Saikat Bandyopadhyay RSS feed

Saikat Bandyopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...
  • কাশ্মীরের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসঃ ১৯৩০ থেকে ১৯৯০
    ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্ত যায় ১৯৪৭ এ। মূল ভারত ভূখন্ড ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু ভুখন্ডের ভাগবাঁটোয়ারা সংক্রান্ত আলোচনচক্র ওতটাও সরল ছিল না। মূল দুই ভূখণ্ড ছাড়াও তখন আরও ৫৬২ টি করদরাজ্য ছিল। এগুলোতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

Saikat Bandyopadhyay

মোদীজির সাফল্যের কাছে এভারেস্টও বেঁটে মতো, মারিয়ানা খাতও নেহাৎই ডোবা। মঙ্গলে উপগ্রহ পাঠানোও মাছি-মারার মতই সহজ, হালের চন্দ্রযান তো এমনকি গণেশের প্লাস্টিক সার্জারির চেয়েও সোজা। নিত্যনতুন কর্মকান্ডে তিনি আমাদের আশ্চর্য করেই চলেছেন। এর আগে এইভাবেই মোদীজি নতুন নোটে জিপিএস চিপ লাগিয়ে সন্ত্রাসবাদের সাড়ে-সব্বোনাশ করে দিয়েছিলেন। সে এতই কার্যকরী হয়েছিল, যে, সন্ত্রাসবাদীরা জিপিএস ট্র্যাকিং এর জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাতে প্রচুর সৈনিক, অনেক অসামরিক মানুষ, কয়েকটি প্লেন, ইত্যাদি নানা জৈব ও অজৈব পদার্থ মারা গেছে ঠিকই, কিন্তু জবাবে মোদীজির নেতৃত্বে পাকিস্তানের মাটিতে অনেক পাইনগাছে এবং একটি কাক মারা হয়েছে, এ কথাও মনে রাখা জরুরি। একেই আপনারা মোদীজির নৈতিক জয় বলতে পারেন।

মোদীজির কোনো ক্লান্তি নেই, তাই এই বিরাট সাফল্যের পরের ধাপ ৩৭০ বিলোপও কয়েক মাসের মধ্যেই এসে গেছে। হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির ফরোয়ার্ড দেখলেই আপনারা সেসব সম্পর্কে বিশদে জানতে পারবেন। চাদ্দিকে নানা বার্তা দৌড়চ্ছে, যার মূল কথা হল, এতদিন কাশ্মীর পাকিস্তানে ছিল, মোদীজি তাকে ধরে-বেঁধে ভারতবর্ষে এনে ফেলেছেন। এখন থেকে কাশ্মীরে ভারতের পতাকা উড়বে (নিশ্চয়ই আগে উড়তনা)। এখন সুপ্রিম কোর্টের আওতায় চলে এল কাশ্মীর (আগে গিলানির ফাঁসির আদেশ দিতে ঘেমে-নেয়ে একশা হয়েছে, আফজল কে কোনোমতে দিতে পেরেছিল)। জিহাদিদের শাসন থেকে আজ চিরমুক্তি, আজ কাশ্মীর দিবস। যেভাবে নোটে চিপ লাগিয়ে সন্ত্রাসমুক্তি হয়েছে, সেভাবেই ৩৭০ তুলে দিয়ে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি হল। মেসেজের নিচে জ্বলজ্বলে হ্যাশট্যাগ দিয়ে আবার লেখা থাকছে #সশক্তভারত। এ কোনো বাংলা শব্দ নয় (আইটি সেলের করবার, সবাই কপিপেস্ট মারছে), তবু পড়লেই বুঝতে পারবেন, যে, এতদিন, এমনকি মোদীবাবুর ৫ বছরেও ভারত অশক্ত ছিল, এবার "সশক্ত" হয়ে গেছে।

সশক্ত হয়ে আপনি এবার কী করবেন? সাধারণ জ্ঞান না থাকলে চারদিকে অন্তত কান পাতুন। শুনবেন নাগাড়ে ৩৭০ আর ৩৫এর চাষ হচ্ছে। পাড়ার বড়দা-বড়দিরা, অবিরত জ্ঞান ঝাড়ছেন, আপনার কটি হাত, কটি নতুন পা, আর কটি ব্র্যান্ড-নিউ ন্যাজ গজালো সেই নিয়ে। মোদ্দা কথা হল, এবার আপনার জীবনে অপার সুখ-শান্তি নেমে এল, তার জন্য আর স্বপনে কিংবা শ্মশানে যেতে হবেনা। এবার থেকে বাঙালি ছোঁড়ারা যতখুশি কাশ্মীরি কন্যা বিয়ে করতে পারবে (যেন এতদিন কাশ্মীরি কন্যারা বাঙালি বিয়ে করতে না পেরে মূহ্যমান হয়ে পড়েছিল)। বাঙালি মেয়েদেরও কোনো ভয় নেই, শালওয়ালা পেলেই টপ করে পাকড়ে নিতে পারবেন, বিয়ে-থা হলে আপনাকে আর কাশ্মীরি হয়ে যেতে হবেনা। আরও গুরুত্বপূর্ণ যেটা, সেটা হল, বাঙালি মধ্যবিত্তরা স্রেফ ৩৭০ এর অভাবে এতদিন শ্রীনগর উপত্যকায় রিটায়ারমেন্ট হোম বানাতে পারছিলেননা, এখন সেই সমস্যা মিটল। এবার ডাল লেকের পাড়ে-পাড়ে দেখবেন, ঘোষ-বোস-মিত্তিরদের বাগানবাড়ি। রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই আলুপোস্তর সুবাস আসবে নাকে। মোড়ে-মোড়ে হবে রসগোল্লার দোকান (সে অবশ্য হলদিরাম দেবে)। চালাও পানসি বেলঘরিয়ার বদলে এখন নতুন প্রবাদ হবে, ঘোরাও হাউসবোট ডাল লেকে। এইসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বাঙালি মরে যাচ্ছিল, আজ এল তার আকাশে ওড়ার দিন। এখন স্রেফ এক দেশ, এক আইন।

এই শুনে আবার মিনমিন করে সিকুলার লিবারালদের মতো প্রশ্ন করতে যাবেননা কিন্তু, যে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যে-টাজ্যে তো নানারকম বিধিনিষেধ এখনও আছে, বা, আসামে একটি বিদঘুটে পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব যাচাই হচ্ছে, যা ভারতের আর কোথাও হয়না, তাহলে এক-দেশ, এক-আইন টা হল কীকরে? তাহলেই দেশপ্রমিকরা আপনাকে ধুইয়ে দেবেন। "হোয়াট্যাবাউটারি করবেন না তো"। এ অবশ্য আপনারই শিক্ষা। আপনি লিবারাল হয়ে জন্মেছেন, প্রশ্ন উঠলেই নাক-কুঁচকে চতুর্দিকে এইসব লব্জ ঝেড়েছেন নির্বিচারে, এখন সেসব ফেরত পাবেন না বললে হবে? আজ কাশ্মীর দিবস, পে-ব্যাক ডে। কাশ্মীর ভারত ফেরত পেয়েছে, আপনিও তাই ফ্রিতে ফেরত পাচ্ছেন আপনার লব্জ। এ হল মুক্তির দিন। জয় ভারত, সশক্ত ভারত।

1186 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 21 -- 40
Avatar: debu

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

সৈকত কি নক্শাল ন ছিপিএম না কঙ্গ্রেস্সি না পাকি ?

Avatar: ব্রতীন

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

দেবু বাবু, জানি কিন্তু বলবো না 😃😃😃
Avatar: Amit

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

PM দা কে,

হ্যা , আমি কাশ্মীর বলতে POK আর ইন্ডিয়ান কাশ্মীর দুটো একসাথে ধরেছি, পুরোটাই তো বিতর্কিত এলাকা। POK , আকসায় চীন থেকে শুরু করে সবই তো ঘেটে ঘ হয়ে আছে। শুধু ইন্ডিয়ান কাশ্মীর ধরলে ইন্টারন্যাশনাল বর্ডার স্ট্রাটেজিক ইম্পর্টেন্স অনেক কমে যায় ঠিক ই, কিন্তু কাশ্মীর ছেড়ে দিলে জম্মু থেকে পাঠানকোট আর্মি বেস দেড় ঘন্টার রাস্তা। কোন দেশ এতো উদার হবে যে ঘাড়ের ওপর চীন আর পাকিস্তান এর মতো হোস্টাইলে নেবার নিয়ে দরজা খুলে রাখবে ?

আর দাদা, ছিটমহল এর উদা টা এক্কেবারে দাঁড়ালো না। এটা আপনিও জানেন। জায়গা নিয়ে বিতর্ক বা গুরুত্ব ছেড়েই দ্যান, ওসব তুলনা করাটাই হাস্যকর। শুধু এটাই দ্যাখেন যে চুক্তি হলো কবে ? ২০১৫- এ , যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এবং তিনি ভারতের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী। ১৯৭১ এর আগে তো ছেড়ে দ্যান, ইভেন জামাত পন্থী খালেদা জিয়া বাংলাদেশ এর PM থাকলে কদ্দুর কি চুক্তি হতো সেটা বলা মুশকিল।

ব্রিটিশ দের আমলে বা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার সময় সব কাজ ঠিক হয়েছে, এটা মাউন্টব্যাটেন এর চরম ভক্ত রাও ও ক্লেম করে না। জাস্ট এটাই আমার বক্তব্য যে তখন যে অবস্থায় ছিল , তখনকার মতো একটা কাজ চালানো সলুশন বের করে হয়েছিল। ব্যাস। এবার তখন যা ভুলভাল হয়েছে , সেটা নিয়ে অনন্তকাল বিতর্ক চালানো যেতে পারে , অথবা অন্য ভাবে কংট্রোলড বা দ্রাষ্টিক স্টেপস নিয়ে অন্য ভাবে সলুশন এর পথে এগোনো যেতে পারে। ইডিয়াল সলুশন বলে কোনো কিছু কোথাও হয়নি আজ অব্দি।

কাশ্মীর তো একমাত্র নয়, ৫০০ এর ওপর দেশীয় রাজ্য ছিল , তারা কেও কোনো রকম গুষ্টির গণভোট করে নি। নিজাম তো পাকিস্তানে যাওয়ার জন্যে সব রেডি করেই ফেলেছিলেন। চারদিকে ইন্ডিয়ার মধ্যে একটা পাকিস্তানী হয়দেরাবাদ প্রদেশ ও হতেই পারতো। হয়নি যখন, তাহলে সেটাও আবার গণভোট নেওয়া হোক ? ?

যেভাবে এখানে মাঝে মাঝে দেশভাগের ইতিহাস তুলে সমানে আফসোস করা হয় যে যা হয়েছে সব ভুলভাল, তাহলে তেনাদের কথা ই ধরলে তো বেস্ট অপশন তো মনে হয় আবার সব কিছুকে প্রি- ১৯৪৭ এর পিরিয়ড এ ফেরানো যাক আর এই ২১ শতকের গণতান্ত্রিক কনসেপ্ট নিয়ে একটা বিশাল গণভোট করা হোক। অবশ্য তাতেও বখরা আসবে যে তখনকার বেশির ভাগ লোকজন তো স্বর্গে গেছেন, তাহলে তাদের প্রক্সি ভোট কারা দেবে ?

:) :) :)

চীন বরং মধ্য এশিয়া র বহু দেশের সঙ্গে বর্ডার সমস্যা মিটিয়েছে, কিন্তু সত্যিটা হলো সেই দেশগুলোর মধ্যে কারোরই চীন র সাথে সেরকম দরাদরি করার অবস্থা ছিল না। আজকে আমি ব্যাঙ্ক এ লোন নিতে গেলে আর নীরব মোদী লোন নিতে গেলে ব্যাঙ্ক কি এক রকম ট্রিটমেন্ট করে ? এটাও তাই। আর তিব্বত এ কি হচ্ছে, সেটার ওপর কার ক্ষমতা আছে খবদারী করার ?

গ্লোবাল রাজনীতি সোজা কথায় ঠিক ভুলের তত্বকথার ওপর চলে না, যার গায়ের বা ইকোনমির জোর বেশি , তারা ডিস্প্রোপার্টিনেত বেনিফিট জোর করে আদায় করে, যেমন ইস্রায়েল এক তরফ মেরে যাচ্ছে প্যালেসটিন কে, কে ঠেকাতে পারছে ? যেখানে দু পক্ষের জোর মোটামুটি প্রপোর্শনাল , সেখানে সমস্যা বেশি, ঝামেলা চলতেই থাকে, যেমন ইন্ডিয়া - পাকিস্তান।

কাশ্মীর এর যে লেভেল এ ডিসপিউট, তার সাথে জাস্ট একটা দুটো ছাড়া বাকি কোনো দুনিয়াতে কিছু তুলনায় আসে না। এক হলো প্যালেসটিন, তার কথা না বলাই ভালো। আর এক হলো দুই কোরিয়া র মাঝে বর্ডার। তাও কোরিয়ান বর্ডার এর মধ্যে DMZ করে অনেক বেটার অবস্থা। আর ওখানে চীন আর আমেরিকার স্টেক অনেক, অনেক বেশি। তাও কবে কিম র মতো পাগলা লোক কি করে ফেলবে কেও জানে না।





Avatar: Amit

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

আমার নিজের ধারণা ওপাশে ট্রাম্প আফগান তালিবান দের সাথে কোনো রকম এক্সিট চুক্তি ফাইনাল করার আগেই মোদী চেয়েছিলো কাশ্মীরে নিজের মতো করে ঘর গোছাতে। একবার US আর্মি আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে গেলে পাকিস্তানী তালিবান দের পুরো চাপ যে কাশ্মীরে এসে পড়তো না , তার কোনো গ্যারান্টি নেই। ও রকম ব্যাটল হার্ডেনেড মিলিশিয়া গ্রূপ এর সাথে লড়াই করা, সেখানে অলরেডি লোকাল পপুলেশন হোস্টাইলে হয়ে আছে, খুবই ডিফিকাল্ট।

কদিন ধরেই ট্রাম্প নেচে যাচ্ছে কাশ্মীরে মধ্যস্থতা করার জন্যে, আসল খবর নিশ্চয় কিছু ইন্ডিয়া পেয়েছে ভেতরে , কে জানে।
Avatar: ব

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

পিএম, ছিটমহল ঠিক কমপারেবেল নয়৷ আমি অমিত বাবুর সাথে একমত।
কাশ্মীরে সমস্যার গভীরতা অনেক বেশী।সমস্যার মূল ও অনেক গভীরে।
Avatar: PM

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

সেতো আমিও বল্লাম। কিন্তু ্ছিট মহল আর সমুদ্র সীমা নিয়ে ৭০ বছরের বিতর্ক ছিলই। জেমন ছিলো গঙ্গার জলবন্টন নিয়ে। তিস্তা নিয়ে এখনো অছে। কাশ্মিরের স্কেলের সমস্যা পৃথিবীতে আর গোটা ২-৩ ই আছে। গাজা, তিব্বত ইত্যাদি। কিন্তু ছোটো স্কেলে হলেও সমুদ্রসীমা আর ছিট মহল ও সমশ্যা -- যার সমাধান শান্তিপুর্ন ভাবে হয়েছে। ভারত ২০০০ বর্গ কিমি সমুদ্র সীমার ওপোর অধিকার ছেড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ও ছেড়েছে কিছুটা।

কাল যদি বাংলাদেশের ভাগে পড়া অংশে প্রচুর তেল পাওয় যায়, এখানকার বিরোধীরা গাল দেবেই। উল্টোদিকে ভারতের ভাগের সমুদ্রে তেল পেলে হাসোনার চামড়া খুলে নেওয়া হবে। এই সব আর কি
Avatar: dc

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

পিএমদা, ছিটমহল আর কাশ্মীরের একটা বড়ো তফাত হলো, ছিটমহলে দুটো পার্টি ছিলো - ভারত আর বাংলাদেশ। দুটো পার্টি নিজেদের মধ্যে দেওয়া নেওয়া করে মিটিয়ে নিয়েছে। আর কাশ্মীরে অনেকগুলো পার্টি। চীন, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, অ্যামেরিকা। ওখানের জিওপলিটিকাল সিচুয়েশান একেবারেই আলাদা। কোন দুটো পক্ষ নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করতে চাইলেও তৃতীয় পক্ষ বাধা দেবে। চীন, ভারত আর পাকিস্তান - তিন পক্ষই চায় ওখানে অশান্তি জিয়িএ রাখতে। গ্লোবাল পাওয়ার ব্যালেন্স একেবারে পুরোপুরি না পাল্টালে ওখানে কোন সমাধান বেরনো খুব মুশকিল। (ইস্ট আর ওয়েস্ট জার্মানি যেমন মিলতে পেরেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন কোল্যাপ্স করে যাওয়ার পর, ঠান্ডা যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময়ে)
Avatar: Amit

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

At লিস্ট মোদী কে ইটা বলবো যে ও কাশ্মীর এ স্টেটাস কুও থেকে বেরোতে চেষ্টা করেছে, ভালো বা খারাপ যাই হোক , সেটা দেখা যাক। গত ৬০-৭০ বছরে তো এক ই ডেডলকেড সিচুয়েশন এ আটকে আছে। আর এই সমস্যার এমন কোনো সল্যুশন নেই যে সব পার্টি কে খুশি করতে পারে।
Avatar: dc

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

অমিত, মুশকিল হলো এই ডিসিশানটা নেওয়া হয়েছে ধুধুমাত্র দুটো মাত্র অবজেক্টিভ মাথায় রেখেঃ শর্ট টার্ম অবজেক্টিভ হলো বিজেপির ভোটে সুবিধে হবে, আর লং টার্ম অবজেক্টিভ হলো আরেসেসের হিন্দু রাষ্ট্র পোজেক্ট আরেক ধাপ এগলো।

আর আমাদের সবার প্রিয় প্রধানসেবক ডিসিশানটা নিয়েছেন খুব অপটিমাল সময়ে। দেশের মধ্যে অপোজিশান বলে আর কেউ নেই, ফলে ইন্টারনালি কোন বাধার সম্মুখীন হওয়ার প্রশ্নই নেই। আর ইন্টারন্যাশানালি গ্লোবাল পুলিশ আর কেউ হতে চাইছে না। অ্যামেরিকা অস্তাচলে আর চীন সেই জায়গায় এখনো পৌঁছয়নি। যার জন্য দেখুন অ্যামেরিকা একটা নিস্পৃহ মন্তব্য করে দায় সেরে ফেলেছে আর চীন একটু ফোঁস করেছে বটে, কিন্তু তার বেশী কিছু না।
Avatar: dc

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

শুধুমাত্র
Avatar: S

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

কাশ্মীরের তিনটে মুল পার্টি হলোঃ ভারত, পাক, চীন। এর মধ্যে পাক ও চীন ভারতের প্রতি মারাত্মক হোস্টাইল। এবং এই হোস্টিলিটিই পাক ও চীনের বন্ধুত্বের কারণ। চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরী করা ভারতের খুবই প্রয়োজন। কারণ চীনকে হ্যান্ডেল করা ভারতের পক্ষে আর কোনওদিনও সম্ভব হবেনা।
Avatar: S

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

কাশ্মীরকে ছেড়ে দেওয়ার কোনও মানেই হয়্না। কাশ্মীর কোনওদিনই স্বাধীন রাষ্ট্র হবেনা। নাম কে ওয়াস্তে হলেও পাকিস্তানের ছায়া হয়েই থেকে যাবে। পাক ও চীনা সেনাদের অবাধ বিচরণ ভুমি হবে।

কিন্তু কাশ্মীরকে ইন্টিগ্রেট করার এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। ডিসিদার দুটো পয়েন্টই ভ্যালিড। ঐ দুটই মুল উদ্দেশ্য। এখানে কাশ্মীরের লোকজনদের কোনও পার্টিশিপেশন ছাড়াই মেইন ল্যান্ডের লোকেরা ঠিক করে ফেললো একটা রাজ্যের ভবিষ্যত। কলোনিয়াল স্টাইলে। স্টেড হুড কেড়ে নিয়ে এবং ৩৭০ বাতিল করে কাশ্মীরকে আরো বেশি অনিশ্চয়তা এবং হিংসার দিকে ঠেলে দিলো। এখন দুটই পথ খোলা থাকলো। এক, ভবিষ্যতে কাশ্মীরকে (জম্মু নয়) ছেড়ে দেওয়া। দুই, জম্মু ও কাশ্মীরকে হিন্দু প্রধান বানিয়ে (৩৫এ) প্লেবিসাইট করা। বোঝাই যাচ্ছে বিজেপি কোনদিকে হাঁটছে।
Avatar: dc

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

কিন্তু চীন কি ভারতের সাথে খুব বেশী সুসম্পর্ক চাইবে? বরং কাশ্মীর নিয়ে ভারত ব্যস্ত থাকলে চীনের লাভ। চীন চাইবে কড়াইটা যেন ফুটতে থাকে কিন্তু জল উপচে না পড়ে।
Avatar: S

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

হ্যাঁ পাকিস্তানকে প্রচুর আর্মস বিক্রিবাটা করছে বটে চীন। বিশেষতঃ আম্রিগা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে। সেক্ষেত্রে চীনের ইন্টারেস্ট আছে ভারত-পাক সমস্যা জিইয়ে রাখার। কিন্তু অন্য সীমান্তগুলোতে চীন চাইবে ভারতের সঙ্গে মিটমাট করে বানিজ্যিক সুসম্পর্ক তৈরী করার। আম্রিগা ট্যারিফ বসানোর পর এবং গ্রোথ কমতে শুরু করতে চীন নতুন মার্কেট খুঁজছে। ভারত একদম পাশেই আছে, গ্রোয়িং ইকনমি, যে কারণে বেল্ট/সিল্ক রোডে ইন্ডিয়াকে ইনভাইট করেছিলো।
Avatar: dc

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

হ্যাঁ। আমার তো মনে হয় বেল্ট অ্যান্ড রোডে ইন্ডিয়া গেলে আমাদের লাভই হবে। বেফালতু অ্যামেরিকার চাপে যাচ্ছে না।
Avatar: Amit

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

ডিসি, পলিটিকাল লাভ তো আছেই , নাহলে মোদী কি আর চ্যারিটি করতে নেমেছে ? কিন্তু গত ৬০-৭০ বছরে কংগ এতো জল ঘোলা করেছে কাশ্মীর এ, ওই বা ছাড়বে কেন ? বরং ওদের কোনো হিপ্পোক্রেসি নেই, হিন্দু পলিটিক্স করবে, সোজা বুক চিতিয়ে করছে । কংগ বা তিনুদের মতো লুকিয়ে চুরিয়ে নয় ।

কাশ্মীর এর লোক দের মন জয় করতে গিয়ে জম্মু বা লাদাখের লোকের মন বিগড়ে যাচ্ছিলো এদিকে, তো এরা টার্গেট অডিয়েন্স চেঞ্জ করে দিলো আর কি। সোজা কথা, কাশ্মীর কে পাকিস্তান এর হাতে ছেড়ে দেওয়া বা স্বাধীন হতে দেওয়া দুটোই ইন্ডিয়ার পক্ষে বিপজ্জনক , পাকিস্তান বা চীন তো আর গান্ধী গিরি করে না। আর আলোচনার যেখানে বেসিস টাই গড়বড়ে, সেখানে অনন্তকাল ধরে আলোচনা করে কার লাভ ?

একটা মেজর গ্যাম্বলে খেলে দিলো মোদী, এবার দেখা যাক, বাকিরা কি করে। তবে কংগ্রেস র গঙ্গাযাত্রা হয়ে গেছে নিশ্চিত ।
Avatar: ব

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

সুন্দর আলোচনা এগোচ্ছে
Avatar: debu

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

দেখুন একটা point এ সবাই কে এক থাকতেই হবে - সেটা national interest । চামচা বাজির একটা লিমিট রাখুন।
(সকালে ওঠ্হে গনশক্তি / আজকাল পরে দিন সুরু করবেন না)

Avatar: PM

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

আচ্ছা ঃ)
Avatar: Amit

Re: কাশ্মীর এবং সশক্ত-ভারত

বাবা রে । দেবু বাবু তো একেবারে অমিত শাহ এর মতো আঙ্গুল তুলে ধমকালেন।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 21 -- 40


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন