I RSS feed

Indranil ghosh dastidarএর খেরোর খাতা

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মিঞা কবিতা এবং আসামের বীভৎস মজা
    আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কী বীভৎস মজা চলছে, কাল তিস্তা শেতলবাদের লেখা ( https://www.telegrap...
  • সেলিব্রিটির প্রতি ভালোবাসা
    নিউজফিড ঘাঁটতে ঘাঁটতে বর্তমানের ফেমাস সিঙ্গার, মেয়েদের ক্রাশ মাঈনুল আহসান নোবেলের একটা ছবি হঠাৎ সামনে চলে এলো। ছবিটা দেখামাত্র আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা শিহরণ বয়ে গেল। ইউরেকা! পেয়েছি! আমার জীবনসঙ্গী,আমার বাচ্চার বাপ, আমার নাতি-পুতির দাদা। সেই ...
  • ভ্যান গগ ও একটি কুৎসিত তৈলচিত্র
    রঙ! শব্দটা শুনলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জাগে মনে। হঠাৎ যেন মনে হয় কেউ এক মুঠো লাল - হলুদ আবির ছড়িয়ে দিল হাওয়ায়। রঙ শুনলে আমার কেন জানি মনে হয়, একটা ক্যানভাসে খুব পাৎলা করে কেউ ক্রিমসন রেডের একটা শেডের উপরে ক্রোম ইয়োলোর এক পোঁচ ভেজা রঙ লাগিয়েছে। আপনাদের কি ...
  • সম্রাট ও সারমেয়
    একটি খুব স্নেহের মেয়ে, বিদেশে পড়াশুনো করছে, সূর্যের নীচে সবকিছু ভালোর জন্যই ওর গভীর ভালবাসা। মাঝে মাঝে পাগলামি করে বটে,আবার শুধরে নেওয়ায় কোন অনীহা নেই।আমার খুব পছন্দের মানুষ !সে একদিন লিখলো ইসলামে কুকুর নাপাক জীব। এইটাতে সে ভয়ানক খাপ্পা, কারণ কুকুর তার ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ভুখা বাংলা ঃ ' ৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৬)

I



একজন মানুষ বাংলার দুর্ভিক্ষে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন, যাঁর বিচলিত হওয়ার বিশেষ কোনো কারণ ছিল না। কিম্বা এভাবেও বলা যেতে পারে, বিচলিত না হয়েও তিনি দিব্যি জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। ইনি স্টেটসম্যান পত্রিকার তৎকালীন মুখ্য সম্পাদক ইয়ান স্টিফেন্স। আপাদমস্তক রক্ষণশীল ইংরেজ এই মানুষটি ভারতের স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি আদৌ সহানুভূতিশীল ছিলেন না। গান্ধীর তিন সপ্তাহব্যাপী অনশনকে তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন; বলেছিলেন-প্রচারের আলোয় আসার উদ্দেশ্যে একজন রাজনীতিবিদের হীন প্রয়াস।

এহেন স্টিফেন্সের রক্ষণশীলতার দুর্গ ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল মন্বন্তরের মর্মান্তিকতা। একের পর এক সম্পাদকীয়তে তিনি ভারত সরকারকে তুলোধোনা করতে থাকেন। কিন্তু দিল্লী সেসব সমালোচনা কড়ে আঙুল দিয়েও ছুঁয়ে দেখে না।হ্তাশ স্টিফেন্স নিজের স্মৃতিকথায় তাঁর সেসময়কার মনের অবস্থা বর্ণনা করেছেন-"...Write, write, write, but nothing came of it."

প্রায় হতোদ্যম স্টিফেন্স বুঝতে পারছিলেন-এভাবে হবে না। মরীয়ার শেষ চেষ্টার মত অবশেষে এক দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন-দুর্ভিক্ষ নিয়ে কাগজের পাতাজোড়া ফটো স্টোরি করবেন। দুর্ভিক্ষ নিয়ে সেন্সরশিপ তখন বেশ কড়া,'Famine শব্দটির উল্লেখমাত্র করা চলবে না; কিন্তু স্টিফেন্সের সুবিধা ছিল তিনি একে ইউরোপীয়, তায় দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখালিখিতে যতই বজ্র-আঁটুনি থাক, দুর্ভিক্ষের 'ছবি' নিয়ে এমার্জেন্সি আইনে কোথাও কিছু বলা নেই; কর্তারা সম্ভবতঃ এই ফস্কা -গেরোর দিকটা খতিয়ে ভাবেন নি। এক দুপুরে স্টিফেন্স এক ঝাঁক চিত্রসাংবাদিককে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দিলেন মন্বন্তরের ছবি তুলে আনার জন্য। যেসব ছবি নিয়ে তাঁরা ফিরে এলেন তা ভয়াবহ-বেশ কিছু ছবি এত গা-গুলিয়ে ওঠার মত , যে স্টিফেন্স স্বয়ং সেগুলিকে 'utterly unpublishable' বলে বাদ দিলেন। (1) বাকি কিছু তুলনামূলক ভদ্রস্থ ছবি নিয়ে ২২শে অগাস্ট , ১৯৪৩ রোববারে বের হল স্টেটসম্যানের সানডে এডিশন।

ফল হল মারাত্মক। বাকি ভারতবর্ষ বাংলার দুর্ভিক্ষের কথা আভাসে-ইঙ্গিতে শুনলেও সেন্সরশিপের কল্যাণে তার আসল রূপ জেনে উঠতে পারে নি। স্টেটসম্যানের ফটোস্টোরি দেখে লোক শিউরে উঠলো।পরদিন সকালেই দিল্লিতে স্টেটসম্যান কাগজ কিনতে হুড়োহুড়ো পড়ে গেল-কয়েকগুণ দাম দিয়েও স্ট্যান্ডে কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতেই শুধু নয়, গোটা পৃথিবী জুড়েই সাড়া পড়ে গেল।ব্রিটেনের The Guardian পত্রিকায় লেখা হল-'ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি,অবর্ণনীয়।' (2) সেদিনই ভারত সরকারের মুখ্য প্রেস অ্যাডভাইসরের ক্রুদ্ধ টেলিফোন গেল স্টেটসম্যান দপ্তরে। কিন্তু আইনের ফাঁক থাকায় পত্রিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়ে উঠতে পারা গেল না। এতে আরো সাহস পেয়ে গিয়ে স্টিফেন্স আর এক দফা ফটো স্টোরি করলেন-সঙ্গে তাঁর এডিটোরিয়াল-'All-India Disgrace'।কর্তারা নড়েচড়ে বসলেন, বা বলা ভালো-বসতে বাধ্য হলেন। কেননা ঘরে-বাইরে চাপ। বাইরে বলতে মিত্রপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের হাতে সে ছবি যথাসময়ে পৌঁছে গেছে।

১৯৮৪ সালে স্টিফেন্স যখন মারা যাবেন, অমর্ত্য সেন 'দ্য টাইমস' পত্রিকায় তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখবেন-"....someone whose hard-fought campaign possibly saved the lives of hundreds of thousands of people." (3)


ইয়ান স্টিফেন্সের মত সৌভাগ্য অবশ্য চিত্তপ্রসাদের হয় নি।কমিউনিস্ট পার্টির ডাকে চিত্তপ্রসাদ মেদিনীপুর জেলায় ঘুরে ঘুরে মন্বন্তরের ছবি আঁকতে থাকেন, লিখতেও থাকেন। তাঁর সঙ্গে লেগে ছিলেন চিত্রসাংবাদিক সুনীল জানা। (সুনীলবাবু পরবর্তীকালে বলেছিলেন- এই কাজ তাঁর বিন্দুমাত্র ভালো লাগতো না, মনে হত মন্বন্তরের ফটো তোলার চেয়ে অনেক জরুরী ভুখা মানুষের মুখে ভাত তুলে দেওয়া। তিনি সেইসব কমরেডদের ঈর্ষা করতেন যাঁরা ত্রাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পার্টি-সম্পাদক পি সি যোশী তাঁকে ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বোঝান। সেসময়কার জনযুদ্ধ পত্রিকার পাতায় পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে সুনীল জানার সেইসব অমূল্য স্থিরচিত্রের দলিল।)

মন্বন্তর নিয়ে চিত্তপ্রসাদের ছবি ও রিপোর্টাজের একটি সংকলন বের করা হয় 'Hungry Bengal' নাম দিয়ে। ৫০০০ কপি ছাপা হয়েছিল। প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে সরকার ছোঁ মেরে সবক'টি কপি বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে ফেলে-একটিমাত্র কপি কোনোক্রমে রক্ষা পায়। এত করেও অবশ্য মন্বন্তরের শিল্পীদের রোখা যায় নি। জয়নুল আবেদিন, গোবর্ধন আশ, সোমনাথ হোর, গোপেন রায়রা মন্বন্তর নিয়ে ছবি আঁকা-ভাস্কর্য বানানোর কাজ চালিয়েই যেতে থাকেন। জয়নুল আবেদিন কাগজের অভাবে প্যাকিং কাগজে চারকোল দিয়ে ছবি আঁকতেন।বিজন ভট্টাচার্য বানিয়ে তোলেন 'নবান্ন' নাটক। ১৯৪৪ সালে এই নাটক নিয়ে আই পি টি এ বাংলার গ্রামে-গঞ্জে ঘুরতে থাকে।

মন্বন্তরের তান্ডব এদিকে অব্যহত থাকে। অনাহার-অর্ধাহারের সঙ্গে এসে যোগ দেয় অগণিত রোগ-ব্যাধি।খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার তা, অনাহারক্লিষ্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কমে যায়। কলেরা-ম্যালেরিয়া ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কুইনিনের যোগান যৎসামান্য; যেটুকু আসে, তা কালোবাজারে চলে যায়। উন্নততর ম্যালেরিয়ার ওষুধ মেপাক্রিন শুধুমাত্র আর্মি এবং 'প্রায়োরিটি ক্লাস'এর মধ্যেই বিলি হতে থাকে। ডিডিটি তখন সবে আবিষ্কার হয়েছে, সে শুধু আর্মি ব্যারাকের আশেপাশে ছড়ানো হতে থাকে। ফ্যামিন ডায়োরিয়া নামে এক ধরণের উদরাময় শুরু হয়, যা সারানো প্রায় অসাধ্য। সেইসঙ্গে শুরু হয় গুটিবসন্তের (small pox) আক্রমণ। একটি হিসেব অনুযায়ী ১৯৪৪ সালে মন্বন্তরে মৃত মানুষদের প্রায় ২৪% ছিল গুটি-বসন্ত সংক্রমিত। (4) শুধু যে শারীরিক অসুস্থতাই বাড়ে তা নয়, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মানসিক রোগ। সার্জেন-জেনারেলের অফিস থেকে পাঠানো একটি রিপোর্টে বলা হবে-.."মন্বন্তরের সবচেয়ে পীড়াদায়ক একটি বিষয় হল দীর্ঘকাল অনাহারে-থাকা মানুষের মানসিক সমস্যা... এরা শিশুর মত আচরণ করে, যেখানে-সেখানে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়, জঞ্জালের স্তূপ হাটকায়, হাসপাতাল থেকে কখনো কখনো পালিয়ে যায়, অথচ সেখানেই খাবার, নিরাপত্তা ও কিঞ্চিৎ আরাম পেত... ভাত-তরকারির থালা সামনে সাজিয়ে রাখলেও খায় না, মুখ ফিরিয়ে 'খেতে দাও' 'খেতে দাও' বলে কাঁদে...মানুষের চেয়ে জন্তুর সঙ্গেই এদের বেশী মিল , অস্থিচর্মসার দেহ, শুকনো-কোঁচকানো ঠোঁট, ক্ষয়া-পচা দাঁত, কয়েক পরত ময়লা-পড়া জিভ, জন্তুর মত চীৎকার করছে, সর্বাঙ্গে ময়লা, ঘেয়ো শরীর-এইসব মানুষ, এরা মানুষের দুর্দশার শেষ সীমায় পৌঁছেছে; মন্বন্তরের সারসংক্ষেপ হল এরা।"(5)

ফিল্ড মার্শাল ওয়াভেলের নতুন বড়লাট হয়ে ভারতে আসা তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাঁর উদ্যোগে ইন্ডিয়ান আর্মির চীফ অফ স্টাফ অকিনলেক চীফ অফ ইম্পিরিয়াল জেনারেল স্টাফ অ্যালান ব্রুককে জানালেন-অস্ত্র সরবরাহের চেয়ে খাদ্যসরবরাহের কাজ কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ তো নয়ই, বরং বেশী। ব্রুক ওয়ার ক্যাবিনেটকে মেমো পাঠালেন- দুর্ভিক্ষের মোকাবিলা না করলে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-প্রস্তুতি প্রায় অসম্ভব।

পরবর্তী ওয়ার ক্যাবিনেটের মিটিংয়ে চার্চিল অবশ্য এসব কথা স্রেফ উড়িয়ে দিলেন-"হাট্টাকাট্টা গ্রীকদের সঙ্গে আধপেটা-খেয়ে অভ্যস্ত বাঙালীর অনাহারের কোনো তুলনাই হয় না।"(6) প্রসঙ্গতঃ, গ্রীসেও তখন দুর্ভিক্ষ চলছিল।

১৯৪৩এর অগাস্ট মাস থেকে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগের তরফে সুভাষচন্দ্র বসু বাংলার দুর্ভিক্ষপীড়িতদের সাহায্যের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে চাল পাঠানোর প্রস্তাব দিলেন বেতারবার্তায়। সিঙ্গাপুর থেকে পাঠানো এরকম একটি বেতারবার্তায় সুভাষ জানালেন, ভারতের কাছাকাছি একটি বন্দরে এক লক্ষ টন চাল তিনি মজুত রেখেছেন; ব্রিটিশ সরকার রাজী হওয়ামাত্র তিনি বন্দরের নাম জানাবেন এবং সেখান থেকে চাল পাঠানোর উপযুক্ত বন্দোবস্ত করবেন। (7) ব্রিটিশ সরকারের চিরশত্রু সুভাষের এই প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর কোনো কারণই খুঁজে পেলেন না কর্তারা। সুভাষের আবেদন যাতে খবরের কাগজে বেরিয়ে না পড়ে, তার জন্য কড়া সেন্সরশিপের বন্দোবস্ত করা হল। যদিও এক লক্ষ টন চাল সেসময় অনেক, তাই দিয়ে ষোল লক্ষ মানুষকে ৪ মাসের জন্য খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখা যেত এবং এমন কি নাজি জার্মানি পর্যন্ত যুদ্ধের মধ্যে মানবিকতার ডাকে সাড়া দিয়ে আন্তর্জাতিক রেড ক্রশকে দুর্ভিক্ষপীড়িত গ্রীসে ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিল।

ব্রিটিশ সরকার শুধু যে শত্রুর আবেদনে সাড়া দেন নি, এহেন অপবাদ তাঁদের দেওয়া যাবে না। শত্রু-বন্ধু নির্বিশেষে বাংলার দুর্ভিক্ষে কারো সাহায্য প্রস্তাবই তাঁরা বিবেচনা করে দেখেন নি- এব্যাপারে তাঁরা ছিলেন সমদর্শী। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা সকলেই সাহায্য পাঠাতে চেয়ে বিফল হয়। ২৮শে সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার এক মন্ত্রী বলেন-'ব্রিটিশ সরকার যদি জাহাজের বন্দোবস্ত করে তাহলে অস্ট্রেলিয়া ভারতের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের চাহিদামত গম সরবরাহ করতে প্রস্তুত।আমরা গম নিয়ে বসে আছি, এখন শুধু জাহাজে তোলার অপেক্ষা।' (8) নিউজিল্যান্ড সরকার প্রস্তাব পাঠান তাঁরা ১০,০০০ পাউন্ড মূল্যের কনডেন্সড মিল্ক বিনামূল্যে সরবরাহ করতে ইচ্ছুক এবং আশা করেন যে এটি পরিবহনের জন্য নিশ্চয়ই জাহাজের অভাব হবে না। আয়ারল্যান্ড ১ লক্ষ পাউন্ড অর্থসাহায্য পাঠাতে চায়, আইরিশ প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশবাসীকে আরো অর্থ্দানের জন্য আহ্বান জানান। সেদেশের লেবার পার্টি-র প্রধান দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেন গত শতাব্দীতে ব্রিটিশশাসিত আয়ারল্যান্ডের দুর্ভিক্ষের সময় ভারতের মানুষজন কী পরিমাণ সাহায্য করেছিলেন। নভেম্বর মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ম্যাকেঞ্জি কিং আমেরিকে জানান, তাঁরা ১ লক্ষ টন গম নিয়ে প্রস্তুত, এমন কি গম পরিবহনের জন্য জাহাজও তাঁদের কাছে রয়েছে। আমেরি তাঁর জার্নালে লেখেন-উইনস্টন ভারতকে এমনই বিষনজরে দেখে যে সে নিশ্চয় এই প্রস্তাবের মধ্যে শিপিং স্পেসের অপচয় ছাড়া আর কিছু খুঁজে পাবে না। হয়ও তাই; ওয়ার ক্যাবিনেটের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়, কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিরস্ত করতে হবে। সেই মর্মে দ্রুত একটি টেলিগ্রাম পাঠিয়ে দেওয়া হয়; ম্যাকেঞ্জি কিং শিপমেন্ট বাতিল করে দেন।(9)

দুর্ভিক্ষ-মহামারী-মৃত্যুমিছিল অব্যাহত থাকলেও কলকাতার কলের চাকা কিন্তু কখনোই বন্ধ হয় নি। এশীয় রণাঙ্গনে মিত্রশক্তির ব্যবহার্য অস্ত্র-বস্ত্র-ভারী যন্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশই তখন কলকাতা শহরে উৎপাদিত হচ্ছে। গোটা পৃথিবী থেকে মানুষজন যুদ্ধ করবে বলে এসে জড়ো হয়েছে কলকাতার সেনাশিবিরে। এবং, যেমনটা আগে বলা হয়েছে, পকেটে কাঁচা পয়সা থাকলে মোচ্ছবের জন্য কলকাতার তখন জুড়ি মেলা ভার। শহর জুড়ে বিরাম ও বিনোদন শিল্পের রমরমা- বার,রেস্তোরাঁ, ডান্স হল, যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা বেশ্যাখানা। জাপানী সৈন্যদের তাও শয্যাসঙ্গিনী জোটাতে জোর খাটাতে হয়েছিল, ব্রিটিশদের কাছে কলকাতার নিরন্ন মেয়েরা নিজেরাই এসে ধরা দিচ্ছিল।

কিন্তু এইসব আমোদ-আহ্লাদের মধ্যেও মন্বন্তর-কাঁটা খচ খচ করে; রাস্তাঘাটে মৃতের পাহাড় জমতে থাকে, ফারপোতে ডিনার খেতে গেলে অজস্র মেলে -দেওয়া হাত-নিরন্ন মুখ পেরিয়ে যেতে হয়। মৃত্যু রোধ করা না গেলেও মন্বন্তর ও মৃত্যুমিছিলের খবর তো আর বিশ্বের কাছে চাউর হতে দেওয়া চলে না ! এদিকে ডোম-জমাদারদের অবস্থাও তথৈবচ, কে আর লাশ পরিষ্কার করে ! বাধ্য হয়ে সরকার হিন্দু সৎকার সমিতি এবং আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম সংস্থাদুটিকে কলকাতার বেওয়ারিশ লাশ সৎকারের (যথাক্রমে হিন্দু ও মুসলিম) বরাত দেয়। কিন্তু সেই নগ্ন-অর্ধনগ্ন কঙ্কালসার লাশের পাঁজার মধ্যে কে হিন্দু কে মুসলিম তা নির্ণয় করা হত কিভাবে, সে ছিল এক রহস্য।
সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক করা হল সরকার এবার থেকে আর কোনো দুর্ভিক্ষ-মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করবেন না। প্রেসের তুমুল চাপে দুদিন বাদেই সে আদেশ প্রত্যাহৃত হল বটে; তবে ঠিক করা হল, এখন থেকে কাউকে আর 'দুর্ভিক্ষ-পীড়িত' বলা হবে না; তাদের ডাকা হবে অন্য নামে-'রুগ্ন নিঃসম্বল' ('Sick Destitute') বলা হবে তাদের। মৃত্যুর কারণ হিসেবেও আর 'অনাহার' লেখা চলবে না; পরিবর্তে অন্য যে কোনো সম্ভাব্য কারণ লিখতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ লেখা হতে থাকল-'পূর্বে অবহেলিত দীর্ঘমেয়াদী অসুখ'('chronic ailments, neglected in the past')।(10)

রিলিফ কমিশনার কলকাতার 'বৈধ' নাগরিকদের অনুরোধ করলেন তাঁরা যেন 'সিক ডেস্টিটিউট'দের সাহায্য করে দয়ার অপব্যবহার না করেন; এই 'ভাগ্যহত'দের জন্য সরকারী খরচায় যথোপযুক্ত ত্রাণশিবির ও রিলিফ-কিচেন খোলা হয়েছে। জুলাই মাসের শেষ থেকেই কলকাতার ভিখারীদের শহরের রাস্তা থেকে তাড়িয়ে এনে এক জায়গায় জড়ো করবার পরিকল্পনা চলছিল। অক্টোবরের শেষে বাংলার অস্থায়ী গভর্নর রাদারফোর্ড ( পূর্বতন গভর্নর হার্বার্ট অ্যাপেন্ডিসাইটিস-আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন; সেই রোগেই তাঁর মৃত্যু হয়) একটি বিশেষ অর্ডিন্যান্স জারি করেন। এর বলে যে কোনো সরকার-অনুমোদিত কর্মচারী সন্দেহ হলেই যে কোনো ব্যক্তিকে 'সিক ডেস্টিটিউট' বলে আটক করবার ক্ষমতা পেলেন। একটি অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে ৮০০০ লোককে রাখার ব্যবস্থা হল; উত্তর কলকাতার আরেকটি স্থায়ী শিবিরে আরো ৪০০০ লোকের বন্দোবস্ত হল। কিন্তু হিসেবমত কলকাতার রাস্তাঘাটে-আলিতে-গলিতে তখন প্রায় দেড় লাখ নিরন্ন মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন।


কিন্তু মুশকিল হল, এইসব মানুষেরা এহেন ‘উপযুক্ত’ ত্রাণশিবিরে যেতে কিছুতেই রাজি হলেন না।বস্তুতঃ সরকারী রিলিফ কিচেনগুলির অবস্থা ছিল ভয়াবহ। দিনে মাথাপিছু যা র‌্যাশন মিলত, তাতে বড়জোড় ৮০০ কিলোক্যালোরির জোগান হত; কমতে কমতে তা কোথাও কোথাও ৪০০ কিলোক্যালোরিতে এসে দাঁড়িয়েছিল-বুখেনওয়াল্ড কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সমতুল্য।(11) ফ্রেন্ডস অ্যাম্বুল্যান্সের সদস্য টি জি ডেভিস মন্তব্য করেছিলেন-'এমন ভান করছেন যেন আপনারা এদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। আসলে কিন্তু (এদের) ধীরে ধীরে ঠেলে দিচ্ছেন অনাহারে মৃত্যুর দিকে।' (12)


বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কাজ না হওয়াতে প্রশাসন জবরদস্তির পথ বেছে নেয়। সিভিল-ডিফেন্স-পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা হয় কলকাতার রাস্তাঘাট ভিখিরিশূন্য করার কাজে। পুলিশ ভ্যান ও লরি নিয়ে এরা ঘুরে বেড়াত, প্রকাশ্য দিবালোকে যত্রতত্র যাকে সন্দেহ করত জোর করে ভ্যানে তুলে নিয়ে চালান করে দিতে ত্রাণশিবিরে। পুলিশের গাড়ির আওয়াজ পেলেই নিরন্ন মানুষেরা যে যেখানে পারে দৌড়ত-বাবা একদিকে, মা আরেকদিকে, ছেলেমেয়ে অন্যদিকে। কত পরিবার এই ভাবে ভেঙ্গে আলাদা হয়ে গেছে। মহাশ্বেতা দেবী স্মৃতিচারণ করেছেন, তাঁর পরিচারিকা হিরণের মেয়ে এইভাবে হারিয়ে গিয়েছিল। মেয়েকে রোয়াকে বসিয়ে খাবারের খোঁজে অন্যত্র গিয়ে ফিরে এসে সে আর মেয়েকে খুঁজে পায় নি। লাশ ছুঁড়ে ছুঁড়ে লরির ওপর পাঁজা করা হচ্ছে, এই দৃশ্যেও মানুষজন অভ্যস্ত হয়ে গেছিল। 'ঠক ঠক শব্দ করে লাশগুলি গিয়ে পড়ছে, যেন কাঠের তৈরী'-মহাশ্বেতা বলেছেন। কানাঘুষোয় শুনেছিলেনএইসব লাশ নিয়ে গিয়ে ফেলা হত কলকারাখানার চুল্লিতে; যেন সর্বস্বান্ত গ্রামবাংলা শেষ সম্বল হাড় ক'খানা দিয়েও মহাযুদ্ধের চুল্লি জ্বালিয়ে রাখছে। (13)

রিলিফ কমিশনার বি কে গুহ এই 'সিক ডেস্টিটিউট'দের ত্রাণ শিবিরে পাঠাতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি শুনেছিলেন, এদের বদ্ধমূল ধারণা ওসব ত্রাণশিবির-টিবির অছিলা মাত্র, সরকারের আসল উদ্দেশ্য এদেরকে আরাকান কিম্বা আসামের জঙ্গলে যুদ্ধে পাঠানো।

অবশ্য এই আশঙ্কা যে সম্পূর্ন অমূলক ছিল, তা নয়। রয়াল ইঞ্জিনীয়ার অ্যালান শ যুদ্ধের সময় ইম্ফলে ছিলেন। তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন-কলকাতার রাস্তাঘাট থেকে নিরন্ন মানুষদের ধরে-বেঁধে লেবার ব্যাটেলিয়নে ঢুকিয়ে লাইন অফ কন্ট্রোলে পাঠানো হত। তাঁর কোম্পানি কম্যান্ডে এরকম প্রায় শ দুয়েক লোক এসে জুটেছিল। তাঁদের ওপরে নির্দেশ ছিল- এদের দিয়ে জঙ্গল সাফাইয়ের কাজ করাতে হবে। (14)

মন্বন্তরের সময় কলকাতা শহরে থাকতে পাবার 'বৈধতা-অবৈধতা' দিয়ে বেঁচে-থাকা আর মরে -যাওয়ার ফারাক তৈরী হয়েছিল এইভাবে, সরকারী প্রকল্পের মধ্য দিয়ে। তুমি কি কলকাতা শহরের বৈধ নাগরিক? তাহলে তোমার অধিকার আছে যুদ্ধের শহরে থাকবার ও পেট ভরে খেতে পাবার। অন্যথায় তুমি রাস্তার মানুষ, মানবেতর, তোমার অধিকার নেই এই শহরে মাথা গোঁজার, নেই শহরের গলি-ঘুঁজিতে কুকুরের সঙ্গে লড়াই করে আস্তাকুঁড় থেকে খাবার জোটানোর অধিকারও। তোমার জায়গা ত্রাণশিবির, যেখানে তুমি এগিয়ে যাবে ধীর অথচ নিশ্চিৎ মৃত্যুর দিকে। কলকাতা শহরের নিজস্ব কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প , এখানে মরে গিয়েও তুমি পরিচয় পাবে না কোনো, চিহ্নিত হবে শুধু 'হিন্দু' অথবা 'মুসলমান' লাশ হিসেবে। এর বেশী প্রাপ্য যুদ্ধের শহর তোমাকে কখনো দেবে না, কেননা তুমি 'বহিরাগত'। শহর তোমার মুখের গ্রাস ছিনিয়ে খাবে আর তুমি শহরের এঁটো, যুদ্ধের এঁটো ঠাঁই পাবে মৃত্যুশিবিরে, নামহীন।

Notes
1. Stephens, Ian (1966). Monsoon Morning. London: Ernest Benn. p. 182.
2. https://en.wikipedia.org/wiki/Bengal_famine_of_1943(Vernon, James (2009). Hunger: A Modern History. Cambridge, MA: Harvard University Press. ISBN 978-0-674-04467-8.)
3. https://en.wikipedia.org/wiki/Bengal_famine_of_1943(Sen, Amartya (27 April 1984). "Mr Ian Stephens". The Times.)
4. https://en.wikipedia.org/wiki/Bengal_famine_of_1943 (Maharatna,Arup (1992). The demography of Indian famines: A historical perspective (PhD thesis). London School of Economics and Political Science (United Kingdom) ).
5. .Janam Mukherjee, p.130 (Medical History of The Bengal Famine,p.49)
6.Ibid., p.92(Leo Amery Diaries, p.943)
7.Madhushree Mukherjee, p.180 (WO 208/809,"Indian Famine: Bose offers 1,00,000 tons of Rice',25 Aug,1943)
8. Ibid, p.183 (Ministry of War Transport Papers 59/631, National Archives of Great Britain,'Wheat !' 28 September, 1943)
9. .Janam Mukherjee, p.142।
10.Ibid, p.133 (The Statesman,14 September, 1943, "Lessons in Secrecy.)"
11.Nanavati papers, vol IV, p.1150-52
12.Ibid, p.1069, 'Testimony of T. G. Davies'
13.Madhushree Mukherjee, p.185-86
14.Janam Mukherjee, p. 136 (Alan Shaw, archived in connection with the BBC Oral History Project, "WW2 People's War".
(চলবে)


265 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dd

Re: ভুখা বাংলা ঃ ' ৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৬)

সাংঘাতিক
Avatar: রঞ্জন

Re: ভুখা বাংলা ঃ ' ৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৬)

ইন্দো ডাক্তার,
সেই সময়ে আমার বাবা (সদাগরি আপিসের কনিষ্ঠ কেরানি) ধর্মতলায় জ্যোতি সিনেমার পাশে পার্ল হোটেল নামে একটি মেসে থাকতেন। রোজ সকালে গঙ্গা স্নান করতে যাওয়ার সময় প্রথমে রাস্তায় গাঁ থেকে দলে দলে আসা নিরন্ন মানুষের ক্রম-বর্দ্ধমান ভিড় চোখে পড়তে লাগল। মেসে মাছের সাইজ ছোট হতে হতে মেসই বন্ধ হয়ে গেল। বাজারে আগুন লেগেছে।
রাস্তায় এবার একটা দুটো করে মৃতদেহ দ্যাখা গেল। ক্রমশঃ বাড়তে বাড়তে এমন হল যে রোজ একগাদা ডেডবডি ডিঙিয়ে গঙ্গায় যেতে হত ।
উপায়?
বৃটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগ দিয়ে অন্নবস্ত্রের সমাধান করা । উনি তাই করলেন।
অল্পবয়সে মূর্খ দুর্বিনীত ঔদ্ধত্যে জিগ্যেস করেছিলেম-- স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দাও নি , কিন্তু ভারতের জনতার বিরুদ্ধে বৃটিশের ফৌজে যোগ দিতে বিবেকে বাধে নি ?
খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে ধীরে ধীরে উপরের বিবরণটি অনেক ডিটেলে বলেছিলেন।
Avatar: b

Re: ভুখা বাংলা ঃ ' ৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৬)

অসাধারণ লেখা।
অনাহারে মৃত্যুকে অন্য কিছু দিয়ে চাপা দেওয়ার রোগটা তাহলে নতুন নয়।
Avatar: Amit

Re: ভুখা বাংলা ঃ ' ৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৬)

অসাধারণ। চলুক আরো এটা।
Avatar: lcm

Re: ভুখা বাংলা ঃ ' ৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৬)

লিখতে থাকো। বাঙালি মানসে চল্লিশের দশকের প্রভাব সাংঘাতিক।

চিত্তপ্রসাদের ফেসবুক অ্যালবাম -
https://www.facebook.com/pg/ArtFromBengal/photos/?tab=album&album_
id=299571687381045


জয়নুল আবেদিন -
https://www.facebook.com/pg/ArtFromBengal/photos/?tab=album&album_
id=303378663667014

Avatar: রঞ্জন

Re: ভুখা বাংলা ঃ ' ৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৬)

্ধন্যবাদ, এল সি এম,'
সুনীল জানার ফোটোগ্রাফির অ্যালবামের লিংক পাওয়া যাবে? সাদা কালো ছবির যে অ্যালবাম বেরিয়েছিল তার অনেক দাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন