জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য RSS feed

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্যের খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রিকশাওয়ালা

Lilaboti Lb

আব্বু কথা রেখেছেন। তিনবার ইন্টারমিডিয়েট ফেল করার পর আমার বোনের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন রিকশা‌ওয়ালার সাথে। সব বাবাই যদিও এরকম কথা রাগ করে বলেন কিন্তু আমার আব্বু এক কথার‌ মানুষ। বলেছেন এবং দিয়েছেন।

আমার রিকশা‌ওয়ালা দুলাভাইকে নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত। যখন তখন আমার সাথে এসে শালী শালী বলে ঢং করেন লোকের মধ্যে আমার খুবই বিরক্ত লাগে।

ভয়ে ভয়ে আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করছি। আমি ফেল করতে চাইনা। আমি রিকশা‌ওয়ালা বিয়ে করতে আগ্রহী ন‌ই।

দুলাভাইয়ের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা জানতাম না। আব্বু একদিন ওনার রিকশায় বাজার করে ফিরছিলেন তখন উনি আব্বুর সব বাজার নিজে হাতে করে বাসায় পৌছে দিয়ে গেছেন দেখে আব্বু মুগ্ধ হয়েছেন। যার ফলস্বরূপ ওনার সাথে আমার বোনের বিয়ে। কিন্তু ওনার ফ্যামিলির সাথে আমাদের এখনো দেখা হয়নি। দুলাভাই সারাদিন রিকশা চালিয়ে বাসায় এসে ঘাম মুছতে মুছতে ডাকেন,"ও ব‌উ,ও শালী!পানি দেও।''

মনের দুঃখে আমার বোন কয়েকবার আত্নহত্যা করতে গেছে। প্রতিবার‌ই আব্বুর কাছে জোরসে থাপ্পড় খেয়েছে।

দুলাভাইকে আমার বোন দেখতে পারে না। রাতে আমার ঘরে এসে থাকে আর সারারাত কাঁদে, "লাবণ্য এ আমার কি হয়ে গেল রে!! আমার বয়ফ্রেন্ড ছিল সরকারি অফিসার আর আমার বিয়ে হয়ে গেল একটা রিকশা‌ওয়ালার সাথে রে!!!"😭😭😭

আপুকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই। সামনে আমারো রেজাল্ট আমি খুবই আতংকে আছি। হয়তো আমার বর হবে এক অটো‌ওয়ালা। তারপর দুই ভায়রা-ভাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকালে একজন অটো নিয়ে বের হবে একজন রিকশা। এদিকে আমরা দুই বোন প্রাইভেট কার ছাড়া কোথাও যাই না। কি একটা অবস্থা!

দুঃশ্চিন্তায় শিউরে উঠে আমার আর সেই রাতে ঘুম হয় না।😰😰

আমার বিদেশ থাকা ফুপী বাসায় এসেই চিল্লাচিল্লি শুরু করেছেন! আব্বুকে বলছেন,এইটা তুমি কি করলা? এতবড় ক্ষতি কেউ নিজের মেয়ের করে? এরচেয়ে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতা, আমি কি মরে গেছিলাম?

এসব বলতে বলতে দুলাভাইয়ের কাছে গিয়ে রাগী গলায় বললেন,"you scoundrel! How dare you? I will sue you!!"

দুলাভাই বললেন, "You can't,bcz she is my legal wife. And whatever, I have no mistakes actually.."

আমরা সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি দেখে দুলাভাই আবার বললেন, "আমিও ভালো ঘরের সন্তান।আমিও ইন্টার ফেইল। ইংরেজিতে ভালোই ছিলাম অংকে ধরা খাইছি। এজন্য আমার আব্বুও আমাকে রিকশা কিনে দিছে!"

Written by- Jannatul Firdous

582 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Lilaboti Lb

Re: রিকশাওয়ালা

বুড়োকালে আমার খালার আবার মেয়ে হয়েছে। আঁতুরঘরে খালা আমাকে লজ্জিত গলায় বললেন, জানিস তো, তোর খালুর একটা মেয়ের কত শখ। তোদের কত ভালোবাসে! আমারতো দুইটাই ছেলে।

আমি বললাম, যা হয়েছে খুব‌ই ভালো হয়েছে খালা। অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে উঠে আমি একটা ছোটবোন পেয়েছি। ইন্টার পড়ার সময় বিয়ে হলে আমার ছেলেমেয়ে তোমার মেয়ের চেয়ে বড় হতো। হয়নি তাতে কি আমার ছোটবোন হলেও চলবে।

খালা একটু মাথামোটা বিধায় অনেকক্ষণ ধরে আমাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। আমি ঠাট্টা করছি না সিরিয়াসলি বলছি সেটাই ধরার চেষ্টা করছেন। শেষ অব্দি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে আমি ঠাট্টা করছি। সুতরাং রেগে গিয়ে বললেন, বের হ! ঘর থেকে বের হ! রম্য পত্রিকায় লেখালেখি করে তুমি লায়েক হয়েছ? মা-খালার সাথে রম্য?

বিপদ দেখে আমাকে বেরিয়ে আসতে হলো।

খালা আমাদের বাসায়‌ই আছেন আপাতত। খালু আর্মির চাকরী করেন। সুতরাং বাচ্চার দেখাশোনার জন্য খালাকে আম্মু এখানেই রেখে দিয়েছেন।

বাচ্চা হ‌ওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত খালু লজ্জায় আমাদের বাসায় আসেননি। আব্বু কয়েকবার ফোন দিয়েছেন। ব্যস্ত আছি,কাজের চাপ ইত্যাদি বলে কাটিয়ে দিয়েছেন। মেয়ের বয়স তিনমাস এগারোদিন হ‌ওয়ার পর খালু এলেন। মিষ্টি হাতে নিয়ে লাজুক ভঙ্গিতে ড্রয়িংরুমে বসে আছেন। আমি খালাকে ডেকে নিয়ে এলাম। খালা এসেই লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিলেন,

-বাচ্চার বাপ হ‌ওয়া এত‌ সোজা না। তিনমাস ধরে আমি কষ্ট করছি উনি এখন আসছেন আত্নীয়ের মতো মিষ্টি হাতে নিয়ে। লাবণ্য, মিষ্টি ছুড়ে ফেল।

আমি মিষ্টি ছুড়ে ফেললাম না। আমার খুব পছন্দের মিষ্টি। সুতরাং মিষ্টি নিয়ে আমি আমার ঘরে চলে গেলাম।

ঘটনা এইখানেই থামল না। খালা খালুকে মেয়ে কোলে নিতে দিলেন না। খালু লজ্জায় এতটুকু হয়ে গিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে আছেন। আমি তারজন্য চা নিয়ে গিয়ে তারপাশে বসলাম। বললাম, খালু, এত আপসেট হবেন না। খালার রাগ বেশীক্ষণ থাকে না জানেন‌ই তো!
:হু
-আপনার মেয়ে খুব সুন্দর হয়েছে।
:হু
আমি প্রশ্ন করলাম, আচ্ছা খালু! একটা মেয়ে কেমন একটা দেখায় না? মানে আপনার দুইটা ছেলে দুইটা মেয়ে যদি থাকত! মানে আরেকটা মেয়ে থাকলে.....

খালু দুঃখী চোখে তাকিয়ে আছেন! নাহ, খালুর সাথে মশকরা না করাই ভালো। আমিতো হিমু না যে খালুর সাথে ঠাট্টা করব। আর আমার খালাও মাজেদা খালা না।

আব্বুর সাথে খালু ভাত খাইতে বসেছেন। আব্বু আর খালু আবার একসময়কার বন্ধু। দুইজন প্লানিং করেই এক পরিবারের দুইবোন বিয়ে করেছেন। কিন্তু ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে খালু আব্বুকে ছাড়িয়ে গেছেন তা দেখাই যাচ্ছে। আব্বু দুঃখী গলায় বললেন,এইটা কোন কাম করলি তুই? বুড়োকালে বাচ্চার বাপ! ছেলের বিয়ে দিলেই তো একটা নাতনী পেয়ে যেতিরে গাধা!
খালু হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়ছেন। একবার পুর্বে একবার পশ্চিমে।
আব্বু চোখ টিপ দিয়ে বললেন, তোর মেয়ে সুন্দর হয়েছে তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যাবে। আমার মেয়ে আর তোর মেয়ে একসাথে বিয়ে দেব।

খালুর গলায় খাবার বেঁধে গেছে। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে পানি ঢেলে দিলাম। খালু একটু ধাতস্থ হতেই আব্বু আমার দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় বললেন,আড়াল থেকে কথা শুনছিলা?
আমি নিচু গলায় প্রায় বললাম,আসলে কখন কি লাগে সেজন্য আম্মু বললো....
:ও তোমার আম্মু স্পাই লাগিয়েছে?
আমি কথা বললাম না। আম্মু স্পাই লাগায়নি। আমি নিজে থেকেই দাঁড়িয়ে আছি।
আব্বু বললেন, আমাদের খাওয়া শেষ হলে তোমার ছোটবোনরে নিয়ে আসবা। বাপ মেয়ে দেখেনি এইটা কোন কাজের কথা না।
'জ্বী আচ্ছা' বলে আমি সেখান থেকে পালালাম।

খালাকে কোনক্রমে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আমি আর আম্মু মিলে ছোটবোনকে খালুর কোলে দিলাম। খালু প্রথমে খানিকক্ষণ কাঁদলেন। তারপর গলায় একটা চেইন পরিয়ে দিলেন। বললেন,এত সুন্দর হয়েছে আমার মেয়ে!
আব্বু বললেন, সুন্দর হয়েছে এই মেয়ে নিয়ে‌ থাক। আর এই বিষয়ে ভাববিও না। তিনটা সন্তান যথেষ্ট। কয়দিন পরে আমার মেয়ের বিয়ে দেব। নাতি-নাতনী হবে তার ভেতর দেখা যাবে তোর আরেকটা মেয়ে হ‌ইলো।

"ছেলেও হ‌ইতে পারে,সেইটা তো আমাদের হাতে না,সব‌ই ভাগ্য" খালু বললেন।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে সব‌ই ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে খালু মেয়ে কোলে নিয়ে বসে আছেন। আমরা সবাই তাকিয়ে আছি তার দিকে। আবারো??? 😵😵

Written by- Jannatul Firdous
Avatar: r2h

Re: রিকশাওয়ালা

হাহাহা, চমৎকার!
মাঝের গল্পটা বেশী ভালো লাগলো। নোবেল ফুপাও এখানে রেখে দিলে একসঙ্গে থাকে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন