Parthasarathi Giri RSS feed

Parthasarathi Giriএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...
  • কাশ্মীরের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসঃ ১৯৩০ থেকে ১৯৯০
    ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্ত যায় ১৯৪৭ এ। মূল ভারত ভূখন্ড ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু ভুখন্ডের ভাগবাঁটোয়ারা সংক্রান্ত আলোচনচক্র ওতটাও সরল ছিল না। মূল দুই ভূখণ্ড ছাড়াও তখন আরও ৫৬২ টি করদরাজ্য ছিল। এগুলোতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মাইনাস তিন ডিগ্রি

Parthasarathi Giri

মাইনাস তিন ডিগ্রি

▶️

প্রতি সন্ধ্যায় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে মাত্র কয়েক ফার্লং দূরে যশোর রোডের ডানদিকে দেড়তলা বাড়িটা অন্ধকারেই থাকে। রাত ন'টা নাগাদ পুট করে গেটের আলোটা জ্বলে ওঠে। কোলাপসিবল গেটে চাবি তালার খুট খুট ধাতব শব্দ। সিঁড়ির আলো জ্বলে। ডাইনিং প্লেস, বেডরুম, বাথরুমে যাবার প্যাসেজ এবং সবশেষে বাথরুমের আলোগুলো পরপর জ্বলে উঠতে থাকে।

আরামবাগের ফ্রোজেন চিকেন আরেকবার ডিপ ফ্রিজে ঢোকে। ব্রকোলি গাজর ক্যাপসিকাম স্টাফড্ মাশরুম হিমগর্ভে পরপর সজ্জিত হয়। বাথরুমের দরজার সামনে ওয়াশিং মেসিনের ওপরে ব্ল্যাক ব্রা, ডিপ ব্লু প্যান্টি, অফ হোয়াইট স্লিভলেস কুর্তি আছড়ে পড়ে। পড়ার সময় ব্রায়ের অ্যালুমিনিয়ামের হুক থেকে পুনরায় একটি ছোট ধাতব ঠুং শব্দ হয় মেসিনের ঢাকায় ধাক্কা লেগে এবং একটি মধ্যবয়সী উলঙ্গ ফর্সা থলথলে নারী শরীর বাথরুমে ঢুকে শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে পড়ে। তার আগে হোয়াটস অ্যাপ দেখে মোবাইলটা সিস্টার্নের ওপর সাবধানে রাখে।

অহনা এখন অফিস ফেরত চটচটে গা ধুচ্ছে এবং রিমুভারে নেলপলিশ তুলছে, যেহেতু পরের দিন সবুজ পলিশ আবশ্যিক কেপ্রি টপের সঙ্গে।


তারও দু তিন ঘন্টা পরে আরেকবার গেটে তালা চাবির শব্দ হয়। তারপর একটি পুরুষ শরীর মোটামুটি স্টেডি পায়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে এসে দক্ষিণের বেডরুমের আলোটা জ্বালে এবং সোফায় ধপাস করে বসে পড়ার সময় হুইস্কির হালকা গন্ধ ঘরের মধ্যে ছড়ায়।

জানালা খোলার দরকার পড়ে না। এসি চালু হয়। শার্ট প্যান্ট খাটের বাজুতে যায়। জাঙিয়া ফের আছড়ে পড়ে বাথরুমের সামনে ওয়াশিং মেশিনের ওপরে রাখা ব্রা প্যান্টির ওপর। এক্ষেত্রে কোনো ধাতব শব্দ হয় না। কেবল কন্ডোমের লুব্রিকেন্টের স্টবেরি ফ্লেভারের ঘ্রাণ সারাদিনের জাঙিয়ার ঘামের সঙ্গে মিশেছিল, এখন মুক্ত হয়ে ওয়াশিং মেসিনের ওপর উগ্র একটা কথোপকথন রচনা করতে গিয়েও অচৈতন্য থাকে।
আরেকটি উলঙ্গ অ্যালকোহলিক চর্বিতে থলথলে বেঢপ সদ্য চল্লিশোর্ধ পুরুষ শরীর বাথরুমের শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে পড়ে। তার আগে হোয়াটস অ্যাপ চেক করে মোবাইলটা সিস্টার্নের ওপর সাবধানে রাখে।

সুপর্ণ এখন অফিস ফেরত গা ধুচ্ছে। এবং শিশ্ন থেকে সাবানের ফেনায় কন্ডোমের লুব্রিকেন্ট তুলছে।

রাতে তারিখ বদলে গেল। দুটো বেডরুমের একটির বন্ধ দরজার ওপারে অন্ধকার। কেউ কান পাতার নেই, পাতলে শোনা যেত অহনা ফোনে হালকা সেক্স করছে অফিসের সহকর্মী প্রবীরের সঙ্গে। মৃদু শিৎকার এবং ডানহাত স্তন রগড়াচ্ছে, বাঁ হাত যোনির গর্তে ক্রিয়াশীল।

অন্য বেডরুমে ঢিভির স্ক্রিন উজ্জ্বল হল। আবার নিভেও গেল। সুপর্ণর মোবাইলে ভেসে উঠল মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের রণিতা শিকদারের ন্যাংটো হওয়ার ভিডিও। সুপর্ণ স্ক্রিনটার ওপর সব ক'টা আঙুল একবার বোলায়, যেন রণিতার শরীর চেটে নিচ্ছে। টাচ স্ক্রিনের ওপরে অনেক ধরণের নোটিফিকেশনের চেইন। মেসেঞ্জারে 'মুয়াহ্' যখন টুং শব্দে স্ক্রিনে ভেসে উঠল, তখন ঘুম ঘুম চোখে সুপর্ণ একটি পর্ন সাইট খুলেছে স্প্যাংকিং এক্সাইটমেন্টের হাল হদিস জানতে। রণিতার ওই কস্টলি ফিগারকে নানাভাবে না ইউজ করলে বেকার। পর্ন সাইট লিস্ট খুলে দিল সেক্সের রকমারির।

সুপর্ণ এবং অহনা ভালোবেসে বিয়ে করা বারো বছরের স্বামী স্ত্রী।



গন্ধটা দু তিনদিন ধরে নাকে লাগছিল গেটে ঢোকার সময়। সুপর্ণ বাজারের ব্যাগ রাখল ডাইনিং টেবিলের ওপরে। বেশ ফুলো হয়ে রয়েছে ব্যাগটা। ব্রাউন ব্রেড, গোলাপ জামুনের ক্যান, ওটস ইত্যাদি।
-- একটা শালিখ মরে ঘুড়ির সুতোয় আটকে রেনওয়াটার পাইপে ঝুলছিল। তাই ভাবছি পচা গন্ধ কেন।

কথাগুলোর শ্রোতা কে কেউ যেন জানে না।
--আমাদের এই গলির মুখেই একটা ভাল কাৎলা কাটছিল, নিয়ে এলাম এমনি। মানে...

কিচেনে খুটখাট শব্দ হচ্ছিল। বাড়তি কোনো শব্দ এল না।

--কিছু একটা করে রাখতে পারবে মাছটার?

মিনিট খানিক পরে লাল কালো ববি প্রিন্টের ম্যাক্সি পরা অহনা চিকেন স্টু চাপানোর শ্রমে ধস্ত হয়ে কিচেনের বাইরে এসে সকাল আটটার প্রথম শব্দ উচ্চারণ করল স্পষ্ট আলোয়, ন্যাকাচোদা।

সুপর্ণ দাঁতে ঠোঁট কামড়ে অতি মৃদু স্বরে, বিচ। আরো অস্ফুটে বলল, এটুকুও পারবে না গতরখাকি।

অহনার সে সব শোনার অবকাশ নেই।

--চিকেন স্টু রেডি আছে। ফল নেই। নতুন টিফিন বক্স কিনে না আনলে আমি ওনলি নিজের স্টু বানাব কাল থেকে। এটার ছিটকিনি ভেঙে গেছে। কসরত করে লাগাতে গিয়ে আমার নখে লাগল। ডিসগাস্টিং।

শোনার জন্য কাছাকাছি কেউ নেই। ন্যাকাচোদা শব্দটির অভিঘাতে কিনা কে জানে সুপর্ণকান্তি সিগারেট নিয়ে পটিতে চলে গেছে দেড় মিনিট আগে।

সুপর্ণ বেরোল, লাইটার সিগারেট নিয়ে অহনা পটিতে গেল। এক ব্রান্ডের টোবাকোর সঙ্গে ওডোনিল আর গুয়ের বাসের মিশ্রনে একরকম। এবার অহনার অন্য ব্র্যান্ডের মেন্থল সিগারেট জ্বলল। আবার অন্য গুয়ের গন্ধ মিশল। গন্ধ পরিবর্তিত হতে হতে পরিচয় মুছে ফেলছে। লরিয়েল শ্যাম্পুর ফেনা আছড়ে পড়ল। বিমুঢ় গন্ধবাষ্প অগত্যা ললিত ভাবে বাথরুমের এক কোণে নির্বাক স্থানু হয়ে গেল।
অহনা থলথলে তলপেটে বার কয় হাত বোলাল সঙ্গত কারণে। এত চর্বি কেন? এত চর্বি কেন? জিমে টাইম বাড়াতে হবে।

অহনা বাথরুম থেকে বেরোচ্ছে, সেই সময় একটা চড়াই যেন ফুড়ুত করে প্যাসেজ ক্রস করে কমনরুমে ঢুকে গেল। এবং ঠিক সতেরো সেকেন্ড পরে ধড়াম করে শব্দ হল কমনরুমে।

অহনা একেবারেই না চমকে নিজের বেডরুমে ঢোকার আগে উঁকি দিল।

--স্কাউন্ড্রাল স্প্যারো এল কোত্থেকে?
--তোমার মা বোধহয় খবর নিতে পাঠিয়েছে।
টাওয়েল পরা অহনার বিয়াল্লিশের দুই লোল স্তনের খাঁজে সোনার ক্রসের পেনডেন্ট চিকচিক করছে জলবিন্দুতে।

ঘুলঘুলিতে সপ্তাহ খানিক হল এক চড়াই দম্পতি অনেক মেহনতে ঘাস চোঁচ পাতা জোগাড় করে বাসা বেঁধেছে। তাদের ডিম্ব প্রসবের কাল। মা-চড়াই বসেছে দেওয়ালে সাঁটানো ঠাকুরের এক রত্তি সিংহাসনের বেসে ছোট্ট নকুলদানার প্লেটে। ওখানে চারদিনের বাসি দুটো নকুলদানা তখনও। সুপর্ণ একটা খালি ডিওডরেন্টের ক্যান ছুঁড়ে মারল।

নকুলদানার প্লেট ছত্রখান। বাবা লোকনাথের ফটো উল্টে মেঝেতে পড়ল। মা-চড়াই উড়ে গিয়ে ঘুলঘুলিতে সভয়ে ঢুকে গেল।
--কেউ কিছুই খেয়াল রাখে না যখন এই ভাটের ঠাকুর পুজো বন্ধ হোক। যত্ত সব ইডিয়ট রিচ্যুয়ালস।

অহনা তখন ব্রায়ের এক কাপে এক স্তন ঢুকিয়ে আরেক কাপে অন্য স্তন ঠুসে ঢোকাচ্ছিল।
--বাস্টার্ড বাপের বাস্টার্ড ছেলের যেমন রুচি।
--এই রুচি দেখিও না তো।
সুপর্ণ চুল আঁচড়াচ্ছিল। চিরুনিটা বিছানায় ছুঁড়ে মারল।

--ঠাকুরটা আমার মা বসিয়েছিল। তোমার মায়ের তো আবার এ সব কালচার নেই কিনা।
--সে তো কত দেখলাম। বিধবা মহিলা কোমরে রুপোর বিছে পরে পেট দেখায়। রুচি মারাচ্ছে।
--আজকাল বুড়িদের কোমরেও নজর?
--অ্যাই থামো তুমি। বুড়ি কিসের? বেশ তো স্কিনের জেল্লা। চিকনা মাগি। তোমার বাপ যাওয়ার পর কোথায় লাগিয়ে বসে ছিল কিনা খোঁজ নাও গে।
অহনা ঠোঁটে গতকালের কেনা রোজমেরি মেবেলিন ঘষছিল। দুই ঠোঁট মসৃণ করে চেপে জিভ বুলিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, তোমার বাবা তো কেপ্টের বাড়িতে স্ট্রোকে পড়েছিলেন কানাঘুষো শুনি। তাহলে ফ্যাক্ট জেনুইন। নইলে ঠিক বাপের ঠিক ছেলে হবে কী করে।

সুপর্ণ কিচেন থেকে চিকেন স্টু ভরা টিফিন ক্যারিয়ার কাঁধে নিল।
--খাঁটি পেডিগ্রির বিচ মাইরি তুমি। রত্না পিসি বাবাকে শেষদিন অবধি সেবা করে গেছে।
--সে কোন সেবা আমরা কি দেখতে গেছি নাকি?
--লিসন ইউ হোর। ওদের নখের যুগ্যি হতে দশ জন্ম লাগবে তোমার।
--আর তোমার দশেও হবে না। একশ জন্ম লাগবে মোটামুটি একটা পুরুষ হতে। ব্লাডি ঘটিবাচ্চা।

সুপর্ণ অহনার বেডরুমে ঢুকে গেল। অহনার পরণে সাদা টপ, ব্ল্যাক স্ল্যাক্স। ঠাটিয়ে অহনার পাছায় চাঁটা মারল সুপর্ণ।
--এই বাড়িটা আমার টাকায় কেনা।
--ওপরের ঘরটা আমার টাকায় বানানো সেটা ভুলে যেও না। এটা আমারও বাড়ি।
--ওই তো একটা ঘর করেছ, তার এত ফুটানি দেখিও না।
--ওটায় আমি ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন করাব যখন চোখ উল্টে যাবে।
--ধ্যাৎ শালার ডেকোরেশন। বাড়িটা আমি নিজের নামে করে নেব।
--তবে তো আরো ভালো। আমার ক্লেইম করতে সুবিধে হবে।

সুপর্ণ চিড়বিড় করে অহনার দিকে তেড়ে গেল, যেন খেলায় চোরাগোপ্তা ফাউল করেছে কেউ। অহনা এবার ঘুরে সুপর্ণর গর্দানে সপাটে চড় কষাল। সানস্ক্রিম লোশনের বটল উল্টে মাটিতে পড়ে যেতে মেঝেতে অনেকটা ক্রিম চিটকে গেল। বটল থেকে দুক দুক করে ক্রিম গড়াচ্ছে।

--নিজের দিকে খেয়াল রাখো বাছা। ফাটকে ঢুকিয়ে দেব বাড়াবাড়ি করলে।

সুপর্ণকান্তি পিছু ফিরে বেরিয়ে যাবার সময় শুধু উচ্চারণ করল, রেয়ার খানকি।

অহনা ভ্রুভঙ্গি তীক্ষ্ম করে মসৃণ করে হাসল। ডান বাহুর টিউলিপ ট্যাটু ঝিলিক দিয়ে উঠল সকালের আলোয়।

--শুয়োরের বাচ্চা ভেগেছে।

একে একে দুটি সুসজ্জিত সুবাসিত শরীর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল মধ্য কলকাতার দিকে কর্পোরেট অফিসে। তখন সকাল ন'টা তেইশ।



এই পৃথিবী আজন্ম ক্রীড়াময়। আলো জল হাওয়া কীটে কুসুমে ভূমে ভূমে বলে গেছে, খেলাঘর খেলাঘর। কোথাও কিছু স্থির নেই, নয়, তাই স্থান বদল হয় চেকবোর্ডে ফরোয়ার্ডে পেনাল্টি বক্সে। তুমি কী চাও তুমি জেনে নিও তোমার কাছেই।

ছোট ছাদ ছিল। ওয়ার্ডরোবে পেঁয়াজ-রঙা বিয়ের বেনারসীর গায়ে হালকা গোলাপজলের সুবাস ছিল। অভিমান ছিল। ফ্রিজে কই মাছের আনাড়ি হরগৌরি ছিল। অন্যের গায়ের ওপর ঠ্যাং তুলে শোয়া ছিল।

এক বর্ষার রাতে সঘন বরিষণে ভবিষ্যভার ক্ষণকালের জন্য উড়ে গিয়েছিল দেয়াগর্জনে। বাজের শব্দে অহনা চমকে চমকে উঠছিল আর সুপর্ণ ফিঁচ ফিঁচ করে হাসছিল।

অ্যাই হাসবে না একদম। কেমন গুম গুম সাউন্ড।
কেমন গুম গুম সাউন্ড ম্যাডাম?
এই এমন গুম গুম, অ্যা অ্যা...

যেই না অহনা দুই কানের দুপাশে দু হাতের চেটো নিয়ে হাতির কান দেখাল, আরেকটি পশলা ঝেঁপে নামল আর যশোর রোডের গায়ে দুটো শরীরে নামল পৃথিবীর ক্রীড়নকের একক চারুকলা। এ ভুবনে তখন রাঙা কাচের টুকরো জরি ঝুমঝুমি ঠোঁটে ঠোঁটে। বৃষ্টি কি কেবল রাস্তায় জল জমায়? নারীর বুকেও ভেজা কদম ফুল চটকে নিংড়ে দেয়, রেণু ছড়িয়ে দেয় হয়ত।

--মুখের গন্ধ দাও।
--না
--না?
--না।
--দাও।
--নাকের পোঁটা খাও তুমি?
--কই না তো।
--আবার মিথ্যে কথা?
--অনেকে তো খায়।
--ইস ম্যাগোঃ কী ঘেন্না কী ঘেন্না!

সেই তো দুটি শরীর মাত্র গৃহে গৃহে। অঙ্গে অঙ্গে রাগ ঘেন্না মহামায়া। বর্ষণগন্ধে তান্ডবে নটরাজে গেঁথে গেছে শরে শরে বুক জঙ্ঘা জিহ্বা। নদীপথে ঢুকেছে প্রবল জলজন্তু। ক্ষরণে ক্ষরণে প্রাণ ছুটেছিল জলে জলে কন্দরে, আরো অন্দরে। লেজের ঝটকায় ছুটে চলেছে প্রাণকণিকার মালা। যেন পরিযায়ী। যেন পেরোচ্ছে এক আকাশ থেকে আরেক ট্রপিক্যাল।

এক সপ্তাহ কেউ কিছু টের পায়নি। অহনা প্রথম হড়হড় করে বমি করে দিল অফিসের ওয়াশ রুমে। অ্যান্টাসিড খেল। আরো এক সপ্তাহ বাদে প্রেগনেন্সি কিটের স্ট্রিপে জোড়া গোলাপী দাগ ফুটে উঠল। অনিবার্য জন্মসংকেত।

সুপর্ণ তখন অফিসের কাজে উত্তরবঙ্গে। আগামী সপ্তাহে অহনার গুয়াহাটির ফ্লাইটের টিকিট। ইস্টার্ন জোনের কনফারেন্স। ট্রেনিং। প্রোমোশনের হিন্টস।

তড়িঘড়ি ফোনে সুপর্ণ ফিরেছিল। এবং সেই প্রথম বহুরঙা সরীসৃপ চন্দন গাছের গা বেয়ে নেমে এল।

অ্যাবরশন।
অ্যাবরশন? অফ কোর্স অ্যাবরশন। মামদোবাজি? এখনই পেট ফোলাব? বারণ করছিলাম? লজ্জা করে না উইদাউট প্রিকশান আমাকে নষ্ট করতে?
নষ্ট করতে?
হ্যাঁ নষ্ট করতে। আমার ড্রিম নষ্ট করতে চাইছ। আমার নিজের গড়া জগতকে মারতে চাইছ।
আমি? কী যা তা বলছ। শোনো সোনা। ফার্স্ট ইস্যু। থাক। আসুক। আমি সব করব।
ন্যাকামো করছ? আমাকে কোম্পানী কখনই এই মুহূর্তে মেটার্নিটি লিভ প্রোকিওর করবে না। তাছাড়া আমি মেন্টালি প্রিপেয়ার্ড নই একেবারেই। হেডিং টু আ গ্রেট অবস্টাকল। মামার বাড়ির আবদার নাকি? ফিফটি ক্রোড়ের টার্গেট টার্নওভার। আমার ইমিডিয়েট বস আমাকে অ্যাবরশন সাজেস্ট করেছেন। টার্মিনেশনের খরচ ওরা পার্টলি বেয়ার করবেন। আমার ফিস-আই দ্যাট টার্গেট। ইম্পসিবল। প্লিজ হেল্প মি আউট রাইট নাও। পরে স্যুটেবল টাইমে ক্যারি করে নেব।

বাহাত্তর ঘন্টা দুই মুখে তালা ঝুলেছিল। তারও পরে ডক্টরের কাছে যেতে যেতে ফোর উইকস ওভার। দশটা ছোট পিল মাত্র। তিন নম্বরেই হড়হড় করে ভলকে ভলকে রক্ত উছলোচ্ছে জন্মদ্বার উপচে। ভরে উঠছে কমোড, লাল কষাটে রক্তে দগদগে বাথরুমের ঝকঝকে দামী বেল টাইলসের মেঝে। সড়াৎ করে কী একটা গুলির মত বেরিয়ে এল। আঃ মাগো। আঃ। এটা কী?
একটা নীলাভ মাংসপিন্ড। তার গায়ে পুঁতির মতো হাত পায়ের অঙ্কুর। যেন লালামাখা আবীরস্নাত স্কুইড। বিরাট বিপুল এক প্রতিহিংসক অক্টোপাশের অসংখ্য মলমল দাঁত বিঁধিয়ে দিয়েছে অহনার নগ্ন অবশ অমাতৃক শরীর। শেষ বার ফ্ল্যাশের হাতলে চাপ দিতে ক্ষুদ্র পিন্ডটি স্যানিটারি চেম্বারের গু মুত গয়েরে ব্যাকটেরিয়ায় হারিয়ে গেল। সে অন্য কোন গর্ভ খুঁজে নেবে কোনোদিন। এই ছাদের নিচে তার দোলনা খাটাবার কেউ ছিল না।

অহনার কর্পোরেট অহনাকে প্রমোশন দিয়েছে তারপর। পে স্লিপ ভারি হয়েছে। সুপর্ণ বাইরে বাইরে ঘোরে তার কাজের রকমের খাতিরে। বলে যায় অফিসের কাজ। কেউ জানে না, যাচাই করে না কোনখানে কী কাজ সারা হয়।
অহনার বাড়ি ফেরার টাইম ক্রমশ পিছোয়। কোনোদিন মেসেজ ইনবক্সে পিং, রোমান হরফে বাংলা ফুটে ওঠে 'অফিসে হিউজ প্রেশার। আজ থেকে যাচ্ছি।'

সাজ পোষাকের ধরণ আদল স্পষ্টত বদলে বদলে যায়। চেনা মানুষটার গায়ে যেন অন্যরঙের পরত পড়ছে দিনে দিনে। ক্লায়েন্ট মিটে অ্যাপিয়ারেন্স ম্যাটার করে। দু বছর আগের অহনা কেবল ছবিতে রয়ে যায়। সালোয়ার কামিজ সব কাজের মেয়েকে দিয়ে দিয়েছে। এখন লো কাট স্লিভলেস কুর্তি কিংবা টপ। স্ল্যাক্স বা কেপ্রি। কোনোদিন ওয়েস্টসাইটের স্ট্রেচেবল লিভাইস বারমুডা। মণিবন্ধে স্পাইডার, ডান কাঁধে টিউলিপ, নাভির ঠিক নিচে স্কালের ট্যাটু। চুলে ব্রাউন ইয়োলো নাভাল গ্রিনের স্ট্রিক্স। চোখের নিচে নীল ময়ূরী মাস্কারা। বহুজাতিকের ডিলিং ক্রাইটেরিয়ায় অহনা এখন ফিটেস্ট এমপ্লয়ি।

আরো তিন বছর পরে পাটায়ার বিচে জোনাল চিফ আর্ট কনসালটেন্ট সুরজ মোতওয়ানিকে জড়িয়ে স্মুচ করে অহনা বুঝেছিল কোথাও যেন ফায়ার ব্রিগেডের পাগলা ঘন্টির শব্দ আর ঘন নিশুতি রাতে একটানা সাইরেনের ওঁয়াও ওঁয়াও। স্টার রেটেড হোটেলের লনে যেন সারে সারে অপেক্ষমান অ্যাম্বুলেন্স। একটা ধোঁয়া যেন পাক দিয়ে উঠছে ষোলো তলার এক্সিকিউটিভ স্যুটের দিকে।

ফিরে এসে ব্লিচ করা মাখন শরীরে সুপর্ণকে বারবার নাছোড় ডেকে ডেকে নিয়েছে। বারবার বারবার। ডাক্তারের কথা মতো কোনোদিন পাগলের মতো দু বার তিন বার। কই কই সুপর্ণ? কোথায় সুপর্ণ?

আল্ট্রা সোনাগ্রাফির প্লেট একদিন জানিয়ে দিল, পার্মানেন্ট মেটার্নিটি লস। ফার্টিলিটি ফরএভার তাঁর আঁচল গুটিয়ে নিয়ে চলে গেছে।

এ শরীর একবার দিয়েছিল নন্দনকুসুম। একবার দিয়েছিল এক জীবন দিতে পারে যত। বিষে নীল হয়ে যাওয়া ছোট ছোট পুঁতির মতো হাত পা নিয়ে সে পুঁচকে পলাতক ভ্রূণ চিরতরে পালিয়েছে। নিয়ে গেছে গেলাসের জল। জানালার আকাশ। বিছানার গান।

একদিন সুপর্ণর পকেট থেকে বেরোল হোটেলের বিল। টু রুম বুকড। পরের কোনো একদিন মোবাইলে এস বি আইয়ের ফোন, এস বি আই কলিং। সুপর্ণ বাথরুমে। অহনা ধরতেই আলসে মেয়েলি কণ্ঠ, 'হানি, মিস ইউ। হিয়ার ইন শিলং ইজ হেভেন। জাস্ট প্যাক আপ অ্যান্ড কাম ডিয়ার।'

প্রথম খিস্তির ছররা গুলি। ইউ বিচ। হাউ ডেয়ার টু রিসিভ মাই ফোন কলস?
ইউ ফাকিং লায়ার। এস বি আই? হু ইজ দেয়ার? ইওর কেপ্ট? ফাকিং পার্টনার?
সাপোজড্ টু বি ডার্লিং। এক্জাক্টলি লাইক ইউ। দেয়ার ইজ মাই প্রাইভেট হোর। গট ইট? কান খুলে শুনে রাখো খানকি, আই রিজেক্টেড ইউ টু ইয়ারস এগো অ্যান্ড রাইট নাউ জাস্ট বেয়ারিং ইউ। তুমি থাকতে পারো এখানে। নো প্রবলেমস অ্যাট অল। বাট ওই যে রুমটা, ওটা তোমার। আমার রুমে ঢুকবে না।

অহনা ঠায় দাঁড়িয়ে ঠোঁটে দাঁত চেপে চেপে কামড়ে কখন যেন রক্তবিন্দু বার করে ফেলেছে। সুপর্ণ দড়াম করে রুমের দরজা বন্ধ করে।

বন্ধ দরজার ওপারে সুপর্ণ জানে তারও ছাদ উড়ে গেছে বসন্তদিনের ঝড়ে। অহনাকে না ঘাঁটানোই ভালো। ঘাঁটালে এক্সট্রা লায়াবিলিটি। মরুক গে।
এইরকম অনিকেত সুপর্ণই সুপর্ণর প্রিয় নিয়তি। একেই সে এখন ভালোবাসে। আদর করে। সুইমিং পুল টানে। স্নান টানে না। ফ্লাওয়ার বোকে টানে। ফুল টানে না। সিজলার টানে। ক্ষুধা টানে না। অচেনা ব্রায়ের হুক খুলতে ভাললাগে। নারী ভাললাগে না।
এই তার প্রিয় ইনকরিজিবল অনন্ত সিসিফাস জীবন। ওই যে ওই পড়ন্ত উড়ন্ত পাথরের পিছনে ধাবমান সিসিফাস। রান সুপর্ণ রান। রণিতার নাভির মধ্যে হট চকোলেট ঢালবে না সুপর্ণ? রণিতার পর? আরেকটি অলীক সুপর্ণ জিভে চুকচুক শব্দ করে, রমিতা? অনিতা নাকি বিনিতা?

ঘুমের ঘোরে সুপর্ণ মার্মারিং করে, ওই যে নিকিতা, ওই যে আমার হিলটপ। আমার পাথর। আমার পাথর। আমাকে তুলতে দাও। নেক্সট টার্গেট ওরিয়ানা টি এস্টেট। ওর প্রোডাকশন কস্ট মিনিমাইজ করতেই হবে এনিহাউ। মরে যাক লেবার। চিপ ডার্টি নেটিভস্ ট্রাইবস্। পারবে সুপর্ণ? পারবে তো? ঠিক পারব। পারতেই হবে। আমি আমার সিসিফাস। আমি উঠছি। আই অ্যাম গ্রোয়িং আপ অ্যান্ড অ্যাপ্রোচিং। আই ক্যান চেঞ্জ মাই ওয়ে ফর ওনলি মাই স্টোন। আই ক্যান কিল মাইশেল্ফ ফর মাই স্টোন। আমার অর্জিত পাথর। মাই স্টোন মাই লাইফ।



বেরোবার সময় জুতোর স্ট্র্যাপটা ছেঁড়া দেখে অহনার মেজাজটা বিগড়ে গেল।

বেতনের প্রায় পুরোটাই পোশাক কসমেটিক্স এবং গাড়ির ই এম আইতে চলে যায়। আর ট্যুরে গেলে কোম্পানীর ফ্রি ফুডিং লজিং বাজেটের বাইরে একস্ট্রা শপিং। বাড়িতে খাওয়ার পাট উঠে গেছে বলে লাঞ্চ সন্ধের জলখাবার ডিনার সব বাইরে খেতে হয়। বহিরঙ্গে ঠাটবাট অসন ব্যসন যেভাবে দেখালে কর্পোরেট এমপ্লয়ি মনে হবে, তার সবটুকু দাবী পূরণ করতেই হয়। জীবনের অর্ধেকাংশ বাতিল হয়ে গেছে বলে অন্যাংশতে একটি অলীক কোকুন। সেই কোকুনে ঠেসে রাখতে হয় নিজেকে।

এই মাসে আর জুতো কেনা যাবে না। গত সাত আট দিন ধরে পেটে মৃদু ব্যথা হয়ে চলেছে। ঘুম থেকে ওঠার সময় সারারাতের পেচ্ছাপ জমে ব্যথায় পেট দম মেরে থাকে। পালপিটিশন বাড়ে। হঠাৎ হঠাৎ মুড ফ্লাশিং হয়। বমি বমি পায়। আজ ছুটি নিয়েছে হোল অ্যাবডোমেন আল্ট্রা সোনোগ্রাফি করাবে বলে। সকাল থেকে এম্টি স্টমাকে প্রায় এক বোতল জল খেয়ে তলপেট ফেঁপে জলবেলুন। নিচু হয়ে স্ট্র্যাপটা পরখ করতে গিয়ে ব্যথায় একটু কঁকিয়ে উঠল।

সুপর্ণর ঘরের দরজা বন্ধ। আটটা বাজে। ওর উঠে পড়ার কথা। আজ বোধহয় লেট করে অফিস যাবে। ওকে সঙ্গে যেতে বলা যায়? যদি রাস্তায় ব্যথা বাড়ে? ড্রাইভার ছুটিতে গেছে। কোনো গাড়ি ধরে যেতে হবে। থাক। ডেকে কাজ নেই। ফালতু দুচারটে বাঁকাটেরা বাড়তি কথা। আরো মেজাজটা ভোগে যাবে।

কোলাপসিবল গেটে তালা দিতে গিয়ে দেখল পায়রার একটা ডিম ফেটে ছেতরে পড়ে আছে মাটিতে। অহনার সর্বাঙ্গ একবার শিরশির করে কেঁপে উঠল। হঠাৎ শীতই করছে। কেন? জ্বর আসছে নাকি। কপালে হাতের চেটোর উল্টোপিঠ ছোঁয়াল। শেষ মার্চের হালকা বিনবিনে ঘাম। বুঝতে পারল না।

সে কি মরে যাবে? অহনা মরে যাবে? এক এক করে শরীরে মনে যা কিছু জড়ো হয়, তার ভারে? ধুস! আজে বাজে ভাবনা। সামনের বারান্দা থেকে উঠতি একটা যুবক বুকের দিকে অর্থবহ চোখ মটকালে, শরীর আড়মোড়া ভাঙে সম্বিতে। এই তো চোরাটান, এই তো রঙিন পোস্টার, দেয়ালে দেয়ালে রিলিজড্ সুন। মরে যাওয়া মোটেও কাজের কথা নয়। অনেক কাজ বাকি। অহনার তলপেটে ব্যথা চিনচিন করে উঠল।

*

অনেকদিন পর অহনা দুপুরবেলা ফাঁকা বাড়িতে। সিলিংয়ে এত ঝুল কেন? রান্নাঘরের দরজায় ম্যাগনেটেড ফ্লাওয়ার হ্যাঙিং হেলে গিয়ে প্রায় উল্টিয়ে গেছে। টব ওপরে, প্লাস্টিকের ফুল নিচে। অহনার অবসন্ন হাসি পেয়ে গেল। মোড়ের দোকান থেকে চিকেন বিরিয়ানি এনেছিল। খেতে খেতে অন্যমনস্ক হয়েছে। কেন কে জানে। আজ আর কিছু করতে ইচ্ছে হচ্ছে না। কেন? ফোনটা নিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করল, এটা ওটা দেখে বিছানায় গড়াল। উঠেও পড়ল। ডাইনিং পেরিয়ে ব্যালকনিতে যাক তবে।

আল্ট্রা সোনোগ্রাফির রিপোর্ট অহনা কালকে হাতে পাবে। কী আছে ওতে? ডেডলি কিছু? কিংবা গলব্লাডারে স্টোন ওরকম কিছু হতে পারে। এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অহনা কিছু ভাবতে চাইছিল না।

একটা একটা টাইলস গাঁথা পদতলে। সুপর্ণর স্লিপার ওর বন্ধ দরজার সামনে। ছোট ছোট ঢেউ মরে জমাট বেঁধে গেলে যেমন উঁচু নিচু দাগের বরফ, ওরকম টাইলসের মেঝে। তীক্ষ্ম বরফে হোঁটট খেয়ে পড়ে যাবে না তো? ওই তো চার পা দূরে ষোল ফুট বাই সাতের চওড়া ব্যালকনি। ধুস! অলস বাজে ভাবনা যত!

ব্যালকনিতে পশ্চিমের রোদ টেরচা এসে পড়েছে। অহনা একটু ঝুঁকে পিচিৎ করে থুথু ফেলল নিচে। শুকনো মরা লেবুগাছের গোড়ায় একটা বেড়াল লেজের ভেতর মুখ গুঁজে শুয়ে। তার কি ছায়া চাই? বোকা বেড়াল। মরা গাছের নিচে কেউ শোয়? গায়ে থুথু পড়তে বেড়ালটা চমকে ওপরে তাকাল।

অহনার এখন কী যেন কী যেন মনে পড়ি পড়ি করে পড়ছে না। দুটো চড়াই পড়ন্ত রোদে কে জানে কী খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে বারান্দায়। কয়েকটা ভাঙা আধভাঙা টবে ঝুরো ঝুরো শুকনো মাটি। কবেকার গোলাপ গাছের ধুলো। কোনো এক বছর দমদমের রথের মেলা থেকে শখ করে কিনেছিল। অহনার কিছুতেই মনে পড়ছে না কী একটা কথা যেন। বারান্দায় ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকল। একটা কিসের গন্ধ। কিসের? পচা পচা। কিছু মরেছে। সেই মরা শালিখটার গন্ধ নাকি? হঠাৎ সাবানের গন্ধ ঝাপটা মারল নাকে। অহনা ব্যালকনির ওদিকে ঘুরে তাকাল।

অহনা দিকভুলে যাচ্ছে। ওদিকটা কি পূব দিক? বারান্দার পূব দিকে টলতে টলতে হেঁটে এল। সুপর্ণর কাচা আধভেজা জাঙিয়া গেঞ্জি মেলা দড়িতে। অহনা সোজা হাঁটতে হাঁটতে, যেন শঁটিবনে ভীতু খটাশ হাঁটে আনমনে, মগজের ভেতর ডাহুকের মাংস স্বপ্ন স্বাদ, কিছু মনে পড়ে না খটাশের, শুধু টলমল হাঁটার সরসর পাতার শব্দ, খটাশের নাকে সাবানের গন্ধ ঝাপটা মারে।

ব্যালকনির সঞ্চরমান অহনার নাক ছুঁল সুপর্ণর জাঙিয়ার মধ্যবৃত্ত। পেচ্ছাপের দাগে দাগে ধুসর রঙ চটে হলদেটে। পূবের হাওয়ায় সুগন্ধি বিষের জলকণা সমূহ। অহনার মনে পড়ে গেল সুপর্ণর পেচ্ছাপে উগ্র গন্ধ। সব মানুষের পেচ্ছাপের গন্ধ কি কটু? অহনা নাক চেপে ধরল জাঙিয়ার মধ্যিখানে। ডিটারজেন্টের মিষ্টি গন্ধ, গন্ধ কীই বা তার অর্থ? ঘুমের ওম যদি বা মরে যায়, শীতঘুম মূর্চ্ছা যায়, খোলস কি কখনও মরে যায় রূপহীনে? যায় না বলে হয়ত গন্ধ মধুর মধুমাস মধু মধুবাস শীতঘুমঘুম।

একটা চড়াই অবৈধ অভিনিবেশে বিরক্ত হয়ে উড়ে যেতে যেতে হঠাৎ ভুলে গ্রিলে সজোরে ধাক্কা খেয়ে গেল। মেঝেয় ঠুপ করে পড়ে গেল। কিছুক্ষণ স্থির চড়াই। মাথাটা ঝুঁকে আসতে আসতে সজোরে ঝাঁকাচ্ছে আঘাতের ভার। উড়তে হবে না? উড়তে হবে তো। অন্য চড়াইটা গ্রিলে হতভম্ব হয়ে আহতকে বারবার দেখছে। মাথা তোলো সঙ্গী পাখি। নিরাময় করো নিজেকে।

অহনার মনে পড়ে গেল কথাটা। এই অনন্যোপায় প্রান্তরে ছোট ছোট কদমে বিরতিতে ক্লান্তিতে অবসাদে অন্যমনে হাঁটছে। আর গ্রিলে হাত ঘষে ঘষে অহনার চলনে পূবদিক যেন ঢুকরে ঢুকরে উঠছে দক্ষিণের দিকে। অহনার মনে হল, কাঁদতে হবে। সে ভুলে গেছিল এতক্ষণ ঠিক এই কথাটাই।



কাল রবিবার। আজ একটু বেশি হাই হয়ে গেছে সুপর্ণ। শনিবারের রাতে পার্ক স্ট্রিট অজস্র সুরাপায়ীর প্রলাপে অস্পষ্ট সরব। প্রত্যেকের অনেক কিছু যেন বলার, অনেক ক্ষোভ, অনেকটা উপড়ে ফেলার মরা ঘাস।

সুপর্ণ অহনাদের একটি কালো রঙের সিডান কার রয়েছে। সেটির ইএমআই এখন যেহেতু অহনা ব্যাংকে জমা করে, তাই প্রায়োরিটি বেসিসে আজ গাড়ি সুপর্ণ পায়নি। অহনা কলকাতার শহরতলিতে কাজে গেছে গাড়ি নিয়ে।

ভাড়ার ক্যাবটা গলির মুখে আসতে সুপর্ণ ড্রাইভারকে থামতে বলল। বিল মেটালো এবং নামার সময় বেশ খানিকটা টলে গেল। টলে যাওয়ার মুহূর্তে একটা সূঁচোলো পাথর যেন পাকস্থলী থেকে ফুঁড়ে বেরিয়ে বাঁ পা দিয়ে গড়িয়ে নেমে গেল। সুপর্ণকে কে যেন ডাকল। কে? কন্ঠটি পুরুষ না মহিলার, তাও ঠিক বুঝতে পারেনি।

সুপর্ণ পিছু ফিরে দেখছে ক্যাবটা থার্ড গিয়ারে পলকে বেরিয়ে গেল। লাল ব্যাকলাইট দুটো অদৃশ্য হওয়ার আগে ফটাস করে ফেটে গেল যেন পর পর। আলোর ধুলো অন্ধকারে একটু ছড়িয়ে গেল। ধুলো ধুলো অন্ধকার স্ট্রিট ল্যাম্পের নিচে জমাট খাচ্ছে অবয়বে, ভেঙে যাচ্ছে নিরাবয়বে, তরলের মতো দুলছে। কে ওখানে?

কেউ না তো। তবে কে ওখানে স্থিরচিত্রবৎ? একটি দীর্ঘ দেহ কালো কাপড়ে ঢাকা। আলখাল্লার মতো প্রলম্বিত। লাইটপোস্টের নিচে। একশ গজ দূর থেকে মনে হচ্ছে একটা আলখাল্লাই বুঝি দণ্ডায়মান একা, কিন্তু অব্যর্থ লক্ষ্যভেদী। হঠাৎ লক্ষ্যভেদী কথাটাই বা মনে এল কেন সুপর্ণর?

বাস্টার্ড! ফেউ লাগিয়েছে অহনা?
ঘন কৃষ্ণবর্ণ আলখাল্লা নিশ্চুপ। গুড়ুম গুড়ুম করে মেঘ ডেকে উঠল। গলির বাতাসে শন শন করে খড়কুটো উড়ছে। ঠাস ঠাস পাখির ডিম মাটিতে পড়ে ফেটে যাচ্ছে স্ফুলিঙ্গে। যেন বারুদের গন্ধ ভরে রেখেছে কুসুমাদপি।

কে কাকে মারবে? সুপর্ণকে মারতে চায় কেউ? তাই এই গূঢ় রাত্রিকালে লাইটপোস্টের নিচে এলিয়েনের মতো কালো আগন্তুক?

মা বলেছিল বহুকাল আগে প্রমিথিউসের মতো। একলা নিয়তির মতো। মা কি মরে গেছে? সুপর্ণ এক ঝলক যেন ভুলে গেল, মা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে। মরে যাওয়ার আগে কি এই কালো আলখাল্লা মা দেখবে কিংবা দেখত? ওরে বুকাই( সুপর্ণর ডাকনাম), ওকে চলে যেতে বল। একটু কিছু যেন খেয়ে যায়। যা আছে, তাই দিস। নলেন গুড়ের সন্দেশ ছিল ফ্রিজে। দিস ওকে।

স্মৃতিনষ্ট মা গুনগুনিয়ে গাইছিল, 'কালা সে যে কালো নয় সই/ পিরিতি লাগিয়া কালী কাল যেন।'

ইউ ব্লাডি অ্যাশহোল! আমার পেছনে ফেউ লাগিয়েছে?

সুপর্ণ দৌড়চ্ছে বাড়ির দিকে। মধ্যযামের বৃষ্টি হয়ত আসছে রাত ফুঁড়ে। অসংখ্য কালো বেড়াল মশমশ করছে গলির কাটা কাটা আকাশের নিচে। পেছনে কে তাকায় সুপর্ণ? কালো আলখাল্লা স্থির লাইটপোস্টের নিচে। ইয়ার্কি করছি নাকি আমি শালা? আমি পঞ্চাশ লাখের ওপর এই বাড়িতে কাউকে ভাগ বসাতে দেব না। দরকার হলে অহনাকে দেয়ালে পুঁতে গেঁথে রেখে দেব। কেউ টের পাবে না।

ফের একবার পিছন ফিরে দেখল সুপর্ণ। দপ দপ করে জ্বলছে আগন্তুকের চোখের তারা। ঠিক যেন দুটো অঙ্গারপিণ্ড আঠা দিয়ে লাগানো। আলখাল্লার গায়ে বুকে এত জোনাকি কেন? কলকাতায় জোনাকিরা আজও আছে? তবে কি সুপর্ণ ভুল করে অন্য কোথাও চলে এসেছে অন্ধকারে? আলখাল্লার গায়ে জোনাকিরা ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, ক্ষুদ্রাকার আঁখিতারাফুল ছিটকে ছিটকে পুড়ে যাচ্ছে। এ কি কলকাতার মনসাতলা বাই লেন নয়? পাতিপুকুরের লাইনে মেল ট্রেনের শব্দ আসবে না এখনি?

সুপর্ণ দৌড়চ্ছে পায়ে পা জড়িয়ে। বারবার পিছু ফিরে দেখছে আততায়ীর অবয়ব কি? গেটের কাছে পৌঁছে দেখছে কোলাপসিবল গেটের গায়ে যেন অনেক মস ফার্ন, কষায় বর্ণের শ্যাওলা। ফোন বাজছে বুক পকেটে। আপিসের সহকর্মী প্রবাল ব্যানার্জি। শালা আমাকে ডিচ্ করবি স্কাউন্ড্রাল! মা বলেছিল, বুকাই একটু আস্তে হাঁটিস। পায়ের গোড়ালিতে বড়ো ব্যথা রে।

এখানেও তুই শুয়োরের বাচ্চা? যেখানে মরা শালিখ পাখিটা ঘুড়ির সুতোয় ঝুলছিল, তার পচা শুকনো মাংসের জমাট গন্ধের মতো কালো আলখাল্লা দণ্ডায়মান। সুপর্ণ জ্ঞান হারিয়েছিল। বমি করেছিল। অনেক রাতে চেতন এলে দেখেছিল বিছানায় এক উলঙ্গ সুপর্ণ।

ভেজানো দরজা খুলতে খুট করে একটু শব্দ হল। গোটা কলকাতা ফরেস্ট গাম্পের শেষ পালকের মতো উড়ে উড়ে ব্যালকনিতে নিশ্চেতন। অহনার ঘরের দরজায় অনেক ঘাসপাতা চোঁচ, মোষের চোখ আঁকা। মরা শালিখটা ঝুলছে। সিগারেট ধরাতে যে আলো জ্বালল লাইটার, এক নিমেষে নাইনথ সিম্পনি উগরে দিচ্ছে। মেঝের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে আছে ওরিয়ান চা বাগান। সুপর্ণ লাফ দেবে টয়লেটের দিকে?

সুপর্ণ মেঝেয় দাঁড়িয়ে পেচ্ছাপ করছে। তরল ইউরিনের জল গড়িয়ে গড়িয়ে অহনার দরজা ছুঁয়ে দিচ্ছে। আঃ এত টেমপারেচর কেন ডাইনিংয়ে? এত সাফোকেশন? যে সব তারারা অগণন ছিল, তারারা কুচি কুচি মৃত কাচের টুকরোর মতো পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে রান্নাঘরের দিকে। সব মশলার কৌটো শূন্য। বাসন কোসনে বহুকাল কেউ জল ছোঁয়নি বলে সাদা ফ্যাটফেটে নিরক্ত। ঝাঁকে ঝাঁকে জার্মান বিটস ঘোরে নিশ্চিন্তে।

সুপর্ণ পিছলে পড়ল নির্জলা টাইলসের ওপরে। জল চাই। গলায় জল দিতে হবে। ওই তো ফ্রিজ দেখতে পাচ্ছে। রান্নাঘরের দরজার বাঁ দিকে। ব্লিংক করছে অত্যাধুনিক টেকনোলজির মহার্ঘ্য ফ্রিজের কন্ট্রোল প্যানেল। মাইনাস তিন ডিগ্রি। জল দাও রাত। জল দাও। গলা শুকিয়ে আখের ছিবড়ের মতো। আঃ! মেরুদণ্ডে শির শির করছে পোকা। জল একটু পেলে সব বন্দোবস্ত।

ব্যালকনির দরজা খোলা কেন? দরজায় ও কে? ব্ল্যাক বাস্টার্ড? অহনার ঘরে থাকে বুঝি? অহনার সঙ্গে শোয়? ফ্রিজটা দড়াম করে ফেটে গেল। ডোরটা ছিটকে এসে লাগল সুপর্ণর কাঁধে। দরদর করে রক্ত পড়ছে। সুপর্ণ চেটে চেটে নিচ্ছে নিজের রক্ত। কালো আলখাল্লা হাঁটু গেড়ে বসেছে দরজার মুখে। তার বাইরে বর্হিপৃথিবী বলে সে বৃদ্ধ রামছাগলের মতো কেঁপে কেঁপে উঠছে।

কালো আলখাল্লা হাঁটু গেড়ে দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদছে। তার চোখ থেকে নামছে রেতঃধারা। চোখ থেকে রেতঃধারা? তবে যে এই এত শরীরের নিম্নগামী দাবী? তবে কি লিঙ্গে, এতদিনের পা দুটোয়, মালাকচাকিতে অশ্রুরা থাকে?

সুপর্ণ দরজা ভেঙে ফেলতে চাইছে। কোন দরজা? ব্যালকনির দরজার মুখে কালো আলখাল্লা। অহনার ঘরের দরজায় শহরের সব ট্রাফিক এসে দুমদাম মাথা গুঁতিয়ে ফেটে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এত ট্রাফিক? কাঁধের রক্তের দাগ নিয়ে ফ্রিজের দরজা পড়ে রয়েছে মেঝেয়।

সুপর্ণ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। শরীর এখন বুনো মোষ হোক। তাকে এই সব নকটার্নাল পেরিয়ে যেতেই হবে। এ সব মদের খোঁয়ারি। কালো আলখাল্লার বুকের ওপর আঁকা একটা খুব পরিচিত হাসি। বুকের ওপর হাসি? কার হাসি? কার স্থির হাসি একফালি ধারালো চাঁদের মতো? ইউ বিচ অহনা। ব্লাডি হোর। সুপর্ণ ফ্রিজের দরজাটা চেপে ধরল তুলে ছুঁড়ে মারবে অহনার দরজায়, নয়ত কালো আলখাল্লাকে।

তার চোখ গলে যাচ্ছে কেন? সুপর্ণর চোখের তারা নাক ঠোঁট কার্টিলেজ গলে গলে পড়ছে ফ্রিজের সাদা দরজার ওপর। মোমের মতো তরল যদি ঢেকে ফেলত পারত ব্লিংকড্ টেমপারেচর কোড। জলহীন শুষ্ক, মাইনাস তিন ডিগ্রি ফ্রিজিং পয়েন্ট।











1079 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

.
Avatar: b

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

দুর্দান্ত।
Avatar: San

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

দারুণ !
Avatar: বিজবিজ

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

পার্থসারথি গিরির শৈলী, ভাষা, দৃশ্যকল্প এসব তো অতুলনীয় এবং অবিশ্বাস্য রকম শক্তিশালী।

আমার একটা জিনিস নিয়ে খুঁতখুঁত - অ্যাবরশন - ক্যারিয়ারের জন্যে হোক বা যে কারনেই - এর সঙ্গে অবক্ষয় ইত্যাদি নেগেটিভিটির সংপৃক্ততা স্বস্তি দেয়না।

জানিনা, প্রতিক্রিয়াটা ঠিক হলো কিনা, শিল্পের জন্য শিল্প বা দায়বদ্ধতার জন্য শিল্প যেকোন অবস্থান থেকেই। যাগ্গে, অস্বস্তিটা ক'দিন ধরে মাথায় বসে আছে। নট ডান - এইরকম মাথায় বিজবিজ।
Avatar: pi

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

বিজবিজের তিনটে প্যারা নিয়েই ক।
জাজমেন্টাল লেগেছে কিছুটা, অনেকটা সেই উত্তম সুচিত্রা সিনেমায় প্রি করা নৈতিকতার আভাস যেন, শুধু আবরশন বলেই নয়, কেরিয়ার টাকাপয়সা উন্নতি মানেই 'অবক্ষয়' ইত্যাদি। তবে অবশ্যই লেখকের ভাষা শৈলীর টানেই পড়ে ফেলা যায়, একাধিকবার, মনে থেকেও যাবে বেশ কিছু দৃশ্যকল্প।
Avatar: দ

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

হ্যাঁ হ্যাঁ বিজবিজ-এর মতই আমারো খুব অস্বস্তি হয়েছে। ওইজন্যই কোন মন্তব্য না করে
Avatar: দ

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

হ্যাঁ হ্যাঁ বিজবিজ-এর মতই আমারো খুব অস্বস্তি হয়েছে। ওইজন্যই কোন মন্তব্য না করে ভাসিয়ে দিয়ে গেসলাম। আরো একটা জিনিশ হল ফার্স্ট প্রেগন্যান্সি অ্যাবর্ট করলেই পরে আর কনসিভ করতে পারে না এটা মিথ। এই মিথ এখানে একটু হলেও যেন সমর্থন যুগিয়ে গেছে সেটাও একেবারেই ঠিক লাগে নি।
Avatar: b

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

মনে হয় নি লেখকের এমত কোনো লুকনো নৈতিক এজেন্ডা আছে বলে। গল্পটা ঠিক ইউনিভার্সাল নয়। যে দম্পতি সন্তান চান না, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। তাঁদের কথা এই গল্পে আসে নি। যেখানে এক পক্ষ (বা উভয় পক্ষই) সন্তান চায় , অথচ জৈবিক বা অন্য কারণে সন্তানাদি না হলে কিছু ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর দূরত্ব বাড়তে থাকে। এটা, কি বলব, একেবারে কাছ থেকে দেখা ও ফিল করা।। সা নি নয়, একেবারে কাঁ বা।
Avatar: দ

Re: মাইনাস তিন ডিগ্রি

না লেখকের।কোন লুকানো বা প্রকাশ্য অ্যাজেন্ডা আছে এটা আমিও মনে করি না। কিন্তু... কিন্তু গল্পটা তার যাবতীয় গুণ সত্ত্বেও কিছু 'নট ডান' ব্যপারকে আলতো জাস্টিফিকেশান টাইপ দিয়ে গেছে অগোচরেই। সেইজন্যই অস্বস্তি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন