সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...
  • কাশ্মীরের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসঃ ১৯৩০ থেকে ১৯৯০
    ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্ত যায় ১৯৪৭ এ। মূল ভারত ভূখন্ড ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু ভুখন্ডের ভাগবাঁটোয়ারা সংক্রান্ত আলোচনচক্র ওতটাও সরল ছিল না। মূল দুই ভূখণ্ড ছাড়াও তখন আরও ৫৬২ টি করদরাজ্য ছিল। এগুলোতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আহারে আগরতলা

শক্তি দত্তরায় করভৌমিক

ফেসবুকে শুরু করা লেখাটা কয়েকটা পোস্ট একত্রে করে অল্পসল্প পাল্টে এখানে শুরু করি।
~~~
নন্দিতার বন্ধু টন্ধু সহ দোকানে খাওয়ার ছবি দেখেই লিখতে ইচ্ছেটা হোলো, আমার বোন কুটন ও মাঝে মধ্যে এরকম ছবি দেয়। কয়েক দশক আগেও eating out ব্যাপারটাই খুব gender biased ছিলো। ছেলেরা দল বেঁধে কি একা চায়ের দোকানে রেস্টুরেন্টে হইহই করে খাচ্ছে কুছ পরোয়া নেই। সদ্য মেটার্নিটি লীভ কাটিয়ে আসা মা, পেটে আকাশ পাতাল খিদের জ্বালা চেপে অঙ্ক বাংলা পড়াচ্ছে, ফাইল ওঠাচ্ছে, তাতে কি। আমার খুব শখ ছিলো ছেলেদের মতো চায়ের দোকানে বসে কাব্য করি আর তুমুল তর্ক করি। কাব্য আর করলাম কই। তর্ক করতে ছাড়িনি তবে সেটা মশারির তলায়। শহরতলির একটা স্কুলে কাজ করতে গিয়ে দেখি, প্রায় স্কুলের উঠোনে জনৈক গোপালদার মিষ্টির দোকান। স্কুলের ভেতর দিয়েই যাওয়া যায়। প্রথমত দুচারজন সিনিয়র কলিগ সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। সিঙারা রসগোল্লা খেতাম। হীরাদি বলতেন, খাও শক্তি, যা ভাল্লাগে খাও, যা নেবে অঙ্গে তাই যাবে সঙ্গে। সেই শুরু হোল মোটা হওয়া। ননদ আর তার দাদা দুঃখ করেন, চুলটা ও রাখলো না ফিগারটাও গেল। তাদের কথা কান দিইনি বিশেষ। তবে গায়ে লাগলো এক অতি ফাঁকিবাজ স্বঘোষিত শিক্ষক মোড়ল একদিন দোকানে আমাদের ঢুকতে দেখে মন্তব্য করলেন, মাইফেল এবার জমবে। হ্যাঁ মাইফেল শব্দটাই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। এখন হলে দেখিয়ে দিতাম মজা। তখন বোকা ছিলাম। রাগ গিলে নিয়েছিলাম। সে পাঁচালি এখন থাক। মেয়দের খিদে পেলে খিদে রাগ হলে রাগ হজম করারই নিয়ম ছিলো তো।

একদিন গেছি দূরদর্শনকেন্দ্রে, একটা পোগ্রাম ছিলো। মেকআপ, পোশাক এসব নিয়ে একটু আলোচনা। একার অনুষ্ঠান, এমন আর কি। তখন কেন্দ্র অধিকর্তা বিভাস পাল। দেখলাম খুব উৎসাহী হয়ে আগরতলার বিখ্যাত মিষ্টি ক্ষীরতোয়া নিয়ে একটা অনুষ্ঠান করবেন বলে তোড়জোর করেছেন। রসোমালাই অনেকটা ক্ষীরতোয়ার তুতোভাই কিন্তু ক্ষীরতোয়ার ধারে কাছে যেতে পারে না। রাজার আমলে নামকরা মিষ্টি তৈরি করার কারিগর ছিলেন চণ্ডী হাওলাই। দোকানটি ছিল জয়নগর যেতে অফিসলেনের মুখে। চণ্ডী হাওলাই তখন ছিলেন কিনা জানিনা। কুঁড়েঘরের দোকানে ভীড় লেগেই থাকতো দেখেছি ছোট বেলায়। তখনকার আগরতলায় বাইরের খাবার বলতে মিষ্টিই। কেউ বেড়াতে এলে, মোটামুটি পল্টুদার মতো যারা রোজ আসে তাদের চায়ের সঙ্গে তিনটে ব্রিটানিয়া বিস্কুট কি ঘি দিয়ে ভাজা ফোলানো চিঁড়ে এসব, যারা মাঝে মাঝে আসে তাদের তিনটে মিষ্টি আর সিঙাড়া, আর জামাই পদমর্যাদার কেউ হলে ঘি চুপচুপে বেশি বেশি কিসমিস এলাচ দিয়ে সুজি, সুগোল ফুলকো লুচি সঙ্গে মিষ্টি। মিষ্টির কথা বলতে তো হবেই, মিষ্টি করেই বলবো তার আগে বলি, সন্ধ্যাবেলা, এই সাড়েসাতটা নাগাদ তখনকার জনবিরল হরিগঙ্গা বসাক রোডে আমার মাতামহের বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁকে যেতো পটেটো ফাউল চ--প। তখনও চিকেন বোধহয় বলতো না। ফাউল কারি ফাউল চপ। দাদু বেঁচে থাকতে নিষিদ্ধ মাংস ঢুকতো না বাড়িতে। আমার সাহসিকা ন'মাসি লুকিয়ে বারবাড়ির ঘর অর্থাত্ বৈঠকখানা ঘরে আমাদের ফাউল চপ খাইতেছিলেন। সেই নিষিদ্ধ স্বাদের তুলনা আর পাইনি। এখন যেন চপ খাওয়া উঠেই গেছে। কোলকাতার আলুর চপ, মোচার চপ হরেক ভেজিটেবল্ চপ আগরতলায় অমিল। তা বলছিলাম না, মেয়েদের খিদের কথা। আগরতলায় কবে থেকেই মেয়ে বৌরা অফিসে কাজ করতে শুরু করেছে। এই যেমন আমার বাচ্চুমাসি। কাজের লোক না এলে এমন কি এলেও সবাই কে স্বামী, দেওর বাচ্চাকাচ্চাকে মাছের ঝোল ভাত খাইয়ে নিজে ধনেপাতা বাটা কি আলুসেদ্ধ মেখে একমুঠো খেয়ে সেক্রেটেরিয়েটে আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্ব সামলাতে বসতেন। তখন নাকি একদম ছেলেদের মতোই খিদে পেতো। কী অন্যায়। ক্যান্টিনের পিন্টু নাকি পোস্ট অফিস চৌমুনীর মন্টুর চপ গাড়ির অনুকরণে তৈরি তুলনাহীন ডিমটুস (টোস্ট) গরম গরম চা এর সঙ্গে পরিবেশন করে পিত্তি রক্ষা করাতো। মাঝে মধ্যে স্ফুলিঙ্গ চৌমুনীর ডালপুরী ক্যান্টিনে আনলে বাচ্চুমাসি আমাদের জন্য আনতো। আগরতলার এমোড়ে ওমোড়ে পাওয়া যায় তুলনাহীন ঘিচূড়ের মোয়া। ঘিয়ে ভাজা চিঁড়ের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি মোয়া না খেলে রাজা হও মন্ত্রী হও রাণী হও জীবন বৃথা।

মিষ্টির কথা যদি বলেন, চণ্ডী হাওলাই, অবলা এনাদের পরে নীলিপ মনে করিয়ে দিয়েছে মোটরস্ট্যান্ডের পুরোনো দোকান জাতীয় মিষ্টান্ন ভাণ্ডার আর মাতৃভাণ্ডারের ফুলকপির সিঙাড়ার কথা।হলদিরাম মার্কা কড়কড়ে খোলের ভেতরে আলু দিয়ে যে অখাদ্য বস্তু সামোসা, সামুচা এসব নাম সিঙাড়া পদবী নিয়েছে তাদের মাতৃভাণ্ডারের সিঙাড়ার জ্ঞাতি ভাবলে ভুল না বোকামি হবে। মোলায়েম ময়ান দেয়া একটু পুরু খোল ভেতরে শীতের ফুলকপি আলু নারকেল কুচি আর কিসমিস দেয়া পোস্ত ছিটোনো আদা গোলমরিচের ঝাঁঝালো তরকারি। শীতের সন্ধ্যায় মাতৃভাণ্ডারের গরম সিঙাড়া আর ছোটমাসির হাতের হালকা লিকারে কনডেনস্ড মিল্কের চা যে একবার খেয়েছে তার মানবজন্ম ধন্য। জাতীয় মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের বড় বড় মালাইকারি, আপেল মিষ্টি, ছানার জিলিপি আগরতলায় বলে আমিত্তি জানি না এখনো হয় কি না। জাতীয় মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ই বোধহয় আগরতলায় মিষ্টিতে প্রথম কৃত্রিম সুগন্ধ ব্যবহার শুরু করেন। চমক ছিল তাঁদের মিষ্টিতে। শঙ্খের জন্মের পর তার বাবা জাতীয় মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ফ্লেভার্ড মিষ্টি প্রচুর পরিমাণে হসপিটালে বিতরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমার মিঠুমাসির আনন্দ আর ধরে না। মিষ্টির কথা অনেক আছে, যতই বলি শেষ কি আর হবে? আগরতলার ক্ষীরতোয়ার যেমন খ্যাতি আছে তার চেয়ে বেশি বিখ্যাত ছানার পায়েস। এরকমটা ভূভারতে হয় না। বেনারসের রাবড়ী খেতে হলে যেতে হবে বেনারসের রাজবাড়ির ধারের ঝোপড়িতে তেমনি ছানার পায়েস সেরাটি পেতে চাইলে যেতে হবে গাবর্দি। আশিস তো মফস্বল থেকে বোঝা বয়ে কিছু আনতে চাইতেন না তবে গাবর্দির ছানার পায়েস আনবেনই এবং সোনামুড়ার সন্দেশ ও আনা চাইই। চৈত্র সেল এক বিরাট কেনাকাটার উত্সব। গ্রামের গরিব বৌ অভিমানে আত্মহত্যা করে ফেলে চাষী বর রিডাকশনের বাজারে মনোমতো শাড়ি কিনে না দিলে। আমরাও কামান চৌমুনীর ভীড়ভীড়াক্কার সেলের বাজারে উল্টোপাল্টা কেনাকাটা সেরে ঘামতে ঘামতে ঢুকতাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে। দেহ মন ঠাণ্ডা মাঠার সরবত আর কলাই ডালের বিশালাকৃতি অমৃতি দিয়ে রসনা তৃপ্তি। হাজার হোক আগরতলা আমার মামার বাড়ির দেশ। ফুটপাথের পসারী থেকে রাজবাড়ির অন্দরে অবধি কতো মামা মাসি। আব্দার সবার কাছে। সমাদরও। শঙ্খ বোর্ডের পরীক্ষায় পাশ করেছে, আখাউড়া রোডের মহাদেব মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে একটু মিষ্টি কিনে নিয়ে যাবো বলে ঢুকেছি, ওমা আমার ছেলে ভালো পাশ হয়েছে গদিতে আসীন মালিক আমাকে একপ্লেট মিষ্টি না খাইয়ে কেন ছাড়বেন? মহিলারা একা বসে মিষ্টির দোকানে খায়? না, আমি খাবো না। পর্দা ঢাকা কেবিনে বসিয়ে বড়বড় চারটে লালমোহন। বলতে নেই করভৌমিকদের বাড়ির বৌ ঐ বাড়ির ছেলেদের মতোই চেটে পুটে খেয়েছিলাম তৃপ্তি করে। নন্দিতা বলছিল গিরিধারীর কথা। আমাদের বেয়াই মশাই রতিরঞ্জন বাবু তো আমরা গেলেই গিরিধারীর দোকান থেকে বড়ো হাঁড়িতে করে নিয়ে আসেন বিশাল বিশাল রাজভোগ। ভেতরে ছোট একটা গর্তে ছোট্ট আরো একটা রসগোল্লা গোলাপজলে ডোবানো। বটতলা জয়নগর স্টপেজে লালিদের বাড়ির পাশে গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, বেশ ভালো শনপাপড়ি পাওয়া যায়, ফুটপাথের অন্য পাশে আবার কাটলেট ভাজে। তবে গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সব শাখার মধ্যে গোলবাজারের গোপালের নামই লোকের মুখে বেশি ফেরে। ছানার পোলাও, ক্ষীরের সিঙাড়া খুব ভালো হয়।

লেখাটা শুরু করেছিলাম সেই দুহাজার ষোল তে নিউইয়র্কে বসে আলাপ সালাপ সিরিজটা যে মেজাজ নিয়ে লিখেছিলাম, সেই মেজাজেই। ঢিলেঢালা আলাপচারিতা। কোনো ধারাবাহিকতার কথা ভাবিনি, মনের মধ্যে ছিলো সেই যে gender bias ব্যাপারটা। যা আমাকে খুব ক্ষুব্ধ করেছে বরাবর। মেয়েদের ছোট্ট ছাতা, রোদবৃষ্টি কিচ্ছু মানেনা, ছোট্ট রুমাল কোনো কাজেরই নয়। ছেলেদের বলা ভালো পুরুষদের ওপর আমার রাগ তো নেইই উল্টো পক্ষপাতিত্ব আছে। আমার বাবা আমার খুব প্রিয় ব্যক্তিত্ব। নিজের ছেলেরা তো নিজের কাছে আদরের হবেই, আমার অতি দুষ্টু ছাত্ররাও খুব ভালো বাসার জন, ভাইটি অতি নিরীহ ভালো মানুষ। আর স্বামীর প্রতি অনুরাগ জন সমক্ষে নাই বা প্রকাশ করলাম। এ ছাড়াও বহু প্রিয় পুরুষকে জীবনের পথে পথে পেয়েছি যাঁরা শিক্ষক সহকর্মী বন্ধু হয়ে সহযোগিতা না করলে খুব মুশকিল হোতো। এখনো হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক ব্যতিক্রম আছে। সব দেশে সব কালে কিছু স্বঘোষিত অভিভাবক মহিলাদের ওপর খবরদারি করেন। তাদের সহ্য করা উচিত নয়, করিওনি। সে রকম একটা ঘটনা সায়ন কালকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল--- মা কাজল মাসির জলের বোতলের গল্পটা লিখো। সেই গল্প প্রতিনিধিত্বমূলক। অনেক স্কুলেই পানীয় জলের সুবিধা নেই, থাকতো না। আমাদের সহকর্মী কাজল একটা পরিষ্কার কাঁচের বোতলে জল ভরে নিয়ে এসেছে। বোতল হাতে কমনরুমের বারান্দায় দেখে হেডমাস্টার মশাই খেঁকিয়ে উঠলেন --বোতল? বোতল কেন? স্কুল প্রেমিসেসে বোতল! ---না সব প্রধান শিক্ষক এমন নন, কিন্তু বলার যা, অন্য মাষ্টারমশাইরা সদা প্রতিবাদী হলেও কোনও প্রতিবাদ করেননি সেদিন। কাজল প্রতিবাদী হয়ে মুখরা বদনাম নিয়েছিলো।

সকাল বেলা নীলিপ ফোন করে লেখাটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ধরিয়ে দিল, কয়েকটা পুরোনো হোটেল রেস্টুরেন্টের নাম মনে করিয়ে দিলো। নীলিপের সহায়তা, আন্তরিকতা আমার মনে থাকবে।
আমাদের হোটেল রেস্টুরেন্টে খাওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ তরিয়ে তরিয়ে বলারই মতো। তবে আগে বলি রাস্তার পাঁপড়ভাজা, কাসুন্দি সহযোগে ডালের বড়া আগরতলার লোভনীয়তম পদ। আমাদের মেসোমশাই তারাপদ ব্যানার্জি খাইয়েছিলেন একবার বটতলার ধুলিধূসর রাস্তার পাশে সাতদিনের বাসি তেলে ভাজা পাঁপড়। ওঃ সেকি ভোলা যায়? বাড়ি থেকে ওসব খেতে দিতো না। বালিকারা ভুল করে ভাবে বিয়ের পর কিছু নিষেধ থাকবে না। আমি ও দুটি সাধ বিয়ে পর্যন্ত মুলতুবি রেখেছিলাম, এক রাস্তার তেলেভাজা, চপ, কাঠি আইসক্রিম খাওয়া। আর যাত্রা দেখা। গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যেতো শীতের রাতে। যাত্রা দেখে মানুষ ফিরছে। সঙ্গে বৌ বাচ্চা বোন ভাই পড়শী। আমাদের বাড়িতে যাত্রা দেখা নিষেধ - যাত্রা দেখে ফাতরা লোকে। দূর -বিয়ে হলে খুব করে যাত্রা দেখবো। পাঁপড়ভাজা তেলে ভাজা জিবেগজা খেতে খেতে রাস্তা দিয়ে ফিরবো। কাকস্য পরিবেদনা। বিয়ে হোলো স্বাস্থ্য বাতিক লোকের সঙ্গে। তেলেভাজা নিয়ে কথা বলে নেওয়াও হয়নি আগে। কাজেই সে গুড়ে বালি। আর যাত্রা? তিনি রাত দশটার সঙ্গে লাইট নেভাতেন। যাত্রা আর দেখলাম না জীবনে ।
এখন কাঁসারু পট্টির বিখ্যাত সেই ডালের বড়ার তেলের কড়াই এর পরিত্যক্ত তেল নিয়ে আমার পুত্রবধূ সুকন্যার একটা অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার গল্প দিয়ে আপাতত শেষ করি। ছোট্ট সুকন্যা বোন আর মা বাবার সঙ্গে একটু রাত করে বিয়ে বাড়িতে নিমন্ত্রণ সেরে ফিরছিলো, কাঁসারু পট্টির ডালের বড়া বিক্রি শেষ। উনুনের ওপর তেলের কড়া বসানো রয়েছে, দোকানী গোছগাছ করছে। এক মাতাল হাতে দুটো আস্তো ইলিশ মাছ নিয়ে এসে দোকানীকে বলছে, ভাই এই দুইডা মাছ আস্তা মচমচে কইরা ভাইজ্যা দেও সেন খাই। সেই থেকে সুকন্যার সাধ চাকরি করে দুটো আস্ত ইলিশ কিনবে। রাস্তার তেলেভাজার কড়াইতে ভাজা হবে তবে খাবে। চাকরি করলো, ছাড়লোও, আস্ত দুটো ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়া হোলো না।

446 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: খাতাঞ্চী

Re: আহারে আগরতলা

.
Avatar: b

Re: আহারে আগরতলা

আগরতালা যাইতে লাগব। আমারে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।
Avatar: শঙ্খ

Re: আহারে আগরতলা

অনবদ্য গদ্য।
Avatar: de

Re: আহারে আগরতলা

আমার একটা নেমন্তন্ন চাই আগরতলার - দেখি, এনাইটিতে চেনা শোনা লোকেদের বলতে হবে - টক দিতে যাবো -

এইসব মিষ্টিগুলো খেয়ে আসতে হবে তখন -
Avatar: b

Re: আহারে আগরতলা

নেমন্তন্ন লাগবে ক্যানো? এমনি ঘুর আসুন।
Avatar: pi

Re: আহারে আগরতলা

এইতো আমিই সবাইকে নেমন্তন্ন করে রাখলাম!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন