Anuradha Kunda RSS feed

Anuradha Kundaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...
  • দেশত্যাগ...
    আমার এক বন্ধু ওর একটা ভিজিটিং কার্ড আমাকে দিয়েছিল। আমি হাতে নেওয়ার সময় কার্ডটা দেখে বুঝতে পারলাম কার্ডটা গতানুগতিক কোন কার্ড না, বেশ দামি বলা চলে। আমি বাহ! বলে কাজ শেষ করে দিলাম। আমি আমার বন্ধুকে চিনি, ওর কার্ডের প্রতি এরচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখালে ও আমার মাথা ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দৃশ্যের জন্ম:ব্রোকন ইমেজেস

Anuradha Kunda

রাণী ছিল গাঁয়ের মেয়ে। ছোট্ট।লক্ষ্মী। শান্ত।যেমনটি মেয়েদের হতে হয় আর কি।মানে যেমন হলে লোকে লক্ষ্মী মেয়ে বলে।ধরা যাক তাকে নিয়ে একটা গান বাঁধা হল।এইরকম।
এক যে ছিল মেয়ে
মেয়ের নামটি ছিল রাণী
ঘন চুলে খোঁপা বেঁধে
সাজাতো ফুলখানি।
রাণীর হাঁটু পর্যন্ত ঘন কালো কোঁকড়া চুল।যেন কালনাগিণীরা ফণা তুলে আছে পদ্মের মতো মুখখানি ঘিরে।তো এই রাণীর বিয়ে হল অপ্পন্নার সঙ্গে। ভারি কড়া স্বামী।সুন্দরী বউকে ঘরে তালা বন্ধ করে রেখে সে রোজ রাতে বাইজি বাড়ি যায়।ভয়ে রাণীর মুখে কথা সরে না।জানলা দিয়ে চেয়ে থাকে বাইরে।রাণীকে দেখতে এলো অন্ধ বুড়ি কপিলা।রাণী র শাশুড়ি ছিল তার বন্ধু। জানলা দিয়ে রাণী র চোখে মুখে হাত বুলিয়ে বুড়ি বুঝে নিল, এ সুন্দরীর সুখ নেই কো মনে।রাণীকে সে জড়িবুটি দিল।স্বামীকে বশে রাখার মন্তর।রাণী ডালের সঙ্গে মিশিয়ে দিল অপ্পন্নাকে।মাথা ঘুরে পড়ে গেল লোকটা এক ঢোক খেয়ে ই।ভয়ে রাণীর হাত পা ঠান্ডা।দৌড়ে গিয়ে ওষুধ দেওয়া ডাল ফেলে দিল উঠোনের কোণে।যেখানে থাকতো কালসাপ। জ্ঞান ফিরে অপ্পন্না রাণীকে তালা দিয়ে ঘর বন্ধ করে ফিরলো বাইজি বাড়ি। আর ওষুধ দেওয়া ডাল খেয়ে নাগ হয়ে উঠলো রাণীর প্রেমিক। অপ্পন্না রোজ রাতে বেরিয়ে গেলে, কালনাগ অনন্তের চেহারা ধরে আসে রাণীর কাছে।মিষ্টি প্রেমের কথা বলে রাণীর কানেকানে।রাণী অবাক হয়ে ভাবে দিনের বেলার কর্কশ মানুষটা রাতে এমন পাল্টে যাচ্ছে কেমন করে?এ যে আকাশ আর পাতাল!দিনে যে রাণীকে ধরে পেটায়,রাতে সেই কেমন করে হয়ে ওঠে সোহাগ করা প্রেমিক।
সব দিন তো সমান যায় না,রাণীর অত সুখ কপালে সইবে কেন? একদিন রাণী বুঝতে পারলো সে মা হতে চলেছে।শুনে কাল নাগের মন খারাপ।আর অপ্পন্না তো পঞ্চায়েতে বলেই ফেললো,রাণীর গর্ভের সন্তানের বাপ মোটেই সে নয়।অন্য কেউ।বউকে দুশ্চরিত্রা বলে গাল দিল বাইজি র প্রেমিক অপ্পন্না।
তখন আমরা দেখি, এ কোন রাণী!!!!এতো আর সেই ছেলেমানুষ মিষ্টি মেয়েটি নেই!এ তো এক তেজস্বিনী নারী!যে আগুন ছুঁয়ে বলে যে স্বামী ছাড়া কাউকে কখনো স্পর্শ করেনি সে।কোনো পাপ করেনি।মোড়লের বিধানে নাগের গর্তে হাত ঢোকায় রাণী।দোষ করলে সাপ কামড়াবে তাকে।এমনি লোকের বিশ্বাস।কিছুই হয় না।গাঁয়ের যারা রাণীকে অসতী বলে গাল দিয়েছিল , তারাই আবার দেবী বলে জয়ধ্বনি দেয়।অপ্পন্না দেখে কেমন দেবী হয়ে যাচ্ছে তার বউ।রাত্রে নাগকে রাণীর ঘরে নাগকে ঢুকতে দেখে অপ্পন্না। কাটারি ছুঁড়ে মারে নাগকে।
বউকে মেনে নিতেই হবে এবার।অপ্পন্না আর রাণীর সংসারে সন্তান আসে।রাণীকে সুখে সংসার করতে দেখে নাগ আসে গভীর রাতে।এখন সে কামড়াতেই পারে অপ্পন্নাকে।কিন্তু তাতে কি সুখী হবে রাণী!প্রেম তো অমন স্বার্থপর নয়! রাণীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে নাগ।তারপর সেই ঘন কালো চুলে ফাঁস লাগিয়ে মরে যায়। ঘুম থেকে উঠে ওরা দেখে রাণীর চুলে জড়িয়ে আছে মৃত সর্প।রাণীর ইচ্ছেতে নাগের চিতায় আগুন দেয় তাদের ছেলে।একমাত্র মা জানেন সন্তানের বাবা কে!
স্বামী ছাড়া কাউকে কখনো স্পর্শ করেনি রাণী।তবু ,গভীর রাতে নাগ যখন আসতো তার কাছে,চাঁদের নরম আলোতে,মায়াবী জ্যোৎস্নারা যখন দুটি নারী পুরুষের দেহে সুধা ঢেলে দিতো,তখন কি গভীর অবচেতনে রাণীর মনে হত না,যে এ লোক সত্যি অপ্পন্না নয়!এ অন্য কেউ।যার বাইরের রূপ তার স্বামীর।ভিতরে অন্য কেউ আছে,যে এক কোমল প্রেমিক।
সর্প পুরাণ। ঘরের কোণে সাপ।পরিবেশ বন্ধু। সাপ ভয়ংকর নয়।সে প্রেমিক।সর্প পুরাণকে ভেঙে এক নতুন পুরাণ তৈরি করলেন গিরিশ কারনাড ,যেখানে প্রেম আর যৌনতা এক অভাবনীয় মাত্রা পেল।গুরুত্ব পেল নারীর যৌনতা। অত্যাচারী বর অপ্পন্নার কাছে ভয়ে শুকিয়ে থাকতো যে মেয়ে,স্পষ্ট বোঝা যায় সেখানে সে ছিল যৌনদাসী মাত্র।যখন চাঁপা ফুলের গন্ধ নিয়ে প্রেম এলো, রাণী শুধু স্ত্রী নয়।হয়ে উঠলো প্রেমিকা।পূর্ণতা পেল তার যৌনতা,যাকে বাদ দিয়ে তার অস্তিত্ব তৈরি হয় না।নাগ আর রাণীর প্রেম এক আশ্চর্য প্রাকৃতিক প্রেম।ইনহিবিশন মুক্ত।স্বচ্ছ। প্রগলভ।
গিরিশ কারনাড নারীর যৌনতাকে গুরুত্ব দিলেন বড় নান্দনিক ভাবে।অকুতোভয় রাণী পঞ্চায়েতে বলে উঠলো,এ সন্তান আমার।
অন্যদিকে দেখলে,দিনে প্রহার ,রাতে প্রেম এমন দাম্পত্যের ও তো অভাব নেই।যে বউকে দিনের বেলা পেটানো যায়,রাতে তার কাছেই পুরুষ ফিরে আসে দেহের আকর্ষণে।।টানাপোড়েনের গল্পে রাণীরা বড় হয়ে ওঠে।নিজের মত প্রতিষ্ঠা করতে শেখে ভয়কে পায়ের তলায় রেখে।তারপর সিদ্ধান্ত নেয় অপ্পন্না নয়।রাণী।
পুরাণ,প্রেম,যৌনতা,সমাজ ।তদুপরি মন।আশ্চর্য সেই মনের গভীরে ডুবে যাওয়া। যেন এক আদিম নাগ।কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে মনের গভীরে।এক সেই বোঝে প্রেমের স্বভাব।রাণী কি অপ্পন্নার মধ্যে সেই প্রেম খুঁজেছিল!অপ্পন্না আর নাগ কি একই পুরুষ? না তারা আলাদা?কখনো কড়া স্বামী। কখনো আকুল প্রেমিক।পুরুষাধিপত্যের এই প্রবল পেষণে রাণীরা হারিয়ে যেতে যেতে ,যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়,তখন ফুঁসে ওঠে।সে তখন শরীরে ও মনে সবল।পূর্ণ। আর প্রেম! গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হওয়া ছাড়া আর কিছুই কি গতি আছে তার?
গিরিশ কারনাডের "নাগামন্ডলা" এমন এক বলিষ্ঠ নাটক যা পড়তে পড়তে বা দেখতে দেখতে আমরা একের পর এক প্রশ্ন ভাঙা গড়া করি।




224 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন