জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য RSS feed

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্যের খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...
  • অলোক রায় এবং আমাদের নবজাগরণ চর্চা
    সম্প্রতি চলে গেলেন বাংলার সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক অলোক রায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ছয় দশক জুড়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ...
  • দুই ক্রিকেটার
    ক্রিকেট মানেই যুদ্ধু। আর যুদ্ধু বলতে মনে পড়ে ষাটের দশক। এদিকে চীন, ওদিকে পাকিস্তান। কিন্তু মন পড়ে ক্রিকেট মাঠে।১৯৬৬ সাল হবে। পাকিস্তানের গোটা দুয়েক ব্যাটেলিয়ন একা কচুকাটা করে একই সঙ্গে দুটো পরমবীর চক্র পেয়ে কলকাতায় ফিরেছি। সে চক্রদুটো অবশ্য আর নেই। পাড়ার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রিয়েক্টর

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

মাঝরাতে চিপস খেয়ে জানালা দিয়ে খালি প্যাকেট ফেলতে গিয়ে দেখি গাছতলায় এক ছায়ামূর্তি বসে বসে মাথার চুল ছিঁড়ছে।

স্বাভাবিকভাবেই আমি ভয়ে শিউরে উঠলাম।‌ এত রাতে আমি ছাড়া এই অঞ্চলে আর কারোরই জেগে থাকার কথা না।‌‌ নাইট গার্ডের অলিখিত চাকরিটা শুধুই আমার।

নিজেকে সামলাতে না পেরে আমি চাপা গলায় চিৎকার করে উঠলাম,

কে ওখানে? কে? কে?

-আহ! একবার বললেই তো হয় নাকি? তিনবার কে কে বলে চিল্লানোর দরকারটা কি? কানে কালা নাকি আমি?

গলাটা শুনে কিছুটা ধাতস্থ হলাম। গলাটা আমার চেনা। এটা কোন প্রেতাত্মার গলা না। পাশের বাসার রাশেদ ভাইয়ার গলা। কিন্তু তার তো এতো রাতে গাছতলায় বসে থাকার কথা না। মাত্র দুইদিন আগেই তার নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে।

রাশেদ ভাইয়া আবার কথা বলে উঠলেন,শুকনা খাবার কিছু থাকলে ফেলো তো!

আমি একপ্যাকেট চিপস আর বিস্কুট ফেলে দিলাম। সাথে একবোতল পানি। আমি মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছি নতুন ব‌উয়ের সাথে তার কোনো একটা ঝামেলা হয়েছে। কিন্তু সেটা কি?

আমি তাকে আর কোনো প্রশ্ন না করে জানালা বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। ভেতরে ভেতরে যদিও জানতে ইচ্ছা করছে কিন্তু মুখে কৌতুহল দেখিয়ে প্রশ্ন করার মতো মেয়ে আমি না। কেন জানি মনে হচ্ছে তিনি নিজে থেকেই বলবেন। আমার সাথে অনেকেই ফ্রি হয়ে অনেক কথা শেয়ার করে। কেননা আমি হলাম গাছের মতো। শুনি,ভুলে যাই। কাউকে কখনো বলতে যাই না।
রাশেদ ভাইয়াও হয়তো শেয়ার করবেন।

হলোও তাই। পরদিন পাড়ার একটা বাচ্চাকে দিয়ে রাশেদ ভাইয়া আমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন। গাছতলায় গিয়ে বসলাম। রাশেদ ভাইয়া শুকনা মুখে বসে আছেন।‌

ভেতরে ভেতরে কৌতুহল ফেটে পড়লেও মুখে একটা স্বাভাবিক ভঙ্গি ফুটিয়ে তুলে সহজ গলায় বললাম, বলুন কি হয়েছে?

রাশেদ ভাইয়া আরো কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, মেয়েটা লাইক দেয়।

আমি আঁতকে উঠলাম। চারপাশ থেকে এই একটা বাক্য যেন তিনবার প্রতিধ্বনিত হয়ে আছড়ে পড়লো আমার কানে,

মেয়েটা লাইক দেয়
মেয়েটা লাইক দেয়
মেয়েটা লাইক দেয়

ঘটনাটা পরিস্কার বুঝতে হলে রাশেদ ভাইয়ার ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে। সংক্ষেপে বলি,

রাশেদ ভাইয়া একজন ঘোর রিয়েক্টর। ফেসবুকের লাইক অপশনটির প্রতি তার তীব্র ঘৃণা।
তার ফেসবুক আইডির নাম 'রিয়েক্টর বয় রাশেদ'।
এমনকি তিনি তার ফ্রেন্ডলিস্টে কোনো লাইকার রাখেন না। বায়োতে লিখে রাখেন, 'অনলি রিয়েক্টরেরা এড দাও,লাইকার দূরে থাকো।'

কেউ যদি তার পোস্টে মজা করেও কখনো লাইক দেয় তো সেদিন মনের দুঃখে তিনি না খেয়ে থাকেন।
একবার আমি মনের ভুলে তার ডিপিতে লাইক দিয়ে ফেলেছিলাম। ভোর পাঁচটার সময় তিনি আমার জানালায় ঢিল মেরে ঘুম ভাঙ্গিয়ে রিয়াক্ট চেন্জ করতে বলেছিলেন।
তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন মার্ক জুকারবার্গের কাছে অনুরোধ পাঠাতে যে ফেসবুক থেকে যেন লাইক অপশনটা তুলে দেয়া হয়।
এমনকি এলাকাবাসীর সাহায্যে লাইকবিরোধী আন্দোলন তোলার‌ও অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এলাকাবাসী তার এই খেয়ালি আন্দোলন সমর্থন করেনি।

এলাকার চেয়ারম্যান রাগী গলায় বলেছিলেন, মানুষ না খেতে পেয়ে মরে যাচ্ছে আর তুমি আছো ফেসবুকের রিয়াক্ট নিয়ে!

এই অবস্থায় তার বাবার মনে হলো ছেলের বিয়ে দেয়া দরকার। বিয়ে হলো অনেক পাগলামীর মহাঔষধ। বিয়ে দিলে যদি এই লাইক-রিয়াক্টের ভুত মাথা থেকে যায়!

সুতরাং এলাকার মুরব্বিদের মতামত নিয়ে সবাই মিলে পরামর্শ করে কিছুদিন আগেই এক সুন্দরী প্রাইমারী টিচার মেয়ে দেখে রাশেদ ভাইয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

আর আজ শোনা যাচ্ছে সেই মেয়ে লাইকার। কি ভয়ঙ্কর!

আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, তো কি হয়েছে লাইক দেয়! তাকে বুঝিয়ে বললেই তো হয়। আপনার সাথে থাকতে থাকতে রিয়াক্ট দেয়া শিখে যাবে।

রাশেদ ভাইয়া আফসোসের সুর তুলে দুঃখী গলায় বললেন, আর শিখবে! বিয়ের আগে আমিও তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু..
আমি কি তাকে বলিনি মনে করছো? সে ফেসবুক লাইট ইউজার। রিয়াক্ট দিতে বলেছিলাম বলে বিরক্ত হয়ে বলেছে, আমার তোমার মতো এতো আজাইরা সময় নেই। সারাদিন বসে বসে ফেসবুকে রিয়াক্ট দেয়া ছাড়াও আমার আরো অনেক কাজ থাকে।

আমি দুঃখী গলায় বললাম,এটা তো‌ শুনতেই হবে আপনাকে ভাইয়া। আপনি কিছু করেন না, এদিকে চাকুরীজীবী মেয়ে বিয়ে করেছেন। একটু খোঁটা তো সহ্য করতেই হবে।

রাশেদ ভাইয়া বললেন,‌খোঁটা সহ্য করতে আমি রাজি আছি।‌ যা ইচ্ছা বলুক, ব্যাপার না। কিন্তু পোস্টে লাইক দেবে কেন? নাহ! অসম্ভব! আমার পক্ষে এই মেয়ের সাথে বাস করা সম্ভব না। ওকে দেখলেই আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। তিনদিন হলো বিয়ে হয়েছে তারমধ্যে গত দুইরাত‌ই গাছতলায় বসে কাটিয়েছি।

-এখন কি করবেন?

:ওরে ফেরত দিয়ে আসবো। ডিভোর্স দিয়ে দেবো।

আমি চমকে উঠে ভীতু গলায় বললাম, পোস্টে লাইক দেয় বলে একটা মেয়েকে ডিভোর্স দিয়ে দেবেন?

রাশেদ ভাইয়া আমার কথার জবাব না দিয়ে হনহন করে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলেন। আমিও তার পেছন পেছন গেলাম। কি হয় দেখা যাক।

রাশেদ ভাইয়ার শ্বশুরমশাই এসেছেন। গম্ভীর মুখে সোফায় বসে আছেন। তার মেয়ে তার সামনেই বসে আছে। তার চোখমুখ ফোলা।

রাশেদ ভাইয়াকে আসতে দেখে তার শ্বশুর উঠে দাঁড়ালেন।‌ থমথমে গলায় বললেন, সমস্যা কি?

রাশেদ ভাইয়া সহজ স্বরে বললেন, সমস্যা একটাই। আপনার মেয়ে।‌ ওকে নিয়ে যান। আর কোনো সমস্যা নাই।

-কেন? মেয়ে নিয়ে যাবো কেন? বিয়ের দুইদিন পর‌ বলবা আপনার মেয়ে নিয়ে যান,মশকরা করো?

:মশকরা আমি করি না। আপনার এই ক্ষ্যাত মেয়ের সাথে আমি সংসার করতে পারবো না।

রাশেদ ভাইয়ার শ্বশুর রাগী গলায় বললেন, কি! কি বললে তুমি? আমার মেয়ে ক্ষ্যাত? নিজে তো করোনা এক পয়সা ইনকাম। নেহায়েৎ তোমার বাবা আমার ভালো বন্ধু তাই তোমাকে মেয়ে দিয়েছিলাম। তোমার সাতজন্মের সৌভাগ্য যে আমার মেয়ের মতো ব‌উ পেয়েছো।

রাশেদ ভাইয়া মুখ বেঁকিয়ে বললেন, সৌভাগ্য না ছাই! আগে যদি জানতাম আপনার মেয়ে এত ক্ষ্যাত তাইলে...

এতক্ষনে ভাবী মুখ খুললেন। উঁচু গলায় বললেন, বাবা থামো! কার সাথে কথা বাড়াচ্ছো তুমি! এদের কোনো লেভেল আছে?

রাশেদ ভাইয়া গমগমে স্বরে বহুল প্রচলিত বাংলা সিনেমার সেই কমন ডায়লগটি দিলেন,

কাজী সাহেব! আমি গরীব হতে পারি, কিন্তু পোস্টে লাইক দেই না! 😎

যান নিয়ে যান আপনার এই লাইকার মেয়েকে আমার চোখের সামনে থেকে।

তারা চলে গেল। কয়দিনের মধ্যে ডিভোর্স‌ও হয়ে গেল।

এই ঘটনার বছরখানেক পর রাশেদ ভাইয়া আবার বিয়ে করেন। নিজের মনের মতো একটা মেয়েকে। এই মেয়েও তার মতো ঘোর রিয়েক্টর। দুজনে মিলে ফেসবুকে একটা গ্রুপ‌ও খুলেছেন, 'Reactors World'...

আজকাল জানালা খুললে রাশেদ ভাইকে তার নতুন ব‌উয়ের সাথে গাছতলায় বসে রোমান্স করতে দেখি। দৃশ্যগুলো একটু আপত্তিকর এইজন্য ইদানিং আর জানালা খুলি না।

লেখা- জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

277 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: জাহাঙ্গির আলম

Re: রিয়েক্টর

সত্যিই অসাধারন!
অঞ্জন দত্তের একটা টিভি নাটকে "প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য'' তে নায়ক তার স্ত্রীকে সহ্য করতে পারতো না কারন সে ছিল আটপৌরে, কবিতা পড়তে ভালবাসেনা, মৃণাল সেন কিম্বা সত্যজিতের সিনেমা দেখেনা, সারাদিন শুধু একেরপর এক টিভি সিরিয়াল দেখে। এই সিলি ব্যাপারটা আমার ব্রেন ছুয়ে যায়, সত্যিই মানুষ কি শুধু খাবে দাবে আর বাচ্চা পালবে, তাহলে মানুষ না হয়ে পশু হওয়াই ভাল ছিল তাদের।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন