Bishan Basu RSS feed

Bishan Basuএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

Bishan Basu

এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবম্যাগে প্রকাশিত। এইখানে আবারও দিলাম। যাঁরা পড়েন নি, পড়ে দেখতে পারেন।

বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যেস

বিষাণ বসু



“সোমপ্রকাশ। - স্বয়ং হার্বাট স্পেন্সার একথা বলেছেন। আপনি হার্বাট স্পেন্সারকে জানেন ত?
ভবদুলাল। - হ্যাঁ…...হার্বাট, স্পেন্সার, হাঁচি, টিকটিকি, ভূত, প্রেত সব মানি।”

চলচিত্ত-চঞ্চরি (সুকুমার রায়)



আপনি তো বিজ্ঞান মানেন। নিজেকে বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা হিসেবে দাবী করতে আপনি নিশ্চয়ই গৌরববোধ করেন? তাহলে, দৈনন্দিন ভাবনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণ তো আপনার একেবারে মজ্জাগত?

না না, প্লীজ অমন করে অপমানিত বোধ করবেন না। সত্যি বলতে কি, একটু জিজ্ঞেস করে নিচ্ছিলাম এজন্যেই, কেননা, মুখে বিজ্ঞানমনস্ক বলে বড়াই করতে ভালোবাসলেও, আমাদের অধিকাংশের বিজ্ঞান মানার সাথে ভবদুলালবাবুর হার্বাট স্পেন্সার মানার বিশেষ ফারাক নেই।

অন্যভাবে বলতে হলে, বেশ গোঁড়া ধর্মাচারীর সাথে আমাদের অধিকাংশের বিজ্ঞান মানার মূলগত ফারাক কোথায়? আদৌ রয়েছে কি কোনো তফাৎ?

আরেকটু খোলসা করে বলি? গোঁড়া ধর্মবিশ্বাসী যদি গীতা-কোরাণ-বাইবেল-ইত্যাদিকেই ধ্রুবসত্য মনে করে চলেন, বা পাদ্রী-মোল্লা-ইমাম-গুরুর বাণীকে চূড়ান্তরূপে অনুসরণযোগ্য বলে মেনে নেন, আপনিও তো ঠিক তেমন করেই বিজ্ঞানী-গবেষক-বিজ্ঞানমিডিয়ার কথাকেই বেদবাক্য বলে ধরে নেন। তাই না?

তাহলে, ওদের বিশ্বাস আর আপনার বিশ্বাসের ফারাক রইলো কোথায়? রইলো কি কিছু? আপনি বিজ্ঞানে বিশ্বাসী, অতএব আধুনিকমনস্ক সচেতন নাগরিক, এমন করে কলার তোলার কোনো যুক্তি রয়েছে কি?

বিজ্ঞান কী, এই প্রশ্নের বিবিধ উত্তরের মধ্যে অন্যতম গ্রাহ্য উত্তরটি ছিলো কার্ল পপারের। তিনি বলেছিলেন, বিজ্ঞান হলো তা-ই যাকে ভুল প্রমাণ করা যায়। অর্থাৎ, যেকোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতার মূলই হলো তাকে নিরন্তর চ্যালেঞ্জ করে যাওয়া, তাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার জন্যে নতুন নতুন পরীক্ষার মধ্যে ফেলা। একটি তত্ত্ব ততোক্ষণই বৈজ্ঞানিক, যতোক্ষণ তা সেই সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে। বিজ্ঞান তো কোনো স্থির-নিশ্চিত ধারণা নয়। প্রতিনিয়ত নতুন পরীক্ষার কষ্ঠিপাথরে যাচাই হয় তার। অর্থাৎ, নতুন পরীক্ষা বা নতুন প্রশ্ন বিজ্ঞানের স্বরূপগত ধারণার একেবার মজ্জাগত।

কথাটা বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হলেও, বিজ্ঞানের অপরিহার্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়েও কি সমান সত্যি নয়?

এখন, আপনি যদি বিজ্ঞানমনস্ক হন, তাহলে আপনিও প্রশ্ন করবেন, প্রশ্ন করতে থাকবেন, এইটাই স্বাভাবিক। তা না হলে, আপনি বিজ্ঞানবিশ্বাসী, যেকোনো ধর্মবিশ্বাসীর মতোই।

না, এমন দাবী করছি না, উচ্চতম পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ব্যাপারে আপনি এতোটাই সড়গড় হবেন যে, সেই তত্ত্ব চটজলদি বিচার করে তা সঠিক না ভ্রান্ত আপনি নিজেই বুঝে নেবেন।

আমার বক্তব্য, বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিকটি নিয়ে। সেই বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু হয়ে উত্তরের অন্বেষণের জন্যে তো বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

বিজ্ঞান গবেষণা ঠিক কোন পথে চলছে, তার সুফল পৌঁছোচ্ছে কার ঘরে, সেই গবেষণার অর্থ যোগাচ্ছেন কারা, সেই গবেষণালব্ধ ফলাফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কারা, আর্থিক দিকটা যদি ছেড়ে দিইও, বিজ্ঞান শেষ পর্যন্ত কোন শ্রেনীস্বার্থ রক্ষা করছে বা কোন সমাজব্যবস্থাকে বজায় রাখছে অথবা কোন সমাজব্যবস্থার দিকে আপনার নজরকে টানছে - একটু চোখকান খোলা রাখলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া তেমন জটিল নয়। আর, বিশ্বাস করুন, আপাতনিরীহ এইসব প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমরা যাকে বিজ্ঞান বলে জানি, তার একটা অতীব জরুরী প্রায়োগিক রূপ।

(ঠিক যেমন করে, ধর্মবিশ্বাসী হয়েও ধর্মের জটিল দর্শন আপনার দুরূহ বোধ হতেই পারে। কিন্তু, তদসত্ত্বেও, ধর্মের বিভেদের ফল কী, ধর্মে মাতোয়ারা হয়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর থেকে আপনার নজর সরে থাকছে, ধর্মবিশ্বাস গিলিয়ে কোন শ্রেণী-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে, এই প্রশ্ন তো আপনি করতেই পারেন। পারেন না কি?)

বড্ডো ভাসাভাসা হয়ে যাচ্ছে কথাগুলো? আরেকটু স্পেসিফিক হলে ভালো হয়?

আচ্ছা, বেশ, তাহলে একটু উদাহরণ দেওয়া যাক। একেবারে আমাদের জীবনমরণের সাথে ওতপ্রোত চিকিৎসাবিজ্ঞানের উদাহরণ দিই?

সবার মতো আপনিও, নিশ্চয়ই, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিতে ভরসা রাখেন? আপনিও নিশ্চয়ই জানেন, এবং মানেন, যে, চিকিৎসাবিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। অতীতের অনেক দুরারোগ্য অসুখ আজ নিরাময়যোগ্য। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আজ নেই, যে অসুখগুলোর চিকিৎসা আজ নেই, আপনিও নিশ্চয়ই আশা রাখেন যে, শিগগিরই, মিলে যাবে বাকি দু-আনা।

বাঃ, খুব ভালো। আপনি চূড়ান্ত আশাবাদী বিজ্ঞানপ্রিয় মানুষ তাহলে।

কিন্তু, একটু প্রশ্ন করুন। ভাবুন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই উন্নতির জন্যে, গবেষণার কাজটা করছেন কারা? তাঁরা ঠিক কাদের স্বার্থরক্ষার্থে গবেষণা করছেন বা তাঁদের গবেষণার ফলাফলজনিত লাভের গুড় খাচ্ছেন কারা? না, প্লীজ, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে ব্যাঁকা হাসিটা পরিচিত ডাক্তারদের দিকে ফেরাবেন না। শুধু ভাবুন, এই গবেষণার জন্যে অর্থ জোগাচ্ছেন কারা? বাংলা করে বললে, ফান্ডিং-এর উৎস কোথায়?

বিজ্ঞান কোনো শাশ্বত সত্যের সন্ধানে দিনরাত এক করে ফেলেছে, এমনটা ভাবার মধ্যে কিঞ্চিৎ আত্মপ্রসাদ থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবের ছায়া এই ভাবনায় নেই। খুব অবান্তর শুনতে লাগলেও, বিজ্ঞান বলে যার সাথে আপনার আলাপ, তাকে ভালো করে জানার জন্যে আগের প্রশ্নগুলো্র গুরুত্ব কিছু কম নয়।

হ্যাঁ, বিজ্ঞান কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। প্রশ্ন করা, নিরন্তর প্রশ্ন করে যাওয়া, আর তার উত্তর খোঁজা, এই-ই বিজ্ঞানের ধর্ম। কিন্তু, এই পুঁজিবাদী মুক্ত অর্থনীতির বিশ্বে, বিজ্ঞান-গবেষণার অর্থের সংস্থান কোন সূত্রে, এও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, অজস্র সম্ভাব্য প্রশ্নের মধ্যে, ঠিক কোন প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান খুঁজবে এবং অজস্র সম্ভাব্য উত্তরমালার মধ্যে, ঠিক কোন উত্তরটি গৃহীত হবে, তার মূলে কিন্তু জড়িয়ে রয়েছে স্পনসরের নাম।

একটা সময় ছিলো, যখন এই চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণার মূল কাজটা হতো বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, মুখ্যত পশ্চিমী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই। খরচ জোগাতেন সরকার। আর, গবেষণার সুফল পেতেন সাধারণ নাগরিক। কিন্তু, ধীরে ধীরে সময় বদলাতে থাকলো। শুরুটা মার্কিন দেশ থেকে। পরবর্তী সময়ে, সেই সিস্টেম গৃহীত হলো সর্বত্র।

আজ থেকে, ধরুন, এই তিন কি চার দশক আগে সরকার বলতে থাকলেন, যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। এবং গবেষণার খরচ জোটানো তো বটেই, সরকার চাইলেন, গবেষণা হোক লাভজনক, যাতে গবেষণা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে চালানো যায় সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টাই। শুরুটা হলো পেটেন্ট বিক্রি দিয়ে। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ফল কিনে নিতে থাকলো বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি। স্বাভাবিকভাবেই, গবেষণার অর্থ সরকার (বা বকলমে, সাধারণ নাগরিক) জোগালেও, যে ওষুধের পেটেন্ট বিক্রির সুযোগ বেশী, গবেষণা চলতে থাকলো সেই পথেই। আর এখন তো সর্বার্থেই, বসন্ত এসে গেছে। গবেষণার সব পর্যায়ে, বিষয় নির্বাচন থেকে গতিপথ, পুরো পদ্ধতিটাতেই বহুজাতিক ওষুধকোম্পানির মতামত শিরোধার্য। এমনকি, চিকিৎসাগবেষকদের একটা বড়ো অংশ ওষুধকোম্পানির সাথে সরাসরি যুক্ত। গোপনে নয়, একেবারে খাতায় কলমে।

ফলও মিলছে হাতেগরম।

যেমন ধরুন, প্রতি বছর, এই বর্ষার শেষে ম্যালেরিয়ায় মারা যান বেশ কয়েকশো মানুষ। আক্রান্ত হন তার চাইতে বেশ কয়েকগুণ। বিশ্বের অনেক দেশেই, বছরপিছু ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক হাজার। সারা পৃথিবীর হিসেব ধরলে, প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ মারা যান এই ম্যালেরিয়ায়। আক্রান্ত হন কুড়ি কোটিরও বেশী মানুষ। হ্যাঁ, প্রতি বছর। কখনো প্রশ্ন জেগেছে মনে, যে, বিগত কয়েক দশকে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার নতুন কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে কি?

আচ্ছা, যে চিকিৎসাবিজ্ঞান ফিবছর কয়েক ডজন নতুন ওষুধ বাজারে এনে ফেলতে পারে, হাইপ শুনলে বোধ হয় যার নাকি সবগুলোই বৈপ্লবিক এবং যুগান্তকারী, সেই বিজ্ঞানের এলেমে কুলোয় না ম্যালেরিয়ার নতুন ওষুধ আবিষ্কারের?

ম্যালেরিয়ার কথা বাদ দিন। যক্ষ্মাতে আসুন। আপনি সচেতন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। কাজেই, জানেন নিশ্চয়ই, এই শতাব্দীতে টিবি এবার বড়সড় সমস্যা হয়ে ফিরে আসছে। আর, এইবার তেমন টিবি ফিরে আসছে, যেগুলো টিবির প্রচলিত ওষুধগুলোতে সাড়া দেয় না, যার চিকিৎসা সত্যিই জটিল। বিশ্বজুড়ে, বছরে পনেরো লক্ষেরও বেশী মানুষ মারা যান এই মারণরোগে। আক্রান্তের সংখ্যা তার কয়েকগুণ। তাহলে কি টিউবারকিউলোসিসের নিত্যনতুন ওষুধ বাজারে আসছে প্রতিমাসে?

নাঃ, আসছে না। গত দুই দশকে টিবি-র চিকিৎসার নতুন কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে এমন নয়। টুকটাক পরীক্ষানিরীক্ষায় জানা গিয়েছে যে, প্রচলিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক টিবি-তেও কাজ করে। ব্যাস, এইটুকুই। নতুন রকমের টিবি-র মোকাবিলায়, মোটামুটিভাবে, সম্বল ওই পুরোনো অ্যান্টিবায়োটিকগুলিই।

আরে, নতুন ওষুধ আসবে কোত্থেকে? ম্যালেরিয়া বা যক্ষ্মার ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণায় কর্পোরেট বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির উৎসাহ নেই। কাজেই গবেষণা কই, যে ওষুধ আসবে?!

তাহলে? মারণ রোগের চিকিৎসার জন্যে ওষুধ আবিষ্কার হচ্ছে না?

না না, হচ্ছে তো। রোজই হচ্ছে। প্রায় প্রতি মাসেই আসছে ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের নতুন ওষুধ। এমনকি, প্রতি বছরেই আসছে এইডসের চিকিৎসার নতুন ওষুধও।

শুধু একটু ফারাক রয়েছে।

এই ওষুধগুলোর কোনোটিতেও ক্যানসার-ডায়াবেটিস-এইডস সেরে যায় না। অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়, এইটুকুই। তাহলে?

এখনও বুঝলেন না খেলাটা? আঃ, আপনাকে তো দেখছি একেবারে পুরোটা খুলে না বোঝালে, কানের ভেতর দিয়ে মরমে পশানো খুব মুশকিল!!

যাক, কঠিন কাজটা আমাকে করতে হচ্ছে না। জগদ্বিখ্যাত অর্থনৈতিক সংস্থা গোল্ডম্যান-স্যাক্স ধোঁয়াশা না রেখে, একেবারে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যে ওষুধে অসুখ সেরে যায়, এমন ওষুধের জন্যে গবেষণার মধ্যে, আর যা-ই হোক, ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা নেই। এমন রিসার্চ প্রোজেক্ট ফিনান্সিয়ালি ননভায়েবল। অতএব, সমঝদারি সির্ফ এ্যায়সি প্রোজেক্টমে হ্যায়, যেখানে অসুখ কন্ট্রোলে থাকে, আর চিকিৎসা চলতে থাকে, চলতেই থাকে।

আশা করি, এরপরে আপনি আশ্চর্য হবেন না শুনে যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই গৌরবময় জয়যাত্রার বাজারেও, গত দশ পনেরো কি পঁচিশ বছরে, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রায় কোনোই নতুন ক্লাস আবিষ্কৃত হয়নি, যারা কিনা সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে জীবাণুকে মারবে, প্রতিরোধী জীবাণুর বিরুদ্ধে যারা কিনা একেবারে অব্যর্থ। আমাদের হাতে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বলতে, পুরোনো ক্লাসেরই একটু রদবদল মাত্র। না, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণাতেও তেমন লাভ নেই।

একটু খেয়াল করুন। সারা বিশ্ব জুড়েই, সংক্রামক ব্যধিগুলো নতুন চেহারা নিয়ে ফিরে আসছে। কিন্তু, সেই নিয়ে আমাদের তথাকথিত চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষকদের মাথাব্যথা কতোটুকু? না, ভুল বললাম। এই গবেষণা যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাঁদের মাথাব্যথা কতোটুকু?

ছেড়ে দিন না হয় ওইসব ফালতু ওল্ড-ফ্যাশনড অসুখগুলোর কথা।

আধুনিক চিকিৎসা গবেষণার ব্লু-আইড বেবির কথায় আসুন। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। আমি ক্যানসারের কথা বলতে চাইছি। সকলেই জানেন, ক্যানসার বাড়ছে। বাড়ছে বিপজ্জনকভাবে। আর, ক্যানসার মুখ্যত একটি ক্রনিক অসুখ। মানে, এর চিকিৎসাকাল দীর্ঘ। কাজেই, চিকিৎসা গবেষণার এই নতুন মডেলে ক্যানসার-গবেষণা যে গুরুত্ব পাবে, তা নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলতে হবে না।

ক্যানসার গবেষণার বাজেটের অধিকাংশটাই খরচা হয় ক্যানসার চিকিৎসাসংক্রান্ত গবেষণায়। সামান্য অংশই পড়ে থাকে ক্যানসার প্রতিরোধ নিয়ে ভাবার জন্যে। কেননা, ওই অর্থনীতি-বাণিজ্য-ইত্যাদি। আরে বাবা, অসুখটা না-ই হতে পারলে, চিকিৎসা-ই বা কোথায়, আর ব্যবসার সুযোগই বা কোথায়!! আর, এই ক্যানসার নিরাময়ের গবেষণার সিংহভাগ ব্যয় হচ্ছে বিভিন্ন জিনথেরাপি বা ওই জাতীয় ওষুধের প্রস্তুতিতে।

আচ্ছা, কখনও মনে প্রশ্ন জেগেছে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুনিয়ায় জেনেটিক্স বা জিন-এর এই সর্বব্যাপী প্রভাব এলো কোত্থেকে? বা, এই জিন-সর্বস্বতার অভিঘাতই বা কী?

জেনেটিক্স চর্চায় আমরা এতোটাই এগিয়ে গেছি, অথবা বিজ্ঞানে জিন-বাদীদের (কথাটা সচেতনভাবেই ব্যবহার করলাম) দাপট এতোখানিই বেড়ে গিয়েছে, যে, মানুষকে প্রায় শুধুমাত্র একগুচ্ছ জিনের সমষ্টি ভাবতেও অসুবিধে হচ্ছে না আর। চিকিৎসা চূড়ান্ত পর্যায়ে পার্সোনালাইজ করার নামে, মানুষকে অপমানব হিসেবে ভেবে ফেলতেও অসুবিধে হচ্ছে না।

এই চিন্তাধারায় উৎসাহী চিকিৎসক এরিক টোপোল যেমন বলেন, “ This is a new era of medicine, in which each person can be near fully defined at the individual level, instead of how we practice medicine at a population level, with mass screening policies for such conditions as breast or prostate cancer and use of the same medication and dosage for a diagnosis rather than a patient.”

শুনতে ভালো লাগে, তাই না?

টোপোল সাহেবের উচ্ছ্বাসের কারণ অবশ্য স্পষ্ট। “It is because for the first time in history we can digitize humans.”

Digitise humans??

কেন? বই-পত্র-খবরের কাগজ, সবই তো ডিজিটাইজ করা যায়, তাহলে মানুষকেই বা যাবে না কেন? অন্তত, মানুষকে যদি যান্ত্রিকভাবে কিছু তথ্যের সমাহার হিসেবে ধরে নেওয়া যায়?

এতে সুবিধে ঠিক কী? কেন?

“We can now perform whole genome sequencing of a fetus to determine what conditions should be watched for postnatally. At the other end of the continuum of life, we can do DNA sequencing to supplant a traditional physical autopsy, to determine the cause of death.”

অর্থাৎ, স্রেফ জেনেটিক তথ্য জানা থাকলেই আপনি নাকি একজন মানুষের অসুখবিসুখ ভূতভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন।

এককথায়, “We can dissect, decode and define individual granularity at the molecular level, from womb to tomb.”

আমি বুঝতে পারছি, এইবারে আপনি ধৈর্য্য হারাচ্ছেন। বিরক্ত হচ্ছেন। ভাবছেন, এই নিয়ে এতো বাজে বকার কী হয়েছে!! বিজ্ঞানের চমকপ্রদ অগ্রগতিতে গা চুলকোনোর কারণ কী!! আমাদের তো আরো উৎসাহের সাথে দুহাত বাড়িয়ে এই অগ্রগতিকে আহবান জানানো উচিৎ, তাই না?

নাঃ, আপনি দেখছি একেবারেই বিজ্ঞানবাদী মুক্তমনা। বিজ্ঞান আপনাকে এমনই অন্ধ করেছে, যে, খোলসা করে বলার পরেও আপনাকে বোঝাতে পারা যায় না!! ঠিক আছে, আরো বিস্তারে বলি।

ধরুন, এমনকি বংশগতভাবে প্রাপ্ত ক্যানসারের ক্ষেত্রেও পরিবেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। আর, বাকি অধিকাংশ ক্যানসারের ক্ষেত্রে পরিবেশের ভূমিকাই প্রধান।

আজ আমাদের চারপাশে ক্যানসারের যে প্রাদুর্ভাব, তার পিছনে লাগামছাড়া দূষণ, খাবারে রাসায়নিক, ভেজাল ইত্যাদির ভূমিকা তো কম কিছু নয়। খেয়াল করুন, সরকার এই সব বিষয়ে নিস্পৃহ। আপনার ক্যানসার হলে দায়ী আপনার জিন, এবং আপনার জীবনযাপন, এমনটাই গিলেছেন আপনি, মানে তেমনভাবেই ভাবতে শেখানো হয়েছে আপনাকে (এমনকি, এক বড়ো অংশের ডাক্তারকেও)। সরকারও নিরাপদ, কেননা দূষণ-রাসায়নিক ইত্যাদিতে হাত দিতে গেলে কর্পোরেট বহুজাতিকের লাভের গুড়ে চোনা পড়ে, সে ভারী ঝুঁকির ব্যাপার। আপনার বিজ্ঞানের উপর প্রশ্নহীন আনুগত্যের ঠেলায়, আপনি কিন্তু সরকারকে, বা প্রচলিত ব্যবস্থা বা চিন্তাপদ্ধতিকেই চ্যালেঞ্জ করতে ভুলে যাচ্ছেন। এমনকি, ডাক্তারবাবুরাও এই সর্বগ্রাসী চিন্তাপদ্ধতির বাইরে বেরোতে পারছেন না।

যেমন বললাম, চিকিৎসা গবেষণার যা বাজেট, তার অনেকটাই যাচ্ছে জিনথেরাপি-ইমিউনোথেরাপির পেছনে। এবছর তো চিকিৎসা-রসায়ন, একেবারে জোড়া নোবেল এই নিয়েই। দেশে বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মান, শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারের একটি এইবার এসেছে এই সংক্রান্ত গবেষণায়।

তা, কর্পোরেট কোম্পানী গবেষণায় টাকা ঢালবেন, আর তার বাজার তৈরী করতে সচেষ্ট হবেন না??!! দুর্মূল্য এই চিকিৎসার বাজার তৈরী করতে, আপনার চিন্তাপদ্ধতির নিয়ন্ত্রণ জরুরী। আর, তাছাড়া আগে যেমন বললাম, জিন-এই সব অসুখের রহস্য লুকিয়ে, এইটা বোঝানো গেলে, কর্পোরেট বহুজাতিকের বাকি দূষণ ছড়ানোর ব্যবসার দিকেও আপনার নজর যায় না।

মাল্টিফ্যাকটোরিয়াল একটি ব্যধির চিকিৎসা, এক এবং একমাত্র, একটি পথে ধাবিত হলে যা হয়, তা-ই হচ্ছে। বিগত এক কি দুই দশকে ক্যানসার-রোগীর গড় আয়ুর উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। যেটুকু হয়েছে, তার কতোখানি সচেতনতা বৃদ্ধি বা আগেভাগে রোগনির্ণয়ের জন্যে, আর কতোখানি নতুন ওষুধের জন্যে, হিসেব পাওয়া মুশকিল। সতত পরিবর্তনশীল ক্যানসারকে একটি বিশেষ ধাঁচে বেঁধে, একটি বিশেষ চিকিৎসাপদ্ধতিতে ঘায়েল করে ফেলা যাবে, এমন কথা শুনতে বা কল্পনা করতে ভালো লাগতে পারে, কিন্তু বাস্তবটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তবু, ভবি ভুলবার নয়। জিন ধরেই গবেষণা চলছে। একটিতে কিছুদিন অসুখ নিয়ন্ত্রণ হলো, তারপর কাজ না হলে আরেকটি। বললাম তো, অসুখ সেরে গেলে গবেষণাসংস্থার লাভ নেই।

এই জিন-ঘটিত পথে চলেই, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সাথে যুক্ত দুই গবেষক, হোসে লুই করদেইরো এবং ডেভিড উড, মাসছয়েক আগে স্প্যানিশ ভাষায় একখানা বই লিখে ফেলেছেন। বাংলায় অনুবাদ করলে নাম দাঁড়ায়, মৃত্যুর মৃত্যু।

উপপাদ্যটি সরল। আমাদের ব্যধি-জরা-মৃত্যুর রহস্য লুকিয়ে আমাদের জিনের ভিতরে। সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতির ব্যবহারে ওইটুকু দোষত্রুটি সামলে দেওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। বয়স বেড়ে বুড়ো হওয়া স্রেফ একটা অসুখমাত্র, যার নিরাময় সম্ভব। ইন ফ্যাক্ট, বার্ধক্যকে একটা অপরিচ্ছন্নতাজাতীয় আপদ হিসেবেই দেখা উচিৎ, যার জন্যে অসুখবিসুখ হয়। সেইটা দূর করা সম্ভব। সব ঠিকঠাক চললে, আর বেশী দূরে নয় সেই সুদিন, এই ২০৪৫ সাল নাগাদই মানুষের মৃত্যু ব্যাপারটাই ধরাধাম থেকে দূর করা যাবে।

অর্থাৎ, জিনের উপর আস্থা রাখুন। নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির উপর আস্থা রাখুন। অসুখের মূল আপনার মধ্যেই লুকিয়ে। একটু ঠিকঠাক করে নিলেই, ব্যাস, আপনার সামনে অমরত্বের হাতছানি।

না, সমস্যাটা এইখানেই থেমে নেই। শিকড় আরো অনেক গভীরে।

সমাজের মাত্র তিন কি চার শতাংশ মানুষ মিলে বাকি পঁচানব্বই শতাংশকে দাবিয়ে রাখতে পারার রহস্য কিন্তু অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে লুকিয়ে। আপনি যদি একবার গিলিয়ে দিতে পারেন যে, এ জন্মের দুঃখকষ্ট, দুর্গতি বা শোষণের কারণ পূর্বজন্মের অপরাধ বা পাপ, এই লাঞছনা ভবিতব্য মাত্র, তাহলে তো নির্যাতিত মানুষ প্রচলিত ব্যবস্থাটাকে চ্যালেঞ্জ করবে না। তাই না?

একইভাবে, আপনি যদি বিশ্বাস করে নিতে পারেন যে, সব অসুখবিসুখের কারণ সেই আপনার জন্মসূত্রে পাওয়া জিনের মধ্যে লুকিয়ে, তাহলে খুব সহজেই আপনার নজর এড়িয়ে যেতে পারে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, খেতে না পাওয়া মা, সিলিকোসিসে ভোগা শ্রমিক বা কারখানার দূষণে বিস্তীর্ণ এলাকায় মৃত্যমিছিল, যেমন কিনা ঘটলো তুতিকোরিনে।

তাহলে, প্রচলিত ব্যবস্থাটাকে প্রশ্নহীন টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রাচীন কালের ধর্মভীরুতার সাথে আপনার বিজ্ঞানমনস্কতার ফারাক কোথায়?

হ্যাঁ, এক্ষেত্রে আপনি সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর নন। আপনার জিনের দোষ কাটানোর ব্যবস্থা বিজ্ঞান করে ফেলবে, ভরসা দিচ্ছে। শাস্ত্র কি তেমনই ভরসা দিতো না এই এক কি দুই শতাব্দী আগেও, বা দিচ্ছে না এখনও?

মূল কথা হলো, বর্তমান থেকে আপনার নজর ফিরিয়ে রাখা। আপনার হাতে যেগুলো বদলে ফেলা সম্ভব, যে শিকলগুলো আপনার পক্ষে, এককভাবে বা জোট বেঁধে, ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব, তাদের থেকে আপনার নজর সরিয়ে, যার উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই, সেইদিকে তাকাতে বাধ্য করা। প্রাচীনকালে ধর্ম দিয়ে যে কাজ হয়েছে, আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্যও সেই উদ্দেশ্যই পূরণ করছে।

সাযুজ্যটা কি খুব জোর করে টেনে আনা মনে হচ্ছে?

একটা ছোটো উদাহরণ দিলাম মাত্র। এমন উদাহরণ চারপাশে অজস্র।

একটু খেয়াল করুন, একটু খেয়াল রাখুন। বিজ্ঞানের নাম করে ঠিক কোন অ্যাজেন্ডা আমাদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিসরকে গিলে নিচ্ছে? এ-ই কি বিজ্ঞান? এই মেনে নেওয়ার মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞানমনস্কতা?

আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকা, রোজকার এই জীবনযাপন, সবকিছুতেই মাত্রা বেঁধে দেবে বিজ্ঞান? আমার বর্তমান বা ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আমার অতীত জিনে? আবার, আরেকদিকে আমার বর্তমানের ভালো থাকার মাপকাঠি স্থির করার ঠেকা নিয়ে রাখবে বিজ্ঞান, বা চিকিৎসাবিজ্ঞান?

ধরুন, বিজ্ঞান দিয়ে কি জীবনের সবটুকুনিই ব্যাখ্যা করা সম্ভব? সেই ব্যাখ্যা প্রশ্নহীন মেনে নেওয়াও কি বিজ্ঞানমনস্কতা? সুস্থতা-ভালো থাকার সবটুকুই কি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আওতায়? অসুখের অভাবকেই সুখ তথা সুস্থতা বলে চিনবেন আপনি?

একটু খেয়াল করুন, বিজ্ঞানের ছদ্মবেশে কর্পোরেট লোভ আপনার এই বেঁচে থাকাকে গ্রাস করছে। ভালো থাকার সাথে শুধুই অসুখের সম্পর্ক জুড়ে নিত্যনতুন ব্যবসার মায়াজালে আপনিও বিভ্রান্ত। আপনার শরীরটিকে উপনিবেশ করে নিত্যনতুন ব্যবসার বেসাতি সাজিয়েছেন কারা, তথাকথিত বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যকে অজুহাত করে?

শুধুই অসুখসচেতনতা-জিন-চেকআপ-নির্ভর জীবনযাত্রার মধ্যেই আপনার ভালো থাকা লুকিয়ে? এতো সরল সমীকরণে বাঁধা যায় এই মানবজীবন? সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো এটাই, যে, বিজ্ঞানমনস্কতার নামে একটা ভ্রান্ত বিশ্বাসীর জীবনদর্শন গিলে চলেছি আমরা, যেখানে মানুষ প্রায় যান্ত্রিক, খন্ডিত অপমানব।

নর্টিন হ্যাডলারের কথাটুকু ভারী গভীর, “Health is not a pure scientific construct; the components of health that can be quantified and studied systematically barely scratch the surface of what most of us mean by good health. Science is no match for individual perceptions of well-being, for the temporal component of well-being, or for the vagaries of the social construction of well-being.” কথাগুলো বারকয়েক পড়ে দেখুন। একটু ভাবুন। আপনার সুস্থ থাকা বা না থাকার ঠিক কতোখানি বা কতোটুকু বিজ্ঞান?

“Health in general, and good health in particular, does not lend itself to easy understanding because it has many components and reflects so much that is our humanity. In this regard, it is similar to other hard-to-define concepts, such as ‘love’ and ‘job satisfaction’.”

সেই বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যের ধারণাকে একটি নির্দিষ্ট পথে বাঁধতে চাওয়ার মধ্যে, ঠিক কোন ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থ লুকিয়ে? একটি অনন্ত সম্ভাবনার মানবজীবনকে খন্ডিত ছিন্ন সাব-হিউম্যান যন্ত্রে পরিণত করতে পারলে ঠিক কোন রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধ হয়? আপনাকে এই অসহায় ক্ষুদ্রতার মধ্যে প্রতিবাদহীন করে রাখতে পারলে ঠিক কোন অর্থনীতির অবাধ প্রসার ঘটে?

আপনি বিজ্ঞানী নন। বিজ্ঞান গবেষকও নন। কিন্তু, বিজ্ঞান কোন পথে এগোবে, কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে, ব্যক্তিজীবন বা সমাজজীবনের ঠিক কতোখানি পরিসর বিজ্ঞানকে ছাড়া যেতে পারে, সেই নিয়ে সাধারণ নাগরিকের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।

ধর্মের মতোই, বিজ্ঞানও, শাসকের হাতে বড়ো অস্ত্র। যদি না আপনি ঘুম থেকে জাগেন।

সঠিক ব্যবহার বা প্রয়োগে বিজ্ঞানের সদর্থক ভূমিকা নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু, এইটুকু সচেতনতা জরুরী, যাতে বিজ্ঞানের নাম করে কোনো কুটিল শ্রেণীস্বার্থ আমাদের শরীর-মনকে উপনিবেশ করে ব্যবসার বেসাতি না সাজাতে পারে।

তা যদি না পারেন, দোষটা কার? বিজ্ঞানের?

নাকি, আপনার প্রশ্নহীন মেনে নেওয়ার?



ঋণস্বীকার –

একটি বইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বইটি,

La Muerte de La Muerte (original in Spanish, literal translation of the title The Death of Death) by Jose Luis Cordeiro

আর দুটি বই থেকে সরাসরি লাইন ধরে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

The Creative Destruction of Medicine by Eric Topol, M.D.

The Citizen Patient by Nortin M. Hadler, M.D.


মূল লেখাটির লিঙ্কও দেওয়া রইলো।

http://4numberplatform.com/?p=8630

1045 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

সমালোচনা সবসময়ই জরুরি, বিশেষত বিজ্ঞানের, যদি আদৌ এইটা পরিষ্কার করে বুঝতে পারা যায় যে, ঠিক কীসের সমালোচনা করা হচ্ছে । যদি সমালোচনার যুক্তির মধ্যে কোনও ধোঁয়াশা বা বিশৃঙ্খলা থেকে যায়, তাহলে সেই 'পরিষ্কার করে বুঝতে পারা'-র প্রক্রিয়াটি বিপন্ন হয়ে ওঠে । লেখকের ভঙ্গী আন্তরিক, শৈলিটি আকর্ষণীয়, আলোচ্য বিষয়টিও গুরুতর । কিন্তু, একটি সংক্ষিপ্ত লেখার অর্ধেকেরও বেশি যদি খরচা হয়ে যায় কোনও এক কাল্পনিক 'বিজ্ঞানমনস্ক' পাঠকের সাথে অনাবশ্যক ঝগড়ায়, তাহলে আসল বিষয়টিকে মর্যাদা দেবার জন্য পরিসর বলতে আর কীই বা পড়ে থাকে ?

এক অ-বিজ্ঞানী পাঠক হিসেবে যতটা বুঝলাম, লেখক কোনও এক অন্ধ বিজ্ঞান-বিশ্বাসীকে নিন্দা করতে চান যাঁর সঙ্গে নাকি একজন ধর্মান্ধের কোনও তফাত নেই, কারণ, তিনি জানেন না যে --- (১) বিজ্ঞানী-গবেষক-বিজ্ঞানমিডিয়ার কথা বেদবাক্য নয়, (২) “যেকোনও বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতার মূলই হল তাকে নিরন্তর চ্যালেঞ্জ করে যাওয়া” (যা কিনা লেখকের দাবি অনুযায়ী এক পপারীয় অভিজ্ঞান), (৩) চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা ও প্রয়োগ কর্পোরেট-নিয়ন্ত্রিত ও মুনাফাতাড়িত, (৪) চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা একপেশেভাবে জিনতত্ত্ব-নির্ভর হয়ে পড়েছে, (৫) মানুষকে জিনগুচ্ছমাত্রে পর্যবসিত করা হচ্ছে, এবং তার মধ্য দিয়ে “মানুষ প্রায় যান্ত্রিক, খণ্ডিত অপমানব” হয়ে যাচ্ছে ......... ইত্যাদি ।

এই না জানা কথাগুলো যে জানা উচিত ছিল, সেটা প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি যে সমস্ত উদাহরণ দিয়েছেন, তার সবই চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা ও প্রয়োগ সংক্রান্ত, এবং বিশেষত ক্যানসারের গবেষণা সংক্রান্ত ।

এইসব কথা না জানা যদি কেউ থেকে থাকেন, তো তাঁকে ‘বিজ্ঞান-বিশ্বাসী’ আখ্যা দেওয়া চলে কিনা, এবং যদি বা কোনওগতিকে তা চলেও, তো সেই সুবাদে তাঁকে আদৌ ধর্মান্ধের সাথে এক করে দেওয়া যায় কিনা, সে সব নিয়ে তর্ক না করে আমি লেখকের বক্তব্যটা মন দিয়ে বুঝতে চেয়েছিলাম । লেখক শেষ পর্যন্ত কীসের সমালোচনা করতে চান ? বিজ্ঞানের ‘বিকৃতির’, অর্থাৎ, তার নাম করে অযৌক্তিক বিশ্বাস পোষণের এবং মুনাফাতাড়িত প্রতারণার ? অথবা, ‘বিজ্ঞান’ নামক ব্যাপারটিরই ?

যখন গোড়াতেই তিনি বলেন, “আপনি যদি বিজ্ঞানমনস্ক হন, তাহলে আপনিও প্রশ্ন করবেন, প্রশ্ন করতে থাকবেন, এইটাই স্বাভাবিক। তা না হলে, আপনি বিজ্ঞানবিশ্বাসী, যেকোনও ধর্মবিশ্বাসীর মতোই।”, এবং শেষে বলেন, “তা যদি না পারেন, দোষটা কার? বিজ্ঞানের? নাকি, আপনার প্রশ্নহীন মেনে নেওয়ার?”, তখন মনে হয়, বিজ্ঞানের বিকৃতিই তাঁর উদ্দিষ্ট । কিন্তু মাঝখানে আবার যখন বলেন, “বিজ্ঞান দিয়ে কি জীবনের সবটুকুনিই ব্যাখ্যা করা সম্ভব? সেই ব্যাখ্যা প্রশ্নহীন মেনে নেওয়াও কি বিজ্ঞানমনস্কতা?” --- তখন মনে হয়, খোদ বিজ্ঞান ব্যাপারটিই তাঁর লক্ষ্যবস্তু । তাইই যদি হয়, তো কার্ল পপারকে সাক্ষী মানলেও তিনি আসলে বিজ্ঞানের ‘র‍্যাশন্যাল ক্রিটিসিজ্‌ম্‌’ চান না, ‘গোটা মানুষকে যুক্তি দিয়ে বুঝে ফেলতে চায়, অ্যাতো বড় আস্পদ্দা?’ গোছের সেন্টিমেন্টাল আপত্তি জানাতে চান । কিন্তু, চিকিৎসাবিজ্ঞান দিয়ে যদি জীবনকে পুরো বোঝা না-ই যায়, তাতে বিজ্ঞানের কাছে জীবন অধরা থাকবে কেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান কি জগতের একমাত্র বিজ্ঞান ?

আচ্ছা, খোদ বিজ্ঞান ব্যাপারটিই যদি তাঁর লক্ষবস্তু হয়ে থাকে, তো না হয় তা-ই হল । কিন্তু তাতেও তো প্রশ্ন, বিজ্ঞানের পদ্ধতিগত দিক, না প্রাতিষ্ঠানিক দিক --- কোনটি তাঁর লক্ষ্যবস্তু ? বিজ্ঞান সত্যতার গ্যারান্টি দিতে পারে, এ বিশ্বাস আসে বিজ্ঞানের পদ্ধতিগত দিকটির কারণে, আর কায়েমী স্বার্থ বা মুনাফা-তাড়না ইত্যাদি সমালোচনাগুলো প্রযোজ্য হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক দিকটির প্রতি, কাজেই নিছক বিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনা থেকে বিজ্ঞানের মৌলিক সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ তোলা কঠিন । লেখক কার্ল পপারকে সাক্ষী মানছেন মানে, বিজ্ঞানের পদ্ধতিগত দিকটির প্রতি তিনি মর্যাদাবান । কিন্তু, তা যদি হয়, সেখানে সেন্টিমেন্টাল আপত্তির কোনও স্থান থাকতে পারে না ।

কাল্পনিক 'বিজ্ঞানমনস্ক' পাঠকের সাথে অনাবশ্যক ঝগড়ায় কালক্ষেপ না করে লেখক যদি এই বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতেন, আমরা আলোকিত হতে পারতাম ।

Avatar: PT

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

"কর্পোরেট কোম্পানী গবেষণায় টাকা ঢালবেন, আর তার বাজার তৈরী করতে সচেষ্ট হবেন না??!!"

ম্যালেরিয়া উচ্ছেদ করতে গেলে তো আগে মশার বংশ ধ্বংস করা জরুরী। সে দায় তো দেশের সরকারের। কর্পোরেট যাদের রক্তে সে আমেরিকা ও সন্নিহিত কিছু অঞ্চল থেকে ১৯৭০ সালে ম্যালেরিয়া উচ্ছেদ হয়েছে।

কাজেই কর্পোরেটের বাজার তৈরির জন্য ম্যালেরিয়া জিইয়ে রাখা হচ্ছে সেটা মানতে কেমন কেমন লাগছে। ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।

"সরকার এই সব বিষয়ে নিস্পৃহ"
সরকার তো পরিষ্কার খাবার জলও দিতে পারেনা।তাতে একোয়া গার্ডের রমরমা ব্যবসা যে চালু থাকবে সে ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কোন কারণ নেই।

যে দেশের মানুষ হনুমানের লেজের দৈর্ঘ্য, রামের জন্মস্থান কিংবা শারোদৎসবের নামে একমাস ধরে সরকারি মদতে হল্লা মাচাতে বেশী পছন্দ করে তাদের পেটের অসুখে ভুগে পটল তোলাই ভবিতব্য।

কন্সপিরেসি থিওরির-ও বোধহয় একটা লক্ষণ রেখা থাক প্রয়োজন।
Avatar: sm

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

খুব ভালো লেখা।চিন্তাশীল পর্যবেক্ষণ। বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য সত্য কে খোঁজা ও তার প্রতিষ্ঠা করা। বিজ্ঞানের পদ্ধতিতে কোন ভুল নেই, কিন্তু ইমপ্লিমেন্টেশনে তো আছেই।
সত্যি বহুজাতিক মুনাফাখোর কোম্পানিরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে টাকা ঢালছে।উদ্যেশ্য আরো ব্যবসা করা ও মুনাফা লোটা।
লেখক যেটা আগেই উল্লেখ করেছেন।
আমরা বোধহয় যুগান্ত কারী, সর্বসাধারণের উপকার হয় এমন কম খরচের ওষুধ বা ভ্যাক্সিন আবিষ্কার থেকে দূরে এসেছি।
এখন শুধু নিত্য নতুন এন্টি ডিপ্রেসান্ট, ভায়াগ্রা,বাইওলজিক্স,জিন থেরাপির যুগ।
এদের উদ্যেশ্য ,কিছু ধনী ব্যক্তির দীর্ঘায়ু ও রোগমুক্ত জীবন।
ধরাযাক, 2050 সাল নাগাদ মানুষ 200 বছর অবধি বাঁচতে পারবে।
অবশ্যই বহুরকম ব্যয়বহুল ঔষধ ও সার্জারির সাহায্যে।
এটা তো সর্বসাধারণের জন্য প্রযোজ্য হবে না।কারণ এই ব্যয় বহুল চিকিৎসা শুধু মাত্র গুটিকয়েক ধনী ব্যক্তির করায়ত্ব হবে।
অর্থাৎ বিশ্বের এক পার্সেন্ট লোক 200 বছর বাঁচবে আর আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার সিংহ ভাগ লোক, ম্যালেরিয়া, টিবি, এইডস, এবোলা আর গৃহযুদ্ধে শেষ হয়ে যাবে। কি স্বার্থপর হবে সে দুনিয়া!
দুই, যদি 200 বছর লোকে বাঁচেও, তাহলেও শেষ একশ বছর নিশ্চয় জরাগ্রস্ত থাকবে। কে এদের সেবা করবে?
তিন, যদি ধরে নেই, তারা 200 বছর সুস্থ ও নীরোগ শরীরের অধিকারী হবে, তাহলেও তাদের মানসিক স্বাস্থ্য কেমন হবে?
নিশ্চয় প্রচন্ড রকম হতাশা গ্রাস করবে ।কারণ পৃথিবীর কাছ থেকে নিত্য নতুন বৈচিত্র আহরণ করতে অক্ষম হবে।
অথবা ভয়ঙ্কর ক্ষমতা লোভী একদল মানুষ তৈরি হবে, যারা বাকী বিশ্ব কে, তাঁবেদার করে রাখবে।
সুতরাং ভাবনার খোরাক তো আছেই।

Avatar: PT

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

তো সরকার সব ব্যক্তিপুঁজি নিষিদ্ধ করে নিজেরাই ব্যব্সা করলে পারে। তাহলেই সব মুনাফাখোর কোম্পানীরা নেই হয়ে যাবে।
ফিরে এস ১৯১৭!!??

Avatar: sm

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

আপনি কম্যুনিজম এর পূজারী হয়ে, ব্যক্তি পুঁজির হয়ে শ্যামলা চাপিয়েছেন দেখে অবাক হচ্ছি।
যখন ই কোন আর্টিকেল বা ফিকশন লেখা হয় যে, আগামী পঞ্চাশ বছর পর মানুষ 200-250বছর অবধি সুস্থ ও নীরোগ হয়ে বাঁচবে;তখন ই আমাদের মনে একটা পিকচার তৈরি হয় যে, সব মানুষই এই সুবিধা ভোগ করবে। কিন্তু এমনটা কখনোই হবে না।কারণ- মুনাফা খোর, কর্পোরেট।তাঁরা নিজেদের স্বার্থেই এমনটি হতে দেবে না।
যেমন টোব্যাকো লবি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছে সিগারেট বিক্রি করার জন্য।মদের ইন্ডাস্ট্রি তো, নিত্যনতুন মদের উপকারিতা নিয়ে হাজির হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের সরকার ও লড়াই চালাচ্ছে এর বিরুদ্ধে। সেটাও নিজের গদি রক্ষার স্বার্থে। কারণ পটা পট লোকজন মরছে, ডিসএবিলিটি বাড়ছে, কোষাগার ফাঁক হয়ে যাচ্ছে, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পকেট হালকা হচ্ছে।
এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলতে থাকবেই। কিন্তু মুনাফাখোর কর্পোরেট দের বদ উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনগণ অবহিত থাকবে না, এটা তো কোন কাজের কথা নয়।
Avatar: PT

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

কে কিসের পূজারী সেসব দেগে দেওয়ার কি প্রয়োজন।
সমস্যা হচ্ছে যে কোন কর্পোরেট "মুনাফাখোর" নয়? তাহলে এদেশে কি করা উচিৎ সে বিষয়ে মনোনিবেশ করাই শ্রেয়ঃ। যেদেশে সরকার নিজেই কর্পোরেট সেদেশে মুক্তির উপায় কি?
Avatar: Bishan Basu

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

দেবাশিসবাবু, আপনার তোলা প্রশ্নগুলো খুবই ভ্যালিড, নিঃসন্দেহে। এইটা একটা সহজপাঠ্য প্রবন্ধ হিসেবে প্রস্তুত করতে গিয়ে, বিষয়ের গভীরে যাওয়া হয়নি।

কিন্তু, না, সেন্টিমেন্টাল আপত্তি জানানোর কোনো অপপ্রয়াস আমার ছিলো না। লেখনীর অপটুত্বের কারণে বোঝানোয় খামতি রয়ে গিয়েছে হয়তো। সেইজন্যে মার্জনা চেয়ে নিলাম।

বিজ্ঞান যদি সম্পূর্ণ মানুষটিকে জানতে চায়, স্বাগত। কিন্তু, সেই সম্পূর্ণতা কি কেবলমাত্র জিনের মধ্যে লুকিয়ে থাকবে বা থাকতে পারে? পরিবেশ বা সমাজের প্রভাবটুকু এড়িয়েই সম্পূর্ণ মানুষকে জানা সম্ভব? এমনকি, জিনের প্রকাশ কেমনভাবে হবে, সেই এপিজেনেটিক্সের চর্চাও তো গুরুত্ব পাচ্ছে না। বিজ্ঞানের পদ্ধতি নিয়ে প্রাথমিক আপত্তি না থাকলেও, গবেষণায় কোনটি গুরুত্ব পাবে, সেইটা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তো থেকেই যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞান জগতের একমাত্র বিজ্ঞান নয় নিঃসন্দেহে, কিন্তু মানবশরীর বা অসুখবিসুখ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বাকি সব ছেড়ে একমাত্র চিকিৎসা বিজ্ঞানকেই গুরুত্ব দেওয়ার রাজনীতিটিও লক্ষ্যনীয়, তাই না? মেডিকেল সোশিওলজির অন্যতম পুরোধা, রজার কুটার প্রায় এক দশক আগেই আক্ষেপ করেছিলেন, যে, বর্তমান চিন্তাপদ্ধতির সুবাদে মেডিকেল সোশিওলজি একটি মৃত বিষয়। কথাটার ভেতরে লুকিয়ে থাকা শ্লেষটুকু নিশ্চয়ই বোঝা কঠিন নয়।

বিষয়টির খুব গভীরে যেতে পারি নি, আবারও বলছি। এমনিতেই, মানুষের পড়ার ধৈর্য্য কম। ওয়েবম্যাগের ক্ষেত্রে আরো কম। এই তো দেখুন না, এমনকি গুরুচণ্ডা৯-তেও, যেখানে নিবিষ্ট পাঠকের সংখ্যা বেশ ভালো, সেইখানেও সবাই কি মন দিয়ে লেখাটি পড়েছেন??!!

যেমন, একজন বলেছেন, আমি নাকি দাবী করেছি, কর্পোরেট লাভের জন্যে ম্যালেরিয়াকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। কোথায় বললাম এমন অবাস্তব কথা!!

বলা হয়েছে, অসুখ সারানোর চিকিৎসা করলে বাণিজ্যিক লাভ কম। তাই, সংক্রামক ব্যাধির ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণার পিছনে, যেমন ম্যালেরিয়া-টিবি ইত্যাদি, অর্থের জোগান কমছে। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারও থমকে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, যে অসুখগুলোর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী, তাদের চিকিৎসা-গবেষণায় অর্থলগ্নি বাড়ছে।

এই shifting of funds টা থেকেই চিকিৎসা-গবেষণার এবং বৃহত্তর অর্থে বিজ্ঞান-গবেষণার অভিমুখের বদলটি ধরা সম্ভব বলে আমার মনে হয়েছে। আর সেইজন্যেই উদাহরণ হিসেবে এইটাকেই সামনে এনেছি।

আমেরিকায় ম্যালেরিয়া হচ্ছে কিনা, সেই আলোচনা এই প্রসঙ্গে অবান্তর। আমেরিকায় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ হয়েছে পাব্লিক হেলথের উন্নতির সুবাদে, কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কার করে নয়। আর, দুর্ভাগ্যজনক, আমাদের স্বাস্থ্যবাজেটের পুরোটাই যায় চিকিৎসার পেছনে, পাব্লিক হেলথ এইখানে পুরোপুরি অবহেলিত - কিন্তু, এই আলোচনার প্রসঙ্গও এইটা নয়। আর, কার্যকরী নতুন ওষুধের অভাব বা বিশ্ব জুড়ে পাব্লিক হেলথ অবহেলিত হওয়ার যে ট্রেন্ড - এর কুফল হিসেবেই দেখা যেতে পারে, পৃথিবী জুড়ে ম্যালেরিয়ার বৃদ্ধিকে। একটু গুগল করলেই জানা যাবে, খাস আমেরিকাতেও ম্যালেরিয়া বাড়ছে।

যাক এসব অবান্তর কথা।

মূল কথা, আমার লেখার উপজীব্য, বিজ্ঞান গবেষণা দিকভ্রষ্ট হচ্ছে। বাণিজ্যিক মুনাফা উপার্জনের কাজেই বিজ্ঞান ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

নিখাদ তাত্ত্বিক গবেষণার বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে তার বাণিজ্যিক প্রয়োগ, আর বাণিজ্যিক মুনাফার উদ্দেশ্যেই বিজ্ঞান গবেষণা - দুটো আলাদা বিষয়। দ্বিতীয়টিই এখন প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই নিয়েই সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছিলাম।

সরকার সব ব্যক্তিপুঁজি নিষিদ্ধ করে গবেষণা নিয়ন্ত্রণ করবে কিনা, বা করা উচিৎ কিনা, এতো বড়ো sweeping argument করার মতো উদ্দেশ্য এই সামান্য প্রবন্ধের ছিলো না। দুই জায়গায় এমন বিতর্ক সম্ভব। এক, academic সমাজতত্ত্ব বা অর্থনীতির ক্ষেত্রে৷ বা দুই, পাড়ার রক আর চায়ের দোকানে। দুইয়ের কোনোখানেই আমার তেমন যাতায়াত নেই।

কিন্তু, সাধারণ মানুষের স্বরটি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে থেমে থাকলে তা একটি বিশেষ শ্রেণীস্বার্থ রক্ষায় সুবিধেজনক হয়ে দাঁড়ায়। এইটুকুই বলার।

কারো যদি মনে হয়, এ কেবলই ছায়ার সাথে কুস্তি লড়ে গাত্রব্যথার সামিল, তাহলে ক্ষমা চাইছি।

আর, লেখাটি পড়ার জন্যে, সবাইকে ধন্যবাদ।

Avatar: ডিএনএ

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

পিটির মধ্যে কিছু ক্যাপিটালিস্ট (প্র্যাগম্যাটিস্ট, নেপপন্থী) জিন আছে দেখাই যাচ্ছে, এসএমের মধ্যে কিছু সোশ্যালিস্ট (পপুলিস্ট, রোমান্টিক) জিনও আছে তাও দেখা যাচ্ছে। ভালই তো, পৃথিবী বৈচিত্র্যময়।
Avatar: দ

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

খি খি। কী বলে যেন? ও হ্যাঁ ডাইভার্সিটি অ্যান্ড ইনক্লুসিভনেস।
Avatar: pi

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

ম্যালেরিয়া।নিয়ে কিছু লেখার ছি।, লেহাটা নিয়েও। একটু সময় করে লিখব।
Avatar: dc

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

লেখাটা পড়লাম। দেবাশিসবাবুর মতো আমারও মনে হলো লেখক চিকিত্সাবিজ্ঞানের কিছু ব্যবহারিক ত্রুটি আলোচনা করতে গিয়ে অনাবশ্যকভাবে পুরো বিজ্ঞানকেই টেনে এনেছেন। মানে বিজ্ঞানের মধ্যে তো আরও কতো কিছুই পড়ে, লাইগো থেকে সার্ন, হাবল টেলিস্কোপ থেকে স্ট্রিং থিওরি হয়ে ডিপ সি সেনসর ডেভেলপমেন্ট - এই সব কিছুই তো লেখার আলোচ্য বিষয় না, কাজেই শুধু চিকিত্সাবিজ্ঞানেরমধ্যে লেখাটা সীমিত থাকলে ভালো হতো আর পড়তেও সুবিধে হতো।
Avatar: S

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

উফ। কত্ত বড় লেখা। মাধ্যমিকের ইতিহাসের পাতা ভরানোর অভ্যেস যায়নি।

এটা ঠিক যে আমরা বাঙালীরা বিজ্ঞানকে ভগবানের আসনে বসিয়েছি। ফলে ভগবানকে যেমন প্রশ্নাতীত ভাবে বিশ্বাস করি, বিজ্ঞানকেও সেইভাবেই করি। তবে এটা বোধয় বাঙালীদের নিজস্ব ব্যাধি। অন্য কারোর মধ্যে এই কমপ্লেক্স দেখিনা।

জানিনা লিখেছেন কিনা, তবে ফান্ডিংয়ের চাপে বিজ্ঞানের অনেক এক্সপেরিমেন্টেই রেজাল্ট ম্যানিপুলেট করা হয় বলে আমার ধারনা। তাছাড়া সায়েন্সেও ওরকম আল্টিমেট ফাইনাল নলেজ বলে কিছু হয়্না। আজকে যেটা নলেজ, কালকে সেটা অতটা ধ্রুব সত্য নাও লাগতে পারে।

কন্সপিরেসি থিয়োরির ছোঁয়া থাকলে প্রবন্ধটা সেক্সি হয় বটে, কিন্তু তাতে মুল বক্তব্যের ধারটা কমে যায়।
Avatar: বাঙাল

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

ভাল লাগল। পড়ার পরে সামগ্রিক অনুভূতি লেখক বোধহয় স্মরণ করাতে চাইলেন যে বিজ্ঞানচর্চা রাজনীতিবর্জিত নয়। তা জীবনের কোনটাই বা রাজনীতিমুক্ত!
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

বিষাণবাবু, আমার প্রশ্নগুলো উত্তর দেবার যোগ্য বলে বিবেচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আপনার লেখনী অপটু, এমন কথা মোটেই মনে করিনা । তবে, বিজ্ঞান বিষয়ক লেখায় দ্ব্যর্থকতা কম থাকলে পাঠকের হয়ত একটু সুবিধে হয় --- মানে, আমার ধারণার কথা বলছি।

বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সেন্টিমেন্টাল আপত্তি জানানোর ইচ্ছে আপনার ছিল না, জেনে ভরসা পেলাম।

বিজ্ঞানচর্চা মানুষই করে, কাজেই অন্যান্য মানবীয় কর্মের মত সেখানেও নানা মানবীয় দুর্বলতা অনিবার্য, তাতে আমার সন্দেহ নেই। বিজ্ঞান গবেষণা নানা দুর্নীতি অদক্ষতা ও নির্বুদ্ধিতায় ভরপুর, এটা সুবিদিত। সে সবের যে কঠোর বিশ্লেষণ ও সমালোচনা প্রয়োজন, সন্দেহ নেই তাতেও। কিন্তু, আমার বক্তব্য হচ্ছে, এইসব দুর্বলতাকে যে আমরা আদৌ 'দুর্বলতা' বলে চিহ্নিত করতে পারছি, তার কারণ তো নিশ্চয়ই এই যে, 'বৈজ্ঞানিক সত্য' বলে বাস্তবে কিছু একটা আছে। মুনাফার লোভ বা ক্ষমতার প্রভাব বিজ্ঞানকে সত্য থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে, এ আক্ষেপের আর কোনও অর্থই থাকে না, যদি সত্যের সাথে মিথ্যের কোনও তফাতই না থাকে। অথচ, গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের নাম করে, ক্ষমতাতন্ত্রের বিরোধিতার নাম করে, সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধিতার নাম করে, আজ এই অতি সাধারণ সহজ কথাটাই ভুলিয়ে দেবার ব্যবস্থা হচ্ছে। এ জন্যই, বিজ্ঞান লেখকদের কিছু বাড়তি সতর্কতা বাঞ্ছনীয় বলে আমার মনে হয়।

এই বাড়তি সতর্কতার জন্যই হয়ত কখনও রুজ্জুতে সর্প দেখে ফেলি, কিছু মনে করবেন না।

চিকিৎসা-বিজ্ঞান বিষয়ে আপনার তরফে সুনির্দিষ্ট তথ্যসমৃদ্ধ বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য অপেক্ষা করব।

Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস

"রুজ্জুতে সর্প" নয়, "রজ্জুতে সর্প" । অক্ষরগ্রন্থনপ্রমাদের জন্য দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী ।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন