Anamitra Roy RSS feed

Anamitra Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মিঞা কবিতা এবং আসামের বীভৎস মজা
    আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কী বীভৎস মজা চলছে, কাল তিস্তা শেতলবাদের লেখা ( https://www.telegrap...
  • সেলিব্রিটির প্রতি ভালোবাসা
    নিউজফিড ঘাঁটতে ঘাঁটতে বর্তমানের ফেমাস সিঙ্গার, মেয়েদের ক্রাশ মাঈনুল আহসান নোবেলের একটা ছবি হঠাৎ সামনে চলে এলো। ছবিটা দেখামাত্র আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা শিহরণ বয়ে গেল। ইউরেকা! পেয়েছি! আমার জীবনসঙ্গী,আমার বাচ্চার বাপ, আমার নাতি-পুতির দাদা। সেই ...
  • ভ্যান গগ ও একটি কুৎসিত তৈলচিত্র
    রঙ! শব্দটা শুনলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জাগে মনে। হঠাৎ যেন মনে হয় কেউ এক মুঠো লাল - হলুদ আবির ছড়িয়ে দিল হাওয়ায়। রঙ শুনলে আমার কেন জানি মনে হয়, একটা ক্যানভাসে খুব পাৎলা করে কেউ ক্রিমসন রেডের একটা শেডের উপরে ক্রোম ইয়োলোর এক পোঁচ ভেজা রঙ লাগিয়েছে। আপনাদের কি ...
  • সম্রাট ও সারমেয়
    একটি খুব স্নেহের মেয়ে, বিদেশে পড়াশুনো করছে, সূর্যের নীচে সবকিছু ভালোর জন্যই ওর গভীর ভালবাসা। মাঝে মাঝে পাগলামি করে বটে,আবার শুধরে নেওয়ায় কোন অনীহা নেই।আমার খুব পছন্দের মানুষ !সে একদিন লিখলো ইসলামে কুকুর নাপাক জীব। এইটাতে সে ভয়ানক খাপ্পা, কারণ কুকুর তার ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম - পর্ব ১০: কচি ঘাসে দুটি ফুল

Anamitra Roy

আজ আমি প্রায় সারাদিন ধরে লিখছি বলা চলে। এরপরও যদি বিপ্লব না হয় আমার কিছু করার নেই। প্রথমেই সেই অমোঘ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলা যাক, যে পর্ব ৬ লেখার পর হপ্তাদুয়েক ঘাপটি মেরে থেকে আজ হঠাৎ ফিরে এসে আমি পর্ব ১০ লিখতে বসলাম কেন! জানিয়ে রাখা যাক যে এসব পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে না, নিয়তিদেবী করিয়ে নিচ্ছেন। হয়েছে কি, আমি "পর্ব ৭" লিখছিলাম দুপুর থেকে সন্ধ্যে অবধি, সেটা পোস্ট করতে গিয়ে উড়ে গেলো। তারপর ঘন্টাদুয়েক বাদে মনের জোর সংগ্রহ করে এসে "পর্ব ৭ অথবা ৮" নাম দিয়ে লিখতে গেলাম, সেটাও তলিয়ে গেলো সার্ভারের গর্ভে। তারপর ভাবলাম "পর্ব ৭ অথবা ৮ অথবা ৯" নাম দিয়ে লেখার চেয়ে বরং একেবারে "পর্ব ১০" লিখে রাউন্ড ফিগার করে দিই, তাতে যদি ফাঁড়া কাটে! শনিবারের বারবেলা যাকে বলে আর কি! এবার যদি এটাও পোস্ট করার আগে উড়ে যায়, মাইরি বলছি, আর কোনোদিন বিপ্লব করতে যাবো না। আর তাতে যে অপূরণীয় সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষতি হয়ে যাবে দেশের তার জন্য এক এবং একমাত্র গুরুচন্ডা৯-র ওয়েবসাইটই দায়ী থাকবে। প্রতিক্রিয়াশীল সাম্রাজ্যবাদী ওয়েবসাইট একখানা!

শেষ পর্বটা ঠিক সেরকম জমেনি। জানি। সব পর্ব সেরকম জমবেই এমনও ধরে নেওয়ার কোনো কারণ দেখি না। ব্লগ লিখছি, গীতাঞ্জলি লিখতে বসিনি যে সব সময় নোবেল পাওয়ার লেভেলে এফোর্ট দিতে যাবো। লেখাটা শুরু করেছিলাম কারণ টাটকা টাটকা বিজেপি ফের জিতে যাওয়ার খবরে মারাত্মক রাগ হচ্ছিলো। তায় আবার বাংলায় অতগুলো সিট্! কিন্তু এখন আর অত রাগ হচ্ছে না, নিতান্ত মাথার ব্যায়াম হবে বলেই লিখছি। শেষ কি লিখছিলাম হালকা হালকা মনে আছে, বিশদে মনে নেই। রাগের একটা টুইস্টেড বহিঃপ্রকাশ ঘটছিলো সিপিএমকে খিস্তি করে। আর তাতে পাবলিকের বেশ মনোরঞ্জন হচ্ছিলো খেয়াল আছে। এই পাবলিকের মনোরঞ্জনই হলো আসল কথা, সে তুমি সমরেশ মজুমদারের মতো গোলগল্পে ন্যারেটিভের বাইজি নাচই দেখাও আর সুবিমল মিশ্র-র মতো কলামে কলামে জাক্সটাপোজিয়ে একা একা প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার জিল ব্রালটার হয়েই ঘোরো, হাততালির আওয়াজই হলো পপুলারিটির উৎস। অর্থাৎ কিনা, পাবলিকের উৎসাহই হলো সেই বস্তু যা লেখক থেকে প্রকাশনা সবকিছুকেই মহান বানায়। এবং নাচটা সমস্ত লেখকই নেচে থাকেন, কেউ মাধুরী দিক্ষীতের মতো "মার্ ডালা, মার্ ডালা" করে এগিয়ে আসেন প্রকাশ্যে তো কেউ জম্পেস ব্রেক ড্যান্স দিতে দিতে বলেন "ওরা নাচছে, আমি কিন্তু আসলে নাচছিনা"; যার যার নিজের নাচার কায়দা এসব। আমিও নাচবো, নাচবো বলেই লিখতে বসেছি। একজন বাঙালী লেখকের আর কিই বা করার থাকতে পারে নাচ দেখানো ছাড়া কম্পিটিশন যেখানে স্মার্টফোনে স্ট্রিম হতে থাকা ক্রিকেট বিশ্বকাপের সঙ্গেও। তবে কিনা এই ম্যাচিওরিটি আমার বাচ্চা বয়সে ছিল না। তখন নিজেকে হেবি ঋত্ত্বিক ঘটক ভাবতুম। এত শক্ত ভাষায় ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে লেখার অভ্যাস ছিল যে রাজনীতিতে পরিপক্ক অভিজ্ঞ দাদারা বলেই দিয়েছিলো, "ভাষা সরল না করলে ছাত্ররাজনীতিতে পপুলার হওয়া যাবে না।" তাই আমি পপুলার হইনি। সিনেমা বানাতে গেছি সেও শেষ করতে পারিনি। করবো কি করে, আমার রাজনীতিতে পরিপক্ক অভিজ্ঞ দাদারা আমার কাজের মধ্যে রাজনীতি দেখেননি কিনা! তাই তাঁরা সেসব নিয়ে কাউকে কিছু বলতেও যাননি। রাজনীতি মানে তো হরিপুর আর লালগড় নিয়ে দেখার অযোগ্য ডকুমেন্টারি বানানো, যেখানে প্রোপ্যাগান্ডার নিচে আন্ডারলাইন করে দেওয়া থাকবে। হিমাচল প্রদেশ থেকে কোচি অবধি মূলধারার সংবাদপত্রগুলো লিখে ফেলার পরও কোনো লিটিল ম্যাগাজিনের দাদা প্রয়োজন মনে করেননি নিজের পত্রিকায় দু'লাইন লিখে দেওয়ার। কারণ প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা মানেও ওই আনন্দবাজার আর সুনীল গাঙ্গুলিকে গালাগাল করাই মূলত। ওইটে না থাকলে বোধহয় জাত চেনা যায় না, কনফিউজিং লাগে। যাক গে, থাক সেসব কথা। একেকবার লিখতে যাচ্ছি লেখা একেকদিকে চলে যাচ্ছে। এই বিষয়টা নিয়ে ঝাঁপি খুলে বসলে উপন্যাস নেমে যাবে। আর তাহলেই যেটা বলতে এসেছিলাম আর বলা হবে না।

হয়েছে কি, শেষ পর্বটা মনে হয় সিপিএমকে খিস্তি না করার ফলেই সেরকম জমেনি। আসলে করার জায়গাও ছিল না সেরকম। বিজেপিকে হয়তো করা যেত কিছুটা, কিন্তু গত পাঁচবছরে ওদের এত খিস্তি করেছি যে নিজেরই বোর লাগে এখন। দেখা যাক, কবে মুড্ হয় আবার। তবে চিন্তার কিছু নেই, যাঁরা সিপিএমকে খিস্তি করতে দেখে মজা পাচ্ছিলেন তাঁদের জানানো থাক যে এখনও ঝোলার ভেতর অনেক বড় বড় হুলো আছে। ভুলে গেলে চলবে না যে আমি কিন্তু এখনও ২০০৬ সালের সেই কবিতা উৎসব চলাকালীন নন্দন চত্বরের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছি নিজেকে। ঠিক সময়ে ফিরে আসা যাবে সেখানে। বস্তুত সিপিএম হচ্ছে আমার সবচেয়ে কাছ থেকে দেখা ফ্যাসিস্ট পার্টি, সম্ভবত আপনারও তাই। ফলে যখনই যেখানে ফ্যাসিজমের ভূত দেখা যাবে, মূল বিষয়ে আসার আগে আমি সিপিএমকে একবার না একবার খিস্তি করবোই করবো। এ হলো সেই, সব পুজোর আগেই গণেশ না নারায়ণ কিসের যেন একটা পুজো দেওয়া হয় না, সেরকম ব্যাপার। এর আরও একটা দিক আছে অবশ্যই। তবে সেটা বললে সিপিএম সমর্থকদের বার খেয়ে যাওয়ার চান্স আছে তাই বলবো না। ডিটেলে না গিয়ে বলা যেতে পারে যে, হাজার হোক বাঙালী তো, তাই হোক না ঢপের কমিউনিস্ট, কিন্তু ওই কমিউনিস্ট, তারপর মার্ক্স্, ওইসব শব্দগুলো শুনলেই এখনও কিরকম যেন শিহরণ-শিহরণ ব্যাপার হয়; বেশ ব্যাকগ্রাউন্ডে জর্জ বিশ্বাসের গলায় আমার প্রতিবাদের ভাষা-ফাসা বেজে ওঠে কির'ম যেন। কৈশোরের প্রথম চাপের মতো ব্যাপার এসব, রোম্যান্টিসিজম মাত্র, সিরিয়াস কিছু নয়; দেশে একটা ঠিকঠাক রাজনৈতিক দল থাকলেই ঘুঁচে যেত। কিন্তু নেই, আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বানাবোও না, কাজেই পাশবালিশ জড়িয়ে মার্ক্সবাদ জিন্দাবাদ বলে ঘুমিয়ে পড়াই আপাতত আমাদের একমাত্র সম্ভাব্য স্যালভেশন।

এদিকে একটা ভয়ানক মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এই সিপিএম-বিজেপি ভাগাভাগিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঠিক করে খিস্তিটা করা হচ্ছে না। ওরা অবশ্য ততটা সিগ্নিফিক্যান্টও নয় বেশি শব্দ খরচ করার মতো। একটা পার্টি ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ২০১৯-এর মধ্যেই যদি বিজেপিতে প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েই থাকে তাহলে আর ক'টা কথাই বা লেখা সম্ভব এরকম একটা দলকে নিয়ে? যখন যে প্রসঙ্গে গালাগালি দেওয়া দরকার নিশ্চয়ই দেব। আপাতত এই পর্বে নিজেই নিজেকে একটা রিক্যাপ দিচ্ছি যে কি লিখছিলাম কেন লিখছিলাম, এইসব। তৃণমূলের কথা যখন এলোই, একটা কথা না বললেই নয় যে, দলটার সমস্ত স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক এবং প্রায়-অলৌকিক পর্যায়ের ঘুষ খাওয়ার ক্ষমতা ছিল। ক্ষমতায় আসার বেশিদিন পরের কথা নয়, ২০১২-১৩-র শীত সম্ভবত, সেবার চন্দননগরের এক সার্কাসের তাঁবুতে গিয়ে চারটে আলাদা আলাদা দল, সবকটাই তৃণমূলের, চারবার ঘুষ আদায় করেছিল। এরপর পাঁচ নম্বর দল যখন যায়, সার্কাসের মালিক স্বাভাবিকভাবেই বলেন যে আর কোথা থেকে দেব, চারজনকে তো দিয়েছি অলরেডি। পাঁচ নম্বর দলটি অনেক ঝোলাঝুলির পর শেষে যখন বোঝে যে এক পয়সাও পাওয়া যাবে না কোনোভাবেই, "ঠিক আছে, তাহলে এগরোলই খাওয়ান" বলে ফ্রিতে এগরোল খেয়ে ফিরে আসে। এইরকম চশমখোরীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সিপিএমকে আমি শুনিনি কখনও। গত বছর চারেক ধরে গোটা রাজ্য জুড়ে নাকি এমন অবস্থা যে কন্ট্র্যাক্টররা আর সরকারের কাজ ধরতে চায় না! কেন? না, কাজ ধরলেই নেতাদের ঘুষ দিতে হবে, আর সে ঘুষের পরিমান এমনই যে তারপর যা লাভ থাকবে তাতে আর খাটনি পোষাবে না। প্রাইমারীর টিচার হওয়ার ঘুষ ৩ লক্ষ থেকে বাড়তে বাড়তে নাকি ১৭ লক্ষ! যে এতটাকা ঘুষই দিতে পারবে তার আর চাকরির কি দরকার জিজ্ঞেস করতে গেলেও উত্তর রেডি আছে। হিসেব কষে দেখি দেওয়া হবে যে ওই টাকাটা ব্যাংকে কিংবা পোস্টাপিসে রাখলে ক'বছরে কত টাকা হতো আর মাসমাইনে থেকে ওটা ক'বছরে গোটাটা উঠে এসে আজীবন কিরকম লাভের উৎস হয়ে থাকবে। অঙ্ক পরিষ্কার, কোনও গল্প নেই।

আসলে এরকমই হওয়ার ছিল। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস পার্টিটা মূলত একটা ধান্ধাবাজদের পার্টি। পার্টিটার শুরু বিক্ষুব্ধ কংগ্রেসীদের হাত ধরে। ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই, বিক্ষুব্ধ কংগ্রেসী ব্যাপারটা শুনতে জটিল লাগলেও বোঝার অসুবিধা হওয়ার কথা নয় সেরকম। মমতা ব্যানার্জি কেন কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন সেটা ফিরে গিয়ে পড়লেই বোঝা যাবে। সোজা কথা হলো আমায় যদি পাত্তা না দাও আমি ভাই আলাদা পার্টি খুলে ভোট খাবো। হয় তুমি আমায় এবং আমার শিবিরের লোকেদের তোয়াজ করবে আর নাহলে তোমায় আমি দেখিয়ে দেব কি করতে পারি --- এই হলো এক লাইনে তৃণমূলের জন্মের ইতিহাস। আলাদা করে বলে দেওয়ার মনে হয় না দরকার আছে বলে যে এইধরণের চরিত্রের লোকেরা আসলে ধান্ধাবাজ। এছাড়া একটা অংশ এসেছে ২০০৬ সালে সিঙ্গুর আন্দোলন শুরু হওয়ার পর যারা কিনা আরও বড় ধান্ধাবাজ। সিপিএম করতে গিয়ে পাত্তা পায়নি বলে তৃণমূলে আসা লোকজন এরা। এই যে বেচারাম মান্না, কৃষিজমি রক্ষা কমিটির এতবড় নেতা, এ তো আসলে সিপিএমের লোক। পঞ্চায়েতে পাত্তা পেতো না। জমি নিয়ে এত নাটক হয়ে গেলো, এদিকে ওর তো শুনেছি পৈতৃক জমি ছিল এককালে, সেসব নাকি আন্দোলন শুরু হওয়ার বহু আগেই বেচে দিয়ে বসে ছিল। বোঝাই যাচ্ছে কিসের টানে এদের আন্দোলন করতে আসা। এরপর আরও একটা দল এসেছিলো ২০০৯-১০ নাগাদ। এরা আরও বড় ধান্ধাবাজ, নন্দীগ্রাম-লালগড় শুরু হয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতা যে পাল্টাচ্ছেই সেই বিষয়ে আরেকটু সিওর হয়ে নিয়ে তারপর এসেছিলো। একবার মাস রেটে ক্যালানি শুরু হলে এদের একটাও যে দূর্গের দরজা আগলে দাঁড়িয়ে থাকতে যাবে না তাতে আর আশ্চর্য কি! এই সমস্ত ধান্ধাবাজগুলো ছাড়াও একটা অংশ ছিল তৃণমূলে যারা সিপিএমের উৎপাতে অসহ্য হয়ে গিয়ে এই পার্টিটাকে বিকল্প ভেবে যোগ দিয়েছিলো। এদের বেশিরভাগই দলটার চরিত্র বোঝার পর হয় বসে গেছে আর নাহলে নিজেদের চরিত্র পালটে ফেলেছে। অনেকেই রয়েছে এদের মধ্যে যারা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বোমা-গুলি-চোখ রাঙানি-মারধর উপেক্ষা করে পার্টির কাজ করে যাওয়ার পর আজ আর পাত্তা পায় না। আজ এলাকায় সব নতুন নতুন নেতারা এসেছে যারা পার্টির সব দায়িত্ব সামলে নিয়েছে মোটামুটিভাবে। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে এখন নিজের পার্টির লোকই বাড়ি এসে শাসিয়ে যায়। এইসব লোকেরা তাহলে কোথায় যাবে? এরা কি "পার্টির ভালো হোক" বলে হিমালয় চলে যাবে ভেবেছিলাম আমরা? সিপিএমকে তাদের আর দরকার নেই এখন জীবনে, কারণ তৃণমূলই এখন সিপিএমের জায়গাটা নিয়ে নিয়েছে। স্বভাবতই, তৃণমূল যে সিপিএমের পরিণতিও ভাগ করে নেবে সে তো অবশ্যম্ভাবী।

তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু আসলে দক্ষিণপন্থী দল। অথচ মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক উত্থানের গ্রাফ দেখলে মনে হয় উনি সিপিএমের যেকোনো নেতার থেকে অনেক বড় মাপের কমিউনিস্ট। কি করে এরকমটা হলো? আসলে এখানে একটা বিশ্বাসঘাতকতার গল্প আছে, যে বিশ্বাসঘাতকতার বৃত্তটা সম্পূর্ণ হয়েছিল ২০১১ সালের ২৪শে নভেম্বর। ওইদিনটা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। আপাতত এর বেশি কিছু লিখছি না। প্রয়োজন হলে পরে লিখবো নিশ্চয়ই। যাঁদের জানার ইচ্ছে একটু হাতড়ে দেখে নেবেন প্লিজ, যে ঐদিন ঠিক কি হয়েছিল, আর কিভাবে হয়েছিল। আপাতত বরং একটু প্রসঙ্গ পাল্টানো যাক। গত ইলেকশনের রেজাল্টের পর থেকে দেখা যাচ্ছে বেশ অনেকেই মেনে নিয়েছেন যে জনগণ ব্যাপারটা আসলে অশিক্ষিত-মূর্খ-চিন্তাশক্তিরহিত-অপদার্থ-গাড়লদের একটা সমষ্টি। কিন্তু জনগণই তো পাঠক। তাহলে বুদ্ধিমান লেখকদের কি হবে? লেখক সেরকম বুদ্ধিমান হলে তো এহেন জনগণ তাঁর কথার মাথামুন্ডু কিছুই উদ্ধার করে উঠতে পারবে না! তাহলে লেখকের কি করণীয়? চিন্তার কিছু নেই, উপায় আছে। এইধরণের কেসে যেটা করতে হবে যে, যারা বুঝলো তাদেরকেই বলতে হবে জোরে জোরে অনবরত হাততালি দিতে থাকতে। সম্ভব হলে সময়সুযোগ বুঝে নিজেও ভীড়ের মধ্যে ঢুকে গিয়ে, অথবা পয়সা দিয়ে লোক ভাড়া করে হাততালি দেওয়াতে হবে। সেরকম জবরদস্ত আওয়াজ হলে খানকয়েক মাল এমনিই জুটে যাবে তালি মারার জন্য, তাদের দেখে আরও খানকয়েক। এইভাবেই ক্রমশ বড় হয়ে উঠবে লেখকের আত্মপরিচিতির কলোনি। এভাবেই হয়, এবং এভাবেই হবে। হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। এত ট্যালেন্ট নিয়ে শেষে সেরকম বিখ্যাত না হয়েই মরে যেতে হলে তার চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কিছু হয় না। অত দুর্ভাগ্য মেনে নেওয়া যাবে না কোনোভাবেই। অদৃষ্টের কাছে আত্মসমর্পণ আমাদের ধাতে নেই। মনে রাখতে হবে, বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস!
ধ্যাত্তেরি!
কি বকতে কি বকছি!
ইয়ে, হাততালির আওয়াজই পপুলারিটির উৎস। ইত্যাদি।

(পর্ব ১-৬: http://www.guruchandali.com/.../05/25/1558779870294.html)
ওপরে ভুল লিংক দিয়েছি: http://www.guruchandali.com/blog/2019/05/25/1558779870294.html

257 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dd

Re: বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম - পর্ব ১০: কচি ঘাসে দুটি ফুল

প্রথম প্যারাগুলোতে হিউমার ছিলো , তাই পড়তে ভালো লাগছিলো। শেষটায় আবার সেই "বক্তব্য রাখলেন"।

এক বিখ্যাত দার্শনিকের যূক্তি - বাংলার রাজনীতি মূলতঃ "বে হ। দ্যা শা ক্যা লা" - এই চিন্তাধারাতেই সম্পৃক্ত ও অনুরণিত, যারা ছেলে মানুষ তাদের জন্য ভাব সম্প্রসারণ করেদি, "বেশ হয়েসে। দ্যাক শালা ক্যামন লাগে"।

এ এক অন্তহীন নাট্যশালা।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন