Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...
  • অলোক রায় এবং আমাদের নবজাগরণ চর্চা
    সম্প্রতি চলে গেলেন বাংলার সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক অলোক রায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ছয় দশক জুড়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ...
  • দুই ক্রিকেটার
    ক্রিকেট মানেই যুদ্ধু। আর যুদ্ধু বলতে মনে পড়ে ষাটের দশক। এদিকে চীন, ওদিকে পাকিস্তান। কিন্তু মন পড়ে ক্রিকেট মাঠে।১৯৬৬ সাল হবে। পাকিস্তানের গোটা দুয়েক ব্যাটেলিয়ন একা কচুকাটা করে একই সঙ্গে দুটো পরমবীর চক্র পেয়ে কলকাতায় ফিরেছি। সে চক্রদুটো অবশ্য আর নেই। পাড়ার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

Green Book - just a masterpiece

Muhammad Sadequzzaman Sharif

Tony Lip Vallelonga একজন নাইট ক্লাবের বাউন্সার।তিনি একজন অল্পশিক্ষিত ইটালিয়ান আমেরিকান।তার চরিত্রের মধ্যে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি এক রোখা, এগুয়ে, জেদি, দুনিয়ায় চলার তার সম্পূর্ণ নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে, প্রচুর খেতে পারেন, সমস্যা সমাধানের অদ্ভুত দক্ষতা আছে, বাস্তববাদী, কালোদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ভাল না এবং নীতি ঠিক রেখে টাকার জন্য সব কিছুই করতে রাজি। নাইট ক্লাব সাময়িক ভাবে বন্ধের জন্য চাকরি খুঁজছেন তিনি। লোভনীয় অফার সহ চাকরি পেলেন D. Don Shirley নামের একজন পিয়ানিস্টের গাড়ি চালক এবং দেহরক্ষীর কাজ। পিয়ানিস্ট আমেরিকার দক্ষিণ দিক ঘুরে ঘুরে কনসার্ট করবেন আর টনি লিপের দায়িত্ব হচ্ছে তাকে সমস্ত জায়গায় নিরাপদে সময়মত পৌঁছে দেওয়া। সমস্যা হচ্ছে Don Shirley একজন নিগ্রো, আফ্রিকান আমেরিকান, কিন্তু যেহেতু টাকা ভাল দিবে আর টনি টাকার জন্য নীতি ঠিক রেখে সব করতে পারে তাই সে কালদের পছন্দ না করলেও রাজি হয়ে যায় এই চাকরির জন্য। নির্ধারিত দিনে যাত্রা শুরু করার সময় টনির হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় এক অদ্ভুত বই, Green Book, যাতে দেওয়া আছে কালোদের জন্য নিরাপদ হোটেল গুলার নাম, কোথায় কোথায় কোন প্রকার বাধা ছাড়া থাকতে পারবে তার পরিচয়। গ্রিন বুক সাথে নিয়ে শুরু হয় তাদের যাত্রা। সময়টা হচ্ছে ১৯৬২ সাল।

Don Shirley কে শুধু পিয়ানিস্ট বললে কম বলা হয়। তিনি সেই সময়ের খুব বিখ্যাত পিয়ানিস্টদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি জানতেন কালো বলে তাকে এই পুরো সফরে নানা ঝামেলা পোহাতে হবে কিন্তু তবুও তিনি এই পথেই যেতে চেয়েছেন। সফল মানুষ হওয়ার পরেও নিজের কালো পরিচয় নিয়ে তিনি অবলীলায় রাজি ছিলেন কালোদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই সব এলাকায় কনসার্ট করতে। দুই মাসের এই সফর উনার নিজের জায়গা থেকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদ বলা যেতে পারে।

গ্রিন বুক নিয়ে একটু বলা প্রয়োজন এখানে। ১৯৩৬ সালে Victor Hugo Green নামের একজন এই ভ্রমণ গাইড প্রকাশ করে যা মূলত কালোদের জন্য। গ্রিন বুকের মূল নাম হচ্ছে The Negro Motorist Green Book, যেখানে নিজেদের গাড়ি নিয়ে যারা ঘুরতে বের হয় তাদের জন্য নিরাপদে কোথায় রাত কাটাতে পারবে তার নাম পরিচয় সব দেওয়া আছে। তিনি কালোদের প্রতিনিয়ত রাস্তা ঘাটে বিপদে পড়তে দেখে এই বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৩৬ থেকে প্রকাশ হয়ে এই বই ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত প্রকাশ হয়েছে। তথাকথিত সভ্য সাদারা কী দারুণ সভ্যই না ছিল সে সময়!

এই রকম অদ্ভুত সুন্দর কিন্তু সত্য গল্প নিয়ে তৈরি Green Book সিনেমাটি। সিনেমার সংলাপ থেকে শুরু করে অভিনয়, সিনেমাটোগ্রাফি আর সঙ্গিত এক কথায় দুর্দান্ত। গল্পের প্রাণ হচ্ছে দুই প্রধান চরিত্র। দুইজন একে অপরের বিপরীত মেরুর হয়েও আস্তে আস্তে তাদের মাঝে বন্ধুতা তৈরি হওয়া এক কথায় অসাধারণ। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আসলে গল্পটা গ্রিন বুকের। যেখানে কালোদের পদে পদে অপমানের, কষ্টের কথা ফুটে উঠে এসেছে। D. Don Shirley কোন একটা কনসার্টে প্রবেশ করার আগে তাকে দেওয়া হয় উষ্ণ সম্বর্ধনা, ফুলেল শুভেচ্ছা অথচ কনসার্ট চলাকালীন সময়েই তিনি যখন অল্প বিরতি নিয়ে বাথরুমে যেতে চাইলেন তখন তাকে দেখিয়ে দেওয়া হল বাড়ির বাহিরে, কালোদের জন্য আলাদা করে বানানো টয়লেট। তার পিয়ানো শুনবে অথচ তাকে হোটেলের নিজস্ব রেস্টুরেন্টে খেতে দিচ্ছে না, খাওয়ার অনুমতি নাই। কেউ কেউ বিশ্বাসই করছে না কালো একজন মানুষ সাদা গাড়ি চালক নিয়ে ঘুরছে, কোন কারন ছাড়াই তাই পুলিশ দিচ্ছে নানা রকমের ঝামেলা। বর্ণবৈষম্য নিয়ে এমন ডার্ক কমেডি স্টাইলে আর কোন সিনেমা তৈরি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

গ্রিন বুকের আগে পরিচালক Peter Farrelly তৈরি করেছিলেন কমেডি ছবি Dumb and Dumber, কিন্তু এবার তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। গ্রিন বুক ইতিমধ্যে গোল্ডেন গ্লোব জিতে নিয়েছেন। এবার চোখ অস্কারে। ছবির দুই প্রধান চরিত্র D. Don Shirley ও Tony Lip চরিত্রে যথাক্রমে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন মাহারশালা আলী ও ভিগো মর্টেনসন। দুই জনই অস্কার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন। মাহারশালা আলী অনবদ্য ছিলেন পুরো সিনেমা জুড়ে। পিয়ানো বাজানর সময় তিনি এত দুর্দান্ত ছিলেন যে বোঝা মুশকিল ছিল যে তিনি অভিনয় করছেন, মনে হচ্ছিল আসলেই তিনি মাস্টার কোন পিয়ানো বাদক। অন্য দিকে ভিগো মর্টেনসন টনি চরিত্র করতে গিয়ে পুরোপুরি হারিয়ে গেছেন টনির মাঝে। এত চমৎকার অভিনয় করেছেন বিশেষ করে খাওয়ার দৃশ্য গুলাতে তিনি জাস্ট অসাধারণ ছিলেন।

আইএমডিবি রেটিং এ ৮.৩/১০ পাওয়া এই ছবিটা সিনেমা প্রেমীদের জন্য পরম পাওয়া একটা সিনেমা, না দেখাটা রীতিমত অন্যায় হবে।কিছু সিনেমা থাকে যা দেখার পর তৃপ্তিতে মন ভরে উঠে, গ্রিন বুক তেমনই একটা সিনেমা।




373 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Kihobejene

Re: Green Book - just a masterpiece

Thanks for the review. Dekha hoi ni ekhono cinema ta.

Roma dekhlen? Kemon laaglo?
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: Green Book - just a masterpiece

রোমা ভাল লেগেছে। বিদেশি ভাষা বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার প্রায় নিশ্চিত।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন