এবড়োখেবড়ো RSS feed

এবড়োখেবড়ো-র খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

এবড়োখেবড়ো

[আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]


ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি পাচ্ছে ‘পথের পাঁচালী’; একই বছরে মৃণাল করছেন তাঁর প্রথম ছবি ‘রাতভোর’; আর ভারতীয় সিনেমার প্রকৃত পথপ্রদর্শক হিসাবে যাঁর সম্মানিত হওয়ার কথা সেই ঋত্বিকের ১৯৫২ সালে তৈরি ‘নাগরিক’-এ অভিনয় করছেন গীতা সোম যিনি পরের বছরে ঘরনি হবেন মৃণালের।

উনিশশো তেইশে মৃণাল সেনের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে। সেখানকার সজল-শ্যামল প্রকৃতিকে চিরবিদায় জানিয়ে ১৯৪০-এ তিনি কলকাতায় আসছেন সায়েন্স নিয়ে পড়তে। কলকাতার বৃহত্তর জগতের সঙ্গে ক্রমশ পরিচিত হচ্ছেন মৃণাল। কলেজে পড়তে পড়তেই সহসা খোঁজ পাচ্ছেন ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি (বর্তমানে ন্যাশনাল লাইব্রেরি)-র। সেখানে সকাল ন’টা থেকে সন্ধে ছ’টা অবধি কোনও বাছবিচার না করে গোগ্রাসে গিলছেন সাহিত্য-দর্শন-রাজনীতি-চলচ্চিত্র-সমাজতত্ত্ব-নৃতত্ত্ব-নন্দনতত্ত্বর ওপর লেখা যাবতীয় বইপত্তর। আর তার সঙ্গে তাঁর নিজের কথায় সিনেমা দেখছেন ‘চা খাওয়ার মতো করে’। এই সময়েই কালীঘাট দমকলের কাছে হেমবাবুর চায়ের দোকান ‘প্যারাডাইস ক্যাফে’-তে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন ঋত্বিক-তাপস সেন-হৃষিকেশ-সলিল-বংশী চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে। চোখে তখন সিনেমা করার স্বপ্ন ক্রমেই দানা বাঁধছে।

ততদিনে বামপন্থায় আকৃষ্ট মৃণালকে নাড়িয়ে দিচ্ছে তেভাগা-তেলেঙ্গানা। একটা লজ্‌ঝড়ে ক্যামেরা জোগাড় করে চলে যাচ্ছেন কাকদ্বীপে ছবি করতে — যেখানে চিত্রনাট্য মৃণালের, সংগীত পরিচালনায় সলিল, পরিচালনায় ঋত্বিক আর হৃষিকেশ। কিন্তু সে ছবি শেষ না করতে পারার যন্ত্রণায় চিত্রনাট্য পুড়িয়ে দিচ্ছেন মৃণাল, পরবর্তীকালে যে কাজের জন্য আফশোস করতে দেখব তাঁকে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চাকরির তীব্র মন্দার বাজারে উপার্জনের চেষ্টা তাঁকে কোনও কাজেই থিতু হতে দিচ্ছে না। তাই কখনও প্রুফ রিডার, কখনও ইংরেজির প্রাইভেট টিউটর, কখনও অনুবাদক, কখনও মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ-এর কাজ ছাড়ছেন তিনি। আর সিনেমা করার আগেই ১৯৫৩-য় প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর আজীবন ভালোলাগার মানুষটিকে নিয়ে প্রথম বই ‘চার্লি চ্যাপলিন’।

আমরা এক নিঃশ্বাসে যতই সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল উচ্চারণ করি না কেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের তিন মহীরূহই কিন্তু পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরানার। খোদ সত্যজিৎ তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে লিখেছেন ‘They started at about the same time as I did, Ritwik and Mrinal’। কিন্তু এ কথাও বলেছেন পাশাপাশি ‘They were making films very different from mine, very different, but very powerful, I think’। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক ধীমান দাশগুপ্ত ‘গণশিল্পী ঋত্বিককুমার ঘটক বনাম ঋত্বিক : নিঃসঙ্গ স্রষ্টা’ প্রবন্ধে চমৎকারভাবে ধরেছেন এই তিন দিকপাল শিল্পীর আন্তঃসম্পর্ককে। তাঁর মতে, “সত্যজিৎ সমন্বিত, সুষম, শীলিত, কমনীয়। ঋত্বিক মন্থর, তীব্র, শিথিল, অনমনীয়। অন্যদিকে মৃণাল দ্রুত, তীক্ষ্ণ, তৎপর ও নমনীয়।” আর মৃণাল নিজে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন — “I am not a Kurosawa, I am not a Satyajit Ray, I am not a Godard, who believe in drawing sketches. I can’t do that. I can’t draw a single line. My films are a kind of thesis।”

সিনেমা পরিচালনা করতে গিয়ে ধ্রুপদী সাহিত্যকে নিজের ছবির আশ্রয় করতে চাননি তিনি। বরং সাহায্য নিয়েছেন কখনও আশীষ বর্মণ (‘পুনশ্চ’, ‘আকাশকুসুম’, ‘ইন্টারভিউ’, ‘পদাতিক’); কখনও অমলেন্দু চক্রবর্তী (‘একদিন প্রতিদিন’, ‘আকালের সন্ধানে’); কখনও বা মহাদেবী ভার্মা (‘নীল আকাশের নীচে’), কালিন্দীচরণ পানিগ্রাহী (‘মাটির মনিষ’) কিংবা মুন্সী প্রেমচন্দর (‘মৃগয়া’)। কাহিনি বৈচিত্র্যের মতোই ছবির ভাষার ক্ষেত্রেও একটি বা দু’টি ভাষায় চলচ্চিত্র বানিয়ে তিনি নিজেকে বন্দি করে রাখেননি। তাঁর আটচল্লিশ বছরের (১৯৫৫-২০০২) শিল্পজীবনে যে ২৮টি কাহিনিচিত্র নির্মাণ করেছেন মৃণাল, সেখানে তিনি বাংলা বাদেও বানিয়েছেন একটি ওড়িয়া, একটি তেলুগু এবং ছ’টি হিন্দি ছবি – যথাক্রমে ‘মাটির মনিষ’, ‘ওকা উরি কথা’, ‘ভুবন সোম’, ‘এক আধুরি কহানি’, ‘মৃগয়া’, ‘খণ্ডহর’, ‘জেনেসিস’ এবং ‘একদিন অচানক’। এ থেকে এটা স্পষ্ট যে মৃণাল আজীবন বিশ্বাস করেছেন চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট কোনও ভাষা হয় না, চলচ্চিত্র সাহিত্যের ওপর নির্ভরশীল না হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা একটি শিল্পমাধ্যম।

যদিও আমরা লক্ষ্য করি যে, ‘আকাশকুসুম’ থেকেই বাঁকবদল শুরু হচ্ছে পরিচালক মৃণালের, কিন্তু ভারতীয় চলচ্চিত্রের জগতে তাঁকে স্থায়ী আসন এনে দিচ্ছে ১৯৬৯ সালের ছবি ‘ভুবন সোম’। মৃণাল তাঁর ‘চলচ্চিত্র ভূত বর্তমান ভবিষ্যৎ’ গ্রন্থে লিখেছেন, “... বাংলা চলচ্চিত্র সম্পর্কে যে সংকটের কথা বলা হয় অর্থাৎ আর্থিক সংকট অর্থাৎ যে সংকট আসে জনপ্রিয়তার অভাব থেকে – সেই সংকট কাটাতে গেলে প্রথমেই যা করণীয় তা হল — ১) কম পয়সায় ছবি তোলা অর্থাৎ স্টার সিস্টেমকে বর্জন করা এবং অকারণ, অহেতুক, অসংগত জাঁকজমক বর্জন করা; ২) চলচ্চিত্রের বাজারের পরিধি বাড়ানো অর্থাৎ আঞ্চলিক গণ্ডি ডিঙিয়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা।” ‘ভুবন সোম’ যেন এই তত্ত্বের সার্থক বাস্তব প্রয়োগ। এই ছবি অনেক দিক দিয়েই নতুন — মৃণাল, উৎপল দত্ত এবং শেখর চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম হিন্দি ছবি; সুহাসিনী মুলের এ ছবিতেই প্রথম অভিনয়; কে কে মহাজনের প্রথম কাহিনিচিত্রে সিনেমাটোগ্রাফি; সংগীতকার বিজয় রাঘব রাও-এর প্রথম সংগীত পরিচালনা এবং অমিতাভ বচ্চনের প্রথম ভয়েস ওভার। মাত্র দেড় লাখ টাকায় বানানো, বনফুলের গল্পটার একটা আট পাতার খসড়াকে চিত্রনাট্য হিসাবে বিবেচনা করে গোটা সিনেমাটায় যে অনবদ্য ভাষ্য বুনে দেন মৃণাল, তা তাঁকে ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার পথিকৃতের সম্মান এনে দেয় অনায়াসে। দর্শক মুহূর্তের মধ্যে উপলব্ধি করেন যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভুবন সোম এত সোচ্চার ছিল, সেই দুর্নীতি গোটা ভারতে বজায় থাকবে বহাল তবিয়তেই।

‘ভুবন সোম’-এর ঠিক পরের বছর থেকেই সত্তরের উত্তাল কলকাতাকে সেলুলয়েডের ক্যানভাসে বন্দি করতে সত্যজিতের অপু-ত্রয়ী (পথের পাঁচালি-অপরাজিত-অপুর সংসার); ঋত্বিকের উদ্বাস্তু-ত্রয়ী (মেঘে ঢাকা তারা-কোমলগান্ধার-সুবর্ণরেখা)-র পর আমরা পেতে শুরু করি মৃণালের রাজনৈতিক-ত্রয়ী 'ইন্টারভিউ’-‘কলকাতা ৭১’-‘পদাতিক’। মৃণালের নিজের কথায়, “ ... এমনই একটা বিশ্বাস থেকে ’৬০-’৭০ দশকের সন্ধিক্ষণে নকশাল আন্দোলনকে দেখেছি, তা নিয়ে ভেবেছি, জড়িয়ে পড়েছি। এ-দেখার মধ্যে বেহিসেবিপনা ছিল, এ ভাবনার ভিতরে বেপরোয়া ভাবনা ছিল, এভাবে জড়িয়ে পড়ায় অনেকটাই আবেগ যুক্ত ছিল। কিন্তু এসবের মধ্যে আর কোনো হিসেব ছিল না, নির্লিপ্ত শীতল পর্যবেক্ষণ ছিল না, ছক কষার কোনো চেষ্টা ছিল না। নকশাল আন্দোলনকে সামনে রেখে কোনো অঙ্কটঙ্ক কষে ইন্টারভিউ, কলকাতা ৭১, কিংবা পদাতিক বানাইনি। ওই অস্থির সময়টার তাপ যখন যেভাবে মনের ওপর ছাপ ফেলেছে, সেভাবেই একের পর এক ছবিগুলো করে গেছি।” বস্তুতপক্ষে নকশালবাড়ির রাজনীতি নিয়ে এমন সংবেদনশীল আখ্যানের চারপাশ সত্যজিৎ সন্তর্পণে এড়িয়ে গেছেন, ঋত্বিকও যুক্তি-তক্কোতে যেভাবে ধরেছেন তাতে তাত্ত্বিক কচকচানি থাকলেও হৃদস্পন্দন কোথাও যেন অনুপস্থিত থেকেছে। কিন্তু মৃণাল তাঁর সমস্ত আক্রোশ-যন্ত্রণা-সহমর্মিতা-সমবেদনা উজাড় করে দিয়েছেন এই তিনটি ছবিতে।

এর পরেও যেন তিনি তৃপ্ত হতে পারেননি। তাই বাকি কথাগুলো বলার জন্য বেছে নিয়েছেন ‘কোরাস’-কে, যে ছবিতে সিনেমার ফর্ম নিয়ে অমন তীব্র দুমড়ানো-মোচড়ানো পরিচালকত্রয়ীর মধ্যে একমাত্র মৃণালই করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ছবির মূল ভাবনাকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এইভাবে :“ ‘কোরাস’ আমাদের ছবিতে শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়ায় একটি ব্যাপক অর্থে — বিশাল মানুষের এক বিশাল ইচ্ছা — বিস্তর মানুষ, অনেক কথা, বহু লড়াই, সব যখন একীভূত হয়ে যায়, একটা সাংগীতিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ একটা collective আবেগ বা ইচ্ছা — তারই নাম ‘কোরাস’।” এই চারটি ছবিই মৃণালকে নিঃসন্দেহে প্রথম ভারতীয় রাজনৈতিক চলচ্চিত্রকার হিসাবে আমাদের কাছে তুলে ধরে।

মৃণাল বরাবরই আঙ্গিকসচেতন পরিচালক। ছবির বিষয়বস্তুকে আরও তীক্ষ্ণ, আরও জোরালো করতে গিয়ে বিভিন্ন ছবিতে তিনি আঙ্গিকের যে সচেতন প্রয়োগ ঘটিয়েছেন তার উল্লেখ যতই করা হোক না কেন তা অসমাপ্ত থাকতে বাধ্য। মৃণাল নিজে জানিয়েছেন, “যেভাবে এতকাল বলা হয়েছে, সেইভাবে যদি না বলে অন্যভাবে বলা যায় তাহলে বলার চেহারাটাও পাল্টে যায়। বলা তো হয়ে গেছে প্রচুর কথা এবং সে কথাগুলোই তো আমরা বারবার বলছি। তাই চলতি লিনিয়ার স্ট্রাকচারের বাইরে যেতেও মন চায় প্রায়ই।” তাই আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করি — ‘আকাশকুসুম’-এ ফ্রিজ শটের ব্যবহার; ‘ভুবন সোম’-এ মাস্ক শটের ব্যবহার করে গল্পটা মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দিয়ে ভুবন সোমের ভেতরের কথাগুলো বলিয়ে নেওয়া; ‘ভুবন সোম’-এই একজন আমলার বন্দিদশা ও তার চরিত্রটির যান্ত্রিকতা দেখাতে গিয়ে ছবির শুরুতে অ্যানিমেশনের ব্যবহার, ‘মৃগয়া’-তে ডুংরিকে (অভিনয়ে মমতাশঙ্কর) ধরে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটায় কোনও শারীরিক টানাহ্যাঁচড়া না দেখিয়ে স্রেফ তার পালকিতে ওঠা- দরজা বন্ধ হওয়া-এবং সর্দারের (অভিনয়ে অনুপকুমার) কর্কশ কণ্ঠস্বরের সাউন্ড এফেক্টের দুর্দান্ত ব্যবহার; ‘কোরাস’-এ ইমেজের ফাঁকে সাদা স্ক্রিন, ‘কলকাতা ৭১’-এ ট্রলিতে না চাপিয়ে হাতে ধরে ক্যামেরা চালানো; ‘একদিন প্রতিদিন’-এ সাংবাদিকতার ঢঙে ন্যারেশন কিংবা ‘কলকাতা ৭১’-এই ব্রেশটিয় পদ্ধতি অনুসারে আলাদা আলাদা এপিসোডে ন্যারেটিভের অখণ্ড প্যাটার্নকে ভেঙে ফেলা ইত্যাদি।

এই আঙ্গিকসচেতন মৃণাল তাঁর আঙ্গিকের সম্ভবত সার্থকতম প্রয়োগটি করেন ‘আকালের সন্ধানে’ ছবিতে, যেখানে একবারের জন্যও চিরাচরিত ফ্ল্যাশব্যাক পদ্ধতির সাহায্য না নিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ৪৩-এর মনুষ্যসৃষ্ট আকালকে তিনি মিলিয়ে দেন ১৯৮০-র বর্তমান মন্বন্তরের সঙ্গে। কেবলমাত্র কাহিনির বিনির্মাণের মাধ্যমে তিনি অতীত ও বর্তমান সময়কালের স্থান পরিবর্তন করে দেন এই চলচ্চিত্রে। বুঝিয়ে দেন আসলে ৪৩ আর ৮০-র মধ্যে ফারাক কিছুই নেই। তাই সিনেমার স্মিতা (অভিনয়ে স্মিতা পাতিল) কখন যেন রূপান্তরিত হয়ে যান বাস্তবের দুর্গায় (অভিনয়ে শ্রীলা মজুমদার)। তাঁর কলকাতা-ত্রয়ী যদি হয়ে থাকে নকশালবাড়ির থিসিস, তাহলে অনায়াসে এই ছবিকে চিহ্নিত করা যেতে পারে মৃণালের আকালের থিসিস হিসাবে।

আসলে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে মৃণাল কখনও বিশুদ্ধতাবাদীদের মতো আড়ষ্টতায় ভোগেননি। তিনি বিশ্বাস করেছেন যে, একটি সংবাদপত্রের কেবলমাত্র হেডলাইন থেকেও ছবি বানানো যেতে পারে। চলচ্চিত্র যে একটি বিশুদ্ধ মাধ্যম নয়, বরং সেখানে মুনশিয়ানার সঙ্গে অন্য মাধ্যমের নানা জিনিস ব্যবহার করা হলে তা যে সার্থক চলচ্চিত্রও হয়ে উঠতে পারে – সে ব্যাপারে নিঃসন্দিহান ছিলেন তিনি। তাই মৃণালের মতো আর কোনও ভারতীয় পরিচালকের ছবিতে এত বিভিন্ন, বিবিধ ও বিচিত্র বিষয়ের সংঘাত ও সহাবস্থান ঘটেনি। তাঁর সিনেমা তৈরিতে তিনি চলচ্চিত্র ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যম থেকে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করেছেন চিত্রকলা, আলোকচিত্র, বিজ্ঞাপন, ফিল্ম তৈরির ছবি, বেতারানুষ্ঠান, সংবাদপত্রের বিবৃতি ও শিরোনাম, পোস্টার, হোর্ডিং, ডামি, স্ট্যাচু ইত্যাদি নানাবিধ জিনিস। আবার সিনেমারই প্রয়োজনে চলচ্চিত্রের মূল কাহিনিটিকে প্রয়োজন মতো ভেঙেচুরে নিয়ে তাঁর ছবিকে দিয়েছেন এক অব্যর্থ পটভূমি। ‘ভুবন সোম’-এর মূল কাহিনির সাহেবগঞ্জকে তিনি বদলে দেন সৌরাষ্ট্রের মায়াবী জগতে; ‘ওকা উরি কথা’-য় প্রেমচন্দের ‘কাফন’-এর উত্তরপ্রদেশের কঠিন শীতের রূঢ়তাকে তিনি প্রতিস্থাপন করেন দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা দিয়ে; আবার প্রেমেন্দ্র মিত্র-র ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ থেকে যখন ‘খণ্ডহর’ করেন তিনি, তখন সুভাষকে মাছধরা বাঙালি থেকে পাল্টে দেন স্টিল ফটোগ্রাফারে। ছবির শেষ ভাগে তাই দেখি খণ্ডহরের যামিনী সুভাষের কাছে নেহাতই একটা মুহূর্ত মাত্র, একটা ছবি তোলার সাবজেক্ট বিশেষ, যা শেষ হয়ে গেলে যামিনী সম্পর্কে সুভাষের অপরিসীম নির্লিপ্তি চমৎকারভাবে প্রস্ফুটিত হয়।

কলকাতা ট্রিলজি পর্বে যে রাগী মৃণালকে, যে সোচ্চার মৃণালকে আমরা দেখি; ১৯৮০তে এসে সেই একই মৃণাল রাষ্ট্রের দিকে আর অভিযোগের তর্জনী তোলেন না। বরং তাঁর মধ্যমা-অনামিকা-কনিষ্ঠার অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন নিজের দিকে, মধ্যবিত্ত মৃণালের দিকে। বারবার আমাদের চুল ধরে টেনে এনে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেন, নগ্ন করে দেন মধ্যবিত্তের অসহায়তা-দোদুল্যমানতা-স্বার্থপরতা-নির্লজ্জতা-শঠতা-নির্লিপ্ততাকে। এইবার তিনি বানান তাঁর মধ্যবিত্ত ট্রিলজি ‘একদিন প্রতিদিন’-‘চালচিত্র’-‘খারিজ’। এই সব ছবিতে মৃণাল শান্ত, পরিণত, নিরুচ্চার অথচ দর্শকের সঙ্গে সংযোগের কাজটি করে চলেন ঋষিসুলভ নিরাসক্তি নিয়ে। এই ছবিগুলোতে তিনি একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোটা ছবির সংকটটাকে ধরেন; সকাল থেকে সন্ধে, বা সন্ধে থেকে পরদিন সকাল বা এই সকাল থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত। আর রেকারেন্ট মোটিফের মতো ফিরে ফিরে আসে একটা পলেস্তারা-খসা, স্যাঁতস্যাঁতে পাকা বাড়ি যা হয়তো ওই বাড়িটির বাসিন্দাদের ভেতরের চেহারাটার রূপক।

‘একদিন প্রতিদিন’ ছবিতে চিনুর বাড়িতে এসে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে একটি মেয়ের আত্মহত্যার চেষ্টার খবর দেয় পুলিশ। মেয়েটির খোঁজে এন আর এস হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে হাজির হন অসংখ্য অভিভাবক — যাঁদের ওইদিনই কারও নাতনি, কারও কন্যা কিংবা কারও বোন রাতে বাড়িতে ফেরেনি। মেয়েটি হাসপাতালে মারা গেলে তাঁর মৃতদেহ শনাক্ত করতে একে একে এগিয়ে যান ওই অভিভাবকরা। মেয়েটি যে তাঁদের পরিচিত নয় তা বুঝতে পেরে স্বস্তির শ্বাস ফেলে হাসপাতাল চত্বর ছাড়তে থাকেন তাঁরা। অবশেষে শেষ ব্যক্তি হিসাবে মেয়েটির দাদা চিনতে পারেন তাঁর বোনের মৃতদেহ। কিন্তু কী আশ্চর্য, সেই নিদারুণ কষ্টের মধ্যে তিনি অনুভব করেন তাঁর আশেপাশে কোনও সমব্যথী নেই - তিনি সম্পূর্ণ একা। আবার ‘খারিজ’ ছবিতে দেখা যায় একটি শিশুকে গৃহকর্মের কাজে লাগানো গৃহস্বামী অঞ্জন (অভিনয়ে অঞ্জন দত্ত) যতই বলুন না কেন ‘ও আমাদের বাড়ির লোকের মতোই ছিল’, দর্শক কিন্তু নিশ্চিতভাবেই বুঝে ফেলেন পালান ছিল নিপাট অবহেলার পাত্র। এতটাই অবহেলা যে, তাঁরা পালানের জন্য বরাদ্দ করেছিলেন ঘুলঘুলিহীন রান্নাঘরটি যেখানে উপযুক্ত অক্সিজেন ঢুকতেই পারে না।

বরাবর বাঙালির মধ্যবিত্তের অসার স্বপ্নের বা স্বপ্নভঙ্গের কাহিনিকার ছিলেন বলেই বোধ হয় বাঙালি দর্শকের অধিকাংশের কাছে কখনওই খুব ‘কাছের মানুষ’ কিংবা ‘পছন্দের পরিচালক’ হয়ে উঠতে পারেননি মৃণাল সেন। বরং চিরকালই তাঁকে ভাবা হয়েছে সত্যজিৎ-ঋত্বিকের মধ্যবর্তী হাইফেন চিহ্ন হিসাবে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক-প্রাবন্ধিক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন :‘দুর্ভাগ্য, নাকি ভাগ্যই বলব, মৃণাল সেনের, তিনি কোনো দিন বাঙালির দেবকুলে স্থান পাননি’। এ মূল্যায়ন বর্ণে বর্ণে সত্যি। অথচ মৃণাল নিজ গুণেই মৃণাল, সত্যজিৎ-ঋত্বিকের তুমুল উপস্থিতি অগ্রাহ্য করেই মৃণাল। তাঁকে যদি চিনতে না পারি আমরা তবে সে দায় আমাদের,আমাদের চলচ্চিত্রবোধের। তাই সত্যজিৎ-ঋত্বিকের সঙ্গে কেবলমাত্র মৃণালের নামোচ্চারণ করলেই আমাদের দায় মেটে না, মৃণাল প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচনার জন্য দায়বদ্ধ করেন আমাদের।

এই মরা পৃথিবীতে এখনও মায়াবী আলো ছড়ানোর অপার ক্ষমতাশালী মৃণাল,আপনাকে আনত কুর্নিশ।


ঋণ :
১. প্রলয় শূর (সম্পাদিত), ‘মৃণাল সেন’, বাণীশিল্প, কলকাতা, ১৯৮৭
২. ধীমান দাশগুপ্ত, ‘সত্যজিৎ, ঋত্বিক, মৃণাল ও অন্যান্য’, এবং মুশায়েরা, কলকাতা, ২০০৭
৩. মৃণাল সেন, ‘চলচ্চিত্র ভূত বর্তমান ভবিষ্যৎ’, সপ্তর্ষি, কলকাতা, ২০১৩
৪. শিলাদিত্য সেন, ‘মৃণাল সেনের ফিল্মযাত্রা’, প্রতিক্ষণ, কলকাতা, ২০১৫

(লেখাটি চারু মজুমদার জন্ম-শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত 'নবান্ন', ত্রিংশতি বর্ষ, বর্ষা সংখায় প্রকাশিত ও ঈষৎ পরিমার্জিত)


164 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

এখানে থাকল মৃণাল পরিচালিত কয়েকটি বিখ্যাত ছবির লিংক।

১. ভুবন সোম

https://www.youtube.com/watch?v=bqXupPAYhTE

২. পদাতিক

https://www.youtube.com/watch?v=at6Zuo1rG5I

৩. কোরাস

https://www.youtube.com/watch?v=djcVTvEzcac

৪. মৃগয়া

https://www.youtube.com/watch?v=IvAwo8tiXBs

৫. আকালের সন্ধানে

https://www.youtube.com/watch?v=SRZqN-b0VpM

৬. চালচিত্র

https://www.youtube.com/watch?v=5zan3y4x5Uk

৭. খণ্ডহর

https://www.youtube.com/watch?v=TmKrDH_R2as



Avatar: Atoz

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

ভুবন সোম আমি কত্তদিন থেকে খুঁজছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ। বনফুল রচনাবলি থেকে উপন্যাসটা পড়া আছে, সিনেমাটা কেমন হল সেটাই দেখতে চাই। অনেক ধন্যবাদ।
Avatar: অর্জুন

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার


যাকে বলে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। এই মৃণালানুসন্ধানের খুব প্রয়োজন ছিল বিশেষ করে আমরা যারা পরবর্তীকালে তাঁর ব্যক্তিত্বকে খুব পছন্দ করলেও সেভাবে পছন্দ করিনি বা পাত্তা দিইনি তার চলচ্চিত্রকে। তাই অনেক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন আপনার এই লেখাটি পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যে।

তার ছবিগুলো দেখে এই লেখায় নয় ফিরে আসব আবার।
Avatar: অর্জুন

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার


আজ ঘটনাচক্রে অনেক দূর থেকে ফিরতে হল। ফেরার সময় ট্র্যাফিক দেখে 'একদিন, প্রতিদিন' ছবিটার কথা মনে পড়ে গেল। আজ সকলেই দেরীতে বাড়ি পৌঁছেছে। তবে এখন মোবাইল, ইন্টারনেটের জন্যে 'একদিন, প্রতিদিন' র মত ঘটনা খুব কম ঘটে। বদলেছে সময় আর নিশ্চয় বদলেছে সমাজ।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

যথোচিত মূল্যায়ন। একদম সঠিক জায়গায় আলো ফেলেছেন। ধন্যবাদ।
Avatar: খ

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

এই আলোচনা টায় বিশেষ কিসু নাই, মানে এমনি সুলিখিত , তথ্য নির্ভর ইত্যাদি, কিন্তু নতুন কিসু নাই।
Avatar: সিএস

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

এ লেখা ভাল লাগে নাই। চুম্বকে মৃণাল সেন হয়েছে, কিন্তু কথা হল কেন পড়ব এ লেখা, যখন উল্লিখিত বইগুলোর কথা জানাই আছে।
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

@কুশান, পড়ার জন্য ধন্যবাদ। মন্তব্য করার জন্যও।

@খ এবং @সিএস, আপনাদের মতো সতর্ক পাঠকদেরই আমার মতো না-লেখকদের প্রয়োজন। আসলে লেখাটা একটা অবিচুয়ারি গোছের যদিও উল্লিখিত বইগুলোতেই যে সব কিছু লেখা আছে এমনটা নয়। ইচ্ছে থাকল পরবর্তীতে মৃণালের জোরের জায়গা যথা তাঁর আঙ্গিক সচেতনতা, তাঁর ফিল্মের ব্যাকরণকে ভেঙেচুরে ফেলার প্রয়াস ইত্যাদি নিয়ে তাঁর কতগুলো ছবি ধরে ধরে আলোচনা করার। আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ, পরবর্তীতে মৃণালকে নিয়ে লেখার কথা ভাবানোর জন্য।
Avatar: খ

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

শিয়োর। অপেক্ষায় থাকবো, মৃণাল সেন কে 'যথেষ্ট সম্মান পান নি' এসব মনে করার কোন কারণ আছে বলে মনে করি না, কিন্তু হি ক্লিয়ারলি ইজ আ গ্রেট আর্টিস্ট। আপনি এমন কিসু লিখুন যেটা মৃনাল সেন এর কাজ সম্পর্কে কেউ লেখেনি, বা স্বল্পালোচিত। আমার যেটা মনে হয়, ওনার ন্যারেটিভ ফিচার ফিল্ম বানানোর স্কিল ছিল না (মানে ওনার স্কেলে, আমার স্কেলে নাঃ-))) ) , কিন্তু ওনার অসামান্য ডকুমেন্টেশন এর স্কিল ছিল, অথচ ধরুন বিবিসি ডকুমেন্টারি র যেটা নিটোল স্ট্রাকচার, তার ন্যারেশন সেটা তাঁর পোষাতো না। আমার মনে হয় ওঁর আরেকটু বয়স কম হলে, উনি শুধু ই বিজ্ঞাপনের ফিল্ম করতেন বা মিউজিক ভিডিও করতেন বা স্পেশাল পারপস সোশাল হিস্টরি ফিল্ম বানাতেন, বা হয়তো শুধু ইন্টারভিউ নিতেন জার্নালিজম এ চলে আসতেন, ফিকশনাল আর্ট ছাড়তে সাহিত্য প্রেমী হিসেবে কষ্ট পেতেন, কিন্তু পোলিটিকাল কমিটমেন্ট ওনাকে এখানেই ঠেলে দিত। কিন্তু যা করেন নি, তাই দিয়ে তো আর ইভ্যালুয়েশন হয় না, য করেছেন তাই দিয়ে হয়।


Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

@খ, আমি কিন্তু মনে করি চলচ্চিত্রকার হিসাবে মৃণাল উপেক্ষিতই। মেনস্ট্রিম মিডিয়াতে তাঁকে নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র হয় না, তাঁর সম্পর্কিত বইয়ের সংখ্যা যথেষ্ট কম, বিদেশিরাও তাঁকে নিয়ে গোটা একটা বই লেখার কথা ভেবেছেন তেমনটা জানি না। কিন্তু এই যে আপনি বললেন যে ওঁর 'ন্যারেটিভ ফিচার ফিল্ম বানানোর স্কিল ছিল না' সেটা কিসের ভিত্তিতে বলছেন? ফিচার ফিল্মের পরিচিত ন্যারেটিভ সবাইকে একই ভাবে মেনে চলতে হবে কেন? নায়কও একদিনের ছবি, একদিন প্রতিদিনও তাই। নায়ক কিন্তু আর কিছু বলতে পারে না, গপ্পের ওখানেই ইতি। একদিন প্রতিদিন সেখানে আমাদের দেখিয়ে দেয় যে এই একদিন প্রত্যেকের জীবনেই আসতে পারে।

আপনি যদি এ ব্যাপারে সামান্য বিশদে বলেন।
Avatar: খ

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

এবাবা আপনাকে লেখা তে গিয়ে আমি কেস খেয়ে যাচ্ছি😊শুনুন আমি গন্ডমূর্খ। আপনি ল‍্যাখেন, আমি বলছি যে ভারত এ র শ্রেষ্ঠ ফিল্ম মেকার দের যেকোন লিস্টে উনি আসবেন হাসতে হাসতে, সেটা তো সম্মান হল, জীবনানন্দ যে কারণে রাজকাপুর নন, উনিও এক ই কারণে করন জোহর নন, কিন্তু সেটা তো প্রশংসা। উনি আমার ফেবারিট, কিন্তু আমি সিনেমা বিষয়ে ফুল হাপ উইট, আপনেই ল‍্যাখেন।
Avatar: খ

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার

এবাবা আপনাকে লেখা তে গিয়ে আমি কেস খেয়ে যাচ্ছি😊শুনুন আমি গন্ডমূর্খ। আপনি ল‍্যাখেন, আমি বলছি যে ভারত এ র শ্রেষ্ঠ ফিল্ম মেকার দের যেকোন লিস্টে উনি আসবেন হাসতে হাসতে, সেটা তো সম্মান হল, জীবনানন্দ যে কারণে রাজকাপুর নন, উনিও এক ই কারণে করন জোহর নন, কিন্তু সেটা তো প্রশংসা। উনি আমার ফেবারিট, কিন্তু আমি সিনেমা বিষয়ে ফুল হাপ উইট, আপনেই ল‍্যাখেন।
Avatar: অর্জুন

Re: মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার


'কিন্তু যা করেন নি, তাই দিয়ে তো আর ইভ্যালুয়েশন হয় না, য করেছেন তাই দিয়ে হয়।'

দারুণ কথা । যেটা করেননি সেটা নিয়ে অ্যানালিসিস কি ভাবে হয়!



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন