ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সম্রাট ও সারমেয়
    একটি খুব স্নেহের মেয়ে, বিদেশে পড়াশুনো করছে, সূর্যের নীচে সবকিছু ভালোর জন্যই ওর গভীর ভালবাসা। মাঝে মাঝে পাগলামি করে বটে,আবার শুধরে নেওয়ায় কোন অনীহা নেই।আমার খুব পছন্দের মানুষ !সে একদিন লিখলো ইসলামে কুকুর নাপাক জীব। এইটাতে সে ভয়ানক খাপ্পা, কারণ কুকুর তার ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দুই ক্রিকেটার

ন্যাড়া

ক্রিকেট মানেই যুদ্ধু। আর যুদ্ধু বলতে মনে পড়ে ষাটের দশক। এদিকে চীন, ওদিকে পাকিস্তান। কিন্তু মন পড়ে ক্রিকেট মাঠে।

১৯৬৬ সাল হবে। পাকিস্তানের গোটা দুয়েক ব্যাটেলিয়ন একা কচুকাটা করে একই সঙ্গে দুটো পরমবীর চক্র পেয়ে কলকাতায় ফিরেছি। সে চক্রদুটো অবশ্য আর নেই। পাড়ার "জগন্নাথঅ ফ্র্যায়েড স্ন্যাক্স" নামক তেলেভাজার দোকানে বাঁধা দিয়ে পাক্কা দুটি বছর মুড়ি-তেলেভাজা পেঁদিয়েছি। সে যাক, সেবার তোদের মনসুর পতৌদি এল সকালবেলা। সবে এজমালি বাথ্রুম ফাঁকা পেয়ে একটা বিড়ি নিয়ে ঢুকেছি অমনি দরজায় দুম-দুম। পতৌদি এসেছে। বললাম, "চা-টা দিয়ে বসাও।" এসে দেখি আমার চৌকিতে বাবু হয়ে বসে হাতলভাঙা কাপ থেকে প্লেটে ঢেলে সুড়ুৎ সুড়ুৎ আওয়াজ করে চা খাচ্ছে। বলল - এবার একটা বাচ্চা পাঞ্জাবী ন্যাটা স্পিনারকে ডেবিউ করাচ্ছি। বেদী নাম। একটু যদি দেখিয়ে দেন। আমি বললাম, আমি তো ভাই আজকাল আর মাঠে-ঠাটে যাইনা। কিন্তু সে কিছুতেই শুনবে না। ঝুলোঝুলি। আমি বললাম, ঠিক আছে। দেখে যদি বুঝি এর জিনিস নেবার ক্ষমতা আছে, তাহলে নাহয় কটা জিনিস দেখিয়ে দেব। মিথ্যে বলব না, ছেলেটার ক্ষমতা ছিল। যা দেবার ছিল তার অন্ততঃ তিরিশ শতাংশ নিতে পেরেছিল। আমি মনসুর মিঞাকে বলেছিলাম, চায়নাম্যানটা শিখল না বটে, ছেলেটার মধ্যে জিনিস আছে। কিন্তু পাকতে এখনও দু-তিন বছর লাগবে। তা লেগেছিল। সিক্সটি নাইন সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার এগেনস্টে কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটল। আর একটা কথা, মনসুর কিন্তু নিজের বিয়েতে নেমন্তন্ন করেছিল ভোপালে। ওহ সে যে কী ভাল কাকোরি কাবাব খাইয়েছিল!

সেই বেদীই আবার এল দশ-বারো বছর পরে। বলল, অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি টিম নিয়ে। একটু বলে-টলে দিন। বলে আর কী দেব, টলে দিলাম। রিচি বেনোর টিমের সঙ্গে খেলার সময়ে সিম্পসনকে খেলেছিলাম। তো তার সম্বন্ধে দুচারটে টিপ দিয়ে দিলাম। তাতেই ফাটিয়ে দিল। সেই শেষ ভাল খেলল।

আর হ্যাঁ, শ্যমসুন্দর মিত্র। শ্যামসুন্দর ঘোষের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলিস না। ঘোষও ক্রিকেট খেলত। বেঙ্গলও খেলেছিল বোধহয়। বাঙুরে থাকত। পরে স্টেটসম্যানে ক্রিকেট লিখত, শেষে স্পোর্টস এডিটর হয়েছিল। আমি বলছি অন্য শ্যামসুন্দরের কথা। মিত্র। শ্যামসুন্দর মিত্র। ভাল ব্যাট ছিল। খুব স্টাইলিশ। অনেকটা মুশতাকের ধাঁচের। সার্ভিসেসের সঙ্গে একবার খেলা। আমি তখন চীনে যুদ্ধ করে সবে ফিরেছি। চিফ অফ স্টাফ ডেকে বলল, "বোস এবারেরটা খেলে দাও। আর বলব না।" ভাল স্পিনিং ট্র্যাক করেছিল কোটলা। আমি রাইট আর্ম অর্থোডক্স স্পিন করাচ্ছিলাম। তার দুদিন আগে যেগুলো প্রসন্নকে শিখিয়েছিলাম নেট-এ, সেগুলোই। অফ-মিডলে পড়ে ভাঙবে - কিন্তু কোনদিকে বোঝা যাবে না, আর কতটা - তা তো নয়ই। প্রসন্ন লেংথটা শিখেছিল, ফ্লাইটটাও। ওই সময়েই তো ডেবিউ করল।

তা সে যাক, উল্টোদিকে শ্যামসুন্দর। পঙ্কজও তখন খেলছে। তিন নম্বর বলে একটা চায়নাম্যানে পঙ্কজের তেকাঠি ফাঁক। তখন শ্যামসুন্দর নেবেছিল। আহা, কী খেলাটাই না খেলল। যাই করি, তাই হাত থেকে পড়ে ফেলে। সারাদিনে একত্রিশ ওভার টানা বল করেছিলাম। সাতাশটা মেডেন তার মধ্যে। তবে বাই হয়েছিলে একান্ন। উইকেটকিপার কিছু বুঝতেই পারেনি, কোথা পড়ছে কোথায় যাচ্ছে। অথচ শ্যাম একটা বাদে প্রতিটা বল ঠিকঠাক পড়েছিল। সেই শ্যামসুন্দরের খেলা দেখে বেচুবাবুকে - বেচু দত্তরায়কে - বলেছিলাম ছেলেটাকে একটা চান্স দিন। সে আর দিলেন কই!

চিফ অফ স্টাফকে বলেছিলাম, ওসব যুদ্ধ-ফুদ্ধ কাটিয়ে চীনকে ক্রিকেট মাঠে নিয়ে আসুন। দু'হাত খেলে দেখি। সবই ললাটঙ্ক লিখন।

196 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: সৈকত

Re: দুই ক্রিকেটার

একটু ছোট হয়েছে কিন্তু ব্রজবুলি টাচটা কিছুটা এসেছে। ঃ-)


Avatar: রঞ্জন

Re: দুই ক্রিকেটার

শ্যামসুন্দর মিত্র , অসাধারণ ব্যাটস্ম্যান । শ্যামসুন্দর ঘোষ বোধহয় মিডিয়াম পেস বোলিং ও করতেন। দু'জনের খেলাই গুরুসদয় দত্ত রোডের কোনায় ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাবের মাঠে ক্লাব- ক্রিকেটে দেখেছি। তখন পাঁচিল ছিল না । টিকিট ছিল না।

মিত্র বোধহয় পরের দিকে বাংলার টিমের সিলেকটর ছিলেন, কোচও।
সেইসব দিনে বাঙালী শুধু স্পিনার হতে চাইত, পেস বোলার নয় ।
ন্যাড়াবাবু এমন লেখা আরও লেখেন না কেন?
Avatar: সুকি

Re: দুই ক্রিকেটার

ন্যাড়াদার লেখার ফ্রীকোয়েন্সি খুবই কমে এসেছে
Avatar: lcm

Re: দুই ক্রিকেটার

হেব্বি, সাইজে ছোট্ট কিন্তু মুচমুচে।
Avatar: aranya

Re: দুই ক্রিকেটার

খুবই উপভোগ্য।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন