, কিছু মানুষ স্বান্তনা পাবে এই ভেবে যে তারা একাই লড়াই করছে না – সাথে অনেকে আছে।

এই সব ঘটনা শুরু হবার যে প্রশ্নটা সর্বপ্রথম মনে আসতে শুরু করত তা হল – “হোয়াই মি?” আরো ভিতরে ঢুকে দেখলাম যে আমি একা নয় – আমার থেকেও বেশী সমস্যায় মানুষ রয়েছে আশেপাশে। আর তাই সেই “হোয়াই মি” প্রশ্ন থেকে কাউকে যদি উৎরাতে সাহায্য করতে পারি – সেই সব ভাবছিলাম। বিশ্বাস করতে পারেন যে “হোয়াই মি” – এই সহজ প্রশ্নটা যে জীবনকে কি ভাবে পালটে দিতে পারে, তা অনেক সময় প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলে বোঝা যায় না।

সেই লেখা ফেসবুকে পড়ে অনেকে আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করেছেন – বেশ কিছু মানুষ পরামর্শ চেয়েছেন, অনেকে শুধু তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে চেয়েছেন – অনেকে প্রায় অসহায়, কেবলমাত্র কিছু কথা বলতে চেয়েছেন, কোনরকম প্রত্যাশা ছাড়াই। আবার অনেকে এমন কিছু প্রশ্ন করেছেন যে, সেই দিক থেকে আমি ভাবিই নি ব্যাপারটা কোনদিন।

একজন জানালেন তার বাবার অন্ত্রে ক্যানসার, ফোর্থ স্টেজ, বয়স হয়েছে। ডাক্তার বলছে কেমো নিতে, কিন্তু বাবা চাইছে না কেনো নিতে। বলছে যে কটা দিন বাঁচি এই ভাবেই কাটাতে চাই। সেই ভদ্রমহিলা শুধু জানতে চাইলেন আমি হলে কি করতাম! জানতাম না যে ভাই/বন্ধুর মত আমার কাছের একজনার বাবা এই ক্যানসারে খুব ভুগছে – কেমো নেবার মতন ক্ষমতা নেই – সেই নিয়ে কথা হল, যে মানুষ কেমন ভাবে মৃত্যুর জন্য অসহায় ভাবে অপেক্ষা করে – প্রবল যন্ত্রণা সহ!

ডাক্তারদের কাছে হয়ত এই গুলো কিছুই ব্যাপার নয় – কিন্তু আমার মত আমজনতা তো আর এই সব আগে দ্যাখে নি বা শোনে নি। কেমন যেন বিহ্বল লাগে। তবে কিনা ডাক্তারদের সাথে একটু পার্থক্যও আছে – তারা দিনের পর দিন এই দেখতে দেখতে স্যাচুরেটেড হয়ে যান। তাঁদের অভিজ্ঞতা দিয়ে আম জনতার অসহয়তা মাপা বা বিহ্বলতার পরিমাপ করা মনে হয় না ঠিক হবে।

এমন অনেকের প্রশ্নের সম্মুখিন হলাম – নিজের জানা মত কিছু শেয়ার করলাম। একদিন এক ভদ্রমহিলা, প্রায় তরুণীই বলা যেতে পারে – ইনবক্সে যোগাযোগ করলেন। আগেই বললেন, যদি কিছু মনে না করেন, একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারি আপনাকে। দিয়ে জানালেন যে, তিনি নিজে ব্রেষ্ট ক্যান্সারে ভুগছেন – বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু এখন ছাড়াছাড়ি হয়ে গ্যাছে। ফ্যামিলিতে কেউ নেই – একা থাকেন – এবং দেখতে উনার নিজের অ্যাসেসমেন্ট ‘ভালো নয়’। আমি বুঝতে পারলাম না যে, “ভালো দেখতে নয়” এটা কি ভাবে আলোচনায় আসতে পারে। যখন জানালাম যে স্বচ্ছন্দে তিনি প্রশ্ন করতে পারেন, উত্তর দেবার হলে চেষ্টা করব। উনি বললেন, “অনেষ্টলি দেবেন কিন্তু, আমার কাছে সেটাই জরুরী”। আবার অবাক হলেও, জানাতে বললাম তাঁর প্রশ্ন। উনি বললেন, “আচ্ছা, আপনি যে আপনার স্ত্রী-কে নিয়ে ফেসবুকে মাঝে মাঝেই পোষ্ট করেন – মনে হয় আপনি তাকে ভালোবাসতেন। আর আপনার স্ত্রী তো খুবই সুন্দরী। আপনি সত্যি করে বলুন তো যে যদি আপনার স্ত্রী এতো সুন্দরী না হত, তা হলেও কি আপনি ফেসবুকে তার ছবি দিয়ে শেয়ার করতেন এমন ভাবে এতদিন পরেও?” কি উত্তর দেব বুঝতে পারলাম না – সত্যি বলতে কি এই অ্যাঙ্গেল থেকে আমি একদমই ভেবে দেখি নি কোনদিন! কল্পনা করার চেষ্টা করি যে একজন একা বিবাহ বিচ্ছিন্না ভদ্রমহিলা স্তনের ক্যান্সার নিয়ে লড়াই করছেন – পাশে কেউ নেই, কি অসম্ভব লড়াই !

অনেক অনুরোধ এল যে আপনি লেখাটা বাংলায় লিখছেন না কেন? আপনি তো এমনিতে সব পোষ্টই প্রায় বাংলায় লেখেন। এই সব সাত পাঁচ ভাবে ঠিক করলাম, ওই লেখাটার বাংলা অনুবাদটা করেই ফেলা যাক। আরো বড় করে বাঙলায় লেখার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু দিন দিন সেই ইচ্ছা চলে যাচ্ছে – বড় যন্ত্রণার কথা মনে করতে খুব কষ্ট হয়। তাই প্রায় আক্ষরিক অনুবাদটাই থাকুক।

আমরা প্রায় সবাই কোন না কোন সময় সেই প্রবাদ বাক্য/বাগধারা ব্যবহার করেছি, কখনও ভেবে চিনতে, কখনও অপ্রাসঙ্গিক ভাবে, হেলাফেলা করে – “মানুষের জীবন অনৈশ্চয়তায় ভরপুর”, “সত্য ঘটনা কল্পনার থেকেও বেশী অবাকজনক”। কিন্তু কেমন লাগবে কোনদিন ভেবেছেন যদি আপনি নিজে বা আপনার জীবন এই সব প্রবাদ বাক্যের লক্ষ্য হয়ে ওঠে? হাল ছেড়ে দিতে মনে করবেন কি? মনে হবে কি যে ‘আর পেরে উঠছি না’? জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা জমা হতে করবে কি? সেই জীবনের প্রতি, যে জীবন মাত্র কিছুদিন আগে পর্যন্ত আপনাকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছিল?

আমার স্ত্রী অমৃতা মাত্র চৌত্রিশ বছর বয়েসে কিছু দিন আগে মারা যায় ক্যান্সারে। অমৃতার ক্যান্সার যখন প্রথম ধরা পরে তখন আমাদের বাচ্চার বয়স ছিল দেড় বছর – আর একবছরের ব্যবধানে যখন অমৃতা মারা যায়, আমাদের বাচ্ছার বয়স ছিল মাত্র আড়াই। আমরা পরিবার ছিল তিনজনের – ভারত থেকে অনেক দূরের দেশে, যেখানে আমরা চাকুরী সূত্রে বসবাস করতাম। সেই দূরের দেশেই অমৃতার শরীর খারাপ হয় এবং সেই খানেই তার ক্যান্সার ধরা পরে। ভাগ্যের কি পরিহাস – সেই একই হাসপাতালের পাশের করিডোর এনে দিয়েছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত – আমাদের বাচ্চার জন্ম। আর সেই দিন তার থেকে মাত্র কিছু দূরের এক ঘরে ডাক্তার দিল বজ্রপাতের মতন খবর। অমৃতার একটা মেজর সার্জারীর দরকার হয়ে পরে – এবং আমরা তিনজনে দুই দেশের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে যাতাযাত শুরু করি – সঙ্গে দেড় বছরের বাচ্চা থাকতে চাইছে অমৃতার কোলে যে নিজেই প্রচন্ড অসুস্থ।

সেই সার্জারির পর আমি অমৃতার সাথে এক ঘরে, তার বেডের পাশে তিন সপ্তাহ কাটালা্ম - ২৪ ঘন্টা। তখনও কিন্তু আমাদের মনে আশা ছিল, অন্তত আমরা সেটাই ভেবেছিলাম। অপারেশন সফল হয়েছিল – স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই অপারেশনের কিছুদিন পর তার কেমো থেরাপী শুরু হয় – কেমো এবং রেডিয়েশন। এক মাসের উপর অমৃতাকে রেডিয়েশন নিতে হয় – প্রতিদিন সে রেডিয়েশন নিতে যেত, অফুরন্ত জীবনীশক্তি নিয়ে। সব কিছু ছোট টাইম স্কেলে ঠিক ঠাক চলছিল – আমি অমৃতা আর ছেলেকে নিয়ে সেই চাকুরী করার দেশে ফিরে গেলাম। কিন্তু ততদিনে দেশে ফিরে আশা মনস্থির করে ফেলি। আমি ততদিনে প্রায় ১৭ বছর ভারতের বাইরে- আমরা দুজনেই বুঝতে পেরেছিলাম খুব বেশী সময় আমাদের হাতে নেই – তাই শেষ কটা দিন পরিবারের আশেপাশে থেকে ভারতটা একটু ঘুরে দেখে নিয়ে কাটাতে চেয়েছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম অন্তত ২-৩ বছর আমাদের হাতে আছে!

কিন্তু অদৃষ্টেত পরিহাস মনে হয় একেই বলে! দেশে ফেরার তিন দিনের মাথায় অমৃতা আবার অসুস্থ হয়ে পড়ল – আমরা তখন আমাদের কোম্পানীর দেওয়া অ্যাপার্টমেন্টেই ছিলাম। আবার ছোটাছুটি – আশেপাশে সাহায্য করার মত সবাইকে চিনে নেবার মত সময়ও পাই নি। ডাক্তারের কাছে দিয়ে ফোন করলাম এক বন্ধুকে – সে হাসপাতালে এসে আমাদের বাচ্ছাকে নিয়ে সামলাচ্ছে – আর আমি অমৃতা-ডাক্তারের সাথে। পরীক্ষায় প্রমাণ হল যে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে – এর কয়েকদিনের মধ্যেই খুব বাড়াবাড়ি হয়ে অমৃতাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হল। আমি আবার একমাস মত অমৃতার বেডের পাশে সেই এক ঘরে হাসপাতালে – কিন্তু আমরা দুই জনেই জানতাম এবার আর কোন আশা নেই – শুধু দিন গুণে যাওয়া।

কেমন লাগবে মনে হয় যদি কেউ তার স্ত্রীর পাশে থাকেন – যার বয়স তেমন কিছু বেশী নয় – এবং তারা দুই জনেই জানেন যে মৃত্যু শুধু সময়ের অপেক্ষা? অমৃতার যন্ত্রণা এমন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে আমি অবচেতন মনে ভাবছি – এবার কিছু একটা হয়ে যাওয়াই ভালো – সেই যন্ত্রণা আর চোখে দেখা যাচ্ছে না। কেমন লাগবে যদি কাউকে তার প্রিয়তমাকে নিয়ে এমন ভাবনা ভাবতে হয়?
আরো কি রকম বাজে কো-ইন্সিডেন্স, অমৃতা যখন মারা যায়, আমার তখন চিকেন পক্স! জীবনে প্রথম বার আমার কোন রোগ হল যার ফলে আমি ঘর বন্দী। আমি তখন অন্য এক শহরে হোটলের ঘরে বন্দী – কেমো নিয়ে অমৃতার প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কমে আসার জন্য, আমাকে ডাক্তার তার আশে পাশে যেতে নিষেধ করেছিল পক্স পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত। অমৃতার জীবনী শক্তি আস্তে আস্তে শেষ হয়ে আসছে – কিন্তু আমি কাছে যেতে পারছি না। এই ভাবেই একসময় সে মারা গেল – আমি ফোন মারফত খবর পেলাম। কেমন মানসিক অবস্থা হবে মনে করা যেতে পারে যেখানে কাউকে ফোনে শুনে যেতে হয় আস্তে আস্তে তার ভালোবাসার কারো হৃদস্পন্দন থেমে যাবার কথা?

এতক্ষণ যদি কেউ পড়ে থাকেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে অমৃতার ক্যান্সার সনাক্ত হবার পর আমার জীবন কেমন ওলট পালট হয়ে গিয়েছিল? আমার কাছে অনেকে জানতে চায়, আমি কেমন করে স্থির রাখতে পারছি নিজেকে? কি ভাবে নিজেকে চালিত করার শক্তি পারছি? আমি বুঝতে পারি না – জানিও না যে এতে কিছু কৃতিত্ত্বের ব্যাপার আছে কিনা – বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় হয়ত আমি কত চাপে আছি। তবে সেই চাপের অনুমান সাধারণ লোকে করে চেনা অঙ্ক অনুসারে – ঘটনা দেখা এবং তার প্রতিক্রিয়ার চেনা অঙ্ক। বাস্তব তার থেকেও বেশী কঠিন এবং জটিল! অন্য যে মানসিক চাপ আমার উপর থাবা দিচ্ছে তার সন্ধান কে রাখে?

আমরা একটা বাড়ি কিনেছিলাম সেই শহরে যেখানে আরো বেশ কিছু দিন পরে ফিরে আমাদের থাকার কথা ছিল পাকাপাকি ভাবে। সেই বাড়ি কিছুদিন আগে হ্যান্ডওভার করেছিল বিল্ডার। নিজে শিল্পী হবার জন্য, সেই ঘরের সমস্ত ইন্টিরিয়র এবং আরো অনেক কিছু অমৃতা নিজে প্ল্যান করে গিয়েছিল খুব ডিটেলে – সব কিছু এঁকে এঁকে। সে রঙ নিয়ে খুব খুঁত খুঁতে ছিল – আমার মনে আছে মৃত্যুর মাত্র দিন দশেক আগেও, যখন তার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, তখনো হাসপাতালের বেডে শুয়ে আমার সাথে সে আমাদের লাইব্রেরী রুমের রঙের শেড এবং বুক-কেসের ডিজাইন নিয়ে রাগারাগি করছিল। যে লোকটা আমাদের বাড়ির ইন্টিরিয়ার করছিল, সে নাকি ঠিক কিনতে পারে নি রঙটা এবং তার এঁকে দেওয়া বুক কেসও ঠিক বানাতে পারে নি। নিজের প্রিয় বাড়িতে অমৃতা কোনদিন পদার্পণ করে উঠতে পারে নি! যে দিন প্রথম আমাদের সেই বাড়িতে দেখতে আসার কথা ছিল – সেই দিনই অমৃতাকে হাসপাতালে যেতে হয় ফেরার পর শরীর খারাপ হয়ে যাবার জন্য। অনুমান করে নিন যে কেমন লাগতে পারে আমার সেই বাড়িতে একাকি থাকতে এখন, যেখানে অমৃতা একবারও প্রবেশ করে নি – কিন্তু চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে সে – তার আঁকা ছবি, তার করা পাথরের কাজ – তার কেনা আসবাব।

আমি কেমন ভাবে নিজেকে প্রবোধ দিই? খুব একটা চেষ্টা করি না নিজেকে প্রবোধ দেবার – খালি মনে হয় আমার এখনো কিছু কাজ বাকি আছে যা অমৃতা করে যেতে চেয়েছিল। হাল ছেড়ে দেওয়া খুবই সহজ – ইন ফ্যাক্ট আমি যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছি, হাল ছেড়ে দেওয়াই সব চেয়ে সহজ উপায় ছিল। কিন্তু জীবনের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে কি হবে? অন্তত আমাদের বাচ্ছা মুখ চেয়ে আমাকে সেই লড়াই চালিয়ে যেতেই হবে। প্রবোধ দেবার মধ্যে মাত্র একটা জিনিস আমাকে শান্তি দেয় – সেই ভাবনা যে অমৃতা তার জীবন খুব আনন্দ করে – নিজের মত করে বেঁচে গ্যাছে। সেই যে আনন্দ সিনেমায় রাজেশ খান্না বলছিল না, “জিন্দেগী লম্বি নেহী, বড়ি হোনা চাহিয়ে” – এ যেন অমৃতারই কথা। কো-ইন্সিডেন্স, সেই সিনেমাতে রাজেশ খান্না ক্যান্সারে মারা গিয়েছিল।

এক অপেক্ষাকৃত স্বল্প দৈর্ঘের জীবনে যা যা করা সম্ভব, অমৃতা সম্ভবত সবই করার চেষ্টা করেছিল। সে অঙ্কে মাসটার্স ডিগ্রী করেছিল – সাথে সাথে ট্রেনড ক্লাসিক্যাল ডান্সার এবং পেন্টারও ছিল। ডিগ্রী – ডিপ্লোমা করে ছিল এই সব নিয়ে। ব্রততীর কাছে কবিতা অবৃত্তি শিখে স্টেজ অনুষ্ঠান এবং রেডিও তেও প্রোগ্রাম করেছিল। গুটি কতক বিউটি কনটেস্ট জিতেছিল – তার পরে কিছু মডেলিং, ভিডিও, ফটোশুট ইত্যাদি ইত্যাদি। বিউটি কনটেষ্ট জেতার পর তো কিছু কিছু টিভি সিরিয়াল এবং তারও পরে সিনেমায় নামার প্রস্তাব এসেছিল – সেটা আর হয়ে ওঠে নি, মূলত ভারতে না থাকার জন্য। টুকটাক লেখা লিখিও করত – মুক্তমঞ্চ নামক কবিতা ওয়েব সাইটে অনেক বছর লিখেছে – আর তা ছাড়া টুক টাক এদিক ওদিন বাংলা ম্যাগাজিনেও তার লেখা বেরিয়েছে। শেষের কিছু বছর মূলত সে আঁকা শেখানোয় মন দেয় - বিদেশে, মানে আমার চাকুরী স্থলে তার বেশ কিছু সংখ্যাক ছাত্র-ছাত্রী হয়ে গিয়েছিল – যা নিয়ে মোটামুটি প্রায় একটা আঁকার স্কুলই চালাতো বলতে গেলে। দুই একজন চেনা শোনা আসত ক্লাসিক্যাল নাচ শেখার জন্য। অমৃতা বেড়াতে বিশাল ভালোবাসত – আমরা দুজন ইউরোপ আর এশিয়া প্রায় সব দেশেই ঘুরে ফেলেছিলাম।

কেউ কেউ আমাকে ফিলোসফিক্যাল প্রশ্ন করেছে – আমার মনে কি কোন আক্ষেপ নেই? অবশ্যই আছে – এবং সেই আক্ষেপ নিয়ে আমাকে বাকি জীবন কাটাতে হবে। কিছু কিছু ব্যাপারে আমার গড়িমসি ভাব ছিল – অমৃতা ইংল্যান্ডে আমার ইউনিভার্সিটি যেখান থেকে আমি পি এইচ ডি করি, সেখানে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি এটা ওটা – পরে হবে বলে কাটিয়ে দিই – অনেক দিন আমষ্টারডামে বাস করলেও, অমৃতাকে কে কোনদিন বার্মিংহামে নিয়ে যাই নি ঘুরতে। আর একটা খুব শখ ছিল অমৃতার যে সিডনীতে নিউ-ইয়ার দেখবে। আবার অনেক দিন গড়িমসির পর, আমি সেই বছর মেলবোর্ণ থেকে সিডনী একটা খুব জমকালো রোড ট্রীপ প্ল্যান করে বুক করে রাখি সব ডিসেম্বর মাসে – সিডনীতে গিয়ে নতুন বছর সেলিব্রেশন। কিন্তু সেটাও হল না – ডিসেম্বরে প্ল্যান ছিল, আর সেপ্টেম্বরে অমৃতার ক্যান্সার ধরা পরে। তার আরো ইচ্ছা ছিল খুব যে গলফ খেলা শিখবে – দীর্ঘ পাঁচ বছর আমার বাড়ির সামনে ছিল গলফ কোর্স – সেই হচ্ছি হবে করে আর এনরোল করা হয় নি (কারণ আমার এই খেলাটা খুব বোরিং লাগে) – তা পরিশেষে যেই মাসে অমৃতা এনরোল হতে গেল, সেই মাসের ক্যান্সার ধরা পরে।

গত দুই বছর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে – অনেক বই, তত্ত্ব কথা যা আমাকে শেখাতে পারে নি। ভাবলাম সেই উপলব্ধির কিছু এখানে লিখে রাখি – কোন দিন সময় পেলে বিস্তারে লেখা যাবে।

১। জীবনটা উপভোগ করুন যতটা সম্ভব। যদি সামর্থ্যে কুলায় (সময়, অর্থে ইত্যাদি) তাহলে যা করতে চান, সেটা করেই ফেলুন। পরে করব বলে ফেলে রেখে লাভ নেই। কারণ আপনি জানেন না সেই ‘পরে’ আপনার জন্য জীবন কি নিয়ে অপেক্ষা করছে।

২। পরিবারের সাথে সময় কাটান এবং সম্পর্কের পিছনে সময় এবং ভাবনা বিনিয়োগ করুন। ছেঁদো কাজের যুক্তি দিয়ে এই সব অবহেলা করবেন না।

৩। পরিবার এক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। জানি সবাই ভাগ্যবান হয় না – অনেকের হয়ত খুব ভালো অভিজ্ঞতা নেই পরিবার নিয়ে। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এরাই আপনার সাথে থাকবে – আপনার চড়াই এবং উৎরাইয়ে – আপনার সুখে এবং দুঃখে।

৪। জীবন চমকে ভর্তি – এবং অনেক সময় সেই চমক আসবে অপ্রত্যাশিত ভাবে। হয়ত আপনি এতদিন যাদের খুব কাছের বন্ধু – কাছের লোক – মানে যাদের উপর ভরসা করা যায় ভেবেছিলেন, তাদের অনেক কেই আপনি দরকারের সময় পাশে পাবেন না। ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন – এটাই প্রত্যাশিত – আর তাই এটা নিয়ে বেশী ভাবার দরকার নেই, বরং এর জন্য নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখুন। কেন ওরা আমার পাশে নেই – এই নিয়ে তদন্তে বসে নিজের মানসিক শান্তি এবং সময় নষ্ট করবেন না। যারা আপনার দরকারের সময় পাশ থেকে হাওয়া হয়ে যাবে, তারা আপনার ভাবনার সময়টুকুরও যোগ্য নয়।

৫। এই সোস্যাল মিডিয়ার বন্ধুরা মূলত ভার্চুয়ালই থাকবে। এদের দিয়ে অযথা স্বপ্ন দেখে নিজেকে পীড়িত করবেন না – প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়া কোন কাজের কথা নয়। যখন আপনাকে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে তখন এই স্যোসাল মিডিয়ায় ঝুঁকে পরে নিজের মনোসংযোগ নষ্ট করবেন না। আপনার ভার্চুয়াল বন্ধুদের মন্তব্য বা পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করবেন না – কে জানে একজন মৃতপ্রায় রুগীর জন্য সে হয়ত পরামর্শ দিচ্ছে পাব্‌ না বাড়িতে বসে মাল খেতে খেতে বা সিনেমা/সিরিয়াল দেখতে দেখতে!

৬। কোন অবস্থাতেই আশা না হারাবার চেষ্টা করুন। ক্যান্সারের মত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে আশার থেকে বড় হাতিয়ার আর নেই। ক্যান্সার রুগীদের একটা সময় আসবে যখন মানসিক জোর আরো বেশী দরকারী হয়ে ওঠে শারীরিক শক্তির থেকে। ডাক্তারের মতামত অনুযায়ী, যতদিন বাঁচার কথা, অমৃতা তার থেকেও কয়েক মাস বেশী বেঁচে ছিল তার মানসিক শক্তির জন্য। জীবন-কে এবং ছেলেকে সে বড় বেশী ভালোবাসত।

৭। সামগ্রিক ভাবে মানুষ্যত্বের উপর বিশ্বাস হারাবেন না। এমনটা হতেই পারে যে, সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে কোন জায়গা বা ব্যক্তি আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে – আপনি হয়ত তাদের কথা ভাবেনই নি! তারা আপনাকে সাহায্য করবে কোনরকম প্রতিদানের আশা ছাড়াই – আপনি তাদের ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন কিনা সেই নিয়েও তারা মাথা ঘামাবে না। তাদের সাহায্যের কথা আপনি মনে রাখুন – এই ভাবেই আপনিও অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব। এই পৃথিবীটা আজও সুন্দর এবং বসবাসযোগ্য এমন মানুষগুলির জন্যই।

৮। টাকা-পয়সা একটা জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা হয়ত এই মুহুর্তে আপনার কাছে স্পষ্ট নয়, কিন্তু যখন দরকার পরবে তখনই আপনি কেবল টাকার মহিমার কথা টের পাবেন। তাই ওই সব ফিলসফির ফাঁদে পা দেবেন না যেখানে বলে টাকা জীবনে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়! নিজের টাকা পয়সার হিসেব রাখুন এবং পরিবারকে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত করুন।

৯। স্বাস্থ্য বীমা/হেলথ ইন্সুয়ারেন্স করিয়ে নিন। এই স্বাস্থ্য বীমা ছাড়া ভারতে (এবং আরো অনেক দেশে) ভালো চিকিৎসা বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী টানা খুব মুশকিলের ব্যাপার, অনেক সময় প্রায় অসম্ভব।

১০। আপনি যদি অন্য কারো তরফে কোন সিদ্ধান্ত নেন, বিশেষ করে যেখানে সেই অন্য কারোর বাঁচা/মরা সেই সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত, তাহলে প্রথম থেকেই তাকে সাথে নিয়ে একসাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। আমি আর অমৃতা সেই প্রথম দিন থেকেই সব কিছু খোলাখুলি সব কিছু আলোচনা করতাম – একসাথে ডাক্তারের সাথেও। ওটা ওর জীবন ছিল এবং ওর লড়াইও - তাই আমার মতে ওর জানার অধিকার সবচেয়ে বেশি থাকত কি হচ্ছে সেই নিয়ে।

১১। কোন কোন সময় খুব বেশী অ্যানালেসিস বা বারংবার চিন্তা না করাই ভালো। বেশি অপশন এবং ইতস্তত ভাব অনেক সময় পরিস্থিতি আরো বেশী জটিল করে তোলে। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে নানা জটিল পরিস্থিতিতে ওভার অন্যানালেসিস না করে এমন ভাবে ভাবা যে আমাকে কাজটা করতেই হবে – এছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই। মানসিক ভাবে এমন সময় একগুঁয়ে হতে পারলে আখেরে লাভ হয়।

১২। যখন আমরা খুব চাপে বা মানসিক সমস্যায় থাকি, তখন আমাদের আচরণ অনেক সময় পালটে যায় – এটা আমরা নিজেরা টের পাই না কিন্তু সবসময়। তো সেই সময় আমাদের আচরণের প্রতিক্রিয়ায় অন্যদের ব্যবহার দেখে আমরা বুঝে নিয়ে পারব যে ‘আসল’ কাছের লোক কারা।

তিনটে ছবিও দিয়ে দিলাম –

ক্যান্সার ধরা পরার কিছুদিন আগের অমৃতার ছবি

https://postimg.cc/xJYSRGyH


এই ছবিটা ২০১৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার দিবস উপলক্ষ্যে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে হওয়া অনুষ্ঠানে অমৃতার ক্ল্যাসিক্যাল নাচের। সেই নাচের সময় অমৃতা অলরেডি অসুস্থ – খুব নাচতে ভালোআসত বলে প্রোগ্রামটা আর ক্যান্সেল করে নি।

https://postimg.cc/rDcCqKJj


এই ছবিটা অমৃতার মৃত্যুর তিন মাস আগের তোলা, কেমোথেরাপি চলছিল তখন – সে হার মেনে নিতে চায় নি সহজে।


https://postimg.cc/ctBCh4n1




742 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: সুকি

Re: জীবন যেরকম

ছবি তিনটে তো এল না! আরেকবার ট্রাই নি

তিনটে ছবিও দিয়ে দিলাম –

ক্যান্সার ধরা পরার কিছুদিন আগের অমৃতার ছবি


https://i.postimg.cc/Kz3vmJ19/58608380-10156817379421201-4886361520742
596608-o.jpg



এই ছবিটা ২০১৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার দিবস উপলক্ষ্যে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে হওয়া অনুষ্ঠানে অমৃতার ক্ল্যাসিক্যাল নাচের। সেই নাচের সময় অমৃতা অলরেডি অসুস্থ – খুব নাচতে ভালোআসত বলে প্রোগ্রামটা আর ক্যান্সেল করে নি।


https://i.postimg.cc/K839rT36/58442214-10156817379286201-1325224326823
149568-n.jpg



এই ছবিটা অমৃতার মৃত্যুর তিন মাস আগের তোলা, কেমোথেরাপি চলছিল তখন – সে হার মেনে নিতে চায় নি সহজে।


https://i.postimg.cc/wMSN61xN/62650374-10156930222951201-3839608283388
182528-o.jpg





Avatar: ন্যাড়া

Re: জীবন যেরকম

এই লেখাটার খুব দরকার ছিল বলে মনে হয়।

তোমাদের সন্তানের বড় হবার খবর মাঝে মাঝে দিও।
Avatar: Ela

Re: জীবন যেরকম

সুকি।

ফুলের মতো সহজ হয়ে আসে
তোমার কিছু বলার মতো ভাষা
দেয়াল নেই, দরজা নেই তাতে
তোমার হাত রেখেছি দুই হাতে
করতলের পুরানো সব রেখা
নতুন করে সময় হবে দেখার?

জানি না কেন এই কবিতাটাই বার্বার মনে পড়ছে।
Avatar: দ

Re: জীবন যেরকম

সুকি, কি আর বলি...

ছবিগুলো ব্লগের সাথে জুড়ে দেবে প্লীজ। নাহলে মন্তব্যের সংখ্যা এক পাতা ছাড়িয়ে গেলে আর দেখা যাবে না।

ওই লগিন করা অবস্থায় ব্লগে ঢুকলে যেখানে মন্তব্য করুন আছে ওইটে আসলে ড্রপডাউন। ক্লিকালে নীচে ব্লগে যোগ করার অপশান আসবে। সেইটে নিলে ব্লগে যোগ হবে।
Avatar: Mandi

Re: জীবন যেরকম

মন ্টা কেমন অবশ হয়ে গেলো।আপনি শক্তি পান, এই কামনা করি।
Avatar: i

Re: জীবন যেরকম

প্রিয় সুকান্ত,
কিছুই লেখা উচিত নয় আমার। তবু ভীষণ মনে পড়ছে 'কৃতঘ্ন শোক' ...


'ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আমি রাগ করে বললেম, 'এই তো টেবিলে সেলাইয়ের বাক্স, ছাতে ফুলগাছের টব, খাটের উপর নাম-লেখা হাতপাখাখানি-- সবই তো সত্য।'
মন বললে, 'তবু ভেবো দেখো--'
আমি বললেম, 'থামো তুমি। ঐ দেখো-না গল্পের বইখানি,মাঝের পাতায় একটি চুলের কাঁটা, সবটা পড়া শেষ হয় নি; এও যদি মায়া হয়, সে এর চেয়েও বেশি মায়া হল কেন।'
মন চুপ করলে। বন্ধু এসে বললেন, 'যা ভালো তা সত্য, তা কখনো যায় না; সমস্ত জগৎ তাকে রত্নের মতো বুকের হারে গেঁথে রাখে।'
আমি রাগ করে বললেম, 'কী করে জানলে। দেহ কি ভালো নয়। সে দেহ গেল কোন্‌খানে।'
ছোটো ছেলে যেমন রাগ ক'রে মাকে মারে তেমনি করেই বিশ্বে আমার যা-কিছু আশ্রয় সমস্তকেই মারতে লাগলেম। বললেম, 'সংসার বিশ্বাসঘাতক।'
হঠাৎ চমকে উঠলেম। মনে হল কে বললে, 'অকৃতজ্ঞ!'
জানলার বাইরে দেখি ঝাউগাছের আড়ালে তৃতীয়ার চাঁদ উঠছে, যে গেছে যেন তারই হাসির লুকোচুরি। তারা-ছিটিয়ে-দেওয়া অন্ধকারের ভিতর থেকে একটি ভর্ৎসনা এল, 'ধরা দিয়েছিলেম সেটাই কি ফাঁকি, আর আড়াল পড়েছে এইটেকেই এত জোরে বিশ্বাস?'
Avatar: সুকি

Re: জীবন যেরকম

ন্যাড়াদা, দ-দি, এলা, মান্ডি, ইন্দ্রাণীদি সবাইকে ধন্যবাদ লেখা পড়ার জন্য।

ন্যাড়াদা, এই প্রসঙ্গ ছাড়া আর গত কয়েকমাসের কিছু পোষ্ট ছাড়া ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু লিখতে ইতস্তত লাগে। এমন গল্পের ছলেই মাঝে মাঝে মেহুলের কথা লিখব না হয়।

দ-দি, এটা ভালো পরামর্শ দিয়েছ। যদি কমেন্ট এক পাতা ছাড়িয়ে যায়, লগ ইন করে যোগ করে দেব

ইন্দ্রাণী দি, বড় ভালো কবিতা, এখনো মন কেমন করিয়ে দেয় যেন
Avatar: dc

Re: জীবন যেরকম

ভীষন খারাপ লাগলো পড়ে। কি বলবো জানিনা। তবে আপনার সন্তানের জন্য আপনাকে বাঁচতেই হবে, আপনার স্ত্রীও সেটাই চাইতেন।
Avatar: কুশান

Re: জীবন যেরকম

স্পর্শ করলো আপনার এই লেখা। আপনি ও আপনার সন্তান ভালো থাকুন।

সময় করে লিখুন আরো।
এই লেখাটি শেয়ার করলাম।
Avatar: sm

Re: জীবন যেরকম

লেখাটি পড়লাম।বেদনা,সহমর্মিতা জানাবার ভাষা জানা নেই।
জীবন এরকমই চড়াই, উৎরাই এ ভরা।
রামকৃষ্ণ দেব এর একটি বাণী মনে পড়ে।
সন্তান হারা পিতা; যিনি তাঁর শিষ্যও, তাঁকে বলছেন,গঙ্গায় জাহাজ চলতে গিয়ে অনেক নৌকোয় দোলা লাগে।কিন্তু সেই আঘাত সামলেই এগিয়ে যেতে হয়।
মনে হয় ,কিছু কিছু দুঃস্থ ও সাহায্য প্রার্থী লোকজনের জন্য কিছুটা হেল্প নিজে থেকে করতে পারলে,একটু করে করে এই মানসিক বিবশতা কেটে যাবে।
আপনার শরীর সুস্থ থাকুক।সন্তান ও সুস্থ ও ভালো থাকুক।
মাঝে মধ্যে জমিয়ে টই লিখবেন।আমরা আছি।
ছেলেকে গান,আঁকা ও নাচে উৎসাহ দেবেন।অবশ্যই সে পছন্দ করলে।
ভালো থাকবেন।
Avatar: ঋভু

Re: জীবন যেরকম

আপনার লেখা অনেক দিন পড়ি। এখানে কিছু তো লেখার নেই। ভালো থাকবেন। তরিতে পারি শকতি যেন রয়।

আমার দাদা লড়ছেন এই নিয়ে। তাঁকে পড়াবো।
Avatar: Aniket Pathik

Re: জীবন যেরকম

এই রকম লেখা পড়লে শরীর অবশ হয়ে থাকে, কিছু লিখতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু মনে হয় একটা কথা এইখানেই জানানো দরকার, বিশেষ কতে ঋভুর পোস্ট পড়ে মনে হল চুপ করে থাকাটা অন্যায়।

আমি আগেও এঁর কথা লিখেছি, প্রবীণা বিজ্ঞনী ডঃ মঞ্জু রায়, এখন বোস ইন্স্টিটিউটে আছেন। সারাজীবন কাজ করছেন ক্যন্সারের ওষুধ নিয়ে। এই মুহুর্তে সারা ভারতে কয়েকশো রোগী ওঁর ওষুধ ব্যবহার করে প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মাত্র একজনকে (ক্যন্সার ধরা পড়ার পর) ওঁর কাছে পাঠাতে পেরেছিলাম, ৭৫ উর্দ্ধ সেই রোগী মোটের ওপর ভালই আছেন এ-যাবত। ডঃ রায়ের ফোন নম্বর দিলাম, দরকারে যোগাযোগ করতে পারেন। মনে রাখবেন, জড়িবুটি নয়, হোমিওপ্যাথি নয়, একেবারে প্রথাসিদ্ধ ওষুধ। এখন ট্রায়লে আছে, কিছুদিনের মধ্যে হয়তো বাজারেও পাওয়া যাবে। বিশদ জানতে হলে এই নামেই আমার ফেসবুকে যোগাযোগ করতে পারেন।

ডঃ মঞ্জু রায়
9830108934
Avatar: .

Re: জীবন যেরকম

এ লেখা, এই কথাগুলো হারিয়ে যাওয়া ঠিক না। উপরে থাকুক।

Avatar: সুকি

Re: জীবন যেরকম

ডিসি, এস এম, কুশান, ঋভু, অনিকেত সহ আর যারা পড়লেন সবাইকে ধন্যবাদ।

এস এম, দুঃস্থ ছাত্র ছাত্রীদের সাহায্য করার প্রকল্পে বহুদিন জড়িয়ে আছি। আর এই বার থেকে অমৃতার নামে দুটো নতুন বৃত্তিও চালু করেছি আমার স্কুলে। যাই হোক, সে অনেক কথা। তবে এর কোনটাই আপনি যে অ্যাঙ্গেল বললেন সেদিক থেকে ভেবে দেখি নি। হয়ত সাহায্য করছে এরা আমার অজান্তেই।

অনিকেত,
তথ্য শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। হয়ত কারো কাজে লেগে যাবে।


Avatar: avi

Re: জীবন যেরকম

সুকিদা, বিষাদে কিছু বলার নেই। কৃতঘ্ন শোক। ভালো থাকুন।
Avatar: ব

Re: জীবন যেরকম

সুকান্ত, তুমি যখন ফেসবুকে লেখা টি দিয়েছিল তখন পড়ে খুব কষ্ট হয়েছিল। ভগবান কেন এত অল্প বয়সে প্রিয়জন কে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেন।

আন্তরিক সমবেদনা জানানো ছাড়া তো আর কিছুই করতে পারবো না।

শুধু একটা কথা বলি। জীবন অনেক বড়ো। অনেক দুঃখ আঘাত সয়ে আমাদের জীবনের পথে এগিয়ে যেতে হয়। তাই বলি চরৈবতি চরৈবতি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন