Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

আমরা ষড়যন্ত্র ত্বতে খুব সহজে বিশ্বাস আনি। দীর্ঘ পরাধীনতা থেকেই সম্ভবত এই বিশেষ গুণ আমাদের জিনে বাসা করেছে। হোক না হোক আপনি একটা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বাজারে ছাড়ুন বিশ্বাস করার লোকের অভাব হবে না। একই সাথে সব কিছুতেই সন্দেহ এবং সহজে বিশ্বাস আনা সম্ভবত এই দুনিয়ায় আমরাই পারি। এই রোগ আমাদের গভীরে প্রোথিত হয়ে গেছে, এর আর নড়নচড়ন নাই।

আমরা বিশ্বাস করি আমরা বাদে বাকি দুনিয়া আমাদের কে ধ্বংস করার জন্য সকালে উঠে নাস্তা না করেই, চোখে মুখে পানি দিয়েই আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা শুরু করে। ষড়যন্ত্র করেই আমাদেরকে দাবিয়ে রাখা হয়েছে, না হলে এতদিনে আমরা পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গলের পথে পা বাড়াতাম না? এই যে পা বাড়াতে পারলাম না, কেন পারলাম না? ষড়যন্ত্র! আবার কী!

ফুটবল খেলা দেখে আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্বাস করে না এমন আদমি এই দুনিয়ায় পাওয়া যাবে না।ফুটবলের ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্র ত্বতে সম্ভবত পুরো দুনিয়াই মাতাল, আমাদের এদিকে এইটা আরও বেশি করে আছে। রিয়েলের সমর্থকরা দাবী করে বার্সা বরাবর রেফারীর অনুকম্পা পায়, ঠিক বিপরীত দাবী বার্সার! কোকেন খেয়ে ম্যারাডোনা নিষিদ্ধ হল, আর্জেন্টিনার সমর্থকরা প্রবল ভাবে বিশ্বাস করল যে এটা ষড়যন্ত্র! না হলে ফুলের মত চরিত্রের একজনের নামে এমন অপবাদ দেও কেউ! এখন হলে হয়ত ব্রাজিলের নাম বলত কিন্তু তখন দোষ গিয়ে পড়েছিল জার্মানির ঘাড়ে! তখন জার্মানি সদ্য কাপ জয়ী দল, ষড়যন্ত্র করলে আর ক্যাডায় করব? জার্মানি ষড়যন্ত্র করে ম্যারাডোনাকে খেলা থেকে দূরে রাখতে এই কাজ করেছে।

ইহুদিদের কাজ কী? ষড়যন্ত্র করা! আশ্চর্য! আবার কী? সকাল সকাল উঠেই ষড়যন্ত্র শুরু করে কিভাবে মুসলিমদের বাঁশ দেওয়া যায়! আর কোন কাজ কাম নাই ওদের। বিশ্বাস না হলে একটু কান, চোখ খোলা রেখে ঘুরে দেখুন। লক্ষ লক্ষ মানুষ সাক্ষ্য দিবে যে ইহুদিরা একটা কাজই করে তা হচ্ছে ষড়যন্ত্র করা। কোথাও মুসলিম সমাজ বা রাষ্ট্র বিপদে পরল? কার কাজ? ইহুদিদের! সোজা হিসাব। মুসলিমরা মুসলিমদের ধরে ধরে মারছে? নিশ্চয়ই পিছনে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র আছে, না হলে মারবে কেন!

আমেরিকারও বসে বসে ষড়যন্ত্র করে। আমেরিকার ষড়যন্ত্র করার ক্ষেত্রের অভাব নাই। প্রতিটা স্বল্প উন্নত দেশকে কিভাবে পথে বসান যায়, কিভাবে মুসলিমদের অধিকার খর্ব করা যায় এসবই আমেরিকার প্রধান কাজ।সব মার্কিন ষড়যন্ত্র এই বানী শুনে নাই এমন ব্যক্তি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে? সম্ভবত না। বাম রাজনীতি নিয়ে নাড়াচাড়া করে আর মার্কিন ষড়যন্ত্র কপচায় নাই? এ হবার লয়!

বেশ কিছুদিন আগে ( মানুষের মুখে শুনে আর বই পত্র পড়ে বলছি, আমার দেখা ইতিহাস না) বাংলাদেশে চলত হচ্ছে সব র’এর ষড়যন্ত্র! র ছাড়া আর কে এই কাজ করবে? এখন আর র বলে না। সরাসরি ভারতের চাল এইটা, গভীর ষড়যন্ত্র বলে বসে থাকে। আমাদের এলাকায় এক বড় ভাই ছিল, ছিল বলছি কারন তিনি মারা গেছেন, আর তাই নাম উল্লেখ্য করলাম না। এলাকার যে কোন অনভিপ্রেত ঘটনার দোষ তার ঘাড়ে পড়ত। কোন কারন ছাড়াই, কেউ একজন বলে বসত এইটা ওর কাজ! ব্যস সবাই মনে মনে বিশ্বাস করে ফেলত, হুম, এইটা অমুক ছাড়া আর কেউ করতেই পারে না। দিনের পর দিন তিনি এই অপবাদ ঘাড়ে নিয়ে চলেছেন!! দুনিয়ার সকল না হোক, আমাদের দেশের সত্তর ভাগ সমস্যা ভারতের সৃষ্টি এই তত্ত্ব অবিশ্বাস করবে না সত্তর ভাগ মানুষও। সব বিরোধী দলের চক্রান্তের মতই সব ভারতের চক্রান্ত প্রচার ও বিশ্বাস করার লোকের অভাব এই দেশে নাই।

তবে সব ষড়যন্ত্রের সেরা ষড়যন্ত্র হচ্ছে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র! এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র যে কত কী করে ফেলল তার কোন ইয়ত্তা নেই। ঘরের সুই হারানো থেকে শুরু করে রানা প্লাজা ধ্বংস সব আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। ধানের ফলন কম হইছে? এটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কী? যে কোন সমস্যায় আপনি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উল্লেখ্য করে দেখুন, ঠিক ঠিক খাপে খাপ মিলে যাবে।আপনার ব্যক্তিগত সমস্যাও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলে চালায় দিতে পারবেন নিশ্চিন্তে। এমনকি আপনার পেটের গ্যাসের সমস্যাও!

এত এত অবিশ্বাস নিয়ে কিভাবে বেঁচে আছি এ এক রহস্য। প্রবল সন্দেহ আবার সহজেই বিশ্বাস, এই বিপরীতমুখী আচরণ নিয়ে আমরা দিব্যি বেঁচে আছি। যে কোন সমস্যায়, যে কোন পরাজয়ে ষড়যন্ত্র খুঁজে পেলে মনের দিক থেকে একটা আলাদা শান্তি পাওয়া যায়। মনে হয়, না, আমাকে তো ষড়যন্ত্র করে হারিয়েছে! কিন্তু এই মিথ্যা বিশ্বাস আসলে কী আমাদের উপকার করে? সবেতেই এই তত্ত্ব খাটিয়ে দিন দিন কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছি? নিজের দিকে কবে দৃষ্টি দেওয়া হবে?

( ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নতুন করে প্রবল ভাবে শোনার জন্য তৈরি থাকুন। দিন সমাগত। ভারত ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেছে কেন? ষড়যন্ত্র! আবার কী!! দুই তারিখ ষড়যন্ত্র তত্ত্বর আপডেট ভার্সন গুলোর জন্য অপেক্ষায় আছি!)


177 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dd

Re: ষড়যন্ত্র তত্ত্ব...

ষড়যন্ত্র ম্যানিয়া সর্বত্রই দেখি।

আগে ভাবতাম ওটা বামপন্থীদের খাসতালুক, এখন দেখিসব পক্ষই এই কনস্পি তত্ত্বের ইজারাদার। আর সোস্যাল মিডিয়া হওয়ায় "আজকের ষড়যন্ত্র" বলে রোজ একটা পোস্ট না হলে পেট ভরে না অনেকেরই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন