Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

যুদ্ধ নিয়ে শেষ কথা হচ্ছে যারা যুদ্ধ করে তাঁরা যুদ্ধ চায় না, যারা বা যাদের যুদ্ধে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই তাঁরাই যুদ্ধের পক্ষে রায় দেয়। সোজা এবং সরল কথা এটা। কয়েকদিনের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের উত্তেজনায় এ কথা আরও বেশ ভাল ভাবে প্রমাণ হয়ে গেছে।ভারতীয় জনগণ কেন যুদ্ধ চায় তার হয়ত নানা ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে, পাওয়া যাবে পাকিস্তানের পক্ষেও। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে বাংলাদেশের মানুষ কেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ চাচ্ছে তার কোন উত্তর নেই। উত্তর বোধহয় উপরের কথাটাই, যাদের যুদ্ধ করার সম্ভাবনা নাই তাঁরাই যুদ্ধ চায়…

এই কয়দিনে যে উত্তেজনা পুরো দেশ জুড়ে তাতে যুদ্ধ না বাঁধলে বিপুল সংখ্যক মানুষ যে হতাশ হয়ে যাবে এই দেশের তা এক প্রকার নিশ্চিত। এবং যুদ্ধ বাঁধলে এখানে যে কোন কারন ছাড়াই বেশ কিছু গণ্ডগোল হবে তাও এক প্রকার নিশ্চিত। আমরা এইটা বেশ ভাল পারি, এটা তো প্রতিবেশী দেশের মাঝে সত্যি সত্যি যুদ্ধ, আমরা তো আরেক মহাদেশের দুই দেশে মাঝে ফুটবল খেলা হলেও নিজেরা নিজেরা মারামারি করে মাথা ফাটাই!

পাকিস্তানের সাথে আমাদের পুরনো হিসেব অনেক বাকি। বহু রক্তের হিসেব নিতে হবে, ম্যালা চুরি জারির হিসেব দিতে হবে পাকিস্তানকে। কিন্তু তারপরেও শুধু মাত্র পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ বলেই একটা আমান আস্ত যুদ্ধের পক্ষে তো মত দেওয়া যায় না, পাকিস্তান হলেও না।বেশ কিছুদিন আগে কোন এক ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশি কোন এক টিভি চ্যানেল পাকিস্তানের সাথে শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতি খেলা দেখাচ্ছিল। সম্ভবত কোন কারনে আগের দিনের বাংলাদেশের প্রস্তুতিমূলক খেলা দেখাতে পারেনি ওই চ্যানেল। তো যা হওয়ার তাই হল। অতি পাকিস্তান বিরোধী লোকজন গালিগালাজ শুরু করে দিল। আমি বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করেছিলাম, খেলা কি পাকিস্তান একা একাই খেলছে? নাকি বিপক্ষ দল বলেও কেউ আছে? কেউ তো শ্রীলঙ্কার খেলাও দেখতে চাইতে পারে!! অনেকেই মনে করে যুদ্ধটা বুঝি একা একা পাকিস্তানই করবে, অন্য কারো কিসছুটি হবে না। ভারত আক্রান্ত হলে যে তার প্রভাব এই ছোট্ট গরিবের দেশের ওপরেও পড়বে তা হিসেব করার সময় কই? আমরা তো পাকিস্তানের বিপক্ষে।

শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ বলে যুদ্ধ চাচ্ছে এমন আর কয়জন? বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতি এখন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হচ্ছে বলে যুদ্ধ চাচ্ছে এমনও। সে ক্ষেত্রে আবার পাকিস্তানও সই! এমন উদাহরণ আবার ক্রিকেট দিয়েই দেওয়া যায়। একবার কোন এক টুর্নামেন্টে জনৈক দেশপ্রেমিক(!) বাংলাদেশের হেরে যাওয়া প্রত্যাশা করেছিল! কারন কী? কারন হচ্ছে তাহলে দ্বিতীয় পর্বে যেতে যে সমীকরণে তাতে ভারতের অসুবিধা হবে। যেহেতু ভারতের অসুবিধা হবে তাহলে নিজের দেশ হেরে গেলেও রাজি!! পাকিস্তান প্রেমীতে যে দেশ যে উপচে পড়ছে তা কষ্টকর, দুঃখজনক হলেও সত্য। চাপা উল্লাস অনেকের মনে মনে, কেউ কেউ মুখেও, পাকিস্তান একজন ভারতীয় বিমান সেনা কে আটক করেছে!! তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পাকিস্তান না, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীই এই কাজ করেছে! এই লজ্জা রাখার জায়গা নাই।

পুরো পৃথিবীতে যখন অর্থের অভাবে মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, ক্ষুধার কষ্টে না খেয়ে দিন পার করছে, যখন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, মৌলিক চাহিদা কে মনে হয় বিলাসিতা, যখন যুদ্ধ জিনিসটাকেই জাদুঘরে পাঠানোর সময় এসে গেছে তখন যত বড় অকাট্য যুক্তিই থাকুক না কেন যুদ্ধ কে সমর্থন দেওয়া যায় না। শুধু ভারত পাকিস্তান না, পৃথিবীর যে প্রান্তে যখন যুদ্ধ হবে তারই বিপক্ষে দাঁড়াতে হবে, এর কোন বিকল্প নাই। কোটি কোটি টাকা শুধু আরেকজন কে মারার জন্য ব্যয় হবে, ব্যয় হবে ধ্বংসের জন্য, ব্যয় হবে মানুষ মারার জন্য আর তাতে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাব? তাহলে ক্ষুধা মুক্ত পৃথিবীর কী হবে? সবার জন্য শিক্ষার কী হবে? যে শিশু আজকে ভূমিষ্ঠ হল তার অধিকারে কী হবে? যুদ্ধটা টিভি মনিটরে দেখা সিনেমা না, কম্পিউটার মনিটরের কোন ভিডিও গেম না। এতে মানুষ মারা যায়, এতে রক্ত ঝরে, ছেলে তার বাবাকে হারায়, পিতা তার সন্তান কে হারায়, মানুষ তার গৃহ হারায়, বাস্তুহারা হয়। ঈশ্বর আবার সবার কষ্টের মাত্রাও একই করে দিয়েছেন। আপনি আপনার সন্তান হারালে যে কষ্ট পাবেন, বিশ্বাস করুণ, বিন্দুমাত্র কম কষ্ট পাবে না ওই ভিন্ন দেশীরা। আমাদের চাওয়া হোক আর একটা শিশুও যেন পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে না যায়, আমাদের প্রত্যাশা হোক যুদ্ধের কারনে কোন সন্তানই যেন আর তার পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয়।শুভ বুদ্ধির উদয় হোক সকলের। শান্তি ফিরে আসুক ধরিত্রীর বুকে।




886 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: চয়ন মান্না

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

ইউটিউব খুলে দেখুন, অজস্র বাংলাদেশী মানুষ পাকিস্তানের সমর্থক। কারণটা সম্ভবত ধর্ম
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

ভাই চয়ন মান্না, আমার ইউটিউব খুলে দেখার দরকার নাই। আমি নিজেই তো বাংলাদেশী। আমি ভাল করেই জানি এখানকার পরিস্থিতি। আমার লেখায় কোথাও তা অস্বীকারও করিনি। পাকিস্তান কে সমর্থন শুধু ধর্মের জন্য করে তা বললে ভুল বলা হবে। এখানে বাংলাদেশের রাজনীতি একটা বড় ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তান পন্থী রাজনীতি এখানে লালন করা হয় ঠিক যেমন লালন করা হয় ভারত বিরোধী রাজনীতি। বড় দুইটা দল তাদের প্রধান ট্রাম কার্ড হিসেবে এই দুইটা খেলা খেলে সব সময়। যাই হোক, ধন্যবাদ আপনাকে।
Avatar: Biplob Rahman

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

পাকি প্রেম প্রশ্নে সাদেকুজ্জামান শরীফের সাথে একমত। বাংলাদেশের বিএনপি- জামাত গোষ্ঠী বহু বছর ধরে ভারত বিদ্বেষ ছড়িয়ে আসছে। বিপরীতে আদর্শ দেশ হিসেবে পাকিস্তান- আফগানিস্তানকে দাঁড় করিয়েছে। ধর্মীয় জিকির তো আছেই। তবে মুখ্য রাজনীতি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বাম বুর্জোয়া দলগুলোর ভারত প্রীতি এবং ওতপ্রত সখ্য, "ভারতীয় আগ্রাসন" বিরোধী দ্বেষপ্রেমে হাওয়া দিয়েছে।

কাজেই উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী, তাদের ছেলেপুলে, নাতিনাতনি ও তস্যরা পাকিস্তানকে খেলা বা যুদ্ধে অন্ধ সমর্থন দেবেন, এটাই স্বাভাবিক।

তবে তারা সংখ্যায় তেমন নয়। গুলশানে হলি আর্টিজানে জংগি হামলার পর সরকার যে ক্র‍্যাশ প্রোগরাম নিয়েছে, তাতে জংগি গোষ্ঠীর পাশাপশি বিএনপি- জামাত চক্রেরও কোমর ভেংগে গেছে। এটাই আপাতত স্বস্তির কথা।
Avatar: দ

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

কিন্তু সাদেকুজ্জমান, এই 'পাকিস্তনপন্থী রাজনীতি' ব্যপারটাই তো ধর্মের কারণে। ধর্মছাড়া আর কী কারণে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের একটা অংশ সমর্থন করে?
ধরুন যদি ভারতের সাপেক্ষে ধরি তো পসকো, কুদানকুলাম বা সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম এগুলোতে রাজনীতি আছে, খুবই আছে বিভিন্ন পক্ষের। কিন্তু তাতে ধর্ম কোন রোল প্লে করে নি। কিন্তু এখনকার এই গোরক্ষা হেন তেন এই রাজনীতির চালিকা হল ধর্ম।

সেইরকম পাকিস্তানপন্থী হওয়ার চালিকাশক্তি তো ধর্মই, নাকি?

Avatar: aranya

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

দ-এর এই প্রশ্ন-টা আমারও ছিল।

আরও একটা প্রশ্ন - বাংলাদেশ জন্মের সময় তার কোন রাষ্ট্রধর্ম ছিল না। মুজিব হত্যার পর জেনারেল জিয়া প্রেসিডেন্ট হন এবং তার অবদান - 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম'।

সংবিধান থেকে এই 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' - ক্লজ-টাকে সরানোর জন্য কী কোন চেষ্টা হচ্ছে?

ধর্মনিরপেক্ষ দেশ কিন্তু 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' - এ একটা সোনার পাথরবাটি-ত মত ব্যাপার। ধর্ম আর রাষ্ট্র-কে আলাদা না রাখাটা রিগ্রেসিভ-ও বটে
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

আপত দৃষ্টিতে তো ধর্মই মূল কারন বলে মনে হবে কিন্তু আসলেই কি তাই? রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম করা হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করতে হবে বলে কখনও কি কোথাও কোন প্রকার দাবি জানানো হয়েছিল বা কোন আন্দোলন হয়েছিল? কিসছু হয় নাই। এখানে ধর্ম কে শুধু মাত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যে সাধারণ ধর্মীয় অনুভূতি তাকে ব্যবহার করে জিয়া নিজেকে খুব ইসলাম প্রিয় হিসেবে বোঝাতে চেয়েছে। বর্তমানেও ভারত বিদ্বেষ কিংবা পাকিস্তান প্রেম সবই ওই একই কারনে। রাজনৈতিক কারনে ব্যবহার করা হচ্ছে এই ইস্যুটা আর কিছু না। যদি গোল আলু দরকার হত তাহলে তাঁরা গোল আলুই ব্যবহার করত। আর পাকিস্তানপন্থী হওয়ার চালিকা শক্তির কথা বলছেন? পাকিস্তানপন্থী হওয়ার মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে ভারত বিরোধিতা।
আমি ধর্ম কে অস্বীকার করছি না। মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই বলে সব জায়েজ করে নেওয়ার মন মানসিকতা অনেকেরই আছে। তবে সম্ভবত মূল কারন তা না। ধন্যবাদ।
Avatar: Atoz

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

এখন সংবিধান থেকে ক্লজটা সরাইয়া দিলেই তো পারেন, এখন তো আর জিয়া নাই।
Avatar: aranya

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

ধর্ম-কে ব্যবহার করা হয়েছে - খুবই ঠিক কথা, ১০০% সহমত।
সমস্যাটা হল - একটা সেকুলার দেশের সংবিধান পালটে যদি 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' করা হয় এবং এত বছরেও নাগরিক সমাজ থেকে কোন প্রতিবাদ না হয়ে থাকে, সেটা খুবই দুর্লক্ষণ। ভারতের সংবিধান বদলে 'রাষ্ট্রধর্ম হিন্দুত্ব' করা হলে যেমন প্রতিবাদ হবেই।
ধর্ম এবং রাষ্ট্র/সরকার-এর পৃথক না থাকা-টা রিগ্রেসিভ। ধর্ম ব্যক্তিগত চর্চার বিষয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাকে আনার কথা না। রাষ্ট্রের সাথে ধর্ম-কে মেশালে ব্ল্যাশফেমি আইনে যে কাউকে জেলে পাঠানো যায়, নাস্তিক ব্লগার-দের হত্যাকারীরা উৎসাহ পায়, তারা জানে যে সরকার তাদের শাস্তি দিতে তেমন মনোযোগী হবে না।
ব্লগার হত্যার প্রসঙ্গে অভিজিৎ-এর কথা মনে পড়ল। কত বছর কেটে গেল, তার খুনি-রা এখনও ধরা পড়ে নি। দেশের বেশির ভাগ মানুষ জঙ্গী নন, কিন্তু ব্লগার হত্যার প্রসঙ্গ এলে তারা নিন্দা করেও একটা 'কিন্তু' যোগ করেন - কিন্তু সে ব্লগার কেন ইসলাম-এর বিরুদ্ধে কথা বলল। এই মনোভাব-এর লোকেরা যে 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' -এ কোন সমস্যা দেখবেন না, বরং খুশী-ই হবেন, তাতে বিস্মিত হই না।
বাংলাদেশ আমার পূর্বপুরুষের জন্মভূমি, হৃদয়ের খুবই কাছের। খারাপ লাগে, যখন মনে হয় জন্মমূহুর্তে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ ধীরে ধীরে 'বাংলাস্তান'-এ পরিণত হচ্ছে। আবার গর্ব-ও হয়, যখন দেখি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-এ কত উন্নতি করছে, মেয়েদের ক্ষমতায়্ন হচ্ছে।
ধর্মের এই গেরো থেকে বেরোতে পারলে ভাল হত , এই আর কী। বর্তমান পাকিস্তানে যদি বলি 'আল্লা-র অস্তিত্বের কোন প্রমাণ নেই, তাই তাকে মানা সম্ভব নয়' - তাহলে ব্ল্যাসফেমি আইনে মৃত্যুদন্ড হবে। বাংলাদেশে অতটা হবে না, তবে জেলযাত্রা নিশ্চিত। অথচ আল্লা বা কোন ঠাকুর-দেবতারই অস্তিত্বের প্রমাণ নেই, এটাই তো সত্য, মানুষের তা প্রকাশ করার স্বাধীনতা থাকা দরকার।

Avatar: aranya

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

আর একটা পয়েন্ট, ভারত বিরোধীতা মানেই পাকিস্তান-পন্থী - এটার কোন মানে নেই।
পৃথিবীর ইতিহাসে কুখ্যাত জেনোসাইড-গুলোর একটা পাক আর্মি বাংলাদেশে ঘটিয়েছে - ৩০ লক্ষ মানুষ খুন হন, কারণ তারা য্থার্থ মুসলিম নন, ৬ লক্ষ নারী ধর্ষিতা হন, কারণ তারা গণিমতের মাল।

এর পরেও যদি বাংলাদেশের মানুষ পাক-পন্থী হয়, কারণ তাদের ধর্ম এক, তাহলে কিছু বলার থাকে না। ধর্ম এক হলেও কিন্তু ৭১-এ বাংলাদেশী মুসলিম সাধারণ মানুষ, পাক সেনার হাতে রেহাই পায় নি।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা...

ভাই aranya, আপনার কথায়ই কিন্তু উত্তর আছে। ধর্ম এক বলেও যেমন পাকিস্তান আমাদের কে রেহাই দেয়নি তেমন ধর্ম এক বলেই পাকিস্তান কে সমর্থন দিচ্ছে সবাই তাও না। ধর্ম একটা কারন কিন্তু একমাত্র বা সবচেয়ে বড় কারন সম্ভবত না। আর রাষ্ট্র ধর্মের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ হয়নি কে বলল? পর্যাপ্ত না হয়ত কিন্তু হয়েছে বা হচ্ছে। ব্লগার হত্যার সময় থেকে শুরু করে হলি আর্টিজেন, এই সময়টা খুব খারাপ সময় গেছে দেশে জন্য। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে। ধীরে হচ্ছে কিন্তু হচ্ছে। ধর্ম নিরপক্ষ অবস্থায় একদিন যাব তেমন আশা এই মুহূর্তেও বেশি মনে হচ্ছে কিন্তু একদিন যে হবে তা নিশ্চিত। বাংলাদেশ কোনদিনই বাংলাস্থান হবে না। এইটুকু নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন