সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ওর কথা

সুকান্ত ঘোষ

অমৃতা জীবন ভালোবাসত – অফুরন্ত জীবনীশক্তি নিয়ে সে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছিল জীবনের সাথে। আরো সহজ করে বলতে গেলে সে বড় ভালোবাসা ভালোবাসত। স্বাভাবিক ভাবেই তার কবিতায় ঘুরে ফিরে এসেছে ভালোবাসার কথা আর তার সাথে লেগে থাকা জীবনের কথা।

“নারী পরাজিত হতে ভালবাসে
লতিয়ে থাকে ভালো থাকার
ঘন সবুজ আস্তানায়”

একমাত্র ভালোবাসার কাছেই পরাজিত ছিল সে। সেই স্বেছা পরাজয়ের পর খুঁজে নিয়েছে সে নিজের আস্তানা – যেখানে আস্তানা মানে ঘর, আস্তানা মানে আশ্রয়, আস্তানা মানে নিজের একান্তের প্রকাশ। এক সময় কবিতা লজিক্যাল থাকে না – আর থাকার দরকারও তো নেই মনে হয় সবসময়! সব সময় কবিতা দিয়ে সাহিত্যের বাঁকবদল নাই বা হল! কোন নতুন যুগের সূচনা করার জন্য কবিতা লিখতে চায় নি সে। কবিতা ছিল তার প্রকাশ – তার সাময়িক নিঃসঙ্গতার সাথী।

লেখার কালক্রম অনুযায়ী অমৃতার কবিতা পড়তে গিয়ে দেখছি, কোন কোন সময় সেগুলি যেন তার ডায়েরী হয়ে উঠেছে। দেশ ছেড়ে প্রথম বারের জন্য বিদেশ গিয়ে বসবাস শুরু করা – বাংলা এবং বাংলা ভাষা প্রবল ভাবে ভালোবেসে বড় হওয়া একজনের কাছে এই স্থানান্তর সাময়িক কত কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে তা যেন ওর কবিতা মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেয় –

“উজ্জ্বল কালো কোটের সংলাপ,
ফরাসি সুগন্ধে চাপা পড়ে আছে,
অগোছালো ভালবাসার ঘ্রাণ ।
সাতসমুদ্রের পারে কোনো নিখুঁত ঘুমন্ত-
শহরে ও খুঁজে চলা সেই নিলাভ ধূসর তারা ।
ওয়াইনের লাল জলে তখন ধুয়ে যাচ্ছে,
আমার সোনার বাংলা, সবুজ ক্ষেত”।

অমৃতার প্রথম বিদেশ বাসকালীন কবিতায় বারবার ঘুরেফিরে এসেছে একাকীত্বের কথা – সে যেন নিজেকে খুঁজে নিতে চাইছে প্রবলভাবে সেই নতুন পরিসরে, নতুন জানলার কাঁচে, ক্যানালের ধারে, অসমান ইঁট পাতা লাল রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া স্যুটকেসের অচেনা অসময়ের শব্দে। প্রিয়জন বাড়িতে নেই দিনের বেলায়, একাকী বেরিয়ে মেখে নিচ্ছে সে নতুন শহরের কোলাহল, শুষে নিচ্ছে সে বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া ফিকে হয়ে আসা সুগন্ধ। আমাকে বলত সে, “এখানে মেয়েরা বড় সুন্দর সেজে রাস্তায় বেরোয়, জানো”! সমস্ত সুন্দরের প্রতি প্রগাঢ় দূর্বলতা লালন করে রাখা সে ক্রমশঃ ভালোবেসে ফেলছে নতুন শহর।

“আমি থামতে চেয়ে পারিনি কখনও
রাস্তাটা দৌড়ে ফিরেছে আমার সাথে
ভাঙ্গা ওয়াইনের বোতলের পাশ দিয়ে
ম্যাপেল পাতায় পা রেখে ছুটে বেরিয়েছি
গোলাপি রিবনে বাঁধা আছে উপহার
ঝকঝক করছে সাদা পালক গুলো
আমি লাল ভালবাসি”

এ এক অদ্ভূত দোটানা – সে এমন শহর যে না ভালোবেসে উপায় নেই। তার উপর যদি সে সুন্দর চার্চের কারুকাজ ভালোবাসে, শুনতে যায় সিম্ফনি প্রথম বারের মত একরাশ বিষ্ময় নিয়ে, অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ভ্যান গগের ছবির সামনে, আর ক্যানালের ধারে ছড়িয়ে থাকে ক্যাফেতে সোনালী রোদ গায়ে মেখে বসে পড়ে যখন তখন! তাহলে মনের মানুষের কি হবে? কি হবে প্রিয় মানুষদের? সবার মাঝে থাকতে অভ্যস্ত কিভাবে মানিয়ে নেবে সে সারাটা দিনের একলা থাকা? মাঝে উইলি আসে কাজ করতে, তার সাথে প্রবল বন্ধুত্ব হয়ে যায় – অসম বন্ধুত্ব যেন। উইলি নাতির কথা বলে – তার নাতিকে নিয়ে অষ্ট্রেলিয়া চলে গ্যাছে তার ছেলে। উইলিরও একা লাগে। একাকীত্বের কি ভৌগলিক বিভাজন হয়! জানা নেই – শুধু জানি দুই অসম বয়সী নারী ভাগ করে নিত তাদের নতুনের সাথে মানিয়ে নেবার প্রথম কষ্টগুলি।

“খুব ঠাণ্ডা লাগে এখন
খুব ঠাণ্ডা
সাদা কলার লিলি গুলো হলুদ ঠোঁট উঁচিয়ে আছে
খুব শীতল হলে দুঃখরাও কি পাথর হয়ে যায় ?
যেটা জানতাম সেটা এতকাল সত্যিই তো ছিল
যেটা সত্যি সেটা হঠাৎ একদিন মিথ্যে হয়ে যাবে
এখন লোকটার ছেঁড়া টুপি দিয়ে জল পড়ছে
খোঁড়া পায়ের ঠেলায় ছড়িয়ে পড়ছে কাদা
অনেক দূর পর্যন্ত
ওড়নার কোনে এসে লাগছে
ওরা কেউ পিয়ানো বাজাতে পারে না
গাছে একটাও ফুল ফোটেনি আজ”।


“তুমি আমাকে নিয়ে একটাও কবিতা লেখ নি” – আমাকে অনুযোগ করতে সে, প্রথম – প্রথম। এক সময় সে অনুযোগও ফিকে হয়ে এসেছিল। তুমি আবেগের প্রকাশ পারতে – আমি হয়ত পারতাম না। আমি জানতাম না বিদেশীদের মত বারবার তোমায় ভালোবাসি বলার কি প্রয়োজন! হয়ত প্রয়োজন ছিল সেই নতুন শহরে! একাকীত্বের ভৌগলিক বিভাজন না থাকলেও ভালোবাসার বাহ্যিক প্রকাশে সেই কুন্ঠা হয়ত তোমাকে প্রথম দিকে একাকী করে দিয়েছিল একটু বেশীই। আজ সেই সময়ের কবিতা পড়ে মনে হয় বুঝতে পারি তোমার চাওয়া কত সামান্য কিন্তু কি নিবীড় ছিল! তোমাকে হয়ত মুখ ফুটে বলা হয়ে ওঠে নি, সেই সময়েও আমার সব না লেখা কবিতার মধ্যে, না বলা ‘ভালোবাসি’ গুলির মধ্যে শুধু তুমিই ছিলে। তুমি যে সময়ে লিখেছ,

“এই জানো আমাদের বাড়িতে আজ
ভোর এসেছিল,
তোমায় বলেছিলাম, ভুলে গেছো ?
আজ আর বেরোবো না, কাল অনেক কাজ
একটা হাজিরা দিতে হবে সময়ের খাতায়
আমিও যে আছি
কোথাও তো শেষ হবে জানি বড় কাছাকাছি ।
তুমি তখনও থাকবে আমার সাথে ?”

আমি নৌকা পেরিয়ে অফিস যেতে যেতে সেই একই সময়ে বলেছি, “তুমি তখনও থাকবে আমার সাথে”? আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করে, “কিছু বললে তুমি”? আমি বলি কথাগুলি অমৃতার জন্য – এই ভাবে তোমাকে চিনে যায় আমার অনেক সহযাত্রী। আমি কেবল তোমায় জিজ্ঞেস করতে পারি নি, “তোমায় বলেছিলাম, ভুলে গেছ”? আমার কথাগুলি যে না বলা – সেই যেমন না বলা তোমার নিজের মুখে তোমার প্রথম দিকের একাকীত্ব!

তুমি তো ভালোবাসা পেতে উন্মুখ ছিলে – কিন্তু সেই প্রকাশে ছিল না অদেখলাপনা। ‘এমনই জীবন’ – ভেবে নিয়ে আমি সে সময়ে নতুন কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি। আমার তখনকার কবিতায় ‘ভালোবাসা’, ‘প্রেম’ ইত্যাদি শব্দগুলি ছিল না। তাহলে কি আমি কবিতায় ওই শব্দগুলি প্রয়োগের থেকে সরতে সরতে অবচেতন মনে নিজের জীবন থেকেও ক্রমশঃ মুছে ফেলছিলাম ‘দূর্বল’ শব্দগুলি? বেশ কিছুদিন পরে জানতে পেরেছিলাম তুমি ওই ‘দূর্বল’ শব্দগুলির বড় কাঙাল ছিলে। আমি তা পুরোপুরি জানার আগেই তুমি লিখে ফেলেছিলে,

“যে কোন কারনেই হোক
তোমায় ছুঁয়ে থাকতে আমার ভালো লাগে,
মনে হয় না-বলা শব্দেরা হয়ত কখনও নিঃশব্দে পৌঁছে যাবে
তুমি দূরেই থেকো
অনেক দূরে যেখানে ঠোঁট নীল হয়ে আসে
ওরাও নিভৃতি ভালবাসে”

তোমার লিখে রাখা, আমার না লেখা – তোমার বলে ফেলা, আমার না বলা কথার মাঝখানেই আমরা ঘুরে নিচ্ছিলাম ইউরোপ, প্রাচীনতা – পরিত্যক্ত দুর্গ, সমুদ্রের নীল রঙ, নেশাড়ু শিল্পী হয়ে এশিয় মহাদেশের সীমান্ত দেশে তোমাকে বলিউডের নায়িকা হিসাবে বদ্ধমূল ধরে নেওয়া সেই স্থানীয় লোকজন। তুমি নিজেই বলতে ‘আমি রোমাণ্টিক’ – আর আমার নিজের কাছে তাহলে কি রোমাণ্টিকতার প্রতিশব্দ ছিল ‘দূর্বলতা’? হবে হয়ত – নিজেকে চিনতেও কত যে সময় লাগে, তোমার সাথে থেকে থেকে নিজেকে আরো যেন নতুন করে চিনে নিই। আমার জীবনের না উল্টানো জুড়ে যাওয়া পাতাগুলি তুমি সতপর্ণে খুলে দিচ্ছেলে। জুড়ে থাকা একগুঁয়ে পাতাগুলি কি সহজে খুলতে চাইছিল না? নাকি যতই সতর্পণে বহুদিনের জুড়ে থাকা পাতা উল্টাতে যাও, একটুখানি কোণা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা থেকেই যায়!

“অনেক কাল তোমার মধ্যে বাস করেছি
এখন নিজের ভিতর আসন গেরে বসা দরকার
নিয়ম মাফিক সম্পর্কে মিশে যাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে
লালচে রঙা আলোর বেলা প্রথম দেখা সবুজ পাতার
সবই এখন খয়েরি দিন ধূসর লিখন
আমি কিন্তু সাদা কালোয় রঙ ভরেছি যাবৎজীবন
এবার খানিক নিজের কাছেই আসা দারকার
এখন খানিক মুখ ফিরিয়ে জীবন ভালবাসা দরকার”।

সেই রোমাণ্টিক তুমি আর রোমাণ্টিকতার বিস্তারের পরিসীমা নির্ধারণে ব্যস্ত থাকা আমি প্রথম বার তোমার স্বপ্নের দেশে গেলাম। কি উচ্ছল দেখলাম তোমাকে – এত আবেগী এত প্রাণের প্রকাশ সেই প্রথমবার তোমাতে দেখা আমার। কিন্তু আজ খুঁজতে গিয়ে দেখি, তা নিয়ে তুমি কবিতা লেখো নি! আমি প্রথম অবাক হই, আবার তোমার খাতার পাতা উল্টোই, আবারও – দেখতে থাকি আমাদের আনন্দঘন একসাথে থাকার মুহুর্তগুলি নিয়ে তোমার কোন কবিতা নেই! তাহলে কি আমার প্রেমের কবিতা লেখার মতই, তুমিও আনন্দঘন সময়ের লিপিবদ্ধকরণের যৌক্তিকতা নিয়ে দ্যোদুল্যমান ছিলে? আরো একবার খুঁজে দেখি – নাঃ, তোমার সেই সময়ের কবিতা ছিল তোমার আশ্রয়, তোমার একাকীত্বের আশ্রয়।

আমরা যখন কাছাকাছি থেকেছি, তোমার প্রিয়জন যখন কাছাকাছি থেকেছে, তুমি মনে হয় কবিতার প্রয়োজন, অন্তত কবিতা লেখার প্রয়োজন অনুভব কর নি। নিজের জীবনকেই তুমি কবিতার মত করে নিয়েছিলে – সেই কবিতার বাঁকবদল ছিল, সেই কবিতার মাঝে দু-দণ্ড দাঁড়িয়ে ভাবতে ভালোলাগত, কবিতা শেষে আবার একবার পড়তে ইচ্ছা করত। কবি কি বলতে চেয়েছেন – তার মাঝে না ঢুকে তুমি নিজের মত করে নিয়েছিলে কবিতাকে – আমাদের দুজনার কবিতার জীবনকে, জীবনের কবিতাকে।
এক দিকে ‘প্রথম’ বিশ্বের প্রাচুর্য্যের হাতছানি, অন্যদিকে শিকড় উপড়ে আনা প্রাণবন্ত গাছের নতুন মাটিতে মানিয়ে নেবার প্রানপণ প্রচেষ্টা –

“আমার মামার বাড়ির বকুল গাছটা
সেই যে সেই গাছটা,
হঠাৎই একদিন উধাও হয়ে গিয়েছিল ।
মাঠের সরু আলপথ ধরে
পাশে ক্ষীন স্রোত সন্তর্পনে অতিক্রম
করে গাছটার কাছে পৌঁছাতাম
অদ্ভুত ! গাছটা একদিন উধাও হয়ে গেল।
আর কখোনো দেখিনি”।

আমষ্টারডাম শহরের সবচেয়ে সুন্দর ক্যানালের ধারের বাড়ির পাঁচতলার ঘরে বসে তুমি বকুল গাছের কথা লিখছ। দেশের পরিজন তোমার চারপাশে এসে যাচ্ছে – তুমি তাদের সাথে কথা বলছ, সরাসরি আবার ফোন রেখে দেবার পরেও। তুমি এত ফুল ভালোবাসতে – আমরা দুজনে ফুলের দোকান, ফুলের জমির ভিতর দিয়ে নিয়মিত হেঁটে গেছি। আমি তবুও ডাচেদের ফুল ভালোবাসা নিয়ে কবিতা লিখেছি, কিন্তু তোমার খাতায় ফুলের উল্লেখ নেই কেন? নাকি আছে? খুঁজতে হয় – খুঁজতে খুঁজতে একবার স্যান্টোরিনির নীল জলের উল্লেখ পাই। সেই ঘন নীল – আমি জানি তুমি সেই দ্বীপ দেখার বহু আগে থেকেই ‘সী-গ্রীণ’ নামক রঙের আকর্ষণে মোহিত ছিলে। স্যান্টোরিনির নীল রঙ কি শুধু গাঢ় নীল ছিল, নাকি তোমার এই চিত্রকর চোখ কোথাও খুঁজে পেয়েছিল ওই দুই রঙের মেলবন্ধন?

“একপাতা ভালোবাসা লেখা
অর্ধেক ভিজে যাওয়া পাইনের বনে
শরীর পেরিয়ে আসা মনে
যতটুকু চোখ পড়ে থাকে
দেহ ভাঙা এক রাশ থৈ থৈ জলে
ততটুকু সবুজ পিছলে পরে নীলে
বড়ো মনে পরে সুখ
ওরা কাছে এলে,
যতটুকু সবুজ পিছলে যায় নীলে”।

এই তো তুমি ভালোবাসার কবিতা লিখেছো! অন্তত আমার তো মনে হচ্ছে ভালোবাসার কবিতা – সবুজের সাথে প্রিয় নীলের মিলে যাবার কবিতা।

সময় এগিয়ে চলে – সময় এগিয়ে আসে ছেড়ে যাবার। যত চলে যাবার সময় আসে, তত তুমি আঁকড়ে ধর যেটুকু ভালোবাসার ছিল প্রথম বিদেশ বাসের। নতুনের হাতছানি আবার – নতুন দেশে যাবার হাতছানি। ভাবে নিতে ভালো লাগে যে তুমি দেশের কাছাকাছি অন্যদেশে থাকবে। আমি বলতে থাকি, “তুমি তো ইচ্ছে করলেই ফিরে যেতে পারবে নিজের কাছে”। “নিজের কাছে মানে?” – আমাকে প্রশ্ন করে অমৃতা। আমি উত্তর দেবার চেষ্টা করি, “নিজের কাছে মানে, নিজের চেনা পরিসরে – চেনা প্রিয়জনে”। এত সুন্দর দেশ ছেড়ে যাবার একটুও কি দুঃখবোধ ছিল না তার? আমি খাতা উল্টেপাল্টে দেখি – তার কবিতার নিজের মত করে অর্থ করার চেষ্টা করি – আরোপিত ভাবনা দিয়ে হয়ত নিজেকে বোঝাবার চেষ্টা করি, এই তো শব্দবন্ধে লুকিয়ে আছে ছেড়ে যাবার কষ্ট! আসলে আমার নিজের আমষ্টারডাম খুব প্রিয়, সেই শহর ছেড়ে যেতে এক কষ্ট তৈরী হচ্ছিল। এখন ভাবতে ইচ্ছে করে যে, অমৃতা নিজে মুখে না বললেও, সেই সময় অন্তত আমরা দুজনেই একসাথে এক কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছি। আমি পাতা উল্টাই –

“সাদা কুঁড়ির গা ঘেসে সবুজাভ চারটে পাপড়ি জেগে আছে
পায়রাগুলোর নরম রোদে দল বেঁধে লুকোচুরি
অনেক ভেজা দিনের শেষে
এভাবেই হলুদ পাতার ক্ষোভ মিলিয়ে যাচ্ছে আজ
সন্তর্পনে ভুল করছে পাতার ভাঁজে শুকিয়ে যাওয়া আবেগ
এভাবেই আলো আসবে
একপা ফেলেই ভুল ভেবে ধরবে অন্য হাত
আমি দেখবনা শুধু
রাত কতো বড় হয় জেনে গেছে সে
ভোর তাই প্রিয় মনে হয়”

এ তো ছেড়ে যাবার কবিতা, ফেলে আসা কুঁড়ি আর খুনসুটি কপোত-কপোতির গল্প। সেই পায়রার মধ্যে আমরা লুকিয়ে থাকি, আমরা দুজন বেঁচে থাকি। আমাদের ফেলে আসার পায়রার গল্প অন্য কেউ দেখবে – অন্য কেউ হয়ত শুরু করবে নতুন ভাবে আমাদের আজকের ঘর থেকে।

শীত শেষ হতে শুরু করেছে, টিউলিপ ফোটার পালা প্রায় শেষ। আমরা আপাত শেষবারের মত ঘুরে নিয় প্রিয় জায়গাগুলি। নতুন দেশ নিয়ে আমাদের দু-জনের মনেই ভেসে ওঠে দুই আশঙ্কা – অমৃতা আমাকে বলে না, কিন্তু আমি ওর মনের প্রশ্ন অনুধাবন করে বোঝাতে থাকি ওখানে আরো বেশী চেনাশুনা হইয়ে যাবে হয়ত, হয়ত পেয়ে যাবে আরো বেশী বাংলায় কথা বলার লোক। একদিকে ছেড়ে যাবার দুঃখ-আনন্দ, অন্যদিকে নতুন জায়গা নিয়ে হালকা উৎকন্ঠায় আমরা দুজন পাশাপাশি শুয়ে থাকি সিলিঙের দিকে তাকিয়ে – তখন রাতের বেলা, পাশের কার্ণিশে পায়রা দুটি তবুও জানান দেয় ওদের জেগে থাকা। ওরাও কি অমৃতার আসন্ন ছেড়ে যাওয়া টের পেয়ে গ্যাছে?

হয়ত এই প্রথম সে এক অদ্ভূত দোটানায় ভুগতে থাকে – আর তাই তো লিখে নেয়

“কিছুটা এগিয়ে অথবা পিছিয়ে ঠিক এইখানে দাঁড়িয়েছিলাম
একবার, দুবার অথবা বহু বহু বার
কিন্তু একা
চার্চ বেল আমাকে মধ্যরাত্রি মনে করায়
আমি একা হতে ভালবাসি
আমি নির্বাসনের ভয় পাই”।

আমরা নতুন দেশে চলে আসি – নতুন দেশে অমৃতার কবিতা লেখা কমে আসে। আমি তার ডায়েরী ঘেঁটে দেখি কবিতার প্রকাশ পাল্টাচ্ছিল ক্রমাগতই। যেমন হয় আর কি – মানুষের বিবর্তনের সাথে সাথে তার কবিতা ভাবনাও পাল্টায়। ওর কবিতায় আবেগের থেকে বেশী করে আসতে শুরু করে উপলব্ধি – একাকীত্ব ক্রমশ কমে আসে। এমনি আস্তে আস্তে নতুন জায়গার ব্যস্ততায় কবিতা লেখার সময় টুকুও হারিয়ে যেতে থাকে। অঙ্ক নিয়ে আসত কেউ কেউ, আর আসত আঁকা, নাচ, আবৃত্তি, ক্রাফটস্‌ ইত্যাদি নিয়ে হাজারো জন। দিনের বেলায় সময় নেই – রাতে মাথার গোড়ায় খাতা নিয়ে বসে লিখে রাখত মাঝে মাঝে দুই চার লাইন। সে নির্বাসনের ভয় থেকে ক্রমশঃ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। আমাদের কাঠের বাড়ি, বাড়ির চারিদিকে সবুজ বাগান এবং জঙ্গল, দোরগোড়ায় সমুদ্র – অমৃতা নিজের দেশকে পেতে শুরু করে, নিজের ফেলে আসা গ্রামের সুবাস পেতে শুরু করে বাড়ির সেই বারান্দায়। বারান্দা প্রিয় হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে নিয়মিত অভ্যাস – সেই বারান্দাতেই আঁকার ক্লাস নেয় সে, নিজে ছবি আঁকে।

“আজ আর বারান্দায় বসা হয় নি
মাঝরাতে কাঁচের গ্লাসে জলের আওয়াজে
শুন্যতাটা এক পলক চমকে দিয়ে গেল
আজ হলুদ আলো বুকে করে পিচ রাস্তায়
বৃষ্টির ফোঁটা গুলো ছলকে উঠেছে আমাকে ছাড়াই
সবটাই বড় বেশী গোছানো কি?
……………………
চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় দরজাটা খোলা আছে
কলিং বেল টা অকেজো
বেনামী চিঠির স্তূপে বসন্ত আসেনি তবু
দরজাটা খোলায় আছে জানি
সব চুরি হয়ে যাবে বলে
সব চুরি হয়ে যাবে একদিন”।

প্রবল গৃহিনী হয়ে ওঠে সে – প্রবাসী জীবনের সাথে হয়ত সেই প্রথম বার ওতোপ্রতো জড়িয়ে পড়ে আস্তে আস্তে। হয়তবা এতোদিনের কল্পিত চুরির কল্পিত কবিতার লাইনে বাস্তবতা ঢুকে পরে। তার কবিতায় ছোট ছোট লাইনে বাস্তবতা জায়গা করে নেয় – চারপাশ থেকে শুষে নিয়ে সেই প্রথম বারের মত নিজের জারক রসে সম্পৃক্ত করে কবিতা। আর এই প্রথম বারের মত আমি মনে করতে থাকি, হ্যাঁ এই বার হয়ত ওর ‘লেখা’ কবিতা হয়ে উঠছে। পারিপার্শিক কেমন করে বদলে দেয় দৃষ্টিভঙ্গি, আমি আরও একবার তা চোখের সামনে দেখতে থাকি। অযথা শক্ত এবং আপাত কঠিন শব্দবন্ধ ব্যবহার প্রবণতা কমছে ওর কবিতায়। কবিতা স্বচ্ছ কিন্তু গভীর হয়ে ওঠে

“শরীর ছিল
যেমন সবার শুরু হয়
গলে পরেছে চশমার কাঁচে
বড় বেশি জমে যাক গল্পটা
আমি ভিজব
জমে যাওয়া ওমে
আমি ভালবাসব
তুমি থাকবে কাছাকাছি
বড় বেশী সত্যি হয়ে”।

আমরা নতুন দেশ বড় ভালোবেসে ফেলছিলাম খুব তাড়াতাড়ি – দূর্গাপুজো চলে আসে, পেরিয়ে যায় বড়দিন আবার ঘুরে পয়লা বৈশাখ। খাতা খুলে দেখি প্রতিটা উৎসবেই অমৃতা লিখে রেখেছে তার জীবনকে নতুন করে পাওয়া। তার কবিতায় আলোর ছায়া বেশী করে পরতে শুরু করে। এর পর আমাদের জীবনে নতুনের আগমনের জন্য বেশ কিছু দিন কবিতা থেকে ছুটি – অনেক পঙতি খুঁজে পাই বিছানার পাশের টেবিলে রাখা সেই খাতায় – কিন্তু পরিপূর্ণ কবিতা কম।

কবিতা সদ্যজাতর কথা ঘুরে ফিরে আসছে – তাকে নিয়ে স্বপ্ন, তাকে দেখে নতুন জীবন শেখা – জীবনের মধ্যে আরো এক অন্য জীবন যেন! কবিতার নাম দিচ্ছে “নতুন করে বাঁধব” – লিখে ফেলছে প্রবল আবেগে সরাসরি “আমি ভালোবাসছি ওকে”, আবার সদ্যজাতর সাথে পূর্বজন্মের টানের কথাও আসছে। লিখছে

“এখন কিছু লিখতে গেলেই মনে হয়
গায়ে গায়ে আটকে থাকা সোহাগের পাথরগুলো
আলগা হয়ে যাচ্ছে”

এই ভাবেই অমৃতা তার শেষ কবিতাটি এক সময় লিখে ফেলে। সে নিজে জানত না কোনটা তার শেষ কবিতা আর ঠিক কখন সে নিজের শেষ কবিতাটি লিখে ফেলেছে! আমি খাতা খুলে দেখি তার শেষ লেখা কবিতায় শেষের কথা নেই, আছে নতুন করে সাজের কথা – নতুন দেশে যাবার প্রস্তুতি। আসলে শেষের কবিতাখানি সে অনেক আগেই লিখে ফেলেছিল

“যেদিন মাঝ দুপুরে আকাশ থেকে মুঠো ভোরে মেঘ পাড়লাম।
ইচ্ছা হল মস্ত রকম দেশ বানাবো । স্বচ্ছ চোখের দৃষ্টি ধরে বয়ে যাবে নদ-নদী সব। অনুভুতির গাছের ফাঁকে দুঃখ-সুখের হরেক রকম ফুল । চোরা প্রেম বাসা বাঁধবে ডালে ডালে । বুক ভরে নেবে জলভরা নিশ্বাস । রামধনু গুঁড়ো হয়ে যাওয়া রঙ ছড়িয়ে দিয়ে যাবে চোখের পাতায় -
এতটুকু ভাবনাতেই বিভোর ছিলাম,
হঠাৎ দেখি দেশটা পুরোই ঝরে গেল তোমার কোলে ।
দেশটা পুরোই ঝরে গেল।
এমন ভাবেও চলে যাওয়া যায়”?

------------------------------------------------------------------------------
[বিঃ দ্রঃ - কবিতার পঙতিগুলি অমৃতা মজুমদার-এর লেখা কবিতা থেকে নেওয়া। অমৃতার কবিতা নিয়ে হয়ত আগামীতে একটা বই বের হবে।]


2770 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 4 -- 23
Avatar: Du

Re: ওর কথা

কিছু লেখার নেই ---ফুল ভালবাসত সে ---
Avatar: সিকি

Re: ওর কথা

আছি, পাশে।
Avatar: সুকি

Re: ওর কথা

ধন্যবাদ সবাইকে।
Avatar: খ

Re: ওর কথা

love,hugs for sukanta from a long term fan.
Avatar: dd

Re: ওর কথা

পড়লাম ........
Avatar: Ishan

Re: ওর কথা

কী আর লিখব। পড়লাম। লেখককে সান্ত্বনা দিতে নেই। এইটুকুই।
Avatar: দ

Re: ওর কথা

পড়লাম ....
Avatar: I

Re: ওর কথা

মন খারাপ হয়ে গেল সুকান্ত।ভালো থেকো- এই কথাটা জিভের ডগায় আটকে গেল।
Avatar: Tim

Re: ওর কথা

পড়লাম ...
Avatar: i

Re: ওর কথা

'যে শহরে আমি বেমানান'এর পরে 'সমস্ত রাতের গন্ধে তুমি কি পতঙ্গ রঙ পাও?' এসেছিল। বহুদিন অপেক্ষার পরে আজ 'ওর কথা'-রামধনু গুঁড়ো হয়ে যাওয়া রং।অপ্রত্যাশিত। কী বলব...

লেখা তো থামে না, প্রিয় লেখক। লেখা আসুক। লেখারা। সবাই আছি।
Avatar: san

Re: ওর কথা

বড় সুন্দর করে মনে করেছেন -
Avatar: arpita

Re: ওর কথা

মধুর তোমার শেষ য়ে না পাই।বড়ো ভালো লিখেছেন
Avatar: সুকি

Re: ওর কথা

বিশেষ কিছু আমারও লেখার নেই। এ বড় কঠিন সময় - লেখা আসে না, আবার না লেখার চেষ্টা করলেও একাকীত্ব গ্রাস করে ফেলে কোন কোন সময়। আপনাদের সবার সাপোর্ট-এর জন্য আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
Avatar: amit

Re: ওর কথা

সবাই সঙ্গে আছি।

জানি সবই, কতটা কঠিন সময়। কিন্তু লেখা ছেড়ো না, কষ্ট হলেও লেখো, যা ইচ্ছে, যা আসে মনে। হয়তো এই লেখাই নতুন করে ভাবতে শেখাবে। আর কি বা বলতে পারি।
Avatar: de

Re: ওর কথা

সুখস্মৃতি টুকরো হয়ে হয়ে দুঃখে মিশে যায় -
Avatar: শঙ্খ

Re: ওর কথা

আগে পড়িনি। পড়ে খুব কষ্ট হল।
Avatar: aranya

Re: ওর কথা

ভাল লাগল। তবে বড় কষ্টের..
Avatar: সুকান্ত ঘোষ

Re: ওর কথা

খুব ভালো লেখা।
অমৃতার এই ভাবে চলে যাওয়া কে এখনো মন থেকে মেনে নিতে পারিনি।
Avatar: সুকি

Re: ওর কথা

লেখাটি পোষ্ট করার সময় লিখেছিলাম যে অমৃতার লেখা কবিতাগুলি নিয়ে এক বই বের হতে পারে। অবশেষে অমৃতার 'অসমাপ্ত ক্যানভাস' কবিতা সংকলনটি প্রকাশ পেল সৃষ্টিসুখ প্রিন্ট থেকে।


https://i.postimg.cc/Y9LV2Nt1/ACAM-SSP-preview.jpg

যদি কেউ চান নীচের সূত্র ধরে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।


https://i.postimg.cc/qRrng4Tj/Advertisement.jpg

বইটি অনলাইন অর্ডার করা যাবে এখান থেকে -- http://sristisukh.com/ss_wp/product/অসমাপ্ত-ক্যানভাস/

বইটি সৃষ্টিসুখ-এর আউটলেটেও পাওয়া যাচ্ছে। ঠিকানা - সৃষ্টিসুখ, ৩০এ সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট, কলকাতা ৯, যোগাযোগ - ৯০৫১২ ০০৪৩৭। এই নাম্বারে হোয়াটস্যাপ করেও বই নেওয়া যাবে। আউটলেট খোলা থাকে এগারোটা থেকে ছ-টা পর্যন্ত।

Avatar: শিবাংশু

Re: ওর কথা

একধরনের ফিরে আসা। চেনা শহরের কাছে....

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 4 -- 23


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন