Rouhin Banerjee RSS feed

Rouhin Banerjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...
  • অলোক রায় এবং আমাদের নবজাগরণ চর্চা
    সম্প্রতি চলে গেলেন বাংলার সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক অলোক রায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ছয় দশক জুড়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ...
  • দুই ক্রিকেটার
    ক্রিকেট মানেই যুদ্ধু। আর যুদ্ধু বলতে মনে পড়ে ষাটের দশক। এদিকে চীন, ওদিকে পাকিস্তান। কিন্তু মন পড়ে ক্রিকেট মাঠে।১৯৬৬ সাল হবে। পাকিস্তানের গোটা দুয়েক ব্যাটেলিয়ন একা কচুকাটা করে একই সঙ্গে দুটো পরমবীর চক্র পেয়ে কলকাতায় ফিরেছি। সে চক্রদুটো অবশ্য আর নেই। পাড়ার ...
  • চিন্তা
    :আচ্ছা লাবণ্য তুমি কি করো?আমি গম্ভীর গলায় জবাব দিলাম, আমি চিন্তা করি।:কি চিন্তা করো?-অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা করি। দেশের সব লেটেস্ট নিউজগুলো তো আমাকেই সবার আগে আগে ফেসবুকে আপডেট দিতে হয়! সেখান থেকে শেয়ার হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।সদ্য বিসিএস ক্যাডার হ‌ওয়া ...
  • নিশুতিরাতে পাহাড়ে প্রলয়
    ২০১৭ সালের ১২-১৩ জুন রাতে শুরু হয় একের পর এক পাহাড় ধসের যজ্ঞ। এক সঙ্গে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ব্যপক হতাহতের খবর চমকে ওঠে দেশ। এরমধ্যে রাঙামাটিই সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে বিপন্ন, লণ্ডভণ্ড ...
  • জানতো যদি হাছন রাজায়: একটি স্থির চিত্র
    বারো-তেরো বছর বয়স হবে তখন। বাবার সঙ্গে শরৎকালে যাচ্ছিলুম আমাদের দ্যাশের বাড়ি। থার্টি আপ নামক ট্রেনটি, এখন যার নাম কুর্লা এক্সপ্রেস, টাটানগর থেকে হাওড়া যেতে সব স্টেশনে দাঁড়াতো।প্যাসেঞ্জারে...
  • বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ
    পোস্ট মডার্ণ বা উত্তর আধুনিককে বিদ্বজ্জনেরা সংক্ষেপে পোমো বলে থাকেন। অর্থাৎ পোমো কবিতা হল উত্তর আধুনিক কবিতা। সাহিত্যে, বিশেষতঃ বাংলা সাহিত্যে এই কবিতার এক অসামান্য অবদান রয়েছে – সেই নিয়েই আমাদের আজকের বিদগ্ধ আলোচনা। যারা বুদ্ধিজীবি নন বা এখনো সম্পূর্ণ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

Rouhin Banerjee

পোস্ট মডার্ণ বা উত্তর আধুনিককে বিদ্বজ্জনেরা সংক্ষেপে পোমো বলে থাকেন। অর্থাৎ পোমো কবিতা হল উত্তর আধুনিক কবিতা। সাহিত্যে, বিশেষতঃ বাংলা সাহিত্যে এই কবিতার এক অসামান্য অবদান রয়েছে – সেই নিয়েই আমাদের আজকের বিদগ্ধ আলোচনা। যারা বুদ্ধিজীবি নন বা এখনো সম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন নি – তারা এই আলোচনাকে এড়িয়ে যাবেন না – আপনাদের কিঞ্চিৎ জ্ঞানবৃদ্ধি না করতে পারলে আর এত বুদ্ধি নিয়ে করবটা কি বলুন – আজকাল আর কিডনিতেও ধরে না যে।

অনেকে ভাবেন যেমন তেমন অর্থহীন কিছু পংক্তি লিখে গেলেই বোধ হয় পোমো কবিতা হয়ে যায় – কিন্তু বিষয়টা অত সহজ নয়। পোমো কবিতা সবাই লিখতে পারেন না। সকলেই যেমন কবি নন, কেউ কেউ কবি, তেমনি সব অকবিতাই পোমো নয়। পোমো কবিতার কিছু নিজস্বতা আছে, অবদান আছে – এসব বুঝতে হবে। অবশ্য পোমোরও বাবা আছে – সে হল কথাঞ্জলী ঘরাণা – পোমো কবিতা এখনো সেই মানে পৌঁছাতে পারেনি – কিন্তু সে তার ব্যর্থতা নয় – যেমন মেসি একজনই হয়, তাই বলে তা হ্যারিকেন বা মোমবাতির ব্যর্থতা নয় – এ ভাবে ভাবুন (ভাবুন বললেই সাথে সাথে “ভাবা প্র্যাকটিস করুন” বলার নিয়ম আছে পোমোতে – কিন্তু আপাততঃ আলোচনার স্বার্থে আমরা তা উহ্য রাখলাম)।

পোমো কবিতার ভাষা কী? পাঠক ভাববেন এটা আবার কী ধরণের প্রশ্ন হল? শুরুতেই তো লেখা আছে বাংলা ভাষায় পোমো কবিতার অবদান। তাহলে অবশ্যই বাংলা হবে। কিন্তু যে সব অভিজ্ঞ পাঠক ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পোমো কবিতা পড়ে ফেলেছেন তাঁরা জানেন যে এ ভাষা বাংলা হয়েও ঠিক বাংলা নয় – উত্তর বাংলা বলা যেতে পারে হয়তো (উত্তরবঙ্গ নয় তাই বলে, এক্সপ্রেসও নয়)। যেমন ছিল চর্যাপদের ভাষা – বাংলা হয়েও ঠিক বাংলা নয়। বস্তুতঃ চর্যাপদের ভাষা আর পোমোর ভাষাকে একই ঘরাণার বলা চলে – এরা উভয়েই সন্ধ্যাভাষা – আলো-আঁধারীতে ঘেরা। এই যেমন ধরুন – “শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা?” – এই লাইনটি শুনলেই আপনার মনে হবে এ শীতকাল নিশ্চই সাধারণ শীতকাল নয় – কবি অন্যকিছু বলতে চেয়েছেন। আবার পরক্ষণেই মনে হবে, কিন্তু “শীতকাল” কেন? কবি কি তাহলে কোন মৃত সময়ের কথা বলতে চাইলেন? বৃদ্ধ বয়সের অবসরের কথা? কিন্তু তাই বলতে চাইলে এত ঘুরিয়ে বলাই বা কেন? সুপর্ণারই বা এখানে ভূমিকা কী? এভাবে আপনার মনের মধ্যে সততঃ চলতে থাকবে আলো-আঁধারীর দোলা।

পোমো কবিতা হল এমন কবিতা, যাকে বলা যায় ফসকে গেল ঘরাণার। অর্থাৎ কবিতাটা পড়েই আপনি বুঝবেন যে এর একটা গুঢ় অর্থ আছে – কিন্তু সেই অর্থটা যে ঠিক কী, সেটা আপনি ধরতে পারবেন না – ধরি ধরি করেও শেষে ঠিক ফস্কে যাবে। এই ফসকে যাওয়াটাই পোমোর নিজস্বতা। একেবারে শেষ মুহুর্তে, যখন আপনার মনে হবে – এইই – এবারে ব্যাটাকে কব্জা করেছি, পড় পড় পড় পড়বি পাখী – খপ - ঠিক তখনই পাখী ফুস। এই শেষ মুহুর্তে ফসকে যাওয়ার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত আছে। পাঠকের সততঃই মনে হয়, এই যে ধরতে পারলাম না – এটা একান্ত আমারই ব্যর্থতা – অন্যরা নিশ্চই ধরতে পেরেছেন। ফলে সকল পাঠকই নিশ্চিত থাকেন যে কবিতার অর্থ তিনি নিজে না বুঝলেও অন্যরা ঠিকই বুঝেছেন। এবং সেই কারণেই প্রায় কেউই স্বীকার করেন না যে তিনি কবিতাটি বোঝেন নি। এভাবেই গড়ে ওঠে পোমো লিজেন্ড – একটা কবিতা, যা সকলেই বুঝছে, শুধু আপনি বাদে।

এই হতাশার অভিঘাতই বাংলা কবিতায় পোমোর নিজস্ব অবদান। এই যে ফীলিং অফ হাম্বলনেস, যা আপনাকে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে মনে করিয়ে দেয় যে আপনি যতই সর্ববোদ্ধা হোন না কেন, সাহিত্য শেষ অবধি আপনাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম, এই রিয়ালাইজেশন আপনাকে বাস্তববাদী করে তোলে, নিজের গজদন্তমিনার থেকে নেমে এসে কাব্যদেবতার অপার করুণার সামনে আপনার মেষশাবক সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলে। পোমো কাব্য তাই সমাজের ভারসাম্য রক্ষাকারী এক মহাশক্তি –

*পাঠকের আগ্রহের কথা স্মরণে রেখে এখানে দুয়েকটি পোমো কবিতার নি্দর্শন দেওয়া হল –
১।
সারারাত ব্যালকনিতে
তোমার ঘরের জানালার পাশেই একখণ্ড
তিতাস একটি নদীর ডাকনাম
ভালোনামটা পোকাধরা বইপত্রের খাঁজে
নাকি তোমার স্তনযুগলের মাঝে -
নির্বিকার হারিয়ে আছে অনন্তকাল
তুমি দাঁত মেজেছিলে আজ?
তোমার মুখে তবুও বিড়ির সুগন্ধ
চোখের কোলে মধ্যযুগ
তুমি আজও রক্তমাংসের নারী হয়ে উঠলে না শ্রাবস্তী
২।
কফি হাউসের ছাদে দাঁড়িয়ে আছি
পরণে নিউটনের পরিত্যক্ত পায়জামা
জানিনা আবার কবে তোমার হৃদয়ের সসপ্যানে
প্রেমের ডিমভাজা খাব
বাসের চাকায় গুঁড়ো হরলিকসের গন্ধ
ভগবান, তুমি ঝুনো নারকেল

৩।
তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল নাকি কাল?
কথা হয়েছিল কিছু, মনে আছে?
নাকি অনন্তকালের বিস্মৃতির সঙ্গিনী তুমি আমার –
পাউডারে ঢেকে রাখো পচা মাংসের গন্ধ?
তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল পরশু – মনে আছে?
নীল শাড়ি পরোনি তুমি বলা সত্ত্বেও
তবুও অনন্তকাল তোমার নীল শাড়ির পাড়ে
একটা দীঘির ছবি আঁকা হবে
এই আশায় ট্রেনে গান গাইত অন্ধ বাউল
একতারাটা ভেঙে গেছে।

ইত্যাদিদ

238 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: Rouhin Banerjee

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

আলোচনাকে এড়িয়ে গেলে পাছে আবার বুদ্ধিজীবিদের তকমা এঁটে দেয়!! তাই কমেন্টাতেই হইল😒

তবে লেককের এতো জ্ঞান কিডনিতেও ধচ্চে না তা নয় বুজলুম, কিন্তু আমার এতোই কম যে এই পোমো কবিতে বিষয়ে কিঞ্চিৎ জ্ঞানবিদ্ধির জন্যিও এমন পবন্দ আর তার লগে লগে আরও এমন অসামান্য (বোধগম্য হবার উর্ধ্বে) পোমো কবিতে আরও আরও পড়া দক্কার বলি মনি হতিচে!
ল্যাকা লিকি চলতি থাউক 😁
যা তা রকম খাসা হইসে 👌😍 😍

Avatar: Rouhin Banerjee

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

আচ্চা কইতে চিলুম যে - ওই উপরে মন্তব্য বাস্ক তে আমি লিকে চিলুম। তবু সে দেকাচ্চে - 'commentfrom Rouhin Banerjee'.
তা আমি আমার নামটা আবার কয়ে দিতে এলুম।
ইয়ে মানে আমি মারিয়া/কোয়েল 🙋
Avatar: সৈকত

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

ফস্কে যাওয়ার প্রবণতা যেকোন কবিতারই প্রাণ, ইভেন যে কোন শিল্পেরই হয়ত। শুধু 'পোমো' কবিতার বিষয় নয়।

এই লেখাটি কেন লেখা হয়েছে জানিনা কিন্তু আমার খুবই বোকা বোকা লাগল। এ মানে আশি-নব্বই বছর আগে 'মো' কবিতা দিয়ে লেখা হত, সজনীকান্ত এট অ্যাল।


Avatar: Kaju

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

আপনার কবিতা মানে কী চাই আজকের দিনে? জলবৎ তরালং করে গিলিয়ে দিতে হবে? সব একবার পড়েই বুঝে ফেলবেন? কথার বহুস্তরীয় ইশারা থাকলেই সেটা ন অবুঝলেই পোমো পোমো করে লাফাতে হবে? কবিতা বোঝার সাধ্য না থাকলে পড়বেন না। নিজের মত করে কবিতাকে চিনতে হয়। আজকাল আবার সেই মান্ধাতার আমলের রোগটা ফিরে এসেছে, কয়েক বছর আগে এই সান্ধ্যভাষা না থাকলে কবিতা বলেই ধরা হত না। "বড্ড প্রেডিকটেবল", "ক্লিশে" "এসব অনেক আগেই তো হয়ে গেছে নতুন কী দিলেন?" শুনতে হত। সব কবিতায় লাস্টে চমক দিয়ে সব বুঝিয়ে দেয়া থাকে না, লাইনের ভাঁজে ভাঁজে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখা থাকে।

পরিশেষে বলি খিল্লি মারতে যে ৩ খানা লিখেছেন প্রথমটা কিছুটা সত্যি কবিতাই হচ্ছিল, ৩ নম্বরটাও হয়েই গেছিল প্রায়, কিন্তু শিল্পী হতে গেলে ওরম ভুলভাল ঢোকালেই তো হল না। খিল্লি ওড়াতে যেগুলো ঢোকানো সেগুলো মোস্ট ফলতু হয়ে গেছে, ওরম কেউ লেখে না, সবাই অন্তর থেকেই লেখে, নামী হলেই তার পেশংসায় পা ধুইয়ে দেব, আর অনামী হলেই ফেল ফেল চেঁচানো এতো বাঙালীর স্বভাব। কয়েকজন নামীর একঘেয়ে সোজা কবিতা পড়ে এই রোগটা ফেরত আসছে আবার।
Avatar: খ

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

কাজু হ্যাজ আ ফেয়ার পয়েন্ট। রৌহিন কে আবেদন হলো, এই লেখা গুলো প্রচন্ড মজার হলেও, চারিদিকে যে ভাবে চিন্তাহীনতার পূজা চলছে, অ্যান্টি ইনটেলেকচুয়াল পজিশন নতুন করে তুলে ধরে লাভ আছে কি? এবং সবচেয়ে মজা হল এই অ্যাটাক যাঁরা করছেন , তাঁরা বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করেই সংসার চালাচ্ছেন, শুধু তাকে ইংরেজি তে মেরিট বলে নিচ্ছেন। এবং আরো চাপ হল, টেকনোক্রাসি টাকে অ্যান্টি ইনটেলেকচুয়াল বলে বেচে দু পয়সা কামানো ছাড়া আর বৃহদর্থে 'বিরোধীহীন' ক্ষমতার রাজনীতি গড়ে তোলা ছাড়া, এই সংস্কৃতির কোন সৎ উদ্দেশ্য কিসু নাই।


Avatar: dc

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

বেশ তবে একটা কবিতা আমিও লিখলাম

ঘন গভীর নিকষ কালো দিনের মধ্যে সরু ফিতের মতো তুমি লুকিয়ে ছিলে
মরুভূমির বালির মধ্যে কচ্ছপের খোলের মধ্যে শামুকের মতো
তিরতির করে কাঁপছিলে তুমি
আমার প্রেম স্বর্গের শিশিরের বিন্দু বিন্দু মতো,
আনন্দে ডন বৈঠক দিয়েছিল সেদিন।

হে মহাসাগর! তোমার সদয় হাসির মধ্যে বুদবুদ আঘাত।
হায়!
একটি ভিজা গুহা কি জানে কেন তোমার পদচিহ্ন পড়ে না?
কেন রাতের তারারা তোমার তরঙ্গের অপেক্ষায় ছিল অনন্ত এক মহূর্ত?
ওহ, কিভাবে একটি লাল গোলাপ অধ্যয়নরত আক্রান্ত!
আমি আর পারছি না, আমি এবার মরে যাবো। যাই?
Avatar: Kaju

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

পোমো-র ধরন আলাদা, সেটা আমাকেও টানে না, শুরু করেও আধ লাইন এগোতে পারি না। কিন্তু আধুনিকের একটা বৈশিষ্ট্য আছে, সেটা পড়তে পড়তে মনে হবার কথাই নয় যে এটা অন্তঃসারশূন্য বা rhetorics। তার স্পন্দন ঠিকই পাওয়া যায়, অর্থ অত গোটা গোটা করে বুঝিয়ে দেয়া নয়, তবু আক্ষরিক অর্থ আর প্রতীকের মাঝে কোথাও গিয়ে বেজে ওঠে। কেউ নিজের মত অর্থ পেতেই পারে। সেটাকে কেন পুনরাধুনিকের সঙ্গে গুলোনো হচ্ছে? পুনরাধুনিক পুরো অন্য মাথা খাওয়া জিনিস, ও আমারও ভাল লাগে না।
Avatar: সৈকত

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

ডাডাইস্টরা, ডিসির কবিতাটি পড়লে পছন্দ করলেও করতে পারত। ঃ-)
Avatar: Kaju

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

নিছক খিল্লির ভঙ্গির দিকে intention না রাখলে ওভার-অল ওই ডাডা-গিরি টিরি হতে হতেও যেসব জায়গায় আলগা হয়ে যাচ্ছে সেটা হতেই পারত। তবে সবশেষে কবিতা হতে তো হবে, দরজা খুলে দিতে হবে আস্তে করে, যে সেই দরজা খোলার হালকা শব্দেও ফিরে তাকাতে জানে, সে ঠিক বুঝবে কবিতার অন্তরে কী আছে। যাদের কানের কাছে হাতুড়ি মারলেও নির্বিকার থাকে, তারা কিছুতেই কিছু বোঝে না অব্শ্য।

শেষকালে কবিতা নিয়ে এতটা লিখে সময় নষ্ট করলেন দাদা? এর চেয়ে অন্য কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ তো ছিল বিশ্বসংসারে। কোন পাগল তার অলস সময়ে কী ছাইভস্ম লিখল, তাতে কী যায় আসে? কবি তো সেই তাঁরা যাঁরা মঞ্চে উঠেই বসে থাকেন আর বক্তিমে দেন, পুরস্কারের ভারে বাড়ি ফিরতে পারেন না আর কালেভদ্রে দু চারটে সোজা সোজা কবিতা লিখে আমজনতার আহাআআঅ উহ্হুউউউউউউ র বন্যায় ভেসে যান।
Avatar: dc

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

কবিতাটার নামটা কিন্তু আমার দেওয়া, দাদা ইঞ্জিনের না।
Avatar: আহা

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

কপিতা হল ছুইমুই নুঙ্কুপুটু ধড়লেই শিউরে উঠবে
Avatar: কল্লোল

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

এই যে পোমো (পোম কেন নয়?) কবিতাগুলো লেখা হলো এগুলো তো সবকটাই ম-কবিতা একটাও পোম নয়কো।

আহা ইঞ্জিন বাবা ইঞ্জিন তোর কি বড় কষ্ট
আহা ইঞ্জিন বাবা ইঞ্জিন দৌড়ে টেইম লষ্ট
আহা ইঞ্জিন বাবা ইঞ্জিন কেন এত দৌড়াস
আহা ইঞ্জিন বাবা ইঞ্জিন হ ল্যাদখোর বিন্দাস


এরকম হতে পাত্তো। আধুনিক নয় আবার প্রাগাধুনিকও নয়।


Avatar: Kaju

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

এই যে পেয়েছি, এইটা দিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকে যেত। তা নয়, এই এত্ত এত্ত লেখা, খিল্লি কবিতা, আপনারা বড় বেকার খাটেন।


https://i.postimg.cc/HkVSgGbG/62230505-199259440991735-476426037425308
7925-n.jpg

Avatar: সৈকত

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

সুনীল গাঙ্গুলী খুব স্মার্ট লিখতেন, অন্তত কবিতা। তাঁর একটই কবিতা ছিল 'একটি কবিতা লেখা' নামে। দেড় পাতা খানেকের একটি রচনা, কীভাবে একটি কবিতা লেখা হচ্ছে, শব্দ আর বাক্যগুলো কিভাবে আসছে তার বর্ণনা আর তার পরে বাক্য আর স্তবকগুলো লিখে ফেলা। তো সেই লেখাটির নামটি, ডিসির কবিতার নামেও হতে পারত, বড়জোড় 'বেশ' শব্দটি বাদ যেত।


Avatar: Kaju

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

খুব নাম হয়ে গেলে ওরকম সবাই লিখতে পারে বিশ্বাস করুন। তখন সাদা পাতা জমা দিয়ে দিলেও সেটাই ছাপা হয়ে যাবে। ওরকম আমরা লিখলে ছিঁড়ে কুচিকুচি করে ফেলে দেবে।
Avatar: সৈকত

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

খুব নাম আর কোথায় হয়েছিল তখন। সে তো প্রথম দিকের কবিতাই, ৬২-৬৩ হবে বলেই মনে হয়।

রোয়াব থাকতে হয়, কবিদেরও। ঃ-)


Avatar: Kaju

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

অর্ধশতাব্দী পার করে দিনকাল পাল্টেছে, লেখার সিনট্যাক্স বদলেছে, কিন্তু সাধারণ পাঠক এখনো নাবালক অনেকাংশেই। যারা এসবের মধ্যে আছে বা নিজেরা মোটামুটি লেভেলের লেখা লেখে তারাই বোঝে এসব প্রয়োগ। তবে তাদেরও আবার পপিচু দলাদলি। আমার ভালো বলো তবে না তোমাকে আধ লাইন প্রোডাকটিভ কিছু বলব? শুধু ভালো বলতে বলছি না, সব মিলিয়ে, গ্রাহ্য করার মত। এই জন্যেই না বাঙালি !
Avatar: r2h

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

সবকিছুতে বাঙালীকে গাল দেওয়া কেন বাপু। এসব কোন ভাষায় নেই?
ছদ্মনামে বড়লেখকের লেখা বা বড় শিল্পীর অজানা পিস কল্কে না পাওয়ার কী সব গল্প তো ইংরেজী বা অন্য ভাষাতেও আছে।
Avatar: Kaju

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

সে অন্য ভাষায় থাকবে না কেন, কিন্তু বাঙালি ক্র্যাবপুলিঙে বলে বলে বিশ্বকাপ জিততে পারে যদি তেমন কিছু থাকত। "বাঙালি তো শুধু খচ্চর নয় তদুপরি অসহায়" ;-)

তবে এসব না ভেবে নিজের মত উৎকর্ষের সন্ধান করতে করতে খাতা ভর্তি করে চলা অনেক ভালো। ধরেই নিতে হবে কেউ পড়বে না। তুমি কী ভেবে লিখেছ কেন কেউ বুঝতে যাবে? সেতো ঠিকই। কবিতা তো কখনো Catharsis, কখনো হঠাৎ নিজের অতি ব্যক্তিগত কিছু পর্যবেক্ষণকে শব্দের বুনটে অক্ষয় করে রাখতে চাওয়া, হয়ত অতি অতি ক্ষুদ্র সেসব, তবু একান্ত মুহূর্তের কিছু ভাবনার বা এক থেকে অন্য ভাবনায় মসৃণভাবে চলে যাওয়াটুকু কেমন লাগে সেটাই পরীক্ষা করে দেখা। খেলা ছাড়া আর তো কিছু নয়। দেশ কাল নিয়ে লেখেন শঙ্খ ঘোষ, আর এখন শ্রীজাতবাবু, ফেবুতে দিলেই একেবারে দাবানল। ওসব পাতি লেখকের কম্মো নয়, কিছু বদলাতেও পারবে না সে অকিঞ্চিৎকর লেখা, ঝুলের ভেতর পড়ে থাকে। সেই নিয়ে আর টই বাড়িয়ে কী লাভ?
Avatar: ***

Re: বাংলা সাহিত্যে পোমো কবিতার অবদানঃ একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ

আধুনিক, পোমো, পুনরাধুনিক -- এর পার্থক্য লেখার কাজ কি কাজু কে দেওয়া হবে? আই মীন, কাজু নেবে?


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন