সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সাহায্যের আবেদন

Dibyendu Singha Roy

কিছু টাকা তোলার চেষ্টা কিরছি আমার মামার ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য।
রোগটি জটিল ও ভীষণ ব্যয় সাপেক্ষ। আর্থিক অসঙ্গতির জন্য প্রথমে সরকারি হাসপাতালে (নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ) চেষ্টা করা হয়রছিল কিন্তু রোগীর শারীরিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে নিউটাউন টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালের দ্বারস্থ হয়।
ওনারা যা এস্টিমেট দিয়েছেন তাতে চিকিৎসার খরচ প্রায় ৫ লাখ(সমস্ত মেডিকেল চেকআপ, সিটিস্ক্যান, এম আর আই যা এস্টিমেশনের মধ্যে ধরা নেই)
এখনো অবধি আমরা সমস্ত রকম ব্লাড টেস্ট, সিটি স্ক্যান এম আর আই, কোলনস্

আরও পড়ুন...

সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও বাংলা

Rouhin Banerjee

৩৪ বছরের বাম শাসনে অত্যাচার ছিল। সরকারী অব্যবস্থা ছিল। স্বজন পোষণ ছিল। লোকাল কমিটির একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল। সামান্য আড়াল রেখে তোলাবাজিও ছিল। এমন কি আর্থিক কেলেঙ্কারীও ছিল। একজন সিপিএম কর্মী সমর্থক হিসাবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এগুলো জেনেই মাঠে নেমেছি।

৩৪ বছরের পালা শেষ হবার পরে আরো আট বছর কেটে গেছে। উপরিউক্ত প্রত্যেকটা সমস্যা এখনো শুধু আছে তাই নয়, শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে এমন জাঁকিয়ে বসেছে, মাঝে মাঝে মনে হয় যেন তারাই শুধু আছে। সেটাও সত্যি নয়, বর্তমান সরকারেরও কিছু ভাল দিক আছে, বিরোধী

আরও পড়ুন...

কবি বর

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

ফেক আইডিতে সুন্দর একটা মেয়ের ছবি প্রোফাইলে দিয়ে বরকে নক দিলাম।

"কেমন আছেন? আপনি আমার রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করছেন না কেন?"

ঘন্টাখানেক পর রিপ্লাই পেলাম,

"আসলে এই আইডিতে একটু সমস্যা আছে,এটাতে সব ফ্যামিলি মেম্বার! বাইরের মেয়ে দেখলে রাগ করে। আপনি আমার ফেক আইডিতে রিকোয়েস্ট দিতে পারেন!''

আমি আঁতকে উঠলাম। দুঃখী চোখে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম,

-আপনার ফেক আইডির লিংক দেন।

সে লিংক পাঠালো। আইডি নেম, এলোন বয় শিহাব! প্রোফাইলে

আরও পড়ুন...

আপনাকে।তিরোধান দিনে।

Anuradha Kunda

আপনাকে কিছু কথা বলার আছে।
এটা সেই সময় যখন "গণশত্রু" পাঁচবার দেখা হয়ে গেছে।কিন্তু খুব কষ্ট হচ্ছে দেখে।হাঁসফাঁস লাগছে।সত্যজিত তখন স্বাস্থ্যজনিত কারনে আউটডোর শুটিং বন্ধ করে দিয়েছেন।বাড়িতে অতিথি আসামাত্র ডাক্তার গৃহিণী বলছেন,"আপনি চা খাবেন তো?"অতিথি তখনও দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। খবরের কাগজের সম্পাদককে আনন্দিত চিত্তে বলছেন,"আমার মেয়ে একটা স্কুলে চাকরি করে।রমেশের সঙ্গে বিয়েটা হয়ে গেলে অবশ্য" চাকরিটা ছেড়ে দেবে।" এতে কারুর কোনো ভাবান্তর দেখা যাচ্ছে না।ডাক্তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করছেন "আচ্ছা তোমার কখনো মন্দির

আরও পড়ুন...

বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম

Anamitra Roy

পর্ব ১: আমরা

ভণিতা করার বিশেষ সময় নেই আজ্ঞে। যা হওয়ার ছিল, হয়ে গেছে আর তারপর যা হওয়ার ছিল সেটাও শুরু হয়ে গেছে। কাজেই সোজা আসল কথায় ঢুকে যাওয়াই ভালো। ভোটের রেজাল্টের দিন সকালে একজন আমাকে বললো "আজ একটু সাবধানে থেকো"। আমি বললাম, "কেন? কেউ আমায় ক্যালাবে বলেছে নাকি"? সে বললো, " না, বলা তো যায় না আজ কে কাকে ক্যালাবে... তাই..."

এইবার কথা হচ্ছে, ফাটা দু'রকমের হয়। এক হলো ভয়ে ফেটে যাওয়া, আর দুই, প্রকৃত অর্থেই ফাটা, অর্থাৎ যখন কিনা চচ্চড় করে শব্দ বেরোয়। প্রথমে আমরা দ্বিতীয় রকমের ফাটার কথা

আরও পড়ুন...

ঔদ্ধত্যের খতিয়ান

Rouhin Banerjee

সবাই বলছেন বাম ভোট রামে গেছে বলেই নাকি বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। হবেও বা - আমি পলিটিক্স বুঝিনা একথাটা অন্ততঃ ২৩শে মের পরে বুঝেছি - যদিও এটা বুঝিনি যে যে বাম ভোট বামেদেরই ২ টোর বেশী আসন দিতে পারেনি, তারা "শিফট" করে রামেদের ১৮টা কিভাবে দিল। সে আর বুঝবও না হয়তো কোনদিনই - কারণ আমরা তো উদ্ধত। আমরা ভুল থেকে শিখি না।

হ্যাঁ আমরা উদ্ধত - কিন্তু মোদির মত উদ্ধত হতে পারলে হয়তো আরেকটু বেশী ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যেতে পারতাম। মমতার মত উদ্ধত হতে পারলে মুখ্যমন্ত্রী। হ্যাঁ আমরা অত্যাচারী - কিন্তু এন আর

আরও পড়ুন...

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর নেওয়া...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

ভারতের নির্বাচনে কে জিতল তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশিরা খুব একটা মাথা না ঘামালেও পারি। আমাদের তেমন কিসছু আসে যায় না আসলে। মোদি সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক বেশ উষ্ণ, অন্য দিকে কংগ্রেস বহু পুরানা বন্ধু আমাদের। কাজেই আমাদের অত চিন্তা না করলেও সমস্যা নেই খুব একটা। তবে যেহেতু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নির্বাচন, তিন দিক দিয়ে পরিবেষ্টিত আমরা যে দেশ দিয়ে তার নির্বাচন নিয়ে কেউ যদি একটু মাথা ঘামায়ও খুব একটা দোষ দেওয়া যাবে না মনে হয়।

এবার আমি একটু মাথা ঘামাই। বিজেপিকে সমর্থন দেওয়া কোন সুস্থ মানুষের

আরও পড়ুন...

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৪

Kallol Lahiri

আম তেল

বিয়ের পরে সবুজ রঙের একটা ট্রেনে করে ইন্দুবালা যখন শিয়ালদহ স্টেশনে নেমেছিলেন তখন তাঁর কাছে ইন্ডিয়া দেশটা নতুন। খুলনার কলাপোতা গ্রামের বাড়ির উঠোনে নিভু নিভু আঁচের সামনে ঠাম্মা, বাবার কাছে শোনা গল্পের সাথে তার ঢের অমিল। এতো বড় স্টেশন আগে কোনদিন দেখেননি ইন্দুবালা। দেখবেনটা কী করে? এই যে প্রথম ট্রেনে উঠলেন তিনি। নামলেনও। মাথার ওপর রাজপ্রাসাদের মতো ছাদ দেখলেন। এতোবড় বাড়ি দেখলেন। এতো লোক। সবাই যেন মাথা নীচু করে সামনের দিকে ছুটছে। কেউ কারো সাথে দু-দন্ড দাঁড়িয়ে একটুও কথা বলছে না। কুশল বিন

আরও পড়ুন...

জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৯

শিবাংশু

আমি যে গান গেয়েছিলেম, মনে রেখো…।

'.... আমাদের সময়কার কথা আলাদা। তখন কে ছিলো? ঐ তো গুণে গুণে চারজন। জর্জ, কণিকা, হেমন্ত, আমি। কম্পিটিশনের কোনও প্রশ্নই নেই। ' (একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা মিত্র)
https://www.youtube.com/watch?v=4vurfNUc77E
বাবার কাছে গল্প শুনেছি। সাতচল্লিশ-আটচল্লিশে সেন্ট পলস কলেজে পড়াকালীন তিনি সেখানে ছাত্রসংগঠনের সাংস্কৃতিক সচিব ছিলেন। সেই সময় ভবানীপুরের দীর্ঘ সুদর্শন ছেলেটি, যে গল্প লেখে ( দেশ পত্রিকাতে ইতোমধ্যে তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়ে গেছে) আর আবাল্য বন্ধু 'গা

আরও পড়ুন...

ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প

Bishan Basu

ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প

বিষাণ বসু



চলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের চিকিৎসার সাথে যুক্ত থেকেছি, তাঁদের কয়েকজনের কথা খুব মনে আছে। ক্যানসার এমনই এক অসুখ, যেখানে জেতার পাশাপাশি হারের সংখ্যা অনেক। আবার, তিনবছরের ছাত্রজীবনে এমন সংখ্যাও কম নয়, যেখানে জয় নাকি পরাজয় ঠিক কোনটা ঘটেছে, সেই খবর পাওয়

আরও পড়ুন...

ঈদ শপিং

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং?

বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।

সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ পর্যন্ত?

বস: এইতো গতকাল আর আজ দিয়ে মাত্র আড়াই লাখের মতো হয়েছে। এখনো যদিও সব‌ই বাকি!

আমি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে আছি। এদিকে আমরা কেউ ঈদ বোনাস পাইনি। বস সবাইকে ডেকে নিয়ে দুঃখী দুঃখী গলায় বলেছেন,

এবারের

আরও পড়ুন...

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

এবড়োখেবড়ো

‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?
যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?
আমি কি ময়না?
যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য


স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে বাঙালি ছিলেন মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। স্বাভাবিক কারণেই সেই সময় অসমিয়া প্রধান সরকারি ভাষা ঘোষিত হলেও সমগ্র অসমে সরকারি স্তরে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে চালু ছিল বাংলা। কিন্তু তার পর শুরু হয় ঠান্ডা মাথায় ছক কষার কাজ। অসমের প্রথ

আরও পড়ুন...

ফেসবুক সেলিব্রিটি

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।"

আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধব সবাই এক‌এক করে ধিক্কার জানিয়ে বলে গেল, তোর জীবনে কি হবে? তোর ভবিষ্যত অন্ধকার!

সমবয়সী কাউকেই তাদের বাবা-মা আমার সাথে মিশতে দেয় না। বলে, ঐ গাধার সাথে মিশলে ওর মতো হয়ে যাবি।

বড়বোনের বাচ্চা হবে। সে একদিন আমাকে কঠিন গলায় বললো, তুই আমার আশেপাশে আসবি না। বাচ্চা পেটে থাকতে মা যার সংস্পর্শে বেশী

আরও পড়ুন...

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

এবড়োখেবড়ো

‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?
যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?
আমি কি ময়না?
যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য


স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে বাঙালি ছিলেন মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। স্বাভাবিক কারণেই সেই সময় অসমিয়া প্রধান সরকারি ভাষা ঘোষিত হলেও সমগ্র অসমে সরকারি স্তরে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে চালু ছিল বাংলা। কিন্তু তার পর শুরু হয় ঠান্ডা মাথায় ছক কষার কাজ। অসমের প্র

আরও পড়ুন...

বিজেপি নির্বাচনে হারলেও অ-ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মূলোচ্ছেদ হবে কি ?

Debasis Bhattacharya

সে ছিল এক দিন আমাদের যৌবনে কলকাতা, যখন, শিক্ষিত ভদ্রজনের এক বড় অংশের মনের ভেতরে লুকোনো সাম্প্রদায়িকতা পোষা থাকত বটে, কিন্তু তাঁরা জানতেন যে সেটা খুব একটা গর্বের বস্তু নয় । সর্বসমক্ষে সে মনোভাব প্রকাশ করতে তাঁরা কিঞ্চিৎ অস্বস্তি বোধ করতেন । ভাল জামাকাপড় পরা শিক্ষিত লোক, তার হাতে জ্যোতিষের আংটি, জামার হাতার তলায় লুকোনো মাদুলি, কথাবার্তার অসতর্ক মুহূর্তে বেরিয়ে পড়া সাম্প্রদায়িকতার ইঙ্গিত, এইসব দেখলেই তাকে নিয়ে আমরা খুব হাসাহাসি করতাম । ওই যে তখন সুমন ‘এমনি আর ওমনির গান’-এর এক পংক্তিতে লিখেছিলেন ---

আরও পড়ুন...

হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান

Saikat Bandyopadhyay

হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান আদতে একই প্রকল্পের অংশ। আজকের সরকারি হিন্দি একটি অর্বাচীন ভাষা, তথাকথিত নব্য হিন্দুত্বের হাত ধরেই তার জন্ম। দেশভাগের আগে একটি-পৃথক-ভাষা হিসেবে হিন্দির কোনো অস্তিত্ব ছিলনা। ১৯৩৮ সালে হরিপুরা কংগ্রেসের ভাষণে সুভাষচন্দ্র বসু অখণ্ড ভারতবর্ষের যোগাযোগরক্ষাকারী হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন 'হিন্দুস্তানি'কে, হিন্দি নয়। হিন্দি বা উর্দু নামের আলাদা কোনো ভাষা সে সময় ছিলনা। শব্দদুটো ছিল, তারা লিপির পার্থক্য বোঝাতে হিন্দুস্তানির প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হত মাত্র। আর এই হিন্দুস্তানি কোন

আরও পড়ুন...

সিঙ্গেল মাদার

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

"লাবণ্য! লাবণ্য!! লাবণ্য!!! আমি মা হতে চলেছি!"

নীরা আপুর কথায় আঁতকে উঠলাম। নীরা আপু আমার ফুপাতো বোন।‌ এখনো বিয়ে হয়নি তার। সেই মেয়ে মা হতে চলেছে আর সেটা এত আনন্দের সাথে বলছে!

আমি ভীতু গলায় বললাম, কি বলো এইসব তুমি! তোমার এখনো বিয়ে হয়নি আর তুমি এই আকাম করে এসেছো! ছিঃ আপু ছিঃ!

নীরা আপু ঠাস করে আমার গালে একটা চড় কসিয়ে দিয়ে বললেন, বাচ্চা হতে বিয়ে হ‌ওয়া লাগে? বাচ্চা হতে যদি বিয়ে হ‌ওয়া লাগতো তাহলে বিয়ের আগে বাচ্চা হ‌ওয়ার সিস্টেম‌ই থাকতো না।‌ এইসব সমাজের অন্ধ কা

আরও পড়ুন...

প্রেম নিয়ে দু’চারটি কথা

Ranajay Banerjee

কয়েকদিন আগে বন্ধুদের মধ্যে প্রেম নিয়ে এক আলোচনায় জন্ম নেয় এ লেখার বীজ। সেই আলোচনায় একটি কথা আমাকে ভাবায়, প্রেম্ মানে সমর্পণ। মনে পড়ে যায় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের এক প্রেমপত্রের কথা – “...আমি বেশ কিছু ভালো জিনিস নিয়ে আসার চেষ্টা করব, যা কিছু সম্ভব আমার পক্ষে আর তারপর তুমি ডাকলেই আমি ছুটে যাব পরের ট্রেন ধরেই, যে অবস্থায় থাকব সেই অবস্থাতেই। কিন্তু এটাকে আমার দুর্বল নম্রতা ভেবো না, আমি নম্র খুব একটা নই। এ আমার গর্বিত সমর্পণ। এভাবে আমি সবার সঙ্গে মিশি না।“

“গর্বিত সমর্পণ”...কি বোঝাতে চেয়েছি

আরও পড়ুন...

রিয়েক্টর

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

মাঝরাতে চিপস খেয়ে জানালা দিয়ে খালি প্যাকেট ফেলতে গিয়ে দেখি গাছতলায় এক ছায়ামূর্তি বসে বসে মাথার চুল ছিঁড়ছে।

স্বাভাবিকভাবেই আমি ভয়ে শিউরে উঠলাম।‌ এত রাতে আমি ছাড়া এই অঞ্চলে আর কারোরই জেগে থাকার কথা না।‌‌ নাইট গার্ডের অলিখিত চাকরিটা শুধুই আমার।

নিজেকে সামলাতে না পেরে আমি চাপা গলায় চিৎকার করে উঠলাম,

কে ওখানে? কে? কে?

-আহ! একবার বললেই তো হয় নাকি? তিনবার কে কে বলে চিল্লানোর দরকারটা কি? কানে কালা নাকি আমি?

গলাটা শুনে কিছুটা ধাতস্থ হলাম। গলাটা আমার

আরও পড়ুন...

আত্মঘাতী আমরা...

Kallol Lahiri

বেশ কিছুদিন আগে একটি খুব জরুরী মিটিং-এ আমার এক সহযোগী একটু দেরী করে আসায় বকেছিলাম। দিনটা ছিল রাম নবমী। সে আমাকে তার দেরী করার কারণে যে ঘটনার কথা বলেছিল আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম শুনে। যাদবপুরের সুলেখার মোড়ে রাম নবমীর বিশাল মিছিল বের করেছিল গেরুয়া শিবির। যাঁরা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন গাড়ি করে বা বাসে করে, পায়ে হেঁটে তাদের সবাইকে জোর করে সেই মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছিল। সহযোগী বলছিলেন, তাদের চেহারা...হুঙ্কার দেখে বোঝার উপায় নেই এরা পশ্চিমবঙ্গের কোন প্রান্তের বাসিন্দা। সে কোন রকমে চিৎকার করে সেখা

আরও পড়ুন...

ভুবনের মাসিগণের কুম্ভীরাশ্রু

Bishan Basu

ভুবনের মাসিগণের কুম্ভীরাশ্রু

বিষাণ বসু


বিদ্যেসাগরের মাথা কাটা গ্যাছে। তাই নিয়ে জোর শোরগোল। আপামর বাঙালীর নাকি মাথা কাটা গ্যাছে। তা বেশ! কথায় বলে, মাথা নেই, তার মাথাব্যথা।

রামকৃষ্ণদেব নাকি ঈশ্বরচন্দ্রকে বলেছিলেন, তুমি তো বাবা এমনিতেই সিদ্ধ। সিদ্ধ হলে কী হয়। নরম হয়। তা, বাবা, তোমার মনটি তো গরীব-দুঃখীর দুখে কাঁদে, এমনই নরম। তুমি যদি সিদ্ধ না হও, তাহলে সিদ্ধপুরুষ কে!!

তা গদাধরবাবুর জানা ছিল না, শুধু সিদ্ধ হয়েই নরম হয় না, মাছ নরম হয় পচলে। এই যে বাঙালী ঝাঁকের

আরও পড়ুন...

সাইকো লেখিকা

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

"নির্দ্বিধায় বলুন, আপনার সমস্যা কি?"

সাইক্রিয়াটিস্টের কথায় নড়েচড়ে বসলাম।‌ কি উত্তর দেবো ভেবে পাচ্ছি না। আমি পাগল ন‌ই। তারপরেও আমার বাড়ির লোক জোর করে ধরে আমাকে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে এসেছে।

আমার দোষ একটাই আমি লেখিকা। নতুন নতুন গল্প লেখা শুরু করেছি। মাথার ভেতর সারাক্ষণ খালি গল্প ঘোরে। ঘুমাতে না পেরে ছটফট করি আর উঠে উঠে গল্প লিখি।

প্রায়‌ই বাড়ির লোককে জোর করে ধরে গল্প পড়ে শোনাই।‌ দেখা যাচ্ছে ভাবী রান্না করছে। আমি ট্যাব নিয়ে ভাবীর সামনে গিয়ে বলি, একটা গল্প

আরও পড়ুন...

লাইনে দাঁড়ান

Tapas Kumar Das

ভোট বুথে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় না। বুথে। বুথ, একটা ঘেরা ঘর, সেখানে। ঘরে একটা যন্ত্র থাকে, যন্ত্রে বোতাম। খুব সাধারন যন্ত্র, গ্ল্যামার নেই, যন্ত্রে মিম বানানো যায়না, কারো বানানো মিম রিগ্রেসিভ না প্রোগ্রেসিভ তা নিয়ে তুমুল আলোচনাও করা যায়না। শুধু যন্ত্রের বোতাম টেপা যায়। টিপে, ক্ষমতাকে উল্টে দেওয়া যায়। মিম বানিয়ে, মিম নিয়ে পলিটিক্যাল কারেক্টনেস সংক্রান্ত আলাপ আলোচনা করে, কমেন্ট লিখে, বানী দিয়ে যা করা যায়না। করতে গেলে বোতাম টিপতে হবে।

বোতাম টিপবেন। বুথে গিয়ে। ফেসবুকে নয়। বুথ, একটা ঘেরা ঘর,

আরও পড়ুন...

বিনয় মজুমদারের একটি কবিতা: শৈলীবিজ্ঞানের আঙ্গিকে নিবিড় পাঠ

কুশান গুপ্ত

('আরেক রকম' পত্রিকার ১৬-২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সংখ্যায় নিবন্ধটি প্রকাশিত)


সন্তপ্ত কুসুম ফুটে পুনরায় ক্ষোভে ঝরে যায়। (১)
দেখে কবিকুল এত ক্লেশ পায়, অথচ হে তরু, (২)
তুমি নিজে নির্বিকার, এই প্রিয় বেদনা বোঝো না। (৩)
কে কোথায় নিভে গেছে তার গুপ্ত কাহিনী জানি না। (৪)
নিজের অন্তর দেখি, কবিতার কোনো পংক্তি আর (৫)
মনে নেই গোধূলিতে ; ভালবাসা অবশিষ্ট নেই। (৬)
অথবা গৃহের থেকে ভুলে বহির্গত কোনো শিশু (৭)
হারিয়ে গিয়েছে পথে

আরও পড়ুন...

এক মুঠো বেল ফুল

Kallol Lahiri

বিজয় কাকুদের বাড়িতে প্রকান্ড একটা জামরুল গাছ ছিল। তার গুঁড়িটা এতো মোটা ছিল যে সেখানে ভর দিয়ে ওঠা দুঃসাধ্য। পাড়ার কেউ কেউ ছিল যারা অনায়াসেই সেই দুঃসাহসের কাজটা করে ফেলতে পারতো। গরমের ছুটি পড়লে আমাদের খেলার জায়গাটা ছিল ওই জামরুল গাছের তলায়। চক্কোত্তিদের পুকুরের পাশে। রাঙার আম গাছের ছায়ায়। কাজেই আমের বোল আসা থেকে শুরু করে জামরুলের প্রথম ফুল, ছোট ছোট সবজেটে কচুরিপানার নীচে তেলাপিয়াদের ঝাঁক এই দেখে গরমের ছুটি দিব্বি কেটে যেত। ভরা কোটাল আর মরা কোটাল উপেক্ষা করে গঙ্গায় ঝাঁপানো চলতে থাকতো নিয়ম মতো। যতক্

আরও পড়ুন...

ব্যবসায়ীর ব‌উ

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

ভার্সিটি পড়ুয়া কাজিন শেলু আপার হঠাৎ করে বিয়ে হয়ে গেছে‌ এক বড়লোক ব্যবসায়ীর সাথে। শেলু আপা ব্যাপক পরিমাণে স্মার্ট একটা মেয়ে। স্টাইলিশ, সুন্দরী,চুল প্রায় কোমর ছুঁইছুঁই। ইন্টার পাশ করতেই না করতেই শখানেক লাভ লেটার ডাস্টবিনে ফেলা হয়ে গেছে। বাড়ির সামনে ছেলেদের লাইন। রোজ‌ই একটা না একটা বিয়ের প্রস্তাব আসে যেগুলো তিনি নিজেই রিজেক্ট করে দেন। তাহলে এতকিছু ছেড়ে পড়ালেখার মাঝখানেই এই ব্যবসায়ীকে বিয়ে করার মানে কি? কারণ জানতে ছুটে গেলাম।

যা জানলাম তা এখনকার জামানায় খুব স্বাভাবিক। ধনকুব

আরও পড়ুন...

ছাব্বিশে বৈশাখ

ন্যাড়া

ঘরে ঢুকে দেখি নীচু হয়ে পায়ের পাতায় কী একটা লাগাচ্ছেন। সামনে হোমিওপ্যাথির বাক্স খোলা। জিগেস কল্লাম, "পায়ে কী হল?"
- আর বোলোনা। কাল জন্মদিন ছিল। এত লোক এসে প্রণাম করেছে যে পায়ের পাতা ছড়ে গেছে। ওষুধ লাগাচ্ছি।
- কেক খেলেন জন্মদিনে?
- কেক? না না। কেক-টেক নয়। বউমা পায়েস করেছিল, তাই একটু খেয়েছি।
- আর কে এল?
- কে এলনা সেটা জিগেস কর।


আমি ইতস্ততঃ করছিলাম। একশ সাতান্ন বছর তো পূর্ণ করলেন, বয়েসে অনেকটাই বড়। কী বলে ডাকব? দাদু? কীরকম যেন চ্যাংড়া চ্যাংড়া শোনায়। গুরুদেব? বললেই গ

আরও পড়ুন...

ইফতারির ঐতিহ্য

Muhammad Sadequzzaman Sharif

রমজানের মাসের ইফতারিকে ঐতিহ্যে পরিণত করেছে পুরান ঢাকা। চারশো বছরের ঢাকা শহরে অনেকের দাবী অনুযায়ী ইফতার বিক্রির ঐতিহ্যও চারশো বছরের মতই। চকবাজার কে ঘিরেই মূলত এই আয়োজন। চকবাজার শাহি মসজিদের জন্ম ১৬৭৬ সালে। অনেকের মতে এর আগে থেকেই এখানে বাজার ছিল।কেউ বলে মসজিদ হওয়ার পর মসজিদের সামনে থেকে ইফতারের বাজার শুরু। তখন নাম ছিল বাদশাহি চকবাজার । পুরান ঢাকার বড় পুরাতন বাজারই হচ্ছে বাদশাহি চকবাজার, রায়সাহেব বাজার ও নাজিরাবাজার। তবে ইফতারির মূল বাজার এখনো চকবাজারই।

আগে ইফতার নাম ছিল না বা মানুষ ইফতার

আরও পড়ুন...

জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৮

শিবাংশু

জর্জ ও রবি :'তোমায় বসাই, এ-হেন ঠাঁই ...’
-----------------------------------------------
''.... সেই বাল্যকালে কবে থেকে গান গাইতে শুরু করলাম তা আমার মনেও নেই-- গান গাইছি-তো-গাইছি-তো-গাইছি। কোনো ওস্তাদ অথবা শিক্ষকের কাছে নাড়া বেঁধে বা রীতিমতো লেখাপড়া শেখার মতো করে গান আমি কখনও শিখিনি। ছোটবেলার দিনগুলি থেকে শুরু করে, বড় হয়েও শুধু গান শুনেছি আর গেয়েছি। কোনো সঙ্গীত-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গান শিখবার সৌভাগ্য আমার অদৃষ্টে কখনও জোটেনি।''
১৯১১ সালে 'রবিবাবুর গান' শোনার সুযোগ যাঁরা পেতেন, তাঁরা আলো

আরও পড়ুন...

নতুন প্রজন্মের জীবনে আধুনিকতা ও উত্তরাধুনিকতার দ্বন্দ্ব

Sumit Roy

জেনারেশনগুলো নিয়ে কয়েকজনের সাথে আলোচনা হচ্ছিল। যাদের বয়স ৩০ বা তার চেয়েও বেশি তাদের জীবনে অতীত বর্তমান জীবনের বিশ্লেষণে এনালগ জীবন ও ডিজিটাল জীবনের কম্পারিজনটাই বেশি আসবে, আধুনিকতা কিভাবে জীবনকে পরিবর্তন করেছে সেসব আসবে। কিন্তু আমার মত যাদের জন্ম ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে বা তারও পরে। তাদের জীবনের এই বিশ্লেষণে এনালগ-ডিজিটাল জীবনের তুলনাটা সেভাবে আসে না, কিন্তু তারপরও আমাদের জীবনে অন্যরকম একটা দ্বন্দ্ব রয়েছে, যার ভেতর দিয়ে আমাদেরকে ছোটবেলা থেকেই যেতে হয়েছে। এই দ্বন্দ্বটাই আমাদের জেনারেশনের লোকেদের জ

আরও পড়ুন...

হাপুস হুপুস

Somnath Chattopadhyay

- খামোখা ঝগড়া করলে। এত রাগ করতে আছে?
- আমি তো ঝগড়া করিনি, বরং একটা ভালো কথা বোঝাতে চেয়েছিলাম।
- ভারি তো বোঝানো হলো, মাঝখান থেকে রাগারাগি করে খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলে
- আমাকে এরকম করতে দেখেছো কখনো?
- তুমি এখন আর সেই ছোটোটি নেই, বড় হচ্ছো, গত মাসে ৯ পুরো করে ১০ এ পা দিয়েছ
- তাতে কি?
- বড় হলে বুঝদার হতে হয়।
- তা তুমি বুঝি খুব বুঝদার?
- বুঝদার বটেই তো, তোমার মত কি খাওয়া ছেড়ে উঠে যাই আমি?
- তা যাওনা, কিন্তু দুপুর বেলা একা একা জানলার ধারে বসে কাপড়ের খুঁটে চোখ মোছো।
-

আরও পড়ুন...

মোটা মাথার বোকা প্রশ্ন (২)

Abhijit Majumder

শুরুতেই বলেছি, আমি অর্থনীতি বুঝি না। তাই কত টাকা কোথায় গেল বুঝতে আমার ভরসা গুগুল। কোন ঋণখেলাপি আমার কত টাকা খেয়ে গেল সেটা গুগুল করতে গিয়ে আরেকটা মজার জিনিষ পেলাম। জানলাম, রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রকের ছোটমন্ত্রী শিবপ্রসাদ শুক্লা গত বছর জুলাই মাসে জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী ভারতবর্ষের ব্যাংকিং সেক্টরে মোট এনপিএ-র পরিমান যা মার্চ ২০১৪তে ছিল আড়াই লক্ষ কোটি, তা ৩১শে মার্চ ২০১৮-তে বেড়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে নয় লক্ষ বাষট্টি হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ভারতের শিক্ষা বাজেটের দশগুন ও

আরও পড়ুন...

ব্যক্তিগত গদ্য ২

Bimochan Bhattacharya

আগেই লিখেছি আজ সারাদিন টিভি দেখেছি৷ ফণী নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম/আছি আমি। একতলায় থাকি। বাড়িতে প্রায় একবছরের নাতনি আছে। এখনো টিভি চলছে ঘরে৷
বেশ কয়েকটি অবজারভেশন শেয়ার করি আপনাদের সাথে৷ আজই করি কারণ আজ ফণী না আসা অবধি জেগে থাকবো৷ থাকতেই হবে। যদি কিছু নাও হয় তবুও হতাশ হবো না। ভাববো বেঁচে গেলাম এ যাত্রা।

প্রথমেই বলি যারাই টি ভি সাংবাদিকতায় আসেন, আমি নিশ্চিত তাদের শেখানো হয় একটা সেন্টেন্সে যত বেশীবার পারবে "কিন্তু" বলবে৷ তাই চ্যানেলে চ্যানেলে "কিন্তু" র বন্যা। অসংখ্য কিন্তু ভেসে বেড়ায় আ

আরও পড়ুন...

জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৭

শিবাংশু

'.... তখন এমনি করেই বাজবে বাঁশি এই নাটে'
https://www.youtube.com/watch?v=WxQ_bsk9PIw
১৯২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পঙ্কজকুমারের যখন বছর বাইশ বয়স, তখন কেউ তাঁকে গার্স্টিন প্লেসে রেডিও কোম্পানির দফতরে নিয়ে যান। বৃহত্তর জনতার কাছে পৌঁছোনোর জন্য ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানির এই মাধ্যমটিই ছিলো একমাত্র উপায়। যদিও পঙ্কজকুমারের নাড়াবাঁধা গুরু ছিলেন দুর্গাদাস বন্দোপাধ্যায়, কিন্তু দিনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিলো। দিনু ঠাকুর ছিলেন সদাশিব প্রকৃতির মানুষ। কেউ ভালোবেসে রবিবাবুর গান শিখতে চাইলে

আরও পড়ুন...

গাঁজাখোর

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

বহু কষ্টে আব্বুর সাথে চয়ন গুন্ডাকে দেখা করতে রাজি করিয়েছি। চয়ন গুন্ডার সাথে আমার দশবছরের প্রেম।‌‌ছোটবেলায় যখন আমি চুলে দুই ঝুঁটি করে বাসার পেছনের গাছতলায় ফুল কুঁড়াতাম চয়ন গুন্ডা সেইসময় বন্ধুবান্ধব নিয়ে সেই গাছতলার এক চিপায় বসে গান্জা টানত। মাঝেমধ্যে আমি ফুল হাতের নাগালে না পেলে সে এসে গাছে ঝাঁকি দিয়ে ফুল ঝরাতো। সেই সূত্রেই আমাদের পরিচয়।

শিশুহৃদয় লজিক বোঝে না। সেই ছোটবেলায়‌ই তাই চোপাভাঙ্গা গান্জাখোর চয়ন গুন্ডাকেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম। পরিবারের বকাবকি, মারধোর কোনো কিছুতে কোনো

আরও পড়ুন...

বাপের বাপ

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

সাতদিন ধরে আব্বুর পেছন পেছন ঘুরছি পঞ্চাশহাজার টাকার জন্য। সামনে ক্রাশের শুভ জন্মদিন। তারজন্য তেলেগু একটা সিনেমা দেখে ইউনিক একটা বার্থডে প্লান করেছি। সেই প্লান এক্সিকিউট করতে‌ অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু আব্বুর টাকা দেয়ার খোঁজ নাই। এদিকে বার্থডে চলে আসছে।

দিনে তিনবেলা আব্বুর সামনে গিয়ে এটা‌ সেটা খোঁচাখুঁচি করি। আব্বুর ঘরের সামনে থেকে রান্নাঘর দেখা যায়। তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বারবার রান্নাঘরে যাই আর পেঁয়াজ মরিচ কাটি। আম্মু একদিন ধমক দিয়ে বললেন, অকারণে এত পেঁয়াজ কাটতেছিস কি জন্য?

আরও পড়ুন...

ধৈর্য্যের পরীক্ষা

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

বাথরুমে বসে বসে টাইলসের ডিজাইন দেখছিলাম,কয়টা টাইলস আছে গোনার চেষ্টা‌ও করেছিলাম তবে মাঝপথে এসে গুলিয়ে যাচ্ছে। আজ ফোন আনিনাই,এজন্য সময় কাটছে না।

হঠাৎ দরজায় ধাক্কা পড়লো। আম্মু ধমক দিয়ে বললেন,এই তুই কতক্ষন লাগাবি? শুভ এসেছে!

আমি একটু চমকে উঠলাম। শুভ আমাদের প্রতিবেশী, আরো একটা পরিচয় হলো আমার ক্রাশের বড়ভাই! আরো একটা পরিচয় হলো আমার ভাইয়ের ক্লোজ ফ্রেন্ড।

মনের মধ্যে লাড্ডু পাকানো শুরু হয়ে গেছে আমার। আমি ভাবতে পারছি না ক্রাশ তার বড়ভাইকে পাঠিয়ে দিয়েছে বিয়ের প্রস্

আরও পড়ুন...

পাখী, বাগান, গেরস্থলী - ২

সুকান্ত ঘোষ

আরো অনেকের মত আমারও গান শুনতে ভালোলাগে। জি টিভিতে প্রতি শনি এবং রবিবার ‘সা রে গা মা পা’ নিয়ম করে দেখি, কোন কারণে মিস হয়ে গেলে রেকর্ডিং। গত রবিবার দেখলাম অঙ্কিতা বলে মেয়েটি কি চমৎকার দেবদাস সিনেমার গান গাইল, অবশ্য প্রায় রোজই ভালো গায় মেয়েটি। তবে সেদিন এতোই ভালো গাইল যে, শান্তনু মৈত্র সেই শ্রেয়া ঘোষালকে সঞ্জয় লীলা বনশালী কি ভাবে টিভি থেকে দেখে গান গাইবার জন্য ডেকেছিল ‘দেবদাস’ সিনেমায়, সেই গল্পটা আরেকবার করল। বলছিল যে, হয়ত অঙ্কিতার গান এমন ভাবেই কোন সঞ্জয় লীলা বনশালী শুনছে বা শুনে ফেলবে কোথাও! বড়

আরও পড়ুন...