souvik ghoshal RSS feed

souvik ghoshalএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সেলিব্রিটির প্রতি ভালোবাসা
    নিউজফিড ঘাঁটতে ঘাঁটতে বর্তমানের ফেমাস সিঙ্গার, মেয়েদের ক্রাশ মাঈনুল আহসান নোবেলের একটা ছবি হঠাৎ সামনে চলে এলো। ছবিটা দেখামাত্র আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা শিহরণ বয়ে গেল। ইউরেকা! পেয়েছি! আমার জীবনসঙ্গী,আমার বাচ্চার বাপ, আমার নাতি-পুতির দাদা। সেই ...
  • ভ্যান গগ ও একটি কুৎসিত তৈলচিত্র
    রঙ! শব্দটা শুনলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জাগে মনে। হঠাৎ যেন মনে হয় কেউ এক মুঠো লাল - হলুদ আবির ছড়িয়ে দিল হাওয়ায়। রঙ শুনলে আমার কেন জানি মনে হয়, একটা ক্যানভাসে খুব পাৎলা করে কেউ ক্রিমসন রেডের একটা শেডের উপরে ক্রোম ইয়োলোর এক পোঁচ ভেজা রঙ লাগিয়েছে। আপনাদের কি ...
  • সম্রাট ও সারমেয়
    একটি খুব স্নেহের মেয়ে, বিদেশে পড়াশুনো করছে, সূর্যের নীচে সবকিছু ভালোর জন্যই ওর গভীর ভালবাসা। মাঝে মাঝে পাগলামি করে বটে,আবার শুধরে নেওয়ায় কোন অনীহা নেই।আমার খুব পছন্দের মানুষ !সে একদিন লিখলো ইসলামে কুকুর নাপাক জীব। এইটাতে সে ভয়ানক খাপ্পা, কারণ কুকুর তার ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন

souvik ghoshal

১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।

মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার অভূতপূর্ব সঙ্কট সামনে এসেছিল। সভ্যতার পীঠস্থানকে মনে হচ্ছিল ওয়েস্টল্যান্ড। এদেশে পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প, দুর্ভিক্ষ মৃত্যুমিছিল নিরাশাকরোজ্জ্বল চেতনায় আরো নতুন নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এর বিপরীতে বড় ধরনের আশাবাদ সঞ্চারিত হয়েছিল বিশ্বযুদ্ধের মাঝেই সংগঠিত রুশ বিপ্লব ও সোভিয়েত সমাজবাদের প্রেরণায়। বাংলায় যাদের কবিতায় এটা সবচেয়ে স্পষ্ট ও প্রবলভাবে অনুরণিত হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন সুকান্ত ও সুভাষ। সুকান্ত অকালপ্রয়াত আর সুভাষ মুখোপাধ্যায় পেয়েছিলেন দীর্ঘ জীবন।

শুধু সমাজবাদী স্বপ্নই নয়, কবিতার শৈলীগত বিশিষ্টতার কারণেও সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে বাংলা কবিতার পাঠক বিশেষভাবে মনে রাখবেন।

সুভাষ মুখোপাধ্যায় সৌন্দর্যের যে ধারণা ‘মিছিলের মুখ’ এর মতো বিশিষ্ট কবিতায় নিয়ে আসেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলা কবিতার নন্দনতত্ত্বে অভিনব সংযোজন।

মিছিলে দেখেছিলাম একটি মুখ,
মুষ্টিবদ্ধ একটি শানিত হাত
আকাশের দিকে নিক্ষিপ্ত;
বিস্রস্ত কয়েকটি কেশাগ্র
আগুনের শিখার মতো হাওয়ায় কম্পমান।
ময়দানে মিশে গেলেও
ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ জনসমুদ্রে ফেনিল চূড়ায়
ফসফরাসের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকলো
মিছিলের সেই মুখ।
সভা ভেঙে গেল, ছত্রাকারে ছড়িয়ে পড়লো ভিড়
আর মাটির দিকে নামানো হাতের অরণ্যে
পায়ে পায়ে হারিয়ে গেল
মিছিলের সেই মুখ।
আজও দুবেলা পথে ঘুরি
ভিড় দেখলে দাঁড়াই
যদি কোথাও খুঁজে পাই মিছিলের সেই মুখ।
কারও বাঁশির মতো নাক ভালো লাগে,
কারও হরিনের মতো চাহনি নেশা ধরায়—
কিন্তু হাত তাদের নামানো মাটির দিকে,
ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ সমুদ্রে জ্বলে ওঠে না তাদের দৃপ্ত মুখ
ফসফরাসের মতো।
আমাকে উজ্জীবিত করে সমুদ্রের একটি স্বপ্ন
মিছিলের একটি মুখ।
অন্য সব মুখ যখন দুর্মূল্য প্রসাধনের প্রতিযোগিতায়
কুৎসিত বিকৃতিকে চাপার চেষ্টা করে,
পচা শবের দুর্গন্ধ ঢাকার জন্যে
গায়ে সুগন্ধি ঢালে,
তখন অপ্রতিদ্বন্দী সেই মুখ
নিষ্কোশিত তরবারির মতো
জেগে উঠে আমাকে জাগায়।
অন্ধকারে হাতে হাত তাই গুঁজে দিই আমি
নিষিদ্ধ এক ইস্তাহার,
জরাজীর্ণ ইমারতের ভিত ধসিয়ে দিতে
ডাক দিই
যাতে উদ্বেলিত মিছিলে একটি মুখ দেহ পায়
আর সমস্ত পৃথিবীর শৃঙ্খলমুক্ত ভালবাসা
দুটি হৃদয়ের সেতুপথে
পারাপার করতে পারে।।

এখানে ভালোবাসা, সৌন্দর্য সব কিছুর সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার আনন্দ, প্রতিবাদ প্রতিরোধের মধ্যে খুঁজে পাওয়া জীবনের অন্যতর অর্থকে যেভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলা কবিতায় তার পূর্বাপর খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কারও বাঁশির মতো নাক ভালো লাগে, কারও হরিনের মতো চাহনি নেশা ধরায় আর জীবন বা কবিতার ভুবনে তারাই মূলত সৌন্দর্যের আর্কেটাইপ। কিন্তু হাত তাদের নামানো মাটির দিকে, তাই সৌন্দর্যের নতুন ধারণার খোঁজে থাকেন সমাজবাদের দর্শনে নন্দিত কবি। মুষ্টিবদ্ধ একটি শানিত হাত, যা আকাশের দিকে নিক্ষিপ্ত; যার বিস্রস্ত কয়েকটি কেশাগ্র আগুনের শিখার মতো হাওয়ায় কম্পমান – তার মধ্যেই সৌন্দর্যের নতুন আর্কেটাইপ খুঁজে পান কবি সুভাষ। জরাজীর্ণ ইমারতের ভিত ধসিয়ে দিয়ে সমস্ত পৃথিবীতে শৃঙ্খলমুক্ত ভালবাসা আনতে পারে যে, সেই সুন্দর। সেই ভালোবাসার মানুষ যে নিষ্কোশিত তরবারির মতো জেগে উঠে আরেকজনকে জাগিয়ে দিতে পারে। কবিতা প্রেম বিপ্লব সৌন্দর্যচেতনার যে নতুন সমন্বয় গড়ে তুলেছিলেন কবি সুভাষ, তার আবেদন দেশ কালের সীমা পেরিয়ে চিরকালীন।

87 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন

গতকালই নবারুণের একটা ছোট লেখা পড়ছিলাম, 'আনাড়ীর নাড়িজ্ঞান' নামে একটা কালেকশনে, সুভাষ-কে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়েছেন
Avatar: রঞ্জন

Re: সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন

"কুয়াশা কঠিন বাসর যে সম্মুখে
লাল উল্কিতে পরস্পরকে চেনা।
দলে টানো হতবুদ্ধি ত্রিশংকুকে,
কমরেড, আজ নবয়ুগ আনবে না ?"

বা মে দিবসের গানেঃ
'প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা।
চোখে নেই স্বপ্নের নীলরঙ মদ্য
কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া'।
এছাড়াঃ
"জাপ পুষ্পকে জ্বলে ক্যান্টন জ্বলে হ্যাংকাও,
কমরেড, আজ বজ্রকঠিন বন্ধুতা চাও?
লাল নিশানের নিচে উল্লাসী মুক্তির ড্যাক,
রাইফেল আজ শত্রুপাতের সম্মান পাক'।
কিছু আশচর্য লাইনঃ
'ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত'।
" ঘোড়াগুলো বাঘের মত খেলছে,
ঘোড়াগুলো বাঘের মত খেলছে।
----
রবাব্রের বনে বনে ঝুলছে ফাঁস,
পালাও!
চাল ফেরত নেই,
গোটা দুনিয়াকে বাজি রেখে আম্মাদের লড়াই
ঘোড়াগুলো বাঘের মত খেলছে।"
'পাগল বাবরালির চোখের মত ঘোলা আকাশ'।

পরের দিকে 'মুখুজ্জের সঙ্গে আলাপ' 'এই ভাই', 'ছেলে গেছে বনে' ইত্যাদিতে রাজনীতির বাঁকবদল ধরা পড়েছে। কিন্তু কাব্যগুণ আরও সুষমামন্ডিত আরও গভীর হয়েছে;-- ব্যক্তিগত মত।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন