সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পাতিহাঁস

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

ছোটবেলা থেকেই ইতিহাসে আমার হেবি ভয় ছিল, চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর নাম শুনে ভাবতাম সিওর হয় ওর চুল ধরে কেউ টানত, নয় ও কারুর চুল ধরে টানত, তাই ঐরকম নাম। তার ওপরে বুদ্ধদেবের বংশপরিচয় আর সুকুমার রায় মাথায় মিলেমিশে এরকম একটা ছড়া হয়ে গেছিল -

শাক্যরাজা শুদ্ধোদন
সাতসকালে দিতেন ডন,
শ্যাম লাহিড়ী বনগ্রামের
কী যেন হয় গঙ্গারামের…

ইত্যাদি।

এর ওপরে আবার যখন জানলাম আমাদের ছবি বিশ্বাসের পূর্বপুরুষ ছিল গৌড়রাজ শশাঙ্ক, তখন পুরোই ঘেঁটে গেলাম। মানে 'সুদখোরের টাকায় আমার একমাত্র ছেলের উপনয়ন হতে পারে না তারাপ্রসন্ন'-র দাদুর দাদুর দাদুর দাদুর…দাদুর দাদু ছিল প্রভাকরবর্ধনের ছেলে রাজ্যবর্ধনকে হত্যা করা শশাঙ্ক! হোলি ফাদার! কী ভয়, কী ভয়! তার ওপরে আবার ইউরোপের ইতিহাসও পড়তে হত! শালা, ওখানকার রাজাগুলোর নামও জুটত না ছাই, সেই কোন আদ্যিবুড়োর বদ্যিকালে (কেউ ভুল ধরবে না - ইচ্ছে করে লিখেছি) হেনরি, চার্লস এইরকম গুটিকতক নাম শালারা আবিষ্কার করেছিল, তারই সামনে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় গুঁজে গুঁজে শালারা বংশকে বংশ কাটিয়ে গেছে! কোনও কোনও শালা এতই ঢ্যামনা ছিল যে ষোড়শ, সপ্তদশ অবধি উঠেছিল! কোনও মানে হয়? আমাদের নাম যদি চতুর্থ অনিরুদ্ধ কি সপ্তম প্রিয়াঙ্কা হত তা'লে কেমন লাগত?? তার ওপরে আরেক পাবলিক হচ্ছে রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়। দিব্যি সব ঠিক চলছিল, দুম করে হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়ো আবিষ্কার করবার কী ছিল? একে বলে চুলকুনি ওঠা! পোড়ামাটির গয়না, পুঁতির হার, জলনিকাশী ব্যবস্থা হ্যানোত্যানো! যত্তসব! এই অবধি তবু একরকম চলেছিল, কলেজে উঠে আবার শুনলাম কার্ল মার্ক্স নাকি বলেছে ইতিহাস-ফিতিহাস এতকাল যা পড়েছি সব মিথ্যে, ওগুলোকে সব গঙ্গার জলে বিসর্জন দিতে। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে মানুষের আসল ইতিহাস হল নাকি শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। মানে 'শ্রেণিতত্ত্ব ও পুঁজিবাদ' না ঐরকম কী একটা নামের একটা পাতলা চটি বই কোত্থেকে তুলে এনেছিলাম যেন৷ পড়ে আরও ঘেঁটে গেলাম। দেখলাম লেনিন হাত তুলে চীৎকার করছে। আর বলছে "…একটি মিথ্যা বারবার বলা হলে তা সত্যে পরিণত হয়।" শুনে ভাবতে লাগলাম আমি ছোটবেলা থেকে কী কী মিথ্যে বারবার বলেছি আর তা সত্যে পরিণত হয়েছে কি না। সে কী ভয়, কী ভয়! তারপর পড়লাম রেনেসাঁস ও প্রাচীন গ্রীক সমাজ। দেখি সক্রেটিস খালি গায়ে একটা লুঙ্গি টাইপের কী একটা পরে শুয়ে শুয়ে একটা পেয়ালা থেকে বিষ খাচ্ছে আর প্লেটো তার পায়ের কাছে বসে আছে। সক্রেটিসের সে কী বডি মাইরি! পুরো সিক্স-প্যাক অ্যাবস! যাই হোক, কলেজটা এর'ম করে করেই কেটে গেল। অনেক কিছু জানলাম-টানলাম। যেমন, দ্বারকানাথ ঠাকুর হেবি মদ খেত আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাদম্বরীকে ঝাড়ি মারত। পড়ে পড়ে যখন সব জেনে গেছি ভাবছি, তখনই হঠাৎ সেদিন দুম করে দেখি রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় শেক্সপিয়ারকে পাকড়েছে। বলছে সত্যি কথা বলো। আরও বলছে খুনের দায়ে অভিযুক্ত মহাকবি। পাশে একটা সেক্সি মেয়ে আর একটা বালিঘড়ি। দেখেই এমন ঘাবড়ে গেলাম যে ফেসবুক বন্ধ করে দিলাম। কী ভয়, কী ভয়!

381 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: পাতিহাঁস

আঁ!! 😝😝😝


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন