Sumon Ganguly Bhattacharyya RSS feed

Sumon Ganguly Bhattacharyyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

চলো এগিয়ে চলি 2

Sumon Ganguly Bhattacharyya

#চলো এগিয়ে চলি 2
#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য
বিবর্তনের ঠিক কোন জায়গায় মানুষ কথা বলতে শিখেছে আমার জানা নেই।তবে আগুন
আবিষ্কারের চেয়ে এর গুরুত্ব কিছু কম নয়।
মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম জায়গা
কথা বলা।
A person with Autism Spectrum দের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে কথা বলা,বা
সঠিকভাবে ভাব প্রকাশ এর সমস্যা দেখা যায়
শতকরা আশি ভাগ ক্ষেত্রে। কথা বলতে শেখার প্রথম শর্ত শুনতে পাওয়া,স্বরযন্ত্রের সক্ষমতা,এবং কথা মাথার ভিতরে তৈরি করা।
বোধ্যাঙ্ক বা IQ একটা মানুষের নির্দিষ্ট মানের না থাকলে কথা তৈরিতে সমস্যা হয়।Autism আক্রান্ত মানুষদের অনেক ক্ষেত্রেই শুনতে পাওয়া বা স্বরযন্ত্রের কোন গোলমাল থাকেনা।কিন্তু IQ কম হয়ে থাকার জন্য কথা বলা বা কথা চালানো,বা সঠিকভাবে ভাব প্রকাশ করতে সমস্যা হয়।
কথা বলতে না পারলে কোন চিকিৎসা কথা বলাতে পারে না।কিন্তু অল্প কথা বলতে পারলে
সঠিক থেরাপি,এবং চিকিৎসা কথার সংখ্যা বাড়াতে পারে।
আমি বিনায়করুকুর মা।রুকুর অটিজম আছে।রুকু কে বড় করতে গিয়ে আমি যে যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি আমি আপনাদের সাথে তাই share করছি ।আপনাদের যদি কাজে লাগে।আপনারা নিজেদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক এর পরামর্শ নেবেন।
রুকু কথা বলতে শুরু করে 2 বছর বয়সে কিন্তু কথা রিপিট করতো।যার পোশাকি নাম
"ইকোলেলিয়া"।খুব সাধারণ ভাবে আমার মনে
হত ,মাথার কোন একটা নির্দিষ্ট অংশে কথাটি
ধাক্কা লেগে আবার ফিরে আসছে।
প্রশ্নকর্তা যদি রুকু কে প্রশ্ন করতেন"তোমার নাম কি?" রুকু এক টোনে উত্তর দিতো "তোমার নাম কি?"আবার জিজ্ঞেস করলে একটু থেমে "বিনায়করুকু" বলতো।
আমরা লক্ষ্য করেছিলাম ওর কথার স্টক কম।ও কথা তৈরি করতে পারছে না।একজন
সাধারণ মানুষ শুনতে শুনতে নিজের কথার স্টক তৈরি করে।কিন্তু রুকুর ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হচ্ছেনা দেখে আমরা কিছু প্ল্যান করি যেটা আপনাদের আজ বলবো।
একএকটা পূর্ব পরিকল্পিত স্ক্রিপ্ট তৈরি করা।
দুই বাচ্চার সাথে প্রচুর কথা বলা।
তিন সঠিকভাবে, সঠিক উচ্চারণে কথা বলা।
বাচ্চা ছোট বলেই"ওলে বাবলে",আধো, আধো
বুলি আমাদের বাড়িতে কেউ ব্যবহার করতো না।
কোন অবাস্তব গল্প বলতাম না।যে ছেলে সাধারণ কিছু একটু ধীরে একটু পরে বোঝে, তাকে রূপকথা,তেপান্তরের মাঠ, ইউনিকর্ন,বোঝানো বৃথা।রুকুর সাথে আমাদের গল্প হতো ।
"গৌতম দা দুধ দিয়ে যায়।দুধ সাদা।গরম করে রুকু খায়।"
সহজ পাঠের গল্প যেমন হয় ।"আজ মঙ্গলবার জঙ্গল সাফ করার দিন।"সেই রকম বাস্তব গল্প।তিন থেকে চার লাইনের গল্প।
চার ছোট ছোট বাক্য বলা।থেমে উত্তর দেওয়া,
এক কথায় নির্দেশ দেয়া।
রুকু বাটি আনো।রুকু দাঁত মাজো।কখনোই
"এই রুকু বাটিতে মুড়ি নিয়ে খেয়ে দাঁত মাজো"
একে বারেই নয়।
স্ক্রিপ্ট বলতে ধরুন স্কুল এ
1good morning বলা।
2 ম্যাম কে খাতা দেয়া।
3 থ্যাংক ইউ বলা
4 ম্যাম লিখেছি/ম্যাম কি লিখবো?
বন্ধু দের ক্ষেত্রে
1(গাড়িতে)সরে বোস।
2ক্লাসে চল
3টিফিন খাই চল
4আমি যাচ্ছি খেলতে
বিয়ে বাড়িতে
1নাম কি?
2বিনায়করুকু।
3স্কুল আর ক্লাস।
4দাদু ঠাম্মা ভালো আছে।
5তুমি ভালো আছো?
6হ্যাঁ খেয়েছি/খেতে যাবো।
এই ভাবে ঘটনাক্রম বিচার করে বাচ্চাকে রেডি করিয়েছি।সব সময় মিলতো না।কেউ হঠাৎ অন্য প্রশ্ন যা তৈরি নেই জিজ্ঞেস করলে রিপিট করে ফেলতো।একটা দীর্ঘ সময়ের পর ও নিজেই পারে এখন।
মানুষের সাথে মিশিয়েছি।একটা বড় গ্রুপ এ বেড়াতে গেছি বছরে দুবার সেখানে মানিয়ে নেওয়া।রুকু কে বলে দিয়েছিলাম কেউ জটিল
কিছু জিজ্ঞেস করেছে পারছো না,সেক্ষেত্রে হালকা হেসে ম্যানেজ দেবে।আমি বা পাপা সামনে থাকলে তোমাকে সাহায্য করবো।না থাকলে বলবে "ঠিক জানিনা বা পারছি না।"
না পারা তে লজ্জা নেই তুমি সঠিক বলারচেষ্টা করবে।সেখানেই তুমি জিতবে।
অনেকেই পাড়াতে দেখতাম আমার সহজ সরল ছেলে কে গালি গালাজ শিখিয়ে মজা পেত।স্কুলেও উঁচু ক্লাসের দাদারা শেখাতো।
সাধারণ বাচ্চারা জানে কোথায় কোন ভাষার প্রয়োগ আমার ছেলে পারতো না ।স্কুল বা পাড়ার মানুষ নিত্য নালিশ করতেন আমাদের।
এহেন অবস্থায় ছেলে কে বার বার বোঝাতাম
এই কথা বলা ঠিক নয়।পেট গুড় গুড় করলে বাথরুম এ গিয়ে বলো কারোর সামনে নয়।
এখন শেখাই প্রতিবাদ করা,রাস্তাঘাটে মারামারি দেখলে এড়িয়ে যাওয়া।বাজে মানুষ নোংরা কথা চেনা এবং ব্যবহার না করা।
বাজে কথা ব্যবহার যদি বলি করবেনা, রুকু প্রশ্ন করে" পিছনে বস্তির সালু,কিশোর,আন্না কেন বলে আমিও বলবো"।উত্তর দি "ওরা জানে না এই টা খারাপ
কথা ,ওদের শেখাই নি কেউ ইত্যাদি"।
সব সময় যুক্তি দিতে পারিনা।
তবে একটা কথা বুঝি বার বার বলে বলে ঠিক
জায়গায় কিছুটা হলেও এনেছি।রুকু প্রতিবাদ
করে ওর মত।নিজের কথা বলে।
সব বাচ্চা যেন এগিয়ে যেতে পারে।সবার মঙ্গল হোক।
এক নীল সমুদ্র ভালোবাসা সবাই কে।
সুমন।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10214785317178272&id=15857
35784


888 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: চলো এগিয়ে চলি 2

বিনয়ক রকুকে ভাল লেগে গেল। কি স্বচ্ছ হাসি! ভিকট্রি সাইনটিও ড্যাসিং। ছেলে বড় হচ্ছে; যদিও কচিপনা মুখায়ব থেকে এখনও শৈশব পুরোপুরি ঘুচে যায়নি।

হেংলার মত অকপটে "এক নীল সমুদ্র ভালোবাসা"র সবটুকু নিলাম। সংগ্রামী সুমনকে অভিনন্দন। শুভ 🌷
Avatar: স্বাতী রায়

Re: চলো এগিয়ে চলি 2

সুমন, এই লেখাগুলি যদি এক সঙ্গে মানে একটা লিঙ্কের তলায় পাওয়া যায় তাহলে বড় ভালো হয়। এখন খুঁজে বের করে পড়তে হল।

পরের কিস্তিগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন