Saikat Bandyopadhyay RSS feed

Saikat Bandyopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

Saikat Bandyopadhyay

পঞ্চাশবার লিখতে হলে পঞ্চাশবারই লিখব, কিন্তু মোদ্দা কথা হল এন-আর-সি একটি বর্বর জিনিস। কেন বর্বর? ওপার বাংলা থেকে এপারে কি লোক আসেনি? আসেনা? একশবার এসেছে। কেন এসেছে? কারণ আমাদের ধেড়ে খোকা জাতীয়-নেতারা তেলের শিশির বদলে একটা জাতির মাঝখান থেকে একটা লাইন টেনে দিয়েছিলেন। তার ফলে অন্তত কোটিখানেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে যখন পাড়ি জমাচ্ছিলেন সীমান্তের একদিক থেকে অন্য দিকে, তখন আমাদের নেতারা কী করছিলেন? নেহরু এই মানুষগুলিকে উদ্বাস্তুর স্বীকৃতি অবধি দেননি, ওপারে ফিরে যাবার উপদেশ দিয়েই কর্তব্য শেষ করেছেন। কানাকড়ি অবধি ঠেকাননি। শিয়ালদা স্টেশন যখন ভরে যাচ্ছে ছিন্নমূল মানুষে অন্য আরেকজন মহাপ্রভু শ্রী শ্যামাপ্রসাদ তো 'আমি পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছি' বলে উদ্বাহু হয়ে কাশ্মীর দৌড়চ্ছেন।

৫১ থেকে ৬১ হয়ে ৭১। সেই স্রোত কমেনি। পূর্ব ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দায় কার? তাঁদের, যাঁরা স্রেফ বাঙালি হবার কারণে লাথি-ঝাঁটা খেয়েছেন, হত্যালীলার শিকার হয়েছেন এপারে, ওপারে, আসামে, তাঁদের? না যাঁদের ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ হওয়ায় যাঁরা একটা লাইন টেনে দেশভাগের হুজুগ তুলেছিলেন, আর তারপর শখ মিটে যাওয়ায় হাত ধুয়ে পগার পার হয়েছিলেন, সেই নেতাদের? বছর তিরিশেক আগে পর্যন্ত এই দোষ-টোষ সরাসরি স্বীকার না করলেও উদ্বাস্তুদের কথা, তাঁদের স্বীকৃতি না দেবার কথা, দন্ডকারণ্যে ঠেলে পাঠানোর কথা, মরিচঝাঁপির কথা, এসব প্রসঙ্গ চুপচাপ এড়িয়ে যেতেন সরকারি কর্তাব্যক্তিরা। তখন অন্তত চক্ষুলজ্জাটুকু ছিল। এখন সে পাটও গেছে। এখন শোনা যাচ্ছে, উদ্বাস্তু হবার দায়ও নাকি বাঙালির। "আমরা তো একটা লাইন টেনেই দিয়েছিলাম, তোরা টপকে এলি কেন? যা শালারা বাংলাদেশ যা" টাইপের কথাবার্তা বুক বাজিয়ে বলার সাহস অর্জন করে ফেলেছেন জাতির নেতা নামক বিশুদ্ধ আপদরা।

এন-আর-সি এই আপদদেরই নতুন মস্তিষ্কপ্রসূত খেলনা। এঁরাই ৪৭ এ তেলের শিশি ভাঙার মতো করে কোটিখানেক লোকের ভিটে-মাটি চৌপাট করে দিয়েছিলেন। আবার নতুন করে আরেকদফা সেই খেলায় নামছেন। আরও কত লোকের ভিটে-মাটি-জান-প্রাণ এতে উচ্ছন্নে যাবে জানা নেই। সেই জন্যই জোর গলায় কটি কথা বলা উচিত। যে, হ্যাঁ, সীমান্তের এপার থেকে ওপারে চলাচল হয়। হ্যাঁ, এদেশে উদ্বাস্তুরা এসেছেন, আসেন। হ্যাঁ, তাতে এদেশের অর্থনীতি, পরিকাঠামোতে চাপ পড়ে। কিন্তু এর দায় যাঁরা এসেছেন তাঁদের নয়। এর দায়, ভারত এবং পাকিস্তানের জাতির পিতাদের, যাঁরা অবস্থাটা তৈরি করেছেন। এর দায় হিন্দু মহাসভার, উদ্বাস্তু সমস্যা তৈরি হতে যাঁরা আনন্দে লাফিয়েছিলেন, এর দায় কমিউনিস্টদের, যাঁরা পাকিস্তান চেয়েছিলেন। এর দায় কংগ্রেসের, মুসলিম লিগের, যাঁরা ক্ষমতার লোভে আস্ত একটা ভূখন্ডে কোটি-কোটি মানুষকে বলি দিতে পিছপা হননি। এই দায় তাঁদের নিতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলে যৌথ উদ্যোগে সমস্যা মেটান। বাংলাকে উদ্বাস্তু কল্যাণ খাতে তার প্রাপ্য টাকা সুদসমেত ফিরিয়ে দিন। তাতেও না মিটলে অপদার্থতার দায় ঘাড়ে নিয়ে নিজেরাই বাংলাদেশ, বার্মা যেখানে খুশি বিদেয় হোন। কিন্তু নিজেদের অপদার্থতার দায় বাঙালি জাতির ঘাড়ে আরও একবার চাপাবেন না।

#pakistan #india #partition

1308 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 97 -- 116
Avatar: dc

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ইন ফ্যাক্ট এনারসির কি দরকার তাও তো বুঝিনা। এই প্রসঙ্গে বোধায় প্রোহিবিশানের উদাহরন দেওয়া যায়। যখন সরকার বললো মদ হাওয়া উচিত না আর তার জন্য আইন করলো তখন একগাদা স্পিকইজি তৈরি হলো, বুটলেগিং হলো, মাফিয়াদের রমরমা বাড়লো। আর যখন প্রোহিবিশান তুলে নেওয়া হলো তখন সেসব সমস্যাও চলে গেল। আমার মনে হয় বর্ডার কন্ট্রোল কমানো হলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইত্যাদি ব্যপারগুলোও আর সেভাবে থাকবে না, মানুষের যাতায়াত আরও বাড়লে ইকোনমিক অ্যাটিভিটিও বাড়বে। এনআরসি করার দরকারই আর থাকবে না।
Avatar: pi

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

প্রশ্নটা কার ছিল পড়িনি, মামুর শেষ পোস্ট পড়ে লিখছি।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নানা দেশের মধ্যেও ঘোরা যায়না?

ইন্দোনেশিয়া যেতেও ভিসা লাগেনি।
লিস্টে তখন অনেক দেশের নাম দেখেছিলাম।

এই লিস্টে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্দোনেশিয়ার নাম কেন নেই জানিনা, আমি কাজে গেছিলাম বলে লাগেনি কিনা তাও, কিন্তু এম্নকি এই লিস্টের এত দেশের মধ্যে বাংাদেশ ভারতের সাধারণ মানুষ নেই, ৯০ দিনের স্টের জন্য!

https://mea.gov.in/bvwa.html

এছাড়াও
Citizens of countries allowed visa-free entry to India
Bhutan
Maldives (Up to 90 days stay)
Nepal

এই লিস্টটা দেখেও চমকে উঠলাম। মানে provided they are not Bangladeshi, Pakistani দেখে।

India has plans to grant visa on arrival to 180 countries. As of now, India grants visa on arrival to the citizens of the following nations, provided they are not of Bangladeshi or Pakistani origin:

Cambodia
Finland
Indonesia
Japan
Laos
Luxembourg
Myanmar
New Zealand
Philippines
Singapore
South Korea
Vietnam
Avatar: pi

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ওহহ, শেষ পোস্ট না, মাঝে আরো পোস্ট পড়ে গেছে দেখছি।
Avatar: PM

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

এই গুলোতে কি সমস্যা ? ঘুরে বেড়ানো , ভিসা ফ্রি / অন অরইভাল মানে আন্ডকুমেন্টেড এনট্রি নয় তো , নাগরিকত্ব ও নয় । ভোট দেবার অধিকারো নয়। জমি বাড়ি কিনে সরকারী চাকরী নিয়ে বসে যাবার অধিকার ও নয়। গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে কেনো ?
Avatar: Ishan

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

সমস্যার কিছু নেই। গুলিয়ে ফেলাও হচ্ছেনা। এগুলো ঠিক বেড়াতে যাবার ব্যাপারও নয়। জমি বাড়ি কিনে বসে যাবারই ব্যাপার।

ভারত আর নেপালের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ীঃ The Governments of India and Nepal agree to grant, on reciprocal basis, to the nationals of one country in the territories o the other the same privileges in the matter of residence, ownership of property, participation in trade and commerce, movement and other privileges of a similar nature.

এটা ১৯৫০ সালের চুক্তি। ভারত আর পাকিস্তান/বাংলাদেশের মধ্যেও এরকম একটা হবার কথা ছিল। ১৯৫০ পর্যন্ত সীমান্ত খোলা ছিল। দুঃখিত আবার দেশভাগ খুঁড়ে তুললাম, কিন্তু ৫০ সালে নেপালের সঙ্গে চুক্তি হয়, আর ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে অবাধ যাতায়াত বন্ধ।

আপাতত এইটুকু হলেই চলে। তাতে অনুপ্রবেশ নামক ন্যারেটিভটি উবে যায়। নাগরিকত্ব, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ইত্যাদি দাবীদাওয়াও। আপাতত এইটুকুই চাওয়া। এন-আর-সি তে অবশ্য একটা অন্য প্রসঙ্গও আছে। সে পরে লিখছি।

পুরো চুক্তিটা এখানে পাবেনঃ https://mea.gov.in/bilateral-documents.htm?dtl/6295/Treaty+of+Peace+an
d+Friendship

Avatar: pi

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

এই একবারে তিন মাস করে করে বিনা ভিসায় ঘুরে বেড়ানোটুকুর অধিকার ও দুইপাড়ের বাংালিদের মধ্যে নেই কেন?
Avatar: Ishan

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ভারত-নেপাল চুক্তিতে বস্তুত নেপালী নাগরিকরা, এমনিই, ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা হবার অধিকারি। বাংলাদেশের সংগে এটা চালু হলে অনুপ্রবেশ, হাবিজাবি জিনিস মেটে। কিন্তু তাতো আসামের সমস্যা মিটবেনা। ওটা অসমীয়া জাতিসত্ত্বার সমস্যা।

ঐতিহাসিকভাবে দেশভাগের আগে আসামে অসমীয়াভাষীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন না। ১৯৩১ সালের জনগণনায় তাঁদের সংখ্যা ছিল ৩১.৪%। এর ঠিক কুড়ি বছর পর ১৯৫১ সালের জনগণনায় নাটকীয়ভাবে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬.৭% এ। এর মধ্যে দেশভাগ হয়েছে ও উদ্বাস্তুর স্রোত বয়ে গেছে গোটা উপমহাদেশে। হয়েছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, উল্টে গেছে অনেক কিছুই। অনেকেই এই আকস্মিক সংখ্যাবৃদ্ধির অন্যতম বা প্রধান কারণ হিসেবে বলেন, ১৯৫১ সালের পর আসামের বহু বাঙালি, বিশেষ করে মুসলমানরা আত্মপরিচয় পাল্টে নিজেদের অসমীয়া হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এটি নিঃসন্দেহে বাস্তব ঘটনা, কিন্তু অসমীয়া সংখ্যাবৃদ্ধির প্রধানতম কারণ কিনা, তা একেবারে নিশ্চিত করে বলা না গেলেও, এ ধরণের একটি ভাষ্য চালু। একদম সমসময়ের একটি সংবাদপত্রে লেখা হয়েছেঃ "১৯৫১ সালের পর চরুয়া খেদা ডাঙায় একটি মুসলমান গ্রামে প্রায় আটশো মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করে উগ্র অসমীয়া জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো। তারপর বহু বাঙালি মুসলমান অসম ছেড়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান। পরে অবশ্য নেহেরু–লিয়াকত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর সময় সঠিক নথিপত্র তাঁদের দেওয়া হয়নি।"

তো, এইটার জন্য, শোনা যাচ্ছে, আসামে বহু বাঙালি, মূলত ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায়, নিজেদের অসমীয়া হিসেবে পরিচয় দেন। সেন্সায় ইত্যাদিতে। বাঙালির সঙ্খ্যা বেড়ে গেলে অসমীয়ারা এমনিই তাঁদের কেটে ফেলবে। তা, আসামে এন-আর-সি চালু করার একটা বড়ো কারণ এই অসমীয়া আত্মপরিচয়ের সংকট। এইটা পশ্চিমবঙ্গের কোনো লেখায় দেখবেন না। ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি করে এই ঝামেলা মিটবেনা। অসমীয় আত্মপরিচয় আবার একটি বঙ্গাল খেদা করবে। বাংলাদেশে না পাঠাতে পারলে পশ্চিমবঙ্গে পাঠাবে। বিজেপিও এই কারণেই বাংলাদেশী জুজুটা টিকিয়ে রাখবে। ফলে চুক্তি টুক্তি কিসুই হবেনা। তৃণমূল, সিপিএম এদের কী মোহ অবশ্য আমি জানিনা। এরা এমনিতেই অসমীয়া ভোটও পায়না। ওই লেজুড়বৃত্তি আর কি।
Avatar: pi

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ঘোষিত বামপন্থীদের ও কী অসীম সীমাপ্রীতি!! বিজেপির স্ট্যান্ডের থেকে আর আলাদা কী?
Avatar: sm

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

যদ্দুর জানি,ব্রিটেন এর নিয়ম অনুযায়ী দশ বছর বৈধ ভাবে ও চোদ্দ বছর অবৈধ ভাবে থাকলেই,সে দেশের নাগরিকত্ব মেলে।
আর এদেশে ,চল্লিশ পঞ্চাশ বছর থাকার পর ও অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে!
এই নিয়ম এর পুনর্বিবেচনার আশু প্রয়োজন।
Avatar: pi

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

এখনো আসামে মাতৃভাষা অসমিয়া করতে বলা হচ্ছে।

Avatar: সৈকত

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

মুক্ত বর্ডার, কাজের সুবিধে, জবকার্ড আর কী কী সব, এইসব হবে বলে মনে করেন ? সে হওয়ার হলে তো সার্ক দিয়েই তো হতে পারত। অবৈধ অনুপ্রবেশের "সমস্যা' তো আর নতুন নয়, অন্তত নব্বইয়ের দশক থেকে শোনা যায়, পোরাস বর্ডার, পস্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে চাপ ইত্যাদি। কিন্তু কী হল, পাকিস্তান বদমাইশ অতএব সার্ক মোটামুটি উঠে গেছে , ভোটের আগে পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যও মনে হয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন সার্কের বদলে নতুন কুমীরছনা তৈরী করা হয়েছে, বিমস্টেক, সেখানে পাকিস্তান বাদ, আরও কিছু দেশ যোগ হয়েছে। তাহলে সমস্যার সমাধান, এইটা দিয়েই হোক, কিন্তু ধরে নেওয়া যায় সেসব হবে না। 'সমস্যা'টি বাঁচিয়ে না রাখলে, পলিটিক্যাল ক্লাসের কোন লাভ নেই। ফলে সমস্যা সমাধানের বদলে, আরও 'সমস্যা' তৈরী করা হবে, সেটা করতে পারলে লাভ আরও বাড়তে থাকবে, এনারসি সেরকমই একটি উপায়, সমাধানের নয়, সমস্যা জিইয়ে রাখার যাতে সময়ে সময়ে 'সাম্প্রদায়িক' সমস্যার ন্যারেটিভটি তুলে দেখানো যায়।




Avatar: dc

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

একদম, এগুলো সব বানানো সমস্যা যাতে এগুলো দেখিয়ে ইলেকশামে জেতা যায়।

পিএমদা, জমি বাড়ি কিনে বসে গেলে কি খুব প্রব্লেম হবে? এইচ ওয়ান ভিসায় যারা আমেরিকায় যায় তারা তো দেখি পটাপট বাড়ি গাড়ি কিনে বসে পড়ে। বাংলাদেশি বা পাকিস্তানি নাগরিকরা এদেশে এসে জমিবাড়ি কিনলে বা ভারতীয়রা ঢাকা বা লাহোরে গিয়ে জমিবাড়ি কিনলে ক্ষতিই বা কি? আমি নিজেও চান্স পেলেই নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে বাড়ি কিনে সেটল করতে চাই, নেহাত ট্যাঁকের জোর নেই বলে পারছি না।
Avatar: Amit

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ঈশেন কে<

"এটা ১৯৫০ সালের চুক্তি। ভারত আর পাকিস্তান/বাংলাদেশের মধ্যেও এরকম একটা হবার কথা ছিল। ১৯৫০ পর্যন্ত সীমান্ত খোলা ছিল। দুঃখিত আবার দেশভাগ খুঁড়ে তুললাম, কিন্তু ৫০ সালে নেপালের সঙ্গে চুক্তি হয়, আর ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে অবাধ যাতায়াত বন্ধ।"

১৯৪৮ যুদ্ধ বা ৬৫/ ৭১ এর পরে ওরকম চুক্তি করার বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থা কোথায় ছিল ? নেপাল এর সাথে ভারতের কখনো মিলিটারি কনফ্লিক্ট হয়েছে ? ওটাকেই ইডিএল মানতে গেলে তো তাহলে সব প্রতিবেশী দেশ - শ্রীলংকা, মায়ানমার , চীন , ভুটান , মালদিভস, ইত্যাদি সকলের সাথে এক চুক্তি থাকার দরকার । আলাদা করে বাংলাদেশ কেন ?

ডিসি, h1b ভিসায় যারা USA গিয়ে বাড়ি / গাড়ি কিনছে, তারা কি ট্রাভেল ডকুমেন্টস/ ভিসা ছাড়া যাচ্ছে ?
Avatar: সৈকত

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

আর এই গণভোট হয়েছে বা সেটি হওয়া উচিত, এই বক্তব্যটাও হাস্যকর লাগে, রাজনৈতিক নেতাদের কাজকর্ম দেখে। পার্টিশন হবে কিনা সেই নিয়ে যেমন যথার্থ গণভোট হয়নি, আবার অন্যদিকে কাশ্মীরও ভারতের সাথে থাকবে কিনা, সে নিয়েও হয়নি। সেরকম একটা কথা হয়েছিল মনে হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো রাজার ইচ্ছেতেই ভারতভুক্তি ঘটে। তো এসবই মনে হয়, পলিটিক্যাল ক্লাসের ভাগ-বাঁটোয়ারা, কাশ্মীরের সাথে জুনাগড় বা হায়দরাবাদ, এই দুটি বড় দেশীয় রাজার রাজ্যের অন্তর্ভুক্তিও হয়েছিল আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা ভয় দেখিয়ে (বল্লভভাই প্যাটেলের নাম সেই জন্যই)। তো বক্তব্য এটাই যে, জনগণ কোথাওই তাদের মত জানানোর মত অবস্থায় ছিল না, চাওয়াই হয়নি তাদের মত। এখন হঠাৎ করে বললে চলবে কেন যে তারা সবাই জেনেবুঝেই সবকিছু মেনে নিয়েছিল ? এ তো চিরকালের বক্তব্য যে বৃটিশরা ভারত ছাড়ার আগে কোনভাবে ম্যাপটা টেনে দিয়ে গেছিল। দেশভাগের পরে, ওপার থেকে আসা মানুষের একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে এসে যে বামপন্থীদের প্রধান সমর্থক হয়ে উঠল তার একটা কারণ তো এটাই যে তারা মনে করত কংগ্রেসই দেশভাগের জন্য দায়ী, অতএব কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অন্য কারণ অতি অবশ্যই কমিউনিস্ট পার্টির উদ্বাস্তু অধিকারের সাথে জড়িয়ে পড়া।


Avatar: dc

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

না ট্রাভেল ডকুমেন্ট তুলে দিতে বলিনি। তবে মাইগ্রেশান সংক্রান্ত আইনকানুন কমালে খুশীই হবো। মিনিমাম যেটুকু কাগজ লাগে সেটুকু থাক, তার বেশী না।
Avatar: Amit

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

একটা বিশাল সংখ্যায় মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন এবং তাদের প্রতি সরকার চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে, এই পয়েন্ট এ ১০০ % একমত। নিজের সরকারের কাছে তার জবাবদিহি চাওয়া হোক। পশ্চিম এবং পুব দিক থেকে যারা উদ্বাস্তু হয়ে এসেছেন , তাদের মধ্যে সাংঘাতিক রকমের ডিস্ক্রিমিনাসন করা হয়েছে। সেই দায় পুরোপুরি ভারত সরকারের।

কিন্তু সময় তো আর এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। দেশভাগ হয়েছে, দোষ যাদের ই থাক। তার পরে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের তিন তিনটে যুদ্ধ হয়েছে। ৭১ অব্দি বাংলাদেশ পাকিস্তানের ই অংশ ছিল, সুতরাং কোনো রাজনৈতিক চুক্তির করার অবস্থায় দুটো দেশ ছিল কি না সেটা ও একোয়াশন এ থাকা দরকার। সেখানে নেপাল এর সাথে চুক্তি কে সব দেশের সাথে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে কিভাবে সেট করা যায় ? এখনো অবস্থা কতটা পাল্টেছে ?

USA র সাথে নিশ্চয় কানাডা আর মক্সিকো র সেম বর্ডার চুক্তি নেই ? বা EU -র সাথে টার্কি র ? বা আসিয়ান এর সাথে চীন বা জাপানের র ? বা অস্ট্রেলিয়া র সাথে নিউ জিলান্ড আর ইন্দোনেশিয়া র ?
Avatar: sm

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শর্ত আরো নমনীয় হওয়া উচিত।ভারত বরঞ্চ বাংলাদেশ স্বাধীন হবার জন্য সাহায্য করেছিল।
মমতার আমলে রেল চালু হবার পর ও ভিসা নিয়ন্ত্রণ এর কড়া কড়ি কমিয়ে দেবার পর,অফিসিয়ালি প্রচুর মানুষ এখন যাতায়াত করতে পারেন।বাংলাদেশ থেকে যেমন প্রচুর লোক চিকিৎসা,ভ্রমণ ও ব্যবসার কাজে এদেশে আসে,এদেশ থেকেও অতোটা না হলেও,ভালো সংখ্যক লোক যাতায়াত করেন।ভিসা গুলো ছ মাস থেকে দু বছরের হয়,এবং মাল্টিপল এন্ট্রি।
এতে বেআইনী অনুপ্রবেশ ও পুলিশ এবং বর্ডার এ হেনস্থা করার ঘটনা কমেছে।বিশেষ ক্ষতি হয়নি।বরঞ্চ লাভ ই হয়েছে দু দেশের ই।

Avatar: এলেবেলে

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ঈশান আজ 07:44:41 যা লিখেছেন তা আমারও কথা। কাজেই অমিতকে আর আলাদা করে উত্তর দিচ্ছি না। আরও কতগুলো প্রশ্ন করেছিলাম যদিও যথারীতি সেগুলোর উত্তর দিতে গেলে দেশভাগের মূল ন্যারেটিভটি ঘেঁটে যেতে পারে বলে সে পথে প্রত্যাশিতভাবেই তাঁরা পা বাড়াননি।

আজকের দিনে ভারতে পা রেখেছিলেন র‍্যাডক্লিফ সাহেব। ৭২ বছর আগে। তার উনিশ বছর পর ব্রিটিশ কবি অডেন লিখেছিলেন 'Partition' শীর্ষক কবিতাটি। তিনি ৬৬ সালে যা লিখেছিলেন, গুরুর তার্কিকরা কিছুতেই তা মানবেন না বলে পণ করেছেন!

Unbiased at least he was when he arrived on his mission,
Having never set eyes on this land he was called to partition
Between two peoples fanatically at odds,
With their different diets and incompatible gods.
'Time', they had briefed him in London, 'is short. It's too late
For mutual reconciliation or rational debate:
The only solution now lies in separation.
The Viceroy thinks, as you will see from his letter,
That the less you are seen in his company the better,
So we've arranged to provide you with other accommodation.
We can give you four judges, two Moslem and two Hindu,
To consult with, but the final decision must rest with you'.

Shut up in a lonely mansion, with police night and day
Patrolling the gardens to keep assassins away,
He got down to work, to the task of settling the fate
Of millions. The maps at his disposal were out of date
And the Census Returns almost certainly incorrect,
But there was no time to check them, no time to inspect
Contested areas. The weather was frightfully hot,
And a bout of dysentery kept him constantly on the trot,
But in seven weeks it was done, the frontiers decided,
A continent for better or worse divided.

The next day he sailed for England, where he quickly forgot
The case, as a good lawyer must. Return he would not,
Afraid, as he told his Club, that he might get shot.

ঈশান এন আর সি যা বলছেন সে ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করিনি। করবও না। কিন্তু দেশভাগের ক্ষেত্রে যে সাধারণ মানুষ কোল্যাটার‍্যাল ড্যামেজের শিকার হয়েছিলেন তা জোর গলায় বলব।

Avatar: dc

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

ও হরি, সাহেবের পেট খারাপ অবস্থায় বাংলা ভাগ হয়েছিল! সাধে সবাই গাল দিচ্ছে?
Avatar: pi

Re: নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

এটা পড়লাম, 'শিলচরের বিজেপি নেতা তথা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পবনকুমার রাঠি এবার হলেন ঘোষিত বিদেশী ।বোঝ ঠেলা!'

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 97 -- 116


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন