Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...
  • অলোক রায় এবং আমাদের নবজাগরণ চর্চা
    সম্প্রতি চলে গেলেন বাংলার সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক অলোক রায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ছয় দশক জুড়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ...
  • দুই ক্রিকেটার
    ক্রিকেট মানেই যুদ্ধু। আর যুদ্ধু বলতে মনে পড়ে ষাটের দশক। এদিকে চীন, ওদিকে পাকিস্তান। কিন্তু মন পড়ে ক্রিকেট মাঠে।১৯৬৬ সাল হবে। পাকিস্তানের গোটা দুয়েক ব্যাটেলিয়ন একা কচুকাটা করে একই সঙ্গে দুটো পরমবীর চক্র পেয়ে কলকাতায় ফিরেছি। সে চক্রদুটো অবশ্য আর নেই। পাড়ার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :

Muhammad Sadequzzaman Sharif

গত ১৪ এপ্রিল তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক পেজে নববর্ষ পালন নিয়ে একটা পোস্ট লিখেছেন। উনার দেশের বাইরে থাকা নিয়ে আহাজারি আছে, থাকাটা খুব স্বাভাবিক। দেশে আসতে না পারার তীব্র বেদনা অনুভব করা যায় উনার প্রায় লেখাই। উনার এই কষ্ট নিয়ে কিছু বলার নাই। আশাবাদ করতে পারি একদিন রাষ্ট্র সকলে জন্য সমান অধিকার দিতে বাধ্য থাকবে এবং দিবে, তিনি দেশে আসবেন। কারো বা কোন গোষ্ঠীর হুমকির মুখে কাওকে জীবন বাঁচানোর জন্য দেশ ত্যাগ করতে হবে না আর।

উনার দেশের জন্য যে কষ্ট তা নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই আসলে। আমি বলতে চাচ্ছি উনি অতি আবেগ দিয়ে লেখা এই লেখাটায় উদ্ভট কিছু কথা বলে ফেলছেন তা নিয়ে। উনি লিখেছেন এরশাদ সরকার বাংলা ক্যালেন্ডার কে মুসলমান বানানোর জন্য, পশ্চিম বঙ্গের সাথে পার্থক্য তৈরির জন্য, আলাদা করার জন্য নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার চালু করেছেন। এইটা একটা ডাহা মিছা কথা। এরশাদ সরকারের নানা দোষ আছে, হাজারটা কারন হয়ত বের করা যাবে এরশাদ কে গালি দেওয়ার জন্য। কিন্তু এরশাদ সরকার বাংলা ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করে দিছে এইটা বললে মিথ্যা হবে। যে ক্যালেন্ডার এরশাদ সরকার অনুমোদন দিয়েছিল তা বহু আগেই বাংলা একাডেমীর পঞ্জিকা সংস্কার কমিটি সরকারের কাছে দিয়ে রেখেছিল অনুমোদনের জন্য।এরশাদ সরকার যদি কোন পাপ করে থাকে তাহলে তা হচ্ছে এই পঞ্জিকার অনুমোদন দেওয়া, আর কিছু না। আগের কোন সরকার করে নাই, এরশাদ করেছিল। কিন্তু পঞ্জিকা সংস্কার করা এরশাদের মাথার কাজ না। বাংলা একাডেমীর পঞ্জিকা সংস্কারের যে কমিটি ছিল তার প্রধান ছিল ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। আর এই সংস্কার কমিটির তৈরি হয় ১৯৬৩ সালে। তসলিমা নাসরিন বলছেন তখন পাকিস্তান সরকারের চাপে পঞ্জিকা সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চাপে পড়ে এমন কাজ করার মানুষ ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ সম্ভবত ছিলেন না। তিনি এই কমিটির প্রধান ছিলেন কারন তিনি মনে করেছেন যে এই পঞ্জিকার সংস্কার করা দরকার।

তবুও যদি মেনে নেই যে পাকিস্তান সরকারে চাপে পড়ে তখন পঞ্জিকা সংস্কার করা হয়েছিল। তাহলে তসলিমা নাসরিনের জ্ঞাতার্থে জানাতে হচ্ছে যে পাকিস্তান সরকার চাপ দিয়ে পঞ্জিকা সংস্কার করারও আগে, ১৯৫২ সালে ভারত সরকার বাংলা পঞ্জিকা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। ভারত সরকার যে কমিটি তৈরি করে তার প্রধান ছিলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহা। তিনি ১৯৫২ সালের নভেম্বর মাসে পঞ্জিকা সংস্কারে দায়িত্ব নেন এবং সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ সালে পঞ্জিকা সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করেন। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমী যখন ড. শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে পঞ্জিকা সংস্কার কমিটি করে, সেই কমিটি ড. সাহার কমিটির যে মূল সুপারিশ তার আদলেই সংস্কার প্রস্তাব করে। বাংলা একাডেমী এরপরে আশির দশকে আবার সংস্কার কমিটি করে পঞ্জিকা সংস্কার করে কিন্তু তা শহিদুল্লাহ কমিটির মূল প্রস্তাব থেকে ভিন্ন কিছু না। ভারত সরকার এরপর আবার আরেকটা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করে। ১৯৮৬ সালে এসপি পাণ্ডে কে প্রধান করে বাংলা পঞ্জিকা সংস্কারের জন্য কমিটি তৈরি করা হয়। এই কমিটিতে জ্যোতিষীদের রাখা হয়। সবাই মিলে নানা যুক্তি তর্কের পরে একটা সংস্কার পদ্ধতি তৈরি করে ১৯৮৮ সালে ভারত সরকারকে দেয়। যা ২০০২ সালে ভারত সরকার গ্রহণ করে। বাংলাদেশে ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ পালন নিয়ে যারা অকারণে মাথা ঘামান তাদের জন্য বলি পাণ্ডে কমিটিতে ড. বিভি রমণ নামে এক জ্যোতিষী এবং দৈবজ্ঞ পঞ্জিকাকারও ছিলেন।এছাড়া পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও ছিলেন। তারা তাদের সুস্পষ্ট মতামত দেন হচ্ছে - ‘The year shall start with the month of vaishkha when the sun enters nirayana mesarasi, which will be 14th April of the Gregorian calendar, এখানে সোজা করেই বলে দেওয়া হয়েছে সব কিছু। রাত ১২ টায় নতুন মাস শুরু নিয়ে আমার নিজের দ্বিধা ছিল। কিন্তু আমি এখন জানি যে নতুন বছর শুরুর জন্য ১২ টায়ই উপযুক্ত সময়।ভারত সরকার গ্রহণ করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার পঞ্জিকার এই সংস্কার গ্রহণ করেনি। একটা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গ্রহণ না করে তারা বাংলা পঞ্জিকাকে যে ভবিষ্যতের জন্য হুমকির মুখে ফেলে দিলেন তা নিয়ে অনেকের মাথা ব্যথা নেই। মোটামুটি ২০ মিনিটের পার্থক্য গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকার। এই ২০ মিনিটের পার্থক্য আগামী ২০০০ বছরে এক মাস দূরে নিয়ে ফেলবি পয়লা বৈশাখকে। কয়েক হাজার বছর পরে হয়ত শীতের দিনে নববর্ষ পালন করতে দেখা যাবে।

বাংলাদেশের যে পঞ্জিকার সংস্কার তা পাণ্ডে কমিটির থেকে খুব একটা আলাদা কিছু না।তাই তারিখ পরিবর্তন করে মুসলমান বানানো হয়েছে বলে যে অপবাদ তা আসলে বাংলাদেশের ঘাড়ে বর্তায় না। ভারত এবং বাংলাদেশের কোন কারন ছাড়াই এমনে এমনেই মনে হয়নি যে সংস্কার করা দরকার পঞ্জিকার। সংস্কার দরকার ছিল বলেই সংস্কার করা হয়েছে। এতে মুসমানিত্ব আরোপের কিছু নাই।

ওপরে যে জ্ঞান ঝাড়লাম তা তসলিমা নাসরিন জানে না এই কথা আমার পক্ষে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তিনি তিনার নিজস্ব রীতিতে চলেন, আমার কিছু বলার নাই। শুধু বলি বাংলা পঞ্জিকাকে কেউ হাজম দিয়ে মুসলমানি করায় নাই। বিজ্ঞান ভিত্তিক করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উচিত বিজ্ঞান ভিত্তিক হওয়া। দুই বাংলায় দুই দিনে নববর্ষ পালনের দায় আমাদের না, পশ্চিমবঙ্গের। শোধরাতে হলে তাদেরই শোধরাতে হবে, শুধরিয়ে আসতে হবে একদিনে নববর্ষ পালন করতে।

উনি ঈদের তারিখের কথা বলছেন। আরেকটা হাস্যকর কথা। ঈদের তারিখ তো সারা বছর ধরে দৌড়াচ্ছে। আজকে ঈদ করবেন গরমে, বিশ বছর পরে করবেন শীতে। তাহলে ওই ক্যালেন্ডারের গপ্প করে লাভ আছে? উনি যদি চান যে বাংলা নববর্ষও ঈদের মত দৌড় পারুক শতাব্দী থেকে শতাব্দী জুড়ে তাহলে ভিন্ন কথা। তাহলে বলতে হয় -
“রোজ কত কী ঘটে যাহা-তাহা --
এমন কেন সত্যি হয় না, আহা।”

বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ উৎযাপন নিয়ে উনি নানা কথা বলেছেন। সত্যই তো, মোল্লাদের আস্ফালন তো আছেই এসবের বিরুদ্ধে। কিন্তু উনি যেভাবে বলছেন যে দেশ এখন ওরাই চালাচ্ছে ব্যাপারটা সম্ভবত তেমন না। মোল্লাদের আস্ফালন আছে কিন্তু এর বিপরীতে সাধারণ মানুষও আছে। এত হুমকি, মুসমানিত্ব চলে যাবে বলে ফতোয়া দেওয়া তাতে কী রাস্তায় কম মানুষ নেমেছে এবার নববর্ষে? বাংলাদেশের প্রতিটা থানা, উপজেলা, জেলায় নববর্ষ পালন হয় ঘটা করে, হাজার হাজার মানুষ নতুন পোশাক পরে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি আনন্দ করছে।আরে আমাদের ওপরে তো বোমা মেরে বন্ধ করার চেষ্টাও করা হয়েছে, তাতেই কী মানুষ নববর্ষ উৎযাপন করা বাদ দিয়েছে?

অবস্থা অত খারাপ হয়ে যায়নি এখনো। ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের কালো থাবা তো পুরো পৃথিবীরই এক সমস্যা। ইউরোপের মত আধুনিক সমাজেও মানুষ নিরাপদ না এদের কারনে। একই ভাবে আমরাও এর শিকার, আমরা আলাদা কিছু না। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে আমরা বরং ভাল করছি। বাংলা নববর্ষ ধীরে ধীরে প্রধান উৎসবে পরিণত হচ্ছে আর তা না দেখে যদি কেউ ভাবে যে কিছু গুটি কয় লোক রমনায় গিয়ে গান গেয়ে আর চারুকলার কিছু ছেলেমেয়ে মঙ্গল শোভা যাত্রা করে নম নম করে নববর্ষ পালন করছে, তাহলে তার জন্য সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই।



518 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Sumit Roy

Re: দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :

হ্যাঁ। ১৪ এপ্রিলকে পহেলা বৈশাখ হিসেবে নির্দিষ্ট করে না দিলে একশো বছরে ২৫টির পরিবর্তে ২৬টি লিপ-ইয়ার বা অধিবর্ষ হয়। আর, চারশো বছরে ১০০টির পরিবর্তে ১০৩টি অধিবর্ষ। শুধু তা-ই নয়, এই নিয়মে চললে চার হাজার বছর পরে পহেলা বৈশাখ হবে জুন মাসে। রবীন্দ্র জয়ন্তী, নজরুল জয়ন্তীর কী দশা হবে ভাবুন।

দিনপঞ্জির হিসাবের ক্ষেত্রে জাতিসত্তা, ধর্মের চেয়ে বরং বিজ্ঞানকে বেশি বিবেচনা করা উচিৎ। হিন্দুরা যদি এখন এসব ভেবে তাদের পঞ্জিকাকে আধুনিক না করে তাহলে কয়েক শত বছর পরে বাধ্য হয়ে এমনিই পরিবর্তন করতে হবে, যদি ঋতু, গ্রহ নক্ষত্রের সাথে তাল মিলিয়ে পূজা করতে হয় আরকি।

এর কারণটা হচ্ছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী দিনপঞ্জি হল নিরয়ণ বর্ষপঞ্জি বা সোলার সাইডেরিয়াল ক্যালেন্ডার। জ্যোর্তিমণ্ডলে তারার, বিশেষ করে জোডিয়াক সাইডেরিয়ালের অবস্থানের প্রেক্ষিতে গণিত, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর প্রকৃত সময়ই নিরয়ণ বর্ষপঞ্জী। অর্থাৎ নিরয়ণ বর্ষপঞ্জীর দৈর্ঘ্য হল ৩৬৫.২৫৬৩৬০২ সৌর দিবস যা ক্রান্তীয় সায়ন বর্ষপঞ্জি থেকে ২০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড দীর্ঘ। আধুনিক গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি হল ক্রান্তীয় বা সায়ন বর্ষপঞ্জি বা সোলার ট্রপিকাল ক্যালেন্ডার। বাংলাদেশে যে বাংলা পঞ্জি সংস্কার করা হয়েছে সেটা এই ক্রান্তীয় বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করেই। সেটাই বেশি কার্যকরী ও যথার্থ।

সব অঞ্চলেই আস্তে আস্তে ট্রপিকাল সোলার ক্যালেন্ডাকে গ্রহণ করছে। বঙ্গাব্দ যে আকরবরের সময়ের ফসলি সনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তা সম্ভবত পারস্যের জালালি ক্যালেন্ডার নামক এক সোলার সাইডেরিয়াল ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছিল। সেই ইরানেও সম্ভবত ১৯২৫ সালে সোলার ট্রপিকাল ক্যালেন্ডার মানতে শুরু করেছে। ভারত বর্ষেই এত দেরি হল এটা করতে কারণ এখানকার ধর্ম, সংস্কৃতি হিন্দু ক্যালেন্ডার নামে সোলার সাইডেরিয়াল ক্যালেন্ডার এর উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। বাংলাদেশ যে এটার পরিবর্তন করে অধিক কার্যকরী ও আধুনিক সোলার ট্রপিকাল ক্যালেন্ডার বানাতে পেরেছে সেজন্য বাংলাদেশকে সাধুবাদ দেয়া উচিৎ, তা না করে এখন অনেককেই দেখি এর মধ্যে হিন্দুয়ানীকরণ-মুসলমানীকরণের মত বিষয়গুলো কোথা থেকে নিয়ে আসে। এই বিষয়ে সকলের মধ্যেই সচেতনতা তৈরি জরুরি।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :

যথার্থ বলেছেন। সাধুবাদ পাওয়ার বদলে আমরা বাংলা সংস্কৃতি ধ্বংস করে দিচ্ছি ধরনের কথা শুনতে হয় আমাদের। আমার হিন্দু বন্ধু বান্ধব কোন মতেই মেনে নিতে পারে না যে ওরা যে পঞ্জিকা অনুসরণ করে তা নির্ভুল না। ওরা জাস্ট ইমান এনে ফেলছে ওই পঞ্জিকার প্রতি। এখন এমন অবস্থা যে ওই পঞ্জিকার বিরুদ্ধে কিছু বললে হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে বলছে এমন ভাবে লোকে!! এই অবস্থার মধ্যে তসলিমা নাসরিনের মত দিন দুনিয়া জানা লোক যদি বলে বসে বাংলাদেশ হাজম দিয়ে ক্যালেন্ডারের মুসলমানি করিয়েছে তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায় একবার ভাবুন! ধন্যবাদ আপনাকে।
Avatar: Du

Re: দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :

কোক এর এসো হে বৈশাখ দিয়ে অ্যাড দেখলাম যেটা বাংলাদেশে দেখানো হচ্ছে । ভালো লাগলো।
Avatar: ব্যোমকেশ

Re: দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :

গুপ্তপ্রেস (সূর্যসিদ্ধান্ত) এবং দৃকসিদ্ধান্ত এই দুটি পঞ্জিকা পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এই দুই পঞ্জিকার মধ্যে কোনটা নিরয়ণ পঞ্জিকা আর কোনটি সায়ণ পঞ্জিকা?

বাংলা নববর্ষ ১৫ই এপ্রিলের বদলে ১৪ই এপ্রিল শুরু হলে কিভাবে অধিবর্ষ সমস্যার সমাধান হবে এ ব্যাপারে একটি বিস্তারিত আলোচনা হলে ভাল হত।
Avatar: b

Re: দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :

অধিবর্ষ নয়। ওটার সমাধান আছে। ফাল্গুন মাস দিয়ে অ্যাডজাস্ট হয়।
সোলার সিডেরিয়াল ক্যালেন্ডার হল নক্ষত্রের পরিপ্রেক্ষিতে দিন গোণা। যেমন অমুক নক্ষত্র আকাশের অমুক জায়গায় অমুক সময়ে দেখা দিলে সেদিন পয়লা বৈশাখ। আর সোলার ট্রপিকাল ক্যালেন্ডার হল সূর্যের নড়াচড়ার উপরে ভিত্তি করে।অর্থাৎ অমুক দিনে দুপুর বারোটায় সূর্য্য যদি পৃথিবীর অমুক জায়গায় কোনো ছায়া না দেয় তবে সেটা পয়লা বৈশাখ। অমুক জায়গাটা সেক্ষেত্রে কর্কটক্রান্তি আর মকরক্রান্তির মধ্যে হতে হবে।
দুটো ক্যালেন্ডারের মধ্যে তাই সময়ের অল্প ফাঁক থেকে যায়। সেক্ষেত্রে, ১০০/২০০ বছর পরে গ্রেগরিয়ান আর বাঙলা ক্যালেন্ডারের মধ্যে বড় ফাঁক দেখা দেবে। বাংলাদেশে ১৯৮৭ সালে এই ক্যালেন্ডার ট্রপিকাল করে ফেলা হয়, যার ফলে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল ১লা বৈশাখ হবে।

তবে সুমিতের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার (বা ট্রপিকাল ক্যালেন্ডার)বেশি বৈজ্ঞানিক, এটা বুঝতে পারলাম না। একটু বিশদে ব্যাখ্যা করুন।
Avatar: Sumit Roy

Re: দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :

বৈজ্ঞানিক বললে ভুল লিখেছি, সোলার ট্রপিকাল অধিক কার্যকরী সেটা বলতে চেয়েছিলাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন