ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

করবেটের ইন্ডিয়া

ন্যাড়া

ছেলেবেলার কোন ইচ্ছে বড়বেলায় পূর্ণ হলে অনেক সময়েই তার স্বাদ খুব মুখরোচক হয়না। ছেলেবেলা থেকে ক্যাভিয়ারের নাম শুনে বড়বেলায় বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে যখন খেতে পেলাম, তখন মনে হল, "এ বাবা, এই ক্যাভিয়ার!" সবারই বোধহয় এরকম কোন-না-কোন অভিজ্ঞতা আছে। আকাঙ্খা আর পরিপূর্ণতার তফাত যোজনখানেক। এর উল্টো অভিজ্ঞতা বরং কম হয়। মানে যেখানে অভিজ্ঞতা আকাঙ্খাকে শুধু মিটিয়েছে তাইই নয়, তার ওপরে কিছু ফাউও দিয়েছে। এরকম একটা উল্টো অভিজ্ঞতা আমার জিম করবেট পড়া।


ছেলেবেলায় বাড়িতে সত্যজিতের বহু-আলোচিত প্রচ্ছদওলা 'কুমায়নের মানুষখেকো বাঘ" ছিল। মহাশ্বেতা দেবীর অনুবাদ। কিন্তু যখন পড়ার মতন মন হল, সে বই বাড়ি থেকে উধাও হয়েছে। পরের দীর্ঘ সময়ে মনে হয়েছে জিম করবেট পড়তে হবে, কিন্তু জোগাড় আর করে ওঠা হয়নি। হায়ার সেকেন্ডারিতে পাঠ্যে অবশ্য "কুঁয়ার সিং" নামের একটা মাঝারি পিস ছিল। ব্যস, আমার করবেট ফিরিস্তি কমপ্লিট। তিন বছরের জন্যে দেশে ফিরেছিলাম যখন, তখন আমার চল্লিশ পেরিয়েছে, ফ্লিপকার্টে দেখলাম দু-খন্ডে জিম করবেট অমনিবাস পাওয়া যাচ্ছে। অক্সফোর্ডের পাবলিকেশন। কিনে ফেললাম। কী যে আনন্দ করে পড়েছিলাম সে আর কী বলব। কৈশোরে রাতজেগে ব্যোমকেশ বা অরিজিনাল হোমস পড়ার মতন উত্তেজনায়। গেল ন বছরে এ দুই বইয়ের এ' মাথা ও' মাথা পড়েছি তিনবার। আর খামচে খামচে অসংখ্যবার। কী অসম্ভব ভাল লেখা, যারা মূল ইংরিজি না পড়েছেন তারা বুঝবেন না।


করবেটের শিকার কাহিনী তো শিকার কাহিনী নয়, জঙ্গলের ভালবাসার গল্প। কুমায়ুনের ল্যান্ডস্কেপ, শুঁড়িপথ, গাছগাছালি, পশুপাখী যেন চোখে দেখা যায়, ঝোরার শব্দ কানে শোনা যায়। প্রকৃতির প্রতি কী পরম মমতা, ছত্রে ছত্রে তার অনুভব। অথচ কোথাও সোচ্চারে বলা নেই, "এই দেখ, আমি কীরকম প্রকৃতিপ্রেমী!"


দু' খন্ডের খানছয়েক বইয়ের মধ্যে যদি একটা বই বাছতে হয়, তাহলে খুবই সমস্যায় পড়তে হবে। অনেক ভেবেচিন্তে, নোখ-টোখ খুঁটে শেষ পর্যন্ত আমি হয়ত বাছব ওনার "মাই ইন্ডিয়া" বইটা। শিকারের গল্প নয়, মানুষের গল্প। দুখিনী ভারতের গরীব মানুষের গল্প। তার মধ্যে বিশেষ করে আমার প্রিয় 'লয়্যালটি' নামের গল্প।


একুশ বছরের ছোকরা করবেট গেলেন পাটনার কাছে মোকামা ঘাটে রেলের কুলি চরনোর কাজ নিয়ে। চাকরি নয়। ফুরনের কাজ, মানে কনট্র্যাক্ট। অল্পদিনের মধ্যে বারোজন সর্দারের অধীনে প্রায় পৌনে দুশোজনের কর্মীদল তৈরিও করে ফেললেন। কাজ শুরু করে অচিরেই প্রচুর সাফল্য। কিন্তু গোলমাল বাঁধল অন্যত্র। তিনমাস হতে চলল, অথচ রেলওয়ের ব্যুরোক্রেসির চক্করে হেডঅফিস থেকে টাকা আর আসে না। করবেটের সামান্য সঞ্চয় ফুরিয়ে গেছে। টাকা না পেয়েও কুলিরা উদয়াস্ত কাজ করে যাচ্ছে। কুলিদের থেকেও বেশি কাজ করছেন করবেট। দিনে চার ঘন্টার বেশি ঘুমোতে পারেন না। এমনই এক সময়ে, এক দিন, এপ্রিলের গরমে, আঁধিতে সারাদিনের অমানুষিক পরিশ্রমের পরে সন্ধ্যেবেলা দিনের প্রথম খাওয়া খেতে বসেছেন করবেট। ভৃত্য খাবার সাজাচ্ছে, এমন সময়ে মিছিল করে করবেটের ঘরে ঢুকে এল বারোজন সর্দার। সাহেব খেতে বসেছে দেখে ভারতীয় সৌজন্যে (আমার নয়, করবেটের কথা) তারা ঘর থেকে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে লাগল, সাহেবের খাওয়া কখন শেষ হয়। করবেট খেতে খেতে শুনছেন বাইরে সর্দারদের সঙ্গে তাঁর ভৃত্যর কথোপকথন -


সর্দার । সাহেবের সামনে থালায় কী খাবার দিলে?
ভৃত্য । একটা চাপাটি আর অল্প ডাল।
সর্দার । শুধু একটা চাপাটি আর অল্প ডাল কেন?
ভৃত্য । আর খাবার কেনার পয়সা নেই।
সর্দার । সাহেব আর কী খায়?
ভৃত্য । আর কিছু নয়।


তারপরে নৈঃশব্দ। কিছুক্ষণ পরে বয়োজ্যেষ্ঠ সর্দারের গলা পাওয়া গেল। অন্য সর্দারদের বলছে, "তোমরা ঘরে যাও। আমি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছি।" করবেটের খাওয়া শেষ হলে সর্দার ঘরে ঢোকে। বলে, "সাহেব, আমরা বলতে এসেছিলাম এই ভুখা শরীরে আর কাজ করা যাচ্ছে না। কাল থেকে কাজ বন্ধ। কিন্তু এসে দেখলাম তোমার অবস্থাও আমাদেরই মতন। তাই কাজ আমরা থামাব না। শরীর যতক্ষণ দেবে, কাজ করে যাব। তুমি খালি দেখ মজুরির ব্যবস্থা করতে পার কিনা।"


সেই রাতেই করবেট গেলেন টেলিগ্রাফ অফিসে। গোরখপুরের হেড অফিসে তার করলেন যে পয়সা না পেলে আগামীকাল দুপুর থেকে কাজ বন্ধ। পরেরদিনই খবর এল, টাকা আসছে। আর তারও পরেরদিন পুলিশ পাহারায় এসে পৌঁছল বারো হাজার টাকা - কুলিদের মজুরী আর সাড়ে চারশো টাকা, করবেটের দক্ষিণা। করবেট এই বলে লেখা শেষ করছেন -


কাজেই আসুক বা আনন্দ করতে, ভারতে আগমনকারীদের কেউই কখ্নও সত্যিকারের ভারতবাসীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়না - যে ভারতবাসীর বিশ্বস্ততা আর একনিষ্ঠতার ওপর ভর করে মাত্র গুটিকয়েক মানুষের পক্ষে এই লাখ-লাখ মানুষের উপমহাদেশ শাসন করা সম্ভব হয়েছিল। সেটা প্রশাসনের পক্ষে হিতকর হয়েছিল না যে ভারতীয়দের সঙ্গে আমি পাঠকদের পরিচয় করালাম, তাদের পক্ষে, তা' নির্ণয় করার ভার আমি পক্ষপাতশূন্য ঐতিহাসিকদের হাতেই ছেড়ে দিলাম।


(Those who visit India for pleasure or profit never come in contact with the real Indian - the Indian whose loyalty and devotion alone made it possible for a handful of men to administer, for close on two hundred years, a vast subcontinent with its teeming millions. To impartial historians I will leave the task of recording whether or not that administration was beneficial to those to whom I have introduced you, the poor of my India.)

1162 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36
Avatar: de

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

আমি সব করবেট বাংলা অনুবাদে পড়েছি - গত বছর বইমেলায় অক্সফোর্ড থেকে একটা করবেট অমনিবাস কিনেছিলাম, ইংরাজীতে। সেটাকে ধুলো ঝেড়ে বুকর‌্যাক থেকে নামিয়ে পড়তে শুরু করেছি। কিন্তু তাতে এই "মাই ইন্ডিয়া" টা নেই। এটা কি আসল করবেট অমনিবাস নয়?
Avatar: :)

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

করবেটের লেখায় প্রথম 'হ্যাপি হান্টিং গ্রাউন্ড' শব্দটা পাই। :)

৯২-৯৩ সালে যখন পড়েছি ঠিক সেসময়তেই একদিন ক্রিকেট খেলার ধারাবিবরনীতে শুনছিলাম ওনার নামটা ভুলে গেছি টেকো এক অস্ট্রেলিয়ান শারজাহর মাঠের ওয়াসিম আকরামের বোলিং সম্বন্ধে বলছিলেন 'ইটস অলওয়েজ হ্যাজবিন হিজ হ্যাপি হান্টিং গ্রাউন্ড' আর আমি ভাবলাম করবেটের বই পড়েই বলছে বুঝি!

অনেক পড়ে জেনেছি হ্যাপি হান্টিং গ্রাউন্ড আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের আফটারলাইফ কনসেপ্ট। Lakota people believe that after death, the spirit of the deceased person goes to the happy hunting ground. This belief corresponds with the general Sioux belief that everything has a spirit; including trees, rocks, rivers and almost every natural entity. This therefore leads to the existence of an afterlife. The Indian tribes had many spiritual dances such as the sun dance and the ghost dance, which directly refers to the spirits of the dead returning to life.

এনিওয়েল কেনেথ এন্ডারসনের লেখাও ভালো (১৯১০-১৯৭৫) লাস্ট অভ দোজ গ্রেট হান্টারস। অনলাইনে চোখ বুলিয়ে দেখতে পারেন।



Avatar: দ

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

দে মনে হয় সেকেন্ড পার্ট কেনো নি। সেকেন্ড পার্টে মাই ইন্ডিয়া, জাঙ্গল লোর এইগুলো আছে

https://www.amazon.in/Second-Jim-Corbett-Omnibus-Jungle/dp/019562968X/
ref=sr_1_2?keywords=Jim+corbett+omnibus&qid=1555570946&s=gatew
ay&sr=8-2


Avatar: b

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

অ্যান্ডরসন পড়েছি। পড়ে মনে হয়েছে, উনি শুধুই হান্টার। কিন্তু করবেট, শিকারি নন, তার ওপরে আরো এক ফোর্থ ডাইমেনশন আছে।
(বলতে পারেন আপনি মশায় করবেটের ওপরে বেশি বায়াসড। তা এক রকম বটি)।
Avatar: aranya

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

সৈকতের পোস্টগুলো ভাল লাগছে, অন্যদের মন্তব্য-ও
Avatar: aranya

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

বুদ্ধদেব গুহ তেমন ক্ষমতাশালী লেখক তো নন, প্রচুর পুনরাবৃত্তি, হামবড়া ভাব - এ সব দোষ আছে।
তবে ভারতের জঙ্গল, পশু পাখি, গাছ পালা, জঙ্গলের বাসিন্দা আদিবাসী গ্রামীণ মানুষ - এ সবের প্রতি অগাধ ভাল বাসা দেখেছি তার লেখায়। বু গু মানেই শুধু চানঘরে গান নয়, 'অন্য শিকার', ;বাজা তোরা রাজা যায়', ঋজু-দার প্রথম দিকের লেখাগুলো, উড়িষ্যার সাতকোশিয়া গন্ডের চারপাশের জঙ্গল, সেখানকার মানুষজন নিয়ে কিছু লেখা - অল্প বয়সী অনেক ছেলেমেয়ে অরণ্য-কে ভালবাসতে শিখেছিল তার লেখা পড়ে -সেটা কিছু কম অর্জন নয়
Avatar: aranya

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

বস্তুত বাংলায় জঙ্গল নিয়ে লিখলই বা কে, প্রবাদপ্রতিম বিভূতিভূষণ-এর পর একমাত্র বুদ্ধ দেব গুহ। আর কিছুটা শিবশংকর মিত্র
Avatar: ন্যাড়া

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

অরণ্যর সঙ্গে বুগু নিয়ে একমত হলাম। হামবড়া একটু ছেঁকে নিলে বুগু পড়তে আমার দারুণ লাগে। আমাদের মতন ৯৯%-দের একটু ক্ষেমাঘেন্না করে নিন। ঋজুদা তো ক্লাসিক। বাংলা কিশোর সাহিত্যে এত দাদার মধ্যে একদম ইউনিক।
Avatar: র২হ

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

আমার অন্যতম প্রিয় একটা উপন্যাস ঋভুর শ্রাবণ। সেটা এখানে প্রাসঙ্গিক নয় যদিও, বুগুর কথা হচ্ছে বলে মনে পড়ে গেল।
Avatar: Atoz

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

নারায়ণ সান্যালও কিছু কিছু লিখেছেন অরণ্য নিয়ে, প্রধানতঃ দন্ডকারণ্যের আদিবাসীদের নিয়ে। দন্ডক শবরী, অরণ্য দন্ডক ।
Avatar: সৈকত

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

b কে, দেরীতে=

হ্যাঁ, কিপলিঙ প্রিভিলেজড তো বটেই। তা না হলে, সিমলার সামার ক্যাপিটাল সমাজে প্রবেশ পাওয়া, নাট্ক ইত্যাদি করা, সেসব ঘটেনা। যদিও কম বয়স থেকেই লেখালেখির জন্য শ্রম কম করেননি ! পরবর্তীতে, ভারত থেকে চলে গিয়ে বিলেত-আমেরিকা ভ্রমণ, রাজনৈতিক মতামত ইত্যাদি নিয়ে সম্পূর্ণ অন্য জীবন। তো এই সব নিয়েই কনফ্লিক্টটা, যেটা থাকবেই একজন লেখকের ক্ষেত্রে, অন্তত প্রবল রক্ষণশীল না হলে।

আর প্রিভিলেজড শব্দটা পড়ে ইদানীংকালে হাতে আসা দুটো শিকার কাহিনীর বইয়ের কথা মনে হল। একটা বই, প্রমথ চৌধুরীর দাদা, পাবনার জমিদার বংশের সন্তান কুমুদনাথ চৌধুরীর শিকার কাহিনীর সংকলন আর অন্যটি মিসেস বেইলী নামে এক আইরিশ মহিলার লেখা শিকার অভিজ্ঞ্তা - বিবাহসূত্রে যার ভারতে থাকা, মোটামুটি ঐ সময়েই, এবং মেয়ে হিসেবে সরাসরি শিকারের সাথে যুক্ত থাকার কারণে বইটির অন্য একটু মূল্য আছে। তো এই দুটো বই ছুঁয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে এখানে।


Avatar: সৌমিত্র

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

"বস্তুত বাংলায় জঙ্গল নিয়ে লিখলই বা কে, প্রবাদপ্রতিম বিভূতিভূষণ-এর পর একমাত্র বুদ্ধ দেব গুহ। আর কিছুটা শিবশংকর মিত্র"
- 'বনের খবর', প্রমদারঞ্জন রায় চৌধুরী, লীলা মজুমদারের পিতৃদেব। অতীব সুখপাঠ্য।
Avatar: de

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

কিনে নিলাম, থ্যাংকু, দমদিকে -
Avatar: anag

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

সে কি - করবেট সাহেবের লেখা এতো জন পড়েননি দেখে অবাক হলাম। আমার তো করুণা প্রকাশনীর এডিশন থেকে অক্সফোর্ড সব ভাল লাগে। একটা ছবি ওয়ালা এডিশনও আছে। এখানে দেওয়া মাই ইন্ডিয়ার পার্টটা খুবই বিখ্যাত - আর ওটা বইতে পড়তে আরো ভাল লাগে। জাভো আমি কয়েক বছর আগে কিনেছি - ফ্লিপকার্ট থেকে। সবাই কিনে ফেলুন।
Avatar: কতজন

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

কতজন পড়েনি? সকলেই তো প্রায় পড়েছে বলে লিখেছে
Avatar: b

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

মার্টিন বুথের কারপেট সাহিব (Carpet Sahib: A Life of Jim Corbett )কিনে পড়ে ফেলুন চট করে। অমনিবাসের বাইরের করবেট সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এ জেবনে একটা সাধ আছে। কোনোদিন যদি কেনিয়া যাওয়া হয়, তবে ন্যিয়েরিতে গিয়ে জিম করবেটের সমাধি দর্শন। তীর্থদর্শন বললেও অপলাপ হয় না।
Avatar: ন্যাড়া

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

পুরনো কপি একটা অর্ডার দিয়ে দিলাম b-সাহেবের কথা শুনে।

কদিন আগে অডিবলে রানীমা এলিজাবেথের একটা বায়ো শুনছিলাম। আবছা মনে পড়ে গেল ওনার হঠাৎ রানী হবার ঘটনাটা কারপেট সাহেব লিখেছিলেন কিনিয়ায় বসে।
Avatar: dc

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

করবেট অমনিবাস মেয়েকে কিনে দিয়েছি, মেয়েরও খুব পছন্দ। মাঝে মাঝেই দেখি বই দুটো পড়ে। b কে ধন্যবাদ, এই বইটাও কিনে দুজনে মিলে পড়বো।
Avatar: Atoz

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

ওই যে গাছবাড়িতে যখন মই দিয়ে উঠলেন তখনও রাণী নন, রাণী হবার খবর ওখানে গেল, গাছ থেকে যখন নামলেন তখন রাণী হয়ে নামলেন? ---এই ঘটনার কাহিনিটা?
Avatar: সম্বিৎ

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

হ্যাঁ, ওই কাহিনীই।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন