ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর
    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে ...
  • বেঁচে আছি, আত্মহারা - জার্নাল, জুন ১৯
    ১এই জল, তুমি তাকে লাবণ্য দিয়েছ বলেবাণিজ্যপোত নিয়ে বেরোতেই হ'লযতক্ষণ না ডাঙা ফিকে হয়ে আসে।শুধু জল, শুধু জলের বিস্তার, ওঠা পড়া ঢেউসূর্যাস্তের পর সূর্যোদয়ের পর সূর্যাস্তমেঘ থেকে মাঝে মাঝে পাখিরা নেমে আসেকুমীরডাঙা খেলে, মাছেরা ঝাঁক বেঁধে চলে।চরাচর বলে কিছু ...
  • আনকথা যানকথা
    *****আনকথা যানকথা*****মোটরবাইক ঃ ইহা একটি দ্বিচক্রী স্থলযান। পেট্রল ডিজেল জাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির সাহায্যে চলে। বিভিন্ন আকারের ও বিভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরবাইক আমরা দেখিতে পাই। কোন কোন বাইকের পাশে ক্যারিয়ার থাকে। শোলে বাইক আজকাল সেরকম দেখিতে পাওয়া যায়না। ...
  • সরকারী পরিষেবার উন্নতি না গরীবকে মেডিক্লেম বানিয়ে দেওয়া? কোনটা পথ?
    এন আর এস এর ঘটনাটি যে এতটা স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠতে পারল এবং দেখিয়ে দিল হাসপাতালগুলির তথা স্বাস্থ্য পরিষেবার হতশ্রী দশা, নির্দিষ্ট ঘটনাটির পোস্টমর্টেম পেরিয়ে এবার সে নিয়ে নাগরিক সমাজে আলোচনা দরকার।কিন্তু এই আলোচনা কতটা হবে তাই নিয়ে সংশয় আছে। কারণ ...
  • জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা
    হিংসার ঘটনা এই তো প্রথম নয়। ২০১৭ ফেব্রুয়ারীতে টাউনহল খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কে তুলোধোনা করার পর রাজ্যে ১ নতুন ক্লিনিক্যাল এস্তব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট চালু হয়েছিল। বলা হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল গুলি র রোগী শোষণ বন্ধ করার জন্য, ...
  • ব্রুনাই দেশের গল্প
    আশেপাশের ভূতেরা – ব্রুনাই --------------------...
  • 'বখাটে'
    তেনারা বলতেই পারেন - কেন, মাও সে তুঙ যখন ঘোষণা করেছিল, শিক্ষিত লোকজনের দরকার নেই, লুম্পেন লোকজন দিয়েই বিপ্লব হবে, তখন দোষ ছিল না, আর 'বখাটে' ছেলেদের নিয়ে 'দলের কাজে' চাকরি দেওয়ার কথা উঠলে দোষ!... কিন্তু, সমস্যা হল লুম্পেনের ভরসায় 'বিপ্লব' সম্পন্ন করার পর ...
  • ডাক্তার...
    সবচেয়ে যে ভাল ছাত্র তাকেই অভিভাবকরা ডাক্তার বানাতে চায়। ছেলে বা মেয়ে মেধাবী বাবা মা স্বপ্ন দেখে বসে থাকল ডাক্তার বানানোর। ছেলে হয়ত প্রবল আগ্রহ নিয়ে বসে আছে ইঞ্জিনিয়ারিঙের কিন্তু বাবা মা জোর করে ডাক্তার বানিয়েছে এমন উদাহরণ খুঁজতে আমাকে বেশি দূর যেতে হবে ...
  • বাতাসে আবারও রেকর্ড সংখ্যক কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কোন পথে এগোচ্ছে পৃথিবী?
    সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন বলছে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ আবারও বেড়ে গেছে। এই নিয়ে প্রতিবছর মে মাসে পরপর কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ রেকর্ড সংখ্যক। গত মাসে (মে-তে) কার্বন ডাই অক্সাইডের ...
  • ফেসবুক রোগী
    অবাক হয়ে আমার সামনে বসা ছেলেটার কান্ড দেখছি। এই সময়ে তার আমার পাশে বসে আমার ঘোমটা তোলার কথা। তার বদলে সে ল্যাপটপের সামনে গিয়ে বসেছে।লজ্জা ভেঙ্গে বলেই ফেললাম, আপনি কি করছেন?সে উৎকণ্ঠার সাথে জবাব দিলো, দাঁড়াও দাঁড়াও! 'ম্যারিড' স্টাটাস‌ই তো এখনো দেইনি। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ছাব্বিশে বৈশাখ

ন্যাড়া

ঘরে ঢুকে দেখি নীচু হয়ে পায়ের পাতায় কী একটা লাগাচ্ছেন। সামনে হোমিওপ্যাথির বাক্স খোলা। জিগেস কল্লাম, "পায়ে কী হল?"
- আর বোলোনা। কাল জন্মদিন ছিল। এত লোক এসে প্রণাম করেছে যে পায়ের পাতা ছড়ে গেছে। ওষুধ লাগাচ্ছি।
- কেক খেলেন জন্মদিনে?
- কেক? না না। কেক-টেক নয়। বউমা পায়েস করেছিল, তাই একটু খেয়েছি।
- আর কে এল?
- কে এলনা সেটা জিগেস কর।


আমি ইতস্ততঃ করছিলাম। একশ সাতান্ন বছর তো পূর্ণ করলেন, বয়েসে অনেকটাই বড়। কী বলে ডাকব? দাদু? কীরকম যেন চ্যাংড়া চ্যাংড়া শোনায়। গুরুদেব? বললেই গুরু পাঞ্জাবী পরা উত্তমকুমারের ছবি ভেসে ওঠে? রবিবাবু? সমর সেন রবিবাবু বলে ডাকায় উনি বলেছিলেন, "আপনার বাবা আমার ছাত্র ছিলেন।" কবিগুরু? মনে হয়ে দেওয়ালে ঝোলান ছবির উদ্দেশে কথা বলছি। ওনাকেই জিগেস করে ফেললাম। বললেন, "ঠাকুর্দা বলে ডাকতে পার।" আমি অবাক হয়ে বললাম, "ঠাকুর্দা!" বললেন, "কেন পছন্দ হল না? আমি তো ছেলে-খ্যাপান ঠাকুর্দাই হতে চেয়েছিলাম।" ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপরে বললেন, "শম্ভু চরিত্রটা ধরেছিল ভাল।" বুঝলাম ডাকঘর নাটকের কথা বলছেন। "স্কুল করলাম বাপে-খ্যাদানো মায়ে-তাড়ানোদের সঙ্গে ঠাকুর্দাগিরি করব বলে। প্রথম-প্রথম হচ্ছিলও। তারপরে যত সুসংস্কৃতির জঞ্জাল এসে বিশ্বভারতীকে কব্জা করলে।" আনমনা হয়ে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে কাগ দেখতে লাগলেন।


আমি ভাবছিলাম রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর্দাগিরি কীরকম হবে। উপনিষদ-অ্যাপ্রুভড ছেলে-খ্যাপান কার্যকলাপ কল্পনা করে খেই পাচ্ছিলাম না। "ছেলেবেলায়, বুঝলে, লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমি, সত্য আর সোমদাদা, কত ঘুরে বেরিয়েছি। মোড়ের মাথায় একটা বিহারী চানাসেদ্ধ আর সাড়ে বত্তিরিশ ভাজা বেচত। সাড়ে বত্তিরিশ ভাজা কাকে বলে জান তো? বত্তিরিশ রকম ভাজা মেশান থাকে - চিঁড়ে, মুড়ি, ছোলা, বাদাম, চানা। আর তাতে শেষে গোঁজা থাকত আধখানা ভাজা লংকা। সেটাই সাড়ে। এক পয়সায় এত্ত বড় ঠোঙা ভর্তি করে দিত। সেই চিবুতে চিবুতে আমি, সোমদাদা আর সত্য হেঁটে কোনদিন গোলদীঘি, কোনদিন হেদুয়ার ট্যাঙ্ক আবার কোনদিন আহিরিটোলা বা মল্লিকবাবুর ঘাটে গঙ্গার ধারে চলে যেতাম। তবে আসল জিনিস ছিল নাখোদা মসজিদের পাশের গলিটায় একটা বুড়ো মুশলমানের মাংসের বড়া। যা জব্বর করত না, আহ!" গোপনে একটু জিভের জল টেনে নিলেন মনে হল।


- কিসের মাংস?
- ও জিনিস এক রকম মাংসেরই হয়। নিষিদ্ধ মাংস - গোশতো।
- আর মদ?
- মদ খেতুম। তবে খুব ভাল লাগত না। মিষ্টি-মিষ্টি শেরি-টেরিই বেশি খেতুম। বিলেতে তো নিয়মিত খেইচি। ব্র্যান্ডিও চালাতুম। হুইস্কিটা পোষাতনা।


আমি অবাক হয়ে বললাম, "সে কী! তবে যে লিখলেন -
অভয় দাও তো বলি আমার wish কী,
একটি ছটাক সোডার জলে পাকি তিন পোয়া হুইস্কি!"


ঠাকুর্দা দাড়ি-গোঁফের ফাঁকে অল্প হেসে বললেন, "ও তো লেখা। ওর কি সব সত্যি হয়?" তারপর আবার কিছুক্ষণ কাগ দেখে নিজের মনে মৃদু হাসলেন। "আমার ওই লেখাটা পড়েছ?


যদি জোটে রোজ
এমনি বিনি পয়সায় ভোজ!
ডিশের পরে ডিশ
শুধু মটন কারি ফিশ,
সঙ্গে তারি হুইস্কি সোডা দু-চার রয়াল ডোজ!
পরের তহবিল
চোকায় উইল্সনের বিল—
থাকি মনের সুখে হাস্যমুখে কে কার রাখে খোঁজ! "


- ব্যঙ্গকৌতুক তো?
- ওই ব্যঙ্গকৌতুক আর ক্ষণিকা - এই দুই বইতে আমার এই স্পিরিটটা পাবে। পরে যত অলম্বুষের দল পরম ব্রহ্ম, ভূমা-টুমা বলে, জোব্বা-জাব্বা পরিয়ে আমাকে প্রফেটের ভূমিকায় নাবিয়ে দিলে। শেষ কবছর সেই ভূমিকায় অভিনয় করে এমন হাঁপিয়ে পড়েছিলাম যে কী বলব!
- তবে যে এখন লোকে আপনার নাম করার আগে আর চটি খুলে রেখে বাসন্তী পাঞ্জাবী পরে চোখ বন্ধ করে হাতজোড় করে নেয়?


প্রশ্ন শুনে আবার বাইরে কাগে মনোনিবেশ করলেন। আসার আগে জিগেস বললাম, "শেষ প্রশ্ন - "। বললেন, "সে তো শরৎ লিখেছিল।" আমি বললাম, "তালে বাইরে গিয়ে ধরিত্রীকে আপনার কী বাণী শোনাব ঠাকুদ্দা? গরু, মদ, ইয়ার্কি-ফাজলামি সব অ্যালাউড - পরম-ব্রহ্ম-অ্যাপ্রুভড, এই তো?"


"এত বুড়ো কোনোকালে হব নাকো আমি
হাসি-তামাশারে যবে কব ছ্যাবলামি।"


গোঁফের ফাঁকে মিচকি হেসে ঠাকুর্দা নিজের লেখা দু লাইন আউড়ে নিয়ে কাগ দেখতে, থুড়ি বায়স অবলোকন করতে, থাকলেন।

308 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Adam

Re: ছাব্বিশে বৈশাখ

Great post. I used to be checking continuously this weblog and I’m inspired! Extremely helpful information specifically the last part 🙂 I care for such info much. I was seeking this certain information for a very long time. Thanks and best of luck.
Avatar: র২হ

Re: ছাব্বিশে বৈশাখ

হাহা!
মিমি চক্রবর্তীর হাতে ফোস্কা পড়েছে নাকি হ্যান্ডশেক করে করে। কবিগুরু ২৫শে বৈশাখ লোহার মোজা পরতে পারেন।

(অ্যাডামবাবুর স্প্যাম পোস্টটা বেশ। কিন্তু লিংক দিতে ভুলে গেছেন।)
Avatar: দ

Re: ছাব্বিশে বৈশাখ


😷😷😷
Avatar: চয়ন মান্না

Re: ছাব্বিশে বৈশাখ

পুরোটা পড়লাম, একটুও ভালো লাগলো না। জোর করে লিখতে হবে বলে লেখা হয়েছে মনে হলো


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন